Home কোন গোপনে মন ভেসেছে কোন গোপনে মন ভেসেছে পর্ব ৭

কোন গোপনে মন ভেসেছে পর্ব ৭

কোন গোপনে মন ভেসেছে পর্ব ৭
মিসরাতুল রহমান চৈতী

গভীর রাত আশে পাশের সবাই ঘুমিয়ে আছে। চৈতীও ঘুমিয়ে আছে। নির্জন রাত দূর থেকে ভেসে আসছে দুই একটা কুকুরে ঘেউ ঘেউ শব্দ।
রাতুল বেলকনিতে বেড সিস্টেমের দোলনাতে বসে আছে তার আজ সিগারেট নেই তার হাতে আজ গিটার। বহুবছর পর সে গিটার হাতে নিয়েছে। গিটারের টুংটাং শব্দ ঘরের নিরবতাকে ভেঙে তুললো। গলা ঝেড়ে গান ধরলো।
“আমি তোমারই প্রেম ভিখারি,
ভালোবেসে ঠাঁই দিও পরানে গো,
ভালোবেসে ঠাঁই দিও পরানে,
আমি তোমারই, তুমি আমারই,
পাশে থেকো জীবনে মরণে গো।”

তার গলার ঝরঝরে সুর, যেন মনের গভীর থেকে উঠে আসা ব্যথার আর্তনাদ। সেই ব্যথার মাঝে এক আড়ালিত আকাঙ্ক্ষা, যা কখনো পূর্ণ হয়নি, আর হয়তো কখনো পূর্ণ হবে না।
রাতুল চোখ বন্ধ করে সুরে ডুব দিলো, যেন প্রতিটি শব্দের মধ্যে লুকানো ছিল তার অসমাপ্ত গল্প, তার হারানো সময়। তার কণ্ঠে ছিল না পাওয়ার যন্ত্রণার এক আকুলতা, যেন সে কিছু চেয়ে এসেছে, কিন্তু কিচ্ছু ফিরে পায়নি। তার হৃদয়ে যন্ত্রণা ছিল, তবে তার সাথে ছিল এক গভীর ইচ্ছা—ভালোবাসা, কিন্তু এক কষ্টদায়ক ভালোবাসা।
“বুকেরই ভিতরে আন্ধার কুটিরে,
তুমি ওগো চান্দের বাতি,
চোখেরই মণিতে শয়নে-স্বপনে,
আছো তুমি দিবস রাতি।”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

এভাবেই রাতুল গান গাইছিল, তার গিটারের টুংটাং শব্দে যেন সব নিঃশব্দ হয়ে যাচ্ছিল। সে জানত, তার গাওয়া প্রতিটি সুরে চৈতীর হৃদয় স্পর্শ করতে চেষ্টা করছে। তবে জানতো, তার ভালোবাসা কখনো পুরোপুরি পূর্ণ হবে না। কেননা, সে নিজের ভেতরের সমস্ত ব্যথাকে খোলামেলা করে তুলে ধরছে, কিন্তু কখনও কারো কাছে সেই ব্যথার প্রাপ্তি হবে না।
“তোমারে আমি যে কত ভালোবাসি গো,
বোঝাব, কেমনে বোঝাব?
তোমারে না পেলে জানি আমি, জানি গো,
মরিব, অকালে মরিব।”
তার গিটারের সুর এবং কণ্ঠে অদ্ভুত এক দুঃখ ছড়িয়ে পড়ছিল, যেন তার জীবনের শেষ কথাগুলো বলে ফেলছে। চৈতী তার ঘুমের মধ্যে, এক অদ্ভুত আবেশ অনুভব করছিল। তার চোখে শয়নে-স্বপনে রাতুলের প্রতিটি গান জীবনের সাথে মিশে যাচ্ছিল, যেন সে অনুভব করছিল, তার ভালোবাসার গভীরতা, তার আক্ষেপ।
গানটা শেষ হলে, রাতুল কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকল, যেন তার সুরের প্রতিটি শব্দ তার আত্মাকে নিঃশেষ করেছে। তারপর হালকা একটা শ্বাস ফেলে, গিটারটা পাশে রেখে উঠে দাঁড়িয়ে বেলকনির রেলিংয়ে হাত রেখে দূরে তাকালো। তার চোখে এক অদ্ভুত ভাবান্তর—যেন কিছু বলার ছিল, কিন্তু কিছু বলার আর হয়ে উঠলো না। তারপর আনমনে একটা হালকা হাসি দিয়ে, সে শুধু বলল, “তোমার ভালোবাসার না পাওয়ার যন্ত্রণায়, ব্যথায় জড়ানো আমার এই হৃদয়…”

তার কণ্ঠে এক অদ্ভুত মায়া ছিল, যেন এই কথা বলার মাধ্যমে সে তার ভেতরের গভীর যন্ত্রণাকে মুক্তি দিতে চাচ্ছিল। কিন্তু কষ্টের এই অনুভূতি, যেন তার হৃদয়ে একটি স্থায়ী দাগ রয়ে গেছে।
বেলকনির নির্জনতা ছেড়ে রাতুল রুমে ফিরে এসে দরজাটি লক করে দিয়ে চৈতীর পাশে শুয়ে পড়লো। প্রথমে সে কোনোভাবেই এই রুমে শুতে চায়নি, অনেক জেদ করেছিল। কিন্তু তারপর এক শর্ত জুড়ে দিলো —মাঝখানে কোলবালিশ থাকবে।
রাতুল হাসি মুখে শর্তটি মেনে নিল। চৈতীর নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পাওয়া, তার গা থেকে আসা মিষ্টি গন্ধে রাতুল অনুভব করতে পারে —এ মুহূর্তটাই তার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখকর। এতটুকু হলেই তার সব কিছু পূর্ণতা পেয়ে যায়, আর কিছু আর চাই না সে।
রাতুল নিঃশব্দে চৈতীর দিকে তাকিয়ে রইল। ঘরের আবছা আলোয় চৈতীর মুখটা এতটা শান্ত আর নিষ্পাপ লাগছিল, যেন সে কোনো এক স্বপ্নরাজ্যে ভেসে চলেছে। রাতুলের ইচ্ছে হলো হাত বাড়িয়ে চৈতীর চুলের একগোছা সরিয়ে দেয়, কিন্তু করল না। সে জানে, এই মুহূর্তটা তার জন্য যতই অমূল্য হোক না কেন, চৈতীর জন্য হয়তো তা কোনো অর্থ বহন করে না।
চৈতী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তার বুক ওঠানামা করছে মৃদু ছন্দে। রাতুল চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকল, কিন্তু ঘুম এল না। তার মনে হতে লাগল, এই মেয়েটা তার পৃথিবীর সবটুকু আলো, তার সমস্ত অস্তিত্বের কারণ। অথচ সে সেই আলোকে কখনও পুরোপুরি নিজের করতে পারবে না।
সে চুপচাপ চৈতীর দিকে তাকিয়ে থাকল, বুকের ভেতর জমে থাকা অনুভূতিগুলো যেন তার শ্বাসকেও ভারী করে তুলছিল। এক সময় নিঃশ্বাসের সাথে মিলিয়ে হারিয়ে গেল রাতের গভীরে।

সকালবেলা নরম রোদের আলো জানালার ফাঁক গলে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করল। মিষ্টি বাতাস পর্দার আড়ালে খেলা করছে। রাতুল ঘুম থেকে ওঠে পাশে তাকিয়ে দেখলো চৈতী ঘুমিয়ে আছে।
চৈতী ঘুমের ঘোরে একবার নড়েচড়ে পাশ ফিরে শুয়ে পড়লো, কোলবালিশ সামান্য সরে গেল। রাতুল এক মুহূর্ত থমকে গেল, তারপর নিঃশ্বাস চেপে আবার চোখ বন্ধ করল। তার ইচ্ছে হচ্ছিল চৈতীকে আরও কাছে টেনে নিতে, কিন্তু পারল না। তার ভালোবাসা ছিল বাধাহীন, কিন্তু সীমাহীন ছিল।
সে মনে মনে বলল,
“যদি একদিন তুমি বুঝতে পারো, কতোটা গভীর ভালোবাসা লুকিয়ে রেখেছি তোমার জন্য, হয়তো সেদিন আমি আর থাকব না।”

রাতুল ধীরে বিছানা থেকে উঠে বসলো। একবার চৈতীর দিকে তাকিয়ে থাকল কিছুক্ষণ। মেয়েটা কতটা শান্তিতে ঘুমাচ্ছে! তার মুখে এক ধরনের প্রশান্তি, যেন পৃথিবীর কোনো দুঃখ তাকে ছুঁতে পারবে না। রাতুলের বুকের গভীরে কোথাও একটা চিনচিনে ব্যথা উঠল।
সে আস্তে করে বিছানা ছেড়ে নেমে এল। বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়ালো, নরম রোদে তার চুলগুলো উড়ে উঠল হালকা বাতাসে। মনে মনে ভাবল, “আমি যদি তোমার জন্য হতে পারতাম সেই শান্তির আশ্রয়, যেখানে তুমি নির্ভয়ে ঘুমোতে পারতে, হাসতে পারতে…”
বাইরে পাখির কিচিরমিচির, রাস্তা দিয়ে দু-একটা গাড়ি চলে যাচ্ছে। শহর ধীরে ধীরে জেগে উঠছে। কিন্তু রাতুলের মনে হচ্ছে, তার রাত যেন এখনো শেষ হয়নি।
কিছুক্ষণ পর ঘরে ফিরে এসে আলমারি খুলে এক সেট জামা নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল।
লম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে বের হয়ে দেখলো চৈতী ঘুম থেকে ওঠে গেছে।
দুইজনের মধ্যে কোন কথা হয়নি।

চৈতী ওয়াশরুমে চলে গেলো ফ্রেশ হতে। চৈতীর যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইলো রাতুল।
চৈতী ফ্রেশ হয়ে আসতেই রাতুল মুখ ভার করে বলল, “শুনো, আমি বাহিরে যাচ্ছি, জরুরি মিটিং আছে। তুমি কিন্তু ঘর থেকে এক পা ও বাহিরে রাখবে না, আর সময় মতো খেয়ে নিও। আমি দুপুরের মধ্যে চলে আসবো, তখন তোমাকে স্কুলে ভর্তি করাতে নিয়ে যাবো। আমি তোমার সমস্ত কথা শুনেছি, আশা করি তুমি শুনবে।”
চৈতী একটু বিরক্তি নিয়ে বলল, “আমাকে যেতে দিন, এইখানে ভালো লাগে না। দম বন্ধ লাগে, মনে হয় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যাবো।”
রাতুল রাগান্বিত হয়ে চৈতীর বাহুডোরটা টেনে ধরে বলল, “বার বার যে বলছো চলে যাবে, যাবে কোথায়? কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই! তুমি জানো, এই পৃথিবীতে কোথাও তোমার যাওয়ার জায়গা নেই। বিশ্বাস করো, আমি রাতুল, যদি তোমাকে ছেড়ে দিই, তুমি মানুষ রূপি জন্তু জানোয়ারের কাছে পড়ে যাবে। আমার কাছে আছো, নিরাপদে আছো।”
রাতুল কিছুক্ষণ চুপ থেকে আরো গুরুতর হয়ে বলল, “বাংলা একটা প্রবাদ আছে— ‘সুখে থাকলে ভূতে কিলায়,’ তুমিও ঠিক সেই অবস্থায় পড়ছো।” থাক তুমি বের হচ্ছি বলে চলে গেলো রাতুল।

রাতুল একটি রাজনৈতিক বৈঠকে উপস্থিত, যেখানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা এবং বিশ্লেষকরা আছেন। বৈঠকের সুর বেশ গম্ভীর। আলোচনার মূল বিষয় হচ্ছে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
একজন প্রবীণ নেতা, সাদিক ভাই, তার বক্তব্য শুরু করলেন। “আমাদের দলের মূল শক্তি হল জনগণের আস্থা। কিন্তু এখন, এই আস্থা ধরে রাখতে হলে, আমাদের নীতিতে কিছু বড় পরিবর্তন আনতে হবে। জনগণের সাথে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে।”

রাতুল মাথা নেড়ে শুনছিল, তারপর সে নিজের মতামত দিল। “অন্য দলগুলি যদি আমাদের থেকে আগেই জনগণের মন জয় করতে পারে, তবে আমাদের জন্য খুব কঠিন হবে। তাই আমাদের প্রস্তুতি আগে থেকেই নেওয়া উচিত। আমাদের প্রচার এবং নীতিতে এমন কিছু করতে হবে যা জনগণকে আকর্ষণ করবে।”
একজন মধ্যবয়সী নেতা, মুস্তফা, কিছুটা চিন্তিত হয়ে বললেন, “তবে আমরা কি জনগণের চাহিদাগুলো ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারছি? আমাদের দলের একাধিক শাখার মধ্যে যে সঙ্কট চলছে, সেটাও খুব বড় সমস্যা।”
রাতুল চুপচাপ মাথা নাড়াল, তার চোখে স্পষ্ট ছিল দলের ভবিষ্যতের প্রতি এক গভীর উদ্বেগ। “সবাই যদি একযোগভাবে কাজ না করে, তবে আমাদের দল ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারবে না। আমাদের একে অপরকে বিশ্বাস করতে হবে। একসাথে কাজ না করলে আমাদের বড় বিপদ হতে পারে।”

এই আলোচনায় আরও অনেক নেতার মতামত আসছিল, তবে রাতুল সবসময় তার অভিজ্ঞতা এবং চিন্তা দিয়ে দলের ভবিষ্যত সম্পর্কে কথা বলছিল। বৈঠকটি বেশ কিছু সময় চলতে থাকে, এবং প্রতিটি সিদ্ধান্তের সাথে দলের ভবিষ্যত আরও নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়।
বৈঠক শেষে, দলের সভাপতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন। সবাই চুপচাপ তার দিকে তাকিয়ে ছিল। তিনি একে একে কিছু নেতার নাম ঘোষণা করে বললেন, “আজকের বৈঠকে আমরা দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছি। এখন, আমাদের দলের উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল, আমাদের কাজের মানকে সঠিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।”
তারপর তিনি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাতুলের দিকে ইশারা করলেন। “রাতুল, তুমি আমাদের দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। আজকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তোমাকে দলের নতুন কার্যক্রম এবং নির্বাচনী প্রচারনার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।”

রাতুলের মুখাবয়ব কিছুটা অস্থির হয়ে ওঠে, কিন্তু সে কোনরকম ঝুঁকি না নিয়ে মুখে কিছু না বলে মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়। দলের সভাপতি আরও বললেন, “তোমার অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের শক্তি আমাদের দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জানি, তুমি এই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করবে।”
রাতুল ধীরে ধীরে দাঁড়িয়ে তার মতামত দিল, “ধন্যবাদ, আমি এই দায়িত্ব গ্রহণ করছি, কিন্তু,এটা শুধু একক প্রচেষ্টায় সম্ভব হবে না। দলের প্রতিটি সদস্যের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমি শুধু নেতৃত্ব দেব, বাস্তবায়ন সকলের সঙ্গে মিলে হবে।”
সবাই সম্মতির সাথে মাথা নাড়ে, এবং রাতুলের দিকে আরও সহানুভূতির সাথে তাকায়। সে জানে, এই দায়িত্ব তাকে শুধু দলের প্রতি দায়িত্বশীল নয়, দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি বিশাল পরিবর্তন আনার সুযোগ দেবে।
মিটিং শেষ হতে রাতুল বের হয়ে পড়লো বাসার উদ্দেশ্যে। মনটা খচখচ করছে চৈতী একা কি না তাই।
গাড়ির চলছে দ্রুত গতিতে।

বাড়ি পৌঁছাতে তার কিছুটা সময় লাগল। দরজা খুলতেই সে ভিতরে ঢুকল। এক ঝলক চোখে পড়লো, চৈতী কিচেনে দাঁড়িয়ে আছে।
রাতুলের খুব ইচ্ছে জাগলো চৈতীর হাতের এক গ্লাস পানি খেতে। সে ধীরে কন্ঠে বললো,, চৈতী আমাকে এক গ্লাস পানি দেও তো?
“দিচ্ছি, আপনি সোফায় গিয়ে বসুন।”
–”রাতুল সোফায় গিয়ে বসলো।”
চৈতী শরবত বানিয়ে তারপর নিয়ে গিয়ে রাতুল এর হাতে দিলো।
রাতুল সোফায় গিয়ে বসলো, তার চোখ কেবল চৈতীর উপর। চৈতী কিছু সময় পর শরবত বানিয়ে সেটি তার হাতে দিলো। রাতুল একনজরে দেখল, শরবতটা হালকা লালচে রঙের, তাজা ফলের মিষ্টি স্বাদ ফুটে উঠেছে। সে এক ঢক্ করে গ্লাসটা শেষ করলো, মনের মধ্যে কিছুটা তৃপ্তি অনুভব করল।
রাতুল চুপ করে গ্লাসটাকে একপাশে রাখল। মৃদু হাসি দিয়ে বলল, “ধন্যবাদ, খুব ভালো ছিল।”
রাতুল সোফা থেকে ধীরেসুস্থে উঠে দাঁড়ালো। চৈতীর দিকে একবার তাকিয়ে বলল, “লাঞ্চ রেডি করো, খেয়ে তারপর বের হবো।”

কোন গোপনে মন ভেসেছে পর্ব ৬

বলেই সে সোজা ওয়াশরুমের দিকে চলে গেল, ফ্রেশ হওয়ার জন্য।
চৈতী নিঃশব্দে রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গেল, খাবার গুছিয়ে আনতে।
চৈতী খাবার প্লেটে দিতে দিতেই রাতুল ফ্রেশ হয়ে এসে চেয়ার টেনে বসে পড়লো।
চৈতীও বসে পড়লো নীরবতার সাথে তাদের খাওয়া দাওয়া পর্ব শেষ হলো।
তারপর ওরা রেডি হয়ে চলে গেলো স্কুলের ভর্তির জন্য।

কোন গোপনে মন ভেসেছে পর্ব ৮