Home এমপি রুশভিয়ান মির্জা এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ১৬

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ১৬

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ১৬
ফাতেমা তুজ জোহরা

ইনান কাশতে কাশতে লাগলো তার গলা থেকে বেরিয়ে এলো একদলা র**ক্ত বমি….
তুবা সামনে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে তখনই তার গাল বরাবর থা*প্প*ড় মা*র*লো আগুন্তক। তুবা আছরে পড়লো মেঝেতে। ইনান ভ*য়ে ভ*য়ে মাথা তুলে দেখলো একজন মেয়ে দাঁড়িয়ে, পরনে স্লিকের শাড়ী, আর স্লিভলেস ব্লাউজ। মেয়েটা র*ক্ত চক্ষু নিয়ে তাদের দুজনের দিকে তাকিয়ে ফোঁ*স ফোঁ*স করে রা**গে ফুঁ*স*ছে। ইনান উঠে বসলো মেঝেতে।
মেয়েটি তেড়েফুঁড়ে গিয়ে ইনানের গ*লা টাকে শ*ক্ত ধরে মেঝেতে চেপে ধরে হি*স*হি*সি*য়ে বলল,” আমার এতদিনের ভালোবাসা তুই কেড়ে নিবি, এই তিয়াসা রহমান তা কিছুতেই হতে দেবে না ? আমার রুশভিয়ান কে আমি কারো সাথে ভাগ করবো না, তোকে আমি ক*ব*র দিবো? বলেই আরো জোরে চে*পে ধরলো মেঝের সাথে।

ইনান ছ*ট*ফ*ট করছে ছাড়া পাওয়ার জন্য। চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে, হাত দিয়ে নিজেকে ছা*ড়া*নো*র প্রয়াস করছে কিন্তু তিয়াসার শক্তির সাথে পেরে উঠছে না। তুবার কপাল ফে**টে তরতর করে র**ক্ত বের হচ্ছে, তুবা সে দিকে ভ্রুক্ষেপ নেই সে দৌড়ে এসে তিয়াসাকে এক ধা**ক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। তিয়াসা হুড়মুড় করে পড়ে গেল মেঝেতে। তুবা তাড়াতাড়ি করে ইনান কে মেঝে থেকে তুললো। ইনান কাশতে কাশতে তার গলা দিয়ে বেরিয়ে এলো একদলা র**ক্ত বমি । তিয়াসা ইনানকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে চেয়ারে বসিয়ে তার ওড়না দিয়ে সুন্দর করে মুখ মুছিয়ে একগ্লাস পানি দেয়। ইনান কুলি করে পানি টুকু খেয় নেয়। সারা শরীর দিয়ে তার ঘাম বের হচ্ছে। তুবা ভ**য়া**র্ত চোখে তিয়াসার দিকে তাকালো।
তিয়াসা মেঝে থেকে উঠিয়ে তার ব্যাগ থেকে ব*ন্দু*ক বের করে দুজনের দিকে তাক করলো। তুবা আঁ*ত**কে জড়িয়ে ধরলো ইনানকে। ইনান কে আড়াল করলো ব*ন্দু*কে*র নল থেকে তারপর আকুতি স্বরে বলল,” ম্যাডাম কে মা*র*বে*ন না, ” কথাটুকু বলতে লাগলো।
তিয়াসা হুং*কা*র ছেড়ে বলল,” সর সামনে থেকে? আজকে আমি ওকে মে**রে ফেলবো,ও আমার আর রুশভিয়ানের মধ্যে খানে এসেছে।
ইনানের চোখ দিয়ে পানি পড়ছে, ব*ন্দু*ক দেখে তার কন্ঠ দিয়ে একটা কথা ও বের হচ্ছে না। সে তুবার আড়ালে লুকিয়ে আছে।

এরইমধ্যে সেখানে উপস্থিত হলো একজন লাঠিয়াল আকড়ে ধরলো তিয়াসার ব*ন্দু*কে*র নল। তিয়াসা ঘাড় ঘুরিয়ে বলল, ” ছাড়ো আমার ব*ন্দু*ক এই মেয়ের সাহস কত বড় আমার রুশভিয়ান কে আমার থেকে কেড়ে নেয়। ওকে আমি শে*ষ করে দেবো ”
লাঠিয়াল ব*ন্দু*ক*টা*কে কেড়ে নেয়। বলিষ্ঠ পুরুষের শক্তির কাছে তার শক্তি সামান্য। তাই কিছুই বলতে পারলো না। তিয়াসার শ্বাস দ্রুত থেকে দ্রুততর চলছে, ফর্সা মুখ রা**গে লাল টকটকে হয়ে আছে। সে বড় বড় চোখ করে ইনানের দিকে তাকিয়ে আছে।
লাঠিয়াল ব*ন্দু*ক টাকে তার লুঙ্গির ভাঁজে গুঁজে বলল,” ম্যাডাম এত রা*গ করলে হয়? ওরে মা*ই*রা ফালাইয়া নিজের ক*ব*র ক্যান খুঁড়তে চাইছেন তার থেইকা আমার কথা শুনেন?
তিয়াসা লাঠিয়ালের কথা শুনে কপালে হালকা ভাঁজ পড়লো। সে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে লাঠিয়ালের দিকে তাকিয়ে বলল,” কি কথা?

লাঠিয়াল গম্ভীর স্বরে বলল,” আপনি ওরে রত্নকুঞ্জ থেইকা ওই উত্তরের জঙ্গলে ফা*লা*ই*য়া আইসেন, ওখানে অনেক জ*ন্তু জা*নো*য়া*র আছে তারা ছিঁ**ড়া খাইবো। বাপ বলার সময় টুকু পাইবে না। আর এইখানে মা*ই*রা ফালাইলে পরে স্যাররে অন্য কেউ বইলা দিলে আমাদের জীবন শ্যা*ষ । তার থেকে আপনার গাড়িতে কইরা লইয়া যান। স্যার আসলে বলমু আবার পালাইয়া গিয়াছে রত্নকুঞ্জ থেইকা ” কথাটুকু বলে লাঠিয়াল জোরে জোরে হাসতে লাগলো।

লাঠিয়ালের শেষ কথাগুলো ইনানের কানে পৌঁচ্ছাতেই যেন তার বু*কের ভেতরটা বরফ হয়ে গেল। তার ঠোঁট দুটো কাঁপতে লাগলো। গ**লা শুকিয়ে কা**ঠ হয়ে এলো কোন শব্দ বের হলো না। চোখের সামনে ভেসে উঠলো ঘন অন্ধকার ঘেরা একটা নি*র্জ*ন জঙ্গল চারপাশে হিং**স্র পশুর ডাক , আর সে অন্ধকার জঙ্গলের মাঝে একলা দাঁ**ড়ি**য়ে থা*কবে। কেউ জানবে না সে কোথায়, কেউ খুঁজতে আসবে না,
ইনানের চোখের কোন বেয়ে টুপটাপ করে পানি গড়িয়ে পড়লো। শাড়ীর আঁচলটাকে শক্ত করে আকড়ে ধরলো তার। আঙ্গুল কাঁপছে, শরীরের প্রতিটি অস্থি তার অ*ব*শ হয়ে আসছে। তার অবচেতন মন বলছিলো, ”
রুশভিয়ান কি কখনো জানতে পারবে, সে এভাবে হা*রি*য়ে গিয়েছিলো। নাকি এগুলো তার রচনা করা প্লান তাকে মে*রে ফেলার জন্য। চিন্তাটা মাথাই আসতেই ইনানের বু*কে*র ভে*তরটা কেমন করে উঠলো। সে সঙ্গে সঙ্গে মাথা নাড়লো। না, এটা কখনো হতে পারে না।
কিন্তু ভ**য় যখন মানুষের বিবেক কে আচ্ছন্ন করে ফেলে, তখন অসম্ভব ভাবনাগুলো ও সত্যি বলে মনে হতে শুরু করে। ঠিক ইনানের সাথে এমনটা হলো।

ইনানের মনে পড়লো রুশভিয়ানের সেই কঠিন মুখটা। তার নির্লিপ্ত চোখ, তার প্রতি ক*ঠো*র আচরন সবকিছু ইনানের মনে পড়তে লাগলো। তাহলে সত্যি কি এই পরিকল্পনা তারই। হয়তো তার বাইরে যাওয়াটাও সাজানো।
এখানে এই মেয়েটার আসা, তাকে মে**রে ফেলার চেষ্টা,তারপর উত্তরের জঙ্গলে ফে**লে দেওয়ার পরিকল্পনা সবকিছুর পেছনে এমন আছে,, “” রুশভিয়ান “”
নামটা মনে আসতে ইনানের চোখ ছলছল হয়ে গেল।
“না”
খুব আস্তে মাথা নাড়ল ইনান,অতঃপর ফিসফিস করে বলল,” উনি এমন করবেন না।
কিন্তু পরক্ষণেই তার মনের মধ্যে আরেকটা প্রশ্ন তার সমস্ত বিশ্বাসকে নাড়িয়ে দিলো,” তুমি কি নিশ্চিত রুশভিয়ান এমনটা করবে?

ইনান নিশ্চুপ হয়ে গেল, সে কিভাবে নিশ্চিত হবে। সে কেমন করে নিশ্চিত হবে। লাঠিয়ালের বলা কথাটা তার ভে*ত*র নাড়িয়ে দিচ্ছে ,” স্যার আসলে বলমু মাইয়াটা আবার পালাইয়াছে….
ইনানের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগলো। হয়তো এমন ভাবেই তার কপালে মৃ**ত্যু লেখা আছে।
তুবা একঝটকায় ইনানকে মেঝেতে আ*ছ*রে ফে*ল*ল। ইনান মেঝেতে পড়ে আ*র্ত*না*দ করে উঠলো। তুবা আরাম করে চেয়ারে বসে গেল পাশে বসলো তিয়াসা।
ইনান যেন বিশ্বাস করতে পারলো না যে মেয়েটাকে আপু বলে ডেকেছিলো সে তাকে ধা**ক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিলো।

তিয়াসা তুবার কপালে হাত দিয়ে বলল,” সরি সোনা বুঝতে পারিনি তোর কপাল এতখানি কে**টে যাবে?
তুবা মুচকি হেঁসে বলল,” এতটুুকু কিছু না আপি, এরথেকে বড় বড় ক্ষ**ত আমার সারা শরীর জুড়ে আঁকা আছে ” বলেই হাসতে লাগলো তুবা।
ইনান ভাঙা কন্ঠে বলল,” আমার সাথে এমনটা করতে পারলেন আপু?
তুবা চেয়ার ছেড়ে আরাম করে উঠে গলা থেকে ওড়নাটা সরিয়ে ইনানের সামনে হাঁটুমুড়ে বসে গম্ভীর স্বরে বলল,” আমি এমনই মাই ডিয়ার, পিছন থেকে ছু**রি মা*র*তে আমার সেই মজা লাগে” বলেই তার শরীর থেকে একটানে জামাটা খুলে ফেলল। বেরিয়ে কালো শর্ট টপ,তার সাথে দৃশ্যমান হলে হাতে অনেক গুলো মাকড়সার ট্যাটু করা আছে, আর ঘাড়ে করা আছে ড্রাগনের ট্যাটু। তুবা জামা খোলার পর পাজামা খুলে ফেলল। এবার বেরিয়ে এলো স্কিনি কালো প্যান্ট।প্যান্টের সাথে গুঁজে রাখা আছে দুইটা সোনালি কালারের ব*ন্দু*ক।

ইনান আঁ*ত*কে উঠলো তুবাকে দেখে। এই একদিন কি সুন্দর অভিনয় করেছে মেয়েটা, বোঝার জো নেই মেয়েটা একটা গু**ন্ডা। ইনান আলগোছে শুকনো ঢোক গিললো।
তুবা মুখে ফুটলো ক্রুর হাসি পকেট থেকে রুমাল বের করে ঝড়ের গতিতে গিয়ে ইনানের মুখে চে*পে ধ*রে। ইনান সাথে সাথে মাটিতে লু*টি*য়ে প*ড়*লো। চোখ বন্ধ করার আগে চোখের সামনে রুশভিয়ানের কঠোর মুখটা ভেসে উঠলো ইনানের সামনে ।
তুবা তিয়াসার দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে বলল, ” আমার কাজ হয়ে গেল, আমি এবার চললাম আপি ” বলেই সামনে এগিয়ে যেতে নিলেই তিয়াসা তার হাত আকড়ে ধরে রু*ষ্ট কন্ঠ বলল,” এত বুদ্ধি হীনা কবে থেকে হলি তুই?
তুবা বলল,” কি করলাম আবার?

তিয়াসা তার কপালে দুই আঙ্গুল ঘষা দিয়ে বলল,”একসাথে কাজের লোক ও নেই আবার মালকিন ও নেই ব্যপারটা গোল**মেলে লাগবে না। সবাই ভাববে এখানে তোর কা*র সা*জি আছে। তখন তুই যদি ক*ব*রে লুকিয়ে থাকিস তখন রুশভিয়ান তোকে ক*ব*র খুঁড়ে বের করবে?
তুবা বিরক্তি নিয়ে বলল,” এখন কি করবো তাহলে?
তিয়াসা তুবার ঘাড়ে হাত দিয়ে বলল,” দুইদিন থাক পরে আমির কে কিছু একটা বুঝিয়ে চলে যাবি?
তুবা স্বাভাবিক গলায় বলল,” আচ্ছা ঠিক আছে?
তিয়াসা লাঠিয়ালের দিকে তাকিয়ে বলল,” এই মেয়েটাকে পিছন দিক দিয়ে নি*য়ে যা*ও, ওখানে আমার গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা আছে।
লাঠিয়াল কিছুক্ষণ ইনায়ার নি*স্তে*জ মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো। ইনানের চোখ বন্ধ, শরীরটা সম্পূর্ণ নি*থ*র হয়ে মেঝেতে পড়ে আছে। গালের পাশ দিয়ে নেমে আসা কয়েক গাছি চুল মুখের উপরে পড়ে আছে। চোখের কোনে অশ্রু গুলো এখনো শুকাইনি।

লাঠিয়াল আর দেরি করলো না।
তার ঘাড় থেকে একটা বড় চাদর নামিয়ে এনে ইনায়ার শ*রী*রে বিছিয়ে দিলো। তারপর আলতো করে ইনানের ছোট শ*রী*র*টা*কে কাঁ*ধে তুলে এগিয়ে পিছনের দরজার দিকে।
রত্নকুঞ্জের ভেতরের আলো ধীরে ধীরে পিছনে পড়ে রইলো। করিডোর পেরিয়ে অন্ধকারচ্ছন্ন পথ ধরে এগোতে লাগলো সে। তার পায়ের শব্দ নিস্তদ্ধ রাতটাকে ভেঙে দিচ্ছে।
ইনানের মাথাটা প্রতিবার তার হাঁটার ঝাঁকুনিতে সামান্য দুলে উঠছে। চোখের কোনে জমে থাকা পানি গুলো গড়িয়ে পড়ছে চোয়ালে
লাঠিয়াল এসে থামলো পিছনের উঠোনে। দূরে অন্ধকারের মধ্যে একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। গাড়ির হেডলাইটের নিভানোর কারনে শুধু ভেতরের ক্ষীন আলোয় তার অবয়বটা বোঝা যাচ্ছে। সে একবার চারপাশে ন*জ*র বুলিয়ে নিলো। না, আশে পাশে কেউ নেই। সে দ্রুত গাড়ির পিছনের দরজাটা খুলে ইনানকে ধীরে ধীরে নিচে নামিয়ে নিলো। প্রথমে তার পাদুটো গাড়ির ভেতরে তুললো। তারপর শরীরটা সামলে মাথার নিচে চাদরের ভাঁজ করে দিলো। যেন গাড়ির ঝাঁকুনিতে মাথায় আ*ঘা*ত না লাগে।

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ১৫

কিছুক্ষণের মধ্যেই ইঞ্জিনের শব্দে নিস্তব্ধ রাতটা কেঁপে উঠলো। গাড়ির হেডলাইট জ্বলে উঠতে অন্ধকার পথটা মুহুর্তেই আলোকিত হয়ে গেল। তারপর গাড়িটা ধীরে ধীরে রত্নকুঞ্জের সীমানা পেরিয়ে অজানা গন্তব্যবের দিকে এগিয়ে গেল। পিছন পড়ে রইলো শুধু বিশাল অন্ধকার বাড়িটা।
আর সেই বাড়িতে ইনানের অনুপস্থিতিতে টের পাওয়ার আগে শুরু হয়ে গেল এক ভ*য়ং**ক*র মিথ্যার গল্প…. ইনান আবার পা*লিয়েছে…..

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ১৭