Home তিন তরঙ্গের আলোকছটা তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৭

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৭

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৭
রাফিয়া জান্নাত রিফা

ডিনার টেবিলে খাওয়ার জন্য সবাই বসে শুধু মুহিন নেই। মুহিন অনুপস্থিত দেখে নাফিস তালুকদার মিলি বেগম কে বলেন,,,
__মুহিন কোথায়??
ব্যাস মিলি বেগম নিজের টেপ রেকর্ডার চালু করলেন।
__আপনার ছেলে আপনি বুঝুন?ও যদি ছেলে না হয়ে মেয়ে হতো তাহলে বেশ খুশি হতাম । কিন্তু আমার তো কপালের দোষ,ঠকঠকা কপালে কি আর ঘি জমে।ওই ছেলে তো সারাদিন ফোন নিয়ে পড়ে থাকে।আমি তো নিশ্চিত ফোনে হাজার খানা মেয়ের সাথে ওর ইটিস পিটিস চলে।এই তো ক দিন আগে দেখলাম বিছানায় শুয়ে কোল বালিশের সাথে পাচরা পাচরি করছে আর হাসছে। আবার আজ বিকালে দেখলাম ফোনটাকে বুকের সাপ্টে ধরে আছে ফের মাথার চুল গুলো সমানে টানছে, দেখে মনে হলো পৃথিবীর সব দুঃখ যেন ওর গায়ে, পায়ে, মাথায়, মনে, ঢেলে দিয়েছে আল্লাহ।

__আহহ ওমন করে বলছো কেন?? ছেলের কাছে যাও, ভালো করে বেঝাও,হয়তো মন মেজাজ ভালো নেই।
__আপনার কি মনে হয়।আমি গিয়ে বলি নি ওকে। উল্টো আমাকেই মেজাজ দেখিয়েছে।
ইতি, বিথী, নীধি খাবার টেবিলে ভদ্র মেয়ে মতো বসে আছে আর বারবার আড়োচোখে তার মায়ের হাবভাব দেখছে, এখন তাদের ভয় একটাই যেহেতু ছোট মা মুহিনে ওপর চটেছেন তারমানে তাদের মায়ের তালিকায় ও তারা তিনজন আছে বর্তমানে,না জানি কখন তাদের মা ও এফ এম রেডিও চালু করে বসে তাদের নিয়ে।তার মায়ের ধারণা তাদের জন্যই নাকি মুহিনের আজ এ দশা।
সিদ্দিকী বেগম তার স্বামীর প্লেটে ভাত দিতে দিতে বলেন,,,

__ছোট চুপ কর এখন,আমি খাবার নিয়ে যাবো এলা মুহিনের কাছে। খাওয়ায় দিয়ে জিজ্ঞেস করবো কি হয়েছে ওর?? আমাকে অবশ্যই বলবে।
__ হ্যাঁ বুবু জান তুমিই দেখিও,ওই ছেলের জন্য আমায় পাবনা যেতে হবে দেখিও।
আলবান ভাতের পাতে তরকারি নিতে নিতে বলে,,,
__ ছোট মা তোমার পাবনা যাওয়ার আশংকা কম। কিন্তু মেজো মায়ের 100% এর মধ্যে 99%ই বলে যেতে হবেই পাবনা।
ব্যাস কাজ হয়ে গেলো, তিন আলোকছটারা যেটার ভয় পাচ্ছিল সেটাই হলো , শুরু হয়ে গেল তাদের মায়ের ননস্টপ এফ এম রেডিও,,,

__ হ্যাঁ আলবান আব্বা, ছোট তো একটাকে সামলাতে না পেরেই পাবনা যেতে চাচ্ছে,আর আমি তো এই তিনজনরে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছি, আমার হাড় মাস জ্বালিয়ে খাচ্ছে তিনটায়।কথা দিয়ে তো বাপের বেটী,কেউ পাবে কথায়,আমি এত নিজেকে মজমুত করি আর বলি যে এদের ভুংভাং কথায় ভুলবো না, কিন্তু কি থেকে যে কি হয়ে যায় আল্লাহ ভালো জানে। এদের কথার প্যচে জরিয়ে যাই আমি।
বিথীর ছিল ওর মায়ের হাতের কাছে সে জন্য বিথী বেশি ভয়ে ছিল, বিথী বারবার শুকানো ঢোক গিলছে,আর চেয়ারটাকে একটু তুলে ইতির কাছে নিয়ে আসছে।ওই যে কথায় আছে না যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়।সিদ্দিকা বেগম দিলেন ধুপ করে বিথীর পিটে একটা মাইর বসিয়ে। রাগ দেখিয়ে বললেন,,

__ চুপচাপ না খেয়ে এতো নড়াচড়া করছিস কেন?
বিথীর মুখটা একদম কালো ভোঁতা হয়ে গেল।বিথী তখন মুরগির লেগ পিসের মাংস দাঁত দিয়ে আলাদা করছিলো। পিটে মাইর দেওয়ার কারণে এখন মাংস তার মুখে কিন্তু হাড্ডি উড়ে চলে গেছে দির্শকের প্লেটে।দির্শক একবার হাড্ডিটাকে দেখলো আর একবার বিথী কে দেখলো কিন্তু কিছু বলল না। এখন যদি দির্শক কিছু বলে তাহলে নির্ঘাত সিদ্দিকী বেগমের আরো বকা খাবে বিথী,সেই জন্য দির্শক আর কিছু বললো না,আধো খাওয়া লেগ পিসটাকে প্লেটের একপাশে রেখে দিলো।
বিথী সবাই কে একবার দেখে নিল, এবিষয় কেউ খেয়াল করলো কিনা। কিন্তু না কেউ খেয়াল করে নাই,তাই আর কিছু না ভেবে আবার খাওয়া শুরু করলো।
তিন বোনেরই মানসম্মানের পুরো বারোটা বাজিয়ে দিল সিদ্দিকী বেগম।
আলোকছটাদের বাবা নাইম তালুকদার এবার রাগি চোখে তাকালেন সিদ্দিকী বেগমের পানে, মূহুর্তেই ভড়কে গিয়ে আর কোন কথা বললেন না সিদ্দিকী বেগম।
পিকি খেতে খেতে বলে,,,

__মেজো মা এভাবে সুইটিদের বকো না, ওদের মন খারাপ হলে আমি খুবই সেড হয়ে যাই।
__বাবা ওদের আমি সাদে বকি না, ওদের তুমি চিনো না।
নাঈম তালুকদার গম্ভীর কন্ঠে বলেন,,,
__আর একটা কথাও হবে না আমার আম্মাজানদের নিয়ে।
আলিফা বেগম বলেন,,,
__ আহহ মেজো মেয়ে গুলোকে খেতে দে। শান্তি করে খাক।
পরক্ষণে নাজিম তালুকদার বলেন,,,
__ আর কোন কথা নয়।বাড়ি প্রাণ ওরা তাই ওদেরকে ওদের মতো করে থাকতে দেও। আম্মাজানরা কখন কোন ভুল কাজ করতে পারেই না, কারণ ওরা বাবা,বড় বাবাদের আদর্শে বড় হচ্ছে।
দির্শকের দিকে তাকিয়ে নাজিম তালুকদার বলেন,,,

__ বাবা একদম নিজের বাড়ি মনে করে থাকবে। আম্মজানদের ভালো করে পড়াবে।কোন সমস্যা হলে নির্দ্বিধায় তোমার বড় মা, মেজো মা, ছোট মা এদের বলবে।
দির্শক মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সম্মতি জানায়।
তিনি এবার ইতি, বিথী, নীধিকে বলেন,,,
__আম্মাজান একদম পড়ালেখা নিয়ে কোন দুষ্টুমি না। আচ্ছা।
তিনজনই একসাথে বলে,,,
__আচ্ছা।

এরপর সবাই একদম নিশ্চুপ হয়ে খাবার খায়।
দির্শক তালুকদার বাড়িতেই থাকবে যদিও সে থাকতে নারাজ ছিল, কিন্তু সিদ্দিকী বেগম, নাইম তালুকদার ও আলবান এদের কথার জোরাজুরিতে রয়ে গেল।এখন নিয়মিত এই বাড়ি থেকে নিজ কর্মস্থলে যাবে ও তিন আলোকছটাদের পড়াবে।
দির্শকের জন্ম স্থান কৌটিল পারা কেরানি গঞ্জে।দির্শকের বাবা অনেক ছোট বেলায় মারা যান।তারপর থেকেই তার মা একটি খাবারের স্টোরে কাজ করে দির্শক কে পড়ালেখা করায়, মা নিজে কষ্ট করলেও দির্শককে কখনো কষ্ট কি তা বুঝতে দেন নি।

অতঃপর দির্শকের চাকরি হলে মাকে আর সেই দোকানে কাজ করতে দেয় না, এভাবেই বেশ ভালোই চলছিলো তাদের মা ছেলের জীবন। কিন্তু তিন মাস আগেই ঘটলো এক মর্মান্তিক ঘটনা এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার মা নিহত হলেন। মায়ের শেষ কার্য সম্পাদন করে গ্রাম থেকে চলে আসে ঢাকায় ।তারপর থেকেই মায়ের কথা মনে পড়লে গ্রামে গিয়ে মায়ের সমাধিতে অশ্রু বিসর্জন করে এক বুক হাহাকার নিয়ে আবার ফিরে আসে ইট পাথরের নির্জীব কঠিন মানুষের শহরে।
এ কথা গুলো সিদ্দিকী বেগম,আলিফা বেগম আলবানের কাছে থেকে শুনলে তাদের খুবই মায়া হয়। তাদের কথা অনুযায়ী আলবান দির্শক কে এ বাড়িতে নিয়ে আসে।
বেচারা দির্শকের প্লেটে বিথীর প্লেট থেকে উড়ে আসা হাড্ডিটাকে ফেলতেও পারছে না এটাকে নিয়ে কি করবে বুঝতেও পারছে না, হাড্ডির একপাশের মাংস খেয়েছে বিথী অন্যপাশে মাংস এখনো আছে, এজন্য সিদ্দিকী বেগম দির্শকের প্লেটে থাকা লেগ পিসটাকে দির্শকের মনে করে বারবার বলছে,,,

__ বাবা লেগ পিসটা খাও।
এই বলে আরো একটা লেগ পিস দির্শকের প্লেটে দিল।
আলিফা বেগম দির্শককে মাথায় হাত রেখে বুলিয়ে দিতে দিতে বলেন,,
__ কি হয়েছে বাবা, খাচ্ছো না কেন,রান্না মন মতো হয় নি।
__ এভাবে বলবেন না বড় মা, রান্না অনেক সুন্দর হয়েছে।একদম আমার মায়ের রান্নার মতো।
__ তাহলে পুরো খাবার শেষ করে উঠবে‌।আর একদম আমাকে বড় মা বলবে না, আর্দ্র যেমন আমাকে মা বলে তুমি ও তেমন আমাকে মা বলে ডাকবে ,মনে থাকে যেন।
দির্শকের খুবই ভালো লাগলো আলিফা বেগমের কথা গুলো,মা না থাকার হাহাকার করা শুন্যতা হঠাৎ এ মিলিয়ে গেল,মনে হলো তার মা আবার ফিরে এসেছে,তাই আর সময় বিলম্ব না করে দির্শক বললো,,,

__ আচ্ছা মা।
সিদ্দিকী বেগম বলেন,,
__ এই মাকে পেয়ে,আবার যেন আমাকে ভুলে না যাও।
__ না মেজো মা ভুলবো না।
কি করবে না করবে আর ভাবলো না দির্শক পরিশেষে বিথীর এঁটো লেগ পিসটাকে খেয়েই নিলো। বিথী ভাত ধীর গতিতে চিবোতে চিবোতে দেখলো তার এঁটো লেগ পিসটা দির্শকের খাওয়া। অসহায় কন্ঠ নিয়ে মনে মনে আওরালো,,

__ কত সপ্ন ছিল রে, নিজের এঁটো খাবার আগে জামাইকে খাওয়াবো,জামাই খাইতে না চাইলে ধরে বেঁধে ঝগরা করে খাওয়াবো,পরে গাল ফুলিয়ে শুয়ে থাকবো বিছানায়,পরে জামাই যদি আমার রাগ ভাঙ্গাতে আসে তখন স্টার জলসার নাটকের মতো জামাইয়ের মুখে বালিশ ছুঁড়ে মেরে রাগ দেখিয়ে বলবো।”জামাই তুমি আজ মেঝেতে শুবে”।ইসস সব শেষ রে,তার আগেই অন্য কেউ আমার এঁটো খেয়ে নিল।
_যাইহোক স্যারকে একসময় বলবো এলা আমার এঁটো খেয়ে কেমন লাগলো বা কি ফিল হলো, নিশ্চয়ই অন্যরকম মজাদার স্বাদ ছিল।
এদিকে নিঝুম খাবার খাচ্ছে আর টেবিলের নিচ দিয়ে আলবানের পায়ে নিজের পা দিয়ে খোঁচা দিচ্ছে। আলবানের মনে করছে এটা ইতির কাজ তাই সে বড় বড় চোখ করে ইতিকে চোখ রাঙাচ্ছে এবং ইশারা ইঙ্গিতে পা সরাতে বলছে।
ইতি চোখ মুখ কুঁচকে ফেলছে,অযাথ বোঝার চেষ্টা করছে আলবানে এমন ইশারা ও চোখ রাঙানোর কারণ কিন্তু বুঝলো পুরোপুরি উল্টোটা, ভয়ে খাবারের প্লেটে দিকে বড় বড় চোখ দিয়ে মনে মনে বললো,,,

__ দাবানল ভাই ইশারা ইঙ্গিতে আমাকে ইয়ে করার জন্য ডাকছে নাকি,না মানে মুভিতে দেখেছি নায়কের যখন কিস করার পিনিক ওঠে,তখন এমন ইশারা করে ডাকে, নায়িকা না আসলে আবার বড় বড় চোখ করে ভয় ও দেখায়।এ আল্লাহ দাবানল ভাইরে আবার ভুতে আঁচড় করলো না তো। আল্লাহ আমি নিষ্পাপ ফুল আমাকে বাঁচাও।
বড় মাকে কতবার বলছি যে দামড়া ছেলেটার বিয়ে দেও। কিন্তু কে শুনে কার কথা।
আলবান মাথাটা হালকা নিচু করে টেবিলের নিচে দেখলো ওটা নিঝুমের পা, মূহুর্তেই রাগ আরো বেড়ে গেল,রাগি কন্ঠে নিঝুমকে বললো,,

__ইডিয়েট পা সরা।
নিঝুম হকচকিয়ে ওঠলো লজ্জা ভয়ে চোখ খাবারের প্লেটে নিবব্দ করে বলল,,
__ সরি ভাইয়া, ভুলে লেগে গেছে।
এখনি ব্যাপার খানা ক্লিয়ার হলো ইতির কাছে, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আবার খাবার খাওয়ায় মনোযোগ দিল ও বিরবির করে বললো,,
__ এই মেয়ের বিয়ে দেওয়া জরুরি,নাহয় দুদিন পর দাবানল ভাইয়ের বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়বে, সকাল হলেই বলবে “সরি ভাইয়া ভুলে চলে এসেছি”।কি কুরকুরি মাইরি।
ব্যঙ্গ করে কথাটা বললো

ইতি, বিথী, নীধি এখন চুপি চুপি পায়ে মুহিনের রুমে ঢুকছে। মুহিনের রহস্যটা ভেদ করা খুবই জরুরি।তিন জনেই রুমে ঢুকে দেখে মুহিন নেই।তাই বেলকনিতে গেল মুহিনের খোঁজে।
বেলকোনির রেলিংয়ের গাঁ ঘেঁষে বসে আছে মুহিন, হাঁটুর ভাঁজে মুখ গুঁজে আছে। বারবার মুখ তুলে ফোনে কি যেন দেখছে, আবার হিচকি তুলে তুলে মেয়েদের মতো কাঁদছে, পাশেই একটা টিস্যু বক্স আর দু’টো টিস্যুই অবশিষ্ট আছে, বেলকনির চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মোচড়ানো টিস্যু পেপার।একখান টিস্যু নিয়ে চোখের পানি মুছলো মুহিন , নাকের সর্দি গুলো ও মুছে নিল।

__ ওহহ আল্লাহ আমার এত কষ্ট তুমি কেন দিলা। জানোই তো আমি বিড়ি,গান্জা খেতে পাবো না তাও কেন দিলে।
তিন বোনেই পেছন থেকে হা হয়ে মুহিনের এমন অবস্থা দেখলো ,আবাক হয়ে তিন জনেই তিন জনের সাথে চাওয়া চাওয়ি করলো।
বিথী মুহিনের কাছে গিয়ে ব্যঙ্গ কান্না মিশ্রিত কন্ঠে বলে,,,
__ মুহিন রে ফোন টা দে।
মুহিন মুখ তুলে তাকালো বিথীর দিকে চোখের পানি মুছে বলল,,
__ ফোন নিয়ে কি করবি।
ইতি বলে,,,
__ স্যাড গান ছাড়বো।
নিধি ব্যঙ্গ কান্না করে বলে,,
__ ভাই কষ্টে আমার গ্যাসট্রিকের সমস্যা হচ্ছে। ফোনে স্যাড গান ছাড় নাহলে আমার গ্যাসের গন্ধে থাকতে পারবি না এখানে।তার উপর এমনিতেই আজ মা মুলার তরকারি রান্না করছে।
মুহিন ফোনটা দিলো ইতিকে।ইতি ইউটিউব এ গিয়ে মিথ্যা ব্যঙ্গ কান্না করে ভয়েস এ বললো,,,
__ স্যাড সং।
কিন্তু ভয়েস শুনেছে “সানি লিওন” সে অনুযায়ী গান ও আসলো।ইতি না বুঝেই গান ছাড়লো,,

Aa ha…..
All night long tujhe dekhte hain saare saare
All night long tujhe dekhte hain saare
Koi seeti maare, toh koi akh maare
Koi bole kone mein chal
Koi bole mere ghar aana
Koi bole lets do it here
Ik se ik tera deewana.

শুধু Aa ha শব্দ শুনেই বিথীর মনে হলো এটা হয়তো কষ্ট গান তাই বিথী বেশ শব্দ করে কান্না করা শুরু করলো যদি সত্যিকার অর্থের কান্না না।নিধি ও কান্না করার জন্য নিজেকে রেডি করলো। মুহিন তো কান্নাই করছেই।
পরক্ষণে যখনি শুনলো এটা সানি লিওনের গান তখনি চারজনের চোখই বড় বড় হয়ে গেল। বিথী চোখ পাকালো ইতিকে।ইতি বলল,,
__ সরি গাইস।আমি এক্ষুনি গান চেঞ্জ করছি।
এই বলে ফোন ঘাটতে লাগলো, এবার বাংলা গান সার্চ করলো। হঠাৎ একটি ওফ করা ভিডিওর ছবি চোখে পড়লো ইতির ছবিটিতে একটা ছেলে হাতে মদের বোতল নিয়ে টলছে। বিথী ভাবলো এটাই হয়তো স্যাড সং তাই গানটা ওন করলো ,,,,

আমার মনটা যে আজ এলোমেলো কি করি বলোনা
চারি পাশে দেখি কত রূপসী ললনা
ওদের মাঝে পাইনা খুঁজে
আমার প্রিয়ার মুখ খানি..
একটু হালকা মেরেছি ভাই.লাল পানি
একটু হালকা মেরেছি ভাই.লালপানি।
গান টা ইতি বিথী নীধির খুব ভালো লাগেছে,তাই সব কিছু ভুলে গানের তালে তালে নাচা শুরু করে দিল।
মুহিন চিৎকার করে বলে উঠলো,,,,

__ তোরা যাবি এখান থেকে। কষ্টে আমার বুক ফেটে যাচ্ছে।
নাচ থামিয়ে দিলো তিন বোনেই,ইতি গানটাকে ওফ করলো। তারপর তিনজনই মুহিনের গা ঘেঁষে বসে পড়লো।
নরম সুরে সিরিয়ার ভঙ্গিতে ইতি বলে,,
__ কি হয়েছে ভাই তোর?
বিথী বলে,,
__ ইদানিং আমাদের কাছ থেকে সব লুকিয়ে যাচ্ছিস।
নিধি বলে,,,
__ সোনা ভাইটি আমার বল না কি হয়েছে তোর?
মুহিনের সব কান্না এবার বাঁধ ভেঙে এলো। কান্নাকে সংযত রেখে মুহিন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব বললো তিন আলোকছটাদের।
তিন জনেই মনোযোগ সহকারে সব কথা শুনলো কিন্তু এখন তাদের অবস্থা খারাপ হাসতে হাসতে। নিধি মুহিনের কাঁধে মাথা রেখে হাত পা ছেড়ে দিয়ে জোরে জোরে হাসছে।
ইতি তো হাসতে হাসতে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েছে।গা ছাড়া ভাব নিয়ে,শরীরে যেন কোন শক্তিই নেই।
বিথীর ও একই অবস্থা, বিথী হাসতে হাসতেই মুহিন কে বলল,,

__ তুই একমাত্র বফ যে কিনা গফ কে তারা গিফ্ট করতে চাইস।ওরে ইতি, নিধি আমারে বাঁচা,আমি হাসতে হাসতে মরে যাচ্ছি।
নিধি ও অট্টহাসি দিয়ে বলে,,,
__ শেষে পটেটো ভাই। ওহহ আল্লাহ বাঁচাও, তুই কি রে মুহিন।
ইতি ও জোরে জোরে অট্টহাসি দিয়ে বলে,,
__ ১৫- ২০ বাচ্চা কেমন হয়। তোদের সংসারের গল্প শুনে আমি গর্ভবতী।
সে সময় ঘরে প্রবেশ করল সিদ্দিকী বেগম হাতে খাবারের প্লেট নিয়ে।
তিন আলোকছটাদের এমন অবস্থা দেখে বলে,,
__ ওকি ওমন লুটিয়ে পড়ে আছিস কেন,এত জোরে জোরে কেউ হাসে।
তাও হাসি থামার কোন নামই নিচ্ছে না।
এবার রাগ দেখিয়ে সিদ্দিকী বেগম বলেন,,,
__ খুন্তি পজিশন কিন্তু রেডি আছে। কথার সাথে উঠে ঘরে গিয়ে পড়তে বস।
এ কথা শুনার সাথে সাথে তিন বোনেই তড়িৎ বেগে উঠে দাঁড়ালো। ওড়না দিয়ে মুখ চেপে হাসতে হাসতে রুম থেকে বেড়িয়ে গেল।
নিজেদের ঘরে এসে অনেক কষ্টে নিজের হাসিকে থামালো। বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো।
ইতি কিছু একটা ভেবে বলে,,,

__ আমাকে আলবান ভাইয়ের রুমে যেতে হবে।
নিধি বলে,,
__ কেন?
__ আরে তখন বললাম না বাক্সটার কথা ওটার জন্যই।
নিধি বলে,,
__ ওহহ।
বিথী বলে,,,
__ আমাকেও একটু দু্ষ্শমন স্যারের কাছে যেতে হবে।
ইতি বলে,,
__ কেন??
__ স্যার আমার এঁটো খাবার খেয়েছে, এখন এঁটো খাবার
খেয়ে ফিলিংস কেমন হলো এটাই জানতে।
নিধি ও একটা শ্বাস ফেলে বলে,,,
__ আমিও তাহলে পাদরো ভাইয়ের কাছে যাই।
বিথী বলে,,,
__ তুই আবার কেন যাবি।
আলসে ভাব নিয়ে রসিকতার স্বরেই নিধি বলে,,

__ সেদিনে ওনার পড়নে কালো জাঙ্গিয়াটা দেখলাম।কাপড়টা খুবই সফট ও আরামদায়ক মনে হলো,আর কালো রংটাকেও অনেক ইউনিক দেখলাম। জাঙ্গিয়ার কাপড়টা ও কালারটা খুব পছন্দ হয়েছে আমার। এখন ওনার কাছে গিয়ে কাপড়ে বর্ননাটা নিবো ও জাঙ্গিয়া থেকে এক টুকরো কাপড় নিবো। তারপর বাজার থেকে সেই কাপড় কিনে জামা তৈরি করবো।
পাদরো ভাই পড়বে কালো জাঙ্গিয়া আর আমি পড়বো ওনার জাঙ্গিয়ার মতোই একই কাপড় ও একই রংয়ের কালো জামা,ব্যাস হয়ে গেল কাঁপল ড্রেস ও ম্যাচিং ম্যাচিং। দুজনকে বেশ মানাবে বল।
ইতি বিথী দুজনেই বেশ অবাক।হা হয়ে শুনলো নিধির কথা।
বিথী হাতে তালি দেয় আর বলে,,

__ বাহ বাহ আমরা এখনো কোন গোলামের পুতরে জুটাইতেই পারলাম না, তাতেই এ চেংরি জাঙ্গিয়ার সাথে জামা মেচিং করে মডেলিং করবে বলে প্লান করে বসে আছে।
ইতি বলে,,
__ এ্যাঁ ছ্যাঁ ছ্যাঁ কি ভাবনা,থু থু। শেষে কিনা জাঙ্গিয়া দিয়ে মডেলিং। ডিজিটাল যুগ বলে কথা হতেও পারে।
ইতি আবার উপরের দিকে মাথা তুলে কি যেন ভেবে চিন্তিত স্বরে বলে,,
__ আচ্ছা দাবালন ভাইকে জাঙ্গিয়া পড়লে কেমন লাগবে বলতো।
কিছুক্ষণ পর ইতি আবার বলে,,,

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৬

__ সেদিন টাওয়াল তো খুলে দিয়েছিলাম তার মানে….
আবার হঠাৎ এ কি হলো জানি।গা কিলবিল করে নাড়াতে নাড়াতে বললো,,
__ এ্যাঁ ছ্যাঁ ছ্যাঁ কি ভাবছি থু থু।সি নিধি তুই আমার রুচিটাই খারাপ করে দিলে।উুয়াক থু।সিইইইইই

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৮