Home তুই আমার বিশ্বাস ছিলি তুই আমার বিশ্বাস ছিলি গল্পের লিংক || জান্নাতি আক্তার জারা

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি গল্পের লিংক || জান্নাতি আক্তার জারা

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ১
জান্নাতি আক্তার জারা

_” মা! মা…তোমার গুনোবতী মেয়ে কি ঘুম থেকে উঠে পড়েছে? নাকি তাকে থাপ্পড় দিয়ে ওঠাতে হবে?
দুতালা সিড়ি দিয়ে নিচে নামতে নামতে কথাটা বলল #আরিয়ান_তালুকদার_আনাস। একিবারে ফ্রেশ হয়ে অফিসের জন্য রেডি হয়ে নিচে নামলো আনাস।
পড়নে তার সাদা শার্ট। শার্টের সঙ্গে ইন করা কালো প্যান্ট। শার্টের হাতা কনুই অব্দি গোটানো।বুকের সামনে দুটো বোতাম খুলে রাখার কারণে বুকের ফর্সা ত্বকে যেন সাদা মুক্তার আভা খেলা করছে । বাম হাতে রোলেক্স ঘড়ি। পায়ে সু, মাথার চুলগুলো জেল দিয়ে পরিপাটি করা। উচ্চতায় পাঁচ ফুট সাত হবে।
টেবিলে আনাস সের জন্য নাস্তা প্লেটে রাখতে রাখতে জবাব দিলেন আদিবা তালুকদার।

__” তালুকদারের মেয়ে বাড়িতে থাকলে তো থাপ্পড়াবি। তাকে তো তার প্রানপ্রিয় জান সেই সকাল ৭টার দিকে এসে নিয়ে গে….
__”কাকীমনি তুমি কিন্তু মন্দ বলো নাই!
আদিবা তালুকদার নিজের কথাটা শেষ করার আগেই খাবার টেবিলে এক কোনে নিজের নাস্তা শেষ করতে করতে বলে উঠলো #আদিয়ান_তালুকদার_আহিন।
ছেলেটার বয়স কত বা হবে। এই তো জানুয়ারি ২১তারিখে ১৩ তে পা দিলো, দেখতে মাশাল্লাহ। তবে তার ভাষ্য মতো বড়ো দের কথার মধ্যে তার কথা বলা জন্মগত অধিকার। বর্তমান সে তার দায়িত্ব পালন করতে ব্যস্ত। আদিবা তালুকদার বললেন,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

__” আমি আবার কি বললাম আহিন বাবা?
আহিন বললো,
__” কাকীমনি তুমি আপুকে বললে না? তালুকদারের মেয়ে আমি ওইটার কথায় বললাম। আপু তো তালুকদারের মেয়েই যেমন ধরো। আহসান তালুকদার এই বাড়ির মালিক অর্থাৎ আমার দাদাভাই। সে এখন তার বউকে নিয়ে পেঁয়াজ খ্যাতে মুলা তুলতে ব্যস্ত (মৃত্যু)
আহিন শেষের কথাটা বলে দুষ্টু হেসে পুনরায় বলতে শুরু করল,
__” তার দুইছেলে এক মেয়ে। বড়ো ছেলে নাম আদনান তালুকদার। ছোট্ট ছেলের নাম আহাদ তালুকদার। আর মেয়ের নাম আনহা তালুকদার! যদিও বিয়ের পর তালুকদার থেকে শেখ হয়ছে।
আদনান তালুকদারের দুইমাএ ছেলে। বড়ো ছেলের নাম #আজান_তালুকদার_তাকবীর। আর ছোট ছেলে অর্থাৎ, মেরা নাম তো সোনাই হুগা আপলোক।
একটু ভাব নিয়ে,

__” আদিয়ান তালুকদার আহিন।
আর রইলো রাহাদ তালুকদারের ছেলে মেয়ের কথা!
আহিন ওর কাকিমনিকে সিঁড়ির দিকে হাতের ইশারায় দেখিয়ে বলল,
__” ওই যে দেখো কাকিমনি। একটা হিরো কে আসতে দেখছো না?
আদিবা তালুকদার মাথা নেড়ে হ্যাঁ বোঝালো দেখছে।
আহিন ওর কাকিমনির মুখের দিকে তাকিয়ে পুনরায় বলল,
__” এটা কে জানো! আমার চাচাতো বড়ো ভাই, যে কিনা পড়াশোনা শেষ করে নিজের বাবা বড়োআব্বুর অফিস জয়েন করেছে। মিস্টার আরিয়ান তালুকদার আনাস। তার একমাত্র বোন #আরিবা_তালুকদার_ আরাত। যাকে তুমি কিছুক্ষণ আগে তালুকদারের মেয়ে বলে সম্বোধন করলে! এবার বলো আরাত আপু তালুকদারের মেয়ে হইলো কি না?
আহিনের এতবড়ো যুক্তি শুনে, আদিবা তালুকদার বেকুব বুনে দাড়িয়ে রইলো।

__” চুপ করো বেয়াদব ছেলে, শুধু শুধু কাকিমনি কে জ্বালাচ্ছো কেনো?
রাবেয়া তালুকদার কিচেন রুম থেকে বের হয়ে ডাইনিং টেবিলে দিকে আসতে আসতে আহিন কে ধমকে উঠলেন। আহিন খাবার খেতে খেতে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো।
__” আমি আবার কি বললাম রে বাবা? আমি তো শুধু কাকিমনি কে কথাটা বুঝিয়ে বলতেছি।
আনাস চেয়ার টেনে নিয়ে বসতে বসতে। আহিনের মাথায় গুট্র মেরে আহিন কে উদ্দেশ্য করে বলল,
__” হয়ছে বুদ্ধিজীবির ভান্ডার। আপনাকে আর বুঝাতে হবে না।
আনাস কথাটা বলতে বলতে খাওয়া শুরু করলো। আহিন আনাস সের দিকে তাকিয়ে মুখ বাঁকিয়ে পুনরায় খেতে লাগলো। আনাস খেতে খেতে আদিবা তালুকদার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,
__” আরাত এত সকালে বাড়িতে নেই মানে! কই গিয়েছে?
আদিবা তালুকদার কিছু বলবে তার আগেই মেইন গেট থেকে কারো কণ্ঠস্বর ভেসে এলো। সবাই কন্ঠের মালিক কে অনুসরন করে দরজার দিকে তাকিয়ে আলভী কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে পেলো। আহিনের সমবয়সী ছেলেটা এক স্কুলে পড়ে দুজন। বলতে গেলে দুজন দুজনের জান।

__”ভাইয়া আমি বলছি!
আলভী ডাইনিং টেবিলে দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলল,
__” শাকচুন্নি আর মায়াবতী। ওরা দুজন কাকিমনির চোখ ফাঁকি দিয়ে মায়াবতীর স্কুটি নিয়ে লং ড্রাইভে বের হয়েছে। আমি রাতে যখন চুপিচুপি মায়াবতীকে দেখতে বেলকনিতে গিয়েছিলাম। তখন ওদের দুজনের কথাগুলো আমি আড়ি পেতে শুনছিলাম।
আলভীর কথায় সবাই অবাক চোখে তাকালো আলভী দিকে। আহিন তো অবাক হয়ে বলেই উঠলো।
__” ছি ছি আলভী! বড়োদের কথা তুই আমাকে রেখে একা একা আড়ি পেতে শুনছিস । আমি না তোর বেস্ট ফ্রেন্ড এই তোর বন্ধুত্ব। যা তোর সঙ্গে আজ থেকে আমার কথা নেই।
আহিন মুখ গুমরা করলো। পরমুহূর্তে কিছু একটা মনে পড়তেই পুনরায় নিজে থেকে বলে উঠলো,
__”এক মিনিট এক মিনিট তুই মায়াবতীকে দেখতে গিয়েছিলিস মানে! তোর মায়াবতী মানে তো আরাত আপুর কথা বলছিস তাইনা?

__” হ্যাঁ সেই তো আমার মায়াবতী।
আলভী লজ্জামিশ্রণ হেসে কথাটা বলতেই। আনাস বিরক্ত হয়ে আলভী কে বলল
__” স্যার আপনি তো দেখছি সব জানেন। তাহলে আপনার মুল্যবান ঢংটা বাদ দিয়ে বলেন তো এবার রশ্মিরাত এত সকাল সকাল কই গিয়েছে ?
__” আসলে আনাস ভাইয়া। ওরা দুজন কই গিয়েছে এটা আমি বলতে পারবো না। জানোই তো আমার মায়াবতী কতটা চতুর। আমি যে গতকাল রাতে আমার মায়াবতীর আসেপাশে ছিলাম। এটা আমার মায়াবতীর হৃদয় বুঝতে পেয়েছিলো জানো!
আনাস বিরক্তি চোখে চেয়ে আছে। আলভী নিঃশ্বাস নিয়ে পুনরায় বলতে শুরু করল,

__ ” তারপর মায়াবতীর হৃদয় যখন বুঝতে পেয়েছিল। আমি দূর থেকে তার দিকে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে ছিলাম। ঠিক তখনই আমার চোখে মায়াবতীর চোখ আটকে গেল। আর সেই সময় হটাৎ সাইট থেকে একটা গান বেজে উঠলো। পড়েনা চোখের পলক, কী তোমার রুপের ঝলক।
আনাস আলভীর দিকে রাগী লুকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে সুর মিলিয়ে গেয়ে উঠলো,
__” দোহাই লাগে মুখটা তোর একটু বন্ধ কর। নয়তো থাপ্পর দিব জ্ঞান হারাবি । বাঁচাতে পাড়বে না কেউ।

__” সরি ভাইয়া। আসলে ঘুষ হিসেবে মায়াবতী আমাকে একটা উড়ন্ত চুমু দিয়েছিলো তো। এজন্য ওরা দুজন লং ড্রাইভ গিয়েছে এটা বললাম। কিন্তু কই গিয়েছে এটা বলতে পারবো না।
আলভী কথাটা বলতেই যখন বুঝতে পারলো মুখ ফসকে সত্যিটা বলে ফেলছে। সঙ্গে সঙ্গে হাত দিয়ে নিজের মুখ চেপে ধরলো। এখন যে তার মায়াবতীর চুমুর ওয়াদা ভঙ্গ হয়ে গেলো কী হবে এখন। আলভীর মুখ দেখে সবাই হেঁসে উঠলো। আর আনাস বিরবির করে আলভীকে ব’লদ বলে নিজের খাওয়ায় মনোযোগী হয়ে গেলো। আহিন কিছু বলতে নিবে ঠিক তখনই আদিবা তালুকদার উচ্চ গলায় রাবেয়া তালুকদারের দিকে তাকিয়ে বললেন
__ এই মেয়ে দুটো কে নিয়ে কি করবো বলেন তো ভাবি! এতো সকাল বেলা স্কুটি নিয়ে বের হয়ছে। আমার তো টেনশনে মাথা ঘুরতাছে।

__” আহা ছোট্ট ওদের কে নিয়ে টেনশনের কি আছে। আরাত কে তুই চিনিস না। আরাত নিজের সঙ্গে তার প্রানপ্রিয় রশ্মিকেউ রাগলে রাখতে যানে।
__” আমি কখন বললাম! আমি ওদের দুজনকে নিয়ে টেনশন করতেছি। আমি তো টেনশন করতাছি যে রাস্তা দিয়ে ওরা স্কুটি চালাবে। ওই রাস্তার মানুষজন কে নিয়ে। না জানি কার কপাল পুরতে চলছে। আর তার মাশুল ওদের বাবা বড়োআব্বুকে দিতে হবে। কতবার বললাম স্কুটি কিনে না দেওয়া জন্য। কিন্তু না কে শুনে কার কথা,এ বাড়ির বড়ই আদরের একমাত্র মেয়ে বলে কথা। ওনার মুখ থেকে কথা বের হওয়ার আগেই জিনিস হাজির। এখন নেও তাকে বাড়িতেই খুঁজে পাওয়া দায়।
আনাস মায়ের কথায় পাত্তা না দিয়ে। তাড়াহুড়ো করে নিজের খাবার খেতে শুরু করলো। যতক্ষণ পর্যন্ত মেয়েকে সামনে না পেয়েছে। ততক্ষণ পর্যন্ত তার মায়ের মুখের বাণী বন্ধ হবে না। একেই অফিসের লেট হয়ে গিয়েছে। বাবা বড়োআব্বু অনেক আগেই বের হইছে অফিসের উদ্দেশ্যে। তার উপর তাকবীর ভাই দেশের বাহিরে থাকায়। আনাস সের উপরে সব দায়িত্ব পড়ছে।
আলভি চেয়ার টেনে নিয়ে বসতে বসতে। ফলের ঝুড়ি থেকে একটা আপেল হাতে তুলে নিয়ে আপেলে কামর বসাতে বসাতে বলে উঠে।

__” কাকীমনি তুমি সত্যি বলছো ওদের দুজন কে নিয়ে আমারও বিশ্বাস হয় না। কখন কাকে মৃত্যুর দুয়ারে পাঠানো বব্যাস্তা করে আল্লাহ মালুম।
আনাস খেতে খেতে আলভীর দিকে তাকিয়ে আলভী কে উদ্দেশ্য করে বলল,
__ ” বাজে না বকে তোর অলস বন্ধুকে বল তাড়াতাড়ি খাওয়া ফিনিশ করতে, স্কুলে লেট হয়ে যাচ্ছে।
আহিন খাওয়া বাদ দিয়ে আনাস সের কথায় গাল ফুলিয়ে বলে উঠলো।
__ আমি মোটেই অলস না ভাইয়া। উচিত কথা যেখানে আহিন আলভী সেখানে।
কথাটা বলতেই দুই বন্ধু একসঙ্গে বলে ওঠলো।

__”বুঝতে পারছো?
দুই বন্ধুর প্রতিবাদ দেখে রাদিবা তালুকদার আর রাবেয়া তালুকদার দুজনেই হেঁসে উঠে। আনাস বিরক্তি হয়ে বলল,
__” হ্যাঁ বুঝতে পেয়েছি বৃদ্ধির ভান্ডার। এখন একটাও কথা না চুপচাপ খাবার শেষ কর।আর চোখের সামনে থেকে দুটো বিদায় হ।
আহিন আর কথা বাড়াইয়া না, চুপচাপ খাবার শেষ করতে লাগলো। রাবেয়া তালুকদার চিন্তিত গলায় সিড়ির দিকে তাকিয়ে বললেন,

__ “তাকবীর তো এত লেট করে না ওর আফিসের লেট হয়ে যাচ্ছে। এখনো নিচে নামছে না কেন আনাস। ও তো সকাল সকাল জগিং জন্য উঠে পড়ে আজকে কী হয়েছে! অসুস্থ নাকি ছেলেটা?
__ ” ওহ,বড়মা তোমাকে বলতে ভুলে গেয়েছি। ভাইয়া তো কালকে রাতে ইমারজেন্সি লন্ডন ব্যাক করেছে। ওখানে একটা প্রজেক্ট নিয়ে ঝামেলা চলছে। বাবা বড়আব্বু কে বলে গিয়েছে।
রাবেয়া তালুকদার চিন্তিত মুখটা এখন একটু স্বাভাবিক দেখা গেল। আদিবা তালুকদারের দিকে তাকিয়ে পুনরায় বলে উঠলো।
__” এই ছেলেকে তাড়াতাড়ি বিয়ে দিতে হবে বুঝলি ছোট্ট। তাহলে যদি বউয়ের কারণে বাড়িতে আটকানো যায়। হুটহাট এদেশে তো ওদেশে ছেলেটাকে বুঝে উঠতে পাড়ি না। কেমন যেন সবসময় গম্ভীর থাকে, আর কাজ তো কাজ।
কথাগুলো শেষ করে পুনরায় আনাস সের দিকে তাকিয়ে বললেন,
___” আনাস, তাকবীর লন্ডনে পৌঁছে ফোন করছিলো?
___” না বড়মা এখনো হয়তো বিমান ল্যান্ড করে নাই। ভাইয়া রিসোর্টে পৌঁছে ফোন করবে। টেনশন করো না এখন আসলাম তাহলে আল্লাহ হাফেজ ।
আনাস খাবার টেবিল থেকে উঠতে উঠতে কথাটা বলে। বাড়ি থেকে বের হয়ে পার্কিং এরিয়া থেকে নিজের বাইক টা নিয়ে আফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।

___” এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হতো তুমি বলওওওও, ও চাচা, ও চাচা রাস্তা থেকে সরো! সরো, সাইট হও?এই রশ্মি সাবধানে, লেগে গেলো তো।লেগে গেলো রে গেলো। আমার কোমরটা শেষ হয়ে গেলো।
কী ভাবছেন এক্সিডেন্ট? হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন, দুজন একটু আগে জমের দুয়ারে ঠকঠক করছিলো। কিন্তু কোনো লাভ হলো না। আজরাইল ওদের ওল্টা বলে দিলো। বাচ্চারা তোমাদের তো এখনো বহুদ আকাম করা বাকি। তোমরা এখানে কেনো, যাও যাও তোমাদের দায়িত্ব পালন করো। আমাকে ডিস্টাপ করো না যাও যাও। তো আর কি করার, রশ্মিরাত কি অভদ্র নাকি। ওরা ভদ্রটার খাতিরে চলে এলো পথের চাচা কে উদ্ধার করতে। আরাত রাস্তা থেকে উঠে নিজের গাউন থেকে হাত দিয়ে ধুলা ঝাড়তে ঝাড়তে পথের চাচাকে উঠাতে এগিয়ে গেলো ।

___ ” চাচা আপনি ঠিক আছেন? কোথাও ব্যাথা পান নাই তো? ব্যাথা পেলে ডাক্তার কাছে চলেন। আসলে সরি চাচা। আমরা ঠিক আপনাকে দেখতে পাড়িনাই। শুধু যে আমাদের দোষ এটা কিন্তু একদম মেনে নিবো না। আপনি রাস্তা দেখেশুনে চলবেন তো তাইনা। সামনে পিছনে কোনো গাড়ি আসছে কি না এটা চেক করে তো রাস্তা পার হবেন?

___ ” আরে মেয়ে, আমাকে নিয়ে ব্যস্ত হতে হবে না। আমি ঠিক আছি। আমার ব্যাথা লাগে নাই। তুমি ওই মেয়েটাকে ওটাও গিয়ে। দেখো মেয়েটার পায়ের উপর স্কুটি পড়ে আছে ।
আরাত সঙ্গে সঙ্গে চোখ তুলে সামনে দিকে তাকালো। সামনে তাকাতেই দেখতে পেলো রশ্মির পায়ের উপরের স্কুটি পড়ে আছে। আর রশ্মি আরাতের দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আরাতের চালচলন লক্ষ করছে!
প্রথমো তো রশ্মির স্কুটি চালানোর কারণে ওর পায়ের উপরে স্কুটিটা পড়েছে । আর আরাত পিছে ছিলো বিধায় রাস্তায় সাইটে সিটকে পড়েছে। পথের চাচা স্কুটির ধাক্কা লেগে সামনে থেকে কিছুটা দূরে সিটকে পড়েছে। কাঁচা রাস্তা বিধায় ব্যাথা পায়নাই। তবে আরাত রাস্তা থেকে উঠে রশ্মি কে না তুলে পথের চাচাকে উঠাচ্ছে। যেখানে পথের চাচার কিছুই হয়নাই আর রশ্মির পায়ে অলরেডি যথেষ্ট ব্যাথা পেয়েছে।
আরাত রশ্মির দিকে তাকাতে রশ্মি অসহায় ফেস করে আরাতের দিকে তাকালো। রশ্মির অসহায় ফেস দেখে যে কেউ বলে দিতে পারবে। বোন আরাত!তোর দুটো পা ধরি প্লিজ বোন আমাকে হেল্প কর। তুই এত পাষাণ কবে থেকে হইলি রে প্লিজ হেল্প বোন, প্লিজ।
আরাত পথের চাচাকে ছেড়ে দিয়ে সোজা হয়ে হাতে হাত ভাজ করে দাড়ালো। মুখটা বেঙ্গ করে রশ্মি দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো ।

___”রশ্মিবাবু তুমি কি ব্যাথা পেয়েছো হুমম?
রশ্মি এবার একটু রাগ নিয়ে বলে উঠলো
___” আরাত নাটক বাদ দিয়ে তাড়াতাড়ি আমাকে ওঠা শাঁকচুন্নি।
রশ্মির কথায় আরাতের মুখের পরিবর্তন ঘটলো। আরাত রশ্মির দিকে এগিয়ে এসে রশ্মিকে ওঠাতে ওঠাতে পুনরায় বলে উঠলো।
___” শাঁকচুন্নি আমার নাম না,এটা তোর নাম হবে ভুলে গিয়েছিস! তোর ভাই তেলাপোকা জবাই করে তোর নামের আকিকা করেছে। আর এসব কিছু তো তোর জন্যই হয়েছে। যদি তুই জেদ না করতি। আর আমি না তোকে স্কুটি চালাতে দিতাম। আর না লং ডাইভ বের বারোটা বাজতো।
ঠোট বাঁকা করে কথাগুলো বলে উঠলো আরাত। আরাতের কথায় মুখে রাগ নিয়ে রশ্মি বলে উঠলো

___” আমি ব্যাথা পেয়েছি। আর তুই আছিস তোর লং ডাইভ নিয়ে?
___” তো কী করবো! তোর শোকে এখন রাস্তায় গড়াগুড়ি খাবো নাকি?
___” আরাতের বাচ্চা এখন কিন্তু বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে!
___” আজব এখানে আমার বাচ্চা কই পেলি তুই?
আরাত এদিক ওদিক তাকিয়ে একটু নাটকীয় ভঙ্গিমা করে পুনরায় বলে উঠলো ।
___ “বল, বল, কই সে গোলামে পুত্র। আমি তাকে জিজ্ঞেসা করবো। তার আব্বা কোন রাস্তার জ্যামে আটকে পড়েছে। আমার বাচ্চার আব্বা কী তার শশুর আব্বার বাড়ির রাস্তা এখনো চিনতে পাড়ছে না। নাকি আমার বাচ্চার আব্বা কিপ্টা তার বউকে এত এত শাড়ি কেনে দেওয়া ভয়ে তার বাচ্চার আম্মুরে ঘরে তুলতে চাইছে না?

___ ” এই মেয়ে তুমি এতো ফাজিল কেনো? দেখছো মেয়েটা ব্যাথা পেয়েছে। তাড়াতাড়ি স্কুটি উঠাইয়া ওকে নিয়ে ডাক্তার দেখাও যাও। একটার পর একটা বাজে বকে যাচ্ছ। এক নিমিষেই কত প্রকার বাজে বকলে জানো তুমি! সামনে একজন মুরুব্বী মানুষ দাঁড়িয়ে সেদিকে কোনো খেয়াল নেই একটার পর একটা বাজে বকে যাচ্ছ?
পথের চাচা কথাটা বলে রশ্মির কাছে এগিয়ে গিয়ে রশ্মির মাথায় হাত রেখে আদুরী গলায় বললেন,
___” মামনী তুমি ঠিক আছো?
___”জ্বি আঙ্কেল একদম পারফেক্ট। একটু পায়ে ব্যাথা পেয়েছি ঠিক হয়ে যাবে।
একটা হাসি দিয়ে বললো রশ্মি। আরাত এবার নিজের দু-হাত কোমড়ে রেখে গাল ফুলিয়ে পথের চাচার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো।

___”আচ্ছা চাচা আপনার আমাকে দেখে কোনদিক থেকে ফাজিল মনে হচ্ছে হুম?
পথের চাচা এবার রশ্মির থেকে দৃষ্টি সরিয়ে সম্পূর্ণ দৃষ্টি রাখে আরাতের উপর। মেয়েটার গায়ের রং লালতি ফর্সা, মুখটা গোলগাল। গাল ফুলিয়ে কোমরে দুহাত রাখা। মাহাবুব ইসলামের হাসি পেলে। কেমন যেন একদম আদর করে দিতে মন চায়লো। মাহাবুব ইসলামের এক নিমিষেই নিজের মেয়ে মিরার কথা মনে পড়ে গেলো। মিরাও তো এমন করেই মাহাবুব ইসলামের কাছে নিজের আভিযোগ গুলো তুলে ধরে। কথাগুলো ভেবেই মাহাবুব ইসলাম মুচকি হাসি দিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আরাত পুনরায় বলে উঠলো।

___ ” কী বলেন তো চাচা? আজকাল কার যুগে মানুষের উপকার করতে নেই। মানুষ উপকার মনে রাখে না। যদি আমার ফ্রেন্ড স্কুটি টা আপনার সঙ্গে ডিরেক্ট ধাক্কা দিতো। তাহলে অবশ্যই আমাদের উপকার আপনার সারাজীবন মনে থাকতো,হুমম।
আমার ফ্রেন্ড আপনাকে বাঁচালো , কিন্তু দেখেন আপনি এখনই আমাদের উপকার ভুলে গিয়ে আমাকে ফাজিল উপাধি দিয়ে দিলেন?
হ্যাু মানছি ভুলবশত আমার ফ্রেন্ডের মিসটেক হয়ে গেছে। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমি স্কুটি চালাইলে একদম মিস হতো না। আমি আপনাকে ডিরেক্ট উপরে টিকিট কেটে দিতাম।
কথা দিচ্ছি পড়েরবার এমন হবে না। পড়ের বার দেখা হইলে ডাইরেক্ট আপনাকে জমের দোয়ারে পাঠানোর ব্যবস্থা করে দিবো। এই নিয়ে আর মনে কষ্ট রাখেন না তো কেমন?
মাহাবুব ইসলামের কিছুক্ষণ আগে আরাতকে ঘিড়ে মনের মধ্যে যেটুকু ভালোলাগা শুরু হয়ছিলো। সেই ভালো লাগা টুকু এক নিমিষেই রাগের রূপান্তরিত হইলো।

___” এই বেয়াদব মেয়ে তুমি তো আসলেই বেয়াদব। বড়োদের সঙ্গে কিভাবে কথা বলতে হয়। তুমি তাও জানো না দেখছি। পড়ের বার দেখা হইলো আমাকে একদম উপরে পাঠাবে। এইটা আবার বড়ো মুখ করে বলছো। তার সঙ্গে এটাও বলছো, আমি এই নিয়ে যেন মনে কষ্ট না রাখি। আচ্ছা তোমার মাথায় কী স্পুরু ধিলা আছে হ্যাঁ?
মাহাবুব ইসলাম আরো কিছু বলতে নিবে ঠিক তখনই মাহাবুব ইসলামের ফোন বেজে উঠলো। পাঞ্জাবির পকেট থেকে ফোনটা বের করে একবার আরাতের দিকে আর চোখে তাকিয়ে ফোনটা রিসিভ করে,
___ “হ্যাঁ মাহির বলো?
ফোনের ওপাড়ে থেকে মাহির নামের ছেলেটা বলে উঠলো।
___”আব্বু কই তুমি আর কতক্ষণ ওয়েট করব! আমার কলেজে লেট হয়ে যাচ্ছে। এত লেট কেনো করছো বাসায় আসতে?
মাহাবুব ইসলাম মাহিরের কথার উওর করলেন,

___” হ্যাঁ মাহির পাঁচ মিনিট ওয়েট করো আরছি আমি।
মাহাবুব ইসলাম আরাতের দিকে তাকিয়ে, পুনরায় বলে উঠলেন।
___”আর বলো না রাস্তায় একটা পাগল মেয়ের সঙ্গে দেখা। এজন্য একটু লেট হইতাছে।
মাহির ফোনের ওপাশে থেকে অবাক হয়ে বলে উঠলো,
___” পাগল?
আরাত নিজের দিকে হাতের আঙ্গুল তাক করে মুখ ফুলে বলে উঠলো,
___”কীহহহ আমি পাগল?
মাহাবুব ইসলাম ফোনে বললেন,

___ “হ্যাঁ পাগল।
তুমি ওয়েট করো আমি আসতাছি। কথাটা বলেই মাহবুব ইসলাম একবার আর চোখে আরাতের দিকে তাকিয়ে তার নিজস্ব গন্তব্য দিকে হাঁটা ধরলেন।
কয়েক পা সামনে এগিয়ে গিয়ে ফোনটা কেটে পকেটে রাখতে রাখতে পিছনে তাকালেন একবার। পিছনে তাকিয়ে মাহবুব ইসলাম বিরবির করে বলে উঠলো ।

___” কি মেয়েরে বাবা। আমার কানটা ঝালাপালা করে দিলো ছয়-সাত মিনিটে। আমি নিচ্ছিত এই মেয়ের বাড়ির মানুষগুলোর সবকয়টার টারছেঁড়া হবে। নয়তো এই মেয়েকে সহ্য করে কিভাবে। যে বাড়ির বউ হয়ে যাবে সেই বাড়িকে আমার তরফ থেকে অগ্রিম বেদনার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
আরাত তো রেগে তো ফায়ার। রশ্মি আরাত কে একবার দেখে নিয়ে আরাতের উদ্দেশ্য করে বলে ওঠলো,
___” দেখ বোন অনেকটা লেট হয়ে যাচ্ছে। যদি কাকিমনি জানতে পারে আমরা কাউকে কিছু না জানিয়ে বের হয়ে এক্সিডেন্ট পর্যন্ত করে ফেলেছি তাহলে আর রক্ষা নেই। আর রাগ করিস না বোন চুপচাপ…
আরাত রশ্মির দিকে রাগী গলায় বলে উঠলো,

___” তুই আমারে রাগ করতে বারণ করছিস! তুই দেখলি! ওই চাচা আমারে পাগল বলে গেলো। আর তুই তার প্রতিবাদ না করে আমাকে চুপ থাকতে বলছিস?
রশ্মি বিরক্তি মুখে আরাতের দিকে তাকিয়ে বলল,
___”তা কি করবো আমিও তোর মতো ওই মুরুব্বির সঙ্গে পায়ে পা লেগে ঝগড়া করবো। তুইও কিন্তু কম যাস নাই। ওনি মুরুব্বি মানুষ,দেখলি না আমার মাথায় কি সুন্দর হাত রাখলো। আর তুই এমন মানুষের সঙ্গে পায়ে পা লেগে ঝগড়া করলি?

___” হুম হয়েছে, হয়েছে, উনিও তো মুরুব্বি হয়ে আমার সঙ্গে ঝগড়া করছিলো তার বেলা! শুধুমাএ ওনি তোর মাথায় হাত রেখেছে বলে ছেড়ে দিলাম। নয়তো বুঝিয়ে দিতাম এই আরিবা তালুকদার আরাতের সঙ্গে লাগতে আসা কাকে বলে হুউউ।
রশ্মি আর কথা বাড়ালো না। আরাত স্কুটি উঠিয়ে সামনে বসলো নিজে চালাবে বলে। আর রশ্মি পিছনে ঠিকঠাক হয়ে বসছিলো। হটাৎ আরাত পুনরায় বলে উঠলো,
___” কিরে শাঁকচুন্নি, এখন ঠিক আছিস!ডাক্তার দেখাইবি?
আরাত কথাটা বলে পিছন ঘুড়িয়ে রশ্মির দিকে তাকিয়ে পুনরায় জানতে চাইলো,
___”দেখি দেখা কই ব্যাথা পেয়েছিস?
রশ্মি অভিমানী গলায় উওর করলো,

__” সর এতক্ষণে দরদ দেখাতে হবে না।
___” আরে রাগ করছিস কেনো শাঁকচুন্নি ! তুই তো আমার সব। তুই ব্যাথা পেয়েছিস আর দেখ তোর ব্যাথা আমার জখম হয়ে ধরা দিয়েছে।
রশ্মি এবার আরাত কে নিয়ে উত্তেজনা হতে দেখা গেলো,
___” কই দেখা কোথায় ব্যাথা পেয়েছিস! বেশি কি ব্যাথা করছে। এতক্ষণ তো খুব আমাকে নিয়ে পড়েছিলিস। নিজে যে ব্যাথা পেয়েছিস সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। স্কুটি ঘোড়া ডক্টরের কাছে চল দ্রুত।
রশ্মি আরাত কে বকতে বকতে,
___” সর সামনে থেকে, তুই পিছনে বস আমি স্কুটি চালাচ্ছি তোকে চালাতে হবে না।
রশ্মি স্কুটি থেকে নামতে যাবে। আরাত রশ্মির দিকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে বলে ওঠে।

___” এভাবেই সারাজীবন থেকে যাস।
রশ্মি অবাক হয়ে বলে উঠলো,
___ মানে?
আরাত স্বাভাবিক হয়ে বলল,
___” কিছুনা।
আরাত এতক্ষণ রশ্মির নিজেকে ঘিরে ব্যাকুলতা গুলো মুগ্ধ চোখে দেখছিলো। আরাত সামান্য জখমের কথা বলতে রশ্মির নিজের ব্যাথার কথা ভুলে গিয়ে। আরাতের জন্য ছটফটানি শুরু করলো। অথচ আরাত যে রশ্মির ব্যাথা কেই নিজের ব্যাথা মনে করে কথাটা বললো। রশ্মি স্কুটি থেকে নামতে যাচ্ছিল তখনই আরাত বলে উঠলো।
___”হয়েছে শাঁকচুন্নি, একবার আপনার কারণে অলরেডি জমের দোয়ার থেকে ঘুড়ে আসলাম। আর আপনাকে স্কুটি চালাতে হবে না। আমি ঠিক আছি তুই পায়ে ব্যাথা পেয়েছিস। এখন শুধু ঠিকঠাক হয়ে বস তাহলেই হবে।
রশ্মি মুচকি হেসে স্কুটিতে ঠিক হয়ে বসতে বসতে আরাত কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল,

___” আই লাভ ইউ রাতসোনা?
আরাত স্কুটি চালাতে চালাতে মুচকি হাসলো।
___”আই লাভ টু শাঁকচুন্নি!
রশ্মি আরাতের কথায় গাল ফুলিয়ে বলল,
___” এই তোদের দুজনের আমার এত সুন্দর নামটা চোখে পড়ে না! কত সুন্দর নাম রিদিতা জাহান রশ্মি।কিন্তু তোরা দুজন….
___” আমাকে কেন বলছিস! তোর মায়ের পেটের ভাইকে বল। সেই তো তোলাপোকা জবাই করে তোর নাম শাঁকচুন্নি রেখেছে। আমি আমার ক্রাশের কথাটা ফেলতে পারবো না। বুঝতে পারছিস তো একমাত্র ভবিষ্যৎ জামাই বলে কথা।
দুজন শব্দ করে হেসে উঠলো। রশ্মি হাসতে হাসতে পুনরায় বলে উঠলো,

___” হুম তাও ঠিক তবে তুইও যেমন ওই আলভী টাও এমনই তোদের বলে লাভ হবে না। আলভী কে আর কি বলবো সে যে আমার মায়ের পেটের ভাই। অথচ দেখ, সব স্বভাব তোর মতো। এই যে সারাদিন আমার পিছনে লেগেই থাকবে। আর সারাক্ষণ শুধু মায়াবতী, মায়াবতী বলে মুখে ফেনা তুলবে। ফাজিল একটা, সঙ্গে কিন্তু আহিন টাও কম যায় না বল?
___” হুম, যা বলেছিস তবে আমার সঙ্গপাঙ্গ তো।এজন্য ওদের প্রশংসার অভাব হবে না।
___” ভাব না নিয়ে ভালোভাবে স্কুটি চালা। নয়তো আবার এক্সিডেন্ট করে ফেলবি। কিছুক্ষণ আগে এক্সিডেন্ট করে আমার পায়ের অর্ধেক হায়াত কমাইছিস। তোর সঙ্গে থাকলে কবে যেন আমার ভবিষ্যৎ জামাইয়ের সামনাসামনি মুখ দর্শন না করে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হবে।
রশ্মি দুষ্টু হেসে কথাগুলো বলল। আরাত রশ্মির কথায় একটু অবাক হলো,

___” এই ফাজিল কি বললি! আমি এক্সিডেন্ট করেছিলাম?
রশ্মি মুচকি হাসি দিয়ে বলে ওঠে,
___” হুম তুই তো এক্সিডেন্ট করেছিলি। কিছুক্ষণ আগে স্কুটি তো তুই চালাচ্ছিল মনে নেই তোর।
___” হ্যাঁ হ্যাঁ মনে পড়েছে। আমিই তো এক্সিডেন্ট করছিলাম।
বলেই দুজন একসঙ্গ শব্দ করে হেঁসে উঠলো ।

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২