Home দাহশয্যা দাহশয্যা পর্ব ৭৮

দাহশয্যা পর্ব ৭৮

দাহশয্যা পর্ব ৭৮
Raiha Zubair Ripti

সুলতানপুর থেকে দুপুরের দিকে আফিয়া সুলতান,আমিরুল সুলতান,আনোয়ার সুলতান, রুমাইসা আসবে অলংকারপুর। সোলেমান আসতে বলেছে। ইব্রাহিম মেহরিনের বান্ধবী ঊর্মি কে পছন্দ করেছে। এখন বিয়ে করতে চাইছে। তারা গার্ডিয়ান হয়ে যেন আসে প্রস্তাব নিয়ে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করতে।
মোতালেব ভুঁইয়া নিজ বাড়িতে তোড়জোড় শুরু করে দিছে আপ্যায়নের। বিয়ের পর প্রথম তারা সকলে মিলে এক সাথে আসবে। আপ্যায়নের কোনো ত্রুটি সে রাখবে না। সকাল সকাল উঠে বাজারে গিয়ে সদ্য জবাই করা গরুর মাংস নিয়ে আসলো। সোলেমানের গরুর মাংসে এলার্জি বলে মহিষের মাংস নিয়ে আসলো। সাথে ইলিশ মাছ,বড়বড় চিংড়ি মাছ আর বড় একটা রুই মাছ নিলো। মেহরিন আবার পাঙ্গাশ মাছ টা বেশি পছন্দ করে। মেয়ের জন্য আলাদা করে একটা পাঙ্গাশ মাছও নিলো। শ্বশুর বাড়িতে নাকি কেউ পাঙ্গাশ মাছ খায় না। সেজন্য আনে না আর খাওয়াও হয় না মেহরিনের। লজ্জায় নিজ থেকে মেহরিন বলতেও পারে না।

মোতালেব ভুইয়া গরুর খাঁটি দুধ সেমাই সবজি যা যা দরকার সব নিয়ে বাড়ি ফিরলো। বাড়ি ফিরে অনিক সেরিন কেউ আসতে বললো। এতো এলাহি আয়োজন করবে বড় মেয়েকে ডাকবে না মোতালেব ভুঁইয়া? এ আবার হয় নাকি? বেড়াতে গেছে বড় মেয়ে শ্বশুর বাড়ি গত সপ্তাহে। বড় মেয়ের শাশুড়ি আসবে না। তাই সেরিন অনিক বিকেলে আসবে। মোতালেব ভুঁইয়া হাতে হাতে কাজ করে দেওয়ার জন্য পাশের বাড়ি থেকে একজন বাবুর্চি ডেকে আনলেন। মানুষজন অনেক।
মেহরিন সব মশলাপাতি ছুলে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে দিয়েছে। বাড়ির উঠানে মাটি কে’টে চুলা বানিয়ে সেখানে রান্না করা হচ্ছে।
সোলেমান ঘুম থেকে উঠেই মর্নিং ওয়াক করতে বের হয়েছে। কাজের চাপে আজকাল তার জিম করা হয় না। সেজন্য ফিটনেস টা কেমন যেন হয়ে গেছে। গালের দাড়ি গুলোও বড় হয়েছে। মর্নিং ওয়াক শেষে বাড়ি ফেরার আগে সেলুনে গেলো দাড়ি ছাঁটাই করতে । কিন্তু ফিরলো ক্লিন সেভ করে। বছরে একবার বোধহয় সোলেমান এমন ক্লিন সেভ করে।
বাড়ি ফিরে রুমে এসে মেহরিনের সামনে দাঁড়াতেই মেহরিন হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে সোলেমানের মুখ ডানে বামে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখলো। তারপর বিরক্তের সহিত বলল-

“ এটা কি করেছেন আপনি? ”
সোলেমান প্রথমে বুঝলো না।
“ কি করেছি আমি? ”
“ দাড়ি কই আপনার? ”
“ সেলুনে রেখে আসছি। কেনো কি হইছে? ”
মেহরিন দূরে সরে গিয়ে নাক ছিটকিয়ে বলল-
“ বাজে লাগছে আপনাকে। মনে হচ্ছে বয়লার ডেসিং করা ছোলা মুরগি। ”
সাথে সাথে সোলেমান আয়নায় নিজেকে দেখলো। তাকে বয়লার ডেসিং করা ছোলা মুরগির সাথে তুলনা! আর কিছু পেলো না তুলনা করার জন্য? এইভাবে অপমান! তবে মন্দ তো লাগছে না। সোলেমান সারা গালে হাত জড়িয়ে বলল-

“ খুব কি খারাপ লাগছে দেখতে? ”
মেহরিন কোমরে দু হাত গুঁজে বলল-
“ তা আর বলতে? আর কখনো ক্লিন সেভ করবেন না। বিশেষ করে আমার আশেপাশে থাকা কালিন তো নয়ই। ”
“ ওক্কে ম্যাডাম। আপনি যা বলবেন। আমি সব করিতে রাজি। ”
“ আব্বা আম্মারা আসবে কখন? ”
“ দুপুরের আগেই চলে আসবে। বিয়েটা বোধহয় এই সপ্তাহের মধ্যেই করে নিবে। ”
“ সেটাই ভালো। ”
“ হুমম। ঊর্মি কে তো ইব্রাহিম ঢাকায় নিয়ে যাবে। ওখানেই ভর্তি করিয়ে দিবে। তো তুমি একা থেকে কি করবা? তোমাকেও নিয়ে যাব ভাবছি। বন্ধু বউ নিয়ে সংসার করবে আর আমি বউ ছাড়া থাকবো বিষয় টা আমার মোটেও হজম হবে না মেহরিন। ”
“ যাব না আমি। নিজের দরকারেই শুধু মেহরিনের কাছে আসেন। আর দরকার ফুড়িয়ে গেলেই মেহরিন কে আপনি চিনেনও না। ”

সোলেমান মেহরিন কে কাছে টেনে কোলের উপর বসালো। কাঁধে থুতনি ঠেকিয়ে বলল-
“ মানুষ তো দরকারেই কাছে আসে মেহরিন। আমার তোমাকে দরকার। বাজে ভাবে বিশ্রী ভাবে ভালো ভাবে সব ভাবে দরকার। অনেক তো হলো থাকা শ্বশুর শাশুড়ির সাথে। এখন থেকে শুধু স্বামীর সাথে থাকবে। স্বামীর দেওয়া সুখ গুলো টাইম টু টাইম নিতে হবে না? ”
“ আপনি ভীষণ অসভ্য হচ্ছেন দিনকে দিন। ”
“ আমি সভ্যই বা ছিলাম কবে বলো তো? সভ্য যদি হতামই তাহলে কি আর তোমার আমার মধ্যে সামথিং টাইপের কিছু হতো? ”
মেহরিন সোলেমানের দিকে ঘুরলো। কি লিমিট ছাড়া কথাবার্তা! সোলেমানের ঠোঁটে উপর তর্জনী আঙুল ঠেকিয়ে মেহরিন বলল-
“ চুপ একদম চুপ। আপনার না হয় লজ্জা নেই। তাই বলে কি আমারও লজ্জা নেই? ”
“ লজ্জা কাকে বলে? আমি তো আজ প্রথম শুনলাম এই শব্দ টা। তুমি জানো কাকে বলে? জানলে প্লিজ আমাকে জানাও। আমার আবার ব্রেণ ভালো। এক শোনায় সব মুখস্ত করে নিতে পারি। ”
“ সুলতান সাহেব। আপনি মজা করছেন আমার সাথে? ”
সোলেমান সিরিয়াস ভাবভঙ্গি নিয়ে বলল-
“ নো মেহরিন অ্যাম সিরিয়াস। লুক.তাকাও,তাকাও আমার ফেইসের দিকে। সিরিয়াস না? ”
মেহরিন কাঁধের শার্ট খামচে ধরে বলল-

“ বড্ড ফাজিল আপনি। ”
“ ভীষণ। ”
কথাটা শেষ করেই মেহরিনের কোমর চেপে আরো কাছে টেনে আনলো। মেহরিন কানের লতির কাছে মুখ নিয়ে বলল-
“ ভালোও। ”
সোলেমান হেঁসে ফেললো।
“ এটার ক্ষেত্রে একটু কম ভালো আমি ডার্লিং। জীবনেও স্বীকার করবো না আমি ভালো। আমি খারাপ, ভীষণ খারাপ, মাত্রাতিরিক্ত খারাপ,জঘন্য খারাপ।”
মেহরিন জড়িয়ে ধরলো শক্ত করে।
“ খারাপ হলেও আমার, ভালো হলেও আমার। এই গোটা আপনিটা শুধুই আমার। ”
“ ইট’স ট্রু। আই এগ্রি উইথ দ্যিস স্টেটমেন্ট। ”

জোহরের আজানের পরপরই সুলতান পরিবারের সকলে এসে পৌঁছায় অলংকারপুর। দুপুরের খাবার টা খেয়ে তারা বিকেলের পরপর ইমনদের বাড়িতে আসে। ইমন তার সাধ্য মতো যা যা পারে কিনে এনেছে বাজার থেকে। ফল মিষ্টি যদিও ইমন কিনেছিলো কিন্তু ইব্রাহিম রা নিয়ে এসেছে। খাবার দাবারের আয়োজন করেছে ইমন। মেহরিন দের বাড়ির বাবুর্চি এনে রান্না করিয়েছে। ইমন ভুলেও বোনের দিকে তাকায় না। কথা বলে না। যেন ঊর্মি নামের এই বাড়িতে একটা জলজ্যান্ত মানুষ আছে সে জানে না। ঊর্মিকে তারা দেখলো। দেখা শেষে আমিরুল সুলতান বলল এই সপ্তাহেই বিয়ের কাজটা সেরে ফেলতে চায়। ইমনের কি মতামত?
ইমন কথাটা শুনে কিছুটা থম মেরে থাকলো। এই সপ্তাহেই বিয়ে? কি রেখে কি করবে সে? তারপরও বলল-
“ আমার চেষ্টায় আমি ত্রুটি রাখবো না। আপনাদের বাড়ির বউ যখন নিতে চাইবেন আমি দিতে বাধ্য। ”
“ তাহলে শুক্রবার বিয়ে। আজ থেকে তিনদিন পর। বিয়ের আয়োজন টা তাহলে কমিউনিটি সেন্টারে করি? ”
ইমন জানালো-

“ মাফ করবেন। আপনারা চাইলে করতে পারেন সেন্টারে। কিন্তু আমার সামর্থ্য নেই সেন্টারে গিয়ে বিয়ে দেওয়ার। আমি আমার বাড়িতেই দিতে চাচ্ছি। ”
“ সমস্যা হবে না ইমন। তোমার সাধ্যের মধ্যেই হবে সেন্টারে। দুজনের সব এক সাথে হয়ে গেলে আমাদের পেরেশানি টাও কম হবে। দৌড়াদৌড়িও কম হবে। ”
ইমন সময় নিয়ে তারপর রাজি হলো। সন্ধ্যার পর খাওয়াদাওয়া শেষ করে আরেকদফা কথাবার্তা হলো। ইমন জিজ্ঞেস করলো- তাদের কোনো দেনা পাওনার বিষয় আছে কি না। তখন সোলেমান আর চুপ থাকতে পারলো না। সে বলল-

“ যদি কিছুর চাওয়ার হতো তাহলে আমরা নিজ থেকেই কি চাইতাম না? আমরা যেটা চেয়েছি শুধু সেটা দিলেই হবে। তোমার বোনকে চেয়েছি ভাইয়ের জন্য। এর বাহিরে আমাদের কিছু চাওয়ার নেই। এখন তুমি যদি নিজ থেকে ১০ কোটি টাকা দিতে চাও, তাহলে দিতে পারো। আমাদের কোনো সমস্যা নেই নিতে। দিবে? একটা মার্সিডিজ কিনতাম। ”
ইব্রাহিম বাহু চেপে ধরলো। ফিসফিস করে বলল-
“ আমার বিয়ে ভাঙলে তোর মাথার উপরে ঠাডা পড়বে সোলু। থাম তুই। ”
আমিরুল সুলতান সোলেমান কে থামিয়ে দিয়ে বলল-
“ দেখো বাবা আমরা কেমন পরিবার সেটা তো জানো। মেহরিন কে আমার ছেলের বউ করেছি। আমরা কিচ্ছু নেই নি। তোমাদের কলিজা কে নিচ্ছি এটাই তো আমাদের জন্য অনেক কিছু। তুমি বাবা দেনা পাওনার কথা তুলে আমাদের ছোট করো না। আমরা এক কাপড়েই ঊর্মি কে নিতে চাই। ”
ইমন সম্মতি প্রকাশ করলো। আমিরুল সুলতান অলংকারপুর গ্রামের পাশে থাকা রোকেয়া কমিউনিটি সেন্টারে কথাবার্তা ফাইনাল করলো। তাদের তিন দিনের জন্য লাগবে সেন্টার টা। ম্যানেজার জানালো সব ব্যবস্থা তারা করে রাখবে।

রুমাইসা যখন শুনছে ইব্রাহিমের বিয়ে তখন থেকেই সে সব ঠিক করে রাখছে ভাইয়ের গায়ে হলুদে,বিয়ে তে, বউ ভাতে কি কি পড়বে। কোন গানে নাচবে সব। মেহরিন গালে হাত দিয়ে বসে বসে শুধু দেখছে। এই মেয়ে ভাইয়ের বিয়েতে এমন আত্মহারা হচ্ছে তাহলে নিজের বিয়েতে কি করবে!
“ ভাবছি উনাকে বলে তোমার বিয়েটাও দিয়ে দিব আপু। স্বামীর সংসার করার বয়স এটা তোমার। ”
রুমাইসা পেছন ফিরে তাকালো।
“ আমি রাজি আছি মেহু ভাবি। আমারও ইচ্ছে ধুমধাম করে নাচতে নাচতে বিয়েতে বসার। প্লিজ ভাইকে বলে, দিয়ে দাও। তাহলে দোয়া করে দিব যাতে খুব শীগ্রই ফুফু ডাক শুনতে পারি। ”
“ প্রেমে ট্রেমে পড়লে নাকি আপু? ”
রুমাইসা দু হাত দিয়ে মুখ ঢেকে বলল-

“ কি যে বলো না তুমি? যাও ভাইয়ার কাছে যাও। ”
মেহরিন শব্দ করে হেঁসে ফেললো। যাওয়ার সময় বলে গেল-
“ ননদের লক্ষণ ভালো না দেখছি। হিসাবে গড়মিল পাচ্ছি। ”
মেহরিন চলে যেতেই রুমাইসা দরজা আঁটকে দিয়ে দু হাত মেলে দিয়ে গেয়ে উঠলো –
“ প্রেমে পড়েছে,মন প্রেমে পড়ছে
অচেনা এক মানুষ আমায় পাগল করেছে গো ভাবি…পাগল করেছে। ”
রুমাইসা ফোন টা নিয়ে অনলাইনে সিলেক্ট করা তিনটা ড্রেসের ছবি পাঠালো তূর্ণ কে। সাথে লিখে পাঠালো-
“ মানাবে আমাকে? ”
মিনিট দুয়েকের মাঝে রিপ্লাই আসলো-

“ কোনো উৎসব আছে নাকি? ”
“ হ্যাঁ ইব্রাহিম ভাইয়ার বিয়ে। ”
“ মেয়র সাহেবের বিয়ে! কার সাথে? ”
“ ভাবির ফ্রেন্ডের সাথে। ”
“ ওহ্ আচ্ছা। তোমার তিনটে ভাইই কেমন লুকিয়ে চুরিয়ে বিয়ে করে নিলো। তোমরা কি মানুষ দাওয়াত দিতে ভয় পাও নাকি? জনগণ বোধহয় এখনও জানে না তারা বিবাহিত। ”
“ ডোন্ট ওয়ারি আমার বিয়েতে পুরো এলাকা দাওয়াত দেওয়া হবে সাথে আপনাকেও। ”
তূর্ণ চমকালো।।
“ এই এই আমাকে দাওয়াত দিবে মানে? ”
“ ওমা দিব না দাওয়াত? আপনি আমার এত পছন্দের। ”
“ ফিউচার জামাইকেই বলছো দাওয়াত দিবা নিজের বিয়েতে? মে’রে বালি চাপা দিব। ”
“ হয়েছে ফিল্মি ডায়লগ বাদ দিয়ে বলুন এগুলো পড়লে সুন্দর লাগবে? ”
“ অবশ্যই দারুন লাগবে। তবে হাতা তো ছোট। বড় হাতার থাকলে সেগুলো দেখো। শাড়ি টাড়ি যাই পড়ো ঢেকেঢুকে পড়বে। অন্য মানুষ যেন অপ্রাসঙ্গিক কিছু না দেখে। মনে থাকবে? ”

“ জ্বি স্যার মনে থাকবে। এখন বলুন। ”
“ কি? ”
“ ওটা। ”
“ ওটা কি? ”
“ আপনার মাথা। ”
তূর্ণ শব্দ করে হাসলে। হাসতে হাসতে বলল-
“ ডিয়ার এমপির বোন…আইলাভিউ। ”
রুমাইসা হেঁসে ফেললো।
মেয়র সাহেবের বিয়ে হবে শুনলো মাহি। হুট করে এমন খবর পাওয়ায় একটু চমকালো অবশ্য। এত তাড়াতাড়ি বিয়ে! বুঝলো হয়তো আগে থেকেই পছন্দ ছিলো। এজওয়ান জানালো তারা যাবে বিয়েতে। মাহির বিয়ের জন্য যা যা কেনা দরকার এজওয়ান শপিং মলে নিয়ে গিয়ে কিনে দিবে। মাহি যেন রেডি হয়ে থাকে। মাহি সাদা চিকেন কাপড়ের চুড়িদার পড়ে অপেক্ষা করছে এজওয়ানের। এজওয়ান স্টাডি রুম থেকে ক্লান্ত শরীরে ল্যাপটে হাতে নিয়ে রুমে প্রবেশ করলো। ওয়াশরুমে ঢুকে চোখে মুখে পানি ঝাপা দিলো। শরীর আর চলে না। এই একটা প্রজেক্ট শেষ করতে করতে এজওয়ানের চোখের নিচে কালি পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই প্রজেক্ট সময়ের আগে শেষ করতে না পারলে বিপদ। এজওয়ান একটা লেদার জ্যাকেট গায়ে দিয়ে বলল-

“ চলো তরিকুলের বেটি। আটা ময়দা কিনতে যাই তোমার। ”
মাহি বিরক্ত হলো আটা ময়দা শুনে। আগে আগে হেঁটে গাড়িতে এসে বসলো। এজওয়ান বাইকের দিকে একবার তাকিয়ে গাড়িতে উঠলো। শা’লার জিন্দেগী। এই বাঙ্গুর দেশে এজওয়ান তার ইচ্ছামতো বাইক চালাতে পারে না। জ্যাম শালার পুতেরা মিনিটে মিনিটে লাগে। অস্ট্রেলিয়া হলে প্লেনের গতিতে চালিয়ে যেত।
বসুন্ধরা শপিং মলে এসে মাহি লেহেঙ্গা থ্রিপিস গ্রাউন কিনলো। এজওয়ান আশা করেছিল মাহি শাড়ি নিবে। কিন্তু নাহ্ মাহি নিলো না শাড়ি। শাড়িতে কি এলার্জি এই মেয়ের? তার আনা শাড়িটা কই আছে? ফেলে দিছে নাকি? কেনাকাটা শেষে এজওয়ান নিজের জন্য জ্যাকেট, গেঞ্জি কিনলো।
মাহি বলল-

“ পাঞ্জাবি কিনতেন একটা। ”
এজওয়ান জবাব দিলো –
“ পাঞ্জাবি ভদ্রলোক দের পোশাক তরিকুলের বেটি। আর আমি অভদ্র। আমার সাথে মানাবে না। যা আমি জীবনে পড়ি নি তা ভবিষ্যতেও পড়বো না। ”
জীবনে পাঞ্জাবি পড়ে নি এই ছেলে! তার বাপ ভাই চৌদ্দ গুষ্টি তো পাঞ্জাবি পড়ে। এই ছেলে এত আলাদা কেনো সবার থেকে?
গাড়িতে বসতে বসতে মাহি প্রশ্ন করলো-
“ আপনি কি তাহলে মসজিদে নামাজ পড়তে গেলেও এসব পড়ে যান? ”
এজওয়ান গাড়ি চালাতে চালাতে বলল-
“ জীবনে মসজিদের বারান্দাতেও পা রাখি নি। ”
মাহি বড়সড় ভাবে চমকে উঠলো। কি বলছে এই লোক? জীবনে মসজিদে যায় নি?
“ এখন এটা বলবেন না যে জীবনে নামাজ পড়েন নি। ”
“ আসলেই পড়ি নি আমি জীবনে নামাজ। ”
মাহি আর তার এক্সপ্রেশন লুকিয়ে রাখতে পারলো না। চমকে ওঠার মতো করে বলে উঠলো-

“ কিহ! ”
এজওয়ান গম্ভীর মুখে বলল-
“ হ্যাঁ। আমাকে জানতে আসলে আরো অবাক হবে তরিকুলের বেটি। তাই জানতে এসো না আমায় আর। ”
“ আপনি আদৌও নামাজ পড়তে জানেন তো? ”
এজওয়ানের সহজসরল স্বীকারোক্তি –
“ জানি না পড়তে। কোনো সূরা পারি না। কোন ওয়াক্তে কত রাকাআত নামাজ তা আমি জানি না। রোজা রাখি নি জীবনে। ”
“ ছিঃ কি সহজসরল স্বীকারোক্তি! আপনি আদৌও মুসলিম তো? ”
“ আব্বা জেতে ধরে মুসলমানি যখন করাইছে তখন তো মুসলিমই।
“ চার কালেমা পারেন? ”
“ না। ”
“ আমপারা, কোরআন শরিফ?
“ কি বোকা প্রশ্ন করলে মাহি। যে চার কালেমা পাড়ে না সে আমপারা, কোরআন শরিফ পারবে কি করে? ”
“ তাহলে আপনি কিসের মুসলিম? নামাজ পড়েন না। রোজা রাখেন না। কালেমা পাড়েন না। ”
“ বাপের গুষ্টি যেহেতু মুসলিম সেহেতু আমাকেও মুসলিমই ধরা হবে। ”

“ শিখেন নি কেনো এসব? ”
“ নিজেকে সময় দিতে দিতে স্রস্টা কে আর সময় দেওয়া হয় নি আমার। ”
“ এটা তো পরিবার থেকে শিখানো হয়। ”
“ যেই বয়সে শেখানো হয় সেই বয়সে আমি পাই নি আমার পরিবার কে। তাই আমিও আর শিখি নি। ”
“ বড় হবার পর শিখলেন না কেনো? ”
“ কেউ বলেনি শিখতে। ”
“ নবী-রাসুল কয়টা জানেন? ”
“ কি আশ্চর্য বললাম তো ব্যাসিক টাই জানি না। সেখানে ভেতরের তথ্য আমি কিভাবে জানবো? এভাবে খোঁচানোর মানে কি? ”

“ ছিঃ আপনার মতো নাস্তিকের সাথে আমি সংসার করছি কিভাবে! হায় আল্লাহ!
“ আমি নাস্তিক? নাস্তিক হলাম কিভাবে? আমি কখনও বলেছি আমি স্রস্টা কে মানি না? বলেছি?”
“ কাজকর্ম দেখে তো সেসবই মনে হচ্ছে। মানুষ হিসেবে তো দেখছি আপনি….”
“ ভীষণ জঘন্য তরিকুলের বেটি। সংসার করা যায় না তাই না? ”
“ সংসার আসলেই করা যায় না আপনার সাথে। ”
“ তাহলে কি তরিকুলের বেটি তুমি আমার কাছে ডিভোর্স চাও?
“ নিঃসন্দেহে চাই। আগেও চেয়েছি আজও চাচ্ছি ইন ফিউচারও চাইবো। আপনি দিয়ে দিন।”
এজওয়ান কিছুক্ষণ ভেবে বলল
“ ওকে ফাইন। আমি তোমাকে ডিভোর্স দিব তবে একটা শর্তে। ”
“ কি বলুন। ”
“ আমি একটা প্রশ্ন করবো। তুমি যদি ৫ সেকেন্ডে উত্তর দিতে পারো তাহলে আমি তোমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিব।
“ কেমন প্রশ্ন? ”

“ সিম্পল প্রশ্ন ক্যালকুলেশন ছাড়াই উত্তর দেওয়া যাবে তেমন। আই-কিউ লেভেল টা জাস্ট ভালো হতে হবে।
“ আচ্ছা তাহলে করুন প্রশ্ন। আমি ডিভোর্স টা চাই। আমার আই-কিউ লেভেল সম্পর্কে আপনার কোনো ধারণা নেই।
“ ওমা তাই? ১৫০ নাকি?”
“ তেমনই। ”
“ আচ্ছা তাহলে বলো তোমার শাশুড়ির স্বামীর ছেলের বউয়ের মেয়ের বাপের মায়ের স্বামীর ছেলের বাবার বাবার ছেলের ছেলে তোমার কি? ইউর টাইম স্টার্ট নাও।
এজওয়ান গুনতে লাগলো ১..২..
মাহি প্রশ্ন টা মনে করতে করতেই দেখলো এজওয়ান ৫ বলে ফেলবে এখন। প্রশ্নে যখন এত ছেলে শব্দ টা আছে তখন উত্তর ছেলেই হবে। কিন্তু কার ছেলে হবে? মাহি আন্দাজে বলে ফেললো
“ ছেলে…”
এজওয়ান জিজ্ঞেস করলো-
“ কার ছেলে? ”
“ আমার, আমার ছেলে? ”
এজওয়ান লম্বা করে একটা শ্বাস ছাড়লো।
“ হয়েছে উত্তর? ”
এজওয়ান গাড়ি চলাতে চালাতে বলল-

“ এখন যদি তুমি তরিকুলের বেটি পিংক কালারের বিষ খেয়েও আমাকে ব্ল্যাকমেইল করো, তারপরও আমার থেকে ডিভোর্স তুমি আর পাবা না। সুযোগ দিছিলাম ডিভোর্স পাওয়ার অথচ তোমার আই-কিউ লেভেল তো দেখছি ১৫০ এর জায়গায় মাইনাস জিরো! এই আইকিউ লেভেল নিয়ে এজওয়ান সুলতানের সাথে তুমি টক্কর নাও! তোমাকে এক হাটে কিনে ১০০ হাটে বিক্রি করা এজওয়ান সুলতান আমি। চু চেড লাগছে তোমার জন্য। ইশ কত বড় একটা সুযোগ তুমি খইয়ে ফেললে! এই আফসোসে তোমার এখন কচু গাছের সাথে ফাঁসি দিয়ে ম’রে যাওয়া উচিত।
“ কেনো হয় নি? উত্তর কি হবে? ”
“ ভাবতে থাকো তুমি। উত্তর পেয়ে যাবা। ”
এজওয়ান আরো দুইবার বললো প্রশ্ন টা। মাহি টানা ১০ মিনিট সময় নিয়ে তারপর ধরতে পারলো এটা এজওয়ান স্বয়ং নিজে। কি বেয়াদব ভণ্ড হলে এভাবে নিজেকে নিয়ে প্রশ্ন করে!

“ পেলে উত্তর? ”
মাহি রেগে তাকিয়ে বলল-
“ আপনি নিজে সেটা। ”
“ স্বামী কে নিজের ছেলে বানিয়ে দিলে! ছিঃ কি নষ্ট কারবার। যদি একটু সংসারে মনোযোগ দিতা। স্বামী কে নিয়ে ভাবতা তাহলে আজ এত বড় সুযোগ টা কাজে লাগাতে পারতা। বাট ইউ ফেল করে গেলে মাহি। ”
মাহি মনে মনে এজওয়ানের চৌদ্দ গুষ্টি শুদ্ধো করা শুরু করলো। অপমান! এইভাবে তাকে অপমান! ৫ সেকেন্ডে ব্যাডা তোকে এমন প্রশ্ন করলে তুই পারবি জবাব দিতে? মাহি জু’তা দিয়া পিডাবে সুযোগ পাইলে তোরে। নইলে মুখের উপরে ছেপ দিয়া দৌড় দিবে। নষ্ট ব্যাডা।

সোলেমান পরিবার নিয়ে শপিং করতে এসেছে মলে। ঊর্মি আসতে চায় নি। কিন্তু রুমাইসা নিয়ে আসলো জোর করে। রুমাইসা জানে না ঊর্মি কেনো আসতে চাচ্ছিলো না। ভেবেছে বোধহয় লজ্জা পায়। ইব্রাহিমের সাথে কথা বলে না ঊর্মি। কেনার সময় দাঁড়িয়ে ছিলো জাস্ট। ইব্রাহিম ই পছন্দ করে সব কিনে দিলো।
মেহরিন কি নিবে বুঝতে পারলো না। শুধু ঘুরে ঘুরে দেখলো। সোলেমান হাত টেনে ধরে নিয়ে একটা দোকানের দিকে যেতে যেতে বলল-
“ শুধু ঘুরলে হবে? কিনতে হবে না? ”
“ সিলেক্ট করতে পারছি না। এত পোশাক। ”
“ আমি আছি না? আমার চয়েস খারাপ না। দেখতে পারো। ”
“ দিন তাহলে।”
সোলেমান থ্রি-পিস শাড়ি, লেহেঙ্গা হিজাব চুড়ি জুতা কিনে দিলো চার সেট করে মেচিং করে। আলমারি ভর্তি কত ড্রেস। ভেবেছিল শুধু বিয়ের দিনের জন্য কিনবে মেহরিন। কিন্তু না তার সুলতান সাহেব ডাবল করে কিনে দিলো। কেনাকাটা শেষে রাতের ডিনার করে তারা প্রথমে ঊর্মি কে তার বাসায় দিয়ে তারপর সুলতান ভিলায় চলে আসলো।
ঊর্মি কে বাসায় দিয়ে আসার সময় ইব্রাহিম ইতি বেগমের সামনে দাঁড়িয়ে মাথা নত করে বলে এসেছে-
“ ভুলের সাজা কতকাল পেতে হবে আন্টি? ছেলেমেয়ে ভুল করলে বাবা মা না ক্ষমা করে দেয়? আমরা কি করলে ক্ষমা পাবো বলুন? তাই করবো। ”
ইতি বেগম শুধু বলল-

“ ভুলের ক্ষমা হয় বাবা অন্যায়ের না। তোমার উপর আমার কোনো রাগ নেই। তুমি তো পরের ছেলে তোমাকে আমি কি দোষ দিব? নিজের পেটের মেয়েরই তো যত দোষ। ”
“ উল্টোটা করলে হয় না আন্টি? নিজের পেটের মেয়ে সেজন্য ক্ষমা করে দেন ঊর্মি কে। আমি পরের ছেলে আমাকে ক্ষমা করা লাগবে না। ”
ইতি বেগম আর কিচ্ছু বলে নি। ইব্রাহিম হতাশ হয়ে চলে গেলো।
ঊর্মি আশেপাশে তাকালো ভাইকে দেখার জন্য পেলো না ভাইয়ের ছায়াটাও অব্দি। তার ভাই রাগে না সহজে। কিন্তু যখন রাগে সেই রাগ হিমালয়ের পাহাড় কেও অতিক্রম করে যায়।
গায়ে হলুদের আগের দিন সকালে এজওয়ান মাহি,বাশার সুলতান আর ইয়াসিন রওনা দেয় ঢাকা থেকে নওগাঁর উদ্দেশ্যে। এসে পৌঁছায় বিকেলে। তারা সবাই এখন রোকেয়া কমিউনিটি সেন্টারে । ইমন রাও এসেছে। ঊর্মিকে পার্লারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মাহি রুমাইসা নিয়ে গেছে। সোলেমান মেহরিন কে যেতে মানা করেছে। কি না কি প্রডাক্ট ইউজ করাবে মুখে পরে মুখটাই নষ্ট হয়ে যাবে। সাজার দরকার নেই গর্জিয়াস হয়ে। রুমেই সাজুক।
মেহরিন তপ্ত শ্বাস ফেললো এ কথা শুনে। সে যে আটপৌড়ে শাড়ি পড়তে পারে না। সোলেমান রুমের দরজা লক করে সোফায় বসে ল্যাপটপে কাজ করছে। মেহরিন কে শাড়ি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করলো-

“ সমস্যা কি রেডি হচ্ছো না কেনো? ”
মেহরিন শাড়ি দেখিয়ে বলল-
“ আমি আটপৌড়ে শাড়ি পড়তে পারি না। ”
“ আমি থাকতে চিন্তা কিসের তোমার? যাও পেটিকোট ব্লাউজ পড়ে আসো। ”
মেহরিন তাই করলো। পেটিকোট ব্লাউজ পড়ে উপর দিয়ে ওড়না জড়িয়ে বের হলো।
সোলেমান শাড়িটা নিয়ে এগিয়ে এসে সূক্ষ্ম ভাবে পড়াতে লাগলো। কি চমৎকার ভাবে শাড়ি পড়াতে পারে উনি! মেহরিন কে সোলেমান দেখিয়ে দেখিয়ে বলছে কিভাবে কি করতে হয়। মেহরিন শিখে নিচ্ছে। আঁচল টা যখন তুলে দিতে যাবে তখন শরীরে ওড়না দেখে ভ্রু কুঁচকালো। কি আশ্চর্য সে কি বাহিরের মানুষ নাকি? দু দুবার বিয়ে করা স্বামী হয় সে। তার সামনে এভাবে ঢেকে আসতে হয়?

সোলেমান ওড়নাটা সরিয়ে দিয়ে আঁচল ঠিক করে পিন মে’রে দিলো। তারপর বলল-
“ পেটের সাইডে সেফটিপিন মেরে নিও সুবিধা মতো। আর হ্যাঁ হিজাব না পড়লেও চলবে। বাহিরের মানুষ নেই তেমন। রাতে কারো নজরে আসবে না তুমি। আমার সাথেই তো থাকবে। চুল খোঁপা করে এই বেলি ফুলের গাজরা টা লাগিয়ে নিবে। আর গয়না গুলো সাইডে রাখা আছে। হাল্কা সাজবে। বেশি না কিন্তু। নাচগানের সময় রুমাইসা ডাক দিলে সোজা মানা করে দিবে। বলবে আমি বকবো। ”
মেহরিন মাথা নেড়ে আচ্ছা জানালো। তারপর খুবই হাল্কা ভাবে সেজে লম্বা চুল গুলো খোঁপা করে নিলো। গাজরা পড়ার সময় আরেক কান্ড। একা একা পড়া যায় নাকি? মেহরিন ডেকে উঠলো-

“ এ্যাই শুনুন না। ”
সোলেমান ঘাড় বেকিয়ে তাকিয়ে বলল-
“ হু বলো শুনছি। ”
“ পড়তে পারছি না গাজরা টা। পড়িয়ে দিন তো। ”
সোলেমান এগিয়ে এসে পড়িয়ে দিলো গাজরা টা। তারপর বিছানায় মেহরিন কে বসিয়ে গয়না গুলোও পড়িয়ে দিলো। গয়না বলতে চুড়ি,কানের দুল,টিকলি আংটি। ফর্সা হাতে স্বর্নের চুড়ি গুলো দারুন মানিয়েছে মেহরিনের হাতে।
পড়ানো শেষে মেহরিন আয়নায় তাকিয়ে বলল-
“ ভালো লাগছে? ”
“ ভীষণ। একটা চুমু খাই? ”
মেহরিন মুচকি হেসে বলল-
“ না। ”
সোলেমান কি না শোনার মানুষ নাকি? গালে চুমু খাওয়ার নাম করে ঠোঁটে চুমু খেলো। মেহরিন বিরবির করে বকে দিলো।

সোলেমান মেহরিনের নীল রঙের শাড়ির সাথে ম্যাচিং করে সে নিজেও নীল রঙের পাঞ্জাবি পড়লো। চুল গুলো সেট করে বউ নিয়ে বের হবার সময় দেখলো বউ তার পেটের সাইড দিয়ে সেফটিপিন লাগায় নি। যত্ন করে পেট ঢেকে সেফটিপিন মেরে তারপর বের হলো।
রুমাইসা আর মাহি আজ লেহেঙ্গা পড়েছে। চুল গুলো ছেড়ে দিয়ে মাঝখানে টিকলি পড়ে বড় ঝুমকা পড়েছে। গলায় কোনো অলংকার নেই। দু’জনেই আয়নায় নিজেকে দেখে ঊর্মির দিকে তাকালো। বাসন্তী কালারের লেহেঙ্গায় দারুন লাগছে। তবে মন মরা কেনো এই মেয়ে? পার্লারের মেয়ে জুশ এনে দিয়ে গেলো। মাহি ঊর্মির দিকে বাড়িয়ে দিলো গ্লাস। জুশের গন্ধ নাকে আসতেই আকস্মিক কেমন গা গুলিয়ে উঠলো। সাথে সাথে গ্লাস টা সামনে থেকে সরিয়ে বলল-
“ খাবো না। স্মেল টা ভীষণ বাজে। ”
মাহি নাকের কাছে গ্লাস টা নিয়ে দেখলো, কই বাজে স্মেল? ঠিকই তো আছে।
জুশ খেয়ে তারা ঊর্মি কে নিয়ে সেন্টারের দিকে গেলো।
ইব্রাহিম বাসন্তী কালারের পাঞ্জাবি পড়ে রুমে বসে আছে। পাশেই বিছানায় আধশোয়া হয়ে এজওয়ান ইব্রাহিম কে দেখে চলছে। এজওয়ান এখন ভাবছে। বিয়ে তো হচ্ছে কিন্তু এখন ইব্রাহিম তার দেওয়া কথার মতো এক মাসে ইমন কে মামু ডাক শোনাবে কি করে? ইব্রাহিম তার নাম বদলিয়ে কি রাখতে পারে তাহলে? ইচিবিচিহিম?
ইব্রাহিম ফোন স্ক্রোল করতে করতে এজওয়ান কে প্রশ্ন করলো-

“ তুই রেডি হবি না?”
এজওয়ান নিজের দিকে তাকালো। সে কি রেডি হয় নি? নিউ জ্যাকেট টা কিনে এনে আজ প্রথম পড়লো। গুনে গুনে ১৭ হাজার টাকা নিছে এই সিম্পল জ্যাকেট টা।
“ আমি তো রেডিই। চোখ কি কপালে নাকি তোমার? ”
ইব্রাহিম তাকালো।
“ পাঞ্জাবি পড়বি না? ”
“ ওসব আমার সাথে স্যুট করে না। চলো বউ বলে চলে এসেছে তোমার,রুমু মেসেজ লিখে জানালো। ”
ইব্রাহিম রা দোতলা থেকে নিচ তালা আসলো। জমকালো আয়োজন। লাল নীল হলুদ ঝাড়বাতির আলোয় আলোকিত হয়ে আছে পুরো হল রুম।
সোলেমান ইব্রাহিম কে দেখে এগিয়ে আসলো। কথাবার্তা বলার সময় ইব্রাহিমের চোখ গেলো গেটে। ঊর্মি আসতেছে। মুগ্ধ হয়ে দেখলো মেয়েটাকে।
মেহরিন বোনের মেয়েকে কোলে নিয়ে বসে ছিলো। সানজিদা বেগম আর মোতালেব ভুঁইয়া আসেন নি। বাড়িঘর রেখে আসাটা ঠিক হবে না। তারা একেবারে বিয়েতে আসবে। মেহরিন এগিয়ে গেল বাবু কোলে নিয়ে। ঊর্মির থুতনিতে হাত রেখে বলল-

“ মাশা-আল্লাহ সুন্দর লাগছে। ”
সোলেমান ইব্রাহিম কে ঠেলে দিয়ে বলল-
“ যা ব্যাটা বউ নিয়ে স্টেজে যা। ”
ইব্রাহিম এগিয়ে গিয়ে হাত বাড়িয়ে দিলো। ঊর্মি প্রথমে ধরতে চাইলো না। কিন্তু রুমাইসাটা টেনে ধরিয়ে দিলো। ইব্রাহিম শক্ত করে ধরে এগিয়ে গেলো।
এজওয়ান আড়চোখে দেখলো তরিকুলের বেটি কে। মাইনসের জন্য সাজতে পারে কিন্তু ঘরের সোয়ামির জন্য সাজতে পারে না। মনডায় চায় দুই তিনটা করে ঠাপ দিতে।
মাহি এগিয়ে আসলো এজওয়ানের দিকে। এজওয়ান বলল-
“ কত টাকা দিয়ে সাজলে? ”
“ ১০ হাজার। ”
এজওয়ানের মাথায় হাত। ১০ হাজারের বেশি দিয়েই না আটা ময়দা কিনে দিলো! আর সেগুলো লাগাতেও টাকা খরচ!

“ ফালতু জায়গায় টাকা ভাঙতে উস্তাদ তুমি। এই টাকা দিয়ে আমি এক বেলা ওয়াইন খেতে পারতাম বারে গিয়ে। ”
“ খোঁটা দিচ্ছেন নাকি? ”
“ না ভালোবাসা দিচ্ছি। ”
“ আপনি এজওয়ান আমাকে সত্যি ভালোবাসেন তো? ”
“ বাসি তো, একদম লুঙ্গির গিট খুলে যাওয়ার পরবর্তী অবস্থার মতন ভালোবাসি।

দাহশয্যা পর্ব ৭৭

“ তাহলে প্রতি মাসে আমায় ১ কোটি করে টাকা দিবেন। ভালোবাসার একটা দাম আছে না? ১০ হাজারে হয় নাকি?
এজওয়ানের কপালে দু ভাজ পড়লো। তারপর বা হাতের মিডেল আঙুল দেখিয়ে উল্টো ঘুরে সামনের দিকে হাঁটা দিতে দিতে বলল-
“ ফা’ক ইউ। ফা’ক মাই লাভ ইউ।

দাহশয্যা পর্ব ৭৮ (২)