Home দাহশয্যা দাহশয্যা পর্ব ৪০

দাহশয্যা পর্ব ৪০

দাহশয্যা পর্ব ৪০
Raiha Zubair Ripti

রাত এখন তিনটা বাজে। মেহরিন বসা পড়ার টেবিলে। সাদা এক পৃষ্ঠায় সে কিছু লিখতে বসেছে। এভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে কি থাকা যায়? না থাকা যায় না। আজ আর শুরু তে প্রিয় অপেক্ষা লিখলো না। সোজা কথা দিয়ে শুরু করলো।

— মনে মনে সালাম দিয়েছি। মনে মনেই উত্তর দিবেন। বউকে যন্ত্রণায়, কষ্টে রেখে নিশ্চয়ই ভালো আছেন? এদিকে আপনার বউটা যে ভালো নেই। কথাবার্তা দেখি একেবারে বন্ধ করে দিয়েছেন। সংসার হওয়ার আগেই কি সংসারের ইতি টানতে চাচ্ছেন নাকি? এমন আশা যদি করে থাকেন তাহলে খুব একটা ভালো হবে না বলে রাখছি। দূরত্ব মেনে নেওয়া যায় কিন্তু যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এটা একটুও মেনে নেওয়া যায় না। হয় দূরত্ব কমান, না হয় যোগাযোগ বাড়ান। ভালোবাসা সুন্দর কিন্তু অপেক্ষা ভয়ঙ্কর রকমের সুন্দর । আমি ভালোবাসা কে রেখে সেই ভয়ংকর অপেক্ষা কেই গ্রহণ করে নিয়েছিলাম। কিন্তু আপনি এটা কি করলেন? আপনার কন্ঠস্বর টা আমার ভীষণ প্রিয়। জানেন তো সেটা। জানার পরও দেখছি কষ্টে রাখছেন বউকে। রাজনীতি সকল কাজকর্ম কে কয়েক মিনিটের জন্য সাইডে রেখে কি আমায় একটু সময় দেওয়া যায় না? খুব বেশি কিছু চাই আমি? আজ অধৈর্য হয়ে লিখতে হচ্ছে চিঠিটা। ভীষণ খারাপ লাগছে। দম বন্ধ হয়ে আসছে। মনে হচ্ছে আপনার কাছে আমার কোনো মূল্য নেই। শুনছেন? আমি কিন্তু আপনাকে ভীষণ মিস করছি। চিঠিটা হাতে পাওয়া মাত্রই একটু সময়ের জন্য হলেও বউকে সময় দিবেন। এতে কিন্তু সওয়ার পাবেন। সওয়াবের জন্যই বলছি। বউকে সময় দিন।

বুকের মাঝে চিনচিন করে
জানো না কি এমন পুড়ে।
এভাবে দূরে থেকোনা…
তোমার মাঝে ডুবি ভাসি
নিজের থেকে আর বেশি
ভালবাসি কেন বুঝনা।
ইতি অনিশ্চিত অপেক্ষায় অপেক্ষিত আমি।
ভোর হলেই চিঠিটা ডাকপিয়ন দিয়ে পাঠিয়ে দেয় মেহরিন।
মাহি এজওয়ান সকালে ব্রেকফাস্ট করেই বেরিয়ে যায় ঢাকার উদ্দেশ্যে। বাড়িটা এখন সেই আগের মতন ফাঁকা হয়ে গেলো। মেহরিনের কি যে মন খারাপ। মাহির সাথে এই ক’দিনে অনেক টা ভালো বন্ডিং হয়ে গিয়েছে। এজওয়ান তো মাহিকে সুলতান নিবাসে নিয়ে রাখছে। তাহলে মেহরিন কে রাখলে ক্ষতি কি সুলতান সাহেবের? সব সময় শুধু কষ্ট দেওয়ার ধান্দা লোকটার।

দুপুর হতেই সুলতান নিবাসে সোলেমানের নামে একটা চিঠি আসে। সোলেমান কেনো যেনো আন্দাজ করতে পেরেছিল চিঠিটা তার বউয়েরই হবে। চিঠিটা খুলে কথাটা মিলেই গেলো। আসলেই তার বউয়ের চিঠি এটা। পুরো চিঠিটা পড়লো সোলেমান। বাপ্রে প্রতি টা কথাতেই কি ধার। ল্যাদা বউয়ের রাগ ভালোই লাগছে সোলেমানের। জবাব টা নয় সেও তার বউয়ের ভাষায় চিঠিতেই দিবে।
সুলতান নিবাসে ফিরেই মাহি ফ্রেশ হয়ে তার অ্যাপার্টমেন্টে চলে যায়। পেছন পেছন কু’ত্তার লেজের মতন এজওয়ান ও এসেছে। এজওয়ানের বাইকে করেই সে এসেছে।
বিকেল হলে সাফওয়ানের সাথে দেখা করতে যাবে। এজওয়ান কে বলে নি মাহি। বাসা থেকে বের হবার সময় জাস্ট বলেছে শপিংয়ে যাচ্ছে ড্রেস কিনতে।

সাফওয়ান ধানমন্ডি লেকে এসে অপেক্ষা করছিলো মাহির জন্য। মাহি আসা মাত্রই যেনো সাফওয়ানের বুকে ঝড় উঠে গেলো। এর আগে সে মাহি কে বাঙালি সাজে দেখে নি। আজ মাহিকে সেলোয়ার-কামিজে দেখে বেশ মুগ্ধ হলো। দৌড়ে ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরে গিয়েও অদৃশ্য এক বাঁধনে থেমে গেলো। এই মেয়েটা এখন আর তার নেই। সে এখন এজওয়ানের স্ত্রী। ইশ কথাটা কি বিশ্রী ভাবে কানে বাজে।
মাহি খুব সূক্ষ্ম ভাবে সাফওয়ান কে পরখ করলো। চোখের নিচে কালি বসে গেছে। মুখে দাড়ি গুলো বড় হয়ে গেছে। কেমন ছন্নছাড়া চেহারা। বুকের ভেতর টা দুমড়ে মুচড়ে উঠলো। চুপচাপ এক সাইডে গিয়ে বসলো মাহি।
পাশে দূরত্ব রেখে সাফওয়ান ও বসলো। সাফওয়ানের গলা বোধহয় কেউ চেপে ধরেছে। ঢোক গিলতেও কষ্ট হচ্ছে। তারপরও কোনো রকমে জিজ্ঞেস করলো-

-” সংসার জীবন কেমন যাচ্ছে তোমার?
মাহির মুখে তাচ্ছিল্যের হাসি। যা সাফওয়ান দেখতে পেলো না। মাহির সংসার? সংসার তার এই জীবনে হবে কোনোদিন? না হবে না। সংসার করার পথ সে নিজেই নিজের হাতে নষ্ট করে দিয়েছে।
-” ভালোই যাচ্ছে। আপনার?
-” যেখানে রেখে গিয়েছিলে সেখানেই আঁটকে আছে।
মাহি ঠোঁট কামড়ে নিজেকে ঠিক রাখার চেষ্টা করলো।
-” জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না সাফওয়ান। আপনার উচিত মুভ অন করা।
-” মুখ দিয়ে বলা সহজ মাহি। কিন্তু বাস্তবতা কঠিন। তুমি পেরেছো তাই বলে সবাই পারবে এটা ভাবা বোকামি।
-” তাহলে কি জীবনটা এভাবে বাহিরের এক মেয়ের জন্য শেষ করে দিবেন?
সাফওয়ান মুচকি হাসলো।
-” বাহিরের মেয়ে? তুমি তো আমার হৃদয়ে থাকতে মাহি।
-” প্র্যাক্টিক্যালি হোন সাফওয়ান। আবেগ থেকে বের হোন। বিবেগ দিয়ে ভাবুন। আপনার একট বাবা আছে। তার কথাটা আপনি ভাববেন না?

-” সবার কথা ভাবতে গেলে দিন শেষে দেখি আমি নিজেই শূণ্য হাতে। আমাকে নিয়ে ভেবো না মাহি। মাঝেমধ্যে এভাবে একটু দেখা দিও? ফ্রেন্ড হিসেবেই না হয় পাশে জায়গা দিও?
মাহি সাফওয়ানের দিকে ঘুরলো।
-” আপনি ভীষণ ভালো সাফওয়ান। ভালো মানুষদের এই পৃথিবী সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়। আপনাকে আমি সারাজীবন মনে রাখবো। আমার এই অনিশ্চিত জীবনে আপনি আলো হয়ে এসেছিলেন। একটু জড়িয়ে ধরি শেষবার আপনাকে? কষ্ট হচ্ছে ভীষণ। কেনো যে আপনাকে পেলাম না!
সাফওয়ান সময় নিলো না মাহিকে জড়িয়ে ধরতে। চুলের ভাজে মুখ চেপে বলল-
-” অ্যা’ম অলওয়েজ উইথ ইউ মাহি। কখনও আমায় প্রয়োজন পড়লে আমাকে জাস্ট একবার ডেকো। আমি পৃথিবীর সকল নিয়ম অমান্য করে ছুটে আসবো তোমার কাছে।
কথাটা শেষ হতে না হতেই পাশ থেকে কেউ মাহিকে হেঁচকা টান দিয়ে সাফওয়ানের থেকে দূরে সরিয়ে নিলো। হাতে তুড়ি বাজিয়ে সাফওয়ানের উদ্দেশ্যে বলল-

-” মাহির প্রয়োজন মেটাতে তার স্বামী এজওয়ান আছে। সে একাই একশো। আপনার সাহায্যের কোনো দরকার পড়বে না মিস্টার সাফওয়ান মির্জা। স্টে অ্যাওয়ে ফ্রম মাই ওয়াইফ।
মাহি এজওয়ানের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো।
-” আপনি এখানে?
-” বউয়ের প’রকীয়া হাতে নাতে ধরতে এসেছি।
-” ধরা শেষ? এখন আসতে পারেন।
এজওয়ান মাহির হাত ধরে টানতে টানতে যেতে যেতে বলল-
-” চলো।
-” হাত ছাড়ুন।
-” তুমি না শপিং করতে বের হচ্ছিলে? শপিং কোথায় তোমার?
-” কার্ড আনি নি।
-” নো প্রবলেম আমি আছি তো টাকার মেশিন।

সাফওয়ান দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলো মাহি আর এজওয়ানের চলে যাওয়া। ধপ করে বসে পড়ে মাটিতে।
সন্ধ্যার পরপর একটা পার্সেল আসে মেহরিনের নামে। মেহরিনের কানে কথাটা যেতেই ভাবনায় প্রথমেই আসলো সোলেমানের নাম৷ উনি ছাড়া আর কে পাঠাবে?
রুমাইসা পার্সেল টা নিয়ে মেহরিনের রুমে আসে। বিছানায় তখন আধশোয়া হয়ে শোয়া ছিলো মেহরিন৷ রুমাইসা কে দেখে উঠে বসে। রুমাইসা পার্সেলটার দিকে তাকিয়ে বলে-

-” ভাবি তোমার জন্য ভাইয়া ফোন পাঠিয়েছে৷ খুলে দেখো।
মেহরিন একটু অবাকই হলো। পার্সেল টা হাতে নিয়ে আনবক্সিং করতে লাগলো। আনবক্সিং করে দেখতে পেলো iPhone 11 Pro Max Solarius Zenith Edition।
রুমাইসা হা হয়ে গেলো ফোনটা দেখে। তার হাতে থাকা iPhone 11 Pro Max এর দিকে তাকালো৷ তার ফোনের দাম আড়াই লাখ নিয়েছে। আর তার ভাবির টা তো পুরাই গোল্ডের। মাগো মা ফোনের পেছনে আবার লেখা ইংরেজি তে মেহরিন সুলতান ওয়াইফ অফ নওয়াজ সোলেমান সুলতান! পুরোটাই কাস্টমাইজেশন করে বানিয়ে এনেছ তার ভাই এতে কোনো সন্দেহ নেই।
মেহরিন ফোনটা হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে। ফোনের ডিজাইন টা রাজকীয়। রুমাইসা মেহরিনের হাত থেকে ফোনটা নিয়ে ভালোমতো দেখে বলল-

-” বাবাগো বাবা ভাইজান তোমায় এই ফোন দিলো!
মেহরিন জিজ্ঞেস করলো-
-” কেনো আপু কি হয়েছে?
-” এটা তো গোল্ডে মোড়া ফোন গো ভাবি। অথচ দেখো তার বোনের ফোনে গোল্ড তো দূরে থাক একটা রূপাও নেই। আর বলেই বা কি লাভ। ভাইয়ের জাস্ট পারফিউমের বোতলের শরীরেই তো লাগানো থাকে প্রায় ৩,৫৭৪টি হীরা, ১৮ ক্যারেট সোনা, পার্ল, পোখরাজ, টোপাজ, নীলকান্তমণি, আরও কত মূল্যবান পাথর। সেখানে তার বউয়ের ফোন স্বর্ণে মোড়ানো থাকবে সেটা স্বাভাবিকই।
মেহরিন ঘাড় বেঁকিয়ে ড্রেসিং টেবিলের দিকে তাকালো। শুমুখ পারফিউমের বোতলটার দিকে তাকিয়ে বলল-

-” ঐ পারফিউমের বাহিরে থাকা পাথর গুলো হীরা!
-” হ্যা তবে এটা তো কপি ভার্সন। কাস্টমাইজেশন করে বানিয়ে এনেছে এটা। আসল টা তো সুলতান নিবাসে। ওটা ক্যারি করা যায় না। অনেক বড় বোতল তো। ২০-২৫ কেজির।
-” তাহলে ব্যবহার করে কিভাবে ওটা হাতে নিয়ে?
-” হাতে নিয়ে ব্যবহার করতে হয় না। বোতলের সঙ্গে অটো স্প্রে সিস্টেম বসানো আছে।
তুমি বোতলের সামনে দাঁড়ালে, সেন্সর তোমাকে চিনে গায়ে স্প্রে করে দেয়। কোনো বোতাম চাপা বা বোতল ধরার দরকার হয় না।
মেহরিন চোখ ছোট ছোট করে তাকালো। এত বিলাসিতা করে তার স্বামী!

-” উনি এত টাকা খরচ করে জাস্ট এসবের পেছনেই!
-” হুমম। প্রচুর টাকা খরচ করে তার নিজের পেছনে। নিজেকে সবসময় পরিপাটি করে রাখে । বেস্ট বেস্ট জিনিস গুলো সে নিজের জন্য চুজ করে। ভাইয়ার বাসায় থাকলে বুঝবে। ভাইয়ার রুমে ঢুকলে জাস্ট হা হয়ে থাকবে। এটা কি রুম এর থেকেও বড় রুম ভাইয়া। আর বেলকনি টা তো পুরাই জোশ। বাড়ির সামনে সুইমিংপুল, তারপর বাগান। আর নিবাসের পেছনে ঘন জঙ্গল আছে। হরর ভাইব দেয় একটা।
-” এত অযথা টাকা ভাঙার কোনো মানে হয়?
-” আর্নিং করে ভাঙ্গে। এতে সমস্যা কি?
-” রাজনীতি করে কেউ এত টাকা আর্ন করে?

-” ভাইয়া শুধু রাজনীতি করে এটা তোমায় কে বলল? ভাইয়া একজন বিজনেসম্যান ও। দেশে ও দেশের বাহিরে তার বিজনেসের ছড়াছড়ি । ওসব চাচা আর এজওয়ান ভাইয়াই বেশি সামলায়। তবে সেসবের মালিক ভাইয়াই।
মেহরিন জাস্ট শুনে গেলো। কিছু বলার ভাষা আর খুঁজে পেলো না। জামাই তার বড়লোক সেটা জানত কিন্তু বাবাগো বাবা ব্যাটা যে এত বড়লোক সেটা তো জানতো না! নিজেকে তো কেমন আম্বানির বউ বউ মনে হচ্ছে।
রুমাইসা ফোন টা অন করে দেখলো তার ভাই সব সেটিং করেই তারপর পাঠিয়েছে। সিম আছে ফোনে। হোয়াটসঅ্যাপ খোলা। হোয়াটসঅ্যাপে এড আছে জাস্ট তার ভাইজানের নাম্বার ই।
রুমাইসা এই সুযোগে মেহরিনের হোয়াটসঅ্যাপে নিজেকেও এড করে নিলো।
রুমাইসা চলে যেতেই মেহরিন ফোনটা পাশে রেখে পার্সেলের কাগজ গুলে ফেলার জন্য হাতে নিতেই দেখে সেখানে নীল রঙের একটা কাগজ চার ভাজ করা। মেহরিন সেটা হাতে তুলে নিলো। কিছু লেখা আছে। মেহরিন ভাজ খুলতে শুরু করলো। সবার প্রথমে নিচে চোখ আঁটকে গেলো। লেখা আছে — ইতি তোমার অপেক্ষা। তারমানে সুলতান সাহেব পাঠিয়েছে লেখাটা।

প্রিয় বেগম,
এই নিয়ে দু’বার চিঠি লিখলাম তোমায়। ভালো নেই তুমি এ আমি বেশ বুঝে গিয়েছি। আমার সাথে তোমার এই দূরত্ব নাকি খুব কষ্ট দেয় তোমায়? আমার বোকা ফুল, দূরত্ব তো কেবল একটা শব্দ মাত্র। তুমি তো থাকো আমার হৃৎপিণ্ডের সবচেয়ে কাছে। যেখানে কারো পৌঁছানো সহজ নয়। চোখের সামনে না থাকলেও, ভাবনায় তুমি ঠিকই থাকো। তুমি দূরে থেকেও আমার সবচেয়ে কাছের কেউ। তারপরও নারীময় মন তো তোমার। এই সব সাহিত্যিক যুক্তি তোমার মন মানবে না।

অনেক কম বয়সের মেয়ে বিয়ে করে নিয়েছে তোমার এই স্বামী। তোমার কাছাকাছি থাকলেই যে আমি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। বুড়ো বয়সে বিয়ে করার ফলে ল্যাদা বউ দেখে এমন হয় নাকি? কি জানি জানি না। লোকে বলে বুড়ো বয়সে বিয়ে করলে কচি বউ পাওয়া যায়। যা শালা আমি কি বুড়ো? ৩৩ বছরে কেউ বুড়ো হয়? আমাকে বুড়ো দেখায়? তোমার থেকেও ছোট হাঁটুর বয়সী মেয়েরা দেখি এখনও ক্রাশ খায় আমায় দেখে।।আমার ছবি চুরি করে সেভ করে তাদের ছবির সাথে এড করে ক্যাপশন দেয় ইন ফিউচার মিস্টার নওয়াজ সোলেমান সুলতানের মিসেস সুলতান আমি। তখন ইচ্ছে করে ঠা’টাইয়া কটা চড় লাগিয়ে আসি বাচ্চা মেয়েদের। আমি এক বিবাহিত পুরুষ কে নাকি এই মেয়ের বয়সী মেয়েরা আমায় বাবা ডাকার বদলে জামাই ডাকছে! ছ্যা জীবন টা বড় বেদনার আমার বুঝলে? তোমার আরো কয়েক বছর আগে পৃথিবীতে ল্যান্ড করা উচিত ছিলো। তাহলে খাপে খাপ ময়নার বাপ হয়ে যেত।

তুমি সামনে থাকলে, অনেককক মানে অনেককককটাই কষ্টে নিজেকে সামলে রাখি আমি। পুরুষ মানুষের কিন্তু ধৈর্য কম হয় নারীদের চেয়ে। সে যতই কঠিন হৃদয়ের মানুষ হোক না কেনো। তার একান্ত নারীর ছোঁয়া পেলে সে মমের মতন গলে যাবেই। কিন্তু আমি নিজেকে গলাতে পারি নি। একমাত্র তোমার বয়সের কারনে। দেখা যাবে একটু ছুঁলাম আর তুমি চিৎকার করে উঠলে তখন আমার মানসম্মানের ১২ থেকে ১৩ টা বেজে যাবে। বাড়ির সব বয়োজ্যেষ্ঠ লোকদের সামনে লজ্জায় মুখ তুলে তাকাতে পারবো না।

এই যে তুমি রাত ভরে নিদ্রায় ডুবে থাকো। অথচ তোমার এই স্বামীর চোখে ঘুম আসে না। সে নিদ্রাহীন হয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে তোমায় দেখে রাত পাড় করে দেয়। ভোর হলেই ঘুমানোর নাটক করতো তুমি উঠবে বলে। শুনলাম তুমি ১৮ তে পদার্পণ করেছো। অথচ আমি জানার চেষ্টা মাত্র করি নি। জানার মতন অবস্থাতেই ছিলাম না। তোমার এমন দিনে জন্মদিন আসলো যেই দিনটা চাইলেও আমি তোমায় নিয়ে উদযাপন করতে পারবো না। আমার ল্যাদা বউটা এখন ১৮ বছরের। বড় হয়ে গেছো কিন্তু? এখন চাইলেই কাছে আসা যায়। নির্দ্বিধায় ছুঁয়ে দেওয়া যায় কিছুটা বাজে হয়ে। তাই না?

লেখাগুলো পড়ে মুচকি মুচকি হাসছো তাই না? আমিও হেঁসেছি। আমি ৩৩ বছরের এক পুরুষ হয়ে তার ল্যাদা বউকে চিঠি লিখছি। এটা চিঠি? কি জানি। মনে হয় না চিঠি এটা। এটা তোমার স্বামীর অব্যক্ত অনুরক্তির স্বীকারোক্তি।
তোমায় বলা বাহুল্য তোমার স্বামীর জীবন টা অনেক জটিল। সেই জটিলতার মারপ্যাঁচে আমি তোমাকে কখনও পড়তে দিব না। আই প্রমিস। তুমি আমার বউপাখি,আমার বোকা ফুল,আমার অর্ধাঙ্গিনী, আমার জবা ফুল।
I want to complete my all chapter with you.Would you like to?

— আমার ভিতর ও বাহিরে
অন্তরে অন্তরে
আছো তুমি হৃদয় জুড়ে….
—“ ইতি তোমার অপেক্ষা”
মেহরিন চিঠিটা পড়ে মুচকি হাসলো।
সাথে সাথে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ আসলো-
-” বউজানের মনটা ভালো হয়ে গেছে?
মেহরিন টাইপ করলো-
-” ভীষণ।
-” রাত ভরে তাহলে প্রেম করা যাক আজ থেকে?
মেহরিন হেসে লিখলো-
-” কেনো নয়?
এজওয়ান মাহিকে নিয়ে এসেছে বসুন্ধরা শপিংমলে। লেডিস কালেকশনের দিকে গিয়ে বলল-
-” যা পছন্দ হয় নিয়ে নাও।
-” আমি বলেছি তো আমি কার্ড আনি নি।
-” তোমার জামাইয়ের টাকা আছে কোন বা’ল ফালাতে। তুমি না ফুরালে ফুরাবে কে? কথা কম বলে ফাস্ট কেনাকাটা করো।

-” আমি বাসায় গিয়ে টাকা ট্রান্সফার করে দিব। এই শর্তে রাজি থাকলে আমি শপিং করবো।
-” আই হ্যাভ নো প্রবলেম সুইটহার্ট।
মাহি বেছে বেছে ৪-৫ টা থ্রিপিস নিয়ে নিলো। বিল পে করার সময় এজওয়ান মাহির দিকে তার ক্রেডিট কার্ড টা বাড়িয়ে দিয়ে বলল-
-” বলো তো এই কার্ড আর আমার মধ্যে মিল কিসের?
মাহি একবার কার্ডের দিকে তাকিয়ে এজওয়ানের দিকে তাকালো।
-” কোনো মিলই পাচ্ছি না। আপনি একটা মানুষ হিসেবে অমানুষ আর এটা একটা প্লাস্টিক কার্ড। যা মানুষের থেকেও বেশি উপকারী।

-” বে’য়াদব বউ। আমি আর কার্ড দুটোই আনকাউন্টেবল। না তুমি এই কার্ডে থাকা টাকা গুনে শেষ করতে পারবে আর না আমার ভালোবাসার পরিমাপ তুমি মেপে শেষ করতে পারবে। দুটোই ইনফিনিট।
মাহি কার্ড টা হাতে নিয়ে বলল-
-” আপনাকে তো কোনো কাজকর্ম করতে দেখি না৷ সারাদিন বাড়ির ভেতরে থাকেন। তাহলে এত টাকা আপনার একাউন্টে কিভাবে? বাপ ভাইয়ের টাকা সব?
-” না রে তরিকুলের বেটি৷ এগুলোর তোর শ্বশুর ভাসুরের টাকা না। এগুলো তোর স্বামীর টাকা।
-” ব্লাক মানি সব?
-” পিওর সাদা মানি। বের করে দেখো সব চকচকা ফকফকা টাকা বের হবে।
-” কথা ঘোরাবেন না। বলুন আপনার এত টাকা পয়সা কি করে? কি করেন আপনি?
-” সন্ধ্যা হলে শাহবাগের মোড়ে গিয়ে সিদ্ধ ডিম বিক্রি করি। সেখান থেকেই এত টাকার মালিক আমি।
-” মশকরা করছেন আমার সাথে?

দাহশয্যা পর্ব ৩৯

-” তুমি কি আমার বেয়াইন লাগো যে মশকরা করবো?
-” তাহলে এত টাকা কি করে?
এজওয়ান মুখটা মাহির কানের কাছে নিয়ে ফিসফিস করে বলল-
-” স্মা’গলিং করি। কবুতরের ছাও, কুত্তার ছাও। কালসাপের ছাও। জয়েন করবে আমার বিজনেসে? ২৫% শেয়ার দিব তোমাকে। রাজি হয়ে যাও। খানাপিনা, দেশ বিদেশ ট্যুর সব ফ্রী।
মাহি বিরক্ত হলো। বিল টা পে করে চলে আসলো।

দাহশয্যা পর্ব ৪১