দাহশয্যা পর্ব ৬৭
Raiha Zubair Ripti
সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে মেহরিন আর সোলেমান বাংলাদেশে আসলো। অ্যালিজার কি যে মন খারাপ হয়েছিল মেহরিনের চলে যাওয়ার কথা শুনে। অনেকক্ষণ জড়িয়ে ধরে ছিলো। মেহরিন অ্যালিজা কে বলল সময় বের করে বাংলাদেশে আসতে। ডক্টর অয়ন ও আসবে বলেছে খুব শীগ্রই বাংলাদেশে।
বাংলাদেশে এসে মেহরিন কে নিয়ে সোজা নওগাঁ আসে সোলেমান। ১২ তারিখ থেকে স্কুল কলেজ খুলবে। তাই আর ঢাকায় নিলো না।
মেয়ে এসেছে শুনে মোতালেব ভুঁইয়া সুলতান ভিলায় আসে। যাওয়ার সময় তো দেখা করতে পারে নি। ভিডিও কলে দেখে কি আর বাপের মন ভরে? ভিলায় এসে মেয়েকে বুকে টেনে আদর করলো। কিন্তু সাহস করে বলতে পারলো না মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার কথা। আসলই তো আজ। দুটো দিন থাকুক। তারপর না হয় নিয়ে যাবে। মেয়ের জামাইয়ের সাথে কথাবার্তা বলে সন্ধ্যার পর চলে গেল। তার পরের দিন সোলেমান ও চলে গেল। মেহরিন কে বলল কলেজ খুললে ভালোমতো পড়াশোনা করতে। কিছুদিন পরই আবার আসবে দেখা করতে।
মেহরিন ভিলায় ফিরেই লক্ষ্য করলো রুমাইসার অনেক পরিবর্তন এসেছে। আফিয়া সুলতান ফোন করে বলেছে এ বিষয়ে। রুম থেকে প্রায় বের হয় না বললেই চলে। সারাদিন ফোন নিয়ে রুমের ভেতর থাকে। তিন বেলা খাওয়ার সময়ও তাকে ডাকতে হয়। মেহরিন রুমাইসার রুমে আসলো। রুমাইসা ফোনে টাইপিং করছিলো। মেহরিন কে দেখে থামিয়ে দিলো। ফোনটা বালিশের নিচে রেখে বলল-
“ কিছু বলবে ভাবি? ”
মেহরিন বিছানায় বসে বলল-
“ না। এমনি দেখা করতে আসলাম। সব ঠিকঠাক তোমার? ”
“ একদম ফাস্ট ক্লাস। ”
“ তুমি নাকি ভীষণ ব্যস্ত থাকো। আম্মা ফোন দিয়ে বলতো। ”
“ আম্মু বলছে? ”
“ হ্যাঁ। ”
“ আসলে ভার্সিটি খুলছে তো। সেজন্য ব্যস্ত। ”
মেহরিন চুপ করে শুনলো। রুমাইসা বুঝতে পারলো না মেহরিন আদৌও বিশ্বাস করেছে কি না কথাটা। সেজন্য বলল-
“ ফুচকা খাবে? ”
মেহরিনের মাইন্ড ঘুরে গেল। অনেক মাস ধরেই ফুচকা খায় না সে।
“ পাবো কোথায়? ”
“ আছে রান্না ঘরে। তুমি বসো বানিয়ে আনছি। ”
রুমাইসা আলতো করে বালিশের নিচ থেকে ফোনটা নিয়ে বেরিয়ে আসলো।
রান্না ঘরে এসে কাজের বুয়াকে ফুচকা বানিয়ে দিতে বলল। ডাল আগেই সিদ্ধ করা ছিলো ফ্রিজে। বুয়া সব কিছু রেডি করে দিলো। রুমাইসা ফুচকার একটা ছবি পাঠিয়ে দিয়ে বলল-
“ ভাবির সাথে এখন বিজি আছি। পরে মেসেজ দিবেন। ”
রুমাইসা ফুচকা নিয়ে রুমে আসলো। মেহরিন ঘুরে ঘুরে দেখছিলো রুমটা। রুমাইসা ফুচকার প্লেট টেবিলের উপর রেখে বলল-
“ ভাবি আসো। ”
মেহরিন চেয়ার টেনে বসলো। চামিচ দিয়ে টক উঠিয়ে ফুচকায় ভরে মুখে নিলো। অমৃত লাগলো মনে হলো। কিন্তু ঝাল ছিলো অনেক। তারপরও মেহরিন খেয়েছে। খাওয়ার শেষে ঝালে তড়পাতে লাগলো। রুমাইসা ঠান্ডা পানি এনে দিলো। মেহরিন খেয়ে একটু শান্ত হলো।
রুমাইসার ফোনে মেসেজ আসার সাউন্ড বেজে উঠলো। রুমাইসা ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখলো তূর্ণ পাঠিয়েছে-
“ হয় নি খাওয়া? ঐ কি রে? কত খাচ্ছ? এত খেলে পেট খারাপ হবে। ডায়রিয়া হবে। তখন শুধু বাথরুমে দৌড়াতে হবে। ”
মেহরিন জাস্ট মেসেজ টা দেখতে পারলো কিঞ্চিত। নাম টা দেখার আগেই স্ক্রিন বন্ধ হয়ে গেল। মেহরিন ভাবলো হয়তো কোনো ফ্রেন্ড হবে। প্লেট নিয়ে চলে গেল।
রুমাইসা মেসেজ সিন করতেই ওপাশ থেকে ফোন আসলো। রুমাইসা বোলকনিতে এসে রিসিভ করলো ফোনটা।
“ আপনি পাগল? এত মেসেজ কেনো দিচ্ছিলেন? আমি বললাম না আমি ব্যস্ত ভাবির সাথে? ”
তূর্ণ গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল-
“ দিব না মেসেজ? এতক্ষণ লাগে খেতে? ”
“ এতক্ষণই লাগে। ”
“ আই লাভিউ। ”
রুমাইসা হাসলো। দিনে কম করে হলেও একশো বার বলবেই আই লাভিউ। ”
“ ৫ মিনিট আগেও বলেছেন এটা। ”
“ আবার বলছি। রেসপন্স করো। ”
“ কতবার করবো? ”
“ আমি যতবার বলবো ততবারই। ”
“ আপনি তো এখনও দেখা দিলেন না আমায়। ”
“ দিব তো। ”
“ কবে? ”
“ খুব শীগ্রই। শোনো আমরা যেদিন দেখা করবো। সেদিন তুমি সাদা রঙের শাড়ি পড়বে হু? আমি সাদা শার্ট পড়ে আসবো। কানের পাশে লাল একটা গোলাপ গুঁজবে। সাজার ইচ্ছে হলে সাজতে পারো। আই হ্যাভ নো প্রবলেম। ”
“ আমার শাড়ি টাড়ি নেই। ”
“ আমি পাঠাবো। ”
“ এই না। ”
“ আমি শুনবো নাকি তোমার বারন? ”
“ ঠিকানা জানেন? ”
“ এই যুগে ঠিকানা জানা কোনো ব্যাপার হলো? সব জানি। শোনো রুমু। ”
“ হুমম বলুন। ”
“ আমার মাস্টার্স টা শেষ হলেই আমি তোমাকে বিয়ে করে নিব। ততদিন অপেক্ষা করবে তো আমার জন্য? অন্য কাউকে বিয়ে করো না যেন। ”
রুমাইসার কি যে ভালো লাগে এই ছেলেকে। এই ছেলে বাস্তবে দেখতে সুন্দর না হলেও সে থেকে যাবে তার সাথে।
“ অপেক্ষায় থাকবো। ”
“ তোমাকে নিয়ে আমি দেশ বিদেশে ঘুরবো। তোমার খুব ঘুরার ইচ্ছে তাই না? ”
“ হুমম। ভাইয়া আমায় ঘুরতে যেতে দেয় না। তাও এবার গিয়েছিলাম সুন্দরবনে আপনার জন্য। কিন্তু আপনি আসলেন না। ”
“ ফাস্ট টাইম ঘুরতে গিয়েছিলে এবার? ”
“ হুমম। এমনি গিয়েছি ঢাকা ভাইয়ার কাছে। আর এবার বরিশাল নানু বাড়ি। আর কোথাও যাই নি কখনও। ”
“ ঘুরতে দেয় না কেনো? তোমার ভাইয়া তো কদিন পর পর বিদেশ ট্যুর দেয়। ”
“ কাজে যায় ভাইয়া। আর ভাইয়া খুব চিন্তিত থাকে আমাদের নিয়ে। তার আড়ালের বাহিরে গেলেই যদি কেউ কোনো ক্ষতি করে ফেলে সেজন্য যেতে দেয় না। ”
“ আমি তো তোমার ভাইয়ার চোখের আড়ালে নিয়ে যাব তোমায়। তখন কি হবে? ”
“ তখন আমার রেসপনসেবলিটি আপনার থাকবে। আমার ভাইয়ার না। আমার সেফটির দায় আপনার থাকবে। ”
“ আশা করছি সেফটির দিক দিয়ে আমি হান্ড্রেডে নাইন টি নাইন। তোমার ছোট থেকে বড় সব ইচ্ছে স্বপ্ন ইনশাআল্লাহ আমি পূরণ করবো। ”
“ ইনশাআল্লাহ। ”
তরিকুল চৌধুরীর মার্ডার কেইসে একটা ক্লু পাওয়া গেছে। একটা কালো পোশাকধারী লোক হত্যা করেছে তরিকুল চৌধুরী কে। সিসিটিভি থেকে ঝাপ্সা দেখা গিয়েছে। আর সেই লোক বা মেয়ে যেই হোক তিনি হেলিকপ্টার দিয়ে পাশের দেশ ইন্ডিয়ার দিকে চলে গিয়েছে। যার কারনে কেইস টা আগাচ্ছেই না।
মাহিও চিন্তায় পড়ে গেছে। কে মেরেছে? আর ভারতের সাথে তার কি যোগসূত্র? ভারতের কেউ মে’রেছে?
১২ সেপ্টেম্বর প্রায় ১৮ মাস পর স্কুল কলেজ খুললো। এজওয়ান মাহিকে নিয়ে ঢাবি আসলো। মাহির মাস্টার্স করা বাকি। কম শিক্ষিত বউ এজওয়ান পালে না। তার বউ তার মতই হবে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত। ডিনের সাথে কথাবার্তা বলে মাস্টার্সে ভর্তি করিয়ে দিলো মাহি কে।
স্কুল কলেজ খোলায় বিভিন্ন বিভাগ থেকে চান্স পেয়ে পড়া ছেলেপেলে যারা ভার্সিটি বন্ধ থাকায় বাড়ি চলে গিয়েছিল তারা সবাই এক এক করে ভার্সিটি মুখো হচ্ছে। আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে থাকা ভার্সিটি টা আবার মুখরিত হচ্ছে তার আগের রূপে।
ভর্তির কার্যক্রম শেষ করে মাহি হাঁটা ধরলো। এজওয়ান ও আসলো। ভালোই লাগছে বউ পাশে রেখে হাঁটতে। হাঁটতে হাঁটতে এক পর্যায়ে পাশ ফিরে কলা ভবনের দিকে তাকাতেই ওপর পাশ থেকে আসা কারো সাথে ধাক্কা খেলো মাহি। পড়ে যেতে নিলে এজওয়ান ধরে ফেললো। মাহিকে জিজ্ঞেস করলো-
“ ঠিক আছো তুমি? ”
মাহি হুমম বলল। এজওয়ান সামনে তাকালো এবার। ২১ কি ২২ হবে আনুমানিক বয়স। গায়ে ঢিলেঢালা একটা লাল রঙের গেঞ্জি। হাতে কাপড়ের ব্যাগ। চোখে চশমা। এজওয়ান গেঞ্জি টেনে ধরে বলল-
“ এই মিয়া চশমা চোখে দিয়েও কি চোখে দেখো না নাকি? দিনে দুপুরে ধাক্কা খাচ্ছ। ”
ছেলেটা আশেপাশে তাকালো। লোকজন তাকিয়ে আছে। ভদ্র ভাবেই বলল-
“ জাস্ট একটা অ্যাক্সিডেন্ট ছিলো ভাইয়া। আর আপুই অন্য দিকে তাকিয়ে হাঁটছিল। এখানে আমার কোনো দোষ দেখছি না আমি। ”
মাহি এজওয়ান কে ছাড়িয়ে আনলো। তারই তো দোষ। সেই তো অন্য দিকে তাকিয়ে হাঁটছিল। মাহি ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বলল-
“ ইট’স মাই ফল্ট। প্লিজ কিছু মনে করবেন না। এজওয়ান সরি বলুন। ”
এজওয়ান ভ্রু কুঁচকালো। ছেলেটা সরির অপেক্ষা করলো না। পাশ কাটিয়ে চলে গেলো। এমনিই লম্বা জার্নি করে এসেছে। তার উপর ক্যাম্পাসে ঢুকতে না ঢুকতেই এমন ঝামেলার সামনে পড়তে হলো।
ছেলেটার নাম ফাহাদ মোস্তফা । রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ে। থাকে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের ১০১১ নম্বর রুমে।
এসেছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা থেকে। পরিবারে আছে এক ছোট বোন, মা আর সৎবাবা ও তার দুটো ছেলে মেয়ে। ২০০৯ সালে পিলখানার হ’ত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফাহাদের বাবা মারা যায়। ফাহাদের বাবা ছিলেন পিলখানার জামে মসজিদের একজন ইমাম। তার বাবা নিজ চোখে দেখেছে সেই হত্যাকাণ্ড। বাবার মৃ’ত দেহটা পাওয়া গিয়েছিল ড্রেনের ভেতরে। এত বছর হয়ে গেল, অথচ পিলখানার সাথে জড়িতদের কোনো বিচার পাওয়া গেল না। ওহ্ বিচার হবে কি করে? এই হত্যাকাণ্ডের সাথে তো জড়িত ছিল স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ও ভারত।
বাবা মারা যাওয়ার তিন বছর পরই ফাহাদের মা দ্বিতীয় বিয়ে করে।
খুব বড় একটা স্বপ্ন নিয়ে ফের এসেছে এই ঢাকা শহরে ফাহাদ। এই ঢাকাই তার বাবা কে তাদের থেকে কেড়ে নিয়েছে। সেই ঢাকাতেই ফাহাদ স্বপ্ন বুনছে, পড়াশোনা শেষ করে চাকরি পেলে বোনকে ঢাকায় নিয়ে আসবে। আর তা না হলে পড়াশোনা শেষ করে বাড়ি গিয়ে নিজেদের জায়গা বুঝে নিয়ে সেখানে ক্ষেতখামার করে বোন কে নিয়ে থাকবে।
ফাহাদ টিউশনি করে যা টাকা পাঠায় বাড়িতে তা তার মা নিজের ও বাকি ছেলে মেয়েদের পেছনই ব্যয় করে ফেলে।
টাকা না পাঠালেও আবার বোনের উপর অত্যাচার করে। সৎ বাবাটাও খুব সুবিধার না। দেখতে পারে না ফাহাদ আর তার বোন বাতাসি কে।
ফাহাদ খুব বেশিও ইনকাম করে না যে বোন কে নিয়ে এসে ঢাকায় বাসা নিয়ে থাকবে। যার কারনে নিরুপায় হয়েই বোন কে ওখানে রাখতে হয়। বোনটা অনেক লক্ষী,সাধাসিধে বোকা। তাকে মা মারলেও ফাহাদ কে বিচার দিবে না। উল্টা ফাহাদ বুঝতে পেরে জিজ্ঞেস করলে বোনটা তার কথা এড়িয়ে বলে- হাল্কা বকেছে। দুষ্টুমি করেছিলাম যে সেজন্য। মা ভালো অনেক।
ফাহাদ তখন নীরবে অশ্রু বিসর্জন দেয়। লোকে বলে মা মরলে বাপ হয় তালই। কিন্তু ফাহাদের বেলায় উল্টো হলো। বাপ মরতেই মা হলো তালই।
ফাহাদ রুমে এসে কাঁধ থেকে ব্যাগটা রাখলো বিছানায়। ভীষণ ক্লান্ত তার দেহটা। আসার পথে বাতাসি রুটি আর আলু ভাজি দিয়েছিল। ফাহাদ সেটা বের করে হাতমুখ ধুয়ে খেতে বসলো।
এমন সময় তার রুম মেট জাহিদ এসে বলল-
“ বাহিরে কার সাথে তোর ঝামেলা লেগেছিল জানিস? ”
ফরহাদ খেতে খেতে বলল-
“ কোন ঝামেলা? ”
“ ঐ যে ধাক্কা লেগেছিল যে। ”
“ ওহ্। ঐ আপুটাই অন্য দিকে তাকিয়ে হাঁটছিল। ”
“ জানিস তুই ওটা কে ছিল? ”
“ না তো। ”
“ এমপির ভাই ওটা। এই ভার্সিটির প্রাক্তন ছাত্রলীগের নেতা ছিল এমপি নওয়াজ সোলেমান সুলতান। তুই তার ভাইয়ের সাথে ঝামেলা করেছিস। সিনিয়র দের দু’জন দেখেছে। কথাবার্তা ও বলছিল এ নিয়ে। মাপ চেয়ে নিস ফাহাদ । তা না হলে বর্তমান ছাত্রলীগদের কানে গেলে কি হবে জানিস তো? এমনি, হলে যাকে তাকে শিবির জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে অ্যাটাক করে। তখন আরো বেশি করে অ্যাটাক করবে। ”
ফাহাদ আশ্চর্য হলো। সে কি ঝামেলা করেছে? সে তো আরো পাশ কাটিয়ে চলে এসেছে। ফাহাদ আর মাথা তেমন না ঘামিয়ে আসরের আজান শুরু হতেই ওজু করে নামাজ পড়তে চলে গেল।
ক’দিন পর মোতালেব ভুঁইয়া আসলেন মেয়েকে নিয়ে যেতে। আফিয়া সুলতান যেতে দিলেন। অনেক মাস পর নিজের বাড়িতে এসে প্রশান্তি অনুভব করলো মেহরিন। বোনের মেয়েটাকে প্রথম বার কোলে নিলো। তুর্কি থেকে অনেক কিছু নিয়ে এসেছিল বাবুর জন্য। একটা স্বর্ণের আংটিও এনেছে। সেটাই পড়িয়ে দিল নরম ছোট্ট তুলতুলে হাতে। বাবুকে কোলে নিয়ে ঊর্মিদের বাড়িতে আসলো মেহরিন। বাবার বাড়ি থেকে ঊর্মির সাথে কাল প্রথম কলেজে যাবে। যদিও খুলেছে ১২ তারিখ। কিন্তু যায় নি। ঊর্মিকে সামনা-সামনি দেখে মেহরিনের চিনতে একটু অসুবিধে হলো। মেয়েটা আগের তুলনায় একটু মটু হয়েছে।
মেহরিন কে দেখে ঊর্মি খুশি হলো। কত গুলো মাস পর প্রাণপ্রিয় বান্ধবী টাকে দেখতে পারছে। জড়িয়ে ধরলো।
” কেমন আছিস মেহু? ”
“ আলহামদুলিল্লাহ ভালো তুই? ”
“ আমিও ভালো আছি। এসেছিস কবে? ”
“ হবে এক সপ্তাহ। ”
“ কলেজ গিয়েছিলি? ”
“ না। তুই? ”
“ আমিও যাই নি। তুই নেই বলে। কবে থেকে যাবি?”
“ আগামীকাল থেকে। ”
“ আছিস কতদিন এখানে? ”
“ দেড় দু সপ্তাহ আছি। ”
“ তাহলে এক সাথেই যাওয়া যাবে। ”
“ হুমম। ”
ইতি বেগম রান্না ঘর থেকে উঁকি দিলো। মেহরিনের গলা শুনলো মনে হলো। মেহরিন কে দেখে একটা দীর্ঘ শ্বাস বের হলো। মেয়েটা অনেক সুখেই আছে মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে। অথচ তার ছেলেটা সুখে নেই। এখনও মেহরিন কে আঁকড়ে ধরে আছে।
মেহরিন ইতি বেগম কে জিজ্ঞেস করলো-
“ কেমন আছো চাচি? ”
ইতি বেগম স্মিত হেঁসে বলল-
“ এই তো আল্লাহ যেমন টা রাখছে। আজই আসলি নাকি শ্বশুর বাড়ি থেকে? ”
“ জ্বি চাচি। ”
“ জামাই আসে নি? ”
“ না উনি ঢাকায় চলে গেছে। কাজ আছে তো সেজন্য। আসবে বলেছে কদিন পর। ”
আরো টুকটাক কিছু কথা ঊর্মির সাথে বলল মেহরিন। সন্ধ্যা হয়ে আসছে দেখে বলল-
“ আচ্ছা এখন আসি। সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। বাবুকে নিয়ে বাহিরে থাকাটা আর ঠিক হবে না। তুই আসিস বাসায়। ”
“ আচ্ছা। ”
মেহরিন চলে গেল।
এজওয়ান মাহির জন্য মাস্টার্সের বই কিনে এনেছে লাইব্রেরি থেকে। টেবিলের উপর বই গুলো রেখে বলল-
“ সুইটহার্ট বই সব এনেছি। এবার জান মান প্রাণ সব দিয়ে পড়াশোনা করো। মাস্টার্স শেষ হলে পিএইচডি করাতে নিয়ে যাব তোমায়। ”
মাহি বই গুলো উল্টেপাল্টে দেখলো।
“ আপনার না অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার কথা ছিলো? তার কি হলো? ”
“ ওখানে তো এখনও বিশ্ববিদ্যালয় খুলে নি। মেবি জানুয়ারি তে খুলবে। খুললে যাব তোমায় নিয়ে। আর তারা এখনও আমায় ই-মেইল দেয় নি। ”
“ কিসের ই-মেইল? ”
“ মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটি অ্যানুয়াল রিসার্চ এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানের ই-মেইল । ”
“ কি নিয়ে পড়াশোনা করেন আপনি? ”
“ বাংলা সাহিত্য নিয়ে। রীতিমত পেম পিরিতি পরকীয়া নিয়ে পড়ে পড়ে নিজেকে ধ’র্ষণ করছি। ”
“ ফালতু কোথাকার। বাংলা নিয়ে পড়লে আপনাকে তারা রিসার্চ এক্সলেন্স অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানের জন্য কেনো ই-মেইল করবে? বাংলায় ভাষন দেওয়ার জন্য? ”
“ হ্যাঁ। ”
মাহি ভাবুক হয়ে বলল-
দাহশয্যা পর্ব ৬৬
“ বাংলার কোনো সাবজেক্ট আছে মেলবোর্নে? ”
“ হ্যাঁ আছে তো। আমি একমাত্র স্টুডেন্ট। ”
“ আপনার সাথে কথাই নেই। সাবজেক্ট নিয়ে লুকোচুরি করার কি আছে? ”
“ বললে একটা লিপ কিস দিবা কও? ”
মাহি টেবিলের সামনে থেকে সরে যেতে যেতে বলল-
“ লাগবে না বলার। মনে হয় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হু। যত্তসব ঢং। ”
“ তার চেয়ে কমও না। ”
“ তাহলে বলুন। ”
এজওয়ান আয়নায় মাথার চুল গুলো ঠিক করতে করতে বলল-
“ পিএইচডি ইন সাইবার সিকিউরিটি। ”
