Home তুই আমার বিশ্বাস ছিলি তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২৪

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২৪

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২৪
জান্নাতি আক্তার জারা

দূর মসজিদে আজানের মধুময় কন্ঠে আরাতের লেগে আসা চোখদুটো চট করে খুলে গেলো। রাতে ড্রয়িং রুম থেকে নিজের রুমে এসে বিছানা বসে থেকে তাকবীর কে নিয়ে ভাবতে ভাবতে কখন যে চোখদুটো লেগে গেয়েছিলো জানা নেই। আজান শেষ হতেই বিছানা থেকে নামতে নামতে ওড়না দিয়ে ভালোভাবে শরীরটা ঢেকে নিলো। ধীরপায়ে নেমে রুমের লাইটটা জ্বালিয়ে দিয়ে। একবার সন্ধ্যা কে ডাকলো পুনরায় একএক করে সবাই কে ডাকতে লাগলো।
“এই আরিশা আপু, মসজিদে আজান পড়ছে, ওঠে পড়ো আমি নামাজ পড়তে তোমার রুমে গেলাম!

আরাতের ডাকে একে একে সবাইকে ঘুম থেকে নড়াচড়া করতে দেখা গেল। আইরা ওঠে ওয়াশরুমের চলে গেলো। আরাত নামাজের উদ্দেশ্য আরিশার রুমে যাওয়া জন্য রুম থেকে বের হয়ে করিডরে আসতেই আনাস কে দেখলো পাঞ্জাবি টুপি পড়ে নিজের রুম থেকে বের হতে। আনাস কে দেখা মাএ মনে খজখজ করতে লাগলো রাতে বীর ভাইয়ার বিষয়টা নিয়ে আনাস ভাইয়া কে বলতে। আনাস কে বলতে গিয়েও সময় করে বলা যাবে ভেবে পুনরায় নিজেকে গুঁতিয়ে নিলো। আনাস আরাত কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলল,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

” কিছু বললি বুড়ী?
আরাত মাথা ঝাকিয়ে
“না ভাইয়া!
“নামাজে যাচ্ছিস?
“হুম!
আনাস বেশ কিছুক্ষণ বোনের দিকে তাকিয়ে থাকলো। বোনটা খুব আদুরে। চোখের সামনে ছোট্ট আরাত বড়ো হয়ে গেলো। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আনাস নামজের লেট হয়ে যাচ্ছে দেখে দ্রুত পায়ে চলে গেলো। আরাত আরিশার রুমে নামাজ পড়তে গেলো। ভোরের আলো ফুটার সঙ্গে সঙ্গে তালুকদার বাড়িতে আজকে মেহমান দের খাওয়ানোর আয়োজন চলছে ভরপুর। আরাত নামাজ শেষ করে নিচে নামতেই তাকবীর কে সোফাতে কপালের উপর হাত রেখে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে আরাত বেশ অবাক হলো। মনে মনে ভাবতে লাগলো বীর ভাইয়া রাত থেকে কী এই সোফাতেই ঘুমিয়ে ছিলো! আরাতের পাশে এসে আইরা দাঁড়ালো। আইরা আরাত কে চুপচাপ সামনের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে রাবেয়া তালুকদার বললেন,

” তোমরা ওঠে পড়েছো , ভালো হয়েছে আর ডাকতে হইলো না আইরা মা তুমি আমার সঙ্গে এসোতো মা!
এতএত হইচইয়ের মধ্যে তাকবীরের ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছে । আরাত আইরা কে সোফার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে রাবেয়া তালুকদার সেদিকে তাকালেন। তাকবীর ঘুমুঘুম চোখে সোফাতে শুয়া থেকে বসে পরলো। তখন সদর দরজা দিয়ে আনাস কেও আসতে দেখা গেল। রাবেয়া তালুকদার তাকবীরের দিকে এগিয়ে গিয়ে খুব ব্যস্ত কন্ঠে জানতে চাইলো,
” তাকবীর তুমি রুমে না ঘুমায়া ড্রয়িং রুমের সোফাতে কেনো?
“গুড মর্নিং ভাইয়া!
রাবেয়া তালুকদারের প্রশ্নর পাশাপাশি আনাস বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করতে বলল কথাটা। তাকবীর মুখ তুলে চাইলো একবার আনাস সের দিকে ,

“মর্নিং…
তাকবীর মুখ তুলে আনাস সের দিকে তাকাতেই আনাস তাকবীরের চোখমুখ দেখে স্তব্ধ হয়ে গেলো।রাবেয়া তালুকদার ছেলেকে বেশ করে পরক করলেন। তাকবীরের চোখমুখের দিকে তাকিয়ে এগে এসে ঘাবড়ে যাওয়া মুখ নিয়ে বললেন,
“তাকবীর তুমি ঠিক আছো! চোখ মুখের হাল এমন কেনো?
” আম্মু! রুমে কফি পাঠিয়ে দিয়েন!
তাকবীর কে রাবেয়া তালুকদারের কথার উওর না দিয়ে উল্টো কফি কথা বলে নিজের রুমের দিকে যেতে দেখে আনাস তাকবীরের হয়ে বলল,
“বড়মা! ভাইয়া একদম ঠিক আছে। বিয়ের বাড়ির হইচয়ে ঠিকমতো ঘুম হয়নাই হয়তো। আপনি বরং দ্রুত কফিটা ভাইয়ার রুমে পাঠিয়ে দিন।

আনাস সের কথায় রাবেয়া তালুকদার কথা না ঘেঁটে দ্রুত পায়ে কিচেনের দিকে গেলেন তাকবীরের কফি বানানোর উদ্দেশ্য। এতক্ষণে আরিশা নিচে নেমে এসেছে। আরিশা, আরাত আইরা কে চুপচাপ সিড়ির পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে পুনরায় আনাস সের দিকে তাকালো। আনাস কে দেখে আরিশা আশেপাশে তাকালো। তাকবীর আরাত দের পাশ কেটে সিড়ি বেড়ে নিজের রুমের দিকে এগুচ্ছে । বিয়ের বাড়িতে সবাই ব্যস্ততা দিন পার করবে। এটাই আনাস কে প্রশ্ন করার মোক্ষম সুযোগ। বাড়ির মেহমান দের তেমন এতটা দেখা যাচ্ছে না দুএকজন কে ছাড়া। আজকে আনাস সের মনেরভাব বুঝে পড়ের ডিসিশন নিতে পারবে আরিশা। কথাটা ভেবে আইরা কে একবার দেখে নিলো। পুনরায় আনাস কে নিজের রুমের উদ্দেশ্য পা বাড়াতে দেখে আরিশা আনাস কে পিছু ডাকলো,

” আনাস ভাইয়া?
আনাস পিছু ফিরে আরিশা কে দেখলো, আরিশা আনাস কে পুনরায় বলে উঠলো,
“ভাইয়া আপনার কী কোথাও পছন্দ আছে ?
হটাৎ আরিশার অদ্ভুত কথায় আনাস অবাক নয়নে চাইলো আরিশার দিকে। আরাত প্রথমে অবাক চোখে আরিশা কে দেখলো। আরিশা কোনো ভনিতা ছাড়া সিরিয়াস হয়ে প্রশ্ন করতে দেখে আরাত নিজের ভাইয়ের দিকে উওর জানার জন্য তাকালো। আইরা সেই প্রথম থেকে পাঞ্জাবি টুপি পরিহিত আনাস কে। স্নিগ্ধ মুখময়ে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে ছিলো। বোনের কথায় মুগ্ধ চোখমুখ নিমেষেই উত্তরের আশায় চাইলো, আনাস আরিশার দিকে চেয়ে বলল,

” মানে! বড়ো ভাই কে এ-সব কি ধরনের কথা! ভুলে যাস না আমি তোর গুনে গুনে চার বছরের বড়ো, বিয়ে হচ্ছে ভেবে নিজেকে বড়ো মনে করবি না একদম।
আরিশা আনাস সের কথায় নিজের বোনের দিকে একবার তাকালো, পুনরায় আনাস কে বলল,
“ভাইয়া আমি এভাবে বলতে চাইনাই, আপনার কথার উপর শিওর হয়ে আমি একটা ডিসিশন নিবো!
আনাস আরিশার কথায় হেঁসে বলল,
“আমার পছন্দর উপর তোর কী আটকে আছে ?
“যে-তাই আটকে থাকনা কেনো, তোমার পছন্দ আছে কিনা এটা বোনদের জানা দায়িত্বর মধ্যে পড়ে। তোমার কথার উপর আমরা আমাদের ভাবির কে পছন্দ করতে পারবো ওকে?
আরাতের কথায় আনাস নিজের বোনের দিকে তাকালো। পুনরায় আরাতের পাশে আইরা কে একনজর দেখে নিজের মধ্যে গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলে উঠলো,

” না নেই।
এই একটা কথায় আইরার চোখে পানি আনার জন্য যথেষ্ট ছিলো। আইরা আশাহত হয়ে চোখভরা পানি নিয়ে চোখটা আনাস সের থেকে নিচু করে নিলো। আরিশা বোনের দিকে চেয়ে রইলো। আরাত একটু রাগী গলায় পুনরায় আনাস কে বলল,
” আনাস ভাই তুমি প্রেম করতে চাও না কেনো?
আনাস আইরার পানিভরা চাওনি থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে নিজের বোনের দিখে রাখলো। আরাত কে রাগী গলায় প্রশ্ন করতে দেখে মুচকি হাসলো আনাস। তাকবীরের রুমের দিকে তাকিয়ে পুনরায় বোনের দিকে তাকালো। আনাস কে উপরে তাকবীরের রুমের দিকে তাকাতে দেখে আরাত ভ্রু কুঁচকে আনাস কে পর্যবেক্ষণ করছে । আনাস ব্যঙ্গ করে ঠোটের কোনে এক চিমটি হাসি টেনে আরাতের কথায় উওর না দিয়ে সিড়ি বেড়ে নিজের রুমে যেতে যেতে উচ্চস্বরে গেয়ে উঠলো,

“প্রেম করে ভাসলো সাগরে
অনেকে পাইলো না কূল!
জগৎ জুড়ে বাজে শুনি
পিরিতের কলঙ্কের ঢোল।
“দিতে গিয়ে প্রেমের মাশুল
মান কূলমান রইলো না
দিতে গিয়ে প্রেমের মাশুল
মান কূলমান রইলো না…..
“সখী তোরা? প্রেম করিও না, পিরিত ভালা না!
সখী তোরা? প্রেম করিও না,পিরিত ভালা না….

আনাস চলে গেলো, আরিশা আইরার পাশে দাঁড়িয়ে আইরার হাতের উপর হাত রেখে বলল,
” দেখ বোন আনাস ভাইয়ার মনে তোর জন্য কোনো ফিলিং নেই। আমার বিয়েটা শেষ হয়লে আম্মু তোকে কিছু বলবে। হয়তো আম্মুর কথাটা তোর পছন্দ হবে না। কিন্তু তোর ভালোর জন্য শুনতে হবে কথাটা।

বর এসেছে,বর এসেছে!
আহিন আলভী সন্ধ্যা, তিনজন একসঙ্গে আরিশার রুমে দিকে চিল্লাতে চিল্লাতে দৌড়াতে লাগলো। হটাৎ সন্ধ্যার হাত কেউ চেপে ধরে আটকালো। আহিন আলভী নিজের মতো চিল্লাতে চিল্লাতে চলে গেলো,
” এভাবে বাচ্চাদের মতো বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে দৌড়াচ্ছিস কেনো?
হাবীবের কথায় সন্ধ্যার হাসিমুখে অন্ধকার নেমে এলো,
” বাচ্চাদের মতো দৌড়াচ্ছি কোথায়! বর এসেছে সবাইকে জানাতে হবে না?
“ছেলেদের থেকে দূরে দূরে থাকবি! যদি কোনো ছেলের আশেপাশে তোকে দেখা যায়, তাহলে ডিরেক্ট তুলে নিয়ে কাজি অফিসে গিয়ে পবিত্র কাজটা সেড়ে ফেলবো !

” তওবা তওবা এটা কেমন থ্রেট ভদ্রগুন্ডা! সন্ধ্যা একজন ভদ্রমেয়ে। ছেলেদের আশেপাশে সন্ধ্যা কে দেখা যাবে কেনো ! সন্ধ্যার আশেপাশে ছেলেদের দেখা যাবে।
সন্ধ্যা হাবীবের হাত থেকে নিজের হাত বের করে দৌড় দিয়ে কথাগুলো বলল। হাবীব রাগী চোখে সন্ধ্যার দৌড়ে যাওয়ার দিকে চেয়ে চেচিয়ে বলল,
“তোর মুখ আজকাল বেশি চালাচ্ছিস সন্ধ্যা!
আশিক হাবীবের পাশে এসে দাড়ালো। হাবীবের দিকে তাকিয়ে আশিক প্রশ্ন করলো,
“গাড়ি চালাতে শিখাইছিস কখনো?
হাবীব আশিকের দিকে তাকিয়ে রাগী গলায় বলল,

” না….?
“যেটা চালাতে পাড়ে ওটাই তো চলাবে!
আশিক কথাটা বলে দ্রুত পায়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলো। এই মুহূর্ত হাবীবের সামনে থাকা মানে নিজেকে বাগের হাতে তুলে দেওয়া। হাবীব আশিকের দিকে হতাশা চোখে চেয়ে রইলো। এ কেমন বন্ধু সুযোগ পেলেই বাঁশ দিতে থাকে।

আনহা শেখের সঙ্গে রাহিমা সুলতানা গিয়েছে নতুন বরকে গাড়ি থেকে নামাতে। মেয়েরা হাতে করে শরবত দুধ তিনপদের মিষ্টি সঙ্গে পার্টি স্প্রে নিয়ে গেটে এসে টেবিলের সামনে দাঁড়িয়েছে। আনহা শেখ আর রাহিমা সুলতানা নতুন বর কে নামিয়ে দুজন, মেয়েদের পাশ কাটিয়ে চলে গেলেন। আমান রাফি মাহির আরশ সঙ্গে আমানের কিছু কাজিন আর মিরা গেটের সামনে এলো। মেয়েপক্ষে আরাত মিম সন্ধ্যা মায়া আহিন আলভী দাঁড়ানো, তাদের থেকে কিছুটা দূরে আশিক হাবীব আদিল তিনজন গেটের দিকে চেয়ে আছে। মেয়েদের এভাবে গেইট আটকে থাকতে দেখে, রাফি বলে উঠলো,
রাফি

” আমরা জানি আমাদের বিয়াইন রা দেখতে মাশাআল্লাহ, নিজেদের রুপ দেখাতে মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে আমাদের জন্য ওয়েট করার প্রয়োজন ছিলো না। আমরা তো আসছি তাই-না।
মায়া রাফির কথায় উওর করলো,
“আমরা বরাবরই সুন্দর বিয়াই সাব! সময় নষ্ট না করে আসল কথায় আসেন এখন!
রাফি
” কেনো এতক্ষণ বুঝি নকল কথা হচ্ছিল এখানে! বাই দ্যা ওয়ে আমার আসল বিয়াইন কই ?
“কেনো আমাদের কী আপনার কাছে নকল বিয়াইন মনে হচ্ছে বিয়াই?
সন্ধ্যা কথাটা বলতেই মাথা ঘুরিয়ে হাবীবের দিকে তাকালো। হাবীব কে রাগী লুকে তাকিয়ে থাকতে দেখে সন্ধ্যা চুপচাপ এক সাইটে এসে দাড়ালো। সন্ধ্যার কথায় রাফি চট করে বলে উঠলো,

” নকল না বাট সৎ সৎ লাগতাছে ।
রাফির কথায় বরপক্ষরা হেঁসে উঠলো। আমান মাহির কে চুপিচুপি দ্রুত সবকিছু শেষ করতে বলল। মাহির মেয়েদের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো ,
“কী চাই তোমাদের! এভাবে রাস্তা ধরে রাখছো কেনো?
মায়া মুচকি হেসে হাত দিয়ে ইশারায় করে বলল,
” টাকা!
“ওই বন্ধুর ভবিষ্যৎ বউয়ের ফ্রেন্ড, ভিক্ষা করতে ভাঙ্গা থালা নিয়ে বসতে হয়! এভাবে এতএত সরবত নিয়ে রাস্তায় দাঁড়ালে মানুষ তো ভাববে শরবত বিক্রিতা।
“ওই লুচ্চা বেডা আমাকে কী আপনার ভিক্ষুক মনে হয় হ্যাঁ? মিম ট্রেটা ধরো তো এই লুচ্চাকে কয়েকটা এলোপাতাড়ি থাপ্পড় দিবো….

মায়ার কথায় আশিক হাবীবের পিছনে গিয়ে দাঁড়ালো, মায়াকে তার বিশ্বাস নেই, দেখা যাবে সত্যি সত্যি সবার সামনে কয়েকটা দিয়ে দিছে। তাঁদের দাঁড়ানোর একসাইট দিয়ে বিয়ের মেহমান রা যাচ্ছিল। মায়া সেদিকে তাকিয়ে নিজের বাবা আর মা কে দাড়িয়ে থাকতে দেখে উৎফুল্লতা হাসিখুশি ভরা মায়া চুপচাপ হয়ে ভদ্র হয়ে গেলো। মায়ার বাবা খালেক চেয়ারম্যান কে দেখে। আরাত মায়ার বাবাকে দেখে সালাম দিলো ভদ্রলোক আরাতের সালাম নিয়ে সবাই কে একনজর দেখে বাড়ির ভিতরে চলে গেলেন। মায়ার মা ফারজানা বেগম মায়া কে নিজের কাছে ডাকলেন। মায়া ফারজানা বেগমের দিকে এগিয়ে গেলো।

” এখানে তোমার কাজ কী, তুমি জানতে না তোমার বাবা আসতে পারে?
” আম্মু আমি জানতাম না আব্বু এখন আসবে, প্লিজ আম্মু তুমি ভেতরে গিয়ে আব্বু কে ম্যানেজ করো আমি পাঁচ মিনিটে আরছি প্লিজ!
“ঠিক আছে জলদি আসবে।
ফারজানা বেগম ভেতরের দিকে চলে গেলেন। মায়া পুনরায় গেটের কাছে এগোলো।হাবীব আশিক আদিল তিনজন এতক্ষণ ধরে মায়া আর ফারজানা বেগমের দিকে তাকিয়ে ছিলো। হাবীব আশিক কে বলল,
“দোস্ত দেখলি তো! মায়ার বাবা কেমন কঠিন চোখে তাকিয়ে ছিলো !
“আমার শাশুড়ী মা তো হেব্বি দোস্ত ! বউকে পটানোর আগে শাশুড়ী কে পটাতে হবে! আদিল আমার শাশুড়ির নাম্বার টা কানেক্ট কর তো ভাই।
হাবীব আশিকের দিকে বিরক্তি চোখে তাকালো। হাবীব মায়ার বাবা কে দেখাচ্ছে আর আশিক মায়ার মা কে নিয়ে ফ্লাট করতে শুরু করলো। আদিল আশিকের কথায় দুষ্টু হেসে বলে,

“ঠিক আছে ভাই, হয়ে যাবে।
“হয়ে যাবে তাই-না! দাড়া ব্রো কে তোর বিষয়ে জানাতে দে একবার! এই ইডিয়টের সঙ্গে থেকে থেকে তোর ভিতরে প্লেবয় ঢুকে পড়ছে!
হাবীব আদিল কে তাকবীরের কথা বলে হুমকি দেওয়ার আদিলের চোখমুখ চুপসে গেলো। ওদিকে ধীর গলায় মাহির সবাই কে বলে উঠলো,
” তোমাদের ডিমান্ড ?
“৫০!
” মাএ ৫০ টাকার জন্য এভাবে আধাঘন্টা সময় নিয়ে গেইট আটকিয়ে রাখছো?
মিম চট করে বলল,
ভাইয়া ৫০ টাকা না ৫০ হাজার হবে!
আরশ এতক্ষণে কথা বলে উঠলো।
“হেই মিস বয়ফ্রেন্ড বয়সী ছেলেদের ভাইয়া ডাকতে লজ্জা করে না?
মিম’

” আপনি কবে থেকে আমাদের বন্ধু হইলেন?
“এই গ্রামের মূর্খ মেয়ে তুমি কী কালা, আমি বলছি বয়ফ্রেন্ডের কথা।
“ও আচ্ছা তা শহরের পন্ডিত মশাই আপনি বলেন তো, বয় মানে কী?
“ছেলে!
“ওকে, এবার বলেন ফ্রেন্ড মানে?
আরশ তাচ্ছিল্য সুরে রাফির দিকে তাকিয়ে বলল,
“ফ্রেন্ড মানে বন্ধু, এই সামন্য ফ্রেন্ডের বাংলা জানে না আবার গেটের পঞ্চাশ হাজার আবদার নিয়ে আরছে।
রাফি আরশ কে কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করল,,

“মান সম্মান বাঁচাতে চাইলে চুপ যা ইডিয়ট, তুই নিজেই নিজেকে বোকা বানাচ্ছিস,
মিম পুনরায় জানতে চেয়ে বলল,
“তা শহরের পন্ডিত মশাই বলেন তো, বয় এন্ড ফ্রেন্ডের বাংলা কী হবে?
“ছেলেবন্ধু!
আরশ নিজের জালে নিজেই ফেঁসে গেছে। কাউকে বুঝতে না দিয়ে ভাব নিয়ে গলা খাঁকারি দিয়ে বলে উঠলো,
“গ্রামের মূর্খ মেয়ে বয়ফ্রেন্ডের অর্থ বুঝে না। ওকে নো প্রবলেম,তাহলে তো গ্রামের মেয়েকে গ্রামারের ভাষায় বুঝাতে হবে,

“ওহে গ্রামের মূর্খ অশিক্ষিত মাইয়া তোর নাঙ্গের বয়সি পোলারে ভাই কইতে সরম লাগে না?
মিমের মুখ হা হয়ে গেলো, বাকি সবাই অবাক চোখে আরশ কে দেখতে লাগলো। এটা কেমন মুখের ভাষা। মিম কিছু বলতে নেবে আরাত মিম কে আটকাতে তাড়াহুড়ায় বলল,
” নতুন দুলাভাই আপনাকে বলছি! আপনার বউ ভিতরে আপনার জন্য ওয়েট করছে, সো বউকে মিস করতে না চাইলে, আমাদের ডিমান্ড পরুন করেন আর আপনার বিউটিফুল বউয়ের কাছে জলদি পৌঁছান।
আরাতের কথায় মাহির নিজের মধ্যে কনফিডেন্স নিয়ে বলে উঠলো,
” আমাদের দূলহার মধ্যে পুচুরপরিমান ধর্য্য রয়েছে। সো বউকে মিস করা নিয়ে থ্রেট দিয়ে কেনো লাভ হবে না অদ্ভুত মেয়ে!
আরাত বুকে হাত গুঁজে মাহিরের দিকে তাকিয়ে বলল,
“ওকে তবে দাঁড়িয়ে থাকেন আপনাদের দুলহা কে নিয়ে! আমাদের ডিমান্ড পরুন না হইলে আমরা রাস্তা ছাড়বোনা।
মেয়েরা সবাই একসঙ্গে চিল্লাতে উঠলো,ঠিক ঠিক বলে। ছেলেরা পড়ে গেলো মুসকিলে, আমান মাহির কে ইশারায় বলছে দিয়ে দিতে। আমানের ইশারা দেখে মেয়েরা জিতে গেছে ভেবে মুচকি মুচকি হাসতেসে আরাত হাত এগিয়ে দিয়ে বলল,

” দ্রুত দিয়ে দিন!
বরপক্ষ আর মেয়েপক্ষের মধ্যে বাদবাদি হওয়ার মধ্যে দিয়ে পিছন থেকে আরাতের মামা আর সন্ধ্যার বাবা এক সঙ্গে ধমক দিয়ে উঠলো,
“কী তখন থেকে গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে নতুন জামাই কে আটকে রাখছো, নতুন জামাই কে ভিতরে আসতে দেও।
মেয়েরা সবাই তব্দা খেয়ে গেলো, বিয়ের গেইটে একটু মজা করবে তাতে বড়োরা বাগড়া কেনো দিচ্ছে। সময় তো অনেক রয়েছে, তাহলে তাড়া মজা করছে বড়োদের প্রবলেম কী এতে। মুরুব্বীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আশিক হাবীব আদিল তিনজন বলে উঠলো,

” হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিকঠিক , বিয়ে লেট হয়ে যাচ্ছে নতুন জামাই কে জলদি ভিতরে আসতে দেওয়া হোক।
মেয়েরা, তিনজনের দিকে রাগী লুকে তাকালো। মেয়েদের তাকানো দেখে তিনজন সয়তানি হেঁসে পুনরায় বলল,
“এখনো নতুন বর কে ভিতরে আসতে না দিয়ে! রাস্তাতে ভীর করছো কেনো, মুরব্বিদের ডাকদিবো?
মেয়েদের আবস্থা দেখে সবাই মুচকি মুচকি হাসতেসে, মায়া রাগ নিয়ে বলে উঠলো,
” ওকে এতো দিতে হবে না আপনারা ৫০ হাজার থেকে ৪৯ হাজার দিয়ে দিন! আমরা রাস্তা ছেড়ে দিবো ।
মায়ার কথায় মেয়েরা একসঙ্গে ঠিকঠিক বলতে গিয়েও মুখ হা করে মায়ার দিকে তাকালো। বাকি সবাই অবিশ্বাস্য চাউনি চেয়ে রইলো। আশিক হাতে তালি দিতে দিতে মায়াদের দিকে এগিয়ে এসে মায়া কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“ক্যা বাদ হে.. দারুণ..দারুণ.. বন্ধুর ভবিষ্যৎ বউয়ের ফ্রেন্ড তো দারুণ দয়ালু… ৫০হাজার থেকে কোনোদিকে না তাকিয়ে একদম ৪৯হাজারে নিয়ে আরছে… আপনি মানুষ না ম্যাম আপনি একজন দয়ালুর ভান্ডার!
আশিকের কথায় সবাই শব্দ করে হেসে উঠলো। মায়া রাগী গলায় পুনরায় বলল,

” আপনাকে তো আমি পড়ে দেখে নিবো মিস্টার লুচ্চা বেডা…. আরাত ৪০ হাজারেন নিচে যাবো না আমরা ৪০ হাজার দিতে বলো!
মায়ার কথায় রাফি বলে উঠলো,
“ওকে ওকে বিয়াইন যখন আবদার করছে তাহলে আমরা ৩০হাজার দিলাম। আর কোনো কথা না বিয়াইন এটা নিয়ে নিন!

মেয়েরা কথা না বাড়াইয়া নিয়ে নিলো, এবার জুসের গ্লাসটা মিম আরশ কে দিয়ে দিলো। আর আরাত দুধের গ্লাস মাহির কে দিলো। সন্ধ্যা একটা মিষ্টি আমান কে খাওয়ানো পর পানির গ্লাস টা আমানের হাতে দিলো। মায়া লাল মিষ্টি চামুচে তুলে রাফির মুখে সামনে ধরলো। রাফি হাসি মুখে মিষ্টিটা মুখে তুলে চিবোতে থাকলো। কয়েক সেকেন্ড মাথায় রাফি চোখ বড়ো বড়ো করে সামনে তাকালো। মাহির আরশ আর আমান তিনজন গ্লাস মুখে তুলে একঢোক খেতেই চোখমুখ অদ্ভুত রকমে বেঁকে তাকালো সামনে। আশিক সবার রিয়াকশন দেখে জিজ্ঞেস করলো।
” কী হইলো ব্রো তোমাদের মুখের রিয়াকশন এমন কেনো?
মায়া হাসি মুখে আশিকের দিকে তাকিয়ে বলল,

“এটা খেয়ে দেখেন আপনার মুখের চাওনি একদম উঁচুনামা হয়ে যাবে… সালা লুচ্চা বেডা আমার সঙ্গে লাগতে আসা তাইনা! নে এবার ঝালঝান লাল মিষ্টি খেয়ে মনটা পরিস্কার কর।
মায়া হটাৎ আশিকের মুখে লাল মিষ্টি ঢুকিয়ে দিয়ে রাগী গলায় কথাগুলো বলল,আশিক মিষ্টি চিবাতে মুখটা হা হয়ে গেলো। লাল মিষ্টির মধ্যে মরিচের গুঁড়ো মিশানো ছিলো। আর দুধের গ্লাসের মধ্যে লবণ মিশানো ছিলো বিধায় বুঝা যায় নাই। জুসের গ্লাসে মরিচের গুঁড়া ছিলো। সবাই ঝালেতে হাত দিয়ে মুখে বাতাস করতে লাগলো। মিম চোখের ইশারায় আহিন আলভী কে পার্টি স্প্রে মারতে বললো, সঙ্গে সঙ্গে দুজন দুদিক থেকে পার্টি স্প্রে মেরে দিলো। ছেলেরা হাত দিয়ে মুখে বাতাস করার বদলে হাত দিয়ে মুখ ঢাকতে লাগলো, মেয়েরা মিটিমিটি হেসে রাস্তা ছেড়ে দিলো এবার।

বিয়ে পড়ানো হয়ে গেছে অনেক আগেই! আইরা বোনকে সাজিয়ে নিয়ে এসে আমানের পাশে বসানোর কিছুক্ষণ পড়ে খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষ করে পুনরায় টেজে নিয়ে যাবে বসানোর জন্য। আমানের জুতা খুঁজে না পেয়ে আমান চেয়ারের নিচে খুজতে লাগলো। আরাত মুখে হাসি টেনে হাতে হাত গুঁজে আমানের উদ্দেশ্য বলে উঠলো,
” দুলাভাই কী কিছু হাড়িয়ে ফেলছেন?
আমান কিছু বলতে নেবে মাহির আমানের হয়ে বলে উঠলো,
“কই না তো বিয়াইন, আমাদের ভাবীজান আমাদের ভাইয়ার সঙ্গে দেখতে পারছি।
” মায়া বলে উঠলো,
“জুতা! দুলাভাই মেবি জুতা খুজতাছে?
রাফি

” কী বিয়াইন রা সামান্য জুতা লোভ পর্যন্ত ছাড়তে পারলেন না, জুতা চুরি করা শেষ আপনাদের হায়। আপনারা মানুষ তো নাকি?
আইরা ভ্রু কুঁচকে জানতে চাইলো,
“কেনো আমাদের দেখতে কী এলিয়েন দের মতো লাগছে!
রাফি,
“না না বিয়াইন,আপনাকে তো আমার ঘরের বউ বউ লাগছে!
রাফির দুষ্টুমি তে আইরার হাসিমুখ চুপসে গেলো। আনাস এদিকে আরছিলো রাফির কথায় দাঁতে দাঁত চেপে সামনে চেয়ে রইলো। আইরা আনাস কে দেখতে পেয়ে রাফির কথায় মুচকি হেসে লজ্জা ফুটে তুললো মুখে,
” কী যে বলেন না বিয়াই!
আনাস আইরার মুখের রিয়াকশন দেখে রাগী গলায় চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,

” জুতা চুরি করা কেমন মজা, জুতা কোথায় রেখেছিস দ্রুত বের করে দিয়ে দে।
আশিক আনাস সের রাগী লুক দেখে আরো রাগাতে বলে উঠলো,
“দোস্ত তুই মুরব্বিদের মতো রেগে যাচ্ছিস কেনো! তোর ভালো না লাগলে চোখ-কান বন্ধ রাখ! আইরা বনু তুমি কন্টিনিউ করো কোথায় যেনো ছিলা?
” ভাইয়া জুতা তে ছিলাম, বিয়াই সাব জুতা চাইলে পয়সা বের করুন !
আনাস রাগী চোখে আইরা কে দেখতে লাগলো। আইরা আনাস কে দেখে বেশি বেশি করে রাফির সঙ্গে কথা বলছে। আনাস কে রেগে যেতে দেখে আশিক হাবীব আরাত আদিল মায়া আনাস সের দিকে চেয়ে রইলো,
আইরা হাত দিয়ে ইশারায় বলল,

” বিয়াই সাব পয়সা! পয়সা!
আশিক চিল্লিয়ে আহিন কে বলল, বক্সে চালু দিতে আশিকের কথায় আহিন দৌড়ে গিয়ে… Joote de do মিউজিকটা দিলো, মিউজিকের তালে তালে আরাত রাফির দিকে এগিয়ে যেতে যেতে
“Aji note Gino Jl…
রাফি হাত দিয়ে জুতা নিয়ে আসতে ইশারা করলো “Joote lao…
আরাত মাহিরের দিকে এগিয়ে গিয়ে,
Jid chhodo ji…
মাহির আরাতের দিকে তাকিয়ে কোটের হাতটা উপরের তুলতে তুলতে,
Joote lao…
মিম,
Fraud halh kya hum…?
আরশ,
Tumhi hi Jano…!
মায়া,
Akadu ho tum…
আশিক মাহির আরশ রাফি হাবীব আদিল একসঙ্গে,
Jo bhi mano
Jo bhi mano
Jo bhi mano

আনাস চেয়ারে বসে রাগী লুকে আইরার দিকে তাকিয়ে আছে। আইরা একনজর আনাস কে দেখে পুনরায় হাসিমুখে রাফির দিকে তাকিয়ে হাত দিয়ে ইশারায়,
“Aji baat badhegi…
রাফি,
Badh jane do…
আরাত,
Mang chadhegi
মাহির,
Chadh jane do
মিম নক আশরের দিকে তাক করে চোখ কুঁচকে
Pado na aise..
আরশ,
Pehle joote
সন্ধ্যা আর মিরা চুপচাপ এক সাইটে চেয়ার নিয়ে বসে এনজয় করছে, মায়া কোথায় থেকে জুতা নিয়ে এসে জুতা দেখাতে দেখাতে বলল,
“Pehle paise….
মাহির রাফি আরশ জুতা দেখে হাত বাড়ে দিয়ে,
Pehle joote…!
Pehle joote…!
আরাত ডান্স করতে করতে,
Joote liye hai….Nhi churaya koi jevar
আইরা রাফির সামনে, বাঁকা হেসে
Dulhan ke devar.. Tum dikhlao na Yun tevar….
আইরা আরাত মিম মায়া একসঙ্গে,
Palse de do… Joote le lo
Palse de do… Joote le lo

চুপপপপ….
আরিশার চিৎকার শুনে সবাই চুপচাপ দাড়িয়ে গেলো, আরিশা ইনোসেন্ট ফেস করে আরাত আর আইরা দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
” আমার বরের জুতা দিয়ে দে?
সঙ্গে সঙ্গে মেয়েদের মুখ হা হয়ে গেলো, ছেলেরা চিল্লায়ে উঠলো আরশ সিটি বাজালো। আরাত আরিশা কে বলে,
” আপু তুমি না আমাদের দলে?
“হ্যাঁ ছিলাম, যতক্ষণ তোদের বোন ছিলাম ততক্ষণ তোদের দলে ছিলাম। এখন আমি আমার বরের দলে। দে আমার বরের জুতা দিয়ে দে!
ছেলেরা পুনরায় চিল্লিয়ে উঠলো, আমান খুশি হয়ে আরিশার দিকে আরেকটু চেপে বসে একটু ভাব নিয়ে সবার দিকে ইশারায় দেখিয়ে দিয়ে বলল,
” মেরা বিবিজান ।

আরাত আইরা মায়া সন্ধ্যা মিম আহিন আলভী সবাই একসঙ্গে চিল্লিয়ে উঠলো,
“চিটিং চিটিং আপু তুমি এভাবে পাল্টি মারতে পারো না! তুমি সবে সবে বিয়ে করে এতদিনের বোন কাজিন কে এভাবে ভুলে যেতে পারো না!
“কেনো পারবো না! তোরা আমার ভোলাভালা বরটার কাছে আমাকে ভাঙ্গিয়ে টাকা গুলো নিয়ে নিচ্ছিস, আর আমি চুপচাপ বসে বসে দেখবো নাকি! বউ হিসাবে আমার একটা দায়িত্ব আছে না।
আইরা আরিশার কাছে গিয়ে মলিন মুখে আরিশাকে জরিয়ে ধরে বলে উঠলো,
” বিয়ের সঙ্গে সঙ্গে আমার বোনটা আমাদের থেকে দূরত্ব সৃষ্টি করছে, তোকে খুব মিস করবো রে আপু!
আরিশা আইরা কে একিভাবে জরিয়ে ধরে বলল,

“তাহলে আমার দেওরের বউ হয়ে যা! কী হবি রাফি মির্জার পুরো জীবনের সুখ?
আইরা মজা করে আরিশা কে জরিয়ে ধরায় আরিশা সুযোগ বুঝে প্রশ্ন করলো। নিমেষেই হাসিমজা হইহুল্লার পরিবেশ টা কিছুটা নীরব হয়ে গেলো। অনেকেই আইরার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে উওরের আশায়। আইরার চোখ সামনের ব্যাক্তির উপর। আরিশার কথায় আনাস সের কানে পরতেই রাগী চোখমুখ শীতল হয়ে এলো। রাফি আইরার দিকে তাকিয়ে আইরার চোখ অনুসরণ করে সামনে আনাস সের দিকে তাকালো। আনাস আইরার উওরের আশায় না থেকে চেয়ার থেকে ওঠে দ্রুত পায়ে জায়গা ত্যাগ করল। আনাস সের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আরিশা বোনের উপর তাচ্ছিল্য হাসলো। রাফি আনাস সের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মুখে সামান্য হাসি এনে আইরা কে উদ্দেশ্য করে বলে,
” বেইয়ান! ভাবীজানের প্রশ্নের উওর কিন্তু পেইলাম না?
আইরা আনাস সের চলে যাওয়ার দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে রাফির দিকে রাখলো। রাফিও তাকালো আইরার দিকে। আইরা কিছুক্ষণ নীরব হয়ে রাফির দিকে চেয়ে থেকে একহাতে লেহেঙ্গা ধরে দৌড়ে চলে গেলো বাড়ির ভিতরে।

আনাস ধীরপায়ে এসে তাকবীরের রুমের দরজাটা খুললো। রুমের ভিতর দিয়ে বেলকনিতে গিয়ে তাকবীরের পাশে গিয়ে বসলো। নীরবতায় কেটে গেলো কিছুমুহূর্ত। আনাস চোখ তুলে রাখলো তাকবীরের দিকে। তাকবীরের শরীরে ব্ল্যাক হুডি এবং টাউজার। মাথার কেপটা টি-টেবিলে ফোনের পাশে রাখা। তাকবীর কে টি-টেবিলে পা রেখে সোফায় মাথাটা এলিয়ে দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে। আনাস ঠান্ডা কন্ঠে তাকবীর কে ডাকলো,

” ভাইয়া?
“বল….!
তাকবীর কে আগের ন্যায় আকাশের দিকে তাকিয়ে জবাব দিতে দেখে আনাস পুনরায় বলল,
” ভাইয়া ভালোবাসা মানে কি?
তাকবীর এবার খানিকটা নড়েচড়ে বসলো, আনাস সের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই আনাস তাকবীরের চোখে চেয়ে পুনরায় বলল,
” তোমার তো ভালোবাসার অর্থ জানা! বলো না ভাইয়া ভালোবাসার অনুভূতি কেমন হয়?
তাকবীর আনাস সের দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে ধীরকন্ঠে আনাস কে বলল,
“চোখ বন্ধ রেখে কল্পনা কর! তোর অতি প্রিয় মানুষটা এখন অন্য কারো।
আনাস অবুঝ নয়নে চেয়ে রইলো তাকবীরের দিকে। তাকবীর আনাস সের তাকিয়ে থাকা দেখে সামান্য ঠোঁটের কনে মলিন হাসলো। পুনরায় দুজনের মধ্যে নীরবতা ছেয়ে গেলো। দুজনের নীরবতার মধ্যে দিয়ে আনাস সের ফোনে টিংটন মেসেজের শব্দ শুনা গেলো। আনাস ফোন হাতে নিয়ে দেখে আদিলের মেসেজ। আনাস মেসেজ চেক করে তাকবীর কে বলে,

” ভাইয়া ফুপি আরিশার বিদায়ে কান্না করছে! আমাদের নিচে যাওয়া প্রয়োজন।
ফুপি কান্না করছে, কথাটা কানে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকবীর সোফা থেকে ওঠে নিচে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো। তাকবীরের পিছনে আনাস যেতে লাগলো। রুম থেকে দ্রুত পায়ে বের হয়ে সিড়ির কাছে পৌছাতে মিম নিচ থেকে আনাস সের উদ্দেশ্য গলা উঁচিয়ে বলল,
“ভাইয়া আইরা আপুকে একটু ডাকবেন! আরিশা আপু আইরা আপুকে খুজতাছে প্লিজ দ্রুত আইরা আপুকে গার্ডেনে নিয়ে আসেন।
মিম যেভাবে এসেছিলো একেইভাবে আনাস সের উওর না শুনে দ্রুত পায়ে বাড়ির বাহিরে চলে গেলো। আনাস সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে আইরার রুমের দিকে তাকালো একবার। তাকবীর আনাস কে রেখেই দ্রুত পায়ে নিচে নেমে গেলো। আনাস পুনরায় ঘুরে আইরার রুমের সামনে এলো, রুম লক না করে দ্রুতপায়ে রুমের ভিতরে ঢুকে গিয়ে দেখলো। আইরা চুপচাপ হাঁটুতে মুখ গুঁজে কান্না করছে।

” ইরা…!
আনাস সের কন্ঠ শুনে চোখভরা পানি নিয়ে সামনে দিকে তাকালো আইরা। আইরার চোখের পানি দেখে আনাস সের বুকে কিছু হয়তো হইলো। আনস পুনরায় নিজেকে পাওা না দিয়ে আইরা কে বলল,
“আরিশা তোকে খুঁজছে! চল নিচে যাইবি।
আইরা ভাঙ্গা গলায় আনাস কে বলল,
” তুমি যাও আনাস ভাই! আমি যাইতেছি ।
“যাইতেছি মানে! কান্না করতে করতে চোখমুখ মৌমাছির চাক বানিয়ে ফেলছিস! এখন বলছিস আমাকে রুম থেকে চলে যেতে। আমি রুম থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবার শুরু করবি?
আইরা আনাস কে কিছু বলতে নেবে আনাস আইরার হাত টেনে ধরে বাহিরে নিয়ে যেতে যেতে বলল,
” মুখটা বন্ধ রেখে চল আমার সঙ্গে।
আইরা আনাস সের পিছনে হাঁটতে হাঁটতে মনের মধ্যে কিছুক্ষণ আগে আনাস কে ঘিরে যে অভিমান গুলো জমেছিলো। আনাস অধিকার ঘাঁটিয়ে শাসন করায় অভিমানী আইরা আনাস সের প্রতি আরো গভীর ভাবে দুর্বল হয়ে পড়লো। আনাস বাড়ির বাহিরে গার্ডেনে এসে আইরার হাতটা ছেড়ে দিলো। রাফি দূর থেকে আনাস আর আইরার দিকে শুধু চেয়ে রইলো।

আনহা শেখ মেয়ের বিদায়ে কান্না করছে। তাকবীর আনহা শেখ কে জরিয়ে ধরে সান্তনা দিতে দিতে আদিল কে বলল, সবাইকে বাড়ির ভিতরে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু না আজ যেনো তাকবীরের কথা কেউ শুনছে না একপাশে রাহিমা সুলতানা রাবেয়া তালুকদার আদিবা তালুকদার কান্না করছে। তাদের সামলাচ্ছে মায়া আর সন্ধ্যা। আদনান তালুকদার চেয়ারে বসে চোখের চশমা টা খুলে চোখের কনের পানিটুকু মুছলেন। আহাদ তালুকদার আর আতিফ তালুকদার, আরিশা কে আমান এবং আমানের বাবার হাতে তুলে দিলো। এতদিনের যত্নকরা আমানত কে অন্যর করে দিয়ে দিলো সাড়াজীবনের জন্য। এতদিন নিজের হাতে একটু একটু করে গড়ে তোলা বড়ো করা কলিজার টুকরা কে নিজেদের ইচ্ছাতে নিজেদের থেকে আলেদা করলো। এখন আর চাইলেও হুটহাট মেয়েকে কাছে ডাকতে পারবে না। নিজের পাশে নিয়ে গল্প করতে পারবে না। আরিশা নিজের বাবা কে জরিয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো । আইরা কে নিজের দিকে আসতে দেখে বাবার বুক থেকে উঠে দৌড়ে গিয়ে বোন কে জরিয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো। আইরা বোন কে জরিয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো।

সবার চোখে পানি। তাকবীর আনাস কে আনহা শেখ কে ধরতে বলতেই আনাস এসে নিজের ফুপি কে তাকবীরের কাছে থেকে নিয়ে নিজের বুকে যত্ন করে সান্ত্বনা সরুপ আগলিয়ে নিলো। আরাত এসে আইরা কে আগলিয়ে নিলো। আমান এসে আরিশা কে নিজের বুকে আগলিয়ে নিলো। তাকবীর আমানের বাবার উদ্দেশ্য বলল,
” আঙ্কেল আপনারা গাড়িতে উঠে পরুন আর আমান তুমি আরিশা কে নিয়ে গাড়িতে উঠো।
তাকবীরের কথায় সায় জানিয়ে একে একে সবাই গাড়িতে উঠতে লাগলো। আদিল আশিক হাবীব এগে এসে গেস্টদের গাড়িতে উঠতে হেল্প করছে। তাকবীর আমান আর আরিশা কে গাড়িতে তুলে দিয়ে সাইটে দাড়ালো। মাহির এতক্ষণ যাবত শুধু তাকবীর কে গার্ডেনে আসার পর থেকে তাকিয়ে দেখছিলো।

মাহিরের তাকিয়ে থাকার মধ্যে দিয়ে তাকবীর কয়েক সেকেন্ড মাহিরের দিকে অদ্ভুত নজর তাক করলো। দুজনের সরাসরি চোখাচোখি। মাহির তাকবীরের নাম শুনলেও আজকেই প্রথম দেখলো। মাহির এতক্ষণ তাকবীরের গম্ভীর্য ফলো করছিলো। কান্না করা আনহা শেখ কে খুবই অল্প কথাতে শান্তনা করলো। তাকবীর গার্ডেনে পা দেওয়ার পর থেকে কেনো যেনো পরিবেশ টা পরিবর্তন ঘটলো। তাকবীর দাড়িয়ে থেকে নিজ দায়িত্ব নিয়ে আরিশা কে বিদায় দিলো। বিয়ের গাড়ি চলল,ধীরে ধীরে চোখের আড়ালে চলে গেলো। সবার চোখে পানি। তাকবীর আনহা শেখ কে বাড়ির ভিতরে নিয়ে যেতে বলতেই আনাস আনহা শেখ কে বাড়ির ভিতরে নিয়ে যেতে লাগলো। আস্তে আস্তে বড়োরা বাড়ির ভিতরে চলে গেলো। থেকে গেলো শুধু আতিফ শেখ। বড়ো কলিজার টুকরা কে তো দূর করলো এখন ছোটটাকে সামলাতে হবে।

আতিফ শেখ আইরা আরাতের দিকে এগিয়ে গেলো । আইরা আরাত কে ধরে আশিরার যাওয়ার রাস্তার দিকে চেয়ে আছে এখনো। তাকবীর একবার সাদা লেহেঙ্গা পরিহিত আরাতের দিকে তাকালো। যে কিনা নিজে কান্না করতে করতে আইরা কে সামলাতে ব্যস্ত।
লেহেঙ্গার সঙ্গে লম্বা হালকা কোকড়ানো চুলগুলো ছেড়ে দেওয়া। লেহেঙ্গার ওড়নাটা শাড়ির মতো করে পেচানো। কান্না করার ফলে গোল মুখময় ফুলে উঠে আরো বেশি গুলুমুলু লাগছে। তাকবীর আরাতের মুখের দিকে তাকিয়ে নিজের অজান্তে শব্দহীন হেসে উঠলো। পুনরায় কিছু মনে পড়তেই হাসি মুখটা গম্ভীর করে বড়ো বড়ো পা ফেলে নিমেষেই গার্ডেন তাক করলো তাকবীর ।
আতিফ শেখ আরাতের কাছ থেকে আইরা কে নিজের বুকে আগলিয়ে নিলো। আরাত সন্ধ্যা মায়া আহিন আলভী মিম আশিক হাবীব সবাই গার্ডেনে চেয়ার পেতে বসলো। মনে হচ্ছে নিজেদের ফ্রি লাগছে এখন। মায়া চেয়ারে বসে থাকা আবস্থাতে আইরা কে বলল,

” আইরা এখন একটু শান্ত হ! দেখ আরিশা আপু এতক্ষণে হয়তো শশুর বাড়িতে পৌছিয়ে ঘুমিয়ে পরছে। আর তুই এখনো কান্না করে যাচ্ছিস।
“মায়ার কথায় আশিক হাবীবের দিকে একটু চেপে বসে ফিসফিস করে বলল,
” দোস্ত এই মেয়ে কী পাগল! তুই বল আজকে ওদের ঘুমানো টাইম কই?
“চুপ যা সালা, নিজের মন মাইন্ড ঠিক কর।
দুজের ফিসফিস করাতে আলভী বলল,
” ভাইয়া তোমরা কী নিয়ে কথা বলছো?
” আমার বন্ধুর ভবিষ্যৎ বউয়ের ফ্রেন্ড কে নিয়ে! তুই চুপ যা না-হয়তো তোর বউকে নিয়ে শুরু করবো।
মায়া আশিকের কথায় বিরক্তি হয়ে রেগে বলল,
“সিরিয়াস টাইমে আপনার এই বিখ্যাত অমূল্যহীন বকবক বন্ধ রাখবেন প্লিজ….
আশিক দুষ্টু হেসে,

” সিরিয়াস টাইম এসেছে! আগে বলবে না! তাকে ঠিকমতো আপ্যায়ন করছো তো ভবিষ্যৎ বউ ?
মায়া রাগী গলায়,
” আচ্ছা আপনার কী মনে হচ্ছে না।

দুটো জীবন একসঙ্গে বেড়ে ওঠা! নিজেদের জামাকাপড় ভাগাভাগি করে পড়া। এক বোন রাগ করে খেতে না এলে আরেকজন আদর করে তাকে নিজের হাতে খাইয়ে দেওয়া। হুটহাট কিছু খাওয়ার ইচ্ছা হইলে বোনের কাছে আবদার করা। দুজন ঝগড়া করে মা বাবার কাছে বিচার দেওয়া । খেতে বসে দুবোন মারামারি করা। দুবোন মারামারির শেষে দুজন দুজনের পাশে থাকা। দিন শেষে কেউ কাউকে ছাড়া থাকতে না পাড়া। একিঅপরের ভালো লাগা, ভালোবাসা, দুজনের জীবনের গোপনীয় কথাগুলো নিজেদের মধ্যে শেয়ার করা। বড়ো হয়ে বিয়ে নামে বন্ধন এসে নিমেষেই সবার থেকে আলেদা করে দেয়। মেয়েদের ছোট্ট থেকে বেড়ে ওঠা বাড়িটাও বিয়ের পর আত্মীয় বাড়ি হয়ে যায়। নিজের ঘুমানের অভ্যস্ত রুমটা হয় ফাঁকা পড়ে রয়। নহয়তো অন্য কারো রাজত্বে চলে। বিয়ের পর সবকিছু পরিবর্তন লাগে পরিবার পরিবেশ নিজের জীবন। চাইলেও আর আগের দিনগুলো ফিরে পাওয়া যায় না।

এগুলো কে আপনার সিরিয়াস মনে হচ্ছে না। একটা মেয়ে সবকিছু পেছনে ফেলে রেখে, সামনে নিজেকে নতুন করে সাজায় গড়ে তুলে। তাও স ইচ্ছার। এবার বলুন সিরিয়াস লাগছে মুহূর্ত গুলো অনুভব করুন তো?
“আশিক উত্তর করতে পারলো না চুপচাপ বসে রইলো সত্যি মেয়েদের জীবন আলেদা। এতক্ষণে মায়ার কথা সবাই চুপচাপ শুনছিলো। আতিফ শেখ আইরা কে চুপচাপ মলিন মুখে মায়ার কথা শুনতে দেখে হাত দিয়ে ইশারায় আহিন কে ডাকলো। আহিন এগিয়ে আসতেই কানে কানে কিছু একটা বলাতেই আহিন কে বাড়ির ভিতরে দিকে যেতে দেখা গেলো। আহিন কয়েক সেকেন্ডের মাথায় কয়েকটা লুঙ্গি নিয়ে এসে আতিফ শেখ কে দিলো। সবাই হা হয়ে আতিফ শেখ কে দেখতে লাগলো। আতিফ শেখ ছোট মেয়ের মন ভালো করতে হাবীব আদিল আশিক কে একটা করে লুঙ্গি দিতে দিতে আলভী কে বক্স চালু করতে বলল। আলভী দৌড়ে গিয়ে মিউজিক চালু দিয়ে এসে সবার সঙ্গে একটা লুঙ্গি পড়ে নাচতে লাগলো।

Moochhon ko thoda round ghumake
Anna ke jaisa chashma lagake
Coconut me lassi milake
Aa jaao sare mood banake
Moochhon ko thoda round ghumake
Anna ke jaisa chashma lagake
Coconut me lassi milake
Aa jaao sare mood banake

আইরা আতিফ শেখের দিকে অবিশ্বাস্য চোখে চেয়ে আছে। বয়স্ক হওয়ার সবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ধীরে ধীরে শরীর টা নাড়াচ্ছে। শুধুমাএ মেয়ের মুখের হাসি ফিরিয়ে আনার জন্য। বাবার ইচ্ছাশক্তি দেখে আইরার মুখে হাসি ফিরিয়ে এসেছে অনেক আগেই। এতক্ষণে মিম আরাত সন্ধ্যা মায়া নাচে যোগ দিয়েছে।কিছুক্ষণের মাথায় আতিফ শেখ হাতের ইশারায় মেয়েকে ডাকলেন। আইরা বাবার ডাকে হাসি মুখে আনন্দ করতে করতে সবার সঙ্গে ডান্স করতে লাগলো। সবাই মিলে ওরাধুরা এলোপাতাড়ি যে যেমন পারছে সে সেভাবেই ডান্স করতে লাগলো।

All the Rajini Fans…. Thalaiva
Don’t miss the chance… Thalaiva
All the Rajini Fans… Thalaiva
Don’t miss the chance…Do This!
Lungi dance, Lungi dance, Lungi dance, Lungi dance, Lungi dance, Lungidance,
Lungi dance, Lungi dance, Lungidance,
Lungi dance, Lungi dance, Lungi dance,

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২৩

গানের শেষে সবাই চেয়ার টেনে বসে হাঁপাতে লাগলো। এই রাতে হালকা শীত শীত আবহাওয়া মধ্যে সবার শরীর ঘেমে একাকার। ডান্স তো না যেন সবাই মিলে এলোপাতাড়ি হাত-পা ব্যাম করছিলো এতক্ষণ। কিছুক্ষণ আগে বড়ো মেয়ের জন্য কান্না করা আতিফ শেখ ছোট্ট মেয়ের মন ভালো করতে নিজের হাঁটুর বয়সে ছেলেমেয়ে সঙ্গে মজা করে ডান্স করলো। যদি আনহা শেখ একবার জানতে পায়। তাহলে আতিফ শেখের কপালে দুঃখ কে কেউ খণ্ডাতে পারবে না। হাঁপাতে হাঁপাতে চেয়ারে বসে মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো ভেবে ভদ্রলোক শব্দ করে হেসে উঠলেন। আতিফ শেখের হাসিতে সবাই মিলে শব্দ করে হেঁসে উঠলো।

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২৫