Home আপনাতেই আমি আপনাতেই আমি পর্ব ১৮

আপনাতেই আমি পর্ব ১৮

আপনাতেই আমি পর্ব ১৮
ইশিকা ইসলাম ইশা

সামনে তীব্র কে দেখে হতভম্ব হয়ে আছে রিদি। ডঃ আশিক মাহমুদ পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন এই কলেজের ওনার এর সাথে।কলেজের বর্তমান মালিক ডঃ তীব্র চৌধুরী।
তীব্র কে দেখে যতটা অবাক হয়েছে তার চেয়ে বেশি অবাক হয়েছে তীব্রর নামের সাথে ডঃ শব্দটা শুনে।ডঃ মাহমুদ তীব্রকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। ডঃ তীব্র চৌধুরী সার্জারি বিশেষজ্ঞ।খুব জটিল সার্জারি দরকার হলে তীব্র আসে।তীব্র আড়চোখে রিদির হতভম্ব হওয়া মুখটা দেখল বৌ তার অবাক হবে সেটা স্বাভাবিক।
আশেপাশে সবাই হা হয়ে দেখছে তীব্র কে।খেয়ে ফেলার মতো সুন্দর সে।তীব্র সহ বেশ কিছু সার্জারি ডঃ আছে এখানে। ডক্টর মাহমুদ সবার উদ্দেশ্যে বলেন,

মোট পাঁচটি টিম করা হয়েছে।টপ দশজন যারা পরিক্ষায় ভালো ফলাফল করেছে তাদের জন্য এই সুযোগ।পাচটি টিম এ দুইজন করে স্টুডেন্ট থাকবে। ডক্টর ইউসুফ আলী,ডক্টর আমির হোসেন,ডক্টর লিমন ঘোষ,ডক্টর ফাহিম শেখ,ডক্টর তীব্র চৌধুরী।
এবার আমি সেসব স্টুডেন্ট এর নাম বলব যারা এই সুযোগ পাচ্ছেন এবং কার টিমে যুক্ত হবেন।
১।লামিয়া,আয়ান ডক্টর ইউসুফ আলী
২।প্রীতি,মাইমা ডক্টর আমির হোসেন
৩।রুমি,সোহান ডক্টর লিমন ঘোষ
রিদি শক্ত করে মেঘলার হাত ধরে আছে।ভয়ে সারা শরীর ঘামছে।মেঘলা রিদির সব কিছুই জানে বিধায় সে রিদির ব্যাপরটা বুঝছে। কিন্তু কিছু তো তাদের হাতে নাই।
৪।অভিক,মেঘলা ডক্টর ফাহিম শেখ।
রিদির হাত পা ঠান্ডা হয়ে এলো।যা ভয় পেয়েছে সেটাই হয়েছে।রিদির এখন হাত পা ছুরে কান্না করতে ইচ্ছে হচ্ছে।
৫।রিদিতা,আবির ডক্টর তীব্র চৌধুরী।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

সবার উদ্দেশ্যে বলছি।এটা চেঞ্জ হবে না।আমি আশা করছি তোমরা মনযোগ দিয়ে কাজ করবে।
মেঘলা, আয়ান দুইজনেই একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করল।তাদের হাতে কিছু নেই। অতীত চাইলেই ভোলা যায় না।রিদির সামনে আবারো সব ভেসে উঠছে পুরানো স্মৃতি।তীব্রর আঘাত,চাহনি,রাগ,জেদ, অহংকার।তীব্রর টিমে পড়ার জন্য সবাই রিদিকে কনগ্রাচুলেট করছে,আবার কেউ হিংসা করছে।রিদি নিজেকে যথাসম্ভব শান্ত রাখার চেষ্টা করছে।রিদি নিজেকে বার বার বুঝাচ্ছে তীব্র শুধু একজন টিচার ছাড়া কিছু না।না সে তাকে চিনে আর না সে চিনতে চায়।
আবির রিদির কাছে এসে বলে,
রিদি চলো স্যারের রুমে।সব কিছু স্যার আজ বলে দিবে কখন কি কিভাবে করতে হবে।
রিদির হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসল।নিজেকে যথাসম্ভব সামলে ধীর পায়ে এগুলো তীব্রর কেবিনের দিকে।আবির তো সাথে আছে।রিদি তীব্রর রুমের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।আবির নক করে,
স্যার আমরা কি আসতে পারি!!
ওপাশ থেকে ভরাট কন্ঠে বলল,

ভেতরে আসো।
আবির ভেতরে ঢুকে গেলে রিদিও ভেতরে আসে।রিদি চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।
বসুন।
আবির রিদিকে চেয়ার টেনে বসতে বলে।রিদি ইতস্তত করে বসল।
তীব্র তেজ মিশ্রিত ভরাট কন্ঠে বলল,
আপনাদের নাম??
আবির ঝটপট বলল,
আবির হোসেন।তীব্র তাকালো রিদির দিকে।তীব্র বুঝল রিদির ভয়ের কারন।নিজেকে সামলে খুব নরম কন্ঠে বলল,
আপনার নাম মিস??
রিদিতা চমকে উঠে বললো,
মিসেস রিদিতা।
তীব্র অবাক হওয়ার মতো বলল,
মিসেস?? বিবাহিত??
রিদি ঝটপট বলল,
জি স্যার!
তীব্র দুইজনের উদ্দেশ্য বলল,
তোমাদের এই চ্যাপ্টার থেকে শুরু হবে।আমি কিছু নোটস দিব আর প্র্যাকটিক্যাল থেকে তোমাদেরকে প্রশ্ন করবো।কাল থেকে তোমাদের প্রাক্টিস শুরু।আবির ডঃ মাহমুদ এর রুমে আমার দেওয়া নোটস আছে নিয়ে আসুন।
জি স্যার!!!

আবির উঠতেই রিদিও উঠে দাঁড়ালো।
আপনাকে যেতে বলিনি মিসেস রিদিতা।আপনি থাকেন আবির নিয়ে আসবে।
রিদিতা আবাক হল,
কিন্তু কিছু বলার পেল না।আবির যেতেই রিদিতা একবার তীব্র কে দেখে মাথা নিচু করে রাখল।তীব্র দেখছে তার বৌ কে।মজনুর সাথে তো কখনো এমন নিশ্চুপ থাকে না।অথচ তীব্র কে দেখে এমন চুপসে আছে কেন?থাকা কি স্বাভাবিক না!!সে তো আর কম কিছু করেনি।
রিদিকে নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকতে দেখে তীব্র বলে,
হাজবেন্ড কি করে??
চমকে উঠলো রিদি,
নিজেকে সামলে নিয়ে বলল।এখানে অফিসে কাজ করে।কেরানির।
তীব্র একটু আফসোস করে বলে,
কেরানি!!রিয়েলি!!

রিদির রাগ হলো।কটমট করে চাইল তীব্রর দিকে।
কেরানির চাকরি কি চাকরি না স্যার??(রেগে কটমট করে বলল)
তীব্র দেখল রিদির কটমটে দৃষ্টি।আবারো একই ভঙ্গিতে বলল,
ফুপি কি দেখে বিয়ে দিয়েছে?সব রেখে কেরানি জামাই আফসোস!!
এবার ক্ষেপে গেল রিদি রাগে গজগজ করতে করতে বলল,
খবরদার মি:তীব্র চৌধুরী একদম মজনু সাহেব কে নিয়ে বাজে মন্তব্য করবেন না।কেরানি হয়েছে তো কি হয়েছে?সে তো মানুষ ই।আর খুব ভালো মানুষ। অশিক্ষিত হতে পারে ,কেরানির চাকরি করতে পারে। কিন্তু আপনার মতো অসভ্য, নষ্টা পুরুষ না। আপনার নামের পাশে ডঃ শব্দটা মানায় না। গুন্ডামি আর অসভ্যতামির সাথে মাফিয়া শব্দটাই মানায়।এতো পরিচয় কিভাবে বহন করে। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী,ডক্টর,মাফিয়া সাথে নিশ্চিত আরো কিছু যুক্ত করেছেন!!ওহো পলিটিক্স বাদ গেছে বুঝি!সেটাতেও নাম লেখান। যা ইচ্ছে তাই করেন।আমি আর আমার হাজবেন্ড থেকে দূরে থাকবেন। পূর্ব পরিচিতি না ছিল আমাদের আর না থাকবে।মনে রাখবেন।

রিদি কথা শেষ করেই রুম থেকে বের হয়ে যায়।ভাবলেও ঘৃনা হয় এই নষ্টা পুরুষকে অজান্তেও কখনো মনে জায়গা দিয়েছিল। নিষিদ্ধ জিনিসে নাকি মানুষের টান কাজ করে।রিদির অবাধ্য মন ও নষ্ট পুরুষ মনের ভুলেই হয়তো মনে জায়গা দিয়েছিল। কেন জানি সেদিন রিদিকে বাচানোতে মনে হয়েছিল অসভ্য আচরন করলেও কোথাও যেন ভালো তীব্র। কিন্তু তার অহেতুক করা আঘাত মনে ক্ষুদ্র তৈরি হওয়া অনূভুতি টুকু ভেঙে দিয়েছিল।
এখন সেতো আর ক্ষুদ্র অনূভুতির পিরায় থাকতে চায় না।সে তো সাধনা করলেও মজনুর মতো কাউকে পেত না। সাধনা না করেই যখন পেয়েছে তখন হারিয়ে যেতে দেবে না।তার তো দুনিয়া বলতে সেই মানুষটিই আছে এতো বড় পৃথিবীতে।

তীব্র রিদির যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।কি পিরা দিচ্ছেন বেগমজান?যার অস্তিত্ব নাই তাকে এক আকাশ সমান ভালোবাসেন।অথচ যার আছে তাকে আপনার সহ্য হয় না!তীব্র চৌধুরীকে সহ্য হয় না!!হা হাহা!
জীবনে এটাও দেখতে হবে!!
রিদি আনমনে হাঁটছিল হুট করেই কারো সাথে ধাক্কা লেগে পড়ে যেতে লাগলো। কিন্তু হয়তো কেউ তাকে ধরেছে তাই পড়ে যায় নি।রিদি হাতের দিকে তাকিয়ে দেখল আয়ান। আয়ান রিদিকে টেনে দাড় করাই। ক্ষিপ্ত মেজাজে বলে,
এভাবে কানার মতো হাঁটছিল কেন??মরে স্বামিকে বিধবা করার সখ হয়েছে নাকি??
রিদি আয়ানের থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,
ভাবছিলাম কিছু তাই!
আয়ান রিদির হাত আবারও ধরে টেনে সাইডে নিয়ে আসে।কি সমস্যা বলল!!!তীব্র স্যার তোরে কিছু বলছে??
না!!আসলে শরীর টা খারাপ লাগছে।
কি হয়ছে??আমি মেঘলা কে ডাকব??

না! শুধু একটা রিসকা ঠিক করে দে।আমি পুচি কে নিয়ে আসি।
রিকশা লাগবে না।চল আমি বাসায় পৌঁছে দিচ্ছি।
থাক না!আমি যেতে পারব!!
তোর কাছে কিছু শুনতে চাই না।তুই বস আমি মেঘ কে নিয়ে আসি!
মেঘ সবেই অভিক এর সাথে কথা বলতে বলতে বের হচ্ছিল।হুট করেই আয়ান এসে সামনে দাঁড়ায়।মেঘ ঘাবড়ে গিয়ে অভিক এর হাত হাত ধরে দাঁড়াল।আয়ান তিক্ষ দৃষ্টিতে দেখল হাত ধরে থাকার দৃশ্য। কটমট করে চাইল মেঘলার দিকে।মেঘলা আয়ান কে দেখে বলে,
কুওা……..এভাবে ভয় দেখাচ্ছিস কেন??
আয়ান মেঘলাকে টান মেরে নিজের পাশে এনে বলে,
তোর এতো ক্যান ক্যান করার সময় নাই।রিদির শরীর ভালো না চল।বলেই মেঘলাকে কিছু বলতে না দিয়ে হাত ধরে টানতে লাগলো।

রিদি শারীরিক ভাবে অসুস্থ না হলেও মানসিক ভাবে অসুস্থ।তীব্র তার কাছে ঘৃনিত অতীত ছাড়া কিছুই না।তীব্রর জন্য তার মনে কিছু ছিল!নাকি এখনো আছে!তা জানে না রিদি।
প্রথম হৃদয় ছোয়া অনূভুতি কি কখনো ভোলা যায়!!!! নিজেকে ছিন্নভিন্ন করতে ইচ্ছে হচ্ছে রিদির। সে অন্যকারো বৌ হয়ে সে মিনিমাম সময় ও তীব্রর কথা ভাবছে। মজনুর মতো কাউকে পেয়ে যদি সামন্য তমও ঐ ব্যাক্তির কথা ভাবে এতে সে ঠকবাজ হয়ে গেল না! অবশ্যই সে ঠক।সে কেন ভাববে নষ্টা পুরুষের কথা।
এমন ও তো না যে সে মজনু কে ভালোবাসে না।বাসে ভীষণ ভালোবাসে।রিদির পুরো দুনিয়া বলতে সেই মানুষটিই তো আছে। তবুও তীব্রর তীব্রতা যেন মনের কোনে কোথাও রয়েই গেছে।

আপনাতেই আমি পর্ব ১৭

এই রিদু তুই ঠিক আছিস??কি হয়েছে??
মেঘলার ডাকে বাস্তবে ফিরে আসে রিদি।
আমি ঠিক আছি মেঘ। আয়ান একটু বেশিই ঘাবরে গেছিল।পুচি কে নিয়ে বাসায় যাব।চল।
আয়ান ,রিদি আর মেঘলা কে বাড়িতে নামিয়ে নিজেও চলে গেল।

আপনাতেই আমি পর্ব ১৯