ধূসর রংধনু ৩ পর্ব ৪২
মাহিরা ইসলাম মাহী
জাওয়াদ অদ্ভুত চোখে চাইলো অদিতির পানে।
তার ঠোঁটে, মুখে আকাঙ্ক্ষিত হাসি।
জাওরা ব্যাটার রহস্যজনক হাসিতে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে অদিতি চোখ পিটপিট করে চাইলো।
এক হাতে নাওমী’র নরম কোমল হাত অপর হাতে রহিমা খালার শক্তপোক্ত হাত খানা শক্ত করে চেপে ধরলো।
রহিমা খালা ফিসফিস করে বলল,
“ কি করতাছেন আপামনি।মোর জামাই রাইখা এমন মেয়ে-ছেলের হাত টাইট করিয়া ধরিলে তো মোর পাপ হইবো।খোদা ক্ষ্যামা করবো না তো। ছাইড়া দেন গো আপামনি,আপনি আমারে ছাইড়া দেন।”
তাসফি বলতে আরম্ভ করলো,
“ ডাঃ তৃপ্তি আমি আপনাকে সবটা ডিটেইলসে বলছি।
আসলে আমাদের ছোট একটা প্লানের অংশ ছিলো আজকের দিনটি। সব কিছু আগে থেকেই প্লান করা ছিলো।
ওই যে মেঝেতে পাশাপাশি বসে আছে দুটো পান্ডা আর সান্ডা।
একটা আমার আর একটা সুজন ভাইয়ার।
দু’জনকে বিয়ে জন্য প্রথমে চাপ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তখন তারা রাজি হয়নি।
কিন্তু পরবর্তী তে জাওয়াদের সঙ্গে প্লান করে আমরা লাগামছাড়া ছেলে-মেয়ে দুটোর লাগাম টানার চেষ্টা করেছি মাত্র।
প্লান সফল হয়েছে ওও বটে।দুজনে মাথা নত করেছেও।
কিন্তু দুজনের সম্পর্কের ভীত মজবুত করার সঙ্গে সঙ্গে তাদের সারপ্রাইজ এবং খানিকটা চমকে দেওয়ার তাগিদেই আজকের এই আয়োজন।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
মূলত আজ প্লান করে জাওয়াদ অদিতি কে দেখতে এসেছে।আজকের আয়োজনের মূখ্য পাত্র এবং পাত্রী হচ্ছে আমাদের অদিতি এবং জাওয়াদ বেটা।
এই যে অদিতির গায়ের শাড়ীটা দেখতে পাচ্ছেন সেটাও কিন্তু আপনার হবু জামাইয়ের’ই দেওয়া।”
তাসফির থেকে এত কিছু শোনার পরেও তৃপ্তি’র মাঝে কোনো ভাবগতি লক্ষ করা গেল না।সে একদৃষ্টিতে চেয়ে নিজ মেয়ের পানে।
সব কিছুর থেকে তার জীবনে এই মুহুর্তে অধিক গুরুত্বপূর্ণ তার অতিথি পাখি।তার গুপ্তধন।
সবচেয়ে বেশি চমকে উঠলো সাদাফ নিজে।
বেচারা মাত্র জাওয়াদের জন্য ফাঁকা করে দেওয়া চেয়ারটায় বসার তাগিদে পা বাড়িয়ে ছিল।
পারলো না। নিজ পায়ে কারো হ্যাচকা টানে সে হোঁচট খেয়ে আঁচড়ে পরলো ফ্লোরে।
মাজা ভাঙার উপক্রম তার।
দাঁতে দাঁত চেপে ব্যথা টুকু চোখমুখ বুঁজে গিলে নিলো।
নিস্তব্ধতার দিকে চাইতেই সে দাঁত কেলিয়ে হাসলো।
মাহরিসা ড্যাবড্যাব চোখে চেয়ে তার চারপাশে হওয়া আশ্চর্যজনক কর্মকান্ড গুলো পর্যবেক্ষণ করতে ব্যস্ত।সে তো ভেবেছিলো তাদের বিয়ে খানাই বুঝি হাজার নাটক করে হলো কিন্তু না, তার জানায় বিরাট ভুল ছিলো।বিরাট পানে এক সমুদ্র জলরাশি সমান।
এখানে তো ডাবলের পর ডাবল নাটক চলছে।
তাসফির একের পর এক বাক্যগুলো অদিতি’র শ্রবণগোচর হতেই আগুন চোখে চাইলো নাওমীর পানে। নাওমীর মুখখানা মুহুর্তেই চুপসে গেল।কি মুশকিল। এভাবে কেউ তাকায়।তার ছোট্ট হার্ট টা অ্যাটাক ফ্যাটাক করে বসবে তো নাকি।
“ এখন আপনি যদি চান জাওয়াদ আর অদিতির বিয়েটা..”
তাসফি পুরো কথা শেষ করতে পারলো না।
অদিতি বাঁধা দিলো নিজ কথা’র দ্বারা।
“ কিন্তু আন্টি আমি যে প্রফেসর জাওয়াদ কে বিয়ে করতে রাজি নই। অন্তত আমি কারো খেলার গুটি হতে চাইনা। এর থেকে আজীবন কুমারী থাকা অন্তত বেটার অপশন।”
জাওয়াদের বিড়াল চোখা চোখ দুটো তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে শুধুমাত্র তার অতিথি পাখির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে ব্যস্ত।
নাওমী এবং রহিমা খালার হাত ছেড়ে অদিতি রুমে গিয়ে ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দিলো।
অদিতি রুমে গিয়ে দরজা লাগালেও তৃপ্তি কে নির্লিপ্ত দেখালো।
সে বিষন্ন কন্ঠে বলল,
“ কিন্তু তাসফি সব যেহেতু তোমাদের প্লান করাই ছিলো তবে আমার মেয়েটাকে এভাবে শাস্তি দিয়ে দিনভর না কাঁদালেও পারতে।ওও ছোট একটা পাখি।আমার মতো তো সবজান্তা হয়নি ওও এখনো। কখনো হবেও না।আমি যা শিক্ষা পেয়েছি সেই শিক্ষা ওকে দেবই না কখনো। ওও বড় হয়েছে ওওর বাবার আদর্শে।আমার গতিবিধি লক্ষ করে নয়। “
“ দেখুন ডাঃ তৃপ্তি… “
জাওয়াদ তাসফিকে থামিয়ে দিয়ে নিজ উদ্যোগে এগিয়ে এলো।
হাটু গেড়ে বসলো তৃপ্তি’র সামনে।
সেই বোধহয় প্রথম যে কিনা পাত্রীর বদলে পাত্রীর মাকে বিয়ের প্রপোজাল দিচ্ছে অনায়াসে।
“ আপনার ছোট পাখিটা কে আমার হাতে তুলে দেবেন আম্মাজান? বিশ্বাস করুণ তাকে অতিথি পাখি’র ন্যায় মুক্ত করে দেব না ছুঁটে পালাতে দূর অজানায়, বরং আজীবনের জন্য তাকে আমার শিয়রে বেঁধে রাখবো।
তৃপ্তি অবাক চোখে চেয়ে সুদর্শন পুরুষটার মুখশ্রী পানে।
“ বুঝলাম কিন্তু জাওয়াদ তোমার কারণে যে আমার মেয়ে কষ্ট পেল তার সেই কষ্ট লাঘব করতে পারবে?”
জাওয়াদ মুচকি হাসলো।দৃঢ় স্বরে বলল,
“ পারবো পারবো আম্মাজান।আমাকে যে পারতেই হবে।আপনারর মেয়ের মুখে হারানো আমি তৃপ্তি এনে দেব।
আপনি জীবনে যা পাননি আমি তা ঠিক দেওয়ার চেষ্টা করবো আমার লিটল বার্ড কে।আপনার ন্যায় আপনার মেয়ে কোনো ভুল মানুষকে জীবন সঙ্গী হিসাবে চায়নি।
আমার মনে হয় আমার অতিথি পাখি শুধু আমার জন্যই এসেছে এতখানি পথ পাড়ি দিয়ে।কি তাইনা বলুন আম্মাজান?”
তৃপ্তি হাসলো।একজন যুবকের সৎ সাহস দেখে সে তৃপ্তির হাসি হাসলো।
অবশেষে তার মেয়েরও বুঝি শেষমেশ একটা গতি হলো। অন্তত তার মতো তার মেয়ের ভাগ্য লিখেনি খোদা।এতেই সে উপর ওয়ালা কে জানায় হাজার হাজার শুকরিয়া।
“ কিন্তু আমারও যে একটা শর্ত আছে জাওয়াদ।
অদিতি নিজে থেকে বিয়ে করতে রাজি না হলে আমার এখানে করার কিছু নেই।ওর মতের বিপরীতে আমার পক্ষে কিচ্ছুটি করা সম্ভব নয়।”
জাওয়াদ চট করে উঠে দাঁড়ালো।
“ দশটা মিনিট দিন আমায় আম্মাজান। আমি কি আমার হবু বউয়ের রুমে যাওয়ার অনুমতি পেতে পারি? “
তৃপ্তি মাথা নাড়লো।
জাওয়াদ নাওমীকে কিছু ইশারা করলো।
নীবিড় নিঃশব্দে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে লক্ষ করছে নাউডুবা চশমিশের কর্মকান্ড।দিন দিন বড্ড বার বাড়ছে মেয়েটা।
নাওমী ইশারা মোতাবেক অদিতির রুমের দরজায় নক করলো,
“ অদিতি দরজা খোল প্লিজ। “
নাওমীর সঙ্গে রহিমা খালা নিজেও সুর মেলালেন,
“ আপামনি দরজা খুলেন।আপনার বন্ধু বাহিরে অপেক্ষা করতাছে।সক্কলে আপনার জন্য অপেক্ষা করতাছে।মেহমান এভাবে ঘরের মধ্যিখানে বসায়া রাখতে হয় না আপামনি।”
“খালা ওকে বলে দিন আমি আর ওর সাথে কথা বলতে চাইনা। সবটা জেনেও দিনেরপর দিন নাটক করেছে ওও আমার সঙ্গে। “
অদিতি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।
“ আপামনি কাইন্দেন না।কাইন্দেন না আপামনি। কারো কান্দন দেখলে মোর চোখেও পানি জমে।হের পর সর্দি লাগে।আপনের বন্ধুকে পাঠাই দিতাছি হেগের বাড়িতে আপনি দয়া কইরা কাইন্দেন না আপামনি।আমার সবুরের বাপের কসম আপনারে।”
“ কিন্তু এর আগে আপনি না রহিমের বাপ বলে ছিলেন খালা।”
রহিমা খালা থতমত খেয়ে জিভে কাপড় দিলো।
“ কি যে কন না আপামনি ওডা তো মোর আগের পক্ষের সন্তান আছিল।আপনি বাহিরে আহেন
দয়া কইরা আপামনি।”
নাওমী বিস্মিত কন্ঠে বলল,
“ আপনি দুটো বিয়ে করেছেন?”
রহিমা খালা লজ্জা পাওয়ার ভাণ করলো।
“ আচ্ছা অদিতি আমি চলে যাচ্ছি তোর রুমে আমার ব্যাগটা আছে একটু দিবি?”
কাশফি নিজেও বসা থেকে উঠে এলো।নিজ বান্ধবী যে এত কিছু ফেস করছে আর সে জানতোই না।ছিহ,ছিহ ছিহ।
ভীষণ লজ্জা লাগছে তার নিজেকে অদিতি’র বন্ধু বলে পরিচয় দিতে।
“নাওমী আমি কি তোর সঙ্গে একটু কথা বলতে পারি? প্লিজ একবার দোস্ত। “
“শুধুমাত্র একটা কথাই বলতে পারবি।প্রমিস?”
কাশফির কন্ঠস্বর পেয়ে অদিতি দরজা খুললো সতর্ক বাণী পেশ করে।
দরজা খুলতে দেরী নাওমীর অদিতির ওপর ঝাঁপিয়ে পরতে দেরী নেই।মেয়েটাকে শক্ত করে জরিয়ে ধরলো নাওমী।
কাশফি পাশে দাঁড়িয়ে পিটপিট করে চেয়ে।
অদিতি এবারে ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো।
“ আমায় ভুল বুঝিস না আমার মিষ্টি অতিথি পাখি। দেখ আমি নিজেও তোকে সারপ্রাইজ দিতে সবটা গোপন করেছিলাম।”
অদিতি নাক টানে।
“ তোদের এমন সারপ্রাইজ তো আমি চাইনি।আমার দরকার ওও ছিল না।তবে কেন বল?”
নাওমী গম্ভীর স্বরে বলল,
“ কিছু কিছু কেন’র উত্তর হয় না অদিতি। বরং থাকলেও দিতে নেই।”
দুজনের কথার মাঝেই জাওয়াদের প্রবেশ ঘটলো রুমে।
অদিতি মুখে কুলুপ আটলো।
“ তোমরা দু’জন কি একটু বের হবে? তোমাদের বান্ধবী’র সঙ্গে একটু কথা বলতাম।”
নাওমী দুষ্টু হেসে বলল,
“ দুলাভাই আমার বন্ধবীকে একটু কম টর্চার করিয়েন দেখছেন না বাসরের আগেই কেমন শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে।”
জাওয়াদ দুষ্টু হেসে বলল,
“ তাই নাকি সালী সাহেবা।বর খুঁজবো? “
অদিতি চোখ বড় বড় করে চেয়ে দুজনের অসভ্য কথা শ্রবণ করে। তাছাড়া আর কি উপায়।তার কান গরম হবার জোগাড়।
নাওমী বেরিয়ে যেতে নিতেই অদিতি তার হাত শক্ত করে চেপে ধরলো।
নাওমী ফিসফিস করে বলল,
“ কি ব্যাপার বলতো অদিতি আমায় ঘরে ঢুকতে দিচ্ছিলি না এখন বাহিরে যেতে দিবি না। দিস ইজ নট ফেয়ার জান।”
অদিতি জবাব দিলো না।
নাওমী কোনো রকমে অদিতির হাত ছাঁড়িয়ে কাশফিকে নিয়ে বেরিয়ে গেল।
কাশফি ফিসফিস করে বলল,
“ সেদিন প্রফেসর তোর থেকে নম্বর নিয়েছিলো এই কাহিনী করতে তুই জানতিস সবটা?”
নাওমী হেসে বলল,
“ কিছু মিছু।বান্ধবী’র দুঃখ কমাতে চেয়েছিলাম বরং তা বাড়লো।ব্যাপার না। বিয়ের পর স্বামীর আদর সোহাগ পেলে সব ঠিক হয়ে যাবে।”
কাশফি বিরবির করে,
“ অসভ্য মেয়ে মানুষ।”
সাদাফ এবং নিস্তব্ধতা দু’জন দুজনের দিকে অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে। মুহুর্তটার জন্য তারা দু’জনের কেউই প্রস্তুত ছিলো না।আর না তো ছিলো বাবা-মায়ের এমন নিষ্ঠুর প্লান সম্পর্কে অবগত।
সাদাফ নিজ হাতে চিমটি কাটলো।
তার এখনো কিছু বিশ্বাস হচ্ছে না।
তার পাহাড়ে যাওয়ার প্লান তবে ক্যানসেল? তবে যে ওতগুলো টাকা দিয়ে টিকিট গুলো কিনলো তার কি হবে।বেচারা টাকা গুলো তো তার শোকে মূর্ছা যাবে।
সাদাফ ফিসফিস করে বলল,
“ আমায় একটা চিমটি কাট না রে নীরু আমার কিচ্ছুটি বিশ্বাস হচ্ছে না।”
নিস্তব্ধতা দাঁতে দাঁত চেপে চিমটি নয় বরং তার মাথা থেকে হিজাব পিনটা খুলে সাদাফের হাতে ঢুকিয়ে দিলো।
সাদাফ আর্ত চিৎকার করে উঠলো,
“ আআআআআ।”
শুধু হাতে নয় নিস্তব্ধতা’র ইচ্ছে হচ্ছে এটা এখন সে অসভ্য বদমাশ বাঁদরটার গলায় ঢুকিয়ে দিয়ে আজীবনের জন্য কন্ঠনালী রোধ করে দিতে।
কত্তবড় ফাজিলের ফাজিল, বেত্তুমিজ বলে কিনা তার এখনো কিছু বিশ্বাস হচ্ছে না। এখন না হলে আর কবে হবে রে?
মঙ্গল গ্রহে ভ্রমণ করলে।
মঙ্গলগ্রহে নয় তোকে শনিতে পাঠাবো রে সজনেডাঁটা’র বাচ্চা।
নিস্তব্ধতা দাঁত কেলিয়ে হেসে বলল,
“ এবারে বিশ্বাস হয়েছে তোর।না হলে আরেকটু করাই বিশ্বাস? কি বলিস করাই?”
সাদাফ ঝট করে এক হাত সরে বসলো নীরুর থেকে। আপনি বাঁচলে বাপের নাম।
আশা চোখ গরম করে সাদাফের পানে চাইলো।মায়ের চোখের ভাষা সাদাফ যেন স্পষ্ট বুঝতে সক্ষম হলো,
“ কিরে পান্ডা চিৎকার করছিস কেন।চুপচাপ বসে থাক।দেখতে দে এরপর কি হয়।”
হচ্ছে এখানে কোনো রোমান্টিক সিনেমা চলছে আর তার মা সেটা সাচ্ছন্দ্যে সেটা উপভোগ করছে।
কি মুশকিল। চারিদিকে এত মুশকিল কেন? কেন?
জাওয়াদ দরজা ভিড়িয়ে দিলো।সিটকিনি তুলে দিলো না সকলের সামনে। সেটা করলে খারাপ দেখায়।
অদিতি ড্রেসিং টেবিলের সামনে গাট হয়ে দাঁড়িয়ে।
জাওয়াদ এগিয়ে গেল।
নাতো অদিতির কোমর কে আঁকড়ে ধরলো আর না তো কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ করলো।
বরং পুরুষটি আদুরে দৃষ্টি ছুঁড়ে দিলো প্রিয়তমার দিকে।
জাওয়াদ নিজ কানে হাত দিয়ে বসে পড়লো হাটু মুড়ে।
অদিতি বিস্মিত দৃষ্টি চেয়ে।
“ সরি, আ’ম সো সরি মাই লিটল বার্ড।এক্সট্রিমলি সরি মাই লাভ। প্লিজ এক্সেপ্ট মি মাই লাভ।”
অদিতি কয়েক মুহুর্ত পলক না ফেলে চেয়ে রইলো পুরো ভার্সিটিতে ছাত্র-ছাত্রীর উপরে দাপুটে ভঙ্গিতে রাজ করে বেড়ানো সুদর্শন খেতাব প্রাপ্ত প্রফেসর জাওয়াদের বাচ্চা সুলভ করুণ মুখশ্রীর পানে।
কে বলবে তার সামনে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই মানুষটাই ভীষণ রাগী,ভীষণ কড়া ধাঁচের লোক।
কই সে তো এখন সেই সেই রাগ, টাগ কিচ্ছু দেখতে পাচ্ছে না।কিচ্ছুটি না।
অদিতি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।
জাওয়াদ করুণ চোখে চাইলো।
“ উঠবস করি?”
অদিতি মাথা নাড়লো।
হাঁটু মুড়ে বসে পরলো প্রিয় পুরুষটির ন্যায়।
জাওয়াদ মুচকি হেসে কান ছেড়ে তার অতিথি পাখির শিয়রে এগিয়ে গেল।
রমণীর নরম কোমল হাত দুটো শক্ত করে চেপে ধরলো।
অদিতি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে।
“ কেন করলেন এমনটা।আপনাকে বিয়ে করবো না আমি।”
“ তুমি তো কখনো আমায় নিজ অনুভূতি জানাও নি। যদি আজকের ঘটনা টি না ঘটতো। তোমার জন্য আমার মনে কোনো অনুভুতি জাগ্রত না হতো তবে যা লোকমুখে শুনেছিলে সেটা ঘটতেও পারতো।তখন কি করতে লিটল বার্ড?”
অদিতি জবাব দেয় না।
“ নিজ অনুভূতি আমায় জানানো উচিত ছিলো কি না বলো?”
“ সম্ভব ছিলো কি? অনেক সিনিয়র আপনি আমার।আ..র তার ওপর প্রফেসর।আমি তো চুনোপুঁটি সেথায়।”
“ তাই নাকি চুনোপুঁটি? “
অদিতি মাথা নাড়ায়।
জাওয়াদ ফিসফিস করে বলল,
“ একটু ছুঁয়ে দেই লিটল বার্ড?”
অদিতি কেঁপে উঠে।
জাওয়াদ তার হাত মুঠো করে শক্ত করে ধরে তার হুঁশ আসে।
ছুটানোর তাগিদে মোচড়ামুচড়ি করে।
“ লাভ নেই।আমি না চাইলে এ বাঁধন ছুটবে না যে লিটল বার্ড।”
“ আপনি নিজেও নিজ অনুভূতি আমায় জানান নি।”
“ এই যে জানানোর তাগিদেই যে এখানে আসা।”
জাওয়াদ পুনরায় ফিসফিস করে বলল,
“ একটুখানি ছুঁই? একটু?”
ধূসর রংধনু ৩ পর্ব ৪১
নিস্তব্ধ এবারে সাদাফ এবং নিস্তব্ধতা’র দিকে নিজ শেষ বাক্য ছুঁড়ে দিলো।
“তোমরা বিয়ে করবে কি করবে না সেটা একান্তই তোমাদের ব্যাপার।তোমাদের চমক দেওয়ার দরকার ছিলো দিয়েছি।
এখন তোমরা আলাদা করে কথা বলে আমাদের সিদ্ধান্ত জানাতে পারো। দেখ জীবনটা তোমাদের।তাই তোমরা সেটাকে কিভাবে লিড করবে সেটা একান্তই তোমাদের ব্যাপার।আমরা শুধুমাত্র পথপ্রদর্শক হতে পারি এর বেশি কিছু নয়।তোমাদের উপর কোনোকিছু চাপিয়ে দিয়ে আমাদের লাভ কি বলো?যাও কথা বলে এসো।”
নিস্তব্ধ কথা শেষ করে উঠে দাঁড়ালো।
ইদানীং তার আর সুজনের সিগারেটের বড্ড নেশা হয়েছে।বাড়িতে তাসফি কিংবা আশা জানেনা এসবের কিছু।জানলে আর রক্ষে নেই।
