আমি তার সন্ধ্যামালতী পর্ব ২৫
DRM Shohag
“বাতাচ বাবু তুমি কি কলচ?”
সৃজনের ভীত কণ্ঠে আকাশের হুশ ফেরে। সে দ্রুত ডানদিকে ঘাড় ফেরায়। সন্ধ্যার পাশে সৃজনকে ভীত চোখেমুখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আকাশ ঢোক গিলল। এদিকে সন্ধ্যা আর সৌম্য’ও সৃজনের দিকে তাকিয়েছে।
সৃজন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে মাকে, দাদিমাকে পুরো বাড়ি খুঁজে কাউকে না পেয়ে ছোট্ট ছোট্ট পায়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছে। বাগানের দিকে শব্দ পেয়ে এদিকটায় এসেছে। আর এখানে এসে একটা র’ক্তা’ক্ত অচেনা লোককে দেখে ছেলেটা ভ’য় পায়, সাথে আকাশকে লোকটির উপর ঝুঁকে থাকতে দেখে সৃজনের ভ’য়ের মাত্রা বাড়ে। সে আবারও কিছু বলতে নেয়, তার আগেই আকাশ জেডিকে ছেড়ে বড় বড় পায়ে এগিয়ে এসে সৃজনকে কোলে তুলে নেয়।
সন্ধ্যা সামান্য ঝুঁকেছিল সৃজনকে কোলে নিতে, সৌম্য-ও এগিয়ে আসছিল কিন্তু তার আগেই আকাশকে কোলে নিতে দেখে তারা দু’জনেই থেমে যায়।
আকাশ সৃজনকে কোলে নিয়ে সৃজনের মাথা বুকে চেপে বড় বড় পা ফেলে সামনের দিকে এগোয়। সৃজন মোচড়ামুচড়ি করতে করতে বলে,
“আমি তোমাল সাতে যাবো না। আমি মা কাচে তাকবো। আমাকি ছালো বুলচি।”
আকাশ মৃদুস্বরে বলে,
“এখন থেকে তুমি তোমার মায়ের সাথেই থাকবে। কিন্তু তার আগে তোমার সাথে আমার ইম্পর্ট্যান্ট কথা আছে।”
সৃজন অবুঝ গলায় বলে,
“কি কতা? আমি আগে মা কুলে যাবো।”
আকাশ পায়ের গতি বাড়ায়। বলে,
“আগে আমার কথা শুনতে হবে।”
সৃজন চুপ থাকলো। গত এক সপ্তাহের মতো আকাশের সাথে থেকে তাদের মাঝে বেশ ভালো একটি সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তাই সে আর জেদ করল না। তবে বলল,
“আমি কিন্তু একন কালি মা কাচে আল দাদিমাল কাচে থাকবো, বুচ্চো বাতাচ বাবু?”
সৃজনের কথাটা আকাশের বুকে কাঁটার ন্যায় বিঁধল। মায়ের হাস্যজ্জ্বল মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠল। তার এই বাচ্চা ছেলেটাকে কি করে বলবে, তার ভালোবাসার দাদিমা আর কখনো সৃজনকে আদর করে কোলে তুলে নিবে না। দাদিমার আর কোনো আদর খাওয়া হবে না সৃজনের। শুধু সৃজন নয়, তারা আর কেউ তাদের মায়ের ভালোবাসা পাবে না। বেঁচে থাকতে সেই জ্বলজ্যা’ন্ত মানুষটাকে আর কখনো একনজর দেখা হবে না। আকাশের চোখজোড়া ঝাপসা হয়ে আসে।
সৃজন আর আকাশের ছোট্ট কথপোকথন শুনে সন্ধ্যা আর সৌম্য পাথরের মতো দাঁড়িয়ে আছে। দু’জনের দৃষ্টি-ই জেডির দিকে। র’ক্তে মাখা ক্লান্ত জেডি সন্ধ্যার দিকে মলিন মুখে চেয়ে আছে। সন্ধ্যা ডান হাতে চোখ মুছে শ’ক্ত গলায় বলে,
“মানুষের এতোটা অধঃপতন হয়, এটা তোমাকে না দেখলে কখনো বুঝতে পারতাম না! কেন এসব নোংরা খেলা খেললে? আমাদের আম্মা…..
সন্ধ্যার গলা বেঁধে আসে। সে নিজেকে সামলাতে পারছে না। সে মানতে পারছে না তার আম্মা বেঁচে নেই। জীবনে আসা প্রতিটি বিপদের সময় মাথায় হাত রেখে সাহস দেয়া মানুষটা না-কি আর নেই। সন্ধ্যা কি করে মানবে?
জেডি সন্ধ্যার দিকে চেয়ে বেঁধে আসা গলায় বলে, “সব তো তোর জন্য করেছি প্রাণ।”
সন্ধ্যা চেঁচিয়ে ওঠে,
“খবরদার, এই অ’সহ্যকর নামে ডাকবে না আমাকে।”
জেডির মুখ মলিন হয়। মৃদু হেসে বলে, “পারমিশন তো আমি কোনোদিনই পাইনি। তাতে কি? তাছাড়া তুই তো জানিস, আমি বাধ্য ছেলে নই।”
আকাশ সৃজনকে নিয়ে অনেকটা পথ এগিয়ে গিয়েছে। হঠাৎ-ই শব্দ করে বলে ওঠে,
“আমি আমার ওয়াইফকে কোনো বাইরের মানুষের সাথে কথা বলার পারমিশন দিইনি।”
আকাশ কথাটা বললেও তার পা থেমে নেই। সে সৃজনকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আকাশের দৃঢ় কণ্ঠে সন্ধ্যা কেঁপে ওঠে। সে জেডির থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। উল্টোঘুরে আকাশ আর সৃজনের গমনপথে চায়। নিজেকে সামলে সামনের দিকে এগোয়।
জেডি অসহায় চোখে চেয়ে রইল সন্ধ্যার দিকে। নুইয়ে পড়া দৃষ্টি নামতে নামতে সন্ধ্যার পায়ের কাছে এসে ঠেকে। গতকাল আকাশ সন্ধ্যাকে আলতা পরিয়ে দিয়েছিল, যেটা পা থেকে হালকা হালকা মুছে গেলেও পুরোপুরি মুছে যায়নি। জেডি বোধয় বুঝল। চোখের সামনে ভেসে উঠল একটি রঙিন স্মৃতি,
‘অধীর সন্ধ্যার হাতে একটি আলতার কৌটা ধরিয়ে দিলে সন্ধ্যা অবুঝ নয়নে চেয়ে বলে, “এটা কি অধীর ভাইয়া?”
অধীর হেসে বলে,
“এটা আলতা। দু’পায়ে পর। অনেক সুন্দর দেখাবে।”
ছোট্ট সন্ধ্যা আলতার কৌটাটি অধীরের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে ঠোঁট উল্টে বলে, “আমি পরতে পারিনা। তার চেয়ে এটা তোমার পায়ে পরে নাও।”
কথাটা শুনে অধীর ডান হাত উঠায় সন্ধ্যাকে থা’প্প’ড় দেয়ার জন্য। সন্ধ্যা ভ’য় পেয়ে দ্রুত দু’গাল ঢেকে নেয়। সন্ধ্যার অবস্থা দেখে অধীর হেসে ফেলে। নিজেকে সামলে বলে,
“এটা মেয়েদের জিনিস। আমি ছেলে হয়ে এটা পরব? তোর মাথায় বুদ্ধি নেই?
সন্ধ্যাকে এখনো ভ’য় পেতে দেখে অধীর নিজেকে সামলে নরম গলায় বলে,“ভ’য় পাচ্ছিস কেন?”
সন্ধ্যা অসহায় কণ্ঠে বলে,
“তুমি আমাকে মা’র’ছো কেন?”
অধীর চোখ ছোট ছোট করে বলে,
“মে’রেছিলাম কখনো?”
সন্ধ্যা মনে করতে পারলো না। কারণ অধীর ভাইয়া তাকে কখনো মা’রেই নি। সন্ধ্যা কিছু একটা ভেবে বলে,
“মা’রা’র জন্য হাত তোলো তো। এরকম করলে আমি কিন্তু তোমার বউ হব না।”
কথাটা বলতে বলতে সন্ধ্যা তার দু’হাত তার কোমরে তুলে আনে। অধীর মিটিমিটি হেসে বলে,
“তাহলে আমি কি করলে, তুই আমার বউ হবি?”
সন্ধ্যা ভাবুক হয়। অনেকক্ষণ সন্ধ্যাকে চুপ থাকতে দেখে অধীর হতাশ হয়ে সন্ধ্যাকে একজায়গায় বসিয়ে দিয়ে সন্ধ্যার দু’পা টেনে তার উরুর উপর নেয়। সন্ধ্যা পা সরাতে নেয় আর চেঁচিয়ে বলে, “ইইই আমার পা ছাড়ো।”
অধীর চোখ পাকিয়ে তাকালে সন্ধ্যা ঢোক গিলে তার দু’পা অধীরের উরুর উপর রেখে মিনমিন করে বলে,
“ঠিকআছে ধর।”
সন্ধ্যার কান্ড দেখে অধীর আবারো শব্দ করে হেসে দেয়। সন্ধ্যা বোকা চোখে চেয়ে থাকে। অধীর হাসতে হাসতেই সন্ধ্যার হাত থেকে আলতার কৌটা নিয়ে সন্ধ্যার দু’পায়ে আলতা পরিয়ে দিয়ে সন্ধ্যার দিকে তাকালে দেখল সন্ধ্যা উৎফুল্ল হয়ে আলতা পরানো দু’পায়ের দিকে চেয়ে আছে। এক পর্যায়ে শব্দ হেসে উঠে বলে,
“অনেক সুন্দর তো! আমার খুব পছন্দ হয়েছে।”
অধীর সন্ধ্যার উৎফুল্লে ঘেরা মুখপানে চেয়ে মৃদু হাসে। বলে,
“নিয়ম করে দু’পায়ে এই রঙ দিবি, এটা শেষ হলে আরেকটা কিনে দিব। খুশি হয়েছিস তো প্রাণ?”
সন্ধ্যা অধীরের হাত থেকে আলতার কৌটাটি নিয়ে বলে,
“হ্যাঁ খুব। তুমি খুব ভালো অধীর ভাইয়া। এখন এই সুন্দর পা মা আর সৌম্য ভাইয়াকে দেখাবো। তুমি এখানে একটু বসো।”
এটুকু বলে সন্ধ্যা উঠে দাঁড়িয়ে উল্টোপথে দৌড় লাগায়। অধীর পিছন থেকে বিচলিত কণ্ঠে বলে,
“ধীরে যা, পড়ে যাবি।”
সন্ধ্যা শুনলো না। আরও জোরে দৌড় লাগালো। খিলখিল হাসির শব্দ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।’
আজও সেই প্রাণোচ্ছল সন্ধ্যার হাসির শব্দ জেডির কানে বাজে। এখনো বাজছে। তার দৃষ্টি সন্ধ্যার আলতো ভরে থাকা আলতা পায়ের দিকে। জেডির চোখের কোণ নতুন করে ভিজে উঠেছে। সে ক্ষীণ শব্দে ডাকলো, “প্রাণ?”
সন্ধ্যার কানে বোধয় গেল না সে ডাক। সে আকাশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যার ছুটন্ত পা দেখে জেডির অসহায়ত্ব বাড়ে। সন্ধ্যার পায়ের ফাঁকে ফাঁকে সামনে আকাশের পা দেখে জেডি হঠাৎ-ই শব্দ করে হেসে উঠল। তার খুব মনে আছে, এই আলতা সে তার সন্ধ্যাপ্রাণকে প্রথম চিনিয়েছিল। সন্ধ্যা আজও আলতা পরে। কিন্তু তার জন্য নয়। পরে তার প্রিয় বন্ধুর জন্য। তার ডাকে আর সাড়া দেয় না। সাড়া দেয় তার প্রিয় বন্ধুর ডাকে। জেডির হাসিতে মাটিতে পড়ে থাকা তার ব্য’থাযুক্ত ক্লান্তিতে ভরা শরীরটা দুলছে বেশ। কিন্তু চোখজোড়া ঝাপসা থেকে ঝাপসা হতে থাকে।
জেডি শোয়া থেকে উঠে বসার চেষ্টা করে। র’ক্তা’ক্ত ব্য’থায় ভরা শরীরটা নিয়ে সে বেশ কসরত করে ধীরে ধীরে উঠে বসে। এরপর আরেকটু সময় নিয়ে উঠে দাঁড়ায় সে। ততক্ষণে আকাশ আর সন্ধ্যা মিলিয়ে গিয়েছে।
জেডি সেদিকে আর গেল না। সে ডানদিকে ঘাড় বাঁকালে সৌম্য’র সাথে চোখাচোখি হয়। সৌম্য মলিন মুখে চেয়ে আছে জেডির দিকে। জেডি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে একদম সৌম্য’র সামনে এসে দাঁড়ায়। বিধ্বস্ত মুখটায় মলিন হাসি ফুটায়। ডানহাত বাড়িয়ে সৌম্য’র গালে রাখলে, সাথে সাথে সৌম্য তার গালে রাখা জেডির হাত শ’ক্ত হাতে ঝাড়া মে’রে সরিয়ে দেয়। দু’হাতে জেডির কলার ধরে রাগান্বিত স্বরে বলে,
“আপনার মন এতো কু’ৎ’সি’ত, আমি কখনো কল্পনাও করিনি। নিশ্চয়ই আমি বা মা আমাদের জীবনে কোনো পুণ্য করেছিলাম, যার অছিলায় আল্লাহ আপনার মতো নোং’রা মস্তিষ্কের মানুষের হাত থেকে আমার বোনুকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। কত অন্যায় করেছেন। আর সবশেষে আমাদের সবার মা-কেই মে’রে ফেললেন?
কথাটা বলতে গিয়ে সৌম্য’র গলা বেঁধে আসে। সে নিজেকে সামলে আগের চেয়েও রাগান্বিত স্বরে বলে,
আল্লাহ আপনাকে কখনো ক্ষমা না করুক। আমরা সবাই দিনের পর দিন যতটা ক’ষ্ট পেয়েছি। আমার মা যতটা ক’ষ্ট নিয়ে এই দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করেছে, আপনার পরিণতি এ সবকিছুর চেয়ে ভ’য়া’ন’ক হোক।”
কথাগুলো বলে সৌম্য জেডিকে পাশ কাটিয়ে বড়বড় পা ফেলে এগিয়ে যায় উল্টোপথে। জেডি নিস্তব্ধ। নিশ্চুপ। মুখে রা নেই। চোখদুটো ভিজতে ভিজতে এ পর্যায়ে এসে অশ্রুকণার স্থান গালে হয়। দমবন্ধকর অনুভূতি নিয়ে মাথাটা উঁচু করে আকাশপানে তাকায়। দু’কানের পর্দায় বাজছে সৌম্য’র বলা কথাগুলো। জেডি মিলাতে চাইছে। তার মস্তিষ্ক কতটা নোং’রা। আর এ কারণেই, সে তার সন্ধ্যাপ্রাণকে হারিয়েছে। কিন্তু হিসাব তো মিলছে না। সে ভালো মানুষ ছিল।
ভীষণ ভালো মানুষ ছিল। সে সৌম্য আর সন্ধ্যার থেকে অনেক প্রশংসাও কুড়িয়েছিল নিজের নামে। নাহ্। সে তো অভিনয় করেনি সন্ধ্যাদের সাথে। সে ওদের সবাইকে একদম মন থেকে ভালোবাসতো। যেভাবে ভালোবাসলে, ভুল করেও ভুলে যাওয়া যায় না, সেভাবে ভালোবাসতো। যেভাবে ভালোবাসলে শেষ নিঃশ্বাস ছাড়ার আগ পর্যন্ত ভালোবাসা পাবার জন্য লড়াই করা যায়, সেভাবে ভালোবাসতো। যেভাবে ভালোবাসলে শুধু মনে রাখা যায়, সেভাবেই ভালোবাসতো।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে জেডি আকাশপানে চেয়েই বিড়বিড় করল,
“তুমি ভুল সৌম্য। আমার মন কু’ৎ’সি’ত বলে আমি আমার সন্ধ্যাপ্রাণকে হারায়নি। বছরের পর বছর গড়া সাজানো স্বপ্ন আমার প্রাণকে হারিয়ে আমি মানুষটা কু’ৎ’সি’ত হয়েছে। তোমাদের চোখে নোং’রা মস্তিষ্কের হয়েছি। তুমি তোমার তিন-চার বছরের ভালোবাসা ইরাবতীকে কখনো অন্যকারো হতে দেখোনি। তুমি দেখিনো তোমার ইরাবতী তোমাকে ভুলে গিয়ে আরেকজনকে নিয়ে সুখে সংসার করতে করতে বাচ্চার মা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমি আমার ১৬ বছরের ভালোবাসাকে অন্যের হতে দেখেছি। আমাকে পুরোদমে ভুলে গিয়ে অন্যজনের বাচ্চার মা হতে দেখেছি। তুমি কি করে বুঝবে আমার ব্য’থা? একদিন আমি আমার সন্ধ্যাপ্রাণকে হারিয়ে ফেলার ভ’য় পেয়ে তোমার কাছে অনুরোধের হাত বাড়াতাম। আর তুমি না বুঝে আমার হারানোর ভ’য়কে হেসে উড়িয়ে দিতে, আজও তুমি আমার ব্যাপারে অবুঝ হয়েই থাকলে। দু’টো খারাপ কাজের বিনিময়ে তুমি আমার ভালোবাসা পরিমাপ করলে! আমাকে বোঝার ক্ষমতা তোমাদের কারো হলো না।”
কথাগুলো বলে জেডি হঠাৎ-ই শব্দ করে হেসে উঠল। হাসতে হাসতে ঢলে পড়ার উপক্রম হয়েছে। নিজেকে সামলাতে না পেরে একসময় এসে ধীরে ধীরে বসে পড়ল। দু’হাতের মাঝে মুখ লুকিয়ে নিয়ে আরও কিছুক্ষণ উচ্চশব্দে হাসলো। হাসতে হাসতে হঠাৎ করেই বাচ্চাদের মতো কেঁদে উঠল। শব্দ করে করুণ সুরে ডেকে উঠল,
“মাআআআআআআআআ?”
এটুকু বলে থামলো। কিন্তু জেডির কান্না থামলো না। সে দু’হাতের মাঝে মুখ রেখে কান্নারত অবস্থাতেই বলতে লাগলো,
“সন্ধ্যা আমায় ভালোবাসেনি মা। আমি অনেক চেষ্টা করেছি৷ কিন্তু সন্ধ্যা আমায় করুণা করেও ভালোবাসেনি৷ এই স্বার্থপর মা, তুমি আমাকে একা রেখে কেন চলে গেলে বল? তুমি থাকলে আমার বাবা আমার সাথে এতো পা’ষ’বি’ক আচরণ করত না৷ আমিও হারাতম না আমার সন্ধ্যাপ্রাণকে। আমার জানভাইটাও এতো ক’ষ্ট পেত না৷ আমার ছোট ভাইটার জীবনও দুঃখে ভরে যেত না। কেন একা একা চলে গেলে, বল? চলে যখন গেলেই, তবে কেন আমাকে তোমার সাথে নিয়ে গেলে না? তোমরা কিছু বাবা-মা এতো স্বার্থপর কেন হও বলো তো? কেউ ম’রে গিয়ে একা ফেলে যাও। আর কেউ বেঁচে থেকে শ’ত্রু হয়ে যাও।”
কথাগুলো বলতে বলতে জেডি একপর্যায়ে থেমে গেল। এর কিছুক্ষণ পর থেমে গেল তার কান্নার আওয়াজ। নিজেকে সামলাতে চাইলো খুব করে। দু’হাতে চোখমুখ মুছে নিল। এরপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো। র’ক্তমাখা শার্টটির কয়েকটি বোতাম ছিঁড়ে গিয়েছে, যেটা অধীর টেনেটুনে ঠিক করে এলোমেলো পায়ে এগিয়ে গেল আসমানী নওয়ানের ক’ব’রের পাশে। ধীরে ধীরে সামান্য ঝুঁকে, ক’ব’রটি একবার পরোখ করল। যেন কোনো মানুষকে দেখছে। হঠাৎ কি হলো কে জানে! শব্দ করে হেসে উঠল। মাথাটা অনবরত ডানেবায়ে নাড়ায়। ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে ক’ব’রের দিকে চেয়ে জেডি বলে উঠল,
“থ্যাংক্স আ লট মিসেস আসমানী নওয়ান! আমাকে এতোটা হেল্প করার জন্য। ভালো থাকবেন।”
কথাটা বলতে বলতে আসমানী নওয়ানের ক’ব’রের উপর ডান হাতে একটা টোকা মা’র’লো। এরপর ব্যস্ত হয়ে উঠে দাঁড়িয়ে এলোমেলো পায়ে বেরিয়ে গেল বাগান থেকে।
বাড়ির মেইন গেইট থেকে বেরিয়ে এগিয়ে যায় তার গাড়ির দিকে। রাস্তার পাশে সৌম্যকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জেডি এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ায় সৌম্য’র সামনে। সৌম্য মাথা উঁচু করে তাকাতেই জেডি বাঁকা হেসে বলে,
“রিহানের খোঁজ নিবে না মাই ডেয়ার ছোট্ট ভাই?”
সৌম্য বিস্ময় দৃষ্টিতে তাকায়। ঢোক গিলল ছেলেটা। থেমে থেমে বলতে নেয়, “রিহান, আআমার ফ্রেন্ড কো…..
জেডি’র চোখমুখ থেকে শুরু করে পুরো বডির বেহাল দশা। দেখে বোঝা যাচ্ছে সে ঠিক করে দাঁড়াতে পারছে না। কিন্তু তার মুখাবয়বে সে ছাপ নেই। বরং সে শরীরের এসবকে পাত্তা না দিয়ে তার মতো দাঁড়িয়ে আছে। সৌম্য’র দিকে চেয়েই ডান চোখ টিপ দিয়ে হেসে বলে,
“ওকে তো আরও বছরখানেক আগেই মে’রে দিয়েছি সৌম্য।”
সৌম্য স্তব্ধ হয়ে যায়। বুকটা ধ্বক করে ওঠে। মে’রে দিয়েছে মানে? জেডি আবারো একই সুরে বলে,
“আমার সন্ধ্যাপ্রাণের পিছে সবসময় ঘুরঘুর করত। এভি হারিয়ে গেছে ভেবে ও আমার সন্ধ্যাপ্রাণের জীবনে সুযোগ নিতে চাইছিল। তাই মে’রে দিলাম আর কি। সবাই তো আর আমার এভিজান না। যে আমার প্রাণের সাথে এতো লেপ্টানোর পরও ওকে এই সুন্দর পৃথিবীতে নিঃশ্বাস নিতে দিব। বিশ্বাস না হলে, রিহানের বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিতে পারো।”
এটুকু বলে জেডি চলে যেতে গিয়েও থেমে যায়। কিছু মনে পড়ার ভঙ্গিতে আবারও বলে ওঠে,
“ওহ্ আরেকটি কথা, ওর ক’ব’র খুঁজে পাবে না কিন্তু। কারণ ওকে কে’টে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছিলাম।”
এতক্ষণ সৌম্য নিজেকে সামলাতে পারলেও জেডির লাস্ট কথাটা শুনে আর পারলো না। তার দু’চোখ ফেটে জল গড়িয়ে পড়ে। আর কত সহ্য করবে সে? তেড়ে যায় জেডির দিকে। ডান হাতে জেডির নাক বরাবর একটা ঘু’ষি মে’রে দেয়৷ চিৎকার করে বলে,
“অ’মানুষ তুই একটা। আর কত আমাদের নিঃস্ব করবি? তোর মতো প’শুর সাথে আমাদের পরিচয় হওয়াটাই ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। রাস্তার কু’কু’রের পাশেও তোর জায়গা হবে না। মানুষ রূপী প’শু তুই। মানুষের র’ক্ত চুষে খেয়ে পেট ভরাতে চাস। থুহ্!”
কথাগুলো বলে জেডির পাশে রাস্তায় একদলা থুতু ছুড়ে ফেলে সৌম্য। সাথে দু’চোখ বেয়ে আপনাআপনি নোনাজল গড়ায় ছেলেটার।
জেডি অবাক হয়ে কেবল দেখল সৌম্যকে। যেই সৌম্য তার দিকে মাথা উঁচু করে তাকিয়ে কথা বলতে সংকোচ বোধ করত সম্মানের কারণে। সেই সৌম্য আজ তার গায়ে হাত তুলেছে। যতটা নিচু করে কথা বলা যায়, বলেছে। তার জন্য তুই শব্দটি বেছে নিয়েছে। নোং’রা মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে প’শুর সাথে পর্যন্ত তুলনা দিয়েছে। জেডি সৌম্য’র দিকে চেয়ে মৃদু হাসল। বলল,
“সব জানি আমি। তবে আরেকটু অ’মানুষ হওয়া বাকি আছে। প্রিপেয়ার থেকো সৌম্য, কেমন?”
কথাটা বলতে বলতে জেডি’র হাসি চওড়া হয়। সৌম্য অবাক হয়ে তাকায় জেডির দিকে। ততক্ষণে জেডি তার ঝাপসা চোখজোড়া সরিয়ে নিয়েছে। খুড়িয়ে খুড়িয়ে তার গাড়ির দিকে এগিয়ে যায়।
সৌম্য ঠিক কার জন্য ক’ষ্ট পাবে? নিয়াজ ভাইয়ার জন্য? নাকি আসমানী নওয়ানের জন্য? নাকি তার প্রিয় বন্ধু রিহানের জন্য? গত দেড় বছরের বেশি ভেবে এসেছে, রিহান তাকে ভুলে গিয়েছে। রিহানের মা নিষেধ করার পর সৌম্য রিহানের সাথে দূরত্ব তৈরী করেছিল। কিন্তু তার বিশ্বাস ছিল, রিহান তার কাছে আসবে। কিন্তু তার বিশ্বাস ভেঙেছিল। কারণ রিহান তার কাছে যায়নি, আর নাতো তার কোনো খোঁজ নিয়েছে। সৌম্য ভেবেছে, রিহান বোধয় তাকে একেবারেই ভুলে গিয়েছে। কিন্তু আজ এটা কি শুনলো? যে বন্ধুর উপর অভিমান করে, বুকে দুঃখ চেপে,, নিজ ভাগ্য খারাপ জেনেও বন্ধুত্বের খাতিরে কখনো কখনো চাতক পাখির ন্যায় তাকিয়ে থাকতো! আজ শুনছে, তার সেই বন্ধু নাকি আরও বছরখানেক আগে মা’রা গিয়েছে। নাহ্ শুধু মা’রা যায়নি। মে’রে ফেলা হয়েছে। সৌম্য কতক্ষণ যে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল৷ দম আটকে আসছে তার। শেষবার রিহানের সাথে দেখা হলে, রিহান দৌড়ে এসে সৌম্যকে জড়িয়ে ধরেছিল। কিন্তু সৌম্য ধরেনি। উল্টো রিহানকে গায়ের জোরে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছিল। রে’গে বলেছিল,
‘তুই আমার থেকে দূরে থাকবি রিহান। রোজ রোজ সামনে আসবি না তো। তোর একটা বন্ধু আছে, এটা ভুলে যা।’
রিহান অসহায় কণ্ঠে বলে,
‘এভাবে কেন বলছিস সৌম্য? আমার মায়ের কথা ধরিস না সৌম্য। মায়েরা তো কতকিছুই বলে, তাই বলে তুই আমার সাথে এতো বছরের বন্ধুত্ব শেষ করবি?’
সৌম্য’র ক’ষ্ট হয়েছিল। কিন্তু শ’ক্ত সৌম্য নিজেকে সামলে নিয়েছিল। রূঢ় গলায় বলেছিল,
‘হ্যাঁ শেষ করব। আমার নিজেরই আর তোকে ফ্রেন্ড হিসেবে ভালো লাগছে না। প্লিজ আমার থেকে দূরে থাক।’
রিহান ভাঙা গলায় ডেকেছিল, ‘সৌম্য?’
সৌম্য রিহানের ডান উপেক্ষা করে চলে এসেছিল সেখান থেকে। রিহান আরও অনেকবার ডেকেছিল সৌম্যকে। কিন্তু সৌম্য শোনেনি। সে রিহানকে রেখে চলে এসেছিল। আর তারপর বোকার মতো চেয়ে থাকতো রিহান আবারও তার সামনে আসবে। সে জানতো না, সে রিহানের সাথে কেমন বিহেভ করবে। সে জানতো না সে আবারও রিহানকে ফিরিয়ে দিবে না-কি বুকে জড়িয়ে নিবে! কিন্তু সে অপেক্ষা করত। ঢাকা শহরে আসার পর থেকে রিহানের সাথে তার বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। বিপদে-আপদে কত সাহায্য করেছে। সেই মানুষটাকে একদিন সে রিহানের মায়ের দু’টো কথার জন্য ঠেলে সরিয়ে দিয়েছিল। আর তারপর বন্ধু আবারও হ্যাংলা হয়ে তার সামনে আসেনি বলে অভিমানও করেছিল। আর আজ জানছে, সেই বন্ধুটা না-কি আরও বছরখানেক আগে মা’রা গিয়েছে। সৌম্য’র বুকটা বড্ড ব্য’থা করছে। আর নিতে পারছে না সে। তার বোনুকে হারিয়ে রিহানের ব্য’থাযুক্ত মুখে সেই হাস্যজ্জ্বল মুখ কি করে ভুলবে সৌম্য? কি করে ভুলবে, সে রিহানকে শেষবার দূরে ঠেলে দিয়েছিল। সৌম্য’র ডান চোখ ফেটে নোনাজল গড়ায়। কেমন ডুকরে উঠে বিড়বিড় করে,
“স্যরি রে রিহান!”
জেডি আনিকাদের বাসার সামনে এসে তার গাড়ি থামিয়ে গাড়ি থেকে ধীরে ধীরে নেমে দাঁড়িয়েছে। বা হাতে গাড়ি ধরে একটু একটু করে হেঁটে গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়। সামনে তাকালে মনে হলো, দেখতে পায়, সেই ছোট্ট সন্ধ্যা তার দিকে চেয়ে খিলখিল করে হাসছে। কখনো আবার তাকে ফেলে কোমর সমান লম্বা চুলগুলো দুলিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে। আবার কখনো পিছু ফিরে তাকে জিহ্বা কেলাচ্ছে। জেডির ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে ওঠে। পরক্ষণেই দেখল, সেই ছোট্ট সন্ধ্যা অনেক বড় হয়ে গেছে। সেই বড় হওয়া সন্ধ্যা তার মুখে থুতু ছুড়ে মা’র’ছে। জেডির চোখজোড়া ঝাপসা হয়। সে ঢোক গিলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আনিকার বাড়ির দিকে হাঁটে। মাথাটা এদিক-ওদিক নাড়িয়ে ঠোঁটের কোণে ব্য’থাতুর হাসি ফুটিয়ে বলে ভাঙা গলায় গেয়ে ওঠে,
“ঘরে ফিরবে একদিন নদী
প্রেম বুঝলে সে খুঁজবে দরদী
দাও না তাকে, ফিরিয়ে একটিবার!
জানি আকাশ পায়না ছুঁতে মাটি
তবু মন তো মানে না, তাই হাঁটি।
যদি পথের ধারে
পেয়ে যাই দেখা তার।
ও আল্লাহ্ আমার,
কত করেছি যে আর্জি!
বুঝি না তোমার কি যে মার্জি!
দিন ভালোবাসার
ওগো দাও না ফিরিয়ে
বলো তাকে ছাড়া, বাঁচবো কি নিয়ে?”
এটুকু গাইতে গাইতে আনিকার বাড়ির দরজার সামনে এসে দাঁড়ায় জেডি। দু’হাতে ঝাপসা চোখজোড়া ডলে শব্দ করে বন্ধ দরজায় থা’প্প’ড় দেয়। এক মিনিটের মাথায় ওপাশ থেকে আনিকা দরজা খুলে দেয়। জেডি’র অবস্থা দেখে বিস্ময় কণ্ঠে বলে,
“জেডি? তোর এই অবস্থা কি করে হলো?”
জেডি আনিকাকে পাশ কাটিয়ে বাড়ির ভেতর আসতে আসতে হেসে বলে, “ওই এভি ভালোবেসে একটু-আধটু আপ্যায়ণ করল আর কি!”
আনিকা দ্রুত দরজা আটকে জেডির পিছে পিছু আসে আর বলে,
“মানে? কি বলছিস? আকাশ তোকে মে’রেছে? তুই কি পা’গ’ল না-কি? নেশাপানি খেয়ে ভুলভাল বকছিস না তো?”
জেডি ঘাড় বাঁকিয়ে আনিকার দিকে তাকায়। বিরক্তি কণ্ঠে বলে,
“আমার নেশা হয় না ডেয়ার। ডোন্ট ডিস্টার্ব মি।”
কথাটা বলে জেডি এলোমেলো পায়ে এগিয়ে আনিকার রুমে গিয়ে বেডের উপর ঠাস করে শুয়ে পড়ে।
আনিকা কিছু বলতে নেয়, তার আগেই অনামিকা জেডিকে দেখে ভ’য় পেয়ে চেঁচিয়ে ওঠে। ঘরের কোণা থেকে দৌড়ে এসে জেডির পাশে দাঁড়িয়ে বিচলিত কণ্ঠে বলে,
“জেডি ভাইয়া তোমার কি হয়েছে?”
জেডি ঝাপসা চোখে অনামিকাকে দেখে একটু হেসে জিজ্ঞেস করে,
“ট্যুর কেমন কা’ট’লো?”
অনামিকা মাথা নেড়ে বলে,
“ভালো। কিন্তু তোমার এই অবস্থা কি করে……
জেডি হেসে বলে,
“আমার প্রাণকে খুঁজে পেয়েছি।”
অনামিকা, আনিকা দু’জনেই অবাক হয়। আনিকা দৌড়ে এসে জিজ্ঞেস করে, “আসলেই খুঁজে পেয়েছিস? তাহলে আকাশের হাতে মা’র খেয়ে আসলি কেন?”
জেডি হাসে। বলে,
“কারণ ওর বউ সন্ধ্যাই আমার সন্ধ্যাপ্রাণ। এভি এতোদিন যাকে খুঁজছে, সেই আমি। সন্ধ্যাপ্রাণকে পাওয়ার জন্য আমিই তো নোং’রা খেলা খেলেছি। যার মধ্যে নিয়াজ, মিসেস আসমানী নওয়ান আর রিহানকে মে’রে দিয়েছি।”
কথাগুলো বলে জেডি দিক ঘুরিয়ে চিৎপটাং হয়ে শুয়ে পড়ে। যেন অনেক প্রয়োজনীয় কথা বলে হাঁপিয়ে গেছে। এদিকে আনিকা আর অনামিকা স্তব্ধ চোখে চেয়ে আছে জেডির দিকে। নিয়াজকে একটু-আধটু চিনতো। তবুও সেভাবে না। আর রিহানকে তো চেনেই না। কিন্তু আসমানী নওয়ান? তাদের খুব কাছের মানুষ সে। খুব আদর করত তাদের। তাকে জেডি মে’রে ফেলেছে মানে? আনিকার মাথা ভনভন করে ঘোরে। অনামিকা কান্নামাখা চোখে জেডির দিকে চেয়ে বলে,
“তুমি মিথ্যে বলছ, তাইনা জেডি ভাইয়া?”
কান্নার শব্দ পেয়ে জেডি বিরক্ত হয়ে চোখ মেলে অনামিকার দিকে তাকায়। আনিকার উদ্দেশ্যে বলে,
“অরুণকে কল করে বল, অনামিকাকে নিয়ে আরেকটা ট্যুর দিয়ে আসতে। এই ছিঁচকাদুনে আমার কাছে থাকলে মা’র একটাও মাটিতে পড়বে না।”
অনামিকা হঠাৎ-ই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। জেডি থতমত খেয়ে দ্রুত শোয়া থেকে উঠে বসে। পুরো শরীর ব্য’থায় টনটন করছে। উঠতে গিয়ে বেডের সাথে জোরেসোরে একটা ধাক্কা লাগে পায়ে। তবে সে সেদিকে পাত্তা দিল না। সে অনামিকার দিকে চেয়ে তার প্যান্টের দু’পকেট হাতালো। যা ছিল, কিছুই নেই। মা’র খেতে গিয়ে সব হয়ত পড়ে গিয়েছে। কিন্তু সবশেষে, প্যান্টের কোণায় পড়ে থাকা একটি চকলেট হাতের সাথে বেঁধে গেলে জেডি স্বস্তি পায়। চকলেটটি বের করে অনামিকার দিকে বাড়িয়ে দিলে অনামিকা রে’গে জেডির চকলেট ছুড়ে ফেলে দিয়ে, দু’হাতে জেডির চুলের মুঠি শ’ক্ত করে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলে,
আমি তার সন্ধ্যামালতী পর্ব ২৪
“মিথ্যুক একটা। আমার ভাইয়ের নামে মিথ্যা রটাচ্ছো তুমি। তোমাকে তো ছাড়বো না আমি।”
জেডি চোখমুখ কুঁচকে বলে,
“আহ্! আমার প্রিয় চুল। ছাড়! আনিকা তোর বোনকে কিছু বল!”
