দাহশয্যা পর্ব ২
Raiha Zubair Ripti
বর্ষার প্রথম সপ্তাহ এটা। মধ্য রাত থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে । সেই বৃষ্টি এখনও থামার নাম নেয় নি। ঘন মেঘে আকাশ ঢেকে গেছে, যেন কোনো বিশাল অন্ধকার চাদরের মতো চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে। বাতাসে আর্দ্রতা ভেসে বেড়াচ্ছে, আর বৃষ্টির ফোঁটাগুলি ঝাঁকুনি দিয়ে পড়ছে। মাটিতে প্রথমে সামান্য মাটির গন্ধ ছড়াচ্ছে, এরপর তা ঘন হয়ে উঠছে,কিছুক্ষণ পর পর, বৃষ্টি আরও বাড়ছে, যেন আকাশ তার সমস্ত বিষাদ ঢেলে দিচ্ছে পৃথিবীতে। নদী কিংবা পুকুরের জল স্তর একেবারে উঁচু হয়ে যাচ্ছে, পানি উপচে পড়ছে। ধান খেত গুলো বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাচ্ছে। ধান এখনও কাটা হয় নি কৃষক দের।
রাস্তায় মানুষ চলাচল করতে পারছে না, সবাই মাথার উপরে চাদর কিংবা ছাতা নিয়ে হাঁটছে, আর কিছু মানুষ ছাতা চাদর ছাড়াই দৌড়ে ছুটছে ধান খেতের দিকে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে এসবই দেখছিলো মেহরিন। হাতে তার চায়ের কাপ। দিনে কম করে হলেও ১০ কাপ চা খায় মেহরিন। তাকে যদি ভাত না দিয়ে সারা বেলা চা দেওয়া হয় তাতেও রাজি সে। সে ভীষণ কল্পনা বিলাসি আবেগপ্রবণ মেয়ে। কল্পনা করে সেখানেই বসবাস করতে পছন্দ করে নিজের কল্পনা মাফিক। বাড়ির উঠোন টা পিছিল হয়ে আছে। আজ আর বাড়ি ছেড়ে বের হবে না এই বৃষ্টি তে। আজ সে একটু ডায়েরি লিখবে। অনেক দিন হলো লেখালেখি করা হয় না। লাস্ট ডায়েরিতে লিখেছিল এক্সামের আগের দিন রাতে৷ মেহরিন সব কিছু ডায়েরিতে আবদ্ধ করে রাখতে পছন্দ করে। মেহরিন বিশ্বাস করে মানুষ ম’রে গেলেও তার স্মৃতি গুলো ম’রে না। কোনো না কোনো ভাবে কারো উছিলায় তা বেঁচে থাকে। হয়তো একদিন মেহরিন থাকবে না৷ কিন্তু তার ডায়েরিটা ঠিকই থেকে যাবে ডায়েরির প্রকৃত মালিক বিহীন।
মেহরিন চা টা শেষ করে রুমে ফিরে আসলো। বিছানায় তাকিয়ে দেখলো তার বোন এখনও শুয়ে আছে। ভীষণ অলস তার বোন। আনিক ভাই যে কিভাবে সহ্য করে কে জানে৷ আলতো করে চেয়ার টেনে বসলো মেহরিন। টেবিলের ড্রয়ার থেকে নীল ডায়েরি টা বের করলো। ডায়েরি টা মেহরিন কিনেছিলো নাইনে উঠে। আজ মে মাসের ২৫ তারিখ । কলমদানি থেকে কলম টা নিয়ে লিখতে শুরু করলো—
— আজ মে মাসের ২৫ তারিখ সাল ২০২০। গতকাল বিয়ে ঠিক হলো। অথচ আমার যার সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে তাকে আমি চিনি না, জানি না। কেমন দেখতে সেটাও বলতে পারবো না। আচ্ছা পৃথিবীতে কি আমিই সেই মেয়ে যে বর কে না দেখেই বিয়ে করতে যাচ্ছি? আচ্ছা উনার নাম কি? সেটাও তো জানি না। আপার কাছে লজ্জায় জিজ্ঞেস করতে পারছি না। কি না কি ভেবে বসে সেজন্য। আচ্ছা আমি যদি নিজ থেকে একটা নাম দিয়ে ফেলি তার। আপাতত তাকে ডাকার জন্য। তাহলে কেমন হবে? আচ্ছা কি নাম দেওয়া যায় তার বলো তো। হটাৎ ই পাশে চোখ গেলো মেহরিনের। হুমায়ুন আহমেদের অপেক্ষা বইটা পড়ে আছে টেবিলের এক কোনায়। মস্তিষ্কে এসে বিধলো অপেক্ষা শব্দ টা। এর চাইতে সুন্দর নাম আর হয়? উঁহু.. উমম..অপেক্ষা কেমন নাম? মেঘ বালিকার অপেক্ষায় অপেক্ষকৃত পুরুষের নাম টা না হয় আমি অপেক্ষাই রাখলাম। যেদিন আসল নাম জানবো সেদিন না হয় বদলে দিব।
ঠিক দুপুরের দিকে বৃষ্টি ছেড়ে গেলো। বৃষ্টির জন্য আজ আর বাড়ি থেকে বের হয় নি নওয়াজ সোলেমান সুলতান । টানা ঘুম দিয়েছে দুপুর একটা অব্দি। গত রাতে দেরি করে বাড়ি ফিরেছে। পার্টি অফিসে ঝামেলা থাকায় রাতের অনেক টা ওখানেই কাটিয়ে তারপর ফিরতে হয়েছে বাড়ি। আড়মোড়া ভেঙে বিছানা ছেড়ে উঠলো সোলেমান। এই বিশাল আলিসান দোতলা বাড়িতে সোলেমান তার ছোট চাচা বাশার সুলতান আর তার ছেলে এজওয়ান সুলতান । বাড়িটা আজ থেকে দেড়শ বছরের আগের বানানো। বাড়ির প্রতিটি ইট বালু জানে এই বাড়ির ইতিহাস। কত সংগ্রাম কত যুদ্ধ কত প্রতারণা, কত বিকৃতি ইতিহাস আছে এই বাড়ির তা অজানা সবার।
জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা এই বাড়িতেই সোলেমানের। রাজনীতির মাঠে এক সময় আওয়ামী লীগের বেশ প্রখর মন্ত্রী ছিলেন সুলতান পরিবারের বড় ছেলে। তারপর রাজনীতির হাল ধরেছে বাশার সুলতান। আর এখন সেই জায়গায় সোলেমান নিজে বসেছে। রক্তে রাজনীতি থাকায় রাজনীতি সে নিজেও কম জানে না। দু বছর হতে চলছে সে এমপি হয়েছে ঢাকা ৮ এর ১৮১ নং আসনের। আগে মেয়র ছিলো যখন বাশার সুলতান ছিলেন এমপি পদে। ২০১৮ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় সোলেমান মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়ে এমপি হবার জন্য দাঁড়ান। আর মেয়র পদে উপনির্বাচন করে বসানো হয় ইব্রাহিম কে। তারপর ২০২০ সালে পূনরায় মেয়র নির্বাচন হলে বিপুল পরিমাণ ভোট নিয়ে ফের আবার জয়ী হয় ইব্রাহিম।
লম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে বের হলো ওয়াশরুম থেকে সোলেমান। কালো টাউজার আর সাদা টি-শার্ট পড়ে রুম থেকে বের হতেই মুঠোফোন টা বেজে উঠল। সোলেমান তাকিয়ে দেখলো মায়ের ফোন। না চাইতেও চাপা শ্বাস বেরিয়ে আসলো। ফোন টা কেটে কল ব্যাক করে কানে নিলো।
-“ কিরে বাপ কাল তো আর ফোন দিলি না।
সোলেমান সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতো নামতে বলল-
-“ অনেক রাত করে বাড়ি ফিরছি মা। ক্লান্ত থাকায় তাই আর ফোন দেই নি।
-“ ওহ্ খেয়েছিস?
-“ না খেতে নেমেছি।
-“ আচ্ছা আমার কথা গুলো মন দিয়ে শোন।
সোলেমান ইশারায় সার্ভেন্ট কে প্লেটে খাবার বাড়তে বলে চেয়ার টেনে বসে বলল—“ হু বলো।
-“ আমি একটা কাজ করেছি।
সোলেমান পাউরুটি মুখে দিয়ে বলল-
-“ কি কাজ করেছো?
-“ আমি তোর বিয়ে ঠিক করেছি।
সবেই জুশ টা মুখে দিতো যাচ্ছিলো। আর দেওয়া হলো না। অবাকে বিস্ফোরিত হলো নেত্র জোড়া। বিস্মিত কন্ঠে বলল-
-“ হোয়াট আর ইউ সেয়িং মা? আর ইউ আউট অফ ইয়োর মাইন্ড?
-“ এতে অবাক হওয়ার কি আছে সোলেমান? বিয়ে তো একদিন করতেই হবে। মনে তো কাউকে জায়গা দিতেই হবে।
-“ তাই বলে তুমি আমাকে না জানিয়ে বিয়ে ঠিক করে ফেললে! আমি অবাক হচ্ছি।
-“ হ্যাঁ করলাম। সামনের মাসের ২৫ তারিখে বিয়ে তোর । ভদ্রলোকের মতো বিয়ের আগে বাড়িতে যেন দেখি তোকে।
-“ কাজটা ঠিক করছো না।
-“ মেয়েটাকে আমার ভীষণ পছন্দ হয়েছে। একদম পুতুলের মতো। প্লিজ বাবু না করিস না।
-“ আমাকে একদম বাবু বলবে না মা। আমি বাবু নই।
-“ তাহলে সময় মতো চলে আসিস। মেয়েটার সাথে কি কথা বলবি একবার?
-“ দরকার নেই। মেয়ে কি করে?
আফিয়া সুলতান কিছুক্ষণ থেমে বলল-
-“ এই তো অনার্সে পড়ে। আসবি তো। মান সম্মান ডোবাস না আমাদের।
-“ আগে ভাবা উচিত ছিলো সেটা। এখন কেনো ভাবছো আর।
-“ খেয়ে নে। মেয়ের ছবি পাঠাবো?
-“ না।
-“ সে কি দেখে নিবি না?
-“ তোমরা দেখার আগে আমার অনুমতি নিছিলা?
-“ আচ্ছা রাগ করিস না। সময় মতো চলে আসিস কেমন?
-” গ্যারান্টি দিতে পারছি না তার।
সোলেমান ফোন কেটে দিলো। তার মা বিয়ে বিয়ে করে মাথা খেয়ে ফেলছে। অথচ সোলেমান বিয়ে বিদ্বেষী। শুধু শুধু বিয়ে করে একটা মেয়ের জীবন নষ্ট করার মানেই হয় না। না তাকে ভালোবাসতে পারবে আর না তাকে নিজের জীবনের সাথে জড়াতে পারবে। ব্রেকফাস্ট টা করেই বাড়ি থেকে বের হলো। গাড়িটা বের করে সোজা ক্লাবে আসলো।
ক্লাবের করিডরে বসে আছে ইব্রাহিম। ইব্রাহিম সোলেমানের একমাত্র সহকারী ছিলো আগে। এখনও আছে তবে গোপনে। ইব্রাহিম অপেক্ষা করছিলো সোলেমানের৷ পায়ের শব্দ কানে আসায় মাথা উঁচু করে বায়ে তাকালো। সোলেমান এসেছে মুখে তার মাস্ক। করোনার জন্য সব জায়গায় তাকে মাস্ক পড়ে যেতে হয়। এগিয়ে আসলো সোলেমান। পকেটে ফোন টা ভরে বলল –
-“ এনেছিস?
ছোট্ট করে জবাব দিলো ইব্রাহিম –
-“ হু।
-“ কোথায়?
ইশারায় একটা রুম দেখিয়ে বলল
-“ ঐ রুমেই আছে চেয়ারে হাত বাঁধা।
সোলেমান আর কোনো কথা না বলেই সোজা চলে গেলো ঐ রুমে দিকে। খালি পরিত্যক্ত রুমে। মাঝখানে শুধু একটি টেবিল আর দুটো চেয়ার। টেবিল বরাবর উপরে একটা লাইট। যা থেকে থেকে নিভছে আর জ্বলছে। সোলেমান গিয়ে চেয়ার টেনে বসলো। ওপর পাশেই চোখ, হাত বাঁধা বসে আছে এক যুবক। নাম তার শরীফ। শরীফ তাদের দলেরই লোক ছিল। কিন্তু নামের সেটা। কাজে সে ছিলো সোলেমানের বিপরীতে থাকা বিপরীত দল বিএনপির নেতা মোহাম্মদ মহসিন আলীর দলের। গত সপ্তাহেই জেনেছে সোলেমান, শরীফ তাদের গোপন কথা মহসিন আলীর কাছে সাপ্লাই করে। বিশ্বাসঘাতকতা শব্দ টাকে চরম ঘৃণা করে সোলেমান। বিশ্বাস ঘাতকদের দ্বিতীয় বার কোনো সুযোগ নওয়াজ সোলেমান দেয় না। আগেও দেয় নি এখনও দিবে না।
পাশ থেকে রডের অংশ টা হাতে তুলে নিলো। শরীফের চোখের সামনে থেকে কাপড় টা সরিয়ে দিলো। শরীফ যেনো মূহুর্তে তার সামনে কোনো আজরাইল কে দেখতে পেলো। আগুন চাহনি নিয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে সোলেমান। শরিফ ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ টুকুও পেলো না। তার আগেই রডের অংশ টা দিয়ে কান বরাবর মে’রে বসলো। পুরো শরীর জমে গেলো শরীফের। চিৎকার টুকু করতে ভুলে গেলো। মাথা ভনভন করছে। একটু বা কাত হতেই গলগল করে কান হতে র’ক্ত বের হলো৷ এবার শরীফ চিৎকার করে উঠলো।
-“ ভাই মাফ করে দিন আমাকে। আমি টাকার লোভে পড়ে ভুল করে ফেলছি।
সোলেমানের মুখে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটলো। তেড়ে এসে শরীফের গাল চেপে ধরে বলল-
-“ কু’ত্তার বাচ্চা এটাকে তুই ভুল বলছিস ? মা’ঙ্গের নাতি এটা ভুল? ভুলের সংজ্ঞা কাকে বলে জানিস? এটাকে বলে বিশ্বাসঘাতকতা। আর আমি বিশ্বাসঘাতকতা দের প্রচণ্ড ঘৃণা করি। আর তোকে টাকা আমি কম দিতাম?
-“ ভাই এবারের মতন মাফ করে দিন।
-“ নো নেভার। ইউর টাইম ইজ ওভার,নাউ ইট’স মাই টার্ন। তোকে এমন য’ন্ত্রণা দিয়ে মা’রবো আমি। যাতে তোর ভয়াবহতা দেখে দ্বিতীয় বার আর কেউ এমন টা করার কথা না ভাবে।
ভয়ে শরীফের আত্মা শুকিয়ে আসলো । নওয়াজ সোলেমানের অ’ত্যাচার মানে তো আয়না ঘরের অ’ত্যাচারের থেকেও ভয়াবহ। আর এখানে তো মৃ’ত্যু নিশ্চিত।
কেনো সে সোলেমানের বিরুদ্ধে গেলো? জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল শরিফের। শরিফ চিৎকার করে বলতে লাগলো ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য
কিন্তু সোলেমান রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। ইব্রাহিম কে বলে গেলো জায়গা মতো তাকে রাখতে। যেখানে আলো তো দূরে থাক ঠিক মতো অক্সিজেন ও ঢুকতে পারে না। আর নিঃশ্বাস থেমে গেলে যেনো ডিলারের সাথে কথা বলে ডিল ফাইনাল করে।
সোলেমান ক্লাবে নিজের কক্ষে গিয়ে চেয়ার টেনে বসলো ফুল স্পিডে ফ্যান ছেড়ে। রাগে তার শরীর জ্ব’লছে। ঘামে ভেজা সাদা পাঞ্জাবি টা। বাবরি চুল গুলো পেছনে ঠেলে দিলো। চোখ দুটো এখনও লাল। সোফায় বসে ছিলেন সোলেমানের চাচা বাশার সুলতান । খবরের কাগজ পড়ছিলেন। এক সময় এই কক্ষ টা ছিলো তার। এখন হয়েছে ভাইয়ে ছেলের। ছেলেটা বেশ প্রখর রাজনীতি তে। মাঝেমধ্যে রাগের বশিভূত হয়ে উল্টাপাল্টা কিছু করলেও তা নিজেই আবার সামলে নেয়। তবে মাঝেমধ্যে ছেলেটার জন্য তার ভয় ও হয়। চারিপাশে যা শত্রু। ছেলেটার সুরক্ষার জন্য বাশার সুলতান নিজেই সোলেমানের অগোচরে সোলেমানের জন্য অতিরিক্ত গার্ড রেখেছে। গ্রামের বাড়িতেও রেখেছে। যাতে কোনো শত্রুরা তাদের কোনো ক্ষতি করতে না পারে।
-“ রাগ কমেছে?
চোখ মেলে তাকালো সোলেমান। সোফায় দেখলো চাচাকে৷ এতক্ষণ খেয়াল করে নি৷
-“ কখন আসলে?
-“ এসেছি অনেকক্ষণ হলো। রাগ কমেছে?
-“ চেষ্টা করছি কমানোর।
-“ রাগ কমানোর চেষ্টা এখন থেকেই কর সোলেমান। ক’দিন পর বিয়ে। বউয়ের সামনে পুরুষ মানুষের রাগ কিন্তু মানায় না।
সোলেমান বিরক্ত হলো।
-“ চাচা তুমি বলছো এ কথা! আই কান্ট বিলিভ দ্যিস। কেনো মায়ের কথায় সায় দিচ্ছো? জীবনে কিন্তু বিয়েটাই সব না।
-“ এই যে তোর বয়স হচ্ছে। তোর পরে কে সামলাবে এই চেয়ার ক্ষমতা?
-“ তার জন্য বিয়ে করতে হবে? এজওয়ান আছে তো।
-” হ্যাঁ বিয়ে করতে হবে। এক সময় চাইতাম বিয়ে না করিস। কিন্তু এখন চাই। তোর রক্তই তো পরবর্তী তে এই চেয়ার,ক্ষমতা সামলাবে। আর এজওয়ান সে কি আর শক্ত হাতে রাজনীতি করার মানুষ? সে ক্লাবে,বারে ফ্রেন্ড দের সাথে চিল করতে ব্যস্ত। তা বিয়েতে যাচ্ছিস তো ?
-“ ভাবছি যাব না।
-“ কেনো? বিয়ে কিন্তু ঠিক করে রেখেছে তোর মা।
-“ আমাকে কি জানিয়েছে এটা করার আগে?
-“ জানালে বোধহয় আগাতে দিতি। একটা মেয়ের জন্য কি দরকার…..
-“ ঐ মেয়ের কথা আমার সামনে বলো না তো চাচা। আমার শরীর জ্বলে।
-“ ঠিক আছে বলবো না। কিন্তু বিয়েতে কিন্তু যেতে হবে।
-“ ভেবে দেখবো যাব কি না।
-“ এতো ভাবাভাবির কিছু নেই এতে। ভাবাভাবি করে জীবন চলে না। জীবন কে তার গতি পথে চলতে দে। মেয়েটাকে দেখেছিস?
দাহশয্যা পর্ব ১
-“ প্রয়োজন বোধ করি নি দেখার।
-“ পছন্দ অপছন্দের ব্যপার আছে তো।
-“ যেখানে বিয়ের ডেট ফিক্সড সেখানে পছন্দ অপছন্দ এখন ম্যাটার করে?
-“ হুমম ভাববার বিষয় তো। আচ্ছা বিকেলে বাসায় ফিরবি?
-” ঠিক নেই।
-” ঠিক আছে চললাম তাহলে আমি।
-“ হু৷ সাবধানে বাড়ি ফিরো।
