Home তুই আমার বিশ্বাস ছিলি তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৫৬

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৫৬

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৫৬
জান্নাতি আক্তার জারা

___” তুমি তো কোলে করে আসার জন্য ওয়েট করছিলে, ফাস্ট ফ্রেশ হয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে এসো।
কথাটা বলে তাকবীর ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে এলো আরাত তাকবীর কে বকা দিতে দিতে ফ্রেশ হতে লাগলো,কয়েক মিনিট পড়ে তাকবীর পুনরায় ওয়াশরুমে নক করে, আরাত হালকা করে ওয়াশরুমের দরজা খুলে শুধু মুখটা বের করে তাকবীর কে ইশারায় বলে,
___” কেনো নক করছেন?
তাকবীর হাতে করে আরাতের থ্রি পিস নিয়ে আরাত কে লক্ষ করলো,তাকবীরের হাতে থ্রিপিস দেখে আরাত ভিজা হাতে থ্রিপিস তাকবীরের হাত থেকে থাপা মেরে নিয়ে দরজা বন্ধ করতে যাবে, তাকবীর এক হাত দিয়ে দরজা আটকানো বন্ধ করলো, আরাত অবাক চোখে চাইলো, তাকবীর আরাতের অবাক চোখে চাহনি দেখে গম্ভীর গলায় বলল,

___” শ্যাম্পু করে বের হবে।
কথাটা বলে তাকবীর নিজের হাত সরিয়ে নিলো, আরাতের মুখে বিরক্ত ফুটে উঠলো, একে তো ফ্রেশ হতে মন চাইছে না তাঁর উপর শ্যাম্পু, তাকবীর দরজা ছেড়ে দিয়ে হাতে হাত করে দাঁড়িয়ে পুনরায় গম্ভীর গলায় বলে উঠলো,
___” তুমি চাইলে আমি শ্যাম্পু করে দিতে পারি, আসবো ?
আরাত তাকবীরের কথায় ওয়াশরুমের দরজা দ্রুত লাগিয়ে দিয়ে বলল,
___” একদম না।

আরাতের রিঅ্যাকশন দেখে তাকবীর গম্ভীর মুখে এক টুকরো হাসি উপহার দিয়ে রুমেই ভিতরে পোষাক চেঞ্জ করতে লাগলো, ব্ল্যাক টি-শার্ট টাওজার সঙ্গে মাথায় ক্যাপ, তাকবীর সবসময় টি-শার্ট তেই কম্প্যাটিবল করে, যতক্ষণ বাড়িতে থাকে তাঁকে টি-শার্টেই দেখা যায় বেশি, ফর্সা শরীরে ব্ল্যাক টি-শার্ট যেন চকচক করছে, তাকবীর চেঞ্জ করে সোফাতে বসে ফোন স্ক্রল করতে লাগলো, প্রায় দশমিনিট পড়ে আরাত ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে এলো, তাকবীর কে নিজের মনে ফোন স্ক্রল করতে দেখে আরাত বেলকনিতে এসে ভেজা কাপড় গুলো দড়িতে ঝুলিয়ে দিলো, পুনরায় মাথা থেকে আধভেজা তয়লা খুলে মাথার কোমর অবধি বড়বড় হালকা কুঁকড়ানো চুল গুলো একটু হেলিয়ে তয়লা দ্বারা মুছতে লাগলো, নিজের মনে চুলগুলো মুছার মধ্যে কোমরে পুরুষালী হাতের ছোঁয়া পেতেই আরাত কিছুটা কেঁপে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়ালো, মুখে কেনো কথা নেই, কেনো না হাতের ছোঁয়াতে লেগে আছে স্বামীর স্পর্শর স্বাদ,যা আরাত ফিরে না দেখেই চিনতে বুঝতে পারে,তাকবীর আরাত কে পিছন থেকে দু’হাতের মধ্যে বন্দী করে নিয়ে ঘারে নাক ঘষতে লাগলো, আরাতের চোখ বন্ধ, তাকবীর ঠান্ডা ধীর কন্ঠে বলে উঠলো,

___” রাগ ফিনিশ?
আরাত চোখ মেলে তাকালো, তাকবীর আরাতের হাত থেকে তয়লা নিয়ে দড়িতে ঝুলিয়ে দিয়ে আগের ন্যায় আরাত কে পিছন থেকে বুকের সঙ্গে জরিয়ে রেখেই বলল,
___” সবসময় মাথা ঠান্ডা রেখে কথা বলবে,খেয়াল রাখবে তোমার কারণে যেন বিপরীত মানুষ টা কখনো কষ্ট না পায়।
তাকবীরের কথায় আরাত ফুপিয়ে উঠলো, ঘুরে তাকবীর কে জরিয়ে ধরে হাউমাউ করে কান্না করতে করতে বলল,
___” রশ্মি কেনো বদলে গেলো, আমার আগের রশ্মি কে চাই, আমার রশ্মি হারিয়ে যেতে পারে না।
আরাত তাকবীর কে জরিয়ে ধরে হাউমাউ করে কান্না করছে, এতক্ষণ মনের মধ্যে ধরে রাখা কান্না গুলো তাকবীরের বুকে মাথা রেখে বের করে দিচ্ছে, তাকবীর আরাতের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে আরাত কে শান্ত করতে বলে উঠলো,

___” সময় আর মানুষ দুটোই পরিবর্তনশীল, সময় বদলায়, বন্ধুত্ব বদলায়, বন্ধুত্ব হারায়, ঘড়ির কাটা ঘুরার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের অনুভূতি আবেগ,ভালো লাগা চাহিদা বদলে যায়, বাট ভালোবাসা,ভালোবাসা মনের গহীনে বেঁচে থাকে, হয়তো কারো ভবিষ্যতে প্রকাশ পায়, আর কারো ধুলো জমে যায়, মানুষ চাইলেই জমে যাওয়া ধুলো যত্ন করে মুছে নতুন করে সাজিয়ে নিতে পারে, হয়তো এতদিনে সেই ইচ্ছা টুকু মরে যায়, একটা সময় আসে মানুষের সঙ্গে মিশতে ইচ্ছা করে না, আমরা সবাই সবার কাজে ব্যস্ত হয়ে যাই, ব্যস্ততা আমাদের ভালোবাসা ধুলোর আড়ালে জমে পড়ে হারিয়ে দেয়,সবশেষে জীবন গতিশীল, জীবন চলে নিজের নিয়মে, বাস্তবতার কাছে তুমিও হারিয়ে গিয়ে মানিয়ে নিতে শিখে যাবে একদিন।
আরাত ক্ষণে ক্ষণে ফুপিয়ে উঠছে,তাকবীর আরাতের গাল দু’হাতে রেখে আদুরে গলায় পুনরায় বলল,

___” এই পাগল কান্না করছো কেনো, তোমার আমি আসি না ?
আরাত চোখে পানি নিয়ে ঠোঁটে হাসি ফুটে মাথা ঝাকালো, তাকবীর আরাতের চোখে পানি মুছে দিয়ে কপালে ভালোবাসার পরশ রেখে দিলো, পুনরায় আরাত কে কোলে তুলে নিয়ে আরাতের কপালে নিজের কপাল ঠেকে রুমে নিয়ে এলো,আরাত নিস্তব্ধ হয়ে নীরব চোখে দেখছে শুধু তাকবীর কে, তাকবীর আরাত কে আয়নার সামনে বসে দিয়ে হেয়ার ড্রাইয়ার দিয়ে ভেজা চুল গুলো শুকিয়ে দিচ্ছে, আরাত নীরব চোখে দেখেই যাচ্ছে তাকবীর কে, তাকবীর নিজের মতো করে আরাতের চুলগুলো হেয়ার ড্রাইয়ার দিয়ে শুকিয়ে আরাত কে পুনরায় বিছানায় নিয়ে এসে বসালো,তাকবীর যা করছে আরাত রোবটের মতো চুপচাপ বসে দেখছে, তাকবীর পুনরায় আরাতের শ্যাম্পু করা মাথায় একটু খানি তেল দিয়ে মাথা ম্যাসেজ করে দিতে লাগলো, আরাত নিয়মেই চোখ দু’টো বন্ধ করে নিলো, ঠোঁটের কোণে হাসি, কান্নার কারণে মাথাটা ধরেছিল এই ম্যাসেজ টুকু প্রয়োজন ছিলো, তাকবীর ধীরে ধীরে আরাতের কপাল ভ্রু যত্ন সহকারে ম্যাসেজ করে দিতে লাগলো, আরাত প্রায় ঘুমের দেশে তাকবীর গম্ভীর গলায় ভ্রু কুঁচকে বলে উঠলো,

___” তোমরা মেয়েরা সবসময় ঝগড়া লাগলে চুল ধরে টানাটানি করে কেনো?
আরাতের ঘুম শেষ, এই সুন্দর মুহূর্তটা নষ্ট করার জন্য তাকবীরের এই কথাটুকু কমতি ছিলো, আরাত তাকবীরের ম্যাসেজ করে দেওয়ার কারণে চোখ দুটো লেগে এসেছিল, ঘুমে ডিস্টার্ব হওয়ায় ঝট করে চোখ মেলে তাকালো আরাত, মাথা উঁচিয়ে তাকবীরের দিকে চেয়ে রাগী গলায় বলল,
___” চুল ধরে টানাটানি করা মেয়েদের জন্মগত অভ্যাস, যানেন আপনার বাবরিকাটা চুল আমার এতটা ফেবরেট কেনো, আমাকে রাগালে আমি আপনার বাবরি চুল টেনে ধরবো এজন্য।
___” তওবা আস্তাগফিরুল্লাহ বউ, আসো আমার বুকে আসো এতো রাগলে শরীর খারাপ করবে।
আরাতের কথায় তাকবীর আরাত কে এক ঝটকায় নিজের বুকে নিয়ে বিছানায় শুয়ে পরলো, পুনরায় আরাতের মাথা নিজের হাতের উপর রেখে আরেক হাতে আরাতের কপালে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে নীরব কন্ঠে বলল,
___” ঘুমাও বেটার লাগবে।

আরাত কিছু বলল না তাকবীরের হাতের উপর মাথাটা ভালোভাবে ঠিক করে নিয়ে চোখ বন্ধ করে নিলো, সত্যি এখন ঘুম টা খুব প্রয়োজন, আজকেই বিয়ের পর প্রথমবার তাকবীরের সঙ্গে দুপুরে সময় কাটাচ্ছে, অনুভূতিটা অন্য রকম, তাকবীর আরাতের কপালে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে দেখলো আরাত বড়বড় নিশ্বাস ফেলছে, তাকবীর আরাতের দিকে তাকিয়ে ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি এনে আরাতের কপালে চুমু রেখে দিয়ে পুনরায় আরাত কে নিজের বুকের মধ্যে দু’হাতে ভালোভাবে জরিয়ে নিলো,

দুপুর গড়িয়ে বিকালের ঘরে, প্রায় ঘন্টা দুয়েক ঘুমিয়ে আরাত নড়াচড়া করে উঠলো, বিছানায় এপাশ থেকে ওপাশ হতে নিতেই নিজেকে কারো বুকে বন্দি অনুভব হলো, কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ তব্দা খেয়ে ঝিম ধরে থাকার পড়ে বুঝতে পারলো, আরাত কোথায় আর কার বুকে, আরাত নিজের পাগলামিতে মুচকি হেঁসে উঠলো, নড়াচড়া না করে মাথা উঁচিয়ে তাকবীরের মুখের দিকে তাকালো, তাকবীর এতক্ষণ আরাতের নড়াচড়া আর মুখের অঙ্গী-ভঙ্গি ভ্রু কুঁচকে দেখছিলো, আরাত তাকবীরের দিকে চেয়ে থতমত মুখে বলল,

___” গুড মর্নিং ?
আরাতের গুড মনিং শুনে তাকবীরের কুঁচকানো ভ্রু আরো কুঁচকে এলো, আরাত তাকবীর কে এভাবে তাকাতে দেখে শুধালো,
___” কয়টা বাজে?
তাকবীর গম্ভীর গলায় বলল,
___” সাড়ে তিনটা।
আরাত চোখ বড়বড় করে তাকালো, দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে গেছে, আর আরাত এভাবে অসময়ে ঘুমাচ্ছে, আরাত এবার নড়াচড়া করতে লাগলো উঠার জন্য, তাকবীর গম্ভীর গলায় ধমকে বলল,
___” উহু ডিস্টার্ব করছো কেনো?
আরাত নড়াচড়া বন্ধ করে বলল,
___” আমি উঠবো, হাত-পা ব্যাথা করছে।

তাকবীর আরাত কে ছেড়ে দিলো, আরাত যেন নিজের শ্বাস ফিরে পেলো, যতই তাকবীরের বুকে মাথা রেখে ঘুমাক না কেনো, ঘুমের মধ্যে নড়াচড়া না করলে শরীর তো ব্যাথা করবেই,তারমধ্য তাকবীর তো একবারও আরাত কে ছেড়ে দেয়নি এবং সে ঘুমাইনি, পুরোটা সময় চুপচাপ আরাত কে দেখছিলো, আরাতের চোখ মুখ নাক সবকিছু লক্ষ করছিল, আরাত বিছানা থেকে উঠে ওয়াশরুমে চলে গেলো, এদিকে তাকবীর বিছানা থেকে নেমে বাহিরে বের হওয়ার জন্য হাতে ফোনটা নিয়ে আরাতের বের হওয়ার অপেক্ষা করতে লাগলো, আরাত পাঁচ-ছয় মিনিট সময় নিয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে এলো, তাকবীর কে আঁড়চোখে একবার দেখে আয়নার সামনে মাথার কাপড় ঠিক করতে লাগলো, তাকবীরের নজর আরাতের উপর, দুজন দুপুরে লাঞ্চ বিকালে খেতে রুম থেকে বের হবে, এর মধ্যে বাহিরে থেকে দরজা নক করে ডাকতে লাগলো আহিন,

___” আরাত আপু তাড়াতাড়ি নিচে নেমে আসো, রশ্মি আপু বিয়ে করে বাড়ি ফিরছে, আন্টি অনেক চিল্লাচিল্লি করছে, আরাত আপু শুনতে পারছো?
আহিনের কথায় আরাত নিস্তব্ধ হয়ে তাকবীরের দিকে তাকালো, তাকবীর স্বাভাবিক ভাবে বন্ধ দরজা খুলে দিলো, আহিন তাকবীর কে দরজা খুলতে দেখে রুমের ভিতরে উঁকি দিতে নিলো, আহিন কে রুমে ভিতরে উঁকি দিতে দেখে তাকবীর গম্ভীর কন্ঠে বলল,
___” কথা শেষ হয়ে গেলে আসতে পারিস।
আহিন সোজা হয়ে একবার নিজের ভাইয়ের মুখের দিকে তাকালো,
___” আরাত আপু কই ?
তাকবীর আহিনের কথায় রুমের আরাতের দিকে তাকালো,মেয়েটা নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আহিন পুনরায় বলল,
___” আরাত আপু, আরিশা আপুর দেওরের বন্ধু মাহির ভাইয়া ছিলো না, তাঁকে রশ্মি আপু বিয়ে করে বাড়ি ফিরছে।

আরাত এবার নিজের মধ্যে ফিরে এলো, তাকবীরের দিকে তাকাতেই তাকবীর স্বাভাবিক মতো রুম থেকে বের হয়ে নিচে যেতে লাগলো, আরাত আহিন দুজনেই তাকবীরের পিছনে পিছনে নিচে নেমে এলো, তাকবীর রশ্মিদের বাড়িতে না গিয়ে কিচেনের দিকে এগুলো, আহিন তো নিচে নেমেই দৌড়ে রশ্মিদের বাড়িতে গেছে, বাড়িতে তাকবীর আরাত ছাড়া কেউ নেই, সবাই রশ্মিদের বাড়িতে, আরাত দোটানার মধ্যে পড়ে গেলো, যাবে কী না ভাবছে আর তাকবীর কে দেখছে, তাকবীর কিচেন থেকে খাবারের প্লেট সেজে এসে ডাইনিং টেবিলের কাছে এসে আরাতের দিকে তাকালো, আরাত তাকবীরের চাহনিতে তাকবিরের সামনে এসে দাঁড়ালো, তাকবীর আরাত কে চোখের ইশারায় চেয়ারে বসতে বলল,আরাত ভদ্র মেয়ের মতো চোয়ারে বসলে তাকবীর কেনো কথা ছাড়া আরাত কে ভাত মেখে তুলে খাওয়া তে লাগলো, কিছুক্ষণ পরপর রাহিমা সুলতানার চিল্লাচিল্লি ভেসে আসছে তালুকদার বাড়িতে, আরাত ভাত চিবাচ্ছে আর ছটফট করছে রশ্মিদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য, বুকের মধ্যে ধুকধুক করছে সামনে কী হবে বা সেখানে কী হচ্ছে জানার জন্য, তাকবীর কে কিছু বলতেও পারছে না, তাকবীর পুনরায় আরাত কে এক লোকমা মুখের সামনে ধরতেই আরাত মাথা নেড়ে না বুঝালো আর খাবে না, তাকবীর আর জুলুম করলো না আরাত কে, আরাত কয়েক লোকমা খেয়ে কাঁপাকাঁপা হাতে পানির গ্লাস নিয়ে পানি পান করলো, তাকবীর শুধু নীরবে দেখে গেল আরাতের ছটফটানি, আরাত পানি খেয়ে চেয়ারে চুপচাপ মাথা নিচু করে বসে রইলো, তাকবীর আরাতের দিকে চেয়ে মুচকি হাসলো, আরাত ভাবছে আরাত যদি রশ্মিদের বাড়িতে যায় তাকবীর যদি রাগ করে, এই ভয়ে মুখ ফুটে বলতেও পারছে না কিছু, আবার রশ্মিদের বাড়িতে রাহিমা সুলতানা যে ভিষণ রেগে গেছেন, রশ্মির উপর রাগারাগি করছেন, এটা তালুকদার বাড়িতে বসে শোনা বা বুঝা যাচ্ছে, তাকবীর এবার নিজে খেতে খেতে গম্ভীর গলায় বলল,

___” এখন আসতে পারো।
আরাত মুখ তুলে চাইলো তাকবীরের দিকে, তাকবীর নিজের মতো খাবার খাচ্ছে, আরাত আমতা আমতা করে বলল,
___” যাবো ?
তাকবীর পুনরায় নিজের কাজ করতে করতে গম্ভীর গলায় বলল,
___” হুম ।
আরাতের মুখে কিছুক্ষণের জন্য হাসি ফুটে উঠলো, চেয়ার থেকে উঠে দ্রুত পায়ে তালুকদার বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলো, তাকবীর খেতে খেতে আরাতের যাওয়া দেখলো শুধু,
রাহিমা সুলতানা মেয়ের এমন কাজে ভীষণ রকমের রেগে আছেন, এক বার উনার হাসবেন্ড কে ফোন করে বলছেন তো আরেকবার রশ্মির উপর রাগ ঝারছেন,রশ্মি মাহির একিউপরের হাত ধরে ড্রয়িং রুমে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে, ড্রয়িং রুমে জুড়ে হইচই চলছে রশ্মি মাহির কে ঘিরে, কারো ধারণা নেই রশ্মি এমন একটা কাজ করে বাড়ি ফিরবে, আদিবা তালুকদার রাবেয়া তালুকদার বারবার বলছেন তুমি মাহির কে পছন্দ করেছে এটা বাড়িতে বললে না কেনো, আমরা সবাই মিলে তোমাদের ধুমধামে বিয়ে দিতাম, এমন আরো নানার রকম কথা বলছেন তারা, এতক্ষণে অফিসে ফোন করে আদনান তালুকদার আহাদ তালুকদার বাড়িতে ফিরতে বলেছেন, বাড়ির মেয়ে এতবড় একটা কাজ করে ফিরেছে বলতে তো হবেই, রাহিমা সুলতানার রাগ যাচ্ছে না, তালুকদার বাড়ির আর কেউ না জানুক রাহিমা সুলতানা সবকিছু জানে, মাহির আরাতের এক্স বয়ফ্রেন্ড, তিনি সবকিছু জেনে-বুঝে মেয়ের পাশে মাহির কে মানতে পারছেন না, তারউপর একদম বিয়ে করে বাড়ি ফিরছে, রাহিমা সুলতানা রাগী গলায় বললেন,

___” অনেক হয়েছে নাটক তোমরা এখন আসতে পারো।
রাহিমা সুলতানার কথায় মাহির মিরা অপমান বোধ করলো, রশ্মি রাহিমা সুলতানার কথায় বলে উঠলো,
___” আমরা চলে যাবো, তোমার কাছে দোয়া নিতে এসেছি, তুমি মন থেকে আমাদের নতুন জীবনের জন্য দোয়া করো, আমাদের নতুন জীবন যেন সুখময় হয়ে উঠে।
রাহিমা সুলতানা রশ্মির কথায় তাচ্ছিল্য হাসলো,
___” দোয়া, আমি দোয়া করবো তোমাদের, আমাদের না জানিয়ে বিয়ে করেছো, আমাদের দোয়া ছাড়া সুখী হতে পারবে, তবে আরেকটা কথা কখনো এই বাড়ির আশেপাশে যেন তোমার ছায়া না দেখা যায়।
রশ্মি মায়ের কথায় কান্না করছে, রাহিমা সুলতানার কথায় রাবেয়া তালুকদার বলে উঠলেন,
___” রাহিমা, রশ্মি তোমার মেয়ে, আমাদের বাড়ির মেয়ে, তুমি এভাবে বলছো কেনো, একটা ভুল করেছে আমরা বাবা-মা হিসাবে ভুলটা মেনে নিবো।
রাবেয়া তালুকদারের কথায় রাহিমা সুলতানা রশ্মির দিকে তাকিয়ে বললেন,

___” ভুল, কোনটা ভুল ভাবি,সবকিছু জেনে-বুঝে ভুল করাকে ভুল বলে কী,না এটাকে ভুল না অন্যায় বলে, এই ছেলের জায়গায় অন্য ছেলে হলে আমি কিছু বলতাম না, মেনে নিতাম কিন্তু এই ছেলে…
মাহির এতক্ষণে বুঝে গেছে রাহিমা সুলতানা সবকিছু জানে, লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে আছে মাহির, আবেগের বসে একটা ভুল করে এই ভুলের জন্য মাথা নিচু করে থাকা ছাড়া জোর গলায় কিছুই বলতে পারছে না, রশ্মি কে বিয়ে করে নিজের বাড়িতে যেতে চেয়েছিল, কিন্তু রশ্মি প্রথমে নিজের বাড়িতে আসবে, মা বাবা এবং তালুকদার বাড়ির সবার দোয়া নিয়ে তবেই নতুন জীবন শুরু করবে, বোকা রশ্মি এটা বুঝলো না, বিয়ে না করে ফ্যামিলিকে জানালে, একটু নাকচ করতো কিন্তু দিনশেষে সব মেনে নিতো একটা সমাধান বের করতো, তাসিন যখন বলল,আরাত আর মাহিরের বিষয়টা বাড়িতে জানালে উনারা তোমাদের মেনে নিবে না, কথাটা রশ্মির কাছে যুক্তিসংযুক্ত মনে হয়েছে, এই কারণে বিয়ে করে বাড়ি ফিরছে, বিয়ে যেহেতু হয়ে গেছে আজকে মেনে না নিলে দুদিন পড়ে তো নিবে, আর যদি বিয়ে না করে বাড়ি ফিরতো রাহিমা সুলতানা যদি জানতো মাহির কে রশ্মি ভালোবাসে আর মাহির আরাত কে চিট করেছে, তখন রাহিমা সুলতানা বা তালুকদার বাড়ির কেউ রশ্মির সঙ্গে মাহিরের বিয়ে হতে দিতো না, রশ্মি যেহেতু মাহির কে ভালোবাসে, ভালোবাসার কথা তো বাড়িতে বলতেই হতো,তখন তো রশ্মি আর মাহির কে মানতো না, রাহিমা সুলতানা কে এতটা রিয়েক্ট করতে দেখে আদিবা তালুকদার বুঝানোর ন্যায় বলে উঠলেন,

___” এই ছেলে কী ভাবি, দেখতে খারাপ না সবদিক থেকে পারফেক্ট, মানলাম মেয়ে একটা ভুল করেছে, আপনি বলেন মাহিরের ফ্যামিলি থেকে সম্বোধন আসলে আপনি রাজি হইতেন না, অবশ্যই হতেন ছেলে খারাপ না উচ্চ ফ্যামিলি, এখন মেয়ে একটা ভুল করেছে আমাদের মেনে নিতে সমস্যা কই?
আদিবা তালুকদার কথায় রাবেয়া তালুকদার সায় জানালো, মিরা মিম পাশাপাশি দাঁড়িয়ে কাচুমাচু করে দেখছে শুধু, রশ্মির চোখ থেকে পানি পরছে অনগর, রাহিমা সুলতানা আদিবা তালুকদারের দিকে চেয়ে বললেন,

___” এখন মেনে নিতে বলছেন তো, সত্যিটা জানলে আপনিই বাঁধা দিবেন।
আরাত রশ্মিদের বাড়িতে এসে দাঁড়াতেই রাহিমা সুলতানার কথাটা কানে পড়লো, আরাতের মনে ভয় এসে ঝাকা দিলো, বাড়ির কেউ জানে না আরাত বিয়ের আগে অন্য ছেলের সঙ্গে রিলেশনে ছিলো, আজকে রশ্মি মাহিরের বিয়ের জন্য সবকিছু সবার সামনে এসে দাঁড়ালো, আরাত সদর দরজায় দাঁড়িয়ে রশ্মির দিকে তাকিয়ে আছে, একটা লাল টকটকে সিম্পেল শাড়ি পড়নে, মাহিরের শরীরে সাদা পাঞ্জাবি, দুজনের হাত একিউপরের হাতে বন্দী,মাহিরের পাশে রশ্মি কে বউ রুপে দেখে আরাতের খারাপ লাগছে না, খারাপ লাগছে এতকিছুর পরও মাহির কে রশ্মি বিয়ে করলো, একবারও পরিবারের কথা ভাবলো না, দুই পরিবারের এত বছরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, যদি সবকিছু সবাই জানতে পারে তাহলে এক নিমেষেই হয়তো সেই সম্পর্ক টা থাকবে না, আচ্ছা ভালোবাসা কী বাঁধা মানে, পরিবার জাত মানে, একদম না, যেখানে আমাদের যাওয়া নিষেধ যাঁর দিকে চাওয়া নিষেধ, তাঁর দিকে ঝোঁক টা বরাবরই থাকে বেশি, কথায় আসে না নিষিদ্ধ জিনিসের উপর আমাদের আকর্ষণ একটু বেশিই থাকে, রশ্মি নিজের দুই পরিবার আর বন্ধুত্ব ভুলে গিয়ে নিজের অজান্তে আসক্ত হয়ে গেছে ভুল মানুষের প্রতি, আদিবা তালুকদার অবাক কন্ঠে রাহিমা সুলতানা কে বললেন,

___” মেনে নিবো না কেনো, মেয়েরা ভুল করতেই পারে, আর ভুলটা অন্তত আমাদের মেয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ না।
রাহিমা সুলতানা রশ্মির দিকে তাকালো, রাগী গলায় রশ্মির দুঘার ধরে ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে হিসহিসিয়ে বললেন,
___” শুনেছিস, তোর একবারও মনে পড়লো না, এই পরিবারের কথা, পরিবার বাদ দে একবারও আরাতের কথা মনে পরলো না?
রাহিমা সুলতানার পরিবার আরাত, অন্য ছেলে হলে মেনে নিতো মাহির কে মানবে না, এ-সব বারবার বলার কারণে আদিবা তালুকদার আর রাবেয়া তালুকদার বিরক্ত হলেন রাহিমা সুলতানার উপর, কথা চলছে রশ্মি মাহির কে নিয়ে, সেখানে পরিবার কেন বা আরাত কেন, আরাতের কথা কেনো মনে করতে হবে, রশ্মি কী নিজের জীবনসঙ্গী নিজে ঠিক করতে পারবে না আরাতের পছন্দ বিয়ে করতে হবে, আর রশ্মিরাত এক কলেজে পড়ে, আরাত নিশ্চয় রশ্মি আর মাহিরের রিলেশনের ব্যাপারে জানতো, এ-সব ভাবতে ভাবতে আদিবা তালুকদার আরাত কে সদর দরজায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রাহিমা সুলতানা কে উদ্দেশ্য করে বললেন,

___” কী তখন থেকে পরিবার আরাত নিয়ে পড়ে আসেন ভাবি, আমাদের কথা বাদ দিয়ে রশ্মি মাহির কে নিয়ে ভাবেন, ছেলেমেয়ে ভুল করেছে, কিভাবে সমাধান মিলবে এটা ভাবেন, আর আরাত তো রশ্মির সবকিছু জানে, রশ্মি মাহিরের সঙ্গে রিলেশনে ছিলো আরাত জানার কথা, তাহলে বারবার রশ্মি কে কেনো বলছেন আরাতের কথা মনে করতে ?
আদিবা তালুকদার ক্ষিপ্ত কন্ঠে বললো কথাগুলো, আরাত কে দেখে পুনরায় আরাত কে বলতে লাগলো,

___” আরাত এদিকে শুনো, তুমি জানতে না রশ্মি মাহির রিলেশন আছে, ওরা আজকে বিয়ে করছে, জানতে না?
আরাত মায়ের কথায় চুপ করে আছে, কী বলবে আর কী উত্তর দিবে জানা নেই, এখন মনে হচ্ছে এখানে আসা টাই ঠিক হয়নি, কিন্তু কী করবে, প্রানের চেয়ে প্রিয় বেস্ট ফ্রেন্ড কে এমন সময় একা ছারবে কী করে, হয়েছে তাদের মধ্যে মানঅভিমান কিন্তু তাঁরা তো বেস্ট ফ্রেন্ড, আদিবা তালুকদারের মুখে আরাতের নাম শুনে সবার নজর আরাতের উপর পড়লো, আরাত সবাই কে একপলক দেখে নিয়ে মাথা নিচু করে রইলো, কান্না করে চোখমুখ ফুলিয়ে গেছে তারউপর ঘুমের কারণে আরো বেশি ফুলা ফুলা লাগছে গালগুলো, আরাত কে চুপ করে থাকতে দেখে আদিবা তালুকদার ভেবে নিলেন আরাত সব জানতো, কথাটা ভেবে নিয়ে নিজের মেয়ের উপর চেচামেচি করতে লাগলো,

___” তুমি সবকিছু জানার পড়ে রশ্মি কে সায় দিয়েছো কেনো, বাড়িতে বললে আমরা মেনে নিতাম না, এভাবে কাউকে কিছু না জানিয়ে বিয়ে করে আসার মানে টা কী, তোমরা অনেক বড় হয়ে গেছে, পরিবারের মানসম্মানের কথা একটা বার ভাবছো না, তোমার আহ্লাদে এতকিছু ঘটে গেছে, বাড়িতে বললে আমরা দুই পরিবার বসতাম কথা বলাতাম তারপর আনুষ্ঠানিক ভাবে ওদের বিয়ে দিতাম, আর তোমরা না জানিয়ে রশ্মির বিয়ে দিয়েছো!
আরাত মিম দু’জনেই মনে ভয় হচ্ছে, রশ্মি মাহিরের বিয়ের কথা শুনে আদিবা তালুকদার এমন রিয়েক্ট করছে যদি যানতে পারে মিম আরশের বিয়ের খবর, তখন কীভাবে রিয়েক্ট করবে,তাসিন এতক্ষণ সোফাতে বসে সবার কথা শুনছিলো, রাহিমা সুলতানার কথায় বুঝতে পারছে, মাহির আরাতের রিলেশনের কথা কেউ জানে না, তাসিন বাঁকা হাসি দিলো, এসেছিল রশ্মি মাহিরের আগুনে ঘি হিসাবে মিম আরশের বিয়ে কথা সবাই কে জানাতে, এখানে এসে তো একিবারে কেরোসিন তেল পেয়ে গেলো, আরাত কে মাথা নিচু করতে দেখে তাসিন গালে হাত দিয়ে রুপার দিকে তাকালো, রুপা তাসিনের চাহনি দেখে তাসিনের হাত চেপে ধরে বিরবির করে বলল,

___” তুই যা করতে এসেছিস, সব চেপে যা, কলেজে যেভাবে থাপ্পড় দিলো এখন তো ওদের বাড়িতে আমরা…..
তাসিন রুপার কথায় বাঁকা হাসলো, তাসিন জানে আরাত কলেজে যাই করুক বাড়িতে ওর পরিবারের সামনে কিছু করবে না আর এটাই সুযোগ, আদিবা তালুকদারের কথায় মিরা সাইট থেকে ভয়ে ভয়ে বলে উঠলো,
___” আন্টি আরাত, ভাইয়া রশ্মি আপুর বিয়ে তে ছিলো না, ও কিছু জানে না এই ব্যাপারে।
মিরার কথায় আদিবা তালুকদার মিরার দিকে চেয়ে বলল,
___” তুমি কে?
মিরা আরিশা আমানের বিয়ে তে তালুকদার বাড়িতে এসেছিল, বিযের মধ্যে আদিবা তালুকদার বা বড়দের সঙ্গে পরিচয় হয়নি তাই আদিবা তালুকদার মিরা কে চিনতে পারছে না, তারউপর মিরাও বড়দের কাউকে চিনে না, রাহিমা সুলতানা আর আদিবা তালুকদারের কথায় উপর বুঝতে পারছে, দুজন রশ্মিরাতের মা, মিরা প্রথম বার তাঁদের সঙ্গে কথা বলাতে সংকোচ করে আমতা আমতা করতে করতে বলল,

___” আমি মাহির ভাইয়ার বোন।
আদিবা তালুকদার ছোট করে বললেন,
___” ও , আরাত না থাকলে কী হবে সব নষ্টের মূল ও, আমার মেয়ে আমি চিনি মা, সবার আদরে আহ্লাদে বাঁদর হয়ে গেছে।
আদিবা তালুকদারের কথায় মধ্যে আদনান তালুকদার আহাদ তালুকদার কে আসতে দেখা গেলো, উনারা গম্ভীর মুখে রশ্মিদের বাড়িতে প্রবেশ করে, রশ্মিরাত মিম উনাদের দেখে আরো চুপসে যায়, মাহির ভদ্রলোক দের দেখে রশ্মির হাত শক্ত করে চেপে ধরে, আদনান তালুকদার আহাদ তালুকদার বাড়িতে ঢুকতেই রাবেয়া তালুকদার মাহির রশ্মির বিয়ের ব্যাপার টা খুলে বলেন, আহাদ তালুকদার সাইটে যায় রশ্মির বাবার সঙ্গে কথা বলার জন্য, মেয়ে ভুল করেছে উনার থেকে জানতে তো হবে উনি কী চায়, আদনান তালুকদার গম্ভীর মুখে মাহির কে দেখছে, আরিশার বিয়েতে মাহির কে দেখেছিলো, উনার ধারণা ছিলো মাহির জ্ঞানী বুঝদার এক ছেলে, কিন্তু মাহির যে এই কাজ করবে উনার ধারনার বাহিরে ছিলো, মাহির এতক্ষণে রশ্মির হাত ধরে রেখেই আদনান তালুকদারের সামনে এসে দাঁড়ালো, মাথা নিচু করে বলে উঠলো,

___” আঙ্কেল আমরা ভুল করেছি আপনাদের না জানিয়ে বিয়ে করা আমাদের ঠিক হয়নি, তাঁর জন্য আমাদের যা শাস্তি দিবেন দিন, বাট আঙ্কেল আমাদের ভুল গুলো মেনে নিয়ে আমাদের দোয়া দেন, রশ্মি আপনাদের আদরের মেয়ে আমি জানি আপনারা আমাদের দূরে ফেলতে পারবেন না।
আদনান তালুকদার কী বলবেন ভেবে পেলেন না, রাহিমা সুলতানা মাহিরের কথায় তেতে উঠলেন,
___” হ্যাঁ রশ্মি আমাদের আদরের মেয়ে এই সুযোগ তুমি কাজে লাগাছো, তুমি ভুলে গেছে শুধু রশ্মি না আমাদের আদরের মেয়ে কিন্তু আরাত ও।
রাহিমা সুলতানার কথা অন্যরা না বুঝলেও মাহির রশ্মিরাত মিম তাসির ঠিকই বুঝতে পারছে, মাহির শাশুড়ীর কথায় মাথা নিচু করলো, রশ্মি নিজের মায়ের কথায় ক্ষিপ্ত হলো, অভিযোগের সুরে বলে উঠলো ,

___” আম্মু এখানে আমার আর মাহিরের কথা চলছে, আমাদের মধ্যে আরাত কে না আনলেই না ?
রশ্মির কথায় আরাত মলিন হেঁসে দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেললো, রাহিমা সুলতানা মেয়ের কথায় তিক্ত কন্ঠে বলল,
___” তোমাদের মধ্যে আরাত ছিলো না?
আদনান তালুকদার আহাদ তালুকদার রাবেয়া তালুকদার রাহিমা সুলতানার কথা বুঝতে না পেয়ে শুধু শুনে যাচ্ছে, আদিবা তালুকদার এবারও রশ্মির কথার মধ্যে আরাত কে টানতে দেখে বিরক্ত মুখে বললেন,
___” আমি বুঝতে পারছি না ভাবি, আপনি বারবার আরাত কে কেনো রশ্মি মাহিরের মধ্যে ঢোকাচ্ছেন, হ্যাঁ মানছি রশ্মিরাত ফ্রেন্ড, দুজন দুজনকে ছাড়া কিছু বুঝে না, আরাতের বিয়ে হয়ে গেছে রশ্মি কী বিয়ে করতে পারে না, হ্যাঁ মানছি রশ্মি আমাদের না জানিয়ে বিয়ে করছে এটা ওদের অপরাধ, কিন্তু আপনি বারবার আরাত কে কেনো ওঁদের মধ্যে টানছেন?
আদিবা তালুকদারের কথায় মধ্যে রাহিমা সুলতানা অসহায় মুখে সোফাতে বসে পরলেন, না পারছে সবকিছু খুলে বলতে না পারছে মেনে নিতে, শুধু অসহায় হয়ে রশ্মির দিকে তাকালো তিনি, তাসিন অবাক হওয়ার ন্যায় বলে উঠলো,

___” আন্টি আপনারা আপনার মেয়ের বিষয়ে কিছু জানেন না ?
তাসিনের কথায় মিম তাসিন কে বলে উঠলো,
___” আপনি চুপ করে বসে থাকেন, ভালো না লাগলে আসতে পারেন, অন্যের পারিবারিক আলোচনার মধ্যে কথা বলে মূর্খের পরিচয় দিবেন না প্লিজ।
মিমের কথায় তাসিন অপমান হয়ে রাগী চোখে মিম কে দেখতে লাগলো, বড়রা মিমের এমন কথায় অবাক চোখে চাইলো, আদিবা তালুকদার ভাতিজি কে ধমক দিয়ে বললেন,
___” এভাবে কথা বলছো কেনো মিম, ওরা আমাদের গেস্ট।
আদিবা তালুকদারের কথায় বিপরীতে মিম বলে উঠলো,
___” ফুপি গেস্ট তো গেস্টের মতো থাকনা এত কথা বলছে কেনো উনি ?
মিমের কথায় আদিবা পুনরায় ধমক দিলো মিমকে,
___” মিম তুমি কিন্তু বেয়াদবি করছো, এখানে তোমার ফুপা আঙ্কেল আন্টি বড়রা সবাই আছে।
মিম সবাই কে একপলক দেখে চুপ করে গেলো, তাসিন মিম কে বকা খেতে দেখে সয়তানি হাসতে লাগলো চুপিচুপি, আদিবা তালুকদার তাসিন কে বলল,

___” ওঁদের কথায় কিছু মনে করো না, তুমি কী যেনো বলতে নিয়েছিলে,আমাদের মেয়ের কী জানবো?
বড়দের নজর তাসিনের দিকে, আরাত মিম মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে, সত্যি কখনো চাপা পড়ে থাকে না, তাসিন আরাত আর মিম কে দেখতে দেখতে বলল,
___” এইযে আপনাদের এক আদুরে মেয়ের এক্স বয়ফ্রেন্ড কে আপনাদের আরেক আদুরে মেয়ে বিয়ে করে আজকে বাড়িতে ফিরলো।
বড়রা সবাই যেন তব্দা খেয়ে গেলো, আদনান তালুকদার আহাদ তালুকদার গম্ভীর মুখে তাসিন কে দেখছে, মেয়েদের নামে নোংরা কথা বলায় রাগ লাগছে, কিন্তু তাসিন এক মেয়ে আরেক মেয়ে বলতে কাকে বুঝালো, তাসিনের কথা বলার মধ্যে তাকবীর ধীর পায়ে সদর দরজা দিয়ে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলো, দুহাত পকেটে গুঁজানো চোখমুখে লেগে আছে তাসিনের পরবর্তী কথা শুনার উচ্ছ্বাস, তাসিন তাকবীর দেখে আরো বেশি খুশি হয়ে গেলো, তাসিনের ধারণা তাকবীর সবার মতো আরাত আর মাহিরের ব্যাপারে কিছুই জানে না, রাবেয়া তালুকদার তাসিনের উপর রেগে গেলেন,

___” এই মেয়ে তুমি কী সব বলছো, যা বলবে পরিস্কার করে বলো, আর তোমার সাহস কী করে হয় আমাদের মেয়ের নামে এমন নোংরা কথা বলার?
তাসিন হাসি মুখে বলল,
___” সত্যি সবসময় নোংরা আর খারাপ লাগে আন্টি, আপনাদের আরাত বিয়ের আগে অন্য ছেলের সঙ্গে রিলেশনে ছিলো, আপনারা জানেন না?
রাবেয়া তালুকদার থতমত খেয়ে গেলো, আদিবা তালুকদার এবার তেতে উঠলো,
___” মানে…. কী সব উল্টোপাল্টা কথা বলছো, আমার মেয়ে এমন না, আমার মেয়ের নামে উল্টোপাল্টা কথা বলবে না।

___” আন্টি আপনার বিশ্বাস না হলে আপনার মেয়ে কে বলে দেখেন, দেখেন সে আমার কথার প্রতিবাত না করে মাথা নিচু করে আছে কেনো?
আদিবা তালুকদারের সঙ্গে সবাই আরাতের দিকে তাকালো, আরাত মাথা নিচু করে চোখের পানি ফেলছে, শুধু আরাত না রশ্মি মিম নীরবে কান্না করছে, মাহির যেন এখানে এসেই ভুল করছে, নিজেকে সবকিছু জন্য অপরাধী মনে হচ্ছে, না পারছে জোর গলায় কিছু বলতে, না পারছে তাসিন কে থামাতে, মিরা রুপা নীরব দশকের মত শুধু দেখে যাচ্ছে, আদিবা তালুকদার আরাতের সামনে এসে তীক্ষ্ণ কন্ঠে জানতে চাইলো,
___” এসব কী শুনছি আরাত ?
আরাত মাথা তুলতে পারলো না, সামনে বাবা বড়আব্বু নামে শশুর, বড়মা নামে শাশুড়ী, তাঁদের সামনে কী বলবে, তাকবীর তো সব জানে তবুও কখনো জানতে চায়নি, না কখনো নিজেদের মধ্যে অতীত আনতে দিয়েছে, কিন্তু আজকে, আজকে না চাইতেও সেই অতীতে করা ভুল গুলোর জন্য আজকে মাথা তুলতে পারছে না, আরাত কে কিছু বলতে না দেখে আদিবা তালুকদার ধমকে বলে উঠলেন,

___” আমি তোমার কাছে কিছু জানতে চেয়েছি আরাত, এই মেয়েটা যা বলছে সব কী সত্যি?
আজকে আদিবা তালুকদারের ধমকে আহাদ তালুকদার কিছুই বললেন না, শুধু গম্ভীর মুখে মেয়ের উত্তর জানার অপেক্ষায় থাকলেন, কেনো না রশ্মি বাড়িতে না জানিয়ে বিয়ে করে ফিরেছে, এটা কেনো ছোট কাজ না, এখন আবার মেয়ের নামে এসব উঠে আসছে, উনাদের আড়ালে কী করে বাড়ির মেয়েরা সবকিছু তো জানতে হবে, আরাত মায়ের ধমকে চমকে উঠলো, আদিবা তালুকদারের কথায় আরাত কে চমকে উঠতে দেখে তাকবীর সদর দরজায় দাঁড়িয়ে গম্ভীর গলায় বলল,

___” রাত ভয় পাচ্ছে আসতে কথা বলেন কাকি!
তাকবীরের কন্ঠে সবাই অবাকের উপর অবাক হয়ে সদর দরজার দিকে তাকালো, তাকবীর যে কখন এসেছে তাসিন ছাড়া কারো চোখে পড়ে নি,তারউপর তাকবীর এ-সব ফ্যামিলি কোনো বিষয়ে মাথা ঘামায় না, আজকে রশ্মিদের বাড়িতে আসতে দেখে সবাই অবাক হলো, তাকবীরের কথায় আদিবা তালুকদার কিছুটা নরম কাটে, আরাত মাথা তুলে তাকবীর কে দেখে দৌড়ে এসে তাকবীরের পিছনে দাঁড়িয়ে তাকবীরের টি-শার্ট খামচে ধরে, তাকবীর ভ্রু কুঁচকে আরাত কে একনজর দেখে নিয়ে তাসিন কে বলে,

___” কন্টিনিউ ।
তাসিন ভেবাচেকা খেয়ে গেলো তাকবীরের রিয়েকশন দেখে, আদিবা তালুকদার সহ বড়রা আরাতের দিকে চেয়ে আছে, তাঁরা একটার পর একটা অবাক হচ্ছে, প্রথমে রশ্মি এখন আরাত, তাসিন এবার খানিকটা সিরিয়াস গলায় বলে উঠলো,
___” ছেলেটা আর কেউ না মাহির, মাহির আপনাদের মেয়ের এক্স বয়ফ্রেন্ড, মাহির রশ্মি কে ভালোবাসে এজন্য আরাতের সঙ্গে চিট করছে, আর আজকে রশ্মি আর মাহির বিয়ে করে বাড়ি ফিরছে, এজন্য রশ্মির মা মানে আন্টি রশ্মি কে মেনে নিচ্ছে না, আন্টি মেবি সবকিছু জানতেন।
আদিবা তালুকদার অবাক মুখে রাহিমা সুলতানার দিকে তাকালেন, সবার মুখে অবিশ্বাস্য চাহনি, আদনান তালুকদার মাথা নিচু করে সোফাতে বসে পরলেন, বাড়ির মেয়ে বা ছেলের বউ যেই হোক না কেনো তাঁর নামে এসব শুনে তিনি হতবাক হয়ে গেলেন, আহাদ তালুকদার এতক্ষণ সবকিছু সহ্য করল আর পরলো না, তাকবীরের সামনে এসে গম্ভীর গলায় আরাত কে বলল,
___” সামনে এসো?
আরাত বাবার ভারী কন্ঠে ভয় পেয়ে তাকবীরের টি-শার্ট আরো শক্ত করে ধরলো, তাকবীর মাথা ঘুরে আরাতের ভীতু চেয়ারটা দেখলো, আরাত কে সামনে আসতে না দেখে আহাদ তালুকদার ফাস্ট টাইম মেয়ের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে জোরে করে ধমকে উঠলো,

___” তোমাকে সামনে আসতে বলছি আরাত ?
আহাদ তালুকদারের ধমকে আরাত রশ্মি মিম মিরা তাসিন সহ রুপা সবাই চমকে উঠলো এবার, তাকবীর চোখ বন্ধ করে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে লাগলো, আহাদ তালুকদার এবার তাকবীরের পিছনে থেকে আরাতের হাত ধরে সামনে নিয়ে এলো, তাকবীর একটা নিঃশ্বাস ফেলে আহাদ তালুকদার কে বলল,
___” কাকু রাত ভয় পাচ্ছে ওকে ছেড়ে দিন।
আহাদ তালুকদার আরাত কে নিজের সামনে দাঁড় করিয়ে বলতে লাগলো,
___” এখন ভয় পাচ্ছ কেনো, এ-সব আগে মনে ছিলো না, তোমাকে আমরা এই শিক্ষায় বড় করেছি?
___” কাকু প্লিজ ও বাচ্চা মেয়ে ….
___” তাকবীর আমি তোমার সঙ্গে কথা বলছি না, আমি আমার মেয়ের সঙ্গে কথা বলছি, ওকে শাসন করা বাবা হিসেবে আমার কর্তব্য।
তাকবীর নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারলো না, আহাদ তালুকদারের রাগ হাত মুষ্টিবদ্ধ করে শক্ত হাতে রশ্মিদের সদর দরজায় এলোপাতাড়ি ঘুষি দিতে লাগলো,

___” আমি বলছি না আমার বউ ভয় পাচ্ছে, আমার কথা কানে যায় না হ্যাঁ, আমার বউকে ধমক দিলে আমি দিবো জাস্ট আমি….
আরাত আতঙ্কতে মুখে হাত দিয়ে কান্না করছে, সবার মুখে আতঙ্ক ছেড়ে গেলো, তাকবীর সহজে রাগে না আবার কেনো কারণে রেগে গেলে নিজের ক্ষতি করে বসে,তবুও নিজের রাগ অন্যর উপর দেখায় না, আহাদ তালুকদার আদনান তালুকদার দৌড়ে এসে তাকবীর কে আটকাতে লাগলো,
___” তাকবীর শান্ত হও, আরাত কে কিছু বলবো না, আর ধমক দিবো না, তাকবীর শোনো আমার কথা তাকবীর?
আহাদ তালুকদার আদনান তালুকদার মিলে তাকবীর কে আটকালো, হাত থেকে তাজা রক্ত ঝরছে, আদনান তালুকদার তাকবীরের হাত নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে মেডিসিন বক্স আনতে বলল, রাহিমা সুলতানা নিজের ঘরের দিকে দৌড়ে যেতে লাগলো মেডিসিন বক্স আনতে, তাকবীর আদনান তালুকদার হাত থেকে নিজের রক্তমাখা হাত এক ঝটকায় সরে নিয়ে আরাতের সামনে এসে আরাতের হাত চেপে ধরে হিসহিসিয়ে রাগী গলায় আহাদ তালুকদার কে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলো ,

___” আপনার মেয়ে হলে সে আমার বউ, আপনার রাইট নেই আমার সামনে আমার বউ কে এভাবে ধমকে কথা বলার, আপনার শাসন বিয়ের আগে প্রয়োজন ছিলো, এখন রাত আমার বউ, আমার বউ আমি শাসন করবো,আমার বউকে আমি মেনে নিলে আপনারা মেনে নিতে বাধ্য।
সবাই হতবাক হয়ে গেলো, শান্তশিষ্ট তাকবীর আজকে বউয়ের জন্য শশুরের মুখের উপর কথা বলছে, আহাদ তালুকদার নিস্তব্ধ মুখে দেখছে শুধু, তাকবীর কথাগুলো বলে আরাতের হাত ধরে রশ্মিদের বাড়ি থেকে বের হতে হতে পুনরায় পিছনে ফিরে বলল,

___” আরেকটা কথা আমার বউ যা ইচ্ছা করবে, নেক্সট টাইম আমার বউ কে ধমক তো দূর,আমার বউ কে নিয়ে এই বিষয়ে আলোচনা করতে দেখেছি, আল্লাহর কসম তালুকদার বাড়ি জাহান্নাম করে দিবো যে আমার বউয়ের প্রশংসা করবে তার জায়গা আজান তালুকদার তাকবীরের মনে থাকবে সবসময়।
বলেই তাকবীর বড়বড় পা ফেলে আরাত কে নিয়ে যেতে লাগলো, আরাত তাকবীরের সঙ্গে হাঁটতে না পেয়ে একপ্রকার কিছুটা দৌড়াতে লাগলো, তাকবীর যাওয়ার পরপর আহাদ তালুকদার হিসহিসিয়ে মাহিরের সামনে এসে মাহিরের কলার চেপে ধরে বাড়ি থেকে বের করতে করতে বলল,

___” তোর সাহস তো কম না, প্রথমে আমার মেয়ে এখন রশ্মি কে বিয়ে করেছিস, বের হয়ে যা এই মুহূর্তে এই বাড়ি থেকে, তোকে মেনে নেওয়ার প্রশ্ন আসে না, বের হ বলছি।
আহাদ তালুকদার মাহির কে কলার ধরে বের করে দিচ্ছে, তবুও রশ্মি মাহির একিউপরের হাত ধরে আছে, কেউ কাউকে ছাড়ছে না, আদিবা তালুকদার রাবেয়া তালুকদার আহাদ তালুকদার কে আটকাচ্ছে, বারবার বলছে এমনটা না করতে, সবাই কে বসে কথা বলতে বলছে কিন্তু আহাদ তালুকদার নিজের বউ আর বড়ভাবীর কথা কানে তুললো না, মাহির কে দরজার সামনে এসে ছেড়ে দিলো, রাহিমা সুলতানা চুপচাপ বসে আসে, আহাদ তালুকদার কে আটকাচ্ছে না, রশ্মি চুপচাপ নিজের মায়ের দিকে চেয়ে আছে এই আশায় হয়তো আহাদ তালুকদার কে বাঁধা দিবে, কিন্তু না রাহিমা সুলতানা নিস্তব্ধ চোখে বসে আছে,মিরা মাহির অপমানে মাথা নিচু করে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, তাঁদের পিছনে তাসিন রুপা হাঁটতে হাঁটতে তাসিন বলে উঠলো,

___” এতটুকু তেই এই অবস্থা, আপনারা আরেকটা স্পেশাল নিউজ তো জানেন না।
তাসিনের কথায় পুনরায় সবার নজর তাসিনের দিকে, তাসিন বাঁকা হেঁসে পুনরায় বলে উঠলো,
___” আপনাদের বাড়ির আরেক মেয়ে, মিম সেও তো বিয়ে করেছে, তাও কার সঙ্গে জানেন, হানিফের ভাই আরশ, মানে যে মিমের দেওর হতো তাঁর সঙ্গে।
তাসিনের কথায় যেন পুরো বাড়ি নিস্তব্ধ হয়ে গেলো, আদিবা তালুকদার জায়গায় দাঁড়িয়ে পরলো, কারো মুখে কথা নেই, তাসিন কথাটা বলে দেরি করলো না রুপা কে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলো, তাঁর কাজ শেষ, মিরা মলিন মুখে নিচু কন্ঠে মাহির কে বলল,
___” ভাইয়া বাড়িতে চলো।
মাহির রশ্মির দিকে তাকালো, রশ্মি রাহিমা সুলতানার থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে মাহিরের চোখে চোখ রেখে মলিন কন্ঠে বলল,

___” আমি শুধু আপনার সঙ্গে বাঁচতে চাই, আপনি যা করতে বলবেন আমি করবো,যেখানে নিয়ে যাবেন আমি যাবো, যেভাবে রাখবেন আমি সেভাবেই থাকবো, তবুও আপনাকে ছাড়তে পারবো না,আজকে থেকে আমার আপন বলতে শুধুই আপনি, আমার আপনি ছাড়া কেউ নেই, এদিকে তাকান, আমি আপনাকে ছেড়ে যাবো না কখনো।
কথাগুলো বলে রশ্মি পুনরায় নিজের মায়ের দিকে চেয়ে তাচ্ছিল্য হেঁসে বলল,

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৫৫

___” আপনার কাছে অনেক বিশ্বাস নিয়ে এসেছিলাম মা হয়ে বুঝলেন না মেয়ের ভালো থাকা, আর বুঝতেও হবে না, মনে রাখবেন আপনার মেয়ে আপনার জন্য মৃত্যু, কখনো আর আপনার সামনে এসে দাঁড়াবে না, ভালো থাকবেন আর আপনার আরাত কে ভালো রাখবেন, কেনো না আপনার কাছে সেই আগে।
রশ্মি কয়েক সেকেন্ড রাহিমা সুলতানার মুখের দিকে চেয়ে রইলো, রাহিমা সুলতানার মুখময় কঠিনত্ব হয়ে আছে, রশ্মি পুনরায় আশেপাশে তাকালো, আলভী কে চোখে পরলো না, রশ্মি পুরো বাড়ি চোখ বুলিয়ে একটা নিঃশ্বাস ফেলে মাহিরের হাত ধরে তালুকদার বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলো, কেউ আটকানো না আর না কেউ কিছু বললো, সবাই কেমন নিস্তব্ধ হয়ে আছে, মিম মাথা নিচু করে চোখের পানি ফেলছে, আদিবা তালুকদার মিমের দিকে অবিশ্বাস্য হয়ে অপলক চেয়ে আছে।

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৫৭