Home দাহশয্যা দাহশয্যা পর্ব ৬২

দাহশয্যা পর্ব ৬২

দাহশয্যা পর্ব ৬২
Raiha Zubair Ripti

সেই রাত থেকেই ঊর্মি ইব্রাহিম কে ইগনোর করছে। সেধে কথা বলতে আসলেও এড়িয়ে যাচ্ছে ঊর্মি। কেনো কথা বলবে ঐ লোকের সাথে? এত বড় সাহস! চুমু খায়! কথাই বলবে না।
এজওয়ান সাফওয়ানের পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মাহি কে দেখছে। আর সাফওয়ান কে শুনিয়ে শুনিয়ে বলছে-
“ জোশ একটা বউ পাইছি সাফওয়ান সাহেব। এমন বউ লাখে,না না কোটি তে একটা মিলে কি না সন্দেহ। ”
সাফওয়ান দাঁত চেপে বলল-
“ আমাকে শোনাচ্ছেন কেনো এ কথা? ”
“ তাহলে কাকে শোনাবো? আপনিই ভালোবাসতেন আমার বউ কে। ”
“ আর আপনিই তাকে আমার থেকে কেঁড়ে নিছেন। আমি একমাত্র, শুধুমাত্র আপনার জন্য মাহি কে পাই নি।”
এজওয়ান এই কথা শুনে বলল-
“ ডাহা মিথ্যা কথা। আপনি আপনার নিজের ভুলের জন্য মাহি কে পান নি।”
সাফওয়ান জানতে চাইলো-

“ কি ভুল করেছি আমি ?”
“ আপনি ঠিকঠাক নজরই দিতে পারেন নাই মিয়া। নজর দিতে হয় একদম ইমরান হাশমির মতন,
কড়া ডোজে। কিন্তু আপনি তো নজর দিছেন মিয়া শাহরুখ খানের মতন। আমার মতন, ইমরান হাশমির নজর আপনার গার্লফ্রেন্ডের উপর দিলে, আপনার গার্লফ্রেন্ড মাহি আজ আমার বউ না হয়ে আপনার বউ হতো।
সাফওয়ান বিরক্ত হয়ে বলল-
“ আপনার মতন তো নোংরা না আমি। ”
এজওয়ান মাহির দিকে ইশারা করে বলল-
“ স্যি দ্যিস বডি? ইউ ক্যান্ট টাচ দ্যিস, আই অলরেডি লেভেল্ড আপ, ডোন্ট ওয়েস্ট ইয়োর টাইম, আই ডোন্ট গিভ অ্যা ফা’ক। ”
সাফওয়ান নিজেই লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে নিলো। অশ্লীলতায় টপে থাকে এই ছেলে নিঃসন্দেহে।
এজওয়ান সাফওয়ানের কাঁধে থাপ্পড় মেরে বলল-
“ ইফ ইউর ডান উইথ ইয়োর এক্স, প্লিজ মুভ অন টু দ্যা নেক্সট। ”
যেহেতু বনে ঘুরতে পারবে না তারা সেজন্য ইয়াসিন গানের আসরের বন্দোবস্ত করলো। রিসোর্টে গিটার ছিলো সেটা আনলো। পাশ দিয়ে সাফওয়ান যাচ্ছিল চলে তাকেও টেনে এনে বসালো বাহাদুর। এজওয়ান কটমট করে তাকালো।
তেহরান তানভীর কে দেখে ঊর্মি খুশি হয়ে গেলো। তানভীর দৌড়ে আসলো।

“ আরে ঊর্মি আপু তুমি এখানে!”
তেহরান ও এগিয়ে আসলো। হাসি মুখে কথা বললো। দূর থেকে ইব্রাহিম দেখলো। শরীর জ্বলে যাচ্ছে তার। সাফওয়ান তেহরান কে দেখে ডেকে উঠলো। তেহরান গেলো সেদিকে। সাফওয়ান কে দেখে বলল-
“ বাহ্ এক ট্যুরে প্রায় সবার সাথে দেখা হলো। ”
সাফওয়ান তেহরান কে চিনে তার বাবার মাধ্যমে। বেশ ভালো স্টুডেন্ট তেহরান ঢাবির।
সাফওয়ান বসতে বলল। তেহরান মানা করে বলল-
“ আমার ফ্রেন্ড রা বাহিরে অপেক্ষা করছে। যেতে হবে আমাদের। ”
তেহরান রা চলে গেলো। ইয়াসিন মাঝখানে বোতল রেখে বলল-
“ এই বোতল ঘুরালে যার দিকে গিয়ে থামবে সে গান গাইবে। তার গাওয়া শেষ হলে আরেকজন গাইবে। ”
বোতল ঘুরানো শুরু হলো। প্রথম ঘুরানো তে গিয়ে পড়লো ইমনের দিকে। ইমন এসব খেলবে না বললেও ইয়াসিন টেনে নিয়ে এসেছিল। ইমন শুধু ঘরকুনো হয়ে থাকে। ইমন কি গাইবে ভাবতে লাগলো। তার জীবনের সাথে এখন একটা গানের খুব মিল পাচ্ছে ইমন। গিটারে সুর তুলে সেই গানটা গাইলো-

“ Jisko jo bhi milta hai
be-sabab nahin milta
Mujhse bole mann mera
Sabko sab nahin milta…
তারপর বোতাল ঘুরালে বোতল গিয়ে পড়ে মাহির দিকে। মাহির দু পাশে বসে আছে এজওয়ান সাফওয়ান। দু’জনই তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। কি গান গাইবে? মাথায় তো আসতেছে না গান। হুট করে শাবনূরের একটা গান মনে আসতেই মাহি সেটা গাইতে শুরু করলো –

“ বিধি তুমি বলে দাও আমি কার
দুটি মানুষ একটি মনের দাবিদার..”
মাহির গান কেঁড়ে নিয়ে এজওয়ান মাহিকে নিজের দিকে টেনে বলল-
“ আমি পৃথিবীর এই বুকে
আগুন জ্বালিয়ে দেবো
তুমি যদি আমারি না হও..”
এজওয়ানের শেষ হতেই সাফওয়ান মাহির দিকে তাকিয়ে গাইলো-
“ তুমি বিশ্বাস ঘাতকতা করো না প্রিয়া
আমি ছাড়া তুমি কারও নও..”
রুমাইসার ৩ জনের মুখে এক গান শুনে জাস্ট কান্না চলে আসার মতন। গানের মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব বুঝায় দিচ্ছে তারা।
এরপরের বার বোতল থামলো ঊর্মির দিকে। ঊর্মি কিছুক্ষণ ভেবে গাইলো-

“ এক পায়ে নূপুর আমার, অন্য পা খালি
এক পাশে সাগর, এক পাশে বালি
তোমার ছোট তরী, বলো, নেবে কি?
নেবে কি?”
ঊর্মির মুখের গান কেঁড়ে নিয়ে পরের লিরিকঃ টুকু ইব্রাহিম গাইলো-
“ বলবো না আকাশের চাঁদ এনে দেবো
বলবো না তুমি রাজকন্যা
শুধু জিজ্ঞেস করি, দেবে কি পাড়ি
হোক যত ঝড়-বন্যা?
আমার ছোট তরী, বলো, যাবে কি?
যাবে কি?”
ইয়াসিন বোতল পানিতে ছুঁড়ে দিয়ে বলল-
“ বোতলের তাইলে কি দরকার? আপনেরা এক এক জনের মুখের গান কাইড়া নিয়া নিজেরা গাইতাছেন। এই ইমন ভাই চলেন তো যাই গা। ”
সবাই চলে গেলো। ঊর্মি যেতে চাইলে ইব্রাহিম হাত টেনে ধরলো। রুমাইসা চলতি পথে সেটা দেখে বলল-

“ কাল চুমু খাওয়ার জন্য চ’ড় খাইলা। আজ হাত ধরার জন্য কি খাবা বলো তো? ”
ইব্রাহিম চোখ পাকিয়ে বলল-
“ বিয়ে খাব। ”
“ কার আমার? ”
“ না আমার। তুই রুমে যা তো। ”
রুমাইসা চলে গেলো। ইব্রাহিম ঊর্মি কে নিজের দিকে ফিরিয়ে বলল-
“ কথা কেনো বলছো না আমার সাথে? একটা চুমুই তো খেয়েছি। ”
ঊর্মি রাগান্বিত হয়ে বলল-
“ কেনো খাবেন চুমু? আমি আপনার বিয়ে করা বউ? ”
“ ওকে। অন্যায় করেছি তাই তো? যখন করেই ফেলছি তাহলে সেই অন্যায়ও আমি সুধরে নিব। জাস্ট ওয়েট এন্ড সি।”
ইব্রাহিম পকেট থেকে ফোন টা বের করে ইয়াসিন কে বাহিরে আসতে বলল। ইয়াসিন আসতেই ইব্রাহিম বলল-

“ ইয়াসিন তুই আমার উকিল বাপ হবি?”
ইব্রাহিমের কথায় ইয়াসিন ভরকে গেলো।
“ উকিল বাপ মানে? ”
“ আমি বিয়ে করবো এখন। তুই আমার আর ঊর্মির উকিল বাপ হবি। ”
ইয়াসিন দু’জনের দিকে সরু চোখে তাকিয়ে বলল-
“ আপনি এই খালাম্মা কে বিয়ে করবেন! ”
ঊর্মি তেড়ে আসতে নিলে ইব্রাহিমের হাতের জন্য আসতে পারে না।
“ হ্যাঁ বিয়ে করবো তোর খালাম্মা কে। তাই তোর উকিল বাপ হওয়া বাঞ্ছনীয়। ”
“ ধূরু ভাই কি কন। ভাই থিকা সোজা রকেটের গতিতে বাপ! না ভাই এতো সুন্দর একটা মাইয়ার উকিল বাপ হতে পারমু না আমি। পারলে কন আপনার বিয়ার সাক্ষী হই আমি। আমারে তো সোলেমান ভাই বিয়ে করতে দিলো না। অথচ আপনেরা এক একজন বিয়া করে সংসার করে ফেলতাছেন। পাষাণ স্বার্থপর লোক আপনারা। আমার দুক্কু বুঝেন না। আপনারা বউ লইয়া ঘুরেন আমার খারাপ লাগে না বুঝি? আমারেও একটা বিয়ে দিয়ে দিলে কি হয়? ”

“ আচ্ছা যা,তোর বিয়ে আমি ধুমধাম করে দিব। এখন চল। ”
এদিকে ঊর্মি বারবার হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। বলছে সে বিয়ে করবে না। কিন্তু ইব্রাহিম শুনছে না। বলছে-
“ আমি না অন্যায় করেছি? তোমায় অপবিত্র করেছি? চলো পবিত্র করি এখন। এমনিতেও দুদিন পরে বিয়েটা আমাকেই করতে হতো তোমার। সেটা না হয় দু’দিন আগেই হয়ে যাক। তোমার ভাইকে আমি সামলে নিব। ”
“ আমার ভাই আমাকে মারবে। আপনি বুঝতেছেন না। আমি করবো না বিয়ে। ”
“ একটা ফুলের টোকাও আসতে দিব না। ভালোবাসো না আমায়? ”
“ বাসি। ”
“ তাহলে সব কিছু আমার উপর ছেড়ে দাও।
“ আমার ভাই মানবে না এই বিয়ে। ”
“ তাহলে কি তোমার ভাইয়ের জন্য আমি তোমায় হারাতে দিব? নো ওয়ে,লক্ষীটি চলো। বৈধ ভাবেই পেতে চাই,অবৈধ পন্থা অনুসরণ করতে বলো না। আমার তোমার দু’জনের জন্য মঙ্গল হবে না। ”
ইয়াসিন জিজ্ঞেস করলো-

“ কাজি পাবো কই এখন? ”
ইব্রাহিম বলল-
“ সব ব্যবস্থা করা আছে। পাশেই এক গ্রামে কাজি আছে। কাগজপত্র সব রেডি করা আছে। ঊর্মি চলো। ”
ইব্রাহিম ঊর্মি কে নিয়ে কাজির ওখানে গেলো। গতকালই সারা রাত ভেবে সব ব্যবস্থা করেছে ইব্রাহিম। এখন বিয়েটা করে রাখলে ইন ফিউচার ইমন কোনো বাগড়া দিতে পারবে না।
আল্লাহর নাম নিয়ে ইব্রাহিম ঊর্মি কে বিয়ে করেই নিলো। কবুল বলার সময় ঊর্মি সে কি কান্না। বারবার বলছিলো সে বিয়ে করবে না করবে না। কিন্তু ইব্রাহিম জড়িয়ে ধরে এমন ভাবে ম্যানুপুলেট করেছে যে ঊর্মি কবুল বলে দিয়েছে।
ঊর্মির বিয়ের কাবিন ধরা হয়েছে ২০ লক্ষ ৭ টাকা। ইব্রাহিম সাথে সাথে সেই টাকা তার চেকে লিখে পূরণ করে দিয়েছে। বিয়ে শেষে ইব্রাহিম ইয়াসিন কে বলল-
“ এই বিয়ের খবর যদি লিক হয়েছে তাহলে তোর একদিন কি আমার একদিন। ”
ইয়াসিন কথা দিলো জানবে না। ঊর্মি এখনও কাঁদছে। ইব্রাহিম জড়িয়ে আদর করে বলল-
“ কাঁদে না। বিয়েই করেছি আমরা,কোনো পাপ করিনি লক্ষী। ”
ঊর্মি ফুপিয়ে বলল-

“ এটা পরে জানাজানি হলে মা আর ভাইয়ার চোখে আমি খারাপ হয়ে যাব। ”
“ যাবে না। আমি ফের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাব বাসায়। তখন না দিলে বলে দিব আমরা বিয়ে করে নিয়েছি আগেই। তখন তোমাকে আমার কাছে দিতে তারা বাধ্য। আমাদের দুজনের জন্যই এটা করতে হলো। ”
রিসোর্টে বিধ্বস্ত হয়ে ফিরলো ঊর্মি। ইমন বোন কে খুঁজছিল। হুট করে বাহির থেকে আসতে দেখে জিজ্ঞেস করলো-
“ কোথায় ছিলি? খুঁজছিলাম তোকে। মা ফোন দিয়েছে। কথা বলবে। ”
ঊর্মি কথা বলবে না বলে রুমে এসে শুয়ে পড়লো।
রুমাইসা সেটা দেখে বলল-
“ বিয়ে হয়ে গেছে? ”
ঊর্মি চমকালো।
“ আমি জানি। গতকাল রাতেই ভাইয়া ফোনে সব বন্দোবস্ত করতে বলছিলো। তখনই শুনেছি। ইব্রাহিম ভাইয়া অনেক ভালো। তোমাকে অখুশি তিনি রাখবে না। আমার ভাইরা বউ আদরে বেস্ট। ”

“ আমাকে বললে না কেনো যখন জানতে? ”
“ ভালোবাসো তো আমার ভাইকে? ”
“ হুমম। ”
“ তাহলে সব ভাইয়ার উপর ছেড়ে দাও। তোমার ভাইয়াকে ঠিক মানিয়ে নিবে আমার ভাইয়া। ”
রুমাইসা কথাটা শেষ করতেই ফোনে মেসেজ আসলো। তূর্ণ কে নওগাঁ থাকতেই ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট দিয়েছিল। আজ সেটা এক্সেপ্ট হলো। রুমাইসার মেসেজের রিপ্লাই দিয়েছে তূর্ণ।
“ আমি সুন্দরবনেই আছি মিস রুমাইসা। আপনাকে আমি দেখেছি। বনবিবি ফরেস্ট রিসোর্টেই উঠেছেন। ”
রুমাইসার বুক অসম্ভব ভাবে কাঁপতে লাগলো। তূর্ণ তাকে দেখেছে! হোয়াট! কিভাবে? কি করে? কখন দেখলো?
“ কখন দেখলেন আমায়? ”
“ কোনো এক বিকেলে। আপনি ভীষণ কিউট দেখতে মিস রুমাইসা। নজর টিকা লাগাবেন। নজর লেগে গেলে বিপদ। ”
“ কে নজর দিবে শুনি? ”
“ নজর দেওয়ার মানুষের অভাব আছে নাকি? ভুলে আমিও তো দিতে পারি। তখন কি হবে? ”
“ কি হবে? ”
“ বিয়ের ভূত মাথায় উঠবে। মনে হবে এই মেয়েটাকে আমার বউ না করলে ভীষণ ক্ষতি হবে আমার। ”
রুমাইসা লজ্জা পেতে লাগলো।

“ ফ্লার্ট করছেন আমার সাথে? ”
“ মোটেও ফ্লার্ট করার মতন ছেলে আমি নই। ”
“ তাহলে এসব বলছেন কেনো? ”
“ মন বললো তূর্ণ বলে দাও। তাই বলে দিলাম। বাই দ্যা ওয়ে বয়ফ্রেন্ড আছে আপনার? ”
“ থাকলে কি করবেন শুনি? ”
“ আপনাকে ব্লক করে দিব হৃদয় থেকে। ”
“ নেই। ”
“ তাহলে গুড। ”
“ কিসের জন্য? ”
“ ফিউচারের জন্য। ”
“ আমি আপনাকে দেখি নি। ”
“ দেখা টা মূখ্য বিষয় নয়। এই টুকু বলতে পারি আমি যথেষ্ট হ্যান্ডসাম ড্যাশিং পিওর লয়্যাল একটা ছেলে। আপনি পেলে জিতবেন, হারবেন না। ”
“ আপনি হারা জেতা তে চলে গেলেন! বাই এনি চান্স আপনি কি আমায় পছন্দ করেন? ”
“ করে ফেললাম তো পছন্দ। ”
“ আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। ”

“ তাহলে বিশ্বাস করার মতন কাজ করছি । নিউজ ফিডে চোখ রাখুন মিস রুমাইসা। প্রুফ পেয়ে যাবেন। ”
১ মিনিটের মাথায় তূর্ণর আইডি থেকে একটা পোস্ট করা হলো। একটা ছবি। ছবিটা এমন। কোনো এক সাগরের ধারে বালুতে রুমাইসার নাম লিখে তার পাশে উল্টো ঘুরে বসে আছে। আবছা অন্ধকার। ছবির ক্যাপশনে লেখা।
“ উইল ইউ বি মাই মিসেস মিস রুমাইসা সুলতান?”
লাইক কমেন্টের বন্যা বয়ে গেলো সেই পোস্ট জুড়ে। শত শত কমেন্ট মেয়েদের। এক একজন কান্না করে দিচ্ছে বলছে তূর্ণ তুমি শুধু আমার। কে এই মেয়ে? কাকে বউ বানাতে চাইছো? কেউ কেউ লিখছে,ভাইয়া ভাবিকে দেখতে চাই। এত সুন্দর করে প্রপোজ করছেন, না করতেই পারবে না। কে সেই ভাগ্যবতী রমণী! অল আইজ অন তুর্ণ’স পোস্ট।
আরো কত-শত কমেন্ট। রুমাইসার মনে হচ্ছে এটা কোনো স্বপ্ন। হাত-পা অস্বাভাবিক ভাবে কাঁপছে। বিশ্বাস হচ্ছে না। সাথে সাথে মেসেজ আসলো। তূর্ণ পাঠিয়েছে।

“ বিশ্বাস হলো ম্যাডাম? ”
রুমাইসা ছোট্ট করে লিখো-
“ কোনো ট্র্যাপ নয়তো আবার? ”
“ আপনার মনে হয় এমপির বোন কে আমি ট্র্যাপে ফেলবো? ”
রুমাইসা কিছু বললো না। তূর্নর পেজ ঘাটলো। দুদিন আগে একটা ভিডিও পোস্ট করেছে। নদীর ধারে বসে গিটার নিয়ে উল্টো ঘরে বসে গান গেয়েছে। গান টা হচ্ছে ইমরান মাহমুদের সেই গান টা যেটা খুব পপুলার।
“ মেঘের খামে আজ তোমার নামে
উড়ো চিঠি পাঠিয়ে দিলাম
পড়ে নিও তুমি মিলিয়ে নিও
খুব যতনে তা লিখেছিলাম
ও চায় পেতে আরো মন
পেয়েও এত কাছে
বলতে চেয়ে মনে হয়
বলতে তবু দেয় না হৃদয়
কতটা তোমায় ভালোবাসি..
রুমাইসা কেয়ার রিয়াক্ট দিলো। গানের গলা টা কি জোশ।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় নিজের অফিসে বসে আছে সোলেমান। কাজ করতে করতে টায়ার্ড হয়ে গেছে। বাসায় ফিরবে একটু পর। তার আগে বউয়ের সাথে কথা বলা দরকার। সেজন্য সোলেমান ভিডিও কল দিলো।
মেহরিন ঘুমাচ্ছিলো। সোলেমান তার ফোনটা মেহরিন কে দিয়ে গেছে। সেটায় ফোন বাজতেই ঘুমঘুম চোখে রিসেভ করে কানে নিলো। সোলেমান সালাম দিলো। মেহরিন সালামের জবাব দিলো। বউয়ের চেহারা দেখতে না পেয়ে ভ্রু কুঁচকালো। আশ্চর্য সে না ভিডিও কল দিয়েছে!

“ মেহরিন ফোন সামনে আনো। তুমি কানে গুঁজেছ কেনো? আমি ভিডিও কল দিয়েছি।”
মেহরিন ফোন সামনে আনলো। সোলেমান দেখলো বউ তার ঘুমে, বালিশ মাথার নিচে। সোলেমান ভালো করে নজর দিলো। ওড়না নেই শরীরে মেহরিনের। পেছন থেকে জামার গলা কিছুটা সামনে এসে গেছে। সোলেমান এক ঢোক গিলল।
“ মেহরিন উঠো। তাকাও। ”
মেহরিন চোখ মেলো তাকালো।
“ বলুন শুনছি। ঘুম পেয়েছে খুব,তাকিয়ে থাকতে পারছি না। রাতে একটুও ঘুমাতে দেন না আমায়। ”
“ আমাকে তুমি রীতিমত সিডিউস করার চেষ্টা করছো মেহরিন। বাসায় চলে আসলে কিন্তু খুব খারাপ হয়ে যাবে বলে রাখলাম। ”
মেহরিনের কপালে দু ভাজ পড়লো।
“ কি করেছি কি আমি? ”

“ নিজের দিকে তাকাও। ঠিক নেই তুমি। আমাকেও ঠিক থাকতে দিচ্ছো না। ইচ্ছে করছে…
মেহরিন নিজের দিকে তাকালো। তড়িঘড়ি করে ওড়না নিয়ে সোলেমান কে থামিয়ে দিয়ে বলল-
“ চুপ একদম চুপ। আপনাকে সিডিউস করার ইনটেনশন একদমই নেই আমার। ”
“ তার তো প্রয়োজন হয় না। তোমাকে ভালো ভাবে দেখলেই আমি সিডিউস হয়ে যাই। সেখানে এভাবে দেখলে তো আরো হয়ে যাই। ”
“ অসভ্য লোক। কি জন্য ফোন দিছেন? ”
“ রেডি হয়ে থেকো। ”
“ কেনো? ”
“ ঘুরবো তোমায় নিয়ে। ”
“ না আমি ঘুমাবো। ”
“ ওকে ফাইন। আমি বাসায় আসতে যতটুকু সময় লাগে জাস্ট ততটুকুই ঘুমাতে পারবে। এরপর এসে আমি তোমার ঘুম টাকে, আর একটু হালাল করার দায়িত্ব নিচ্ছি জান,দেখা হচ্ছে । ”
মেহরিন এই না বলতে যাবে তার আগেই সোলেমান ফোন কে’টে দিলো।
লুকা দরজা ঠেলে ভেতরে আসলো। লুকা আজকাল মনস্টার কে খোঁজার জন্য বেশ এদিক ওদিক এর ওর পেছন ঘুরছে। সোলেমান জিজ্ঞেস করলো-

“ খোঁজ পেলে মনস্টারের? ”
লুকা মন খারাপ করে বলল-
“ না। ”
“ কেনো? ”
“ তাকে ধরার জন্য কোনো ক্লু নেই। তাকে কেউ দেখে নি। সে ছেলে নাকি মেয়ে সেটা নিয়েই তো যত কনফিউজড। ”
সোলেমান ভাবুক হয়ে বলল-
“ বেশ ইন্টারেস্টিং তো মনস্টার। ”
“ তা আর বলতে! এর উচিত ছিলো এর এই বুদ্ধি কোনো ভালো কাজে ব্যবহার করা। তাহলে নিশ্চিত কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে যেত। ”

“ তুমি সামান্য কিছু টাকার জন্য লাইফ রিস্ক কেনো নিচ্ছ লুকা? এরচেয়ে তুমি তোমার বউ কে সারা দিনের জন্য আমার বাসায় রাখো। ডাবল টাকা দিব আমি। ”
লুকার শ্বাস আটকে আসার মতো অবস্থা হলো। চোখ বড় বড় করে তাকালো। ছি স্যার তাকে কুপ্রস্তাব দিচ্ছে! স্যারের থেকে এটা আশা করে নি লুকা। তার বউ থাকতেও সে লুকার বউ চাচ্ছে!
লুকা মুই কি হনু টাইপের একটা আত্মমর্যাদার হিরো ভাইব নিয়ে বলল-
“ ছি স্যার ছি আমি ভাবতেও পারি নি আপনি এতটা নিচু মন-মানসিকতার মানুষ। আপনি আমাক কুপ্রস্তাব দিচ্ছেন যেন আমি আমার বউকে আপনার বাসায় পাঠাই দিনের জন্য! ছি স্যার। আপনি ভাবলেন কি করে টাকার লোভে আমি আমার বউকে আপনার বাড়ি পাঠাবো! ”
সোলেমান ভ্রু কুঁচকালো। পাশ থেকে কলমদানি ছুঁড়ে দিয়ে বলল-
“ ইডিয়ট, আমার বউয়ের জন্য চেয়েছি। আমার বউ সারাদিন একা থাকে বাসায়। তার সাথে সাথে থাকার জন্য বলেছি। ব্লাডি রাস্কেল পুরো কথা না শুনে আমার চরিত্রে সিল মে’রে দিলে তুমি! তোমাকে আমি জ্যান্ত পু’ড়িয়ে মা’রবো লুকা। ”
সাফওয়ান রুমে এসে নিজের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সুন্দরবন আজ ঘেরাও করা হবে। পিস্তল, জ্যাকেট, শ্যু পড়ে তৈরি হয়ে নিলো। রাত এখন বাজে একটার মতন। ১০-১২ জনের মতন ঢুকেছে সন্ত্রাসী বনে। সাফওয়ানের সহকারী রা অন্য রিসোর্টে। সব প্রস্তুতি শেষে সাফওয়ান রুম থেকে বের হতেই মাহির সাথে দেখা। মাহি জানতো সাফওয়ান বের হবে। সেজন্য সেও রেডি হয়ে এসেছে। সাফওয়ান মাহি কে দেখে বলল-

“ তুমি এখানে! ”
মাহি হাতে গ্ল্যাভা পড়তে পড়তে বলল-
“ হুমম। আমিও যাব আপনার সাথে। ”
সাফওয়ান চমকালো।
“ হোয়াট! মাথা ঠিক আছে তোমার? তুমি জানো কতটা মারাত্মক ওরা? ”
“ আমি যখন বলেছি। তখন আমি যাব। আপনাকে একা ছাড়ছি না। ”
“ আমাকে নিজ ইচ্ছায় ছেড়ে দিয়ে এখন বলছো না ছাড়ার কথা? ভেতরে যাও তুমি। ”
“ আমি একবার বলেছি কিন্তু আমি যাব। হাঁটা ধরুন। ”
মাহি আগে আগে হাঁটতে লাগলো। সাফওয়ান মাহির হাত চেপে ধরে বলল-
“ মাহি এটা কোনো এডভেঞ্চার ট্রিপ না। প্লিজ ভেতরে যাও। আমি ওদের সাথে ফাইট করবো নাকি তোমাকে রক্ষা করবো বলো? প্লিজ রিকুয়েষ্ট করছি যাও। ”
মাহি হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলল-

দাহশয্যা পর্ব ৬১

“ আমি নিজেকে রক্ষা করতে পারি। আমার হাতের নিশানা একদম কড়া। একটা গুলিও মিস যাবে না। চলুন এবার। ”
সাফওয়ান আটকাতে পারলো না মাহি কে। এদিকে পানির সাথে কড়া ডোজের ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে সেই পানি এজওয়ান কে খাইয়েছে মাহি। যার দরুন এজওয়ান ম’রার মতন ঘুমাচ্ছে। এজওয়ান জানতেও পারলো না তার বউ এক্সের সাথে জঙ্গলে সন্ত্রাসী ট্রিপে চলে গেছে তাকে ধোঁকা দিয়ে।

দাহশয্যা পর্ব ৬৩