তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৭০
তাবাস্সুম খাতুন
সময় কারোর জন্য চিরস্থয়ী নয়। সে নিজের গতিতে চলতেই থাকে।সেইদিনের পরে পুরো একটা সপ্তাহ কেটে গেলো।সেইদিন রাতে নিশান সিমির মাথাটা বুকে চেপে ধরে বলেছিল,
“তোর একটা আবদার না, শত শত আবদার আমি রাখবো। তুই শুধু আমার হয়ে থাকিস। বিনিময়ে গোটা দুনিয়া তোর পায়ের কাছে এনে ফেলবো। আর আমার থেকে পালানোর চেষ্টা করলে। এই দুনিয়ার সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যাক্তিতে পরিণত হয়ে তোকে দাফন দিয়ে নিজেকেও দাফন দেবো।”
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
সিমি শুধু মাথা নেড়েছিল। এই কয়দিন তাঁদের সম্পর্ক যেন আগের থেকে আরো বেশি শক্ত হয়েছে। হয়তো সিমি নিশানের মুখ থেকে যখন শুনলো তাকে ঠিক কতটা ভালোবাসে? কবে থেকে? জানার পরে নিশানের প্রতি তার যেন আর কোন অভিযোগ নেই। আর না আছে কোন রাগ। শুধু অসীম ভালোবাসা আর আদুরে আবদার। যা নিশান বিনা বাক্য ব্যায় করে পূর্ণ করে। সময়টা গিয়ে ঠেকেছে। সন্ধ্যা সাতটা। সিমি বসে টিভি দেখছে। আর নিশান ল্যাপটপ এ কাজ করছে। এমন সময় নিশানের ফোনে কল আসলো, নিশান ফোনের স্কিনে তাকিয়ে দেখলো ‘Adil কল দিয়েছে। সে ফোনটা হাতে নিয়ে বেলকুনিতে গেলো। ফোন রিসিভ করতেই ওইপাশ থেকে আদিল বলে উঠলো,
“সরি বস। আমি এইভাবে আপনাকে ডিসটার্ব করতে চাইনি। তবে আমাকে বাধ্য হয়ে করতে হলো। কারাগারে ফারহান দরিয়াস এই এক সপ্তাহে দুইটা খুন করেছে। আপনার দরকার এইখানে। প্লিজ আসুন বস। এইভাবে চললে তো হবে না। ওর তেজ খুব। আপনি এসে কমিয়ে দেন।”
নিশান কন্ঠে গম্ভীর্যতা রেখেই বললো,
“অপেক্ষা কর আমি আসছি।”
বলে কল কেটে দিলো। রুমে এসে ল্যাপটপ অফ করে গুছিয়ে। চুলগুলো সেটাআপ করে সিমির কাছে এসে বললো,
“আমার একটু দরকারি কাজ পড়ছে, আসতে রাত হতে পারে। তুই খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পরিস।”
বলে চলে যেতে নিলেই। সিমি বলে উঠলো,
“কি কাজ? কোথায় যাচ্ছেন?”
নিশান পিছু ঘুরে শান্ত কন্ঠে বললো,
“আমার ফ্রেন্ড নিকোলো এক্সিডেন্ট করেছে। তাই যাচ্ছি।”
নিকোলো এক্সিডেন্ট করছে শুনে সিমির অনেক খারাপ লাগলো সে বললো,
“আল্লাহ যেন তাকে দ্রুত সুস্থ করে দেই। আপনি যান।”
নিশান আর এক মুহূর্ত দাঁড়ালো না। ঘাড় কাত করে এইপাশে ঐপাশে ঘুরিয়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে। সোজা নিজের গাড়িতে উঠে গন্তব্যেতে যেতে লাগলো। আধা ঘন্টার মধ্যে সে তার গন্তব্যে তে পৌঁছালো।সে নিজের গোপন সুড়ঙ্গে ঢুকতেই আদিল দৌড়ে তার কাছে এসে বললো,
“বস আপনি বি..
বাকি কথা শেষ করার আগেই নিশান হাত উঁচিয়ে থামতে বললো। আদিল থেমে গেলো। নিশান সোজা অন্ধকার কারাগারের দিকে যেতে লাগলো। সে সেখানে যেতেই দেয়ালে হাতড়িয়ে কীবোর্ড এ হাত দিয়ে সুইচ চাপতেই হলুদ আলো জ্বলে উঠলো অন্ধকার কারাগার জুড়ে। দেয়ালে সব সবুজ সেওলা জন্ম নিয়েছে। রং খসে খসে পড়েছে। কারাগার গুলোর রড ও যেন জং ধরেছে। মেঝেতে এখনো রক্তের দাগ আছে কোথাও কোথাও। নিশান কিছু দূর হেঁটে একটা কারাগারের দরজা খুললো। তার ভিতরে মেঝেতে হাত পা ছড়িয়ে দেওয়াল এ হেলাম দিয়ে বসে আছে ফারহান দরিয়াস। চুলগুলো মুখে এসে পড়েছে। নিশান তার কাছে আসতেই ফারহান মাথা উঁচু করে নিশানের দিকে তাকিয়ে খিটখিট করে হেসে বললো,
“অবশেষে তুই এই দরজা খুলে আমার কাছে আসলি। বলতেই হবে তোর বুকের পাটাই সাহস আছে।”
নিশান একটু ঝুঁকে বসলো। বাঁকা হেসে বললো,
“আমার বুকের পাটাই সাহস আছে বলে আজ তুই এখনো দুনিয়াতে নিশ্বাস নিচ্ছিস। ”
ফারহান নিশানের চোখের দিকে তাকিয়ে বললো,
“এখনো নিচ্ছি এইটা আমার ইচ্ছাই নিচ্ছি। তোকে জানিয়ে তোর ইচ্ছাতে নেওয়া আমার বয়ে গেছে।”
নিশান নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরলো। হুট করে ফারহানের ডান গালে কোষে একটা থাপ্পড় মারলো। ফারহান একপাশে হেলে পড়লো। নিশান ফারহানের পেটে একটা লাথি মেরে চিৎকার দিয়ে বললো,
“আমার ইচ্ছাতেই তুই নিতে পারছিস। আমি চাইলে এক্ষুনি তোকে জানে মেরে দাফন দিয়ে নিশ্বাস নেওয়াটা বন্ধ করে দিতে পারি।”
ফারহান চোখ মুখ বন্ধ করে বললো,
“দিয়ে দে দাফন।”
“তোর সময় যখন তখনই তোর দাফন।”
বলে ফারহানের গলা ধরে দার করালো। গলা ধরে টেনে কারাগার থেকে বাহির করে গোপন সুড়ঙ্গে গেলো। ফারহান আশেপাশে তাকিয়ে আলো দেখতে লাগলো। প্রতিটা বডিগার্ড তাঁদের দেখলো আবার মাথা নিচু করে নিলো। নিশান ফারহানকে নিয়ে টর্চার রুমে ঢুকে পড়লো। চেলে ফেলে দিলো তাকে। ফারহান উল্টিয়ে পড়লো ফ্লোরে। নিশান দরজা লাগিয়ে দিলো। একটা চেয়ার টেনে এনে সেখানে ফারহানকে ধরে বসালো হাত পা চেয়ারে বেঁধে দিলো। ফারহানের শক্তি নেই যে সে নিজেকে ছাড়াবে। আজ পাঁচ দিন ধরে কোন খাবার খাইনি সে। নিশান এইবার টেবিলের কাছে গিয়ে সেখানে থাকা একটা কাঠের তক্তা হাতে নিলো। তক্তা টা এক হাত লম্বা। আবার এক হাত চওড়া। তক্তাতে সব পেরেক গাঁথা আছে। পেরেকের ধারালো হুল গুলো সামনে আনা। নিশান সেইটা হাতে নিলো। সাথে একটা নেইল কাটার। নিয়ে সে ফারহানের কাছে গেলো। নেইল কাটার টা গালে ধরে তক্তাটা মাটিতে ফেলে ফারহানের চেয়ার টা একটু পেছনের দিকে হেলিয়ে তার পায়ের নিচে পেরেক ভর্তি তক্তাটা দিলো ফারহান নিশানের দিকে তাকিয়ে কাঁপা কণ্ঠে বললো,
“এইভাবে কষ্ট দিয়ে মারার থেকে মেরে ফেল একেবারে। আমি মরবো বাঁচবো না।”
নিশান বাঁকা হেসে চেয়ারটা ছেড়ে দিলো ফারহানের পা পড়লো ওই পেরেকের উপরে। নিশান নেইল কাটার টা হাতে নিয়ে ফারহানের চেয়ারে সর্ব চাপ দিলো। নিজের একটা পা ফারহানের পায়ের উপরে তুলে জোরে চাপ দিয়ে বললো,
“মরতে তো তোকে হবেই। এইভাবে ধীরে ধীরে যন্ত্রনা নিয়েই। এইদিকে ফারহানের পায়ের তলা ভেদ করে পেরেক ঢুকেছে। তার চিৎকার এই রুমে বারবার বাড়ি দিচ্ছে। দুই ইঞ্চি করে পেরেক ঢুকেছে পায়ে। তরল রক্ত ভেসে ফ্লোরেও পড়ছে। নিশান বাঁকা হাসলো। হাতে থাকা নেইল কাটার দিয়ে ফারহানের বাম হাতের একটা আঙ্গুল নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে বললো,
“মৃত্যু। যন্ত্রনা কাকে বলে দেখে নে।”
ফারহান চিৎকার করে বলতে লাগলো,
“আমাকে গুলি করে মার, তবুও এই কষ্ট দিস না। সয্য করতে পারছিনা।”
নিশান কিছু না বলেই। নেইল কাটার দিয়ে জোরে চাপ দিয়ে নখ বরাবর আঙ্গুল কেটে দিলো। চিৎকার দিয়ে উঠছে বারবার ফারহান। নিশান একে একে ওর সব হাতের নখের অবস্থা এক করলো। ফারহানের আর শক্তি নেই কান্না করার। প্রচুর জ্বালা করছে সইতে পারছেনা আর। এইদিকে নিশান উঠে। টেবিলের উপরে থাকা শুকনো লঙ্কার গুঁড়ো এনে সবগুলো গুঁড়ো ফারহানের কাঁটা আঙ্গুল গুলোতে দিলো। সাথে সাথে ফারহান গলা কাঁটা মুরগির ন্যায় ছটফটানি করতে লাগলো চিৎকার করতে লাগলো। নিশান এইবার একটা ছুরি নিয়ে ফারহানের কাছে এসে বললো,
“খুবই সহজ মৃত্যু দিলাম তোকে।”
বলে ফারহানের বাম পাশের বুকে জোরে ছুরি চালালো। গাল থেকে রক্ত বেড়িয়ে আসলো। পরপর দুই তিনটা কোপ দিলো। এরপর ফারহানের মাথার চুল ধরে গলায় ছুরি ঠেকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
“নিশ্বাস নেওয়াটা শেষ এইবার তোর আলবিদা।”
বলেই এক টান দিলো। রক্ত ছিটকিয়ে পড়লো নিশানের মুখে। নিশান চোখ বন্ধ করে নিলো। মাথাটা ফেলে দিলো ছুরি ফেলে দিলো। টেবিলের উপরে থাকা টিসু পেপার দিয়ে মুখ মুছে নিলো হাত মুছে নিলো। এরপর রুম থেকে বেড়িয়ে আদিলকে বললো,
“আমাকে আর ডাকবিনা। আমি এইখানে আর আসবোনা। এইবার নিজেরা সামলা।”
বলেই চলে গেলো। আদিল কোন কথা বলতে পারলোনা। এর আগেই নিশান চলে গেলো। আদিল রুমটা বডিগার্ড দিয়ে পরিষ্কার করে নিলো।নিশান গাড়িতে উঠলো ফোন হাতে নিয়ে দেখলো সময়টা এখন রাত দশটা চার। সে ফোন রেখে বাড়ির উদ্দেশ্য যেতে লাগলো।
নিশান চলে গেছে এক ঘন্টা হয়ে গেছে। সময়টা গিয়ে ঠেকেছে রাত আটটার কোটায়। সিমি উঠে ফ্রিজের কাছে গেলো। এখন ফ্রিজে নিশান সিমির জন্য বিভিন্ন খাবার জুস আর পানি রেখে দেই। সিমির ওই মাতলামির পর থেকে নিশান আর বিয়ারের বোতল রাখেনা ফ্রিজে। সিমি ফ্রিজ খুলতেই একটা কেকের পেকেট সাথে একটা জুসের বোতল বাহির করলো। ফ্রিজ অফ করতে গেলেই, সিমির নজরে আসলো ফ্রিজে রাখা একটা শপিং ব্যাগ এর দিকে। সে সেইটা বাহির করলো শপিং ব্যাগ এর ভিতরে মুখ ঢুকিয়ে দেখলো কিছু একটা আছে তবে বরফ হয়ে গেছে একদম। সিমি ব্যাগ টা হাতে নিয়ে ফ্রিজ লাগিয়ে খাবার গুলো বেডে রেখে সোজা ওয়াশরুমে গেলো।
একটা বালতিতে অর্ধেক পানি দিয়ে শপিং ব্যাগে থাকা জিনিষটা তাতে দিয়ে শপিং ব্যাগটা ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে রুমে এসে টিভি দেখতে দেখতে কেক আর জুস খেতে লাগলো। কিছু ক্ষণ পরে যাবে এর মধ্যে নাহয় ঐটার বরফ ছাড়িয়ে যাবে। এইভাবে পুরো দুই ঘন্টা কেটে গেলো। সময় গিয়ে ঠেকছে দশটা দশ এর কোটায়। সিমি এইবার উঠে দাঁড়ালো। এইদিকে নিশান এখনো বাড়ি আসছে না।ভালো লাগছে না কিছু। আবার ওয়াশরুমে রাখা সেই বরফ জিনিষটা দেখতে গেলো সে। ওয়াশরুমে ঢুকে বালতির কাছে যেতেই সে অবাক হলো কারন বালতিতে থাকা পুরো পানি রক্তের মতো লাল টুকটুক করছে।
সিমি মনে সাহস জুগিয়ে বালতির মধ্যে হাত দিয়ে সেই জিনিষটা খুঁজে বাহির করে একটু উঁচু করে সেইদিকে তাকাতেই চোখ দুইটা বড়ো বড়ো হয়ে গেলো এইটা কারোর হৃদপিন্ড এর থেকে রক্ত পড়ছে। সিমি দ্রুত ঐটা ফেলে দিয়ে চিৎকার দিলো তার হাতে রক্ত। সে মেঝেতে বসে পরে পিছাতে লাগলো আর চিৎকার করতে লাগলো। এমন সময় নিশান মাত্র বাড়ি ফিরছে সে রুমের দরজা খুলতেই সিমির চিৎকার শুনে দৌড়ে ওয়াশরুমে আসতেই দেখতে পেলো সিমি ভয়ে কাঁপছে চিৎকার করছে মেঝেতে বসে আছে। নিশান সিমির কাছে গিয়ে সিমির ঘাড়ে হাত রাখতেই সিমি চিৎকার করে পিছনে ঘুরতেই নিশানকে দেখে নিশানের বুকে ঝাঁপিয়ে পরে কান্না করতে করতে বললো,
“আপনি কোথায় ছিলেন এতক্ষণ আমার ভয় লাগছে।”
নিশান সিমির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো,
“রিলাক্স ইশু রিলাক্স। কি হয়েছে? আমাকে বল। কোন সমস্যা? ভয় পাচ্ছিস কেন?”
সিমি কাঁপা কাঁপা হাতে ওই বালতির দিকে ইশারা করে বললো,
“ঐযে ওই বালতিতে রক্ত, মানুষের হৃদপিন্ড। আমার ভয় লাগছে।”
রক্ত হৃদপিন্ড এইসব নিশান শুনে ভ্রু কুঁচকে গেলো। সে সিমিকে বুকে নিয়েই বালতির কাছে গিয়ে হাত দিয়ে হৃদপিন্ড টা তুললো সিমি নিশানের জামা আঁকড়ে ধরলো। নিশান কিছুক্ষণ সেইদিকে তাকাতেই মনে পড়লো। সেইটা সে সিমির পায়ের কাছে রাখলো সিমি আঁতকে উঠলো ভয়ে কান্না করতে করতে বললো,
তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৬৯
“এইসব কি? আমার ভয় লাগছে!সরান।”
নিশান সিমির মাথাটা নিজের বুকে চেপে ধরে বললো,
“এইটা তোর গিফ্ট জানবাচ্চা, আমার খেয়াল ছিলনা। তবে আজকে এইভাবে তুই সারপ্রাইস ভাবে পেয়ে যাবি সেইটাও ভাবি নি। তবে সারপ্রাইস ভাবে পাওয়া গিফ্ট টা অবশ্যই তোর ভালো লাগবে। কারন এই মেয়ের হৃদপিন্ড তোর পায়ের যোগ্য যে।”

Next part
Next part plz den