কালকুঠুরি পর্ব ৬৩ (২)
sumona khatun mollika
কাশেম চোখের পাতাদুটো বোজার আগে দেখতে পেল শ্যামা আসছে। দৌড়ে নয় ঝড়ের বেগে আসছে। তারপর আর কিছু দেখা হয়নি।
জানা হয়নি শ্যামা কি সে পর্যন্ত পৌছেছে!
রাজপথ ভরে যায় লোকজন দিয়ে । সেনাবাহিনীর সৈনিকেরা পরিস্থিতি সামালাতে শুরু করে । মেধার পেছনে নাজিয়া আর সিভানও ছিলো। মেধা দৌড়ে গিয়ে কাশেমের নিথর দেহের ওপর মুষড়ে পরল। পড়নের সাদা বস্ত্র ভিজে উঠলো প্রিয়তমের রক্তে।
সিভান কেঁদে ওঠে,, “ ওঠো !! “
মেধা কোনো কথা বলছেনা। কাশেমের সাদা শার্টটা জবজবে হয়ে ভিজে গেছে। কি নৃশংস ভাবেই না মারলো! একজন সৈনিক গিয়ে বলল ,,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
“ লাশের গায়ে হাত দেবেন না! “
মেধা চিৎকার করে উঠলো,, “ ও লাশ নয়! সিভান বলনা ও লাশ নয়। নাজিয়া বলনা, ও কাশেম! কাশেম হালদার । “
সৈনিক লোকটা মেধার বাবা- চাচার বয়সীই হবেন। মেধাকে এভাবে হাহাকার করতে দেখে তার শক্ত বক্ষের ভেতরেও ভিজে উঠলো। হাঁটু মুড়িয়ে পাশে বসলেন তিনি। বড় অফিসারকে বসতে দেখে আরো দু একজন অফিসার বসে পরলেন। পেছনে এখনো হট্টগোল হয়ে চলেছে । অধিকাংশই চেয়ে চেয়ে দেখছে,,
মেধা কাশেমের মাথা টা বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে হাহাকার করছে!
“ উঠুন না কাশেম ভাই, তাকিয়ে দেখুন আপনার শ্যামা এসেছে। একটাবার শেষ সুযোগ দিন কাশেম ভাই, এবারে আর আপনাকে ফিরিয়ে দেব না। আপনি ফিরিয়ে দিলেও আমি যাবোনা। কাশেম ভাই, আমি রাজি, চলুন আজকেই বিয়ে করব, বাবার কথা শুনবোনা। চলুন না, উঠুননা”
কাশেম নির্বাক, নিরুত্তর , নিথর। মেধার রক্তমাখা হাতদুটো বারবার কাশেমের মুখটা নেড়ে দিচ্ছে । মেধার চিৎকার, হাহাকারে উপস্থিত সকলের চোখ ভিজে যাচ্ছে৷ নাজিয়াও পাশে বসে পরলো। মেধা কাশেমের প্রাণহীন বুকে মাথা রেখে উবু হয়ে বলল,,
“ আপনি বলেছিরেন, আমার জন্য আপনার হৃৎপিণ্ড চলে, এখন কেন চলচেনা? আমার যে ভালোবাসি বলা হোলোনা কাশেম ভাই। ! “
সিয়াম কে দেখে দৌড়ে গিয়ে কান্না করে উঠলো নাজিয়া,, ‘’ দুলাভাই,,, দুলাভাই,,, কাশেম ভাই.. “
সিয়াম দৌড়ে চলে গেল কাশেমের লাশের কাছে। কখন এসেছে, কিভাবে এসেছে এতকিছু বলা বা শোনার সময় নাই । লিমনকে ইশারা করে কাশেমের জন্য এম্বুলেন্স ডেকে পাঠালো সিয়াম । মেধাকে কিছুতেই শান্ত করা যাচ্ছে না । ও প্রায় গাগল হয়ে উঠেছে কাশেমকে নিয়ে যেতে দেখে। নাজিয়া আর লিমনকে এদিকটা সামলাতে বলে সিয়াম কল লাগালো সাফিনকে। সাফিন গম্ভীর কণ্ঠে আওড়ালো,
“ কি হোলো? “
“ ভাই, কাশেম শ্যাষ! ( শেষ) “
“ কিই! সা… সামির কোথায় ? “
“ গুলি খেয়েছে । সিটি হাসপাতালে কোমায় “
“ সিভান? “
“ আমার কাছেই আছে “
“ বাড়ি না এসে সোজা হসপিটাল এ যা, আমরাও যাচ্ছি “
কথা শেষে পেছনে ঘুরে তাকাতে দেখলো মেধা জ্ঞান হারিয়েছে । লিমন তাকে পাঁজা কোলে তুলে নিয়ে গাড়ির দিকে রওনা দিলো।
অন্তরীক্ষে সূর্য ঢলেছে। সামহা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল , কাইশসা মামা আসলে জবরদস্তি একটু ঘুরতে বেরোবে। এরকম বদ্ধ ঘর তার একটুও পছন্দ না। টুকটাক করে হেঁটে একটা মেয়ে ঢুুকলো ওর ঘরে। বয়স ওর মতই হবে। তাকে দেখে ভ্রু কুচকে জিগ্যেস করল,
“ এই,, কে তুমি? “
“ আমি সিয়েরা । “
“ কে পেয়ারা? “
সিয়েরা হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ঠোঁট চেপে হাসলো। সামহা তবু শত মাথা খাটিয়েও বুঝে উঠলোনা। কে মেয়েটা! দেখতেতো ভারি সুন্দর । সিয়েরা বলল,,, “ তোমার আব্বু আমার, কাকা হয়। ছোট চাচা “
“ তাহলে তুমি কে? “
“ বোন। “
সামহা এবার একটু হাসলো । বোন! বেশ ভালোই হয়েছে। সামহার একটা বোনও হয়ে গেল । মাহা মরামুখে ভেতরে ঢুকতেই সিয়েরা বেডের তলে লুকিয়ে গেলো। মাহাকে ওভাবে মুখ বাকা করতে দেখে সামহা জিজ্ঞেস করল,,
“ কোনো সমস্যা ? “
“ আমমমম,,,, আমার কেন যেন খুব খারাপ লাগছে। খুবই। কেমন একটা অস্বস্তি লাগছে”
সামহা আর কিছুই বললনা। মাহার মন খারাপ দেখে চুপচাপ সব কথা শুনলো। একটু পরে নার্স এসে খবর দিল,, “ মেডাম, তারাতারি আসুন সামির সিকান্দার এর সেন্স ফিরেছে “
মাহা চেহারার সামনের ঝালর নামিয়ে দৌড়ের ওপর কেবিনে চলে গেলো। আগে তার চোখদুটো দেখা যেতো , এখন তাও দেখা যায় না । ছোটবেলার সেই সিকান্দার কে যখন খুঁজে পেয়েছে, তখন অন্ধত্ব আসলেও বরণ করে নিতে সমস্যা হবে না। এক রইলো,, আরেক চিন্তা , অন্ধ হলে, কোরআন শরিফ পড়বে কিভাবে ? মাহা পুরো ৩০ পারার হাফেজা সেটা আগেই বলা হয়েছিলো । না দেখতে পারলেও সমস্যা নাই। বাংলা অর্থসহ কোরআন শরিফ সহী শুদ্ধভাবে আয়ত্ব আছে। তাছাড়া পুরুষ নারীর চোখ দুটোর দিকে তাকাতেও বাদ রাখেনা ।
নার্স থেকে শুরু করে ডক্টর, সবাই অবাক হয়েছে,, কি অদ্ভুত এক পরহেজগার গায়রতবান নারী ! কে বলবে সে একজন দাগী আসামীর স্ত্রী ! অধিকাংশের জানার খুব আগ্রহ, তার সুরতখানি ঠিক কতটা সুন্দর ! কিন্তু কোনো পুরুষ তো দূর নারীরাও তার চেহারা দেখতে পায়নি। জানার বড্ড ইচ্ছে , সে কিভাবে তার পর্দা বজায় রেখে এতদূর পৌঁছেছে !
নার্সের পিছে পিছে মাহা রুমে ঢোকে। গলাবাজি করে নার্সকে ধমকি ধামকি দিয়ে নিজেও বাপের রুমে চলে গেছে সামহা। গিয়ে বাপের বেডের একপাশে বসেছে। চোখের পত্রদয় কাপিয়ে টিপটিপ করে তাকালো সামির। গলার রগগুলো টনটন করে ফুলে উঠলো। চোখদুটো খুলতেই মনে হোলো যেনো দুটো আলোর প্রদীপ দপ করে জ্বলে উঠলো। মাহার সর্বাঙ্গ কেঁপে উঠল চোখদুটো দেখে । বাষ্পিত হোলো অক্সিজেন মাস্ক। সামহার হাতের ছোঁয়া পেয়ে পলক ফেলল সামির। সামহা মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে সামহার দিকে তাকিয়ে বামগাল টেনে হাসলো ও।
সামহা ডাকার আগেই পেছন থেকে মিষ্টি কণ্ঠে ডাক দিল সিয়েরা।
“ কাকু! “
সামির ফিরে তাকাতেই সিয়েরা দৌড়ে গিয়ে সামিরের হাত জড়িয়ে ধরে বলল,,
“ কাকু, তুমি ব্যাথা পেয়েছো? “
“ না, বেবি। তুই চলে এসেছিস? “
“ হু। পাপা, মাম্মা সবাই এসেচে “
সামির সিয়েরার গালে হাত নেড়ে বলল,,
“ এটা সিয়েরা। সিয়াম আর নুসরাতের মেয়ে “
“ জানি “ শান্ত কণ্ঠে আওড়ালো মাহা। সামহা চুপচাপ বসে আছে। একে একে সবাই চলে এলো কেবিনে। সিয়াম এখনো আসেনি৷
সাফিন মাহার সাথে কোনো কথা বলল না। সামিরের সামনে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,,
“ এভাবে ভুইত্তামারা হয়ে পরে আছিস কেন? “
সামির শক্তি দিয়ে উঠে বসে মুখের মাস্ক খুলে বলল,,
“ ইন্ডিয়ান সিরিয়াল এর শুটিং চইলছে। ‘ কার মারা কে খায় ‘ নাটকের। ক্যাস্ট করছে সব বোকাচোদার দল বাকিটা জানতে চোখ রাখুন বাঙ্গি টিভিতে, “
সামিরকে ঠিকঠাক দেখে ক্রুর হাসি হাসলো সাফিন। এগিয়ে গিয়ে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। তারপর আবকর বেরিয়ে গেল। নুসরাত আর রাহা সামহাকে দেখতে হুড়োহুড়ি লাগিয়ে দিল । সামির একটু হাসলো। কি একটা মনে করে মুখের হাসিটা মিইয়ে গেলো। মাহা কে চুপচাপ থাকতে দেখে নিজে আগে মুখ খুলল,,
“ আমি মাহার সঙ্গে একলা কিছু কথা বলব। সবাই একটু বাইরে যাও “
সবাই এই কথাটা শুনলেও মাহা শুনলো সামিরের রুষ্ট সম্বোধন । মাহা! আজ পর্যন্ত সামির কখনো ওকে মাহা নামে ডেকেছে বলে মাহার মনে পরছে না। ছ্যাচড়ামি থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত কখনও দিবা নাম ছাড়া কথা বলেনি সামির। একে একে সবাই বেরিয়ে গেলো । সামহাকে নিজের পরিচয় দিয়ে বড়মা রাহা ওকে কোলে নিয়ে বেরিয়ে গেল । কিছুক্ষণ নিরবতা…
সামির পা গুটিয়ে বসে বলল,,
“ বসুন এখানে “
মাহা বিনা প্রশ্নে বসলো। ওপরের ঝালর তুলে দিতেই বেরিয়ে এলো, হালতা জোড়া ভুরুর নিচের দীঘল টানা চোখদুটো৷ সামির হাসলোনা, বেশি সময় তাকিয়েও রইলোনা। তাকাবে কিভাবে! যখন ওই চোখদুটোর দিকে তাকাবে, ওর তো কিছু বলার সাহস থাকবেনা। সেই পাঁচ বছর আগেও এমনটা হোতো, যখন মাহার চোখের দিকে তাকাতো, ওর ভেতরে কিছু একটা দুমড়ে মুচড়ে যেত। সামান্য দুটো চোখ সামির বাঙ্গির দুর্বলতা হয়ে উঠবে এটা ভেবে বড্ড বিরক্ত হোতো ও। কতবার চেষ্টা করেছে পরনারীর সান্নিধ্যে যেতে। একটাবারো সফল হয়নি। বরাবরি হোতোনা ।
পরনারীর স্পর্শ ওকে বারবার নিজের মায়ের সাথে হওয়া দুর্ঘটনার কথা মনে করাতো। মনকে বোঝালো, এই মে গুলো ইচ্ছে করে তার কাছে আসতে চায় । সেটা থেকে আবারো যখন কারো কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করতো, বারবার এই চোখদুটো ভেসে উঠতো। মনে হোতো, অতি দুর্বলতার চোখদুটো হাহাকারের অশ্রু বিসর্জন দিয়ে যাচ্ছে । মাথা টা ঝিম ধরে যেতো। মাহা কি কোনোদিনও জানতে পারবে? বুঝতে পারবে?
এই আসামি এর মধ্যেও কোথাও না কোথাও একটা স্বামী ছিলো । হয়তো বুজবেনা।
চোখ অন্য দিকে রেখেই সামির বলল,,
“ আরেহ!! শালার বাঙ্গি মারা জিন্দেগী , বোকাচোদা গুলি মারার আর টাইম পাইলোনা। এটুক বুঝতে পারেনাই, সিভু এখনো ছোট। সে যাক গে,,, চুপ কেনো? “
আরো নিরবতা…..৷
“ আপনাকে নিজের লক্ষ্যে পৌছুতে দেখা আমার জন্য ভাগ্যের বিষয় মেজিস্ট্রেট আফুজান্স। আসলেই আমার শখ ছিলো, আমি জাউরামু করে বেরাবো আর আপনি আমারে ধরার জন্য দৌড়ািবেন। তারপর হোঁচট খাইয়ে আমার কোলে পরবেন, আমি গান গামু, পুলিশ চোরের প্রেমে পরেছে। ও দারগা, বউ বাঙ্গি উষ্টা খেয়েছে, মজা হোতো বলো,, কেন গেছিলে?? “
উত্তরে মাহার নিরবতা….
“ কেন গেছিলে , আমাকে ছেড়ে? বলো দিবা, আমার বুকে পাথর চাপা দিয়ে ওই মাঙ্গের ছুড়ার সাথে কেন? গেছিলে যখন ফিরে কেনো আসোনি? “
মাহা এবারে মুখ খুলল।
“ কোন কারণটা নেবেন আপনি? যদি বলি আমার সন্তানকে সাফিন সিকান্দার এর হাত থেকে বাঁচাতে ? যদি বলি আপনার পাপের অনিশ্চয়তার কারণে? যদি বলি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে? যদি বলি আপনাকে বোঝাতে আপনাকে ওরা ব্যাবহার করে নিজেদের হাতিয়ার হিসেবে? “
সামির তুচ্ছ করে হাসলো! পাগলের মতো হেসে বলল,,
“ তুমি মাত্র একটা বছরে সব জেনে গেলে বুঝি? আমি জানি, আমি কারো আপন নই। আমার কেও নেই। কেও না। আশা করেছিলাম, তুমি থাকবে। তুমি জানো? আমি নিজের অহংকার পাশে রেখে আমার সবচে অপছন্দের মাহবুব উদ্দিন কেই জিগ্যেস করছিলাম, কি করলে আমি ভালো বাব…..। সেসব কথা থাক। মেজিট্রেট মেডাম? আমার একটা কথা রাখবেন? “
মাহা ঘুরে তাকালো,,,
“ আমাকে হয় একটা সুযোগ দিন, নাহলে খঞ্জর দিয়ে পকাত করে দিন তবুও ফাঁসি দেবেন না। আমার ছোট বাচ্চাটা সইতে পারবেনা। বাপ মায়ের ওপর আঘাত বাচ্চারা সইতে পারেনা। না, পারেনা । দয়া করে আমার অনুরোধ টা রাখবেন। “
মাহা জবাবে একরাশ নিরবতা ঠেলে দিয়ে কাওকে কল লাগালো । দড়জা ঠেলে ডিআইজি মারুফ হাশমি এসে একটা কাগজ খুলে বলল,,
“ সামির সিকান্দার , আপনাকে একটা শেষ সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোর্ট, শুধু মাত্র আপনার শিশুকন্যা সামহা সিকান্দার ভুমির ভবিষ্যত বিবেচনায় এবং আপনার চাচা সিধু সিকান্দার এর সন্মান রক্ষার্থে। তবে এরপর আপনার কোনো অপরাধ লক্ষণীয় হলে যদি তার যথাযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় , আপনাকে কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে । “
সামির হা করে কথা গুলো শুনলো। মারুফ হাশমি পোকলা গাল টেনে হেসে বলল,,
“ সরকার উচ্ছেদকে কাজে লাগালেন মেডাম। বেশ ভালো পযেন্টে হিট করেছেন, তবে আশা করব, আপনি আপনার কথা রাখবেন। “
“ জ্বি অবশ্যই । আপনাকে অনেক ধন্যবাদ । আপনি এখন আসতে পারেন “
সেলুট করে মারুফ হাশমি বেরিয়ে গেলো। সামির জিজ্ঞেস করল,, চাচা কোথায় ? মাহা জবাব করল আছে। বেঁচে আছে । সামির মাহার মুখের দিকে চেয়ে সেই পুরোনো দিনটার মতো বাহাতে এলোমেলো চুলগুলো ঠিক করে বলল,,
“ আপনি পর্দা করেন ভালো কথা, পর্দা চিরস্থায়ী হোক , তবে টুক করে নিকাব টা একটু তুলুন । জান্নাতে গিয়ে যাতে চিনতে পারি “
মাহা নিকাব তোলার আগেই বাইরে থেকে চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ ভেসে আসছে!
সামহার গলা! সামহা এভাবে চেচিয়ে চেচিয়ে কাঁদছে কেনো! মাহা হুড়মুড়িয়ে উঠে গেলো। সামিরওবসে রইলোনা।
কালকুঠুরি পর্ব ৬৩
কেবিনের বাইরে যেতেই দেখলো, সাদা কাপড়ে মোড়ানো প্রাণহীন এক পুরুষদেহ। চোখের পাতা বোজা। মেধা মেয়েটা পাগলের মতো হাহাকার করছে। সিভান চুপচাপ দাড়িয়ে । সামহাও লোকটার মুখ ধরে কান্নাকাটি করছে। মাহা আর সামির দুজন দুজনের দিকে তাকাতাকি করলো। লাশের পাশ থেকে নাজিযা সরে যেতেই দৃশ্যমান হোলো নিথর চেহারাটা। সামিরের চোখদুটো বড়োবড়ো হয়ে গেলো। মাহা ধপ করে বসে পড়লো। আর সামির….
