তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৬৪
নওরিন মুনতাহা হিয়া
___ রাতে ঘুটঘুটে অন্ধকার চারপাশে যেন আলোর কোন রশ্নি নাই! জঙ্গলের নিস্তব্ধ পরিবেশ আরো ভয়ংকর করে তুলে এই নিঝুম রাতকে! রিসোর্টের নিজ বরাদ্দকৃত রুমে শুয়ে আছে আদ্রিয়ান। বেশ দীর্ঘ সময় ধরে শুয়ে থাকার পরও ঘুম আসছে না তার। চোখ বন্ধ করে ঘুমানর চেষ্টা করে কিন্তু সম্ভব হয় না! বুকের মধ্যে কেন জানি হাহাকার করছে, মনটা ছটফট করছে। কি যেন তার জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মনে হচ্ছে! খুব মূল্যবান বস্তু। আদ্রিয়ানের এই অস্বস্থিরতা দূর হয় না, যার কারণে সে রাগে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ে ।
মেঘকে দেখার বড্ড ইচ্ছা করছে তার। এই মেয়েটা তার জীবনে আসার পর সব এলেমেলো হয়ে গেছে! একসময়ের রাগী, গম্ভীর, বদমেজাজি আদ্রিয়ান এখন শান্ত হয়ে গেছে! যত্নশীল স্বামীর দায়িত্ব পালন করে সে, হাসিখুশি থাকে এখন আদ্রিয়ান। আর এই সব হয়েছে তার বউ, মেঘের জন্য। তার “প্রিয় মেঘবালিকা”। কিন্তু এখন তার বউকে দেখার বড্ড ইচ্ছা করছে তার। রাতে যদি মেঘকে জড়িয়ে ধরতে না পারে, তবে হয়ত ঘুম হবে না৷ অভ্যাস তৈরি হয়ে গেছে।
কিন্তু এতো রাতে কি মেঘের রুমে যাওয়া উচিত হবে? যদি কেউ দেখে নেয়, তখন? নূহা আর মেঘ একই রুমে থাকবে? নূহা জানে মেঘের আর তার সম্পর্কের কথা! তবে গেলে মন্দ হয় না। আদ্রিয়ান সিদ্ধান্ত নেয়, সে মেঘের রুমে যাবে। চুপিচুপি আদ্রিয়ান হেঁটে তার রুমে থেকে বাহির হয়! ধীরে ধীরে পা ফেলে মেঘের রুমে যায়।
দরজার কাছে দাঁড়িয়ে নক করবে, কিন্তু এর আগেই দেখে দরজা খুলা। দরজা খুলা দেখে আদ্রিয়ান অবাক হয়! এতো রাতে ওরা দুইজন দরজা খুলা রেখে ঘুমিয়ে আছে কেন? যদি কোন বিপদ হয়! মেঘ তো এমন বোকামি করার কথা না।
____ আদ্রিয়ানের সন্দেহ হয়, সে দ্রুত দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে। এক পাশের বিছানায় নূহা ঘুমিয়ে আছে, কিন্তু অন্য পাশে মেঘ নাই? আদ্রিয়ান মনে যেন ভয় বাসা বাঁধে। মেঘের বিছানার দিকে এগিয়ে যায়। সত্যি মেঘ নাই? এতো রাতে কোথায় গেছে মেঘ? ওয়াশরুমে গিয়ে খুঁজে কিন্তু সেখানে নেই। আদ্রিয়ানের ভয় বাড়ে, ওর পাশে থাকা নূহাকে ডেকো ঘুম থেকে উঠায়।
হঠাৎ ঘুমের মাঝে ডাক পড়ায় নূহা দ্রুত ঘুম থেকে উঠে। ঘুমন্ত চোখে সামনে আদ্রিয়ানকে দেখে চমকে যায়, নূহা বলে
___” আদ্রিয়ান স্যার, আপনি এখানে? এতো রাতে?
আদ্রিয়ান চিন্তিত কণ্ঠে দ্রুত প্রশ্ন করে উঠে
___” নূহা, মেঘ কোথায়? ”
“মেঘ কোথায় ” এমন প্রশ্ন শুনে নূহা অবাক হয়ে যায়। পাশ ফিরে তাকায় দেখে, বিছানায় মেঘ নাই। নূহা ধপ করে উঠে বসে, তারা একসাথে বিছানায় শুয়েছিল। এখন কোথায় চলে যাবে মেঘ? নূহা বলে
___” স্যার মেঘ, একটু আগেও আমার সাথে ঘুমিয়ে ছিল এখন কোথায় চলে গেছে? আমি জানি না?”
আদ্রিয়ানের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে, এখন সে কি করবে? মেঘকে কি করে খুঁজে বের করবে? কোথায় মেঘ! আদ্রিয়ানের চিন্তার মাঝে খেয়াল করে, তার ফোন অনেক সময় ধরে বেজে যাচ্ছে। বাসে সাইলেন্ট করে রেখেছিল, এখনও খুলা হয়নি! আদ্রিয়ান তার পকেট থেকে ফোন বের করে, ইরফান সাহেব কল করেছে। কিন্তু এতো রাতে ইরফান স্যার কেন কল করবে। আদ্রিয়ান ফোন রিসিভ করে বলে
___” ইরফান স্যার আপনি? এতো রাতে হঠাৎ ফোন করেছেন কেন?”
ইরফান সাহেব কণ্ঠে দ্রুততা নিয়ে এসে বলে উঠে
___” আদ্রিয়ান, মেঘকো বাঁচাও তুমি।”
ইরফান সাহেবের কথা শুনে আদ্রিয়ান আঁতকে উঠে। মেঘকে বাঁচাবে মানে? কিন্তু কেন? আদ্রিয়ান বলে
___” মেঘকে বাঁচাব মানে? কার থেকে বাঁচাব?!
ইরফান সাহেব ভীতু ভীতু কণ্ঠে উচ্চারণ করে
__” জিয়ার হাত থেকে। মেঘকে বাঁচাও তুমি। ও খুন করে ফেলবে মেঘকে।”
ইরফান সাহেব ধীরে ধীরে সব ঘটনা খুলে বলে আদ্রিয়ানকে। সব কথা শুনে, এক পা পিছিয়ে যায় সে। জিয়া সব জেনে গেছে? ও নিশ্চয়ই মেঘকে কিডন্যাপ করেছে? কোথায় নিয়ে গেছে মেঘকে। আদ্রিয়ান কি করে খুঁজবে এখন মেঘকে?
জঙ্গলের এক পাহাড়ে নিয়ে এসে মুখ মুখে দেয় মেঘের। অজ্ঞান অবস্থায় থাকা মেঘের শরীর নেতিয়ে পড়ে মাটিতে! তার চোখ মুখে পানি ছিটায় জিয়া! পিটপিট করে চোখ খুলে তাকায় মেঘ! তার সামনে হাত ভাজ করে ক্ষিপ্ত চোখে তাকিয়ে আছে জিয়া! জিয়ার কিডন্যাপ আর রাগী চোখ মুখে দেখে মেঘ বুঝতে পারে। তাদের দুইজনের বিয়ের কথা জিয়া জেনে গেছে! তাই তাকে খুন করার জন্য নিয়ে এসেছে। কিন্তু মেঘ এতে ভয় পায় না, কারণ সে আদ্রিয়ানকে ভালোবাসে। আর এই জিয়ার মতো সাইকো আর বেহায়া নারীর জন্য নিজের স্বামীকে সে ছেড়ে দিবে না। মেঘ বলে
___” জিয়া, কেন কিডন্যাপ করেছ আমায়?কি শএুতা তোমার সাথে আমার? বল, উত্তর দাও?”
মেঘের জোড়াল কণ্ঠ শুনে, জিয়া এগিয়ে গিয়ে ওর চুল ধরে বসে! চুলে টান পড়ায় রাগী রাগী চোখে তাকায় মেঘ।বেশ শক্ত করে ধরেছে বিধায় ব্যাথা করছে! জিয়া নিজের রাগের প্রতিফলন দেখাতে, আরো অধিক জুড়ে চেপে ধরে মেঘের চুল! মেঘ ব্যাথায় আত্মানাথ করে উঠে
___আহ্ আহ্, জিয়া ছাড়। ”
মেঘের চুল ধরে মাথা উঁচু করে জিয়া তার সম্মুখে দাঁড়িয়ে বলে উঠে
__” খুব ব্যাথা করছে তাই না তোমার মেঘ। এইটা মাএ শুরু! তোমায় আর আদ্রিয়ানকে যখন আমি একসাথে দেখি, এখন আমারও কষ্ট হয়। আদ্রিয়ানকে ভালোবাসি আমি। ও শুধু আমার। শুনেছ তুমি মেঘ।”
জিয়ার কথা শুনে মেঘ হাসে, ভালোবাসা আর পাগলামির মধ্যে তফাত জিয়া বুঝে না! ভালোবাসার মানুষকে পেয়ে গেয়েই সব ভালোবাসা পূণতা পায় না। কখনও নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে হলেও অন্যকে জিতিয়ে দিতে হয়। আর জিয়া যতই আদ্রিয়ানকে ভালোবাসুক। মেঘ জানে, আদ্রিয়ান শুধু তাকে ভালোবাসে! অন্য আর কাউকে নয়! মেঘ বলে
___” জিয়া আদ্রিয়ান শুধু আমায় ভালোবাসে। স্বামী ও আমার। আমি আদ্রিয়ান রোদায়ানের বউ হয়। আর তুমি কে? তৃতীয় নারী! তাছাড়া তুমি তো ভালোবাসার মানে বুঝ না জিয়া? তুমি আদ্রিয়ানকে ভালোবাস না, ওইটা ভালোবাসা নয় জেদ!
জিয়া হাসে, কি নিষ্ঠুর তার হাসি! জিয়া বলে
___” যদি জেদ হয়। তবে জেদ। আদ্রিয়ানকে মেডিক্যালে পড়া অবস্থা থেকে ভালোবাসি আমি। প্রায় পাঁচ বছরের ভালোবাসা আমার। তুমি কি বুঝবে ভালোবাসা মানে কি? ”
জিয়ার কথা শুনে মেঘ হাসে, সে বুঝে না ভালোবাসা মানে কি? গত নয় বছর ধরে যে মানুষটার জন্য অপেক্ষা করেছে! স্বামী হিসাবে যার জন্য প্রতিদিন নিজের মনে স্বপ সাজিয়েছে! কান্না, অপমান, অবহেলা, সব সয্য করেছে। তাকে সে ভালোবাসে না? তার চেয়ে বেশি আদ্রিয়ানকে কে ভালোবাসে শুনি? জিয়ার মুখের উপর তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে মেঘ
___” ভালোবাসা মানে তুমি বুঝ না জিয়া৷ আর তুমি যায় কর না কেন আদ্রিয়ান তোমায় ভালোবাসবে না। আমি মারা গেলেও তুমি ওকে পাবে না। কখনও না।”
” আদ্রিয়ান আমার না হলে আমি কারো হতে দিব না মেঘ। যদি ওর সাথে আমি সংসার না করতে পারি। তবে তুমিও পাবে না।”
মেঘ জিয়ার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে
__” আমায় খুন করলে তুমি খুশি হবে জিয়া?
জিয়া উন্মাদের মতো বলে উঠে
__” হুম হব। অনেক খুশি হব।”
মেঘ নিলিপ্ত কণ্ঠ বলে উঠে
___” তবে আমায় খুন করে ফেল। কিন্তু আমার বিশ্বাস আদ্রিয়ান তোমায় কখন ভালোবাসবে না! আমার মৃত্যুর ওর ঘৃণার পরিমাণ বাড়তে তোমার প্রতি।
” ঘৃণা করলে করবে। তুমি আমি তোমার মৃত্যু দেখতে চাই মেঘ।”
__” জিয়া, এইটা তোমার জেদ আর ভালোবাসার মধ্যে পার্থক্য। তুমি শুধু চাও আমায় হারাতে, আদ্রিয়ানকে ভালোবাসতে নয়। আদ্রিয়ান তোমার জেদ জিয়া।”
মেঘের কথা শুনে জিয়া দিগুণ রেগে যায়। সে আর কোন কথায় শুনতে চাই না। রেগে টেনে হিঁচড়ে মেঘকে নিয়ে আসে পাহাড়ের খাদের কাছাকাছি! নিচে বিশাল বড়ো গর্ত! এখান থেকে একবার কাউকে ধাক্কা দিলে, তার বেঁচে থাকার কোন উপায় নাই! জিয়া মেঘের দিকে বিক্ষিপ্ত চোখে তাকায়! অবশেষে সে জিতে যাবে। মেঘকে হারাতে পারবে!
নিচে গর্তর দিকে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে নেয় মেঘ। হয়ত আজ তার মৃত্যু হবে। কিন্তু মৃত্যুর আগে সে আদ্রিয়ানকে দেখে যেতে চাই! বাংলাদেশে থাকা তার বড় আব্বুর মুখ চোখের সামনে ভেসে উঠে। ওই মানুষটা তাকে নিজ সন্তানের মতো বড়ো করেছে। মৃত্যুর আগে তাকে দেখে যাওয়ার সুযোগ হবে না মেঘের৷ সৃষ্টি, শার্লিন বেগম সবাইকে মিস করবে সে!
মৃত্যুর ৭ মিনিট আগে মানুষের চোখের সামনে সব প্রিয় মানুষদের মুখ ভেসে। তার জীবনের সব ঘটনা! হয়ত মেঘের সাথেও তাই হয়েছে। মেঘ চোখ বন্ধ করে সব দেখে নেয়! জিয়া মেঘের হাত ধরে টেনে পাহাড়ের কাছে নিয়ে আসে এরপর বলে
___” সো সরি মেঘ, এই জীবনে তোমার আর আদ্রিয়ানের সাথে সংসার হল না। গুড বাই মেঘ।”
কথাটা বলে শক্ত হাতে জোরে ধাক্কা দেয় পাহাড়ের উপর থেকে মেঘকে। আকস্মিক ধাক্কায় ছিটকে নিচে পড়ে যায় মেঘ! ঠিক তখুনি হঠাৎ এক জোড়া হাত এসে জিয়াকে সরিয়ে দিয়ে! নিচে পড়ে যাওয়া মেঘের হাত ধরে ফেলে! মেঘ অবাক হয়ে তাকায়!
মেঘের চোখে মুখে আশার প্রদীপ জ্বলে উঠে! আঁতকে থাকা মুখ নিয়ে উপরের দিকে তাকায় মেঘ! পাহাড়ের উঁচু টিলার উপর, হাত বাড়িয়ে থাকা মানুষটার মুখ দেখে মেঘ বলে উঠে
___” আ আদ আর্দ্র __.
অস্পষ্ট স্বরে আদ্রিয়ানের নাম উচ্চারণ করার আগেই, অপর পাশ থেকে জিয়া চিৎকার করে বলে উঠে
___” আদ্রিয়ান, তুমি?”
আদ্রিয়ান জিয়ার কোন কথা কানে তুলল না। ও মেঘের হাত শক্ত করে ধরে রাখে! কিন্তু মেঘ অনেক নিচে চলে যাওয়ায় আদ্রিয়ানের পা পিচলে যায়! মেঘ বুঝে, যদি এখন আদ্রিয়ান তাকে বাঁচাতে যায়। তবে নির্ঘাত আদ্রিয়ান নিচে পড়ে যাবে। মেঘ বলে
___” আদ্রিয়ান, ছাড়ুন আমার হাত। আপনি নিচে পড়ে যাবেন। আদ্রিয়ান।”
কিন্তু আদ্রিয়ান ছাড়ল না, মেঘের হাত শক্ত ধরে রাখে! উপরে উঠানর চেষ্টা করে। আদ্রিয়ান বলে
____” মেঘ, তোমার হাত আমি ছাড়ব না৷ হয় বাঁচার হলে একসাথে বাঁচব না হয়। মরে যাব।”
তাদের দুইজনের এই সিনেমাটিক ডায়লগ গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় জিয়ার! খুব শখ না একসাথে মরার। তবে মর একসাথে! জিয়া অপর পাশ থেকে এক পাথর নিয়ে এসে হাতে করে। মেঘ তা দেখল। এখন যদি এই পাথর আদ্রিয়ানের মাথায় মারে! তবে আদ্রিয়ান মারা যাবে!
মেঘ নিজ হাত ছাড়ানর চেষ্টা করে! মেঘকে হাত ছাড়াতে দেখে, আদ্রিয়ান আরও শক্ত করে ধরে রাখে! মেঘ জানে, যদি সে এখন মারা না যায়! তবে আদ্রিয়ান বাচঁবে না! জিয়া পাথর নিয়ে আদ্রিয়ানকে মারতে যায়! মেঘ বলে
___” আদ্রিয়ান, ছাড়ুন আমার হাত। প্লিজ ছেড়ে দেন।”
আদ্রিয়ান এখনও মেঘের হাত শক্ত করে চেপে ধরে বলে
___” না মেঘ, তোমায় ছাড়ব না আমি। তোমায় অনেক ভালোবাসি মেঘ! অনেক ভালোবাসি।”
মেঘ কান্নামিশ্রিত কণ্ঠে বলে উঠে
___ আমিও আপনাকে অনেক ভালোবাসি আদ্রিয়ান। জীবনের শেষ মুহূর্ত অবধি আমার হয়ে থাকবেন! এই এক জীবনে শুধু মাএ আপনাকে ভালোবেসেছি। আর সারাজীবন তাই বাসব।”
আদ্রিয়ান আর মেঘের কথা শুনে, জিয়ার হাত থেকে পাথর পরে যায়! ওর ঠাঁই হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। কোন শব্দ করে না! নিবার্ক ভঙ্গিতে মেঘকে বাঁচানর জন্য আদ্রিয়ানের আকুতি দেখতে থাকে। এই মানুষ টার জন্য সে অন্য একজনকে খুন করতে যাচ্ছে? যে কখনও তাকে ভালোবাসেনি! অবশ্য আদ্রিয়ানের দোষ দিয়ে কি হবে? দোষ ওর! মেডিক্যালে পড়ার শুরু থেকে আদ্রিয়ান তার থেকে দূরে থাকত। অপছন্দ করত! কিন্তু সে সবসময় আদ্রিয়ানের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করত। নিজের আত্মাসম্মান, কেরিয়ার সব ভুলে গিয়ে আদ্রিয়ানের ভালোবাসার পাওয়ার চেষ্টা করেছে।
ভালোবাসার মানুষের হাতে, ১৪ টা থাপ্পড় খাওয়ার পরও তার পিছুপিছু ঘুরেছে! তাকে ভালোবেসেছে! শত অপমান সয্য করে বেহায়ার মতো আর কাছে ফিরে গেছে! কতটা নিচুঁ ছিল না সে। নিজের জেদ, আবেগকে ভালোবাসা ভেবে ভুল করেছে। মেঘ সত্যি বলেছে, সে কখনও আদ্রিয়ানকে ভালোবাসে নি। ভালোবাসার মানেই জিয়া বুঝে না।
পাহাড় থেকে নিচে পড়ে গেলে মেঘ মারা যাবে। এই কথা সে জানে! তবুও নিজ হাত ছাড়ানর চেষ্টা করছে, যেন আদ্রিয়ান পড়ে না যায়! অথচ জিয়া নিজ স্বার্থ আর জেদের জন্য তার ভালোবাসার মানুষকে খুন করতে চাই? আজ যদি মেঘ মারা যায়, তবুও কি আদ্রিয়ান কখনও তাকে ভালোবাসবে? হয়ত, জোর করে আদ্রিয়ানের বউ সে হতে পারবে কিন্তু ওর ভালোবাসার মানুষ মেঘই থেকে যাবে! জিয়া জিতে গিয়েও হেরে যাবে। আর মেঘ হেরে গিয়েও জিতে যাবে।
জিয়ার এখন নিজের উপর বড্ড ঘৃণা লাগছে। কি বাজে ছিল তার চিন্তা ভাবনা জেদ! কেন সে আদ্রিয়ানের জন্য পাগলামি করতে গেল। আজ যদি সে জেদকে খুন করার দায়ে জেলে চলে যেত তখন? তার মা _ বাবার কি হতো! তা মা হয়ত কান্না করতে করতে মারায় যেত। একবারও কি নিজ পরিবারের কথা ভেবেছে সে? তার কেরিয়ার ডক্টরির কথা? না, শুধু স্বর্থপরের মতো নিজ ভালোবাসা আর জেদকে বজায় রেখেছে?
তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৬৩
এই স্বর্থপরতার ফলস্বরূপ জিয়ার ঘৃণায় প্রাপ্য! অন্যদিকে আদ্রিয়ান মেঘের হাত শক্ত করে ধরে রাখে! খুব কষ্ট করে উপরে তুলে নিয়ে আসে। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে। জিয়া সেইদিকে তাকায়। তার চোখ বেয়ে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়ে৷ যতই জেদ করে বেহায়া হয়ে আদ্রিয়ানের পিছনে ঘুরাঘুরি করুক। ভালোবেসে ছিল সে আদ্রিয়নাকে। তাই হয়ত কষ্ট লাগছে।
পিছনে ফিরে তাকায় না জিয়া। বড় বড় পা ফেলে চলে যায় সেখান থেকে। আর কখনও আদ্রিয়ানের কাছে ফিরবে না! বেহায়ার মতো ভালোবাসি বলবে না। সুখে থাকুক। সারাজীবন তাকে ঘৃণা না হয় করবে। নিজের ভুল বুঝে সে চলে যায় বহুদূরে।
