Home প্রিয় রাগিনী প্রিয় রাগিনী পর্ব ২৫

প্রিয় রাগিনী পর্ব ২৫

প্রিয় রাগিনী পর্ব ২৫
লামিয়া ইসলাম শাম্মী

– বেশি কী ব্যাথা পেয়েছো শুভ্র। মেয়েটা এতো রাগি হচ্ছে দিন দিন কি করবো বলো।‌বলেই দীর্ঘ শ্বাস ফেললো হামিদ সাহেব।
– বাবাই তুমি এতো চিন্তিত হবে না। আমার কিছু হয়নি। আমার ও দোষ ছিলো আমি ওকে রাগিয়ে দিয়েছিলাম তাই এমন করেছে। বলেই হাসলো শুভ্র।
– তারপর ও যদি খারাপ কিছু হয়ে যেতো তখন?
– হয়নি তো, আর হবে ও না।
– মেয়েটা এত্তো জেদি আর রাগি কি করবো বলো তো?
– চিন্তা করবে না বাবাই আমি যখন এসে গেছি ওর রাগ জিদ আমি সব শেষ করে আগের মতো বানিয়ে দিবো।
হামিদ সাহেব শুভ্রর কথায় হালকা হেসে বললো
– তোমার উপর বিশ্বাস আছে আমার।
তার কথা শুনে শুনে শুভ্র ও হাসলো। দরজার ওপাশ থেকে তাদের কথা কেউ শুনে আস্তে করে সরে গেলো।

মাথার উপর বৈদ্যুতিক পাখা চলছে। তবুও যেনো গরমটা আজ বেশ পড়ছে। আর আজকে একটু বেশি গরম লাগছে মনে হয়। শার্টের উপরের বোতামে খুলে
টেবিলের রাখা ঠান্ডা পানি হাত বাড়িয়ে নিয়ে ঢগ ডগ করে পানি পান করে হাতের উল্টো পিঠে মুখ মুছে পাশে তাকাতেই বিরক্ত হলো লাবিব।
ইসলাম বাড়িতে আসার পর থেকেই দেখছে হল রুমের ফ্লোরে হাত পা ছড়িয়ে চিত হয়ে শুয়ে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে আছে লামিয়া, তায়েব, তায়েবা, মাহির।
কারোর মুখে কোনো কথা নেই যেনো। অন্যসময় হলে চারজনের মুখের থেকে খই ফুটে ভাজা ভাজা হয়ে পুড়ে যেতো কিন্তু আজকে একজনের ও মুখে কথা নেই কাহিনী কী? তাদের এমন নীরবতা দেখে লাবিবের ভালো লাগছে না তাই চারজন কে বলে উঠলো

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

– তোদের আজ কি হয়েছে আ এইভাবে ফ্লোরে শুয়ে আছিস কেনো??
তার কথার উত্তর কেউই দিলো না। তারা আগেই মতোই সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। পাশে থেকে যে তাদের কেউ কিছু বলছে তা তারা শুনছে না। এক ভঙ্গিতেই শুয়ে আছে।
একটু আগে উদম কেলান্নি খেয়ে যে
হল রুমের ফ্লোরে হাত পা ছড়িয়ে চিত হয়ে শুয়ে আছে
লাবিব তা জানে না।
লাবিবের কথার উত্তর না দেওয়াতে ভ্রু কুঁচকে আবার বললো
– কী ব্যাপার ? ফ্লোরে এইভাবে চিত হয়ে আছিস কেনো তোরা??
এবার লামিয়া দু হাত মাথার নিচে দিয়ে, পা দুটো তায়েবার পায়ের উপর তুলে চোখ সিলিংয়ের উপর রেখে বললো
– শুয়ে আছি, শরীরে খুব ব্যাথা।
লাবিব ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে বললো

– কেনো?
লামিয়া মুখ বাঁকিয়ে বললো
– কারণ কয়েকদিন ধরে খুব সুখে ছিলাম তাই ভুত এসে কিলিয়ে গেছে।
পাশ থেকে মাহির, তায়েব, তায়েবা এক সাথে বলে উঠলো
– তাই বলে বেশি সুখে থাকলে মানুষের নজর লেগে যায়। আজ তা হাতে নাতে প্রমাণ পেয়েছি।
হঠাৎ তায়েব শোয়া থেকে উঠে বসে লাবিবের দিকে তাকিয়ে বললো
– লাবিব ভাই আমাদের সুখে যে এই নজর লেগেছে তা কীভাবে সরাবো?
লাবিব বাঁকা হেঁসে বললো

– এখন থেকে তোরা কপালে কালো টিকা লাগিয়ে ঘুরে বেড়াবি। কারোর নজর লাগবে ও না আর ভুতে ও কিলাবে না।
লাবিবের কথা শুনে লামিয়া বিরক্ত হয়ে বললো
– কার কাছে কী বলছিস? এই লোকটাই সবার আগে আগে আমাদের সুখে নজর লাগাবে। এসব লোকদের কাছে কিছু বলতে নেই।
পাশ থেকে মাহির বলে উঠলো
– ঠিক ঠিক একদম ঠিক। তোর সাথে আমি একমত।
এতোক্ষণ ধরে লাবিব তাদের কথা শুনে হঠাৎ চারজনের উপর থুথু ছিটিয়ে দিয়ে বললো
– নে এবার আর কারোর নজর লাগবে না। তোদের আমি নজর টিকা থুথু মেরে দিলাম। বলেই আবার থুথু দিলো।
লাবিবের এমন কান্ডে চারজন দ্রুত সরে গিয়ে ওয়াক থু থু করতে লাগলো মনে হচ্ছে এখনই তারা বমি করে দিবে।
তায়েবা বিরক্ত হয়ে বললো

– ইয়াকক ছিঃ লাবিব ভাই আপনি এতো পিশাচ এইভাবে গায়ে কেউ থুথু মারে ছিঃ।
পাশ থেকে মাহির বললো
– এতোটা খচ্চর তুমি আগে জানতাম না লাবিব ভাই।
ছিঃ।
পাশ থেকে তায়েব মাথায় হাত দিয়ে চোখ ঘোরাতে ঘোরাতে বললো
– কে কোথায় আছিস ধর আমাকে থুথুর জঘন্য গন্ধে আমার মাথা ঘোরাচ্ছে ওয়াককক।
তায়েবের কথা শুনে মাহির তায়েবের পিঠে কিল মেরে বললো
– তুই তো আরেক খচ্চর, তুই এই থুথু আবার নাকে নিয়ে শুকেচ্ছিস ছিঃ।
লাবিব ভ্রু কুঁচকে তাদের কথা শুনে কিছু বলতে যাবে তার আগেই লামিয়া বলে উঠলো

– লাবিব ভাই আপনি সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্রাশ করেননি তা মুখে বললেই বুঝতাম কিন্তু গন্ধযুক্ত থুথু গাঁয়ে উপর দিয়ে আপনি ব্রাশ করেননি তা না বোঝালেও পারতেন। ছিঃ আপনার গন্ধযুক্ত থুথু গাঁয়ে উপর পড়তেই আমার শরীর নাপাক হয়ে গিয়েছে যাই তাড়াতাড়ি গায়ে সোনা রূপার পানি দিয়ে গোসল করে আসি। আর হ্যাঁ প্লিজ ভুলেও কাউকে আপনার এই গন্ধযুক্ত থুথু গাঁয়ে দিয়ে নজর টিকা দিবেন না। আপনার এই গন্ধযুক্ত থুথু নজর টিকা না বরং সোজা উপরের যাওয়ার টিকা। ছিঃ ছিঃ ছিঃ লাবিব ভাই আপনার মতো একটা ছেলের মুখে এতো বাজে গন্ধ ছিঃ ভাবতে পারিনি। আর কী পেস্ট ব্যাবহার করেন? আপনার টুথপেস্টে কী লবণ নেই নাকি? যদি না থাকে তাহলে প্লিজ লবন দিয়ে ব্রাশ করবেন।
বলেই ইয়াকক ছিঃ ছিঃ ছিঃ বলে রুমের দিকে রওনা হলো।
তায়েব, তায়েবা, মাহির ও দাঁড়িয়ে একসাথে লাবিবের দিকে তাকিয়ে ছিঃ ছিঃ ছিঃ বলে লামিয়া কে বললো

– দাঁড়া আমাদের ও গোসল করতে হবে আমরাও আসছি বলেই দৌড়াতে লাগলো।
লাবিব মুখ লটকে চুপ করে পাশে তাকাতেই দেখলো রাশেদ, আবির, জাহিদ, সাফওয়ান, আরিফ, শারমিন, লামহা, হামিদা হাফসা, ফারিয়া, সবাই মুখ চেপে হাসছে।
লাবিবের লটকানো মুখ দেখে তারা উচ্চ স্বরে হেঁসে উঠলো। তা দেখে লাবিব মুখ ফুলিয়ে চলে যেতে নিলেই রাশেদ লাবিবের কাঁধে হাত রেখে বললো
– কিছু মনে করিস না ভাই। আজকে সকালে ওদের উপর সুনামি গিয়েছে তাই তোর উপর রাগ ঝেড়েছে।
লাবিব রাশেদের কথা বুঝতে না পেরে মাথা নাড়িয়ে বললো
– সুনামি কীসের সুনামি??
রাশেদ তা শুনে সকালের কাহিনী একে একে বলতে লাগলো।
খান বাড়িতে,
পরনে জিন্স আর কালো শার্ট। ঠোঁটে লাল লিপস্টিক, চোখের সানগ্লাস মাথায় তুলে রেখে আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজেই নিজেকে বলে উঠলো

– ওহো মনিকা তোকে কতো সুন্দর লাগছে। উফ আজকের লাবিব তোকে দেখলে ফিদা হয়ে যাবে।
বলেই আয়নার তাকিয়ে নিজেকে ফ্লাইং কিস ছুঁড়ে পকেটে ফোনটা এঁটে হাঁটা দিলো ইসলাম বাড়িতে।
আজকে সাফওয়ান, হামিদা আর লামহা,আবিরের বিয়ের শপিং করতে যাবে ইসলাম আর খান বাড়ির ছেলেমেয়েরা। সেই কখন থেকে চারজনের জন্য সবাই বসে আছে কিন্তু তাদের এখনো খবর নেই।
মনিকা ইসলাম বাড়িতে এসেই দৌড়ে লাবিবের সাথে লেগে বসলো তা দেখে সবাই বিরক্ত চোখে তাকালো। লাবিব চোখ মুখ শক্ত করে বললো

– দূরত্ব রেখে বসো।
কিন্তু মনিকা তা পাত্তা না দিয়ে আরো ঘেঁষে বসলো।
সামির আর শারমিন এক সাথে বসে হেঁসে কথা বলছে
রাশেদ তা ক্ষুব্ধ নয়নে দেখছে। ইচ্ছে করছে ওই সামিরকে মেরে ফেলতে কিন্তু নিজের ইচ্ছেকে দমিয়ে রেখে রেগে চোখ অন্যদিকে ঘোরালো।
ফোনে কথা বলতে বলতে সিঁড়ি দিয়ে নামছে শুভ্র। মনিকা হঠাৎ সিঁড়ির দিকে তাকাতেই তার চোখ কপালে উঠে গেলো। এতো দিন বাড়িতে না থাকার কারণে শুভ্র কে সে দেখেনি। আজ প্রথম সে শুভ্র কে দেখলো।
একবার লাবিবের দিকে তাকিয়ে আবার শুভ্রর দিকে তাকালো লাবিবের চেয়ে এই ছেলে এতো সুন্দর কে এই ছেলে?? আগে তো দেখিনি। ওয়াও ভেরি হ্যান্ডসাম বয় ইসকা সাথ তো মাজা আয়ে গা। যেভাবেই হোক পটাতে হবে এই মালকে ভেবেই মনিকা বাঁকা হাসলো।

শুভ্র এসে সোফায় বসতেই মনিকা লাবিবের থেকে সরে লাফ দিয়ে শুভ্রর সাথে বসলো। হঠাৎ এমন হওয়ায়
শুভ্র চমকে উঠলো। আশেপাশে তাকিয়ে সবার মুখ দেখে বুঝলো তারাও চমকে গিয়েছে এই অবস্থা দেখে।
লাবিব হতভম্ব হয়ে তাকালো মনিকার দিকে তারপর কপাল কুঁচকে অন্যদিকে তাকালো।
মনিকা শুভ্রর দিকে হাত বাড়িয়ে হেঁসে বললো
– হাই আমি মনিকা, লাবিবের ফ্রেন্ড। তোমার নাম??
মনিকার কথা শুনে সবার চোখ কপালে। যে মেয়ে লাবিবের গার্লফ্রেন্ড বলে নিজেকে সবার কাছে পরিচয় দেয় আর আজকে আবরারকে তার ফ্রেন্ড বলে পরিচয় দিচ্ছে। আর চেনে না জানে না আগ বাড়িয়ে কথা বলছে আবার প্রথম কথায় একবারে তুমি?? বিদেশে থেকেছে তাই এমন, সবাই আবার চোখ অন্যদিকে ঘোরালো।
শুভ্র ভদ্রতার খাতিরে হালকা হেঁসে হাত না ধরে বললো

– হাই আমার নাম আবরার। রাশেদের ফ্রেন্ড।
শুভ্রর কথায় মনে হলো খুশি হলো মনিকা। আর কিছু না বলে চুপচাপ শুভ্রর পাশ ঘেঁষে বসে রইল। শুভ্র একটু সরতেই মনিকা শুভ্রর দিকে আরো একটু এগিয়ে এলো।
শুভ্র শুকনো ঢোক গিলে রাশেদের দিকে তাকিয়ে চোখ গরম করতেই রাশেদ দাঁত কেলিয়ে হাসলো। তার হেব্বি মজা লাগছে শুভ্রর এই অবস্থা দেখে।
রাশেদের হাঁসি দেখে শুভ্র কটমট করে তাকালো তার দিকে শুভ্র যে চোখ দিয়ে ইশারা করছে এই আপদকে তার থেকে সরাতে। রাশেদ তা ভালো করেই বুঝতে পারছে কিন্তু না বোঝার ভান করে অন্যদিকে তাকালো।
তখনই নিচে নেমে এলো তায়েব, তায়েবা, মাহির, লামিয়া।
তাদের নিচে নামতে দেখে আরিফ বিরক্ত হয়ে বললো

– ওইতো এসে গিয়েছে। তোদের এতো দেরি হয় কয় কেজি আটা ময়দা দিয়েছিস মুখে দেখি।
আরিফের কথা পাত্তা না দিয়ে চারজন সামনে তাকাতেই দেখলো মনিকা শুভ্রর সাথে একদম লেগে বসে আছে। তা দেখে লামিয়া বাঁকা চোখে তাকালো শুভ্রর দিকে। শুভ্র লামিয়ার দিকেই তাকিয়ে আছে।
এখন একটু সুস্থ মনে হচ্ছে লোকটাকে। মাথায় এখনো ব্যান্ডেজ করা, ক্ষত কী বেশি গভীরে? তাতে তার কি তাঁকে যখন মেরেছিলো তখন। বলেই চোখ সরাতে গিয়েও সরালো না শুভ্র পা থেকে মাথা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করলো এই লোকটা আজ কী একটু বেশি সুন্দর লাগছে?? গাঁয়ে কফি রঙের শার্ট আর ক্রিম রঙের প্যান্ট এইগুলো কী প্যান্ট তা তার জানা নেই, ছেলেদের
পোশাক আশাক নিয়ে সে কোনোদিন মাথা ঘামায়নি আর আজকেও ঘামাবে না। ভেবে আবার তাকালো
সিল্কি চুল গুলো কপালে এসে পড়েছে।
হাতে একটা স্মার্ট ওয়াচ দেখে মনে হচ্ছে বেশ দামী
এই ঘড়ির কালেকশন তার কাছে নেই ভেবেই আফসোস করলো মনে মনে। শুভ্র লামিয়ার মনের কথা হয়তো বুঝতে পারলো তাই মনে মনে হাসলো।

লামিয়া মনিকার দিকে তাকালো এইবার শুভ্রর সাথে ঘেঁষে বসে আছে তা দেখে মনের মধ্যে কেমন একটা অনুভব হলো। বেশ বিরক্ত হলো কেনো বিরক্ত লাগছে তা সে জানে না। বিরক্ত চোখে পাশে তাকাতেই দেখলো
লাবিব মুখ ফুলিয়ে বসে আছে। তা দেখে লামিয়া সয়তানি হাঁসি দিয়ে বললো
– বুঝলি তায়েব অতি সুন্দরী এবং অতি স্মার্ট নারী মানুষ ভালা না রে, অভিনয়ের জন্য এমন নারী সেরা রেহহ। বলেই দুঃখি মুখ বানিয়ে লাবিবের দিকে তাকালো।
লামিয়া যে লাবিবকে উদ্দেশ্য করে বললো তা বুঝতে কারোর বাকি নেই। তুফান উঠার আগে রাশেদ সবাইকে তারা দিলো বের হওয়ার জন্য।

সবাই পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত বেরিয়ে গেলো।
শুভ্র দ্রুত উঠে রাশেদের সাথে চলে গেলো। মনিকা ও তার পিছন পিছন হাঁটা দিলো। লামিয়া তা দেখে বিরক্ত হয়ে হাঁটা দিলো।
আজকে কেউ আর বাইক নিবে না। সবাই গাড়িতে যাবে। তাই বড় একটা গাড়ি গ্রেজ থেকে বের করে সবাই উঠে পড়লো গাড়িতে।

হামিদা সাফওয়ান সামনের সিটে কারণ সাফওয়ান ড্রাইভ করবে। হামিদার সাথে আবির, আরিফ মাহিরের সাথে মাহিরকে বসানো হলো হাফসার সাথে, তায়েবকে বসানো হলো জাহিদের সাথে আবার জাহিদের পাশে বসানো হলো ফারিয়াকে তাঁর পাশে তায়েবা, তার পাশে শারমিন আবার শারমিনের পাশে সামির বসতেই রাশেদ দ্রুত শারমিনের পাশে বসে গেলো তা দেখে সামির ভ্রু কুঁচকে তাকালো। লাবিবের পাশে লামিয়া বসেছে তা শুভ্র ভ্রু কুঁচকে লামিয়ার পাশে এসে বসে পড়লো । লামিয়া ফোনে ডুবে আছে তাই সে আশেপাশে কাউকে তাকিয়ে ও দেখছে না। শুভ্র লামিয়ার পাশে বসেছে দেখে মনিকা কপাল কুঁচকে তাকালো তারপর মুখ ফুলিয়ে পিছনে সামিরের সাথে বসলো।

সবাই উঠেছে দেখে সাফওয়ান গাড়ি স্টার্ট দিলো।
ফোনে থেকে চোখ সরিয়ে লামিয়া বাম পাশে তাকিয়ে দেখলো লাবিব বসে আছে তা দেখে চোখ কুঁচকে ডান পাশে না তাকিয়ে ফোন বাড়িয়ে বললো
– মাহির ফোনটা পকেটে রাখ।
শুভ্র ও চুপচাপ ফোনটা হাতে নিয়ে পকেটে রেখে চুপচাপ তাকিয়ে রইল লামিয়ার দিকে। লামিয়া ভেবেছে পাশে মাহির বসেছে তাই কিছু বলার জন্য ডান দিকে তাকাতেই হকচকিয়ে উঠলো। তারপর আবার বাম পাশে তাকিয়ে আবার ডান পাশে তাকিয়ে চিৎকার করে বললো
– বড় ভাই গাড়ি থামাও তাড়াতাড়ি।
রাশেদ বিরক্ত হয়ে বললো
– এমন চেঁচামেচি করছিস কেনো সমস্যা কী?
লামিয়া দুঃখি ভাব নিয়ে বলে উঠলো

– বড় ভাই এইখানে দুটো ছেলের মাঝে আমি বসে আছি। আমি এখানে বসবো না। ছেলেদের থেকে এলার্জি আছে আমার জানো না??
লামিয়ার কথা শুনে লাবিব ভ্রু কুঁচকালো।
রাশেদ বলে উঠলো
– এখন আর জায়গা চেন্জ করা যাবে না। যেখানে আছিস সেখানেই থাক।
লামিয়ার ইচ্ছে করছে নিজের চুল ছিঁড়তে। ঠোঁট কামড়ে ধরে রাগ কন্ট্রোল করলো। তার এই পরিস্থিতির মধ্যে একটা গান মনে পড়ছে
– আমার ডানে আছে আবরার ভাই আর বামে আছে লাবিব ভাই এই দুইভাই থাকলে আমার কোনো শত্রুর দরকার নাই। কারণ এই দুইজন আমার জাত শত্রু।
তখনই হঠাৎ তায়েব গান প্লে করলো

– ডাক দিয়াছে দয়াল আমারেএএ
রইবো না আর বেশিদিন তোদের মাজারে
তায়েবের বাজানো গান শুনে সবার ই আতংকে উঠলো। বড় বড় চোখ করে তাকালো সবাই তায়েবের দিকে।
লাবিব হা করে পানি খাচ্ছিলো তায়েবের গান শুনে পানি ছিটকে মুখ থেকে পড়ে গিয়ে, কাঁশি উঠে গেলো।
লামিয়া রেগে লাবিবের হাত থেকে বোতল নিয়ে সিটে থেকে দাঁড়িয়ে তায়েবের মাথায় চার পাঁচটা বারি বসিয়ে দিয়ে রাগি কন্ঠে বললো

প্রিয় রাগিনী পর্ব ২৪

– চাচার ঘরের পোলা তোরে দয়াল ডাক দিছে ভালো কথা তুই একা মর দূরে গিয়ে, চলন্ত গাড়িতে কোন শালা এমন গান বাজায় বোঝা আমারে । বলেই আরো একটা বারি দিয়ে বসলো।
রাশেদ রেগে বললো
– আর দুইটা দে আমার তরফ থেকে।
তাদের এমন কথা শুনে তায়েব মুখে ফুলিয়ে বসে রইলো।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ২৬