তোমাতেই আসক্ত বোনাস পর্ব
তানিশা সুলতানা
বিশ্বের সেরা বিজনেস এবং সব চেয়ে ধনী ব্যক্তির তালিকা লিস্ট করা হলো। সেখানে ৩ নাম্বারে আবরার তাসনিন এর নামটা উল্লেখ রয়েছে। আজকে থেকে ১৮ বছর আগে মাত্র ১০ হাজার টাকা মূলধন নিয়ে শুরু করেছিলেন বিজনেস।
সুইজারল্যান্ড এর জুরিখ নদীর পাশল ছোট্ট একটা দোকান নিয়ে তাতে এক খানা সেলাই মেশিন উঠিয়েছিলেন। সিয়াম ভালো সেলাই করতে পারে। পাঁচগজ কাপড় দিয়ে এক খানা ফ্রক ডিজাইন কেটে দেয় আবরার এবং তা সেলাই করে সিয়াম। তখনকার সুইজারল্যান্ড এর জনপ্রিয় সিঙ্গার আলাইনা মেহতাব সেই ফ্রক খানা পড়ে স্টেজ শো তে পারফর্মেন্স করেছিলেন।
আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি আবরার আর সিয়ামকে।
পরবর্তীতে আলাইনার সকল ড্রেসের ডিজাইন আবরার করেছে। তারপর জনপ্রিয় নায়িকা ক্যাথিও তাদের ড্রেস পড়তে শুরু করলো। বছর খানিকের মধ্যেই আবরার তাসনিন নামটি ছড়িয়ে পড়লো গোটা সুইজারল্যান্ডে।
জুরিখ নদীর পাশে থাকা ছোট্ট দোকানটি বাদ দিয়ে শহরের বড় শপিং মলের দ্বিতীয় তালায় একটা শোরুম দিলো।
পরিচয় হলো আমান আহাদ এবং ইভান এর সাথে। পাঁচ বন্ধু কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে গেলো।
আবরার নিজের সাফল্যের গল্প শোনায় আদ্রিতা ইশারা এবং টিশাকে। ছোট্ট সাম্বা হা করে তাকিয়ে থাকে আবরারের মুখ পানে। সিয়াম ঘুমিয়ে পড়েছে। ছেলে তার প্রচন্ড বিচ্ছু। সারা রাত জেগে থাকবে। একটা সেকেন্ডের জন্যও চোখ বন্ধ করবে না। ছেলের সাথে সাথে তাকেও জেগে থাকতে হয়। কি আর করার? ইশারা নাক ডেকে ঘুমাবে। ভূমিকম্প হয়ে গেলেও তার ঘুম ভাঙানো যাবে না।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
আমান আহাদ ইভান ইমোশনাল হয়ে আবরারের কথা শুনছিলো।
আতিয়া বেগমের কোলে ছোট্ট আহিরা। তাকে যত্ন সহকারে তেল মালিশ করে দিচ্ছে।
টিশা বলে
“ভাইয়া আপনার এই সিদ্ধান্ত মানতে পারছি না। তাসিন ফ্যাশন হাউজ সুন্দর নাম। কেনো নাম পরিবর্তন করে A S ফ্যাশন হাউস দিতে চাচ্ছেন?
আবরার কিছু বলবে তার আগেই বিকট বায়ু দূষণের শব্দ ভেসে আসে। সিয়াম হকচকিয়ে কে কে বলে উঠে পড়ে। আবরার সাম্বার নাক চেপে ধরে উঠে চলে যায়। আতিয়া বেগমও তাড়াহুড়ো করে আহিরাকে নিয়ে কক্ষের পানে ছোটে।
আমান কটমট নয়নে আহাদের পানে তাকিয়ে বলে
” বায়ু দূষণ করার আর সময় পেলি না?
আহাদ কাচুমাচু স্বরে বলে
“আমি বললাম বায়ুকে তুই এখন দূষিত হইস না। কিন্তু পাছা তো শুনলো না।
আদ্রিতা ইশারা টিশা একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করে।।
সিয়াম হতাশ স্বরে বলে
” জীবন আমার ছন্নছাড়া
পড়েছি ভাই পাগলের পাল্লায়
কারো নেই হুশ জ্ঞান
সবাই যেনো কচু গাছের ব্যাঙ
রাতে ঘুমাতে পারি না বউয়ের জ্বালায়
দিনে বন্ধুরা পাদ দিয়ে পালায়
টিশা ফিক করে হেসে ওঠে। এই একটা বাড়ি। যেখানে এক সেকেন্ডও মুড অফ করে থাকার কায়দা নেই। বাঁদরের দল হাসিয়ে মারবেই।
ইভান বলে ওঠে
“ভাই আমরা বড়লোক।
অন্য মানুষরা হয়ত ভাবে আমরা বায়ু দূষণ করি না। আর করলেও ফুলের সুবাস বের হয়।
কিন্তু ওরা তো জানে না
বলতে বলতে হো হো করে হেসে ওঠে।
আমান নিউজফিড থেকে একটা পোস্ট বের করে আদ্রিতাদের দিকে তাক করিয়ে বলে
” দেখো একটা মেয়ে পোস্ট করেছে
“আহাদ ভাই কি পটি করে?
আমি কি সেখানে কমেন্ট করবো?
হতাশ আহাদ দীর্ঘ শ্বাস ফেলে। আবরার সিয়াম আমান বিয়ে করেছে বলে মেয়েরা এখন তাকে আর ইভানকে একটু দাম দেয়, ক্রাশ টাশ খায়।
কিন্তু শালারা যা শুরু করছে মেয়েরা বাঁশ খেয়ে দৌড়ে পালাবে মনে হচ্ছে।
আহিরার বয়স পাঁচ দিন। প্রথমদিন আবরার একটুখানি কোলে নিয়েছিলো। তারপর আর কোলে নেওয়ার সাহস হয় নি। এইটুকু তুলতুলে একটা পাখি। আবরারের শক্তপোক্ত হাতের স্পর্শে যদি ব্যাথা পায়?
সেই ভয়েই মূলত কোলে নেয় না।।
আজকে বাড়িতে ডাক্তারকে ধরে আনা হয়েছে। আদ্রিতার সেলাই খোলা হবে।
আতিয়া বেগম বড়ই চিন্তিত। মেয়েটা এমনিতেই নাজুক। আজকে কি অবস্থা করবে আল্লাহ জানে।।
টিশা গরম পানি করে আনে। ইশারা ছেলেকে নিয়ে বাগানে চলে গিয়েছে। কেনোনা বড্ড জ্বালাচ্ছে ছেলেটা। আমান আহাদ ইভান অফিসে গিয়েছে। আবরার এবং সিয়াম স্টাডি রুমে কোনো একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে।
ড্রয়িং রুমে ডাক্তার বসেছে। আদ্রিতা ভয়ে ভয়ে তার সামনে এসে বসে। এবং রিনরিনিয়ে বলে
” আমায় বেশি ব্যাথা দিয়েন না। একটু সময় নিয়ে ধীরে ধীরে
ডাক্তার পুরোটা শোনো না। সেলাই কেটে সুতা ধরে জোরে টান দেয়। ব্যাথায় সারা শরীর অবশ হয়ে আসে। শব্দ করে কেঁদে ওঠে। আবরার ল্যাপটপ ফেলে দৌড়ে ড্রয়িং রুমে আসে।
ডাক্তার এখনো সুতো টানছে। আবরার এসে ডাক্তারের নাক বরাবর ঘু*ষি মেরে দেয়। ছিটকে কয়েক হাত দূরে গিয়ে পড়ে ডাক্তার। মুহুর্তেই নাক ফেঁটে র/ক্ত গড়াতে শুরু করে।
আদ্রিতা ঠোঁট উল্টে আবরারের দিকে তাকায়।
“উ…..উনি ব্যাথা দিচ্ছিলো
আবরার আদ্রিতাকে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু খায়।
সিয়ামকে আদেশের স্বরে বলে
” এই বাস্টার্ডকে থা/প্প/ড়াইতে বাসা থেকে বের কর।
ডাক্তার ফুঁসতে ফুঁসতে বলে
“আবরার তাসনিন আপনাকে আমি দেখে নিবো।
আবরার ভ্রু কুচকে তাকায় ডাক্তারের পানে। মানে হলো আর এক মিনিট এখানে থাকলে খু/ন করে দিবো।
সিয়াম ডাক্তারকে নিয়ে চলে যায়। আবরার আদ্রিতাকে শান্ত করে নিজেই সেলাই খুলে দিতে উদ্ধৃত হয়। টিশা এবং আতিয়া বেগম চলে এসেছে।
টিশা বলে
” ভাইয়া আপনি পারবেন?
“দেখি
বলেই খুব যত্ন সহকারে সেলাই খুলে দেয়। নিজের পরিচিত ডাক্তারকে কল করে জেনে নেয় কি ঔষধ লাগিয়ে দিতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ লাগিয়ে দেয়।
এবং আদ্রিতার দুই গালে হাত রেখে বলে
” আমাদের আর বেবি লাগবে না। আমার পাখির এতো কষ্ট আর সহ্য করতে পারছি না।
আদ্রিতা আবরারের বুকে মাথা রেখে বলে
“এই যে সব ব্যাথা ভ্যানিশ হয়ে গেলো।
আবরার আপনি শুধু আমায় ভালোবাসুন। আমি পৃথিবীর সব কষ্ট সহ্য করে নিতে পারবো।
বিছানায় ঘুমিয়ে আছে আদ্রিতা এবং আহি। দুজনই দুই হাত ওপরের দিকে তুলে হা করে ঘুমুচ্ছে।।আবরার সব কাজ শেষ করে কক্ষে এসে এমন সুন্দর দৃশ্য দেখে। আপনাআপনি তার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে ওঠে।
বিরবির করে বলে
” এই যে আমার সমস্ত সুখ এই কক্ষে পরম শান্তিতে ঘুমুচ্ছে।
ইয়া আল্লাহ তাদের সব সময় ভালো রাখুন। ওদের সব আঘাত কষ্ট আমায় দিয়ে আমার ভাগের সব টুকু সুখ ওদের দিয়েন।
তোমাতেই আসক্ত শেষ পর্ব
বলতে বলতে বিছানায় গিয়ে ওঠে। প্রথমে আহির কপালে চুমু খেয়ে তারপর আদ্রিতার অধরে ছোট্ট করে চুমু খায়। এটাই যেনো কাল হয়ে দাঁড়ালো। অনেকদিন ভদ্র হয়ে থাকা আবরারের অভদ্র হতে ইচ্ছে করে।।আরও কিছু চুমু খেতে মন চাচ্ছে।
কখনোই মনের কথার অবাধ্য হয় নি আবরার। তাই আজকেও অবাধ্য হলো না।

অসাধারণ একটা উপন্যাস। কি বলবো এতো সুন্দর যে আমার মনে এক অদ্ভুত অনুভূতি জাগিয়েছে। আল্লাহ যেনো আবরার তাসনিনের মতোই একজনকে আমার জীবনে দেয়। আমিন।
এই উপন্যাস এর সিজন ২চাই।