Home আমরণ প্রেমতৃষ্ণা আমরণ প্রেমতৃষ্ণা পর্ব ১৭

আমরণ প্রেমতৃষ্ণা পর্ব ১৭

আমরণ প্রেমতৃষ্ণা পর্ব ১৭
তানহা ইসলাম বৈশাখী

অন্ত বিরস মনে বসে আছে ভার্সিটির শহীদ মিনারের সিঁড়িতে । পুষ্প যেই ভার্সিটিতে পড়ে অন্তও সেখানেই পড়ে।
অন্ত একা বসে নেই তার সাথে আরো তিন চারজন বন্ধুও আছে। সবাই কথা বলছে কিন্তু অন্ত নিশ্চুপ। এমনিতেও সে ভদ্র শান্ত ছেলে। শোরগোল ঝামেলা এড়িয়ে চলে সবসময়। বন্ধুরা সবসময় হৈ-হুল্লোড় করলেও সে ওতটা হৈ-হুল্লোড় করে না। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে একটু বেশিই চুপচাপ থাকছে।
ওকে এতটা শান্ত দেখে পাশ থেকে বন্ধু রাফিন বলে উঠলো।
“-কিরে অন্ত। ইদানিং দেখছি একেবারে চুপচাপ হয়ে গেছিস। ব্যাপার কি? তোর অন্তঃপ্রিয়া আবার ধোকা দিলো নাকিরে তোকে?
অন্ত মলিন হাসে। বলে বিদ্রুপ স্বরূপ ।

“-হুহ্! সে আমার অন্তঃপ্রিয়া। সে আমার মনে থাকে। আমি তার মনে থাকি না। একপাক্ষিক ভালোবাসায় তো ধোকার প্রশ্নই আসে না।
অন্তর গলার টোন শুনে সবাই একযোগে তাকালো তার দিকে। কেমন মলিন শোনালো স্বরটা। বন্ধুরা মোটে তিনজন ছিলো সেখানে। রাফিন, মেজবাহ আর আরেকজন মেয়ে শায়লা।
অন্তর কথায় মেজবাহ বললো।
“-ও কি তোর ফিলিংস সম্পর্কে এখনো অজানা?
“-হু।
রাফিন খ্যাঁক খ্যাঁক করে বললো।
“-শা*লা ভিতুর ডিম। ভাব মারাও তুমি? মরে গেলে বলবা? তোমার বলতে বলতে ও এমনিতেই অন্যের বউ হয়ে যাবে। তখন দেবদাস হয়ে ঘুরে বেড়িও।
অন্ত স্বাভাবিক গলায় বললো।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“-বলে কি হবে?
রাফিন নাটকীয় ভঙ্গীতে বললো।
“-এই মেজবাহ আমাকে ধর। ওই শা*লা বলে কি? বলে কি করবি মানে? তুই না বললে ও কি করে জানবে সব? কুট্টুস কালের ভালোবাসা তোর। আমরা জানি সেই কলেজ লাইফের নিব্বা থাকতে। এখন তো ও নিব্বি হয়ে গেছে। এখন বলবি না তো কখন বলবি?
“-ও অন্য কাউকে ভালোবাসে।
রাফিন হায় হায় করে বলে উঠলো।
“-কি বলিস? ওইটুক নিব্বিও প্রেম করে? কানের গোড়ায় দুটো লাগিয়ে দিতে পারলি না।
শায়লা বললো।
“-আহ রাফিন! মজা করিস না। বিষয়টা সিরিয়াস। ও কাকে পছন্দ করে কিছু জানিস? কে সে?
অন্ত একইভাবে বললো

“-হু। হৃদয়
সকলের ভ্রু কুচকে গেলো। মেজবাহ বললো।
“-হৃদয় মনে তোর ভাইয়ের বন্ধু। মানে ইআর (ER) ব্যন্ডের হৃদয়?
“-হ্যাঁ।
শায়লা হাত দিয়ে মাছি তাড়ানোর মতো করে বললো।
“-ধুর। ওকে কে না পছন্দ করে। প্রার্থ, হৃদয়, কার্তিক, অর্নব, রকি এরা তো জাতির ক্রাস। আই অলসো ক্রাসড ওন দেম।
অন্ত তপ্ত শ্বাস ফেলে বললো।
“-শুধু ক্রাশ হলে তো হতোই।
রাফিন আবার বললো।

“-কিন্তু শা*লা তো এক নাম্বারের লু*চ্চা। প্লে বয় একটা। দুদিন পর পর গার্লফ্রেন্ড বদলায়। তোর অন্তঃপ্রিয়া তাতে ডুবলো কি করে? সে কি জানেনা তার ব্যপারে?
“-জানলেও হয়তো মানতে চায় না। বয়স কম তাই আবেগ বেশি।
“-তুই কবে কবি তাই ক ব্যাটা। বা*লের পুরুষ তুমি। আমি হইলে ওর দুইগালে দুইটা মারতাম আগে। তুই কিছু বলোস না কেন বা*ল।
প্রিয়াকে নিয়ে এসব কথা বলতে গেলেও অন্ত’র বুকে লাগে। যাকে দেখা ছাড়া দুদিনও কাটাতে ইচ্ছে করোনা সেই তাকে এক সাপ্তাহ ধরে দেখেনা। না কোন ফোন দেয়৷ ওইদিন ফোনে ঝগড়া হওয়ার পর মনটা বিষিয়ে গেছে। একটা ছেলের সহ্য ক্ষমতা কতটুকু। নিজের প্রিয় মানুষের মুখে বারবার অন্যের নাম শুনতে কেমন লাগে তা কেউ অন্তকে জিজ্ঞেস করুক। প্রতিনিয়ত দহনের আগুনে পুড়ে ছাই হচ্ছে তার হৃদয় অরন্য। দহন থেকে মুক্তি পেতে তার সাথে কোন যোগাযোগই করে নাই আর। প্রতিবার দুজনের ঝগড়ার পর অন্তই যেচে গিয়ে প্রিয়ার সাথে কথা বলে। ভুল সবসময় প্রিয়ারই থাকে তবুও সবার আগে সরি বলবে অন্ত। বেচারা একটু বেশিই ভালোবাসে তার অন্তঃপ্রিয়া কে। কিন্তু সে সেটা বুঝলে তো।

অন্ত একধ্যানে ডুবে আছে বলে রাফিন আবার ওকে ধাক্কা দিলো। বললো।
“-কিরে। কই হারালি? বল কিছু। তুই কি হৃদয়ের জন্যে ছাইরা দিবি নাকি ওরে?
“-অসম্ভব। ওকে ছাড়া অন্য কারো কথা ভাবতেও পারিনা কখনো। ওকে কি করে অন্য কারো হতে দেই?
“-হয় হয় এইটাই চাই। একদম ছাড়বি না। সেই নিব্বাকাল থেকে তোর মুখে প্রিয়া প্রিয়া শুনে অতিষ্ট হয়ে গেছি। তবুও সমস্যা নাই। এখন অভ্যেস হয়ে গেছে।এখন প্রিয়া তোর হোক এটাই চাই। শোন তুই আগে হৃদয়ের কেচ্ছা সামনে আন। ও ছেলে যে প্লে বয় এটা ওকে বুঝা তাহলেই সব ক্লিয়ার। তারপর আর তোরে আটকায় কে।
অন্ত চুপচাপ শুনলো কিছু আর বললো না। কি করবে না করবে সে নিজেও জানে না। প্রিয়াকে তার চাই-ই চাই। নয়তো এজীবন পূর্নতা পাবে না। ছোট বেলা থেকে ওই একজনকেই মনে জায়গা দিয়ে রেখেছে। তাকে কি করে মন থেকে মুছে ফেলবে?

আজ অনেকদিন পর আবার ভার্সিটি প্রাঙ্গনে পা রেখেছে পুষ্প। সাথে আরেকজনও আছে। পুষ্প তাকে বারন করেছিলো আসতে কিন্তু সে নিজে জোর করে এসে পরেছে। দুজনে মাত্রই ভার্সিটির গেট মারিয়ে ভেতরে ঢুকলো। বলতে গেলে এটা অর্নবদেরও ভার্সিটি। দুবছর আগে এখান থেকেই অনার্স শেষ করে বেরিয়েছে। অনেকদিন পর আবার আসা হলো ভার্সিটিতে পুষ্পর জন্য। অর্নবের বিশ্বাস আজ প্রার্থও আসবে ভার্সিটিতে। তখন পুষ্প আর অর্নবকে দেখে তার রিয়েকশন কি হবে সেটাই দেখার অপেক্ষা।
ওরা দুজনে ক্যাম্পাসের একটু ভেতরে যেতেই মুখোমুখি হলো সমৃদ্ধি নামের মেয়েটির সাথে। সমৃদ্ধি সামনে থেকে এদিকেই আসছে। অর্নবই আগে দেখলো তাকে। ওকে দেখেই এড়িয়ে যেতে চাইলো কিন্তু বিধিবাম মেয়েটি ডেকে উঠলো তাকে।

“-অর্নব!
অর্নব চোখ মুখ খিচে নিলো। মনে মনে বললো
“-ইশশ! আজকেই এই মেয়ের আসতে হলো এখানে!
অর্নব পুষ্পর দিকে তাকালো একবার। পুষ্পও সমৃদ্ধির দিকে বিহুল দৃষ্টিতে চেয়ে আছে।
মেয়েটি এগিয়ে আসলো তাদের দিকে ততক্ষণে অর্নব পুষ্পর হাটা থেমে গেছে।
মেয়েটার পড়নে শাড়ী । অথচ আজকেই পুষ্প শাড়ী পরেনি। সাদা রংয়ের একটা চুরিদার পড়েছে।
লাল রংয়ের শাড়ীতে ফর্সা সুন্দর দেখতে সমৃদ্ধিকে অপ্সরীর মতোই লাগছে। চুলগুলো কাথ পর্যন্ত। চুল খোলা রাখায় বাতাসে উড়ে উড়ে আসছে মুখের উপর। বলতে হবে মেয়েটা সুন্দরীই বটে। এমনি এমনি তো আর প্রার্থ ভাইয়ের প্রেমিকা হয়নি। বয়সেও পুষ্পর থেকে বড় হবে সে। কারন সমৃদ্ধি ছিলো প্রার্থর ক্লাসমেট। মনে মনে খুব হিংসে হলো তার। ভাবলো সমৃদ্ধির মধ্যে মনেহয় অনেক কিছু আছে যা পুষ্পর মাঝে নেই। দেখাই তো যাচ্ছে মেয়েটা কত সুন্দর। পুষ্প মনেহয় এত সুন্দরী নয়।
সমৃদ্ধি মেয়েটা একেবারে সামনাসামনি এসে অর্নবকে বললো।

“-অর্নব! কেমন আছিস?
অর্নব শুধু বললো
“-হুম ভালো। তুই এখানে?
“-ওইযে সিমান্ত বাসায় কিছু জরুরি নোটস রেখে এসেছিলো আমাকে কল করে বললো আপু নোটসগুলো দিয়ে যা। তাই দিতে এলাম। তুই এখানে কি করছি?
“-এমনি কাজ ছিলো।
সমৃদ্ধি অর্নবের পাশে দাঁড়ানো পুষ্পকে দেখে। তাকে ইশারায় দেখিয়ে বললো।
“-ও পুষ্প না? প্রার্থর খালাতো বোন।
সমৃদ্ধির মুখে প্রার্থর নাম শুনে পুষ্পর ভেতরটা জলে গেলো। কিন্তু কিছু বললো না। শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।
অর্নব বললো।

“-হ্যাঁ ও পুষ্প কিন্তু এখন……..
অর্নবকে শেষও করতে দিলো না কথাটুকু। তার আগেই সে বললো।
“- আচ্ছা ছাড়। আমার কথা শোন। প্রার্থর নাম্বারটা দিতে পারবি প্লিজ। আমি ওর কাছে ক্ষমা চাইবো। দুই বছরেও ওকে আমি ভুলতে পারিনি রে। আমি ওকে আবার ফিরে পেতে চাই।
অর্নবের ভীষন রাগ হলো। এই মেয়ে চাইছেটা কি? এখন যখন প্রার্থ বিয়ে করেছে। পুষ্পর প্রতি মন দূর্বল হচ্ছে তখন এসে আবার এসব বলছে। অর্নব শুনে চুপ থাকলেও প্রার্থ একবার ওর মুখে এমন কিছু শুনলেই থা*প্প*ড় বসিয়ে দেবে।
অর্নব ভ্রু কুচকে তেজ নিয়ে পুষ্পকে দেখিয়ে বললো।

“-প্রার্থ বিবাহিত। এন্ড সি ইজ হিস ওয়াইফ। দূরে থাকবি প্রার্থর থেকে। আমি তোকে কিছু বলছি না কিন্তু প্রার্থর সামনে ভুলেও এগুলো বলবি না। থাপ্পড় খেতে সময় লাগবে না। ভুলে যাস না চিটার তুই ছিলি। বড়লোক হ্যান্ডসাম ছেলে দেখে তুই ছেড়েছিলি প্রার্থকে। এখন আবার ব্যাক করতে চাস? লজ্জা লাগে না?
এতক্ষণের ভদ্রতা নিমিষেই শেষ হয়ে গেলো অর্নবের। এর সাথে আর কি ফর্মালিটি পালন করবে? সে তো এটা ভার্সিটি বলে কিছু বলছিলো না তাকে। সিনক্রিয়েট করতে চায়নি কিন্তু মেয়েটার কথায় মাথায় আগুন ধরে গেলো তার।
এদিকে সমৃদ্ধি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে পুষ্পকে। চোখে বিষ্ময় তার। পুষ্পর দিকে তাকিয়েই অর্নবকে বললো।

“-তুই মিথ্যে বলছিস? ও তো প্রার্থর খালাতো বোন হয়। প্রার্থ বিয়ে করতে পারে না।
“-খালাতো বোন হতো এখন বউ হয়। দূরে থাকবি প্রার্থর থেকে।
সমৃদ্ধি চোখ মুখে রাগ আর বিরক্তি নিয়ে পুষ্পকে বললো
“- রূপ দেখিয়ে বস করেছো না প্রার্থকে? তুমি না বোন হও ওর। কি করে পারলে ওকে বিয়ে করতে?
পুষ্প এতক্ষণ চুপ থাকলেও এবার আর চুপ রইলো না। শক্ত গলায় জবাব দিলো।
“-রূপ তো আপনারও কম ছিলোনা। তাহলে আপনি কেন বস করে রাখতে পারলেন না। ওহ সরি! আপনি বস করবেন কি করে। আপনার তো তখন বড়লোক বয়ফ্রেন্ড চাই। প্রার্থ তো তখন সামান্য ভার্সিটি স্টুডেন্ট। ওই রূপ দেখিয়ে তো অন্য কাউকে বস করেছিলেন। সে আর নেই ? এখন আমার স্বামীর দিকেই কেন কু নজর পড়লো আপনার?

পুষ্পর কথায় সমৃদ্ধি, অর্নব দুজনেই অবাক। পুষ্প যে এভাবেও কাউকে ধুয়ে দিতে পারে তা অর্নবের জানা ছিলো না। মেয়েটা তো আগে বেশ নরম টাইপের ছিলো। হঠাৎ করেই একেবারে বাঘিনী হয়ে গেছে যেন।
পুষ্প এতক্ষণ চুপ ছিলো কারন প্রার্থকে নিয়ে কোন কথায় সে কিছু বলতে চায়নি। কিসের দমে বলবে। যার জন্য বলবে সেই চায়না পুষ্প তার উপর কোন অধিকার দেখাক। তাই অধিকার থাকা সত্তেও দেখায়নি কিন্তু এখন সমৃদ্ধির কথায় রাগ হলো ভীষন। কিছু না বলে থাকতে পারলো না।
সমৃদ্ধি রাগে খেই হারিয়ে বলে উঠলো।
“-এ্যই মেয়ে! সাহস কি করে হয় তোমার আমার উপর আঙ্গুল তোলার। তুমি কে আমাকে এগুলো বলার?
“-আপনি যাকে নিজের করে পেতে চাইছেন তার স্ত্রী হই আমি। আশা করি আর কোন পরিচয় দিতে হবে না আমাকে। দূরে থাকবেন আমার হাসবেন্ডের থেকে।
মুখের উপর তর্জনী তুলে শাসালো তাকে। সমৃদ্ধি যেন এতে আরো রেগে গেলো। সে-ও তর্জনী উঠিয়ে বলতে গেলো।

“-তুমি….
“-ব্যাস!
অর্নব ধমকে উঠলো তাকে রুক্ষ গলায় আবার বললো।
“-ব্যাস! অনেক শুনলাম তোর বেহুদা পেচাল। আর একটা কথাও বলবি না। আর ওকে তো আরো বলবিনা।
“-কেন? ও কি হয় তোর? ওর জন্য তুই আমার সাথে এমন করছিস?
“-হু আর ইউ? তুই কে হোস যে তোর সাথে ভালো ব্যাবহার করবো।
“-আমরা বন্ধু অর্নব!

“-সে তো দুইবছর আগেই তুই শেষ করে দিয়েছিস এখন আবার ন্যাকামি করতে কেন এসেছিস? সর সামনে থেকে। সবাই দেখছে। এখানে সিন ক্রিয়েট করতে আসিনি। আর হ্যা প্রার্থর থেকে দশ মাইল দূরে থাকবি ওর আশেপাশেও তোকে দেখলে ভুলে যাবো যে তুই একটা মেয়ে। থা*প*ড়ে কান লাল করে দেবো একদম।
অর্নব কথাটুকু শেষ করেই পুষ্পকে সাথে নিয়ে হাটা ধরলো। বিমূঢ় হয়ে তাকিয়ে রইলো সমৃদ্ধি। এরকম অপমান সে আশা করেনি। প্রার্থ রাগ করবে তা জানে কিন্তু অর্নবও এমন ব্যাবহার করলো? এখন প্রার্থকে কি করে বুঝাবে। যার জন্য প্রার্থকে ছেড়েছিলো সে তো এক নাম্বারের ফ্রড ছিলো। এখন মন শুধু প্রার্থতেই টানছে। এখন তো স্টাবলিশ সে। বিখ্যাত ব্যান্ড মিউজিসিয়ান। পুরো দেশ চেনে। মেয়েদের হাই লেভেল ক্রাশ সে। সমৃদ্ধি এখন ভীষন পস্তাচ্ছে। তখন রাতুলের টাকা দেখে তার পেছনে না গিয়ে প্রার্থর কাছে থাকলেই ভালো হতো। এজন্যই বলে টাকার পিছনে ছুটতে নেই। মানুষ পরিশ্রমী আর সঠিক হলে একদিন সেও সফলতা পাবে। এর জন্য আমাদের ধৈর্য্য ধরা প্রয়োজন। লোভ সত্যিই মারাত্মক এক জিনিস।
সমৃদ্ধি পাশে থাকা একটা বেঞ্চিতে গিয়ে বসলো। নিজের উপর নিজের রাগ হচ্ছে। নিজেকে একটু শান্ত করতে এখানে বসে রইলো।

প্রার্থ অস্থির চিত্তে গাড়ি ছুটিয়ে চলছে। গাড়ীর স্পিড প্রায় ১২০ এর মতো হবে। সে যাচ্ছে ভার্সিটির দিকেই। একটু আগে পুষ্পদের বাড়ি থেকে এলো। ভেবেছিলো পুষ্প বাড়িতেই থাকবে। তাকে আনতেই গিয়েছিলো সেথায়। কিন্তু গিয়ে পায়নি তাকে। পেয়েছে প্রিয়া কে। সে বললো ভার্সিটিতে চলে গেছে অনেকক্ষণ আগে। এরপর আর এক সেকেন্ডও দাঁড়ায় নি। গাড়ি ছুটিয়ে চলে যাচ্ছে ভার্সিটির দিকে।
অর্নব সেদিন বলেছিলো সেও যাবে পুষ্পর সাথে। তারমানে আজ নিশ্চয়ই অর্নব আছে পুষ্পর সাথে। মূলত এই বিষয়টাই প্রার্থর কাছে খারাপ লাগছে। চিত্ত অস্থির হয়ে উঠেছে।
ওইদিন অর্নবের মুখে পুষ্পর কথা শোনার পর মন চেয়েছিলো তখনই গিয়ে পুষ্পর কানের নিচে দুটো লাগিয়ে আসবে। কিন্তু মাঝপথেই থেমে গেছে সে। মস্তিস্ক বারবার প্রশ্ন তুলেছে। নিজের ভেতরের সত্তাটা বলে উঠেছে।
“কেন যাচ্ছিস পুষ্পর কাছে? অর্নবের সাথে কথা বলেছে বলে? সে তো বলতেই পারে।তোর সমস্যা কি? তুই তো ওকে চাস না তাহলে তোর এত লাগলো কোথায়? গিয়ে কি বলবি ওকে? অর্নবের সাথে কথা বলেছে কেন জিজ্ঞেস করবি? সে তো আগে থেকেই কথা বলে তার সাথে। তাহলে এখন কোথায় লাগছে তোর? কেনই বা এত লাগছে?
নিজের অদৃশ্য সত্তার প্রশ্নবানে নিজেই ফেসে গেছিলো বেচারা। সত্যিই তো কেন যাবে সে পুষ্পর কাছে। ওর সাথে তো সব সম্পর্ক শেষ করে দিয়েছে। মস্তিস্কের সেই প্রশ্নগুলো আর যেতে দেয়নি তাকে পুষ্পর কাছে। মাঝপথেই ফিরে আসতে হয়েছিলো তাকে।

কিন্তু আজ। আজকে পূর্নিমা বেগমের কড়া আদেশ ছিলো পুষ্পকে গিয়ে যেন নিয়ে আসে। প্রার্থর মনের নরম দিকটাও বারবার বলছিলো এখন নিয়ে আসায় যায়। কেমন খালি খালি লাগছে সব। পুষ্পকে এবাড়িতে এনে দেখবে কেন এমন লাগছিলো। পুষ্পর চলে যাওয়ায় নাকি অন্য কোন ব্যাপার আছে।
সেই ভেবেই তাকে আনতে গিয়েছিলো বাসায়। প্রার্থ জানে একবার তাকে আসতে বললেই হুরহুর করে চলে আসবে। কিন্তু বাসায় গিয়ে আর পেলো কই। এখন অস্থির হয়ে ছুটে আসতে হলো তাকে ভার্সিটিতে।
গাড়ি ভার্সিটির বাইরেই পার্ক করে রেখে গেলো ভেতরের দিকে। গায়ে তার স্কাই রংয়ের একটা শার্ট। নিত্যদিনের মতো হাতাটা গুটানো কলারের নিচের দুটো বোতাম খোলা এবং ইন করে পরা।
তস্ত্র পায়ে এগিয়ে গেলো সামনের দিকে। কিছুক্ষণ যেতেই হুট করে সামনে এসে দাঁড়ালো কেউ। প্রার্থর হাটা থেকে। ভ্রু কুচকে সামনে তাকাতে দেখলো সমৃদ্ধি দাঁড়িয়ে।

আমরণ প্রেমতৃষ্ণা পর্ব ১৬

সে ওখানেই বসে ছিলো হঠাৎ চোখে পরলো প্রার্থকে। ওকে দেখে প্রথমে ভেবেছিলো ভুল দেখছে কিন্তু যেই বুঝতে পারলো এটা প্রার্থই ওমনেই সামনে এসে দাঁড়িয়ে পরলো। চোখে মুখে তার খুশির জোয়ার যেন। এতদিন পর সমৃদ্ধিকে চোখের সামনে দেখে চোখ মুখ আরো কুচকে গেলো তার। আচেনার মতো করে বললো।
“-হু আর ইউ? রাস্তা ব্লক করেছেন কেন? সরে দাঁড়ান।

আমরণ প্রেমতৃষ্ণা পর্ব ১৭ (২)