Home আনহেলদি অবসেশন আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৪৯

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৪৯

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৪৯
কায়নাত খান কবিতা

___অথচ ছেলের ক্ষতি করতে পারবে? আমার ভাইয়ের কী দোষ ছিলো মনি? কেন আমাদের দু-জনের শৈশব নষ্ট হলো বলো? আমরা ও তো কারো সন্তান ছিলাম। তাহলে আমাদের সাথে কেন এমন হলো? কেন আমাদের নিজের বাবা, কিং ভাইয়ের চোখের সামনে আমাদের মা-কে খু’ন করেছিলো মনি? কেন করেছিলো সে????”
ক্যাটরিনার রুদ্ধ শ্বাসে পুরো ঘরটি যেন হঠাৎ ভারী হয়ে ওঠে। নিস্তব্ধতার মাঝেও তার বুকের ভেতর ওঠানামা করা সেই দমবন্ধ করা নিশ্বাসগুলো স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। এতদিন ধরে জমে থাকা যন্ত্রণা, না বলা হাজারটা কথা, বুকের গভীরে চাপা পড়ে থাকা অভিমান—সবকিছু যেন একসাথে বেরিয়ে আসতে চাইছে আজ।

তার চোখ দুটো লাল হয়ে উঠেছে। অশ্রুতে ঝাপসা হয়ে আছে চারপাশ। এতদিন ধরে নিজেকে শক্ত রাখার যে ব্যর্থ চেষ্টা সে করেছিল, সেই দেয়ালটা আজ ভেঙে পড়েছে।
কাঁপা কণ্ঠে অবশেষে কথা বেরিয়ে আসে তার ঠোঁট থেকে।
তাদের পরিণতি তো এমন হওয়ার কথা ছিল না…
এমন বিচ্ছিন্ন, এমন শূন্য, এমন অসম্পূর্ণ জীবন তো তাদের জন্য লেখা থাকার কথা ছিল না।
তাহলে কেন?
কেন সে আর তার ভাই ছোটোবেলা থেকেই আলাদা হয়ে গেল?কেন সেই ছোট্ট দুটো জীবনকে এত নিষ্ঠুরভাবে আলাদা করে দেওয়া হয়েছিলো?ক্যাটরিনার মনে ভেসে ওঠে শৈশবের টুকরো টুকরো স্মৃতি—একসাথে হাসা, দৌড়ানো, ছোট ছোট স্বপ্ন দেখা। সেই স্মৃতিগুলো এখন যেন বুকের ভেতর ছুরি হয়ে বিঁধছে।কেন তাদের সেই সুন্দর ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া হয়েছিল?

–যা হয়েছে তা ভাগ্য ছিলো ক্যাট! আমি নিরুপায়।”
– কীসের ভাগ্য মনি? যেই ভাগ্যের প্রতিটি রেখায় তোমাদের মিথ্যা অপবাদ দেওয়া, সেটা কী আদোও কোনো ভাগ্য? না-কি তোমাদের বানানো নাটক? “
–ক্যাট?”
–Fuc*k of moni. তুমি একটা ছেলেকে তার মায়ের খু’নি বানিয়েছো, যেখানে আমার ভাই তো ছিলো নিরুপায়। তুমি সেদিন বলেছিলে অরিনকে মিথ্যা বলতে। আমি সেটাই করলাম। তোমার সাথে তাল মিলিয়ে গেলাম। বলে দিলাম কিং ব্রো আমাকে ছোটো বেলা খু’ন করতে চেয়েছিলো। কারণ মেয়েদের প্রতি ঘৃণা, এটা ও তো মিথ্যা মনিহহহহহহহ!”

—ক্যাট স্টপ। অরিন জেনে যাবে সব।pls! For god sake..”
—why should i moni? No, no, tell me! Why should I? আমার মা-কে খু’ন করেছিলো তোমার ভাই। সেটা ও কিং ব্রো-কে দোষী করে। আমার ভাই জেল খেটেছে, অত্যাচার সহ্য করেছে। ওর ব্রেনে কীভাবে সমস্যা হলো মনি? কীভাবে হলো? মনে আছে? তোমার ভাই নিজের পাপ ঢাকতে আমার ভাইকে পাগল বানাতে চেয়েছিলো। কী দোষ ছিলো আমার ভাইয়েরররর?”
–ধীর পায়ে অরিন রুমের ভেতরে প্রবেশ করে। পা দুটো যেন নিজের ইচ্ছায় এগোচ্ছে না, তবুও এগোতে হচ্ছে তাকে। দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই বুকের ভেতরটা আতিয়া বেগম এবং ক্যাটরিনা তাকে দেখে আঁতকে ওঠে।
অরিনের মুখশ্রীই বলে দেয়।এই সত্যিটা হয়তো না জানলেই ভালো হতো তার জন্য । চোখ দুটো নিস্তেজ, ভেতরে জমে থাকা হাজারটা প্রশ্ন আর কষ্ট যেন একসাথে ভিড় করেছে সেখানে। ঠোঁট শুকিয়ে গেছে, গলা দিয়ে একটা শব্দও বের হতে চাইছে না। মনে হচ্ছে কেউ যেন তার বুকের ভেতর থেকে হঠাৎ করে মাটি সরিয়ে নিয়েছে, দাঁড়িয়ে থাকার শক্তিটুকুও নেই।
তার মাথায় বারবার একই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে
কেন?
কেন তাকে এতদিন মিথ্যার ভেতর বাঁচিয়ে রাখা হলো?

—মিথ্যে কেন বলেছিলে মনি?’’
অরিনের কথার কোনো জবাব থাকে না আতিয়া বেগমের কাছে। সে চুপ হয়ে যায়। অরিন আবার ও জিজ্ঞেস করে, –কিং কী আদোও খু’ন করেছিলো মনি?’
__নাহ! আমার কিং খু’নি নয়।’
পায়ের তলা থেকে মাটিটা যেন অচিরেই সরে যায় অরিনের। যেই মানুষটাকে সে খু’নি ভেবে, সাইকোপ্যাথ ভেবে ঘৃণা করে এসেছে এতোদিন ধরে। সে আসলে সব থেকে অসহায় মানুষ!
আতিয়া বেগম এসে অরিনের সামনে দাড়ায়।তার হাত দুটো শক্ত করে ধরে।
__কিং এর অতীতের সাথে তুই ও জড়িত অরিন।’

ভ্রু কুঁচকে তাকায় অরিন আতিয়া বেগমের দিকে। সে কীভাবে জড়িয়ে কিং এর অতীতের সাথে? আর সাথে কীভাবে লেনাদেনা হলো এসবের? প্রচন্ড গলা শুকিয়ে আসে তার। কোন ভয়ংকর সত্যির কথা সে জানতে চলেছে? মন শক্ত করে মনির বলা কথা গুলো শুনতে থাকে অরিন। কী ছিলো তার এবং কিং এর অতীতে?
কিছু কিছু অতীত থাকে—যেগুলো বাস্তব হয়েও অবিশ্বাস্য লাগে। যেন কোনো অন্ধকার সিনেমার গল্প। কিন্তু সেগুলো সিনেমা নয়, কারও জীবনের নিষ্ঠুর সত্য। কিংশুকের অতীতও ছিল ঠিক তেমনই—একটা ভাঙা শৈশব, রক্তাক্ত স্মৃতি আর অসহায়তার ইতিহাস।
যখন কিংশুকের বয়স মাত্র তের, তখন থেকেই সে প্রতিদিন নিজের বাড়ির ভেতরে যুদ্ধের মতো একটা পরিবেশ দেখতো। তার বাবা আকাশ খানের সঙ্গে মায়ের ঝগড়া, চিৎকার,অশান্তি সবকিছুই ছিল তার ছোট্ট চোখের সামনে। সেই বয়সে একটা শিশুর যেখানে হাসি আর খেলায় ডুবে থাকার কথা, সেখানে কিংশুক রাতের পর রাত নিজের রুমে মুখ লুকিয়ে কাঁদতো।

মানুষ বলে—ছেলে মানুষ কাঁদে না।
কিন্তু কিংশুক আবির খান প্রায় প্রতিদিনই কাঁদতো।
কারণ তার শৈশব ছিল অসহনীয়ভাবে অন্ধকার।
যতবার তার বাবা মায়ের গায়ে হাত তুলতো, ততবার সে তড়িঘড়ি করে নিজের ছোট বোন ক্যাটরিনাকে নিয়ে রুমে ঢুকে দরজা লক করে দিত। দুই ভাইবোন তখন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ভয়ে কাঁপতো। কারণ তারা জানতো—বাবার রাগ শুধু মায়ের ওপরেই থামে না, তাদের গায়েও এসে পড়ে।
কিংশুকের মায়ের সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল সে বাঙালি।উচ্চবিত্ত সমাজের নিয়মকানুন, পার্টি, হাই সোসাইটির আড়ম্বর—এসবের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। কিংশুকের দাদার জোরাজুরিতে আকাশ খান বিয়ে করলেও সে কখনো স্ত্রীকে মানুষ হিসেবে মেনে নেয়নি। তার কাছে স্ত্রী ছিল কেবল ভোগের বস্তু।
চারপাশের মানুষ ভেবেছিল—বাচ্চা হলে হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে।কিন্তু যাদের স্বভাব বদলায় না, তাদের কাছে সন্তানও কোনো পরিবর্তন আনতে পারে না।

কিংশুক জন্মালো কিছু বদলালো না।তারপর ক্যাটরিনা জন্মালো তবুও কিছু বদলালো না।
একদিন আকাশ খান নিজের পরকীয়া প্রেমিকাকে নিয়েই বাড়িতে চলে আসে। সেদিন পুরো বাড়িটা যেন একটা নোংরা উৎসবের জায়গা হয়ে উঠেছিল। সারা রাত হাসি-ঠাট্টা, উল্লাসে মেতে ছিল তারা।
কিন্তু সেই রাতেই কিংশুকের মা সিদ্ধান্ত নেন আর নয়।তিনি বলেছিলেন, তিনি এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবেন। নিজের সন্তানদের নিয়ে নতুন জীবন শুরু করবেন।সেটাই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল।
আকাশ খান এবং তার পরকীয়া সঙ্গী মিলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।সেই ভয়ংকর মুহূর্তে কিংশুক হঠাৎ করে রুমে ঢুকে পড়ে। তখন তার মায়ের শেষ নিঃশ্বাস টুকু চলছিল। কতটা কষ্ট নিয়ে কিংশুকের মা তার দিক এক মুহুর্তের জন্য তাকিয়ে ছিলো, তা কেবল কিংশুকই বলতে পারবে। হয়তো সে খুব করে চাচ্ছিলো তার প্রাণ যেন বেঁচে যায়। মায়ের এমন করুন অবস্থা দেখে কিংশুক দৌড় দেয়।
ছোট্ট কিংশুক ছুটে গিয়ে মাকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে থাকে । বাবাকে ধাক্কা দিতে থাকে। কিন্তু আকাশ খানের প্রেমিকা তাকে শক্ত করে আটকে ধরে। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলার শক্তির কাছে তেরো বছরের কিংশুকের শক্তি নস্যি।

তার চোখের সামনে মা ছটফট করতে করতে ধীরে ধীরে নিস্তব্ধ হয়ে যায়।কিংশুক কিছুই করতে পারেনি।সেই দৃশ্যটা তার জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন হয়ে রয়ে যায়। ধীরে ধীরে পুরো পৃথিবীটাই অন্ধকার হয়ে আসে তার।
এরপর যখন সে আবার চোখ খুলে, তখন তার হাতে হাতকড়া পড়া। শরীরজুড়ে রক্তের দাগ। তাকে জানানো হয়।মায়ের খুনের দায়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
যেখানে সে ছিল সম্পূর্ণ নিষ্পাপ ।সেখানে তার শরীরে রক্ত কীভাবে আসলো? এবং হাতকড়াই বা কখন লাগানো হলো? সে-সবের উত্তর ছিলো আরো ভয়ংকর। তার মা-কে শুধু শ্বাসরোধ করেই শান্ত হয়নি তারা। করা হয়েছিলো ছুরি আঘাত ও। আর ঘটনাটি এতোটাই সুক্ষ্ম ভাবে করা হয়েছিলো, যেন কিংশুককে হত্যাকারী বানানো যায়। তার থেকে বড় কথা কিং ছিলো কিশোর। তাই অনুযায়ী তার ফাসি হতো নাহ। সে যদি অপরাধ স্বীকার করতো তাহলে আজীবন কারাদণ্ড হতো তার। কিন্তু যে দোষ সে করেনি। তার স্বীকারত্বী কেন?
চার মাস কিংকে কিশোর সংশোধনাগারে রাখা হয়। সেখানে তাকে ভয়ংকর নির্যাতনের শিকার হতে হয়। বারবার ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো, মারধর করা হতো—শুধু একটা কথা বলানোর জন্য।
“স্বীকার করো—তুমি তোমার মাকে খুন করেছ।”
একটা তেরো বছরের শিশু আর কতটা সহ্য করতে পারে?শেষ পর্যন্ত কিংশুক সব স্বীকার করে নেয়। যাবৎ জীবন জেল হয় তার।

কিন্তু পরে তার দাদা—ফার্স্ট কিংস—নিজের অর্থ আর ক্ষমতার জোরে তাকে জেল থেকে বের করে আনেন। এরপর চারদিকে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এক নতুন গল্প।
কিংশুকের মা পরকীয়া করতেন।লজ্জা আর অপমানে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
সত্যটা চাপা পড়ে যায়।বাড়িতে ফিরে আসার পরও কিংশুকের জীবন স্বাভাবিক হয়নি। বরং প্রতিদিন তার ওপর চলতে থাকে বাবার নির্মম অত্যাচার।কখনো সিঁড়ি থেকে ফেলে দেওয়া। কখনো চাবুকতাঘাত, কখনো বাথরুমে লক করে রাখা, আবার কখনো না খইয়ে আলমারিতে বন্দী করে রাখা।
কিন্তু সব থেকে ভয়ংকর ছিল আরেকটা সত্য।

কিংশুক একদিন জানতে পারে—তার নিজের ছোটো বোন প্রতিনিয়ত তাদের বাবার কাছে ধর্ষ’ণের শিকার হতে থাকে।
যে বাবা সন্তানের নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা, সেই মানুষটাই ছিল একটা ভয়ংকর অপরাধী। কম বয়সী ক্যাটরিনা প্রেগন্যান্ট হয়ে যায় তার বাবার সন্তানের। হয়তো এর থেকে নোংরা, জঘন্য কিছু কখনো কারো সাথে হয়নি। বাবা তো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ হওয়ার কথা ছিলো, তাহলে ক্যাট কেন দিনের পর দিন নির্যাতিত হতো? যেদিন কম বয়সী ক্যাটরিনার প্রেগ্ন্যাসির কথা কিংশুক জানতে পারে। সে সারা রাত নিজের বোনের পা ধরে বসে ছিলো। ভাই হিসেবে সে অপর্দাথ্য। সে পারেনি বাবা নামক হিংস্র, জানোয়ারের থেকে বোনকে রক্ষা করতে।
সারা রাত নির্ঘুম কাটানোর পর যখন একটুর জন্য কিংশুকের চোখ লেগে যায়, কারো আর্তনাদে আবার ও সে ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে। চারপাশে তাকিয়ে দেখে ক্যাটরিনা নেই। তড়িঘড়ি করে দরজায় কাছে গিয়ে দেখে দরজা লক বাইরে ক্যাটরিনার আওয়াজ। থাই গ্লাসের জানালা দিয়ে কিংশুক বের তো হয়েছিলো। কিন্তু বোনকে রক্ষা করতে আবার ও ব্যর্থ হয় সে। পুরো রুমে রক্তে ভরা। গর্ভবতী ক্যাটরিনার পেট বরাবর হয়তো কিছু একটা দিয়ে বা’রি অথবা লাথি দেওয়া হয়েছিলো।

কিংশুক শুধু ক্যাটরিনাকে ছটফট করতে দেখেছিলো। তাকে কীভাবে বাঁচাবে তার জানা ছিলো না। কিন্তু কথায় আছে, রাখে আল্লাহ তো মা’রে কে?
ঠিক সেদিনই আতিয়া বেগম চলে আসে কিং ভিলাতে। সাথে ফাস্ট কিংস ও। সে দিন ক্যাটরিনা বেঁচে তো গিয়েছিলো, কিন্তু তার সারাজীবনের জন্য কলঙ্ক লেগে যায়। সে কখনো মা হতে পারবে না। ছোটো ক্যাটরিনা এবং কিংশুকের শৈশব সেখানেই চাপা পড়ে যায়।
আতিয়া বেগম সিদ্ধান্ত নেন ক্যাটকে নিজের সাথে নিয়ে রাখবেন। সম্মানের ভয়ে তারা চুপ তো থাকবেন। তবে ছেলে-মেয়েকে ভাই নামক নরপিশাচের কাছে রাখবেন না। কিন্তু বেঁকে বসে কিংশুক। সে থাকবে৷ তার গ্রেন্ডপা এবং বাবার সাথে। আতিয়া বেগম হাজার বার বলে ও কিং কে নিজের সাথে আনতে পারেননি।
এর কিছুদিন পর আরেকটা খবর ছড়িয়ে পড়ে
সেকেন্ড কিংস নাকি স্ত্রীর পরকীয়ার কষ্ট সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন।কিন্তু সত্যটা ছিল ভিন্ন।
আসলে তাকে হত্যা করেছিল কিংশুক নিজেই।

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৪৮

খান ভিলার প্রতিটি ইট সেই ঘটনার সাক্ষী ছিল।
কিন্তু সেই সত্যও ধামাচাপা পড়ে যায় ক্ষমতা আর টাকার আড়ালে। ফাস্ট কিংস কিংশুককে নিয়ে যান লন্ডনে। এসব অতীত থেকে আড়ালে। কিন্তু ছোটোবেলার সেই ভয়ংকর স্মৃতি এবং ইলেকট্রিক শকের ফলে কিংশুক হয়ে ওঠে অস্বাভাবিক। সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা। যার মন জুড়ে ছিলো সন্দেহ।
এইভাবেই ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠে কিংশুক। একটা ভাঙা পরিবারে, অসংখ্য দুঃস্বপ্ন আর ভয়ংকর স্মৃতি গুলো নিয়ে।
মানুষ তাকে পরে এক নামেই চিনতে শুরু করে।
“সাইকো কিংশুক।”

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৫০

2 COMMENTS

Comments are closed.