Home দাহশয্যা দাহশয্যা পর্ব ৫৯

দাহশয্যা পর্ব ৫৯

দাহশয্যা পর্ব ৫৯
Raiha Zubair Ripti

রাত বাজে সাড়ে তিনটে। সোলেমান বিছানা ছেড়ে উঠে বেলকনিতে এসে দাঁড়ায়। মেহরিন বালিশে মুখ চেপে শুয়ে আছে। সোলেমান হাতে থাকা ফোনটা দিয়ে ডক্টর অয়নের নম্বরে কল লাগালো। সোলেমানের ব্যক্তিগত ডক্টর সে। সুইজারল্যান্ডে এসে কোনো শারীরিক অসুবিধে হলে অয়ন কেই দেখতে হয়। দুবার রিং কেটে গিয়ে তৃতীয় বার ফোন রিসিভ হলো। সোলেমান বলে উঠলো-

“ ডক্টর অয়ন।”
অয়ন হসপিটালে নিজের চেম্বারে বসে আছে। সোলেমানের ফোন পেয়ে চমকালো। তাও আবার এত রাতে। অয়ন কফির মগে চুমুক দিয়ে বলল-
“ জ্বি স্যার বলুন।”
“ ইমিডিয়েটলি ব্যাথা আর জ্বালা পোড়ার ঔষধ ভিলায় পাঠাও। ”
অয়ন ভ্রু কুঁচকে আসলো।
“ কোন জায়গায় ব্যাথা আর জ্বালা পোড়া হচ্ছে স্যার? হাতে নাকি পায়ে?কোনটার মলম নিয়ে আসবো? ”
“ আমার কলিজার ব্যথা হচ্ছে অয়ন। ”
“ কলিজায় তো মেডিসিন লাগানো যায় না স্যার। ”
সোলেমানের কপালে দু ভাজ পড়লো বিরক্তিতে, অয়নের কথা শুনে। চাপা স্বরে বলল-
“ সেটা তোমার ভাববার বিষয় না অয়ন। তুমি কুইকলি মেডিসিন পাঠাও, ইট’স ইমার্জেন্সি। ”
অয়ন বিষয়টা ক্লিয়ার হওয়ার জন্য বলল-
“ আপনি শান্ত হোন স্যার, আমাকে খুলে বলুন। কলিজার ঠিক কোথায় ব্যথা আর জ্বালাপোড়া করছে? ”
সোলেমান ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বলল-

“ আমার কলিজা মানে তোমার ভাবি অয়ন তোমার ভাবির ব্যথা আর জ্বালা পোড়া করছে।
তুমি কথা না বাড়িয়ে তাড়াতাড়ি মেডিসিন পাঠাও। ”
অয়ন বিষয় টা বুঝতে পেরে বলল-
“ ভাবির তাহলে গ্যাস্টিকের জন্য বুকে জ্বালা আর
ব্যথা করছে স্যার। আমি এক্ষুনি গ্যাস্টিকের ঔষধ
পাঠিয়ে দিচ্ছি। ”
সোলেমান এবার রেগে গেলো। গাঢ় গলায় বলল-
“ ডক্টর অয়ন..”
“ আবার কি হলো স্যার?”
“ আমি তোমাকে গ্যাস্টিকের ঔষধ পাঠাতে বলি নি। ”
“ আপনিই তো বললেন ব্যথা আর জ্বালা পোড়ার ঔষধ পাঠাতে। ”
সোলেমান নিজের কপাল হাতের আঙুল দিয়ে ঘষে বলল-
“ গ্যাস্টিকের ঔষধে কাজ হবে না। এটা অন্য একটা কারনে ব্যথা আর জ্বালা পোড়া করছে। ”
“ অন্য কারনে মানে?”
সোলেমান এবার দাঁত চেপে বলল-

“ বিবাহিত কারবার এসব ডক্টর অয়ন। রোগের কথা বলার পরও তুমি রোগের জন্য মেডিসিন কোনটা সেটাই ধরতে পারছো না। তোমাকে ডক্টর হওয়ার সার্টিফিকেট কে দিয়েছে? তাকে দেখা করতে বলো আমার সাথে। ”
অয়ন সরু চোখে বলল-
“ সরি স্যার এবার বুঝতে পেরেছি। আসলে সিঙ্গেল মানুষ তো। সেজন্য প্রথমে ধরতে পারি নি । তাই ব্যথা আর জ্বালা পোড়ার কথা শুনে গ্যাস্টিক ভেবে নিয়েছিলাম। আমি এক্ষুনি রোগের আসল মেডিসিন টা পাঠিয়ে দিচ্ছি। ”
সোলেমান ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বলল-
“ ফাইনালি তুমি বুঝতে পারলে ডক্টর অয়ন…এর জন্য তোমার পা’ছায় একশো একটা লা’ত্থি মা’রা হবে। আমার এনার্জি নষ্ট করিয়েছো তুমি। তাড়াতাড়ি ১০ মিনিটের মধ্যে মেডিসিন পাঠাও। ”
সোলেমান ফোন কেটে রুমে আসলো। মেহরিন কে আগের ন্যায় শুয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে আসলো। চাদর সমেত মেহরিন কে পাঁজা কোলে নিলো। মেহরিন চমকে উঠলো। সোলেমান গলা জড়িয়ে ধরে বলল-
“ আবার কি হলো? এখন আবার কি করতে চাইছেন? ”

সোলেমান মেহরিন কে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে কলের ট্যাপ ছেড়ে দিলো। মূহুর্তের ভিতর দু’জনের শরীর ভিজতে লাগলো পানিতে। মেহরিন আরো চেপে ধরলো সোলেমানের গলা।
“ ভেজাচ্ছেন কেনো আমায়? ”
সোলেমান মেহরিন কে কোলে থেকে নামিয়ে সোজা করে দাঁড় করিয়ে দেওয়ালে এক হাত ঠেকিয়ে মেহরিনের দিকে ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল-
“ ফরজ গোসল করতে। ”
মেহরিন সরে যেতে চাইলেও সোলেমানের হাতের জন্য যেতে পারলো না। সোলেমানের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল-

“ তো দু’জন এক সাথে করবো এখন গোসল? ”
“ ইয়েস। ”
“ না। আপনি আগে করে বের হোন। আর তা না হলে আমাকে আগে করে যেতে দিন। ”
কথাটা বলেই মেহরিন ফ্লোরের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো।
সোলেমান মেহরিনের কোমর চেপে ধরলো। মেহরিন শরীরে থাকা চাদর টা আরো শক্ত করে ধরলো। সোলেমান মেহরিনের ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিয়ে বলল-
“ লজ্জা না একটু আগে ভেঙে দিলাম? তাহলে এখন কিসের লজ্জা এত? আমি পরপুরুষ? ”
মেহরিন কোমরে থাকা সোলেমানের হাত সরাতে সরাতে বলল-
“ না আপনি অসভ্য পুরুষ। ”
সোলেমান হাত আরো শক্ত করে বলল-
“ ইয়েস শুধুমাত্র রাতে। তা-ও আবার বউয়ের কাছেই । ”
“ ছাড়ুন এখন। কথায় কথায় চেপে ধরেন শুধু। ”
সোলেমান ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“ কি? ”
“ আমাকে। ”
সোলেমান দুষ্টু হাসি মুখে ঝুলিয়ে বলল-

“ ওহ্ আমি আরো ভাবলাম তোমার কি না কি চেপে ধরি। ”
“ উফ ছাড়ুন না। ”
“ ছাড়লে কি পাব শুনি? ”
“ কি দেওয়ার সামর্থ্যই বা আছে আমার, যে আপনাকে দিব? ”
“ তুমি আমাকে যা দিত পারো,পৃথিবীর আর কেউ সেটা দিতে পারে না। ”
মেহরিন জানতে চাইলো -“ কি? ”
“ অমৃত সুখ। ”
মেহরিন সোলেমানের বুকে মাথা ঠেকিয়ে ফেললো।
“ লজ্জায় ফেলছেন কেনো এত? ”
“ এটাই তো আমার কাজ। প্রেমে তো ফেলতে পারবো না। তাই লজ্জাতেই না হয় ফেললাম। ”
“ আমাকে জামাকাপড় এনে দিন। আমি কি পরবো? ”
“ আমার সামনে কিছু না পরে থাকা যায় না? ”
“ উফ সুলতান সাহেব আপনি তো ভারি…
“ ভারি কি? রোমান্টিক? ”
“ উঁহু ঠোঁট কাটা,নির্লজ্জ। ”

“ এসব রোমান্টিকের ই উদাহরণ মিসেস সুলতান। ল্যাদা বউ তো বুঝবে না। আজ একটা বড় বউ থাকলে সারা রাত চলতো তার সাথে আমার ইটিশপিটিশ। কিন্তু আমি তো হচ্ছি পৃথিবীর একমাত্র অবলা অভাগা ব্যাটা ছাওয়াল। যে কি-না ল্যাদা বউ বিয়ে করে এখন বিপাকে। না বেডে বউয়ের কান্না সহ্য করতে পারি ,আর না বেডের বাহিরে বউয়ের কান্না সহ্য করতে পারি। আমি বউ আদর করতে গিয়ে সবসময় মাইনকার চিপায় পড়ে যাই। তাই পৃথিবীর বাকি পুরুষদের জন্য আমার এক উপদেশ, হে পুরুষগণেরা তোমারা ভুলেও বাচ্চা মেয়ে বিয়ে করো না আমার মতন। ”
মেহরিন সোলেমানের বুকে কিল মে’রে বসলো।

“ হয়েছে তো থামুন না। আর কত পচাবেন আমায়? আপনি জামাকাপড় এনে দিন। আর কতক্ষণ এভাবে থাকবো আমরা? ”
সোলেমান টাওয়াল দিয়ে শরীর মুছে রুমে এসে মেহরিনের পোশাক নিয়ে দরজার কাছে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে বলল-
“ নাও। ”
মেহরিন তার জামাকাপড় গুলো নিলো। সোলেমান কে ঠাই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলল-
“ দাঁড়িয়ে আছেন কেনো? সরুন দরজা লাগাবো। ”
সোলেমান ধীর ভঙ্গিতে বলল-
“ আমার সামনেই বদলাও। ”
মেহরিন হাতে থাকা টাওয়াল টা সোলেমানের মুখের উপর ছুঁড়ে দিয়ে বলল-
“ সুলতান সাহেব আমি কিন্তু বাকিটা রাত এই ভেজা চাদরেই থেকে যাব বলে রাখছি আর জ্বালালে। ”
সোলেমান সরে যেতে যেতে বলল-
“ মন্দ হয় না তাহলে। জলদি বেরিয়ে এসো। ”

বাড়ির ম্যেড নক করে জানালো ডক্টর অয়ন কিছু পাঠিয়েছে তার ড্রাইভার কে দিয়ে। সোলেমান লিভিং রুমে গিয়ে মেডিসিন নিয়ে রুমে আসলো। ততক্ষণে মেহরিন জামাকাপড় বদলে বিছানায় বসে চুল মুছছে।
সোলেমান মেডিসিনের পাতা থেকে ঔষধ খুলে মেহরিনের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল-
“ খেয়ে নাও। ”
মেহরিন জানতে চাইলো-
“ কিসের? ”
“ তোমাকে যে তোমার অসভ্য স্বামী কিছুক্ষণ আগে ব্যথা দিলো তার ঔষধ এটা। ”
মেহরিন খেয়ে নিলো ঔষধ গুলো। খাওয়া শেষে সোলেমান হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে মেহরিনের ভেজা চুল গুলো নিজ হাতে শুঁকিয়ে তারপর মেহরিনের শরীরে চাদর টেনে দিয়ে বলল- ঘুমিয়ে পড়তে।

সকাল ৬ টা থেকে ৮ টা পর্যন্ত কম করে হলেও বাশার সুলতান এজওয়ান কে ২৫ বার ফোন করেছে। ফোন সাইলেন্ট থাকায় এজওয়ান বুঝতে পারে নি। ঘুমঘুম চোখে ফোনে সময় দেখতে গিয়ে দেখলো তার বাপের এত গুলো ফোন। বুইড়া আবার হার্ট অ্যাটাক করে ম’রে গেলো কি না এই ভেবে তড়িঘড়ি করে ফোন করলো।
বাশার সুলতান ফোন হাতে নিয়েই বাগানে বসে ছিলো গালে হাত ঠেকিয়ে। ছেলের ফোন পেতেই চোখ মুখ জ্বলে উঠলো খুশিতে। ফোনটা রিসিভ করে কানে নিতেই ওপাশ থেকে এজওয়ান বলল-
“ বেঁচে আছো? ”
বাশার সুলতান ভ্রু কুঁচকালো এ কথা শুনে।
“ কেনো রে ম’রে গেছি ভেবেছিস নাকি?
“ তাই তো ভাবলাম। এত বার ফোন তো কোনো সুস্থ মানুষ দিতে পারে না। ”
“ আমি তোর বাপ। তোরে একশো বার দিব ফোন। ”
“ হ বুঝছি,এখন বলো ফোন কেনো দিছ এত? ”
“ জন্মদিনের শুভেচ্ছা আমার বাপজান কে। ”
এজওয়ানের কপালে দু ভাজ পড়লো।

“ আজ আমার জন্মদিন! ”
ফোন টা মুখের সামনে এনে দেখলো আজ ১৯ মার্চ। আসলেই তার জন্মদিন। ২৮ বছরে পদার্পণ করলো সে।
“ উইশ করা শেষ? এবার রাখছি। এই বা’ল মার্কা খবরের জন্য এত বার ফোন দেওয়া লাগে? এই দিনে এক পাপির গর্ভ থেকে একটা পাপ ভূমিষ্ঠ হইছে। শোক দিবস পালন করা উচিত এই দিনে। ”
এজওয়ান কে’টে দিলো ফোন। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে মাহি সব কথা শুনলো। এক পাপির গর্ভ থেকে একটা পাপ ভূমিষ্ঠ হয়েছে মানে?
মাহি এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলো-
“ আজ আপনার জন্মদিন? বাবার সাথে কেউ এভাবে কথা বলে?”
এজওয়ান ফোন চার্জে দিতে দিতে বলল-
“ বাপ টা কার,তোমার না আমার? আমি যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে কথা বলবো। ”
“ তা অবশ্য ঠিকই বলেছেন। আচ্ছা একটা কথা বলুন তো। ”
“ কি? ”
“ আপনার মা দেখতে কেমন ছিলো? ”

“ জানি না। ”
মাহির কপালে দু ভাজ পড়লো।
“ জানেন না মানে? ”
“ জানি না মানে জানি না। সুলতান পরিবারের বউ যেহেতু ছিলো তাহলে হয়তো সুন্দরই ছিলো। ”
“ আপনি দেখেন নি কখনও আপনার মা কে? ”
“ দেখার প্রয়োজন বোধ করি নি কখনও । ”
মাহি অবাক না হয়ে পারছে না। এজওয়ান সুলতান তার মা’কে দেখেই নি এখনও! দেখতে কেমন সেটাও জানে না! এটাও সম্ভব!
“ ছবি নেই আপনার মায়ের? থাকলে আমায় একটা দিন তো। আমি দেখতে চাই সেই নারী কে যে আপনার মত….
“ একটা পাপ কে জন্ম দিয়েছে কিভাবে তাই তো? কিন্তু সুইটহার্ট তা তো সম্ভব নয়। তার কোনো স্মৃতি চিহ্ন আমি আমার আশেপাশে রাখতে দেই নি। তাই শাশুমা শাশুমা না করে জামাই জামাই করো। জামাই তোমার আপন,শাশুমা নয়। ”
“ আমি আপনার মা কে দেখেই ছাড়বো। ”

“ কিভাবে? ”
“ যেভাবেই হোক। ”
“ পারবে না তরিকুলের বেটি। তার কোনো অস্ত্বিত্ব নেই। আমার বাপ তার কোনো স্মৃতি রাখে নি তার জীবনে আর না আমার জীবনে। তাই বৃথা চেষ্টা করো না। শুধু সময় নষ্ট হবে তোমার। ”
“ সেটা আমার উপর ছেড়ে দিন। ”
“ গো হারা হারবে। ”
“ চেষ্টা করার আগেই বলছেন আমি হেরে যাব? তাহলে আমাকে আপনি চিনেন নি এজওয়ান সুলতান। ”
এজওয়ান বাঁকা হাসলো। মাহিকে টেনে নিজের কাছে এনে বলল-
“ আমি তোমার ভাবনার চাইতেও তোমাকে কয়েকশো গুন বেশি চিনি তরিকুলের বেটি। কাউকে চেনা চিনিতে আমাকে হারাতে পারবে না। ”
মাহি থতমত খেয়ে গেলো। এলোমেলো স্বরে বলল-
“ আপনি কে বলুন তো ? আপনি যা আমাকে দেখান সেটাই কি আপনি? নাকি এর বাহিরেও আপনার অন্য কোনো পরিচয় আছে। ”
“ আমার একটাই পরিচয়,সন অফ বাশার সুলতান, ব্রাদার অফ সোলেমন সুলতান, হাসবেন্ড অফ মাহি সুলতান। ”
“ আমি আপনাকে স্বামী হিসাবে মানি না। ”
“ তাতে আমার বা’ল ছেঁড়া গেছে? তোমার মানা না মানায় আমাদের মাঝে কিছু আঁটকে আছে? ”

“ তা আঁটকে নেই ঠিক। কিন্তু আমাদের বিয়েটা আদৌও বৈধ তো? ইসলামের মতে তো একটা মেয়ের অনুমতি ছাড়াও যদি তার বাপ মা বিয়ে ঠিক করে সেই বিয়ে অবৈধ বলে ধরা হয়। সেখানে আপনি আমাকে কিভাবে বিয়ে করেছেন? আপনার মনে হয় এটা বৈধ বিয়ে? ”
এজওয়ান জানতে চাইলো।
“ অবৈধ বলছো তাহলে? ”
“ ইসলাম তো সেটাই বলে। ”
“ একটা পাপের সাথে না হয় থেকে গেলে অবৈধ ভাবে। বৈধ হয়ে গেলে তো তোমার কষ্ট হবে শেষে আমার জন্য। ”
মাহি এজওয়ানের দিকে তাকালো।
“ কষ্ট হবে কেনো? ”
“ বৈধতায় ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট বেশি তরিকুলের বেটি। অবৈধ ভাবে বিদায় নিলে কষ্ট কম হবে। ”
“ আজ না হোক কাল তো আমায় আপনাকে ছেড়ে চলে যেতেই হবে। ”
“ তাহলে বিয়েটা বৈধ নাকি অবৈধ সেটা কেনো ম্যাটার করছে তরিকুলের বেটি ? কোনো ভাবে আমার বৈধতা চাচ্ছ না তো ? ”
“ জানি না। আপনাকে হাসবেন্ড হিসাবে মানতে আমার খারাপ লাগে। ”
“ আমি তো খারাপ সেজন্য। ”
“ মেবি। ”
“ অবৈধ ভাবেই থেকে যাও আমার সাথে মাহি। বৈধতার দিকে ঝুঁকতে চেও না। আর আমাকেও উসকিও না। তাহলে খুব খারাপ হয়ে যাবে তোমার আমার দু’জনের জন্যই। ”

এজওয়ান মাহিকে ছেড়ে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে। মাহি লম্বা একটা শ্বাস ছাড়লো। তার মাথায় ঘুরছে এজওয়ানের মা টা কে? নাম কি মহিলার? মা-রা গেলো কি করে?
মাহি রুমাইসা কে খুঁজতে লাগলো। রুমাইসা রিসোর্টের রিসিপশনে এ নিয়ে ৩ বার আসলো খোঁজ নিতে যে তূর্ণ নামের কেউ এসেছে কি না। কিন্তু তারা প্রতিবার একই শব্দ উচ্চারণ করছে তা হলো- “ না ”।
বিরক্তের চরম পর্যায়ে রুমাইসা। ভণ্ডামি করলো তূর্ণ তার সাথে? তাকে দেখার জন্যই তো রুমাইসা সুন্দরবন আসলো। ফোনটা নিয়ে তূর্ণ কে মেসেজ দিয়ে বলল-
“ আপনি ভীষণ খারাপ একটা লোক। আমি আপনাকে দেখার জন্য পরিবার সহ এত দূর চলে আসলাম। অথচ আপনি আসলেন না! আমায় অপেক্ষা করালেন এভাবে! ”
খারাপ মেজাজে রুমের দিকে যাচ্ছিলো রুমাইসা। এমন সময় মাহি এসে দাঁড়াতেই রুমাইসা ভরকে গেলো। কিছু বলার আগেই মাহি রুমাইসার হাত ধরে বলল-
“ আমার কিছু কথা আছে তোমার সাথে। ”
রুমাইসা কে টেনে মাহি বাহিরে চলে গেলো।
” কি কথা ভাবি? ”
রুমাইসার এ কথা শুনে মাহি সাহস করে বলল-
“ তুমি কি তোমার চাচি মানে এজওয়ানের মা কে দেখেছো? ”
রুমাইসা তপ্ত শ্বাস ফেলে বলল-
“ নিজের মাকেই ঠিক মতো দেখি নি সেখানে চাচি কে কি করে দেখবো? চাচি তো আমার জন্মের আগেই মারা গেছে শুনেছি। ”

“ কিভাবে মা’রা গেছে? ”
“ সঠিক জানি না। তবে যতদূর জানি চাচি পরকীয়া করে পালিয়ে গিয়েছিল। যার সাথে পালিয়ে গিয়েছিল সেই নাকি চাচি কে মে’রে ফেলছে। ”
“ কার সাথে পরকীয়া করে ছিল? আর মে’রে ফেললো কেনো তাকে? ”
“ জানি না। এজওয়ান ভাই তখন এক বছরের ছিলো। তারা ফ্রান্সে থাকতো। তাই অত কিছু জানি না। চাচা দেশে থাকা শুরু করেছে আব্বু আম্মু মা-রা যাওয়ার পর থেকে। ১৯৯৫ সালের শুরুর দিকে। আব্বুর সব কিছু চাচা নিজের হাতে সামলিয়েছে। এজওয়ান ভাই তখনও ফ্রান্সে থাকতো। এজওয়ান ভাই ফাস্ট বাংলাদেশে আসে ১৯৯৮ সালে। আড়াই মাসের মতন থেকে তারপর আবার চলে যায়। এজওয়ান ভাইয়া কিন্তু বাংলাদেশের নাগরিক না। ভাইয়া অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। ”

মাহির মাথা ঘুরে গেলো এসব শুনে।
“ তুমি যে বললা তারা ফ্রান্সে থাকতো? ”
“ হ্যাঁ থাকতো। কারন ফ্রান্সের মেয়ে বিয়ে করেছিল চাচা। তো চাচি ওসব করার পর চাচা ভাইয়াকে আর ঐ দেশে রাখে নি। অস্ট্রেলিয়া নিয়ে গিয়েছিল। ভাইয়া এরপর থেকে অস্ট্রেলিয়ারতেই বড় হয়েছে। আর কখনও ফ্রান্সে পা রাখে নি। ”
“ তোমার চাচির নাম কি? ”
“ জানি না। চাচি কে নিয়ে কথা বলা নিষেধ বাড়িতে। ”
“ আচ্ছা ঠিক আছে ধন্যবাদ তোমাকে। ”
মাহি চলে আসতে গিয়েও সামনে তাকিয়ে থেমে গেলো। তার সামনেই দূরে কেউ উল্টো দিকে ঘুরে কথা বলছে কারো সাথে। শরীরের গঠন টা চেনা চেনা লাগলো। সাফওয়ানের মতন মনে হলো। কিন্তু সাফওয়ান আসবে কোথা থেকে এখানে? ও তো ঢাকায়।

মাহি চলে আসলো রুমে। ভাবতে লাগলো এজওয়ানের মায়ের ব্যপারে জানবে কি করে? কিছুক্ষণ ঘরে পায়চারি করার পর মাথায় আসলো বার্থ সার্টিফিকেটে তো বাবার নামের সাথে সাথে মায়ের নামও থাকে। তাহলে নিশ্চয়ই এজওয়ানের বার্থ সার্টিফিকেট খুঁজে পেলে নাম টা পেতে পারে।
মাহি নিজের ফোন টা নিয়ে এজওয়ান কে ফোন করে রুমে আসতে বলল। এজওয়ান পাঁচ মিনিটের মাথায় রুমে আসলো। এসে জিজ্ঞেস করলো-
“ কি ব্যপার তরিকুলের বেটি,ফোন করে রুমে ডাকলে যে? সব ঠিকঠাক? নাকি আদর পেতে ডাকলে কোনটা? যদি আদর চাও তাহলে সরি আমি এখন মুডে নেই। ”
মাহি বিরক্ত হলো এজওয়ানের কথা শুনে।
“ আপনার ফোনটা দিন। ”
“ কেনো বলো তো? ”
“ দিন কাজ আছে। ”

এজওয়ান এগিয়ে দিলো ফোনটা। মাহি হাতে নিয়ে দেখলো পাসওয়ার্ড চাচ্ছে ফোনে। কিন্তু পাসওয়ার্ড কি?
“ ফোনের পাসওয়ার্ড টা বলুন। ”
“ ডু ইউ লাভ মি তরিকুলের বেটি? ”
মাহি ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বলল-
“ আমি ফাজলামোর মুডে নেই এজওয়ান। তাড়াতাড়ি পাসওয়ার্ড বলুন। ”
“ বললাম তো। ডু ইউ লাভ মি তরিকুলের বেটি? ”
“ এটা পাসওয়ার্ড? ভণ্ডামির জায়গা পান না? ”
“ বিশ্বাস না হলে ট্রাই করে দেখো। ”
মাহি ট্রাই করে দেখলো আসলেই এটাই পাসওয়ার্ড এজওয়ানের ফোনের। আড়চোখে দেখলো এজওয়ান কে মাহি।
পুরো ফোন ঘাঁটলো। কিন্তু কিচ্ছু পেলো না। ফোনটা এজওয়ানের হাতে দিয়ে বলল-

“ আপনার ল্যাপটপ টা কোথায়? ”
“ ল্যাপটপ দিয়ে কি করবে? ল্যাপটপ ধরা যাবে না। ”
“ আমার লাগবে। দিন। ”
“ টেবিলের সাইডে। কিন্তু করবে টা কি? ”
মাহি টেবিলের সাইড থেকে ল্যাপটপ টা তুলে কোলের উপর নিয়ে দেখলো এটাতেও পাসওয়ার্ড দেওয়া। আগের টা দিয়ে ট্রাই করলো। কিন্তু রং বলছে।

দাহশয্যা পর্ব ৫৮

“ এটায় আবার কি পাসওয়ার্ড দিছেন? খুলছে না কেনো? পাসওয়ার্ড বলুন এটার। ”
“ ফা’ক মি তরিকুলের বেটি। ”
মাহি চোখ বড় বড় করে তাকালো। মুখ থেকে অস্ফুট স্বরে বেরিয়ে এলো— “ হোয়াট! ”

দাহশয্যা পর্ব ৬০