Home প্রিয় রাগিনী প্রিয় রাগিনী পর্ব ১০

প্রিয় রাগিনী পর্ব ১০

প্রিয় রাগিনী পর্ব ১০
লামিয়া ইসলাম শাম্মী

বাড়ির গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে ইসলাম বাড়ির চার বিচ্ছু। লামিয়া ভয়ে ভয়ে কুকুর ছানাটিকে কোলে নিয়ে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলো। তার পিছন পিছন মাহির, তায়েব, তায়েবা।
হল রুমে প্রবেশ করতেই দেখলো মা-চাচিরা বসে গল্প করছে। লামিয়া তাড়াতাড়ি উড়না দিয়ে ছানাটিকে মুড়িয়ে নিলো।
মাহির, তায়েব, তায়েবা দ্রুত লামিয়াকে আড়াল করে সিঁড়ির দিকে উঠতে চাইতেই লতিফা বেগম হঠাৎ পেছন থেকে ডেকে উঠলেন।

— এইভাবে চোরের মতো রুমে যাচ্ছিস কেন? আবার কী করলি?
তাদের মুখ শুকিয়ে গেলো।
তোতলাতে তোতলাতে মাহির বললো—
— কিছু তো করি নাই মেজো মা…
লতিফা বেগম ছোট্ট চোখ করে সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকালেন।
ঠিক তখনই রাশেদা বেগম বললেন—
— থাক না মেজো, যেতে দে ওদের।
লতিফা বেগম কিছু না বলে ঘুরে চলে গেলেন।
ওরা চারজন একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাঁপ ছাড়লো।
তারপর দৌড়ে ছাদের দিকে উঠে গেলো।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

**ব্রেকিং নিউজ**
“ডিটেকটিভ মি. ফ্যালকন ও তার টিম গভীর জঙ্গলের একটি গুদামঘর থেকে একশো জন নারীকে পাচারকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করেছে। দুজন পাচারকারীকে আটক করেছে পুলিশ।”
অন্ধকার ঘরের ভেতর বসে থাকা এক ব্যক্তি টিভির নিউজ শুনে বাঁকা হেসে বললো—
— সবে তো শুরু হলো মি. কায়সার… সামনে আরও অনেক কিছু বাকি আছে।

হাঁটু পর্যন্ত প্যান্ট উঠিয়ে পুকুরের সিঁড়িতে পানিতে পা ডুবিয়ে মন খারাপ করে বসে আছে আবির। হালকা বাতাসে সিল্কি ছোট ছোট চুল গুলো উড়ছে।
– মন খারাপ?
কারোর কন্ঠ শুনে ঘাড় ঘুরে তাকালো। লামিয়া দাঁড়িয়ে আছে। তা দেখে হালকা হাসলো।
লামিয়া ধীরে ধীরে এসে আবিরের পাশে দূরত্ব বজায় রেখে বসলো।
– আমি হেরে গেছি রে লামিয়া। —আবির নিচু গলায় বললো।
লামিয়া হেঁসে বললো,
-কী খেলায় হেরে গেছেন?
– জীবনের খেলায় হেরে গিয়েছি, লামহা অন্য কাউকে ভালোবাসে লামিয়া। —ভাঙা গলায় বললো আবির।
– কাকে ভালোবাসে?
– জানি না।
-জানতে চাননি কাকে ভালোবাসে?
-না।
দীর্ঘ শ্বাস ফেলে লামিয়া বললো,

– আমরা অভিমান করে অনেক সময় অনেক কিছু বলি। খোঁজ নিয়ে দেখেন, অভিমানে বলা কথা সেগুলো সত্যি হয় না। কিন্তু লামহা কাকে ভালোবাসে সেটা কিন্তু আপনার জিগ্গেস করার দরকার ছিলো।
আবির কপালে ভাঁজ করে বললো,
– জানা টা কী খুব জরুরী?
-আপনার ভালোবাসার মানুষটি কাকে ভালোবাসে সেটার খোঁজ নেওয়াটা অবশ্যই জরুরি।
– লামহা কে জিজ্ঞেস করলে কী বলবে এখন?
– তা তো জানি না, কিন্তু মনে হয় না বলবে এখন।
– কেনো?
– সময় থাকতে জিগ্গেস করলে আপনাকে হয়তো বলতো। কিন্তু আমার মনে হয় কী জানেন?
– কী?
– লামহা মনে হয় কোনো ডেন্ডীখোরের সাথে প্রেম করে।
– কী সব বলছিস! —অবাক হয়ে আবির বললো।
-আরে হ্যাঁ সত্যি। ওরে এই ডেন্ডিখোরের থেকে যেকোনো ভাবেই সরিয়ে আনতে শুধু মাত্র আপনি পারবেন।
– কীভাবে?

-রোজ ওকে ফলো করবেন। কোথায় যায়, ভার্সিটিতে ওর বন্ধু বান্ধব কেমন, কার সাথে ঘুরাঘুরি করে। কী করে না করে—তাহলেই তো পরিষ্কার হয়ে যায়।
আবির কিছু একটা ভেবে বললো,
– ঠিকই তো বলেছিস। ঠিক আছে, আমি কালকে থেকেই ওকে ফলো করবো। থ্যাংকস! আজকে বিকালে রেডি থাকিস, একটা ট্রিট দিবো এই কারণে।
বলেই উঠে চলে গেলো। খুশি হয়ে বাসার দিকে যেতেই লাবিবের সাথে দেখা হলো। লাবিব আবিরকে এতো খুশি দেখে কপাল কুঁচকে বললো,
– কী ব্যাপার? তুমি এমন খুশি কেনো?
– এমনেই। দেখা হয়ে ভালোই হয়েছে, আজকে বিকেলে রেডি থাকিস, আমরা সবাই একসাথে ঘুরতে বের হবো। — বলেই চলে গেলো।

আবিরকে পুকুরের দিক থেকে আসতে দেখে, লাবিব ধীর পায়ে পুকুরের দিকে হাঁটা ধরলো। পুকুরের ওইপাশটায় যাওয়া হয়নি এখনো। এই সুযোগে ঘুরে দেখা যাক—বলেই হাঁটা দিলো।
আবির যেতেই লামিয়া হাসলো। পানির দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ, তারপর দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বললো,
-তপ্ত দুপুর, খা খা রৌদ্দুর, বুকের বাঁ পাশ খালি। তোমার অভাবে আমি রোজ শতকোটিবার মরি!
– শতকোটিবার তুই মারা গেলে এখনো জীবিত আছিস কেনো?
লামিয়া গলা কন্ঠ শুনে ঘাড় না ঘুরিয়ে উঠে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই লাবিব লামিয়ার হাত চেপে ধরে বললো,

– কোথায় যাচ্ছিস? কথার উত্তর দিয়ে যা।
– ভদ্র ভাবে বলছি, হাত ছেড়ে দিন।
– না ছাড়লে কি করবি?
– আপনার নামে আমি ধর্ষণের মামলা দিবো। —বিরক্ত হয়ে বললো লামিয়া।
– তোকে ধরলাম না, কিছু করলাম না—আর তুই ধর্ষণের মামলা দিতে চাচ্ছিস? —অবাক হয়ে বললো।
– কে বলছে ধরেন নি? এই যে কথায় কথায় হাতাহাতি করেন সবসময়, এটা কী ধরা বলে না?
– জি না, এটা কে ধরা বলে না। কিন্তু তুই চাইলে আমি দেখাতে পারি কীভাবে ধর্ষণের জন্য ধরতে হয়। —বলেই শয়তানি হাঁসি দিলো।
লামিয়া তা দেখে হাত ছাড়ানোর জন্য মোচড়ামোচড়ি করলো। লাবিব লামিয়ার গলার দিকে তাকাতেই দেখলো চিকন চেনে লকেট ঝুলানো, তার উপর H লেখা।
লাবিব তা দেখে ভ্রু কুঁচকে বললো,

– H এ কে? তোর গলায় H ঝুলানো কেনো?
লামিয়া লাবিবের কথা শুনে বিরক্ত হয়ে গলায় তাকালো। কিছুক্ষণ আগে লতিফা বেগম নিজের গলার চেইন খুলে লামিয়ার গলায় দিয়ে বলেছিলো, “চেইন পরে থাকতে, পরে খুলে নিবে।” তাই সে পরে ছিলো। তাছাড়া এইসব অলংকারের দিকে তার একটুও আগ্রহ নেই। বিরক্ত হয়ে বললো,
– ছাড়ুন আমার হাত। আপনার কথার উত্তর দেওয়ার সময় আমার নেই। ছাড়ুন।
লাবিব আরো একটু হাত চেপে নিজের কাছে নিয়ে এসে হিসহিসিয়ে বললো,
– বল কে দিয়েছে এই অক্ষরের লকেট? নিশ্চয়ই কোনো প্রেমিক দিয়েছে তাই না? এইটুকু বয়সে প্রেম করিস হ্যাঁ?
– প্রেম করি বা যাই করি তাঁতে আপনার সমস্যা কী? ছাড়ুন। খুব বেশি বেশি হচ্ছে কিন্তু।
– বেশ হয়েছে, বেশি হচ্ছে। আগে বল কে দিয়েছে এটা।
লামিয়া রেগে বললো,

– হ্যাঁ এটা আমার বয়ফ্রেন্ড দিয়েছে! শুনেছেন?
বয়ফ্রেন্ডের কথা শুনে লাবিব চোখ বড় বড় করে তাকালো। গম্ভীর গলায় বললো,
– গলা থেকে খুল এই চেইন।
– আজব তো! চেইন খুলবো কেনো? —বেশ বিরক্ত হয়ে বললো।
– চেইন খুলতে বলছি তোকে।
– খুলবো কেনো, হ্যাঁ? চেইন খুলবো কেনো?
– আমি বলছি তাই। খুলবি, নাকি আমি ছিঁড়ে ফেলে দিবো।

একে তো রাগ লাগছে, তার উপর চেইন ছিঁড়ে ফেলার কথা শুনে লামিয়া তিরতির করে রেগে বললো,
– ছিঁড়ে দেখান তো! খুলবো না আমি। ভাই মানুষ, ভাই মানুষের মতো থাকুন। জামাই সাজার চেষ্টা করবেন না।
– বেশি চাপর চাপর করে কথা বলছিস। থাপ্পড়ে তোর গাল করে ফেলবো। —ভীষণ রেগে বললো।
– মারুন না, মেরে দেখুন! হাত ভেঙে গুঁড়িয়ে দিবো । ভবিষ্যতে “ল” নিয়ে পড়বো আমি। আইনের ব্যাপারে খুব ভালো করে জানা আছে। এমন কেসে ফাসাবো আপনাকে এই জীবনে আপনি আর বাহিরের দৃশ্য দেখতে পারবেন না। ছাড়ুন বলছি আমার হাত!
লামিয়ার কথা শুনে চরম অবাক হলো। এই মেয়ে এইসব কি বলছে! বেশ বিরক্তও হলো। পুকুরে তাকাতেই লাবিব শয়তানি হাঁসি দিলো। তারপর লামিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখলো, হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করছে।
বাঁকা হেঁসে পুকুরের সামনে দাঁড় করিয়ে বললো,

– কী করবি? আমার নামে মামলা করবি, তাই না?
বলেই এক পা দু পা এগিয়ে যেতে লাগলো।
লামিয়া এক পা দু পা পিছাতে পিছাতে বললো,
– দেখুন এগোবেন না নয়তো খারাপ হয়ে যাবে।
– কী খারাপ করবি তুই? —বাঁকা হেঁসে বললো।
লামিয়া পিছাতে পিছাতে খেয়ালই করলো না, পুকুরের সিঁড়ির একেবারে কাছে এসে গেছে। লাবিব এক পা এগোতেই লামিয়া এক পা পিছালো—ঠাস করে পুকুরে পড়ে যেতেই বাঁচার জন্য হাত বাড়িয়ে লাবিবের শার্ট ধরে ফেললো। এমন শার্টের কলার চেপে ধরায় ব্যালেন্স হারিয়ে লাবিব কিছু বোঝার আগে লামিয়ার কোমর ধরে—ঠাস করে পুকুরে পড়ে দুজন একসাথে জলে ডুবে গেলো। ঠাণ্ডা পানির ছলাৎ ছলাৎ শব্দে চারপাশ কেঁপে উঠলো।
লামিয়া পানি থেকে উঠার জন্য হাত পা ছুঁড়তে লাগলো। চুল ভিজে মুখে আটকে গেছে, হাঁপাতে হাঁপাতে চিৎকার করলো—

-ছাড়ুন! আমাকে ছাড়ুন!
লাবিবও ভিজে গিয়ে হাঁপাচ্ছে, কিন্তু শয়তানি হাঁসি মুখে লেগেই আছে।
– এত রাগ, এত সাহস! এখন দেখ, কে কাকে বাঁচায়।
জামা ভিজে গিয়ে গায়ে লেপ্টে গেছে, চোখে-মুখে বিরক্তি আর রাগ লামিয়ার।
– আপনাকে বলেছি না হাত ছাড়তে! বারবার ধরবেন না হাত। —কাঁপা কাঁপা গলায় চেঁচিয়ে উঠলো লামিয়া।
লাবিবের চোখ দুটো লালচে হয়ে আছে, ভ্রু কুঁচকে বললো – তুই কি সত্যি চাইছিস আমি তোকে ছেঁড়ে দেই?
– হ্যাঁ। —লামিয়া দাঁত চেপে বললো।
– সত্যি ভেবে বলছিস ? —লাবিবের কণ্ঠ ঠান্ডা করে বললো।
লামিয়া চোখে চোখ রেখে ঠান্ডা গলায় বললো – হ্যাঁ

লামিয়াকে অবাক করে দিয়ে লাবিব লামিয়ার হাত ছেড়ে দিলো। পানিতে থাকার কারণে সে বুঝতে পারেনি যে লাবিবের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। লাবিব হাত ছেড়ে দিতেই লামিয়া ঠাই না পেয়ে পানিতে তলিয়ে গেলো। তা দেখে লাবিব বাঁকা হেঁসে তুলে উঠাতেই ভয়ে
লামিয়া লাবিবের গলা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে চোখ বন্ধ করে ভয়ে ভয়ে বললো
– প্লিজ লাবিব ভাই, আমি সাঁতার জানি না। আমি পানিতে অনেক ভয় পাই আপনি তো জানেন, প্লিজ আমাকে ছাড়বেন না।
লাবিব হেসে বললো

– বাহ্, ইসলাম বাড়ির সবচেয়ে সাহসী কন্যা পানি কে ভয় পায়! এটা তো মানা যায় না। আর তুই তো বললি ছাড়তে তাই ছেঁড়ে দিলাম।
লামিয়া ভয়ে ভয়ে ঠোঁট উল্টে বললো –
– প্লিজ লাবিব ভাই, আমাকে ছাড়বেন না।
ওকে এমন ভয় পেতে দেখে লাবিবের হাঁসি পাচ্ছে খুব। হাসতে হাসতে বললো –
– এইবার বুঝবি কতো ধানে কত চাল।
লামিয়ার রাগ হচ্ছে ভীষণ। ইচ্ছে করছে লাবিবকে কামড়ে দিতে, কিন্তু না না… এখন কিছু বললে লাবিব আবার পানিতে চুবিয়ে দিতে পারে। নিজের রাগ কন্ট্রোল করাই এখন জরুরি। অসহায় কণ্ঠে বললো –
– প্লিজ লাবিব ভাই, পানি থেকে তুলুন আমাকে। আমার ভীষণ ভয় হচ্ছে।
লাবিব সয়তানি হেসে, এক ঝটকায় লামিয়ার হাত সরিয়ে ফেললো নিজের গলা থেকে। তা দেখে লামিয়া চোখ খুলে তাকালো। দেখলো লাবিব সয়তানি হেসে তাকিয়ে আছে তার দিকে। কিছু বলতে যাবে, তার আগেই লামিয়া আবার পানিতে তলিয়ে গেলো।

লাবিব তা দেখে হেসে উঠলো। লামিয়া হাত-পা ছুঁড়ছে পানিতে। লাবিব শুধু হাসছে।
পেছন থেকে হামিদা চিৎকার করে বললো –
– লাবিব ভাই, আমার ওকে তুলে ধর। লামিয়া তলিয়ে যাবে। পানিতে ও প্রচুর ভয় পায়।
লাবিব পিছন ঘুরে দেখলো তার সব ভাই-বোন দৌড়ে আসছে। সামনে তাকাতেই দেখলো লামিয়া নেই। আতঙ্কে লাবিব পানিতে ডুব দিলো। ততক্ষণে ইসলাম বাড়ির ছেলে-মেয়ে আর খান বাড়ির ছেলে-মেয়েরা সবাই উপস্থিত। সবার চোখে ভয়।

অবশেষে লাবিব পানি থেকে মাথা তুললো। লামিয়া ভয়ে ওর গলা শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে। লাবিব ভেবেছিলো, ও সাঁতার জানে। কিন্তু এই অপদার্থ যে এখনো শিখে নি, কে জানতো!
লামিয়া লাবিবের গলা জড়িয়ে জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলছে। গলা থেকে মাথা তুলে তাকালো লাবিবের দিকে রাগি চোখে। দুপুরের রোদের আলো সরাসরি লামিয়ার মুখে পড়েছে। হালকা বাদামি চোখের মনি জ্বলজ্বল করে উঠলো। লাবিবের টনক নড়ে উঠলো। হালকা স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে উঠলো। লাবিব ঝাড়া দিয়ে লামিয়া আর দিকে তাকালো।
লামিয়া পারছে না – এই চোখ দিয়ে যেন এখনই ওকে গিলে খেতে। এইরকম শাস্তি দেবার পরও মেয়েটার রাগ তেজ এখনো কমেনি। লাবিব বাঁকা হেসে লামিয়ার কোমর হালকা করে ছেড়ে দিতেই লামিয়া ভয়ে আবার গলা জড়িয়ে ধরলো।

লাবিব পেছন ঘুরে সবাইকে দেখলো। লামিয়া সুস্থ আছে দেখে যে যার মতো কথা বলছে। সুযোগে লাবিব ওর কোমরে শক্ত করে হাত চেপে ধরে লামিয়ার হাতে জোরে কামড়ে দিলো। লামিয়া ছটফট করে উঠলো।
ব্যথায় চোখ-মুখ কুঁচকে লামিয়া নিজের হাতের বড় বড় নখ ঢুকিয়ে দিলো লাবিবের ঘাড়ে। লাবিব কানে কানে ফিসফিস করে বললো –
– এই খামচির শোধও আমি তুলবো।
বলেই বাঁকা হাসলো।
লামিয়া রেগে তাকিয়ে দাঁড়াতে গেলেই লাবিব তাকে টেনে পানিতে গলা পর্যন্ত ডুবিয়ে বললো –
– এখন কি ওই শিকদার বাড়ির ছেলেদের তোর এই ভিজে শরীর দেখানোর ইচ্ছে হচ্ছে?
লামিয়া রেগে বললো –

– কীসব ফালতু কথা বলছেন?
লাবিব শিকদার বাড়ির ছাদের দিকে ইশারা করতেই দেখা গেলো শিকদার বাড়ির বড় ছেলে প্রত্যয় তাকিয়ে আছে।
তা দেখে লামিয়া লাবিবের দিকে তাকালো। বিরক্ত হয়ে লাবিব বললো –
– এখন কী বাংলা সিনেমার মতো নিজের শার্ট খুলে তোর গায়ে পড়িয়ে দিবো? আমারও শরম লাগে। ঠিক নাই তো, যদি তুই নজর দিয়ে দিস তখন?
লামিয়া মুখ বাঁকিয়ে উড়না দিয়ে নিজের শরীর ঢেকে নিলো। তারপর লাবিবের দিকে তাকিয়ে বললো –
– আমাকে ধরে নিয়ে চলুন।
বলেই সামনে তাকাতেই দেখলো তায়েব, তায়েবা আর মাহির ক্যামেরা হাতে দাঁড়িয়ে আছে। লামিয়া ভ্রু কুঁচকে তাকালো। পিছন ঘুরে লাবিবের দিকে তাকাতেই লাবিব হাত বাড়িয়ে কোলে তুলে নিলো।
লামিয়া তা দেখে চোখ বড় বড় করে ফেললো।
সিঁড়িতে বসে সবাই হাসছে। তা দেখে লামিয়া হাত-পা ছোড়াছুড়ি করতে করতে বললো –

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৯

– ছাড়ুন আমাকে, নামান বলছি।
– চুপচাপ থাক, নয়তো আবার চুবিয়ে আনবো।
লামিয়া কিছু না বলে চুপচাপ রইলো। ভেতরে ভেতরে ভাবছে – একবার বেঁচে ফিরুক, তারপর বোঝাবে এই ব্যাটাকে।
ভাবতেই চুপ হয়ে গেলো।
লাবিব সিঁড়িতে এসে লামিয়াকে নামিয়ে দিলো। মেয়েরা তাড়াতাড়ি ওকে ধরে নিয়ে গেলো বাড়ির দিকে। ছেলেরা তাকিয়ে আছে লাবিবের দিকে। লাবিব তাদের দেখে ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে চলে গেলো।
তা দেখে সবাই সরু চোখে লাবিবের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে হেসে উঠলো।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ১১