নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১৪
সুরাইয়া জিয়াসমিন
_”না পছন্দ হচ্ছে না।”
আরহাম নুবার মুখের দিকে একবার ফিরে তাকিয়ে অবাক হলো কারণ নুবার মুখে যেনো কালো বাদলের ধারা নেমে এসেছে। কেমন মুখটা চুপসে আছে দেখেই মনে হবে তাকে জোর করে এখানে বসিয়ে রাখা হয়েছে।
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ল্যাপটপটা বন্ধ করে দিলো,পরপর নুবাকে টেনে নিয়ে কোলে বসালো।নুবা ফিরে তাকালো আরহামের দিকে। আরহাম চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে মৃদু কন্ঠে বলে উঠলো
_”সেই কখন ধরে একটার পর একটা লেহেঙ্গা দেখেই যাচ্ছেন,তবে আপনার একটাও পছন্দ হচ্ছে না।” কারণটা জানতে পারি?”
নুবা টিপটিপ করে আরহামের দিকে তাকালো।সে লেহেঙ্গা না দেখে বারবার price এর দিকে নজর দিচ্ছে।কম হলেই এক একটা লেহেঙ্গার দাম প্রায় ২ থেকে আড়াই লাক্ষ।এটা দেখেই নুবার পছন্দ হচ্ছে না।তার মাতে এতো টাকা দিয়ে বিয়ের জন্য লেহেঙ্গা না কিনে পুরো জীবনের, এমন কি কাফনের কাপড়ো কেনা যাবে।নুবা মোটেও এতো দামি জিনিস পড়তে চায় না।
নুবাকে চুপ করে থাকতে দেখে আরহাম তার গালে হাত বুলিয়ে আদুরে গলায় বললো
_”আমার মাথা মোটাটার আবার কি কি হলো?”
নুবা অন্যমনস্ক হয়ে ছিলো তবে আরহামের কথায় তার ধ্যান ফিরলো,পরপর সে যখন বুঝলো আরহাম তাকে মাথা মোটা বলেছে তখনি তার মেজাজ খারাপ হলো।দুই হাতের তালু দিয়ে আরহামের গাল চেপে ধরে বললো
_”কি বললেন?”
_”nothing.”
_”আপনি আমাকে মাথা মোটা বলেছেন,আমি কিন্তু বয়রা না।সবি শুনেছি।”
আরহাম মিটমিট করে হেসে বললো
_”হ্যাঁ বলেছি,তা এখন তুমি কি করবে,হুম?”
নুবা কিছু সময় আরামের দিকে তাকিয়ে থেকে তার সরু নাকে চুমু খেয়ে সুধালো
_”কি আর করবো,এখন তো স্বামীর গায়ে হাত তুলতে পারি না তাই না।”
_”হ্যাঁ,মারতে দ্বিধাবোধ হয় তবে বুকে পা তুলে দিতে হয় না।তাই না?”
নুবা কিছুটা মুখ কালো করে বললো
_”১০০ বার দিবো,আপনি কি করবেন?আয়রার বাপের সাধ্য নেই কিছু করার হুম।”
বলেই বুকে দুই হাত গুজলো নুবা। আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হেঁসে নুবার চুল গুলো কানের পিছনে গুঁজে দিয়ে হাসলো।নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে কিছু একটা ভেবে বললো
_”আমি ভেবেছি,বিয়েতে আয়রা আর আমি মেচিং মেচিং পড়বো।গায়ে হলুদের,বা মেহেদী হোক সব কিছুতেই মা মেয়ে সেমসেম থাকবো। আপনার কি মতামত।”
_”ওকে, আপনার জন্য যা আনা হবে তা আয়রার জন্যও আনা হবে। ঠিক আছে?”
_”হ্যাঁ,তবে comfortable টা আনবেন,যাতে মেয়ে পড়ে স্বস্তি পায়।এই গড়মে যাতে ওতো গড়ম না লাগে।”
_”ওকে মেরি জান!”
নুব ভাবলো মার্কেটে গেলে হয়তো কম দামে সব পাওয়া যাবে তাই বললো
_”তবে আমরা মার্কেটে যাবো। আমার মনে হচ্ছে সবাই মিলে বাজারে গেলেই বেশি আনন্দ হবে।তাই না।”
_”হ্যা হ্যাঁ,তা তো হবেই। আপনার শরীরে আছে বলে কথা।শরীরের ঘাম ঝড়িয়ে সারাদিন মার্কেট ঘুরবেন।ঘড়ে বসে কি আর শান্তিতে কিছু পছন্দ হবে?”
_”আপনি বুঝবন না,ঘুরে ঘুরে মার্কেট করাও অনেক মজা।”
আরহাম একটু হাসলো পরপর মৃদু কন্ঠে বললো
_”হ্যাঁ,তবে ৩/৪ দিন ঘুরলে দেখবেন এনার্জি শেষ হয়ে গেছে।”
_”আরে দেখা যাবে,আর আমার চেষ্টা করবো ১/২ দিনেই সব সেরে ফেলার।আর আপনি তো আমার সাথে থাকবেনি।আমি আর মেয়ে আপনার কোলে চড়ে চড়ে মার্কেট করবো।”
নুবার কথায় আরহাম শব্দ করে হেসে উঠলো।নুবার আরহামের হাসি দেখে মুগ্ধ হলো।চেয়ে রইলো আরহামের দিকে। এদিকে নুবাকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে আরহাম কিছুটা থেমে,ভুরু নাচিয়ে জিগ্গেস করলো”কি হয়েছে?”
নুবা উত্তর দিলো না তবে এগিয়ে যেয়ে টুপ করে আরহামের ঠোঁটে চুমু খেলো। আরহাম নুবার কান্ডে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে হেসে তার গলায় মুখ গুজে ঠোঁটের স্পর্শ এঁকে দিলো।
তাদের এরকম একটা মূহুর্তে ভিতরে আয়রা টুস করে একটা খেলান তাদের দিকে ছুরে মারলো।যা যেয়ে আরহামের গায়ে লাগলো। হঠাৎ গায়ে এসে কিছু পড়তেই আরহাম নুবাকে সরিয়ে আশে পাশে তাকালো পরপর দেখতে পেলো আয়রা তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
মেয়েকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে আর আরহাম মুচকি হাসলো। এদিকে আরহামকে হাসতে দেখে আয়রা green সিগনাল পেয়ে গেলো।খিলখিল করে হেসে আরহামের কাছে হামাগুড়ি দিয়ে চলে আসলো।
এসেই বাবার হাঁটু ধরে উপরে উঠার চেষ্টা করলো। আরহাম নুবাকে সরিয়ে আয়রাকে কোলে তুলে নিলো।নুবা সোফার এক পাশে যেয়ে বসলো। আরহাম মেয়েকে কোলে তুলে শ খানিক চুমু খেলো।
নুবা এক পলক আয়রার দিকে তাকিয়ে মিটমিট করে হাসতে হাসতে বিরবির করে বললো
_”শুধু আমাকেই আদর করবেন? তাই দৌড় দিয়ে উনিও চলে এসেছে বাবার আদর খেতে।”
আরহাম নুবার কথায় হেসে বললো
_”আমি বুঝলাম না,আয়রা তোমার কার্বন কপি কি করে হলো। একদম তোমার মতো হিংসুটে। তুমি আমার কাছে আসলেও দোষ, আমি তোমার কাছে গেলেও দোষ।ওর মাঝখানে আসতেই হবে।
নুবা মুখ কিছুটা বাঁকিয়ে বললো
_”আমি হিংসুটে?”
_”সেটা তো আমার থেকে তুমিই ভালো জানো। তাই না আম্মু।”
বলেই মেয়ের দিকে তাকিয়ে চুমু খেলো।নুবা মুখ কালো করে বললো
_”আমি একদমি হিংসুটে না তবে আপনার আর আয়রার ব্যপার আলাদা হুম!”
আরহাম নুবার কথায় হু হা করে হেসে উঠে সুধালো
_”সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে,জানো তো বউ?তবে সঙ্গ দোষে এতোটাই লোহা ভেসেছে যে এখন মাম্মাকে চুমু খেলে,একটা তাকেও দিতে হবে।”
নুবা ফিসফিস করে নিজে নিজে সুধালো
_”আমি মোটেও হিংসুটে না।”
কেটেছে কয় একটা দিন।বদলেছে অনেক কিছু। হয়তোবা কেউ তলিয়ে গেছে গভীর অন্ধকারে আবার কেউ নতুন আলো খুঁজে পেয়েছে।কেউ আবার অনুনয় করে সুখ চাইতে ব্যস্ত।সবার জীবনের রাস্তা ভিন্ন।কারো সাথে কারো মিল নেই। কারণ সবার ব্যক্তিত্ব আলাদা।সবার ভালোবাসা প্রকাশ করার ধরন আলাদা।সবাই সবার থেকে ভিন্ন।কখনোই কেউ কারো মতো হতে পারে। হয়তোবা অন্যের সুখে ভরা জীবন দেখে আফসোস করা যায় তবে ভাগ্যে না থাকলে সেটা কখনোই পাওয়া যায় না।
ইশিতা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে।আরাফ সেই সকাল থেকে কেমন কেটকেট করছে। সমস্যা হচ্ছে”বাচ্চা” ,ইশিতা বেবি নষ্ট না কথায় আরাফের সোগের আগুন জ্বলে উঠেছে।
আরাফ ইশিতাকে কাঁদতে দেখে কিছুটা চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”একদম চুপ। ন্যাকা কান্না কাদবি না আমার সামনে।তোকে সেই কবে বলেছি বাচ্চাটা ফেলে দিতে। তুই তা না করে এসে রং তামাশা শুরু করেছিস! তুই কি চাইছিস বাড়ির সবাই জানুক, হ্যাঁ। আর জানার পর এই উটকো ঝামেলা আমার ঘাড়ে এসে পড়ুক?”
ইশিতা এতো সময় স্বামী হিসাবে সম্মান দিতে মাথা নতো করে থাকলেও এবার বেশ রেগে গেলো।আরাফের দিকে তাকিয়ে ক্ষিপ্ত কন্ঠে বললো
_”just shut up আরাফ। তোমার বাজে কথা অনেক শুনেছি আমি।সেই কবে থেকে তোমার বারতি কথা শুনছি। শুধু তুমি আমার স্বামী হও তাই।তবে এবার আর সহ্য করবো না। এমন ভাবে বলছো যেনো এই বাচ্চা শুধু আমার।এই সন্তান তোমার।অন্য কারো না যে আমি নষ্ট করে ফেলবো।”
আরাফ ইশিতাকে রেগে যেতে দেখে একটু শান্ত হলো,পরপর শুকনো কন্ঠে বললো
_”আমার এখন বাচ্চা দরকার নেই ইশিতা, try to understand bab.”
ইশিতা রাগি কন্ঠে বললো
_”আমি তোমার আর কোনো কথা শুনতে চাইছি না।আর আমি কোনো রকম মেডিসিন নিয়ে নিজের শরীর নষ্ট করবো না। টানা এই সব মেডিসিন নিয়ে যদি আমার সমস্যা হয়ে যায় তবে তখন তুমি আমাকে বাচ্চা জন্ম না দিতে পারার অপবাদে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বেড় করে দিবে। নতুন একটা বিয়ে করে আনবে।তখন,তখন কি হবে আমার। তুমি নিজে সাবধানে চলো না তার পর আমাকে দোষারোপ করো।আজ যদি তুমি সাবধানতা অবলম্বন করতে তবে কখনোই আমি কনসিভ করতাম না তাই বারতি কথা কম বলো।”
আরাফ মুখ কালো করে ইশিতার দিকে তাকালো। মৃদু কন্ঠে বললো
_”ইশিতার please, এখনো আমাদের জীবনটা পড়ে আছে,বুঝার চেষ্টা করো!”
ইশিতা দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠলো
_”আমাদের নয় আরাফ, তোমার জীবন। তুমি তোমার বন্ধু বান্ধব নিয়ে ঘুরবে।যেখানে সেখানে যাবে এটা তোমার চাওয়া পাওয়া। আমার না। আমার সংসার করার ইচ্ছা আছে তাই বিয়ে বসেছি।আর বাচ্চা হলেও আমরা তাকে নিয়েই এখানে ওখানে যেতে পারবো।ওকে নিয়েই জীবনটাকে এনজয় করতে পারবো। বাচ্চাটা আমি রাখছি এটাই আমার শেষ কথা,এবং দু একদিনের ভিতরেই বাড়ির সবাইকে জানিয়ে দিবো ইনশাল্লাহ।”
বলেই ইশিতা সরে যেতে চাইলো তবে আরাফ এসে ইশিতাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে গলায় মুখ গুজে দিয়ে সুধালো
_”please জানু,আমরা next time চেষ্টা করবো।এখন না জান। আমার কথা শুনো।এখনো বেশি সময় হয়নি বেবিকে নষ্ট করে ফেলো।”
ইশিতার আরাফের কথা সহ্য হলো না।পিছন ফিরে ধাক্কা দিয়ে তাকে সরিয়ে দিয়ে চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”আমি একা হলেও এই বাচ্চা রাখবো।আর তুমি যদি কনো রকম ঝামেলা করো তবে খোদার কসম আমি এই সংসার আর করবো না।বাপের বাড়ি চলে যাবো।তখন নিজের জীবন ভালো মতো এনজয় করিও তুমি। This is my last word .”
বলেই আরাফকে আঙ্গুল দিয়ে শাশিয়ে চলে গেলো ।আরাফ দাঁতে দাঁত চেপে চেয়ে রইলো। ইচ্ছা করলো ইশিতাকে কাঁচা চিবিয়ে খেতে তবে আফসোস সে পারলো না।
পরির ঘামে শরীর ভিজে গেছে। কেমন অস্থির লাগছে।আগুনের সামনে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না সে।মাথা গুরে উঠছে।তবু কোনো মতে এক দু পদের তরকারি রান্না করে নিতে লাগলো পরি।
প্রচন্ড ক্ষুধা লেগছে তার।নাবিল গত কয়দিন ধরে আসে না।অবশ্য এসে পরি শান্তিতেই আছে।তবে একাকিত্ব তাকে ঘিরে ধরেছে। হুটহাট নাবিল আসে আবার চলেও যায়।বলেছিলো সব কাজ করে দেওয়ার জন্য মেড রেখে দিবে কিন্তু সেই খবরো নেই।কাজের লোক নাকি পাচ্ছে না।মাঝের মধ্যে দুপুরে সাগর বা কেউ এসে খাবার দিয়ে যায়,আবার বাজার শেষ হয়েছে কিনা জিগ্গেস করে যায়। তবে আফসোস সেই বাজার এখনো আছে।আবার পরির নিজেরি রান্না করে খেতে হয়। যেমন আজ রান্না করতে হচ্ছে।
পরির মাছ মাংস খেতে ইচ্ছে করে না,সেই কবে নাবিল মাছ আনিয়েছিলো সাগরদের দিয়ে তবে এখনৌ সেই মাছ ফ্রিজে পড়ে শুঁটকি হয়ে আছে।
নাবিল আলু ভর্তা করেছে,সাথে বেগুন ভাজা,আর বিভিন্ন রকম সবজি দিয়ে নিরামিষ করেছে।পরি তরকারি চুলায় চাপিয়ে দিয়ে রাইস কুকারে ভাত এক পলক দেখে নিলো। অনেক যুদ্ধ করার পর পরি শেষ পর্যন্ত রান্না শেষ করতে পারলো তবে ঘেমে তার অবস্থা নাজেহাল।
সব খাবার বেড়ে ডাইনিং টেবিলে রেখে গোসলে চলে গেলো সে।এই মূহুর্তে গোসল না করলে সে মরেই যাবে।পরি লাম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে গোসল সেরে নিলো।বড্ড ক্লান্ত লাগছে তার।এই শূন্য বাড়িতে এক একা লাগছে। হয়তোবা সাথে পেটের বাচ্চাটা না থাকলে আরো একা একা লাগতো।এখন তো তাও একটু সময় কাটাতে হলে শুয়ে বসে বাচ্চার সাথে কথা বলে।কি করবে সে টিভি ব্যতিত একটা মোবাইলো নেই তার হাতে।
পরি গোসল সেরে অল্প করে খাবার খেয়ে নিলো।এই তরকারি দিয়েই তার ২/৩ দিন চলে যাবে। অবশ্য doctor বলেছে বাশি জিনিস খেতে না তবু বারবার রাঁধতে ইচ্ছে হয় না পরির।
খাওয়া দাওয়া শেষ করে পরি একটু টিভির সামনে বসলো তবে তার সবকিছুই বোরিং লাগছে।পরির ভাবনার ভিতরেই বাচ্চা মুভ করে উঠলো।পরি মলিন চোখে পেটের দিকে তাকালো।পরপর এক আঙ্গুল দিয়ে পেটে হাত ঘুরাতে লাগলো। এদিকে পরি যেদিকে আঙ্গুল ঘুরাচ্ছে বেবি সেদিকে মুভ করছে তা দেখে পরি খিলখিল করে হেসে উঠলো।আদুরে কন্ঠে বললো
_”আম্মুযে আপনার সাথে খেলছে তা বুঝতে পারছেন আপনি? আপনি খুব দুষ্টু, শুধু আম্মুকে ব্যাথা দেন।আপনি আমার আম্মু হোন বা আব্বু তবে নিজের বাবার মতো কখনোই হবে না।আমি আপনাকে ভালো শিক্ষা দিবো।নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে আপনাকে মানুষের মতো মানুষ করবো।”
পরি আরো কিছু গল্প করতে লাগলো নিজের সন্তানের সাথে।পরি জানে না মেয়ে না ছেলে কারণ doctor কিছুই বলেনি।তবে জানার আগ্রহ প্রকাশ করেনি কারণ আল্লাহ যা দিবে তাতেই সে খুশি।
আরহাম আর নুবা বাগানে দাঁড়িয়ে আছে। ডেকোরেটর আরহাম আর নুবাকে কিছু স্টেজের ছবি দেখাচ্ছে।যে কিরকম হবে তাদের বিয়ের আসন। এদিকে কিপটা নুবা বারবার জিগ্গেস করছে এই সব করতে অনুমানিক কত টাকা খরচ যাবে।আসলে তার কাছে একটা টাকাও খুব মাইনে রাখে কারণ সে কোনো নবাবজাদি না তবে আরহামের রাজ্যের রানি বটে।
_”এটা সুন্দর, এটায় নতুনত্ব আছে। কি বলো?”
বলে আরহাম নুবার দিকে তাকালো।নুবা ছবি দেখে শুকনো ঢোক গিললো। নিশ্চয় বেশ কড়া খরচ হবে এটা করতে। স্টেজেই এতো খরচা কেনো করবে সে।নুবা ইনিয়ে বিনিয়ে বললো
_”না না, তেমন সুন্দর না।অন্যটা দেখান।”
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে নুবার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো
_” আপনার তো কিছুই পছন্দ হচ্ছে না।আর কতবার দেখাবে। অন্ততপক্ষে একটা তো পছন্দ করো !”
নুবা এক পলক ডেকোরেটরের দিকে তাকিয়ে জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে আরহামের দিকে ইশারায় আমতা আমত করে বললো
_”আমি কি উনার সাথে একা কথা বলতে পারি?”
আরহাম পকেটে হাত গুজে চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে সুধালো
_”বলো।”
আরহামের জানা নেই মেয়ে মানুষ কি দিয়ে তৈরি। এতো গুলো অপশনের ভিতরে একটাও পছন্দ হচ্ছে না তার।
নুবা লোকটার কাছে যেয়ে তাকে একটু দুরে নিয়ে গেলো পরপর তার দিকে তাকিয়ে ঘাড় কাত করে ফিসফিস করে বললো
_”আঙ্কেল আপনি আমার জামাইয়ের টাকার বাঁশ দিতে চাইছেন নাকি। একজন সিম্পল আর কম বাজেটের ভিতরে হয় এমন দেখান।সব টাকা কি বিয়েই খরচ করবো নাকি? একটু বুঝার চেষ্টা করুন। আমাদের ভবিষ্যৎ বাচ্চা বাচ্চাদের জন্যোও তো কিছু পয়সা বাঁচিয়ে রাখতে হবে।আপনি একদিনের জন্য লাক্ষ লাক্ষ টাকা খরচ করতে বলছেন।”
লোকটা নুবার দিকে তাকিয়ে জোরপূর্বক হেঁসে বললো
_”মা, আমাদের এখানে সিম্পল ভাবে ডেকোরেশন করলেও কম পক্ষে লাক্ষের বেশি লাগে। তুমি বুঝতে পারছো না যে আমাদের কম্পানি বেশ নাম করা।বড় বড় ইভেন্টে কাজ করে।কোনো রকম ক্ষুদ নেই।”
নুবা হাত কচলে হাঁসফাঁস করে বললো
_”আরে আঙ্কেল দেখুন এতো খরচ করা যাবে না।আপনি ১০/২০ হাজের ভিতরে কোনো ডেকোরেশন দেখান!”
নুবার কথা শুনে লোকটার মুখ হা হয়ে গেলো।সে বুঝতে পারলো না এই মেয়ে আধপাগল নাকি? লোকটা মুখ কালো করে বললো
_” তোমার husband ১০/২০ লাক্ষ খচর করতে চাইছে আর তুমি ১০/২০ হাজার বলছো। একটু তো বোধ বুদ্ধি রাখো মা।এটা কোনো বাজের পন্য না যে দামাদামি করে কোমিয়ে নিলে। অন্ততপক্ষে ১/২ লাক্ষ বললেও আমি সন্তুষ্ট হতাম। তুমি কি আদেও উনার wife এটা ভাবতে আমার সন্দেহ হচ্ছে?”
লোকটার এরকম কথায় নুবা কিছুটা তেতে যেয়ে বলে উঠলো।
_”আপনার সন্দেহ দিয়ে আমার কি জায় আসে।উনি আমার hubby এটাই বাস্তব,কাগজে কলমে,সব জায়গায় উনি আমার স্বামী। আপনার আমার সাথে বনি বনা না হলে আমাকে না করে দিবেন।তা না উল্টো পাল্টা কথা বলছেন।১/২ লাক্ষ কি হাতের মোয়া নাকি যে সমান্য ফুল ফল দিয়ে বাড়ি সাজিয়ে দিবেন আর আমরা দিয়ে দিবো।টাকা ইনকাম করতে কষ্ট হয় না বুঝি।ফুল কিনতে আর কতোই টাকা লাগে? ১০/২০ হাজার দিয়ে জিনিস পাতি কিনে ১/২ লাখের তামাকা লাগিয়ে দেন। আবার বড় কম্পানি , কম্পানি করেন। আমাদের বোকা পেয়েছেন নাকি?”
লোকটা থতমত খেয়ে গেলো নুবার ঝাড়ি খেয়ে।নুবা আবারো বলে উঠলো
_”আপনাকে দিয়ে ডেকোরেশন করাবো না আমি।আপনি যান। দরকার পড়লে নিজের করবো তাও আপনাকে দিয়ে করবো না।চোর কোথাকার!”
এদিকে দূর থেকে নুবাকে কমড়ে সাত দিয়ে কেটেকেট করতে দেখে আরহাম দূরুত পায়ে এগিয়ে গেলো পরপর নুবার দিকে তাকিয়ে ভুরু কুঁচকে বললো
_”কি হয়েছে?”
নুবা আরহামের দিকে এগিয়ে যেয়ে মুখ কালো করে বললো
_”উনাকে দিয়ে ডেকোরেশন করাবো না আমি।উনাকে যেতে বলুন!”
_”কেনো,আবার কি হলো?”
নুবা ঠোঁট বাঁকিয়ে বিরবির করে বললো
_”বলছে আমি নাকি আপনার বউ না,উনার নাকি সন্দেহ হচ্ছে।”
বলতে বলতে নুবা মুখ বাকালো। আরহাম বুঝতে পারলো নিশ্চয় নুবা কোনো ঘাবলা করেছে তাই সে আর তেমন তর্ক করলো না, বরং নুবাকে শান্ত করে বাড়ির ভিতরে পাঠিয়ে দিলো পরপর ডেকোরেটরের দিকে তাকিয়ে বললো
_”ও কি কিছু বলেছে?”
লোকটা জোরপূর্বক হেঁসে বলল
_”আপনার wife ১০/২০ হাজের ভিতরে কাজ সারতে বলেছে sir. উনি নাকি ভবিষ্যৎ বাচ্চাদের জন্য এই টাকা সঞ্চয় করে রাখবেন।তাই কম খরচে সব ডেকোরেশন করতে বলেছে।তাই বলে ২০ হাজার,আপনিই বলুন?”
লোকটার কথা শুনে আরহাম পকেটে হাত গুজে শব্দ করে হেসে উঠলো।পরপর মাথা নিচু করে কিছু সময় নিজেই হেসে নিলো।বাআ কি ভালো তার বউটা এখন থেকেই টাকা বাঁচানো শুরু করেছে। আরহাম কিছু সময় হেসে পরপর বললো
_”আমি যেটা সিলেক্ট করেছি ওটার উপরেই কাজ করুন।বাড়ির ছাদ,বাগান, লিভিং রুম,সবটাই পরিপাটি করতে হবে।সব দেখে ছবি তুলে নিয়ে যাবেন,পরপর ডিজাইন কমপ্লিট করে আমাকে পাঠিয়ে দিবেন।পরে আমি বাকিটা সিলেক্ট করে নিবো যে কোনটা করবেন? আশা রাখছি ২/৩ দিনের ভিতরেই কাজ শুরু করবেন।এডভান্স পেয়ে যাবেন। চিন্তার বিষয় নেই।”
লোকটা মাথা ঝুঁকিয়ে চলে গেলো। আরহাম মুচকি হেসে বাড়ির ভিতরে চলে গেলো।
নাবিল সন্ধার দিকে apartmenta আসলো। হয়তোবা এতো দিন পর তার গর্ভবতী বউয়ের কথা মনে পড়েছে যে এই অনাকাঙ্ক্ষিত স্থানে কোনো একটা মানুষকে একা ফেলে রেখে এসেছে।
নাবিল কান্ত শরীর টেনে রুমে প্রবেশ করলো।রুমে প্রবেশ করতেই দেখা মিললো পরি শুয়ে আছে, হয়তোবা ঘুমাচ্ছে।নাবিল এগিয়ে এক দু পা এগিয়ে যেতেই আরো খেলায় করলো।গায়ের উপর পাতলা blanket দেওয়া।তবে পায়ের পাতা দুটো আলগা করে রাখা। নাবিল যেয়ে আস্তে করে পরির পায়ের কাছে বসলো।
নাবিল কেমন করে নিঃশ্বাস ফেলে পরির পায়ের দিকে চোখ বুলাতেই তার ভুরু কুঁচকে গেলো।দুই পায়ের তলে হালকা ভেজা কাপড় বেঁধে রেখেছে।নাবিলের অদ্ভুত লাগলো।জ্বর আসলে মানুষ কপালে জলপট্টি দেয়,আর এই মেয়ে পায়ের নিচে জলপট্টি দিয়ে রেখেছে।
নাবিল হাত বাড়িয়ে পরির পায়ের তল থেকে বেঁধে রাখা কাপড় টুকু সরিয়ে দিলো।সাথে সাথে পরির ফর্সা কালচে পা উন্মুক্ত হলো।ভেজা কাপড়ে ডুবিয়ে রাখায় বিছানা ভিজে গেছে সাথে পরির পা আরো সাদা হয়ে গেছে।নক গুলো কেমন মিষ্টি রঙ্গের হয়ে আছে।আর পায়ের তলা টকটকে লাল বর্ন ধারন করেছে। ঠিক এক নবজাতক শিশুর ন্যায়,একটা বাচ্চা হলে যেমন পায়ের নিচে লাল হয়ে থাকে ঠিক তেমন ।হালকা লাল হয়ে আছে,মনে হচ্ছে টোকা দিলেই রক্ত পড়বে।
পরির পায়ের দিকে তাকিয়ে নাবিল মুচকি হাসলো। এদিকে পা থেকে জলপট্টি সরে যেতেই পরি দুই পা মুচরছ উঠতে লাগলো।যেনো অস্বস্তি হচ্ছে তার।নাবিল কিছু সময় সেদিকে চেয়ে থেকে পকেট থেকে টিস্যুতে মুড়ানো কিছু একটা বেড় করে নিলো। টিস্যুর ভাজ খুলতেই অনাকাঙ্ক্ষিত জিনিসটা খুব সুন্দর করে বেজে উঠলো।সেই শব্দে নাবিল চাঁপা নিঃশ্বাস ফেললো।চোখ বুঝে অনুভব করলো “পরি যখন এই নুপুর পড়ে হাঁটবে তখন নিশ্চয় চারিপাশে এর মুগ্ধ করা শব্দ ছড়িয়ে যাবে।যা শুধু নাবিলি শুনবে।”
নাবিল নিজের ভাবনা থেকে বেড় হয়ে নূপুর দুটো নিজ হাতে পরির পায়ে পড়িয়ে দিলো। সেদিন খেয়াল করেছিলো পরির হাত,নাক,কান ভরা থাকলেও পা দুটো খালি।তাই নিয়ে এসছে সে।সখ হয়েছে তার তা পূর্ণ করতে নিয়ে এসেছে।
নাবিল নূপুর পড়ানো শেষ করে পরির পায়ের তলায় হাত বুলিয়ে দিলো।পরি যেনো আরো গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলো তার অস্থির বোধটা নিমিষেই কেটে গেলোই।নাবিল পরির পায়ে আঙ্গুল বুলিয়ে চেয়ে রইলো।পরপর তার এই সুন্দর পায়ে ঠোঁট ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে করলে,সে তার ইচ্ছা অপূর্ণ রাখলো না। চুপচাপ পরির দু পায়ে চুমু খেলো।
পরি নড়েচড়ে উঠলো ।নাবিল পরিকে উঠতে দেখে পা দুটো আবারো বিছানায় ঠেকিয়ে দিলো,পরি ঘুমঘুম চোখে পেটে হাত চেপে আশে পাশে তাকালো।তখনি সে অনুভব করলো তার পায়ের কাছে কিছু একটা আছে।পরি বেশ ভয় পেলো ফট করে মাথা উঁচু করে সামনের দিকে তাকাতেই নাবিলকে দেখে তার ভয়টা কেটে গেলো।
নাবিল আস্তে করে এসে পরির মাথার কাছে এসে বসলো।পরি মুখ দিয়ে হালকা গুঙ্গানির শব্দ বেড় করে কোনো মতে উঠে বিছানায় হেলান দিতে চাইলো তবে নাবিল পরিকে চোখের ইশারায় শুয়ে থাকতে বললো।এতো দিন পর নাবিলকে দেখে পরি একটু অবাক হলো তবে খুশি হলো না। কারণ নাবিল আসলেও তার জীবনে তেমন কোনো পরিবর্তন হবে না।আরো অত্যাচার বাড়বে।
পরি ক্লান্ত চোখে নাবিলের দিকে তাকিয়ে অস্পষ্ট কন্ঠে বললো
_”ক, কখন এসেছেন?”
নাবিল ঘাড় ত্যারামো করে উত্তর দিলো
_”তোরে কইয়া আমু। আমার বাড়ি আমার ঘড়,, আমার যখন ইচ্ছা তখন আমু।”
পরি আর কথা বাড়ালো না। চুপ রইলো।নাবিল এগিয়ে যেয়ে পরির পেটের কাছে বসলো।পরপর শরীরের উপর থেকে blanket সরিয়ে দিলো।
পরি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,নাবিল পেট টুকু উন্মুক্ত করে নিলো।পরপর পরির হালকা লোম যুক্ত তলপেটে হাত রেখলো।পরি কেমন কম্পিত হলো, হঠাৎ করেই এমন হওয়ায়।নাবিল পরির তল পেট থেকে আস্তে আস্তে উপর নিচে আঙ্গুল বুলিয়ে দিলো।পরপর বুড়ো আঙ্গুল পেটে বুলাতে বুলাতে বললো
_”দুপুরে কিছু খেয়েছিস?”
_”হুম।”
_”হো নাকি,না কইলি?”
_”খেয়েছি।”
কথাটুকু শেষ করে পরি অন্য দিকে তাকালো।নাবিল ঝুঁকে পরির পেটে চুমু খেলো।আজ যেনো বাপগিরি টা উতলে উতলে পড়ছে তার।আজ যেনো সত্যি সত্যি সে নিজকে বাপ বাপ অনুভব করছে,তাই তো এতো দরদ।
নাবিল পেটে চুমু খেয়ে সোজা হয়ে পরির দিকে তাকালো পরপর ভারি কন্ঠে বললো
_”পায়ের তলে ভেজা কাপড় পেচায় রাখছিলি কেন?”
পরি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে শান্ত আর মলিন কন্ঠে বলে উঠলো
_”বাবু পেটে আসার পর থেকেই পায়ের তলা জ্বলে। কিছু পায়ের উপর রাখতে পারি না।শুলে আরো বেশি জ্বলে যেনো আগুন লেগে গেছে পায়ের তলায়। তাই ভেজা কাপড় দিয়ে রেখেছিলাম।”
নাবিল ভুরু কুঁচকে বললো
_”এমন করলে যদি ঠান্ডা লাইগা যায় তহন কি করবি?”
_”লাগবে না।”
_”ডাক্তারের কাছে যাইয়া এই সমস্যার কথা কস নাই।নাকি খাওয়া দাওয়ায় হেলামি করতাছোস।কত কিছু আছে ফ্রিজে,ওগুলা কি খাওয়া যায় না?”
পরি কিছু সময় চুপ থেকে বললো
_”বাচ্চা পেটে আসলে এক এক জনের এক এক রকম সমস্যা হয়।আবার কারো হয় না,তাই doctor বলেছে বাবু হলে এগুলো সেরে যাবে।এখন ওষুধ খেলেও এগুলো সারবে না।”
_”ও,তা কিছু রানছোস নাকি সাগর কিছু দিয়া গেছে।”
পরি কেমন খারাপ লাগলো।কত দিন ধরে খবর নেয় না এখন আসছে নাটক করতে।তার বউ আর তার চেলা খবর রাখবে।মন মর্জি মতো খাবার দিয়ে যাবে আশ্চর্য।পরি কিছুটা কাঠকাঠ কন্ঠে বললো
_” রান্না করেছি,বাইরের খাবার ভালো লাগে না।”
_”কি রানছোস?”
_”বেগুন ভাজা,আলু ভর্তা আর নিরামিষ।”
_”আচ্ছা উঠ আমারে খাওন দে, আমার ক্ষুধা লাগছে।”
নাবিলের কন্ঠ পরির কাছে কেমন যেনো লাগলো,তবু হেলামি করে বললো
_”আমার খুব খারাপ লাগছে।আপনি বরং যেয়ে একটু বেড়ে খান। আমার উঠতে ইচ্ছে করছে না।”
নাবিল কিছুটা তেতে উঠে বললো
_”তোরে উঠতে কইছি।আমি গোসলে যামু, খাওন রুমে নিয়া আয়।”
নাবিলের আদেশে পরি কিছুটা ভরকে গেলো
বেশ রাগ হলো তার।তবু কোনো মতে উঠে বসলো।তবে উঠতেই পায়ের নূপুর দুটো শব্দ করে বেজে উঠলো।পরি অবাক হয়ে গেলো।ভুরু কুঁচকে পায়ের দিকে তাকাতেই আশ্চর্য বনে গেলো।তার পা তো খালি ছিলো তবে নূপুর কোথা থেকে আসলো।পরি ভাবনায় ছেদ ফেলে নাবিলের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকালো।তবে নাবিলের দিকে তাকাতেই আর একটু চম্কে উঠলো পরি কারণ নাবিলের শার্ট রক্ত মাখা ।তার থেকে বিচ্ছিরি গন্ধ আসছে।
পরি নাক মুখ কুঁচকে নিলো।গা গুলিয়ে বমি আসলো তার।উঠে দাঁড়িয়ে নাবিলের থেকে দু কদম পিছিয়ে গেলো।পরপর মুখে হাত চেপে ধরে গুলিয়ে যাওয়া কন্ঠে বললো
_”আপনার শার্টে এ, এগুলো কি?”
নাবিল উঠে দাঁড়ালো , পরপর মৃদু কন্ঠে বললো
_”তুই জাইনা কি করবি?”
পরির মাথা ঘুরে উঠলো। নিশ্চয় কাউকে খুন করে এসেছে। ঘৃনায় পরির গা গুলিয়ে আসলো।কাকে বাঁচিয়ে রাখলো সে? যে কিনা অন্য মানুষের জীবনের মর্ম বুঝে না তাকে?পরি চোখের পলক ফেলে ধীরো কন্ঠে বললো
_”আবার কার বুক খালি করে এসেছেন? কাকে মেরেছেন?”
নাবিল পরির দিকে এক পলক তাকিয়ে আড়মোড়া ভেঙ্গে ঠোঁট হেলিয়ে হেসে সুধালো
_”তোর বাপরে মাইরা আইছি।কোনো সন্দেহ?”
নাবিলের কথা শুনে পরি হতভম্ব হয়ে গেলো। অবাক চোখে নাবিলের দিকে তাকিয়ে রইলো।পরপর নাবিলের শার্টের দিকে তাকিয়ে কেমন করে নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করলো সে।যেনো নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।আসলেই কি নাবিল তার বাবার রক্তে মেখে একাকার হয়ে আছে?
পরি কম্পিত কন্ঠে হাঁসফাঁস করে বলে উঠলো
_”মিথ্যা বলছেন?”
পরির অবিশ্বাস কন্ঠ যা শুনে নাবিল শার্ট খুলতে খুলতে হেলামি করে বললো
_”নডির ছাওয়াল আমার মাথায় বারি মারছে আর তুই কি ভাবছোস ওরে ছাইরা দিমু।কুপাই রাইখা আইছি। মনডা শান্তি হইছে আমার।এতো দিন খালি নিজের শরীর একটু সুস্থ হওয়ায় অপেক্ষায় আছিলাম।সুযোগ মতো তোর বাপরে রাস্তায় পাইয়া কোপ বসাইছি।”
কথাটুকু পরি কর্ণপাত হতেই নিজেকে অসহায় মনে হলো।মনে হলো পুরো পৃথিবী তার কাছে অন্ধকার হয়ে গেছে।তার জন্মদাতা পিতাকে খুন করার জন্যই কি এই মানুষটাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলো?পরি শরীর ভেঙ্গে আসলো,গলায় এসে সব কান্না আটেক গেলো। কন্ঠ নালি কেমন ব্যথায় জর্জরিত হয়ে উঠলো।কিছু সময় আশে পাশে এলোমেলো দৃষ্টি ফেললো পরি,পরপরই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো সে। অতঃপর রুমের দরজা পার করে ফেললো পরি। নাবিল ভুরু কুঁচকে বললো
_”কই যাস?”
তবে পরি উত্তর দিলো না,নাবিল পরির পিছন পিছন গেলো। এদিকে পরি রুম থেকে বেড় হয়েই ছুটে চললো।পায়ের নূপুর গুলো অসাধারন ভাবে শব্দ করে উঠলো।পরির এই উঁচু পেট নিয়ে কোনো মতে হুমড়ি খেয়ে ছুটতে লাগলো।তবে নূপুরের শব্দ পরির কাছে কেমন বিষাক্ত লাগলো। ইচ্ছা হলো সব ছিরে ছুটে ফেলে দিতে।নাবিল তার জন্য কিছু নিজ ইচ্ছায় নিয়ে এসেছে সেই খুশিতে আনন্দিত হয়ে পারলো না পরি। বরং এই নূপুর গুলো তার কাছে পায়ের সিকোলের মতো লাগলো।মনে হলো তার পায়ে না গলায় শক্ত করে বেধে দেওয়া হয়েছে এই নূপুর। সবকিছু কেমন বিষে পরিনত হলো পরির কাছে।নাবিল পিছন থেকে পরিকে ডেকে উঠলো
_”কই যাস তুই?”
তবে উত্তর এলো না।পরি একবার পিছন ফিরে নাবিলের দিকে তাকিয়ে আরো ছুটলো।নাবিল করিডোর পার করার আগেই পরি ছুটে সিরি বেয়ে নামতে লাগলো।নাবিলের কলিজা প্রায় মুখে চলে আসলো।যদি এখন উল্টে পড়ে যায়।তবে কি একটা পরিস্থিতি তৈরি হবে?
নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১৩
নাবিল এবার প্রচন্ড খেপে গেলো।সেও ছুটলো পরির পিছনে। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে সুধালো
_”মাগির ঝিঁ, থামোস না। আজকে খালি উল্টা পড়,তার পর পড়ার উপর খাঁড়া হইয়া দাঁড়ামু।গলার উপর পা চাইপা ধরমু খানকি। দাঁড়া কইছি।”
পরি কোনো কথাই শুনলো না বরং apartment এর সদর দরজার দিকে যেতে লাগলো।
