Home তিন তরঙ্গের আলোকছটা তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৩

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৩

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৩
রাফিয়া জান্নাত রিফা

ইতি, বিথী,নীধি বাগানের লিচু গাছের আড়ালে লুকিয়ে লিচু খাচ্ছে।গাছটা অনেক বছরের অনেক লিচু ধরে,লিচু গুলো বেশ বড় আর খেতে ও অনেক স্বাদ।
প্রতিদিনের কাজ তাদের লিচুর গাছের বসে লিচু খাওয়া, কিন্তু আজ গাছের আড়ালে ঝোপে বসে লিচু খাচ্ছে আর পাহারা দিচ্ছে ।

পাশের পাড়ার কিছু বিচ্ছু ছেলে বাচ্চারা আছে প্রতিদিন গাছে উঠে লিচু নিয়ে ভো দৌড় দেয়।কালকে বেলকনি থেকে বিথীর চোখে পড়ে সে দৃশ্য।লিচু চুরি করাটা ফ্যাক্ট না আসল বিষয়টা হলো ওই বাচ্চাদের শাস্তি দেওয়াটা।
একদিন পাড়ার মোজ্জাম্মেল কাকার দোকানে ইতি, বিথী,নিধী,চানাচুর কিনতে গেছিল ।ফেরার পথে দেখে বাচ্চা গুলোকে এক্কা দোক্কা খেলছে তারাও তাদের সাথে খেলতে চাইলো, কিন্তু বাচ্চাদের ভাষ্যমতে “তারা ছোট ছোটদের সাথে খেলবে , বড়দের নিবে না” কিন্তু ইতি, বিথী, নীধি ও হাল ছাড়ে না বাচ্চাদের ভুজুং ভাজুং বুঝায়।এমন কি টাকা ও চানাচুর খাওয়ার ও লোভ দেখায় কিন্তু বাচ্চারা তাদের কোন কথাই কানে নেয় না। এতে ইতি, বিথী, নীধি তিনজনই চটে যায়,রাগ দেখিয়ে বাচ্চাগুলোর এক্কা দোক্কা খেলার পাথরটা নিয়ে ছুড়ে ফেলে দিল পুকুরে। বাচ্চা গুলো ও হেব্বি রেগে গেলো। শুরু হয়ে গেল ইতি, বিথী নীধি ও বাচ্চাগুলো তুমুল ঝগড়া,ইতি তো বারবার এক কথাই বলছে,,,

__তোরা খালি আমার বাড়ির সামন দিয়ে যেয়ে দেখিস??তখন দেখিস তোগো কি অবস্থা করি।
এদিকে সব বাচ্চারা থুথু দেওয়ার জন্য এগিয়ে আসতে লাগে ইতি, বিথী,নীধির দিকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাইড়ে চলে যাওয়ার কারণে ইতি, বিথী, নীধি দৌড়াতে শুরু করে, এখানে শেষ নয় , হঠাৎ কোথ থেকে যেন একটা কুকুর ঘেউ ঘেউ আওয়াজ করে তাদের পিছনে কামড়ানোর জন্য ছুটতে থাকে।মূলত কুকুর মনে করেছিল‌ এই তিন আলোকছটারা হয়তো তার বাচ্চাদের ক্ষতি করবে। সেদিন কোনরকম কুকুরের কাছ থেকে বেঁচে যায়,কি যে নাজেহাল অবস্থা হয়েছিল তাদের।
আজ তারাও মোক্ষম একটা সুযোগ পেলো বাচ্চা গুলোকে জব্দ করার জন্য।
কিছুক্ষণ পর চারটে বাচ্চা গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে আসতে থাকে লিচু গাছের দিকে,তারা ভাবলো হয়তো কেউ নেই, কিন্তু ওদিকে ঝোপের আড়ালে বসে তিন বোনেই তাদের দেখছে, বাচ্চাগুলো এমনভাবে পা টিপে টিপে আসছে যেন একটা পিঁপড়ে ও টের না পায়। বাচ্চা গুলো লিচু গাছে এসে একে অপরের সাথে ফিসফিস করে বলে,,,

__রাকিব তুই গাছে ওঠা?
__না বাবা আমি পাবো না, এর আগের বার গাছে উঠে
নামার সময় প্রচুর ব্যথা পেয়েছি, বাসায় গিয়ে মায়ের মেলা মার খাইছি।
__তাহলে আব্দুল তুই ওঠ?
আব্দুল উঠতে রাজি হয় এবং গাছে ওঠার জন্য উদ্বিগ্ন হয় এমন সময় ঝোপের আড়াল থেকে ইতি, বিথী, নীধি বেড়িয়ে আসে ও ইতি বলে,,,
__আব্দুল তুই থাক আমি গাছে ওঠি?
চারজন বাচ্চাই তাদের দিকে তাকিয়ে হকচকিয়ে ওঠে, পালানোর চেষ্টা করলেই।নীতি, বিথী তাদের পিছনে গিয়ে দাড়ায়। বিথী বলে,,,

__কই যাও চান্দুরা।
নিধী বলে,,,
__বারবার ঘুঘু তুমি খেয়ে যাবে ধান। এবার আর পাবে না পাড়।
বাচ্চাদের মুখ গুলো মূহুর্তেই শুকনো হয়ে গেলো,ভয়ে জড়েসড়ো হয়ে আছে,একটা বাচ্চা বলে,,,,
__আমাদের পুলিশে দিও না আপুরা,আমরা আর লিচু পাড়তে আসবো না।
ইতির বাচ্চা গুলোকে দেখে খুব মায়া হলো।নীধি বললো,,,
__চুরি করা অন্যায় জানিস না তোরা?
__জানি আপু।
__তাহলে কেন চুরি করিস?? আমাদের বললেই তো হয়।আমরা কি তোদের দিতাম না নাকি??আমরা তিন বোন অনেক দয়ালু বুঝলি??
বাচ্চারা সবাই একসাথে বলে,,,

__সরি আপু।আর চুরি করবো না??
বাচ্চাগুলোকে তিনবোন আর কিছুই বললো না,ইতি বললো,,,
__আবদুল গাছে ওঠ?
__এ্যা?
__এ্যা নয় হ্যাঁ গাছে ওঠ যা?
আব্দুল খুশিতে গদগদ হয়ে গাছে উঠে।সকল বাচ্চারা ও খুশিতে লাফাতে থাকে। আব্দুল একটা পলিথিন ভর্তি করে লিচু পাড়ে, সবাই সেগুলো ভাগ করে খেতে থাকে। সবার খাওয়া শেষ হলে ইতি সবার উদ্দেশে বললো,,,
__এখন এক্কা দোক্কা খেলবো তার জন্য ওখানে একটা ঘর তৈরি কর তোরা?
বাচ্চা গুলো খুশি হয়ে ঘর আকলো, আব্দুলের পকেটেই গুটি ছিল তাই আর গুটির জন্য কষ্ট করতে হলো না।দুজন দুজন করে জোরা মেইন হলো।ইতি নিলো আব্দুল কে, বিথী নিলো রাকিব কে ,নীধি নিলো তুহিন কে, শুধু একাই থেকে গেল মিঠু তার কোন সঙ্গি রইল না , মিঠু চিন্তায় পড়ে গেল। মিঠু ছেলেটা অনেক শান্ত ও চাপা স্বভাবের আর খুব কিউট ইতির খুবই ভালো লাগলো মিঠুকে,ইতি মিঠুর গালে হাত দিয়ে বলে,,,

__কি রে মন খারাপ করলি?
__না আপু।
কিছুক্ষণ মধ্যে সেখানে উপস্থিত হয় পিকি রেম্পের মতো সুন্দর করে হাঁটতে হাঁটতে বলে,,,
__এখানে কি হচ্ছে সুইটিরা?
বাচ্চা গুলো পিকিকে দেখে জোরে জোরে হাসতে শুরু করলো।একে অপরের সাথে কানাঘুষো করে বলতে লাগলো,,,
__আরে এতো ওই যে বাসস্ট্যান্ড থাকা হিজরা গুলো মতো।
বিথী সবাই ধমক দিয়ে চুপ করায়।ইতি সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলে,,,
__এ হলো আমাদের গোলুমোলু পটেটো ভাই।আজ থেকে তোদের ও পটেটো ভাই, আচ্ছা।
আর কেউ হাসলো না সবাই হাঁসি খুশি মনোভাব নিয়ে পিকির সাথে কথা বললো, অবশেষে মিঠুর জোরা মেন হলো পিকি।খেলাতে কম বেশি সবাই পাচ্ছে শুধু পিকাই পাচ্ছে না সবাই তাকে বারবার দেখে দিচ্ছে কি ভাবে খেলতে হয় কিন্তু তাও পাচ্ছে না, মিঠু কাঁদো কাঁদো স্বরে বলে,,,

__আপুরা আমি এই দামরার সাথে খেলবো না ,পারে না কিছু না।
উপস্থিত থাকা সবাই হো হো করে অট্টহাসিতে মেতে ওঠে, অসহায় মুখ নিয়ে পিকি বলে,,,
__দামড়া মানে কি?
ইতি বলে,,,
__ও আপনি বুঝবেন না?
পিকি বলে,,,
__শিচু টা কাঁদে কেন?
বিথী হাসতে হাসতে বলে,,,
__শিচু নয় শিশু।
__ওককে সিশু।

অনেক ক্ষণ যাবৎ ধরে খেললো এক্কা দোক্কা।পিকি আর মিঠু আনন্দে লাফাচ্ছে কারণ তারা ম্যাচটা জিতেছে।ইতি, বিথী, নীধিই তাদের জিতিয়ে দিয়েছে। কারণ মিঠু ছেলেটার জন্য ইতির এক অদ্ভুত মায়া ও টান কাজ করছে,খেলার সময় বারবার ইতি মিঠুর ভঙ্গিমা পর্যবেক্ষণ করেছিল,ছেলেটা বেজার মুখ করে থাকলে মোটেও ভালো দেখায় না।ইতির মনে হলো মিঠুকে জিতিয়ে দিলে হয়তো জোরে জোরে হাসবে,তাই হলো,মন প্রাণ খুলে হাসছে মিঠু।ইতি তা দেখেছে।
খেলা শেষে বাচ্চাগুলোকে বললো নিধি,,,,
__কালকেও এই সময় আসবি কিন্তু ?
তুহিন বললো,,
__কালকে আমি মার্বেল নিয়ে আসবো আপু, মার্বেল খেলবো সবাই।
ইতি বললো,,

__আচ্ছ, সাবধানে যাবি কিন্তু।
সব বাচ্চারা মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সম্মতি জানিয়ে নেচে নেচে চলে গেল।পিকি বলে,,,
__অনেক ইনজয় করলাম সুইটিরা,আমিও রেগুলার খেলতে আসভো।
ইতি, বিথী নীধি মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানিয়ে হাসতে হাসতে বাড়ির দিকে চলে যায়।
আলবান শার্ট প্যান্ট পড়ে পরিপাটি হয়ে নিচে নামছে।আলোকছটাদের ঘামন্ত অবস্থা দেখে গম্ভীর কন্ঠে বলে,,,,
__কোথায় পাকনামো করতে গিয়ে ধাওয়া খেয়ে এলি।পিকি ও কি তোদের দলে নাম নিলো দিলো নাকি।
ইতি বলে,,,
__আপনার গম্ভীরতা কমানোর ওষুধ আনতে গিয়েছিলাম দোকানে দোকানদারকে বললাম “গম্ভীরতা কমানোর ওষুধ চাই”দোকানদার আবার কানে বেশি শুনে ,তিনি মনে করলেন আমরা তার কাছে গান্জা কিনতে এসেছে,তাও আবার মেয়ে হয়ে।তাই তিনি ধাওয়া শুরু করে দিলেন।
আলবান সিরিয়াস ভঙ্গিতে ইতির দিকে এগিয়ে এসে ব্যঙ্গ করে বলে,,,

__তারপর তারপর।
__তারপর আর কি। দোকানদার আমাদের ধরে ফেলল এবং গান্জা কে খায় বলল আমি বাধ্য মেয়ের মত আপনার নামটা বলে দিলাম।
এবার আলবান তেড়ে আসে ইতিকে মারার জন্য,ইতি দ্রুত পালিয়ে সোফার কাছে যায়। বিথী, নীধি ও পালায়,আলবান তাদের দিকে তাকিয়ে রাগ দেখিয়ে বলে,,,
__অভদ্র হয়ে গেছিস তোরা,দেখতে থাক শুধু তোদের কি অবস্থা করি।
আলবান এবার পিকিকে রাগ দেখিয়ে বলে,,
__তুই কি এখন যাবি বাইরে ঘুরতে ,কাল থেকে তো কানের পোকা নাড়িয়ে দিলি ঘুরতে যাবি বলে বলে।
পিকি খুশি হয়ে বলে,,

__সুইটিরা যাবে না?
__কোন কাল নাগিনীদের আমার সাথে নিতে পাবো না??
সোফার ওপাশ থেকে ইতি বলে,,,
__আমরাও কোন দাবানলের সাথে কোথাও যাবো না।
আলবান আবার তেড়ে যায় ইতির দিকে এবার তিন বোনেই প্রাণপণ দৌড় লাগায় সিঁড়ির দিকে।আলবান কিছু একটা ভেবে তাদের গম্ভীর কন্ঠে বলে,,,
__পাচ মিনিটের মধ্যে রেডি হয়ে নিচে আয় তিনটায়,এক মিনিট ও যেন লেট না হয় ,হলে খবর খারাপ আছে বলে দিলাম।

দশ মিনিট ধরে বিরক্তি নিয়ে সোফায় বসে আছে আলবান,পিকি,ইতি বিথী, নীধি, নিঝুম, মুহিন। নিঝুমের মা কালকেই চলে গেছে কিন্তু নিঝুম য়ায় নি।
এদিকে আর্দ্রের কোন পাত্তাই নেই।আলবান রাগে ফুঁসছে, বারবার সোফা থেকে উঠছে আর আর্দ্র বলে চিৎকার করে ডাকছে। বাড়ির গিন্নিরা একবার এসে তাদের এমন অবস্থা দেখে হা হুতাশ করে আবার নিজ কাজে চলে য়ায, এদিকে ইতি, বিথী নীধি মুখে ওরনা চেপে হাসছে। নিঝুম মুহিন ও প্রচুর বিরক্ত হচ্ছে।
পাক্কা ১৫ মিনিটের মাথায় আর্দ্র বেড়িয়ে আসে দৌড়াতে দৌড়াতে। আর্দ্রকে সিঁড়ি দিয়ে নামতে দেখে ইতি, বিথী, নিঝুম হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলে কিন্তু নীধি মুখ ঢাকে না সে নির্লজ্জের মতো আর্দ্রকে দেখতে থাকে, এদিকে পিকি আর আলবান হা হয়ে দেখছে আর্দ্রকে।

আসলে আলবানের এমন ভাবে চিৎকার চেঁচামেচি করে যে আর্দ্র ঘাবড়ে গিয়ে কি করবে না করবে অবস্থা, বেচারা প্যান্ট পড়তেই ভুলে গেছে। আর্দ্র পরনে এখন শার্ট আর কালা রঙের জাঙ্গিয়া পড়া। শার্টের হাতা গোটাটে গোটাত সেই লেভেলের ভাব নিয়ে নিচে নামছে।
আলবান আলোকছটাদের দিকে তাকায় দেখে তিন জনেই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে আছে,ইতি বিথী নিঝুম কিছুই দেখছে না কিন্তু নীধি নির্লজ্জের মতো আর্দ্র পায়ের বড় লোম গুলো হাতের ফাঁক দিয়ে দেখে যাচ্ছে।সাথে সবকিছুর বর্ণনা ও করছে।
আলবান আর পিকি আর্দ্রের এমন কান্ডে হাসবে নাকি কাঁদবে বুঝতে পারছে না,এমন কান্ডে মুহিনের চোখ তো বড় বড় হয়ে গেছে।
আলবান চোখ দিয়ে অনেক বার ইশারা করলেও আর্দ্র কিচ্ছুটি বোঝে না। আর্দ্র ভ্রু কুঁচকে আলবানকে বলে,,,,

__এমন করে কেউ ডাকে, বাবা রে বাবা কি রিক্সারের মধ্যে ছিলাম, আবার ওমন করে তাকিয়ে আছিস কেন?? আমিতো রেডি চল।
আবার বলে,,
__কি রে আলবান চল??
এবার পিকিকে বলে আর্দ্র,,,
__হোয়াটস রং পিকি?
আর্দ্র এবার তিন আলোকছটা ও নিঝুমের দিকে তাকিয়ে বলে,,,
__ওরা ওভাবে মুখ ঢেকে আছে কেন?
আলবান এবার রাগ দেখিয়ে বলে,,,
__নিজের ইজ্জতের বারোটা বাজাইলি, আর্দ্র?
__কেমনে?
__প্যান্ট কই তোর?
আলবানের কথায় আর্দ্র এবার আস্তে ধীরে মাথাটা নিচু করে দেখে, সত্যি তো তার পড়নের প্যান্ট নেই,১০০০ ভোল্টের বিদ্যুৎ শক্ট খায় আর্দ্র,কি করবে বুঝতে না পেরে দৌড়াতে শুরু করবে এমন সময় আলবান আর্দ্রের ঘাড়টা শক্ত করে ধরে বলে,,,

__ইডিয়েট ওদিকে রান্না ঘর।মা, ছোট মায়েরা আছে সেখানে।
অবশেষে নিজেই নিজের ইজ্জতের ফালুদা বানালো আর্দ্র।প্রাণ পণ দৌড়াতে লাগলো সিঁড়ি দিয়ে নিজের রুমে।
ইতি বিথী নীধি ও নিঝুম চোখ থেকে হাত সরিয়ে , হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেতে লাগলো একে অপরের সাথে, তাদের সাথে পিকি ও হাসে।হাসে না শুধু আলবান আর মুহিন তাদের ও কেমন যেন একটা লজ্জা লজ্জা ভাব আসে,মানে ছেলে ছেলে কানেকশন আর কি।
কিছুক্ষণ পর আর্দ্র মাথাটা নিচু করে নিচে নামে,আর নিজেকে ইচ্ছা মতো গালিগালাজ করতে। নিঝুমের হাসি থেমে গেছে কিন্তু ইতি বিথী নীধি হেঁসেই যাচ্ছে,পেটে হাত চেপে হাসছে,আলবান প্রচুর রাগ দেখিয়ে বলে,,,,

__থামবি তোরা।
থেমে যায় তিনজনেই হাসি। তবুও মুখে ওরনা চেপে হাসে,
সবাই বেড়িয়ে পড়লো আর্দ্র মাথাটা নিচুই রেখেছে। আর্দ্রের কাছাকাছি এসে নীধি বলে,,,
__পাদরো ভাই, আপনার জাঙ্গিয়ার কালারটা খুব ভালো লাগছে, আসলে আমার কালো কালার খুব পছন্দ তো তাই আর কি।
এই কথা বলেই দৌড়ে চলে যায় ইতির কাছে। আর্দ্র বেচারার ইচ্ছে করছে এখানে থেকে হাওয়া হয়ে উড়ে যেতে,এতটাই লজ্জা পেল। পরক্ষণেই মনে মনে আওরাল,,,
__ভাগ্যিস জাঙ্গিয়াটা ছিলো,না হলে যে আজ কি হতো, অসংখ্য ধন্যবাদ তোকে জাঙ্গিয়া।

৩০ মিনিট জার্নির পর তাদের গাড়ি এসে থামলো রমনা পার্কে । পার্কটি অনেক বিখ্যাত ইতি বিথী নীধির কখনো এমন পার্কে আসা হয়নি।গাড়ি থেকে নেমে তিনজনেই হা হয়ে দেখছে। বিশাল বড় মাঠ,গাছ পালা,রং বেরঙের ফুল একদম শান্ত ও মনোরম জায়গা।সারি সারি বসার জায়গা,।
আর্দ্রের গলায় DSLR ক্যামেরা সেটি দিয়ে ছবি তুলছে,আলবানের এখানে আসার দুটো কারণ প্রথমত সবাইকে জায়গাটি দেখানো, দ্বিতীয়ত তার ছোট বেলার এক বন্ধু সাথে দেখা করা।আরো একটি কারণ আছে।
নিঝুম আলবানের পাশাপাশি হাঁটছে, কিন্তু নিঝুম আলবানের সাথে হনহনিয়ে হাঁটতেই পাচ্ছে না।কতো বার যে পড়ে যেতে ধরেও মনে হলো এই বুঝি আলবান ভাই তাকে ধরলো কিন্তু তেমন কিছুই হলো না। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আলবানের পিছু হাঁটা ছেঁড়ে দিয়ে আলোকছটাদের সাথে হাঁটতে শুরু করলো।

সবাই সবার মতো করে এদিক ওদিক দেখতে দেখতে হাঁটতে। হঠাৎ বিথীর চোখ আঁটকে যায় দুরে এক প্রেমিক প্রেমিকার দিকে কি সুন্দর দেখতে লাগছে, দুজনেই কাপল ড্রেস পড়ছে,ছেলেটা মেয়েটার হাত ধরে আছে, বিথী কাছে অসম্ভব সুন্দর লাগছে, ছেলেটা মেয়েটার চুল আলতো করে টানছে আবার মেয়েটাও ছেলেটা নাক আলতো করে টানছে তারপর দুজনেই হাসছে। তাদের হাঁসি দেখে বিথী ও হাসলো বিথী মনে মনে ভাবলো,,,
__এতক্ষণ যদি মুহিন আমার চুল আর আমি ওর নাক টানতাম তাহলে নির্ঘাত বিশ্বের তৃতীয় যুদ্ধ লেগে যেতো।আর এদিকে এই প্রেমিক প্রেমিকার কি নাটক বাবারে বাবা।হায় আল্লাহ আমরা তিন বোন আর কতদিন সিঙ্গেল থাকবো,এবার তো মুখ তুলে চাও নাকি।
এসব ভাবতে ভাবতেই যেতে লাগলো বিথী, হঠাৎ কোন একটা শক্তপোক্ত শরীরের সাথে ধাক্কা খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে গেল বিথী। বিথী দাঁতে ও নাকে একটু ব্যাথা পেল, কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটি পুরুষালী কণ্ঠ বলে উঠলো,,,

__মিস আপনি কি উঠতে পারবেন,না মানে উঠতে পারলে আমি দৌড় দিতাম আর কি।
বিথী তার কথায় প্রতুত্তর না করে, চোখের সামনে দেখতে পেল সাদা কিছু একটা দাঁতের মতো চিকচিক করছে।ওটাকে দেখে বিথী আস্তে আস্তে উঠে ঠোঁটে হাত দিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে কেঁদে বলে,,,,
__ও আল্লাহ গো , আমার দাঁত গেলো গো,এখন আমার কি হবে গো। আমার সামনের দাঁতটা শেষ গো।আমার এখন বিয়ে হবে কি ভাবে গো,কে আমাকে বিয়ে করবে গো।
বিথী কান্নার আওয়াজ কানে আসতেই ইতি,নীধি হকচকিয়ে ওঠে,এবং দৌড় দেয় বিথী দিকে। বিথী কাছে এসে নীধি বলে,,,

___ক কিইই হয়েছে বিথী,এভাবে বসে আসিছ কেন?
বিথী আরো জোরে কাঁদতে কাঁদতে বলে,,,
__এই লোকটা আমার সব শেষ করে দিলো রে।
ইতি লোকটার দিকে তাকিয়ে বলে,,,
__এই অসভ্য ভদ্র লোক কি করেছেন। আমার বোনের সাথে, নিশ্চিত ছিনতাইকারি আপনি,দাড়ান আপনার ব্যবস্থা করছি।
লোকটি তখন থেকে শুধু মিস আমা…. ,এই কথাটাই বলছে কিন্তু পারের ওয়ার্ড গুলো আর বলতে পারছে না, কারণ ইতি নীধি দুজনেই একসাথে যা ইচ্ছা তাই বলেই যাচ্ছে লোকটিকে। দুজনে একসাথে কথা বলায় কারো কথাই ঠিকঠাক ভাবে বুঝতেও পারছে না লোকটা, একটু বিরক্তি হয়ে লোকটি বলে,,,
__উফফফ একজন একজন করে কথা বলুন, দুজনের কথাই তো তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে।কারো কথা বুঝতে পারছি না।
ইতি নীধি কে বলে,,

__নীধি তুই বল।
__না তুই বল আমি অনেক বলে ফেলছি??
__তুই বল??
__আরে তুই বল??
__তুই ব….
বিথী চিৎকার করে বলে,,,
__বলদি রা ,ওই চেংড়ায় আমার সামনের দাঁত ভাইঙ্গগা দিছে।এখন আমার বিয়ে কেমনে হবে।
ইতি নিধী দুইজনেই বলে,,,
__কিইইইইইইইইইইইইইইই??
লোকটা এবার রাস্তায় পরে থাকা সাদা চকচকে জিনিসটা হাতে তুলে নিয়ে এপাস ওপাস উল্টে পাল্টে দেখে বলে,,,,
__মিস এটাতো ভারি চুইংগাম?
ইতি বলে,,,

__দেখি??
লোকটি দেয় ইতিকে,ইতি দেখে এটা ট্রাইডেন্ট সাদা চুইংগাম কেউ হয়তো না খেয়ে ফেলে দিসে।ইতি বিথীকে বলে,,,
__বলদি এটা চুইংগাম তোর দাঁত না??
বিথী এবার নিজের হাত দিয়ে দাঁত নেড়ে দেখে সব দাঁতই ঠিক আছে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে চোখ মুখ মুছে,বসা উঠে দাঁড়িয়ে বলে,,
__জানিস এ তো আমার দাঁত চান্দের আলোর মতো উজ্জ্বল,তাই এটাকে মনে করেছিলাম আমার দাঁত।
বিথী এবার লোকটার দিকে তাকিয়ে বলে,,,
__ওই অসভ্য ভদ্র লোক আমাকে ধাক্কা মারলেন কেন।
__মিস আপনি তো না দেখে হাঁটছিলেন।
__যখন দেখছেনই যে একটা মেয়ে না দেখে হাঁটছে,তখন আপনার সরে গিয়ে তাকে রাস্তা করে দিয়ে সম্মান দেখানো উচিত ছিল।

__এভাবেও সম্মান করে নাকি মেয়েদের?
__জানেন না জানবেন কেমনে?আপনি তো অসভ্য ভদ্র লোক।
__আচ্ছ মিস, অসভ্য ভদ্র লোক এটার মানে কি??
__আমার বাবা বলেছেন মানুষের সাথে ভালো খারাপ দুই ভাবেই কথা বলা উচিত তাই মানবতার শিক্ষা দেখিয়ে ভালো খারাপ দুটো নামই বলছি।
__ওহহহহহহ , নারীরা আসলেই মানবতার প্রতিক?? রিয়েলি আই এম ইম্প্রেসিভ।
__হু হু যান যান ক্ষমা করে দিলাম।
লোকটা হা হয়ে বিথীর দিকে তাকিয়ে থাকে, লোকটি মনে করার চেষ্টা করে সে কি আদৌ সরি বলেছে,নাহ সে তো সরি বলে নাই।
নীতি বিথীর পিঠে একটা থাপ্পড় মেরে বলে,,,

__বলদি রে উনি তোরে সরি বলে নাই।
__তাহলে ইংরেজিতে কি বললো।
__তুই ভালো করেই জানিস আমি ইংরেজির কিছুই পাই না?
বিথী এবার ইতি কে বলে,,,
__ওই ইতি লোকটা ইংরেজিতে কি বললো রে?
ইতি একটু ভাব নিয়ে বলে,,
__আরে বুঝিস না, ধন্যবাদ বলছে ।
__আমি তাহলে ওয়েলকাম বলি নাকি?
__বল?
বিথী গলা খাঁকারি দিয়ে লোকটাকে বলে,,,

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ২

__ওয়েলকাম আপনাকে।
লোকটি এবার তাজ্জব বনে চলে যায়, অবাকের চরম পর্যায়ে,লোকটি বলে,,,
__আমি কি ধন্যবাদ দিসি??
__আরে তখন তো ইংরেজি কি জানি বললেন?আপনি আবার এডভান্স মানুষ তাই ডিজিটাল ভাবে হয়তো ধন্যবাদ বলেছেন, প্যানিক নিবেন না,আমরা তিন বোন সবই বুঝে যাই। যদিও ইংরেজিটা কম বুঝি।
লোকটি মাথায় যেন আসমান ভেঙ্গে পড়লো,বাপের জন্মেও শুনে নাই ডিজিটাল ভাবেও ধন্যবাদ দেওয়া যায়। লোকটি যা বুঝার বুঝে গেল,তিনি আর কথা বাড়ালেন না।

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৪