দাহশয্যা পর্ব ৮৫ (৩)
Raiha Zubair Ripti
যৌন পল্লীতে বছরে ২-৩ দিন আয়োজন করা হয় নির্বাচনের রাত নামের এক আয়োজনের। এই দিনে পল্লীর মেয়ে গুলো নতুন পোশাক,অলংকার,আলতা,কড়া পারফিউমে সাজায় নিজেকে। ভিন্ন ভিন্ন নতুন খদ্দের দের মুখ দেখা যায়। তারা চড়া দামে নারী বাছাই করে। তারপর সারা রাত বদ্ধ ঘরে দেহ শুষতে থাকে। এবারও এই আয়োজন করা হবে। এই আয়োজনেই শেখরের প্ল্যান আছে প্রেমাকেও নিয়ে আসবে। পুরোদমে কাজ চলছে ভেতরে। নানান রঙের লাইটিং,সারা রাত শরীর গরম করার জন্য দেশি বিদেশি দামী দামী মদের বোতল। অনেক টাকাই খরচ করেছে এজন্য শেখর। সব টাকা তো উশুল করতেই হবে। সেজন্য প্রেমা কে ভালো ভালো খাবার দিতে বলা হলো। প্রেমা তখনও জানে না আগামীকাল কি হবে। সে তো সারা রাত ধরে ভাবছে,কি করে এখন থেকে বের হতে পারবে। ঠিক তখনই পূর্ণা আসলো খাবারের প্লেট নিয়ে। শেখর পাঠিয়েছে। প্রেমা প্লেটে সব নিজের পছন্দের খাবার দেখে একটু অবাকই হলো। পূর্ণা বিছানায় খাবার টা রেখে বলল-
“ খেয়ে নাও। ”
বাহির থেকে আইটেম গানের শব্দ শোনা যাচ্ছে। প্রেমা জিজ্ঞেস করলো-
“ আজ কিছু আছে নাকি? ”
“ আজ না। কাল। ”
“ কালকে কি? ”
“ আমাদের চড়া দামে কিনে নিবে রাতের জন্য। ”
প্রেমার চোখ মুখ চমকে উঠলো একথা শুনে।
“ আর তোমরা সেটা মেনেও নিবে! ”
“ দেহ হতে পারে আমাদের। কিন্তু সেই দেহ নিয়ে মানা না নানার অধিকার আমাদের নেই। মেয়ে গুলো খুব বিরক্ত হয় জানো? পুরো রাত বহু পুরুষের সাথে শুতে হয়। তোমাকে না-কি পাঠানো হবে। তুমি ইকবাল ভাইয়ের কথা শুনে নাও। আমাদের চিন্তা করিও না। তুমি না হয় আগে মুক্ত হয়ে তারপর আমাদের বাঁচিও। ”
“ আমি উনাকে চিনি না পূর্ণা। উনার ইনটেনশন কি সেটা বুঝতে পারছি না। হতেও পারে এটা আরেক চক্রান্ত। শেখরেরই তো বন্ধু। ”
“ উঁহু। ইকবাল ভাই ওমন না আগেও তো বলেছি। উনি ভীষণ ভালো লোক। ”
“ যদি ভালো লোকই হতো তাহলে পতিতালয় কি কাজ উনার? শেখরের মতো মানুষের সাথে কিসের বন্ধুত্ব? ”
“ হয়তো সেও বাধ্য হয়ে থাকে। বাহির থেকে তো সবটা বিচার করতে পারি না আমরা। আমরা বাঁচতে চাই প্রেমা। আমার মেয়েটাকে সুন্দর একটা জীবন দিতে চাই। ”
প্রেমা আর কিছু বললো না। পূর্ণা ইকবাল কে ডেকে আনলো। ইকবাল ভেতরে ঢুকে প্রেমার সামনে দাঁড়িয়ে বলল-
“ আপনি আমাকে ভরসা করতে পারেন প্রেমা। আল্লাহর কসম বাজে কোনো ইনটেনশন আমার নেই। আমি চাই আপনারা বাঁচুন। ”
“ এই চাওয়াটা আগে কেনো চান নি আমি আসার আগে?”
“ হয়তো সাহস হয় নি চাওয়ার। আপনাকে দেখে ইচ্ছে জাগলো। ”
“ কিভাবে পালাবো? চারিদিকেই তো পহরি। ”
“ গতকাল সবাই নাচ গানে ব্যস্ত থাকবে। সেই সুযোগে আপনি পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যাবেন। আমি পেছনের গেটেই দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করবো। পূর্ণা খুলে দিবে গেট টা। ”
“ পূর্ণা কিভাবে খুলবে তালা? চাবি পাবে কোথায়? ”
“ আমি দিয়ে রেখেছি ডুপ্লিকেট চাবি টা। আপনি শুধু বেরিয়ে আসবেন। বাকিটা আমি সামলে নিব। আপনাকে আপনার গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে আসবো। ”
“ আর ওরা?”
“ তার ব্যবস্থাও করা আছে। এই কান্দাপাড়া পতিতালয় টা আমি ভেঙে দিব। আর কোনো মেয়েকে জোর করে শোষণ করা হবে না। আপনি শুধু ভরসা রাখবেন আমার উপর। ”
“ আমি কৃতজ্ঞ থাকবো আজীবন আপনার কাছে এই সাহায্য টুকু করলে। ”
“ আমি নিজেকে ধন্য মনে করবো আপনার কোনো সাহায্যে আমি এসেছিলাম বলে। সাবধানে থাকবেন। পূর্ণা দেখে রেখো আসছি। ”
ইকবাল চলে গেলো বাসায়। বাসায় ফিরেই স্টাডি রুমে ঢুকে একটা মোটা ফাইল,একটা পেনড্রাইভ আর কিছু ছবি বের করলো। যেগুলো ইকবাল অনেক গুলো দিন ধরে নিজের কাছে রেখেছিল। ভেবেছিল হয়তো একদিন কোনো কাজে লাগবে। শেখের সাথে বিবাদ হতে পারে। বিবাদ হলো ঠিকিই কিন্তু শেখরের বিপক্ষে তাকে যেতেই হবে। প্রেমা কে দেখে ইকবালের কি হলে জানা নেই। কিন্তু মেয়েটাকে সুখী দেখতে ইচ্ছে করছে। এত কষ্ট পেয়েছে ছোট থেকে। এখন যদি ইকবালের একটা পদক্ষেপে প্রেমার জীবন বদলে যািয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে ক্ষতি কিসে?
ইকবাল প্রমান গুলো একটা ব্যাগে ভরে রাখলো। আগামীকাল অনেক বড় একটা ঝড় বইবে তার উপর দিয়ে।
মাঝরাতে শেখর ফোন দিলো। খুবই স্বাভাবিক ভঙ্গিতে কথা বললো সে শেখরের সাথে।
রাতের ডিনারে সবাই যখন খাবার টেবিলে তখন এজওয়ান খাবার খেতে খেতে সোলেমানের উদ্দেশ্যে বলল-
“ ভাইজান একটা সাহায্য করো আমায়। ”
সোলেমান খেতে খেতে বলল-
“ কি সাহায্য? ”
“ আমাকে এই ঢাকা না এই বাংলাদেশের ভেতরে সবচেয়ে নম্র ভদ্র সভ্য দেখতে অপ্সরা এমন একটা মেয়ে খুঁজে দাও। ”
বাশার সুলতান এ কথা শুনে অতি উৎসাহের সাথে বলল-
“ বিয়ে করতে চাইছিস? আলহামদুলিল্লাহ। অনেক খুশি আমি এই কথা শুনে বাপ। এতদিনে যে তুই বুঝছিস এটা সেই জন্য শুকরিয়া আল্লাহর নিকট।”
মাহি দোতলার করিডর দিয়ে আসছিলো। বাশার সুলতানের এই কথা শুনে তাকালো সেদিকে। বিয়ে করবে নাকি এজওয়ান? এজওয়ান খাবার খেতে খেতে মাহির দিকে একবার তাকিয়ে বলল-
“ হু দ্বিতীয় বিয়ে করবো। তোমাদের সেবাযত্ন করবে সে। ”
সোলেমান বাঁকা চোখে তাকিয়ে বলল-
“ আমি তো কোনো ঘটক নই যে মেয়ে নিয়ে বসে আছি,তুই চাইবি আর আমি বের করে দিব। ”
“ সেটাও ঠিক। কোনো ঘটক কে বলে দাও খুঁজে দিতে। ”
“ নম্বর সেন্ড করে দিব। কথা বলে নিস। ”
“ ওক্কে। ”
মাহি এসে চেয়ার টেনে বসলো। সোলেমান লের খাওয়া শেষ হতেই চলে গেলো। মাহিকে দেখে বাশার সুলতান বলল-
“ কিছু মানুষ তো আমার ছেলের মূল্য দিতে জানলো না। সভ্যতা কাকে বলে সেটাও জানে না। এবার নিশ্চয়ই কোনো ভদ্র সভ্য মার্জিত মেয়ে আসবে আমার ছেলের বউ হয়ে। মাথায় তুলে রাখবো তাকে। ”
এজওয়ান খাবার চিবোতে চিবোতে বলল-
“ কুকুরের পেটে তো আর ঘি হজম হয় না বাবা। তাই অসুবিধা হয়। তবে সমস্যা নেই। তুমি তোমার মনের মতো বউমা পাবে আশা করি। ”
মাহি শুধু পানি খেয়ে চলে গেলো রুমে। এজওয়ান খাবার শেষ করে রুমে আসলো। দেখলো মাহি শুয়ে পড়েছে। এজওয়ান লাইট নিভিয়ে পাশে শুতেই মাহি বলল-
“ আপনি ২য় বিয়ে করতে চাচ্ছেন? বেশ তো করুন। আমি বাঁধা দিব না। বিয়ে করার আগে আমাকে দয়া করে ডিভোর্স টা দিয়ে নিবেন। এতে করে মামালাও খেতে হবে না আর পুলিশ স্টেশনে দৌড়া দৌড়িও করতে হবে না।
এজওয়ান উল্টো দিকে ঘুরে বলল-
“ জ্বি আপু আমি ২য় বিবাহ করার জন্য মেয়ে দেখছি। আপনাকে তো ভালোবেসে মনের অন্তঃস্থলে জায়গা দিয়ে দেখলাম আপনি হেগে জাস্ট নষ্ট করে দিলেন আমার ভেতর টা । তার উপর আপনি হচ্ছেন ১২ ব্যাটারি,স্বামী কে জীবনে ভালোবাসেন নি। সেই স্বামী নিশ্চয়ই সারাজীবন আপনাকে ধুয়ে ধুয়ে পানি খাবে না। সেজন্য ২য় বিবাহ করার পরিকল্পনা করছি। আর আপনাকে ডিভোর্স দিব না, টাকা পয়সা তো কম না আমার। দুটে বউ পালতে তেমন অসুবিধে হবে না আমার। যদি রাতে আমাকে কাছে না পাওয়ার জন্য অসুবিধে হয়,তাহলে দয়া করে একটা মেসেজ পাঠাবেন। আমি আপনার সতীন কে শান্ত করে, ঘুম পাড়িয়ে আপনার কাছে চলে আসবো পাশা খেলতে। ”
“ ভুল ধারণা আপনার। আপনি না থাকলে আমার কোনো অসুবিধেই হবে না। ”
“ না হলে তো আলহামদুলিল্লাহ। ২য় বউ কে বেশি সময় দিতে পারবো। তুমিও পরকীয়া করতে পারবে খোলামেলা। কেউ বাঁধা দিবে না। ”
মাহি এজওয়ানের শার্টের কলার চেপে টেনে তার দিকে ঘুরিয়ে বলল-
“ কথায় কথায় পরকীয়া ১২ ব্যাটারি এসব কি ধরণের কথাবার্তা? আমাকে অপমান করে আপনি কি মজা পান? আপনি জানতেন না আমি সাফওয়ান কে ভালোবাসতাম? জানার পরও আমায় ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করছেন। আমার পক্ষে সম্ভব সাফওয়ান কে ভোলা? ৪ বছরের ভালোবাসা ছিলো সে আমার। বিয়ে করতে যাচ্ছিলাম আমরা। আপনারা আপনাদের নিজেদের দিকটা বুঝেন। কিন্তু আমার দিকটা কি কখনো দেখেছেন খুঁটিয়ে কেউ? আমার মনের উপর দিয়ে কি যায়? আমি কি চেয়েছিলাম কখনও আপনাকে? চাই নি তো। আপনি নিয়ে এসেছেন। উঠতে বসতে আপনার বাবা আমাকে কথা শোনায়। কিন্তু আপনার দোষের সময় তো উনি কিছু বললেন না। কারন আপনি তার ছেলে। আর আমি তো পরের মেয়ে। আমাকে শুধু মানিয়ে নিতে হবে। তাদের ছেলে দুধে ধোঁয়া তুলসিপাতা। কাশ আপনি আমাকে বিয়ে না করতেন। আমার জীবন টা এভাবে নষ্ট না হতো। আর না আপনার জীবন টাও এমন হতো। আপনার একটা ভুলের জন্য আমাদের কতগুলো জীবন নষ্ট হয়েছে ভেবে দেখেছেন কখনো? আপনি শুধু স্বার্থপরের মতো নিজের না পাওয়ার হিসেব কষছেন। বাকিরাও তো না পাওয়ার যন্ত্রণায় ছটফট করে আপনার মতই। ”
এজওয়ান ছাড়িয়ে নিলো মাহির থেকে শার্ট টা। তারপর উল্টো ঘুরে বলল-
“ আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হচ্ছে তোমায় বিয়ে করাটা। আমার উচিত হয় নি অন্তত তোমাকে বিয়ে করা। তুমি এখন আমার গলায় কাটার মতো বিঁধে গেছো। না পারছি উপড়ে ফেলতে। আর না পারছি গিলে নিতে। ”
বাতাসি ইয়াসিনের বাগানে সবজির গাছ লাগিয়েছিল অনেক দিন আগে। সেই গাছে দুটো কুমড়ো ধরেছে। বাতাসি গায়ে চাদর জড়িয়ে দাঁড়িয়ে সেটাই দেখছিলো। স্কুল বন্ধ দিয়েছে দু’দিন। রান্না বান্না শেষ। ইয়াসিন গোসল করছে। তাদের সম্পর্কের কোনো উন্নতি হয় নি। একজন আশ্রিতের মতনই দেখে ইয়াসিন তাকে। বাতাসিও বুঝে। তবে কিছু বলে না। বলতে ইচ্ছে করে না আর। এতিম বাতাসি কে তিন বেলা খেতে দিচ্ছে, পড়তে দিচ্ছে, থাকতে দিচ্ছে এই তো অনেক।
খাওয়ার সময় ডাক দিলো বাতাসি কে ইয়াসিন। বাতাসি এসে প্লেটে খাবার বেড়ে দিলো। খাবার মুখে দিতে যাবে এমন সময় ইয়াসিনের ফোনে কল আসলো। আনানোন নম্বর। ইয়াসিন প্রথমে রিসিভ করলো না। ২য় বাট কল আসতেই ইয়াসিন রিসিভ করলো। ওপাশ থেকে তিন্নি বলল-
“ কেমন আছেন ইয়াসিন। ”
ইয়াসিন মেয়েলি গলা শুনে ভ্রু কুঁচকালো।
“ কে বলছেন আপনি? ”
“ আমি বাতাসির ম্যাম বলছি। ”
ইয়াসিন বাতাসির দিকে তাকালো। বাতাসি ইয়াসিনের দিকেই তাকিয়েছিল। ইয়াসিন তাকাতেই চোখ সরিয়ে নেয়।
“ জ্বি ম্যাম বলুন। কোনো দরকার ছিলো?”
“ হুমম। ”
“ বলুন। ”
“ দেখা করা যাবে? ”
“ কিজন্য? ফোনে বলা যাবে না?”
“ না। সামনা-সামনি বলতে হবে। ”
“ বিষয়টা কি নিয়ে? ”
“ বাতাসি কে নিয়ে। ”
বাতাসি কে নিয়ে!
“ সিরিয়াস কিছু? কিছু হয়েছে স্কুলে?”
“ সামনা-সামনি বললে বুঝতে পারবেন। ”
“ ঠিক আছে। কোথায় দেখা করবেন বলুন। চলে আসবো আমি। ”
“ নীলক্ষেত আসুন। আমি বিকেলে ওদিকেই আছি। ”
“ ঠিক আছে। ”
ইয়াসিন কান থেকে ফোন টা নামিয়ে হাত ধুতেধুতে বলল-
“ বাতাসি স্কুলে কিছু হয়েছ?”
বাতাসি এঁটো প্লেট নিতে নিতে বলল-
“ কই না তো। ”
“ তোমার ম্যাম দেখা করতে বললো।”
“ কোন ম্যাম? আর কিজন্য?”
“ তা তো বললো না। আচ্ছা আমি দেখা করে জেনে নিব। এখন আসছি। খেয়ে নিও। ফিরতে দেরি হতে পারে। ”
ইয়াসিন চলে গেলো। বাতাসি চিন্তায় পড়ে গেলো। কোন ম্যাম ফোন দিয়েছিল? বাতাসির তো মনে পড়ছে না সে কিছু করেছে স্কুলে। তাহলে? বাতাসি কে একটা বাটন ফোন কিনে দিয়েছিল ইয়াসিন। বাতাসি সেটা নিয়ে তার বান্ধবী রত্না কে ফোন করলো। জিজ্ঞেস করলো স্কুলে কিছু হয়েছে কি না। তার বাসাতেও ফোন দিয়েছে কি না। রত্না না জানালো। বাতাসির সারাদিন এটাই ভাবতে ভাবতে চলে গেল।
দুপুর এগারো টা বাজে। এজওয়ান কোলে ল্যাপটপ নিয়ে বিছানায় আধশোয়া হয়ে কিছু চেক করছিলো। এমন সময় হুট করে একটা মেইল ঢুকলো তার ই-মেইলে। এজওয়ান দেখলো মেলবোর্ন থেকে পাঠানো হয়েছে। এজওয়ান ওপেন করলো। এই মাসের শেষের দিকে তাকে অস্ট্রেলিয়া যেতে হবে। এজওয়ান কে ইনভাইট করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক একটা অ্যাওয়ার্ড ফাংশনে। যেটার নাম Australian of the year. সেখানে দেশের অভ্যন্তরীণ উচ্চ শ্রেনীর বড় বড় গবেষকরা থাকবে। সাথে বেশ কিছু আন্তজার্তিক সংস্থাও থাকবে। দেশের সবচেয়ে বেস্ট গবেষক দের তাদের কাজের জন্য অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে। এজওয়ান যদিও এই দিনটার অপেক্ষা ছোট থেকেই করে এসেছে,কিন্তু আজ যখন তা বাস্তবায়নের পথে তখন আর আগের মতো ফিল কাজ করছে না। মেইলের উত্তর এজওয়ান জানালো-
“ আমি শিওর না। আসতেও পারি, না-ও আসতে পারি। ”
ওপাশে হয়তো এজওয়ানের উত্তরের অপেক্ষা তেই ছিলো। এজওয়ানের এমন উত্তর পেয়ে আশাহত হয়ে বলল-
“ তোমার আসাটা খুব জরুরি। বিশেষ করে তোমার জন্যই এই অ্যাওয়ার্ড ফাংশন টার আয়োজন করা হয়েছে। আমাদের অস্ট্রেলিয়ার গর্ব তুমি এজওয়ান। তুমি জনসম্মুখে আসো। তোমার মতো ইন্টেলিজেন্ট মানুষদের পৃথিবীর চেনা উচিত। তোমার জন্য অনেক অপরচুনিটি অপেক্ষা করছে। স্বয়ং প্রাইম মিনিস্টার স্কট মরিসন আসবেন তোমার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য । তোমার কাজের প্রশংসা শুনেছেন তিনি। সে খুব খুশি তোমার মতো একজন কে অস্ট্রেলিয়ায় পেয়ে। আমরা আরো আশাবাদী এই বছর তুমি নোবল পুরষ্কার ও পেতে যাচ্ছ। ”
এজওয়ান কফির মগে চুমুক বসিয়ে বলল-
“ নোবেল পুরষ্কার বিক্রি করে কি আমি কোটিপতি হতে পারবো প্রফেসর ? ”
“ তুমি তো এমনিতেই কোটিপতি। আমরা তোমার অপেক্ষায়। তোমার এই সাফল্য দেখে তোমাকে তাদের সাথে কাজ করার জন্য জব অফার করতে চাচ্ছে এক ডিপার্টমেন্টে থেকে। শুধু তুমি দেশে নেই বলে আগাচ্ছে না। ”
“ কোন ডিপার্টমেন্ট? ”
“ ASIO। ”
“ Australian Security Intelligence Organisation! ”
“ হুমম। ”
“ অ্যা’ম নট ইন্টারেস্টেড। ”
“ কি বলো এসব! কত বড় অপরচুনিটি এটা জানো তো। ”
“ এত অপরচুনিটি কামিয়ে কি হবে প্রফেসর? যাই হোক আমি আসার চেষ্টা করবো আপনি যখন এত করে বলছেন। ”
“ চেষ্টা না,আসতেই হবে তোমাকে। আমরা অপেক্ষায় আছি কিন্তু। আশাহত করো না। ”
এজওয়ান আর রিপ্লাই দিলো না। হাই তুলতে তুলতে ল্যাপটপ টা কোল থেকে নামালো। ক্ষুধা লেগেছে ভীষণ। ঘর থেকে বেরিয়ে নিচে আসলো। মেহরিন তখন রসুনের চোকলা ছুলছিলো। আদা রসুন বাটা শেষ হয়ে গেছে। আর তার এমন মেম সাহেব হয়ে বসে থাকতেও ভালো লাগে না। ঊর্মি টা মহাদেবপুর গেছে। আসবে সামনের সপ্তাহে। এজওয়ান মেহরিন কে সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“ ভাবি মাহি কোথায়? ”
“ হয়তো বাগানে। ”
এজওয়ান বাগানে আসলো। মাহি কথা বলছিলো ফোনে। এজওয়ান আসতেই কে’টে দিলো। এজওয়ান কাছে এসে বলল-
“ তরিকুলের বেটি ক্ষুধা লাগছে। ”
মাহি এদিক ওদিক তাকিয়ে বলল-
“ ভাতের প্লেট তো আমি এখানে নিয়ে আসি নি। ”
“ বেড়ে দাও। ”
“ কেউ নাই?”
“ ভাবি কাজ করছে। তুমি আমার বউ। অন্য কেউ আমাকে কেন বেড়ে দিবে?”
“ আমি রফিকের কথা বলছি। ”
“ রফিক বাজারে হয়তো। ”
মাহি ভেতরে আসলো। খাবারের প্লেট উঁচু করে দেখলো সব অল্প অল্প করে বেঁচে আছে খাবার। এজওয়ান তো আবার এসব খাবার খায় না। এজওয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল-
“ খাবার তো নেই। ”
“ না থাকলে রান্না করে আনো। ”
“ কি রাঁধবো? আমি ডিম,নুডলস, পাস্তা এসব ছাড়া আর কিছু পারি না। ”
মেহরিন সে কথা শুনে বলল-
“ আমি করছি রান্না। কি খাবেন ভাইয়া বলুন। ”
এজওয়ান বাঁধা দিয়ে বলল-
“ না ভাবি,আপনি কেনো রাঁধতে যাবেন? আপনি যথেষ্ট করেন,কিন্তু ও একটা কাজও করে না। আমি কিছু বলি না,আমার পরিবার কিছু বলে না দেখে কি ও ভুলে গেছে ও এই বাড়ির বউ? এত গুলো দিন হয়ে গেলো রান্নাটা শিখতে পারলো না। কেমন বেপরোয়া ব্যবহার! আমার আব্বা তো আর এমনি এমনি কথা শোনায় না মাহি কে। ”
মাহির গায়ে লাগলো কথা গুলো। এসব রান্নাবান্না পছন্দ না মাহির। কখনো করে নি। কেউ শেখায় নি। শেখার প্রয়োজন ও হয় নি। রান্না করার মতো সময় কোথায় ছিলো তার? সে তো এখানে ওখানে ঘুরে বেড়াতো। যার জন্য বাহিরের খাবার খেয়েই অভ্যস্ত। আর দেশে থাকলে মোহনা রেঁধে খাওয়াতো। মাহি জানতে চাইলো-
“ কি খাবেন বলুন। আমি রান্না করে আনছি। ”
এজওয়ানের পেট ফেটে হাসি বেড়িয়ে আসতে চাইলো। কিন্তু হাসলো না। হাসি চাপিয়ে বলল-
“ যেহেতু দুপুর এখন। তাহলে তুমি বরং বাঙালি খাবারের আয়োজন করো। মাছ, মাংস, ডাল ভাত। ”
মাহি ভেবেছিল এজওয়ান হয়তো সিম্পল কিছু খেতে চাইবে। কিন্তু এ তো অনেক আইটেম চাইলো খেতে। মাহি ফোনটা নিয়ে চলে গেলো রান্না ঘরে। ফ্রিজ খুলে ইলিশ মাছ আর মাংস ভেজালো। তারপর পেঁয়াজ মরিচ কাটতে লাগলো।
মেহরিন রান্না ঘরে যেতে চাইলে এজওয়ান বলল-
“ ভাবি যাইয়েন না। ওকে করতে দেন ওর মতো। ”
“ কষ্ট হবে তো আপুর। আপু পারে না রান্না বান্না। তেল ছিটে আসবে। হাত কে’টে ফেলবে। ”
“ আপনিও তো রাঁধেন। আপনার ও তো কাটে। আপনি সইতে পারলে মাহিরও পারা উচিত। ”
“ আপু তো এসবে অভ্যস্ত না। আমি অভ্যস্ত রান্না বান্না করে। ”
“ আন্টি শিখিয়েছে আপনায়? ”
“ হুমম। আপু আম্মু দু’জনই শিখিয়েছে। আম্মু অসুস্থ থাকলে আমি আপু মিলেমিশে রান্না করতাম সেদিন। ”
“ আপনার আব্বা মানুষ টা অনেক ভালো ভাবি। ফাটা কপাল তো আমার। না পাইলাম জীবনে জামাই আদর। না পাইলাম বউয়ের ভালো মুখ। না দেখলাম শাশুড়ি। এই মাইয়ারে বিয়ে করে জীবন তেজপাতা আমার। জীবনে ভালোবাসবে না এই মহিলা আমায়। ”
“ কিন্তু এক তরফা আপুকে দোষ দিয়ে কি হবে? দোষ তো আপনারও আছে ভাইয়া। আমি শুনেছি আপুর ভালোবাসা কে আপুর থেকে আলাদা করেছেন। জোর করে বিয়ে করেছেন। তার পক্ষে কিভাবে সম্ভব হবে আপনাকে ভালোবাসার? তার সাথে করা অন্যায়ের বিনিময়ে এই সাজাটুকু কি আপনার প্রাপ্য নয়?”
এজওয়ান বুঝে গেলো মেহরিন সব জেনে গেছে। ভাইজান বলেছে নিশ্চয়ই। এজওয়ান নড়েচড়ে বসলো। এতক্ষণ খোশমেজাজে কথা গুলো বললেও এবার সিরিয়াস হয়ে বলল-
“সব মানলাম ভাবি। দোষ করেছি সেজন্য দোষের সাজা পাচ্ছি। কিন্তু ভাবি ভালোও তো বাসলাম। তাহলে তার বিনিময়ে কেনো আমি ভালোবাসা টা পেলাম না? মাহি কেনো আমার ভালোবাসা টা দেখতে পেলো না? শুধু দেখতে পেলো আমার ভুল গুলো! শালার পৃথিবী তো এখানেও আমার সাথে গাদ্দারি করলো।”
“আপনার ভালোবাসার কাছে হয়তো এই অন্যায়ের ওজন টা বেশি। তাই পাচ্ছেন না। আর ভালোবাসা না পেলে জোর করলে পাবেন সেটা ভাবাও এক ধরনের বোকামি ।”
“আপনিও কি মাহি কে ছেড়ে দিতে বলছেন তাহলে সবার মতো? শালার সবাই বলে মাহি কে ছেড়ে দাও। ভুলে যাও। কিন্তু কেউ বলে না যাকে একেবারে আত্মায় জায়গা দিয়েছি। তাকে শরীর থেকে আলাদা করা কতটা যন্ত্রণার। যেখানে মানুষ আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার সাহস পায় না সেখানে আমি মাহির জন্য বাপ ভাই বন্ধু সমাজ সবার অপমান গিলে খাই। আমি মাহিকে ভালোবাসতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আর মাহি আমাকে অবহেলা করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। ”
“ভালোবাসা আমাদের অসহায় বানিয়ে ফেলে ভাইয়া। ভালোবাসার কাছে আমরা এক অসহায় পরাজিত সৈন্য মাত্র!”
“ লোকে বলে ভালোবাসা নাকি মানুষকে শান্তি দেয়। কিন্তু আমি এজওয়ান সুলতান বলছি ভালোবাসা একজন প্রানবন্ত মানুষ কে জীবন্ত লাশে পরিনত করে। ভালোবাসা সবার জন্য সুখ হয়ে আসে না। ”
“ হয়তো। আশা করছি সময়ের সাথে আপনাদের এই ঝামেলাটা খুব শীগ্রই মিটে যাবে। ”
“ এই ঝামেলা মেটার নয় ভাবি। কারন সময় সব সময় আমার বিপক্ষে অবস্থান করে। ”
মাহি পেয়াজ মরিচ কেটে নিয়েছে। তারপর ফোনে ইউটিউব অন করে নিলো। মাছ গুলো ধুয়ে তাতে হলুদ,মরিচের গুঁড়া, লবন দিয়ে মাখিয়ে নিলো। তারপর কড়াইটা চুলায় দিয়ে তাতে তেল দিলো। তেল গরম হতেই তাতে মাছ গুলো ছেড়ে দিলো। মাছ ভাজার সময় তেল ছিটে আসলো মাহির হাতে। মাহি ব্যথায় মৃদু শব্দ করলো যা রান্না ঘরের বাহিরে গেলো না। মাহি হাত চেপে ট্যাপ অন করে পানিতে ভিজিয়ে রাখে। জ্বলছে ভীষণ। তবে মাহি নিজেকে বোঝালো এই ব্যথা তেমন কোনো ব্যথাই না মাহি। এরচেয়েও গভীর ব্যথা তুমি সামলে নিয়েছো। মাহি ফের রান্না করায় মনোযোগ দিলো। ইউটিউব দেখে দেখেই সব কিছু রাঁধলো। তবে খাবার খেয়ে দেখেনি স্বাদ টা ঠিক আছে কি না। হয়তো জানা নেই যে চেক করতে হয়। রান্না শেষ হতেই ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটলো। এই প্রথম এভাবে বাঙালি রান্না করলো তাও এত আইটেম। খাবার গুলো এক এক করে মাহি টেবিলে আনলো। প্লেটে বেড়ে এজওয়ান কে দিলো। ভালোই তো ঘ্রাণ বেড়িয়েছে। মেহরিনের মনে পড়লো আদা রসুন বাটা তো নেই। তাহলে এই রান্না কি ভালো লাগবে খেতে? মেহরিনেরও মনে ছিলো না বলতে। রান্না ঘরে এসে দেখলো। পুরো রান্না ঘরের অবস্থা খুবই বাজে। ফ্লোরে মশলাপাতি পড়ে আছে। কপালে হাত মেহরিনের।
মাহি খাবারের প্লেট টা বাড়িয়ে দিলো। এজওয়ান হাত ধুয়ে ভাতে ডাল আর মাংস নিয়ে মাখিয়ে মুখে তুলতেই মুখ শক্ত হয়ে আসলো। চিবাতে পারছে না। এ কি রাঁধছে এই মেয়ে! ঝালে মুখ দিয়ে আগুন বের হবে। আর এত লবন খাবারে! আর স্বদ এমন বিস্বাদ! এজওয়ান বেসিনে চলে গেলো দৌড়ে। মুখের খাবার গুলো ফেলে দিয়ে কুলি করলো। সামান্য একটা রান্নাই তো ছিলো। তারও এই অবস্থা! মাহি এজওয়ান কে এভাবে দৌড়ে গিয়ে খাবার ফেলে দিতে দেখে বলল-
“ ভালো হয় নি খাবার? ”
এজওয়ান টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে বলল-
“ রান্না করার সময় চেক করে দেখেছিলে সব ঠিক আছে কি না? খাওয়ার উপযোগী কি না? ”
“ চেক করে তো দেখি নি। ভিডিও তে যা যা বলেছিল সেম সেম তাই করেছিলাম। ”
“ ভীষণ জঘন্য হইছে খাবার গুলো। মাত্রাতিরিক্ত ঝাল,লবন,আর স্বাদ টা জঘন্য। খাবারের যা অবস্থা রাস্তার কুত্তাও খাবে না। এমন জঘন্য খাবার এই প্রথম খেলাম। মেয়ে হয়ে রান্নার যদি এই হাল হয়, তাহলে তো মেয়েদের জন্য তুমি লজ্জার কারন হয়ে দাঁড়াবে। ”
এজওয়ান চলে গেলো সিঁড়ি বেয়ে। ক্ষুধা ম’রে গেছে। মাহি টেবিলে থাকা খাবার গুলোর দিকে তাকালো। হাত পুড়িয়ে আগুনের সামনে দাঁড়িয়ে এত কষ্ট করে এই প্রথম রান্না করলো,আর এজওয়ান এভাবে বললো! মন মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। নিজেও এগিয়ে এসে টেস্ট করলো। গা গুলিয়ে উঠলো। আসলেই টেস্ট টা জঘন্য। লোকটার দোষ দিয়েও তো লাভ নেই।
মেহরিন রান্নাঘর পরিষ্কার করে এসে দেখলো মাহি দাঁড়িয়ে আছে। দৃষ্টি টেবিলে থাকা খাবার গুলোর দিকে। মেহরিন জিজ্ঞেস করলো-
“ আপু আদা রসুন বাটা তো ছিলো না। ওটা ছাড়াই রাঁধলেন। খেতে পেরেছে ভাইয়া? ”
মাহি ঘাড় বেঁকিয়ে তাকালো। মাথা দু দিকে নাড়িয়ে জানালো খায় নি।
“ খুব জঘন্য রান্না করেছি আমি মেহরিন। মুখে দেওয়ার মতো না। ”
“ আচ্ছা সমস্যা নেই আপু। প্রথমবার তো তাই এমন হয়েছে। আমিও প্রথম প্রথম এমন ভুল করতাম। ”
“ আমার সব পরিশ্রম বিফলে গেলো। আমাকে শেখাবে রান্না? উনি আমাকে অনেক কথা শোনালো। উনি নুডলস খেতে চাইলেও পারতেন। এটা ভালোই পারি রাঁধতে। ”
“ আচ্ছা শেখাবো। ”
“ উনাকে তাহলে এখন কি খেতে দেওয়া যায়? খাবার অর্ডার করি বরং। ”
“ আমি ঝটপট কিছু একটা বানিয়ে দিচ্ছি। ”
মেহরিন রান্না ঘরে আসলো। ঝটপট করে আদা রসুন ব্লেন্ড করে ফের রান্না বসালো। মেহরিন রান্না করার সময় মাহিকে সব বলে বলে দিলো,কখন কতটুকু কি দিতে হয়। মাহি সব কথা মাথায় ঢুকিয়ে নিলো। রান্না শেষ হলে মাহি খাবারে প্লেট সাজিয়ে রুমের দিকে যেতে নিলে মেহরিন পেছন থেকে ডেকে বলল-
“ আপনার থেকে ভাইয়া বেশি কিছু এক্সপেকটেশন রাখে না। জাস্ট চায় আপনি তাকে বুঝুন,আর পাঁচ টা বউদের মতো তার সাথে ব্যবহার করুন। চাচার কাছে রোজ বকা খায়। চাচা তাকে বকলে সে চুপচাপ শুনে যায়। কিন্তু চাচা আপনাকে নিয়ে কিছু বললে ভাইয়া আগুন হয়ে যায়। সে কিন্তু সত্যি আপনাকে ভালোবাসে। ভালো না বাসলে আপনার এত তুচ্ছতাচ্ছিল্যের পরও সেই আপনাকেই সাপোর্ট করতো না। সময় থাকতে মূল্য দিন। হারিয়ে গেলে আফসোস না করতে হয় আবার। ”
মেহরিন চলে গেলো। মাহি খাবারের প্লেট নিয়ে রুমে আসলো। এজওয়ান বিছানায় উপর হয়ে শুয়ে ছিলো। মাহি টি-টেবিলে খাবারের প্লেট টা রেখে এজওয়ান কে বলল-
“ উঠুন,খেয়ে নিন। ”
এজওয়ান ডাক শুনে মাহির দিকে ঘুরলো।
“ কিসের খাবার এটা?”
“ আপনার জন্য ফের রান্না করা হয়েছে। উঠুন। ”
এজওয়ান উঠে বসলো।
“ কে তুমি? ”
“ না, মেহরিন। আমি শুধু সাহায্য করেছি। ”
এজওয়ান তপ্ত শ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়ালো। এগিয়ে এসে বলল-
“ ক্ষুধা নেই। খাবার রেখে এসো। ”
“ ক্ষুধা নেই কেনো? কষ্ট করে রান্না করা হইছে। ”
“ রেখে আসতে বলছি রেখে আসো। এত প্যাঁচাল তো আমি শুনতে চাই নি। ”
মাহি রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে খাবার রেখে আসলো রুমে। মাহি রুমে আসার সাথে সাথে এজওয়ান টেনে সোফায় বসিয়ে ফাস্টএইড বক্স থেকে পোড়ার ক্রিম বের করে লাগিয়ে দিতে দিতে বলল-
“ সামান্য রান্না করতে গিয়েই হাতের ১৪ টা বাজিয়ে ফেলছো। এভাবে হয়? দেখো তো ফর্সা হাত টায় কেমন দাগ বসে গেছে। ”
মাহি মুখ বাঁকালো।
“ আপনার জন্য রান্না করতে গিয়েই তো হলো এই অবস্থা। ”
“ আমার দোষ তাহলে? ”
“ হু। ”
“ ওকে ম্যাডাম,ভুল হয়ে গেছে। আর চাইবো না আপনার হাতে রান্না খেতে। ”
“ আমি মেহরিনের থেকে শিখবো রান্না করা। ”
“ হাত পুড়িয়ে তার দোষ আমার উপর দিতে? ”
“ হু। ”
“ থাক বাবা দরকার নেই। এমনিতেই কম দোষী না আমি। যাই হোক তোমায় যা বলতে চাচ্ছিলাম। ”
“ কি? ”
“ আমাকে অস্ট্রেলিয়া যেতে হবে নেক্সট উইক। তোমাকেও যেতে হবে সাথে। ”
মাহি চমকালো।
“ আ…আমি?”
“ হু। ”
“ কিজন্য যাবেন? কোনো দরকার? ”
“ আমি তো অস্ট্রেলিয়ার ই ছেলে। আমার সব কিছু তো ওখানেই। দু বছর হতে চললো সেখানে আমি নেই। ফেরা উচিত তো এবার। ”
দাহশয্যা পর্ব ৮৫ (২)
“ তাহলে কি আমাকেও ওখানে থাকতে হবে? ”
“ হু,হিসেব তো তাই বলে। ”
“ আমার পড়াশোনার কি হবে? আগে বলা উচিত ছিলো না? ”
“ আমি আজই নিয়েছি সিদ্ধান্ত। আর্জেন্ট যেতে হবে আমাকে। তোমার পড়াশোনার বিষয়টা আমি সামলে নিব। ”
মাহি হা না কিছু বললো না। এজওয়ান চলে গেলো।
