প্রিয় রাগিনী পর্ব ৩৩ (২)
লামিয়া ইসলাম শাম্মী
সবাই স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে আজমেরী বেগম এর দিকে। মানুষ এতো ভয়ানক সাজতে পারে তা আজমেরী বেগম কে না দেখলে বোধহয় বোঝা যেতো না। কান্না করতে করতে রাশেদা বেগম এর মাথায় পানি ঢালছে তিন জা। রাশেদ, আরিফ, শুভ্র, হামিদ, হাশিম, আজমির সাহেব আনিসুল সাহেব কে নিয়ে ব্যাস্ত।
আজমেরী বেগম ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। মনিরা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বললো ” আমি আবারো বলছি আম্মার জন্য কোনদিন যেনো আমরা সবাই স্ট্রোক করবো।”
মনিরা বেগম এর কথা শুনে বেশ তেতিয়ে উঠলো আজমেরী বেগম ” আমার লেইগ্গা স্ট্রোক করবা কেন আমি কি টইগর নি যে স্ট্রোক করবো সবাই আমারে দেখলে..?”
” আপনি টাইগার হতে যাবেন কেনো? আপনাকে দেখলে ওই আপনার টইগর ও হার্ট ফেল করে মারা যাবে। আর আমরা তো মানুষ।” পাশ থেকে বলে উঠলো তাহমিনা বেগম।
” ওই ছোট্ট বউ তুমি কি কইবার চাও আমি দেখতে ভুতের মতো..?”
” তার থেকেও ভয়ঙ্কর আপনি আম্মা।” মিনমিন করে মুখ ফসকে বলে উঠলো লতিফা বেগম।
সেই মিনমিন করা কথা টুকু আজমেরী বেগম শুনে ও ফেলেছে। তার মতো এতো রূপবতী নারী কে ভুতের চেয়ে ও খারাপ দেখা যায়। না আজমেরী বেগম আর কিছু ভাবতে পারলো না।
লতিফা বেগম এর উপর রেগে দাঁতে দাঁত চেপে বললো ” ইউ ফেকিং মেজ বউ, ইউ অনকালাচার গাইয়া তুমি কি জানো পেসেন কাকে বলে। ইউ জানো আমার পেমে কতো পোলারা দিবানা আছিলো? আমারে এখনো কচি কচি পোলারা ম্যারিড পোপোজাল দেয়। শুধু তোমগো দিকে তাকাইয়া আমি ম্যারিড করি না। আর তোমরা কি না আমাকে ভুতের সাথে তুলনা দিলা.? থাকুম না এই বাইত্তে আমি তোমরাই থাকো।
বলেই মুখে আঁচল গুঁজে হুঁ হুঁ করে কেঁদে নিজের রুমে চলে গেলেন।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
তায়েব কে হামিদা আর লামহা মিলে চোখ মুখে পানি ছিটিয়ে জ্ঞান ফিরিয়ে ধরে সবেই সিঁড়ি দিয়ে তায়েব এর রুমের দিকে পা বাড়িয়ে ছিলো। ঠিক তখনই আজমেরী বেগম হুট করে সামনে দাঁড়াতেই তায়েব মাথা তুলে তাকালো। আজমেরী বেগম ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে তা দেখে তায়েব আবারো চিৎকার করে উঠলো ” বড় আপা মঞ্জলিকা ” বলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেললো। তা দেখে আজমেরী বেগম আবারো হুঁ হুঁ করে কেঁদে দৌড়ে চলে গেলো তাঁর রুমে। এই বাড়িতে তাঁর ফেশন সেন্স কেউ বুঝে না। এই কষ্ট সে কোথায় রাখবে।
বেশ কিছুক্ষণ পর আনিসুল সাহেব আর রাশেদা বেগম আস্তে আস্তে চোখ খুললেন। তা দেখে সবাই স্বস্তির শ্বাস ফেললো।
জ্ঞান ফিরতেই আনিসুল সাহেব তার পরনের লুঙ্গি ভেজা অনুভব করতেই বিরক্ত হয়ে হামিদ সাহেব কে বললো ” আমার লুঙ্গির উপর পানি ফেলেছিস কেনো বেয়াদব। পুরো লুঙ্গি টাই ভিজিয়ে দিয়েছিস।”
আনিসুল সাহেব এর কথা শুনে হামিদ সাহেব কিছু বললো না। এখানে তাদের ছেলেমেয়েরা আছে। ছেলেমেয়েদের সামনে যদি বলে এই বয়সে এসে ভুতের ভয়ে সে লুঙ্গিতে মূত্র বিসর্জন দিয়েছে তাহলে তাঁর বড় ভাইয়ের লজ্জায় মাথা কাঁটা যাবে। আর তাঁর উপর তো আয়না ও আছে বাড়ির নতুন বৌ।
ওইদিকে মাহির, তায়েব, তায়েবা, লামিয়া, হামিদা,লামহা, রাশেদ, আরিফ, ছবি, ইমন, ইভান সব মিটমিট করে হাসছে। শুভ্র বেশ গম্ভীর মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আয়না মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এই অবস্থায় তাঁর কি হাসা ঠিক হবে কি না সে বুঝতে পারছে না।
” হারামজাদা বুইড়া বয়সে আইয়া ভুতের ভয়ে লুঙ্গি তে মুইত্তা দিয়া ছোট্ট ভাইরে কয় ওর লুঙ্গিতে বলে পানি ধাইল্লা দিছে।” পিছন থেকে আজমেরী বেগম বেশ বিরক্ত গলা বলে উঠলো আনিসুল সাহেবকে।
আজমেরী বেগম তাঁর ভুতের সাজ পরিষ্কার করে এসেছিলো ছেলের জ্ঞান ফিরেছে কি না তা দেখতে এসেই ছেলের মুখের কথা শুনে বেশ বিরক্ত হয়ে কথা গুলো বলে দিলো।
আজমেরী বেগম এর কথা শুনে আনিসুল সাহেব থতমত খেয়ে তাকালো আজমেরী বেগম এর দিকে।
লামিয়া, তায়েব, তায়েবা,মাহির , ইভান, ইমন পারছে না হাসতে হাসতে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে।
আজমেরী বেগম তাঁর ছেলের চাহনি দেখে আরো বিরক্ত হয়ে বললো ” ছোট্ট বেলায় ভুত ভুত কইরা পেন্টের মধ্যে হাইগ্গা ও দিতি ভয়ে। ভাবছিলাম বুইড়া বয়সে অন্তত আমারে শান্তি দিবি কিন্তু তা না এই বুইড়া বয়সে আইয়া ও লুঙ্গি তে মুত্তা দেওন ই লাগলো তোর।”
আজমেরী বেগম এর কথায় হামিদ, হাশিম, আজমির সাহেব মুখ চেপে হাসছে। লতিফা, তাহমিনা, মনিরা বেগম কি করবে বুঝতে না পেরে হা করে তাকিয়ে আছে আজমেরী বেগম এর দিকে।
আনিসুল সাহেব তাঁর মায়ের দিকে অসহায় চোখে তাকিয়ে আছে। ছেলে মেয়েদের সামনে তাঁর মা তাঁর ইজ্জতের ফালুদা না করলেও পারতো।
আজমেরী বেগম নিচে গিয়ে একটা ময়লা ত্যানা এনে বললো ” এখনো বইয়া আছোস কেন মুতের মধ্যে উঠ নাকি এহন কোলা নিয়া উঠান লাগবো তোরে?”
আনিসুল সাহেব ভাইদের মুখের দিকে তাকাতেই তাঁরা হাঁসি বন্ধ করে আনিসুল সাহেব কে ধরে দাঁড় করিয়ে আস্তে আস্তে তাঁর রুমে নিয়ে যেতে লাগলো।
আজমেরী বেগম আনিসুল সাহেব কে বকতে বকতে ফ্লোর পরিষ্কার করতে লাগলো।
লতিফা, তাহমিনা , মনিরা বেগম রাশেদা বেগম কে নিয়ে তাঁর রুমের দিকে হাঁটা দিলো।
এইদিকে সবাই যেতেই লামিয়া, তায়েব, তায়েবা মাহির হো হো করে হেঁসে উঠলো।
আজমেরী বেগম তাদের হাঁসি দেখে আরো বিরক্ত হয়ে ধমকে বললো ” রাইত কয়ডা বাজে হিসেব আছে তোগো যা ঘুমাইতে যা। ” বলেই ফ্লোর পরিষ্কার করে চলে গেলো নিজের রুমে।
আজমেরী বেগম যেতেই মাহির বলে উঠলো ” ইসলাম বাড়ির ইতিহাসের পাতায় আজকে রাতের ঐতিহাসিক কাহিনী টা ও লিখে রাখবো জানি আমাদের প্রজন্ম ও মজা নিতে পারে এসব পড়ে।”
মাহির এর কথা শুনে লামিয়া, তায়েব, তায়েবা হেঁসে নিজের রুমে চলে গেলো। কালকে আবার সকাল সকাল উঠতে হবে কারণ কালকে থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু। তাই কেউ আর কোনো কথা না বাড়িয়ে চলে গেলো ঘুমাতে।
সকাল সকাল খান ও ইসলাম বাড়িতে শুরু হলো সকালের ব্যাস্ততা। আজ মেহেদী অনুষ্ঠান হবে।
সকাল থেকে আত্মীয় স্বজনদের আনাগোনা চারপাশে।
বেলা বাজে দশটা।
কালকে ইসলাম বাড়ির ছেলে মেয়েরা দেরি তে ঘুমানোর কারণে এখনো উঠছে না দেখে মা চাচি রা ঝাড়ু জুতো নিয়ে চলে গিয়েছে তাদের জাগাতে।
বেশ চিৎকার চেঁচামেচি করে তাদের ঘুম ভাঙিয়ে উঠিয়ে মা চাচিরা আবার কাজে লেগে পড়েছেন।
হামিদা, লামহা দ্রুত ফ্রেশ হতে চলে গেলো কারণ পার্লারে যেতে হবে তাদের। দ্রুত ফ্রেশ হয়ে নিচে নামতেই দেখলো শারমিন, হাফসা, ফারিয়া, মনিকা ছবি, আয়না বসে আছে তাদের জন্য। লামিয়া তায়েবা কে ও পার্লারে যেতে বলেছিলো কিন্তু তাঁরা সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছে তাঁরা পার্লারে যাবে না। তাই তাদের আর জোড় না করে তাঁরাই বেরিয়ে গেলো।
হামিদা দের দেখে সাফওয়ান আর আরিফ গাড়িতে উঠে বসলো। কারণে তাঁরা দুজন তাদের পার্লারে পৌঁছে দিবে এবং নিয়ে ও আসবে।
সবাই গাড়িতে উঠে বসতেই সাফওয়ান গাড়ি স্টার্ট দিয়ে রওনা হলো পার্লারের উদ্দেশ্যে।
ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে বাগানে বসে বসে ফোনের মধ্যে ভাইরাল ডগ ডান্স দেখে হাসা হাসি করছে লামিয়া, মাহির, তায়েব, তায়েবা, ইভান, ইমন।
তায়েব হাতে কলা। কলা খেতে খেতে একটু পর পর হেসে উঠছে।
তখনই বেশ তাড়াহুড়ো করে শুভ্র আর রাশেদ বাড়ির থেকে বের হতেই সবার চোখ তাদের উপর যেয়ে পড়লো। রাশেদ আর শুভ্র গেটের সামনে যেয়ে দাড়াতেই একটা কালো গাড়ি এসে থামলো গেটের সামনে। লামিয়া রা ফোন রেখে তাকালো সেদিকে এমন কে আসছে যে তাঁরা এমন তাড়াহুড়ো করে দৌড় দিয়েছে সেদিকে বিষয় টা দেখতে হচ্ছে।
শুভ্র চুপচাপ দাঁড়িয়ে চোখ ঘুরিয়ে লামিয়ার দিকে তাকালো। লামিয়া আর শুভ্রর চোখাচোখি হলো কিন্তু কেউ চোখ সরালো না। গাড়ি থেকে দুটো মেয়ে বেরিয়ে আসতেই লামিয়ার কপাল কুঁচকে এলো।
একটি মেয়েটি গাড়ি থেকে বেরিয়েই শুভ্র কে জড়িয়ে ধরতে যাবে তাঁর আগেই শুভ্র রাগি চোখ করে তাকাতেই মেয়েটা পিছিয়ে গেলো।
তায়েব কলা খেয়ে কলার খোসা ছুঁড়ে মারলো রাস্তার মাঝে। তারপর হাত ঝাড়া দিয়ে বললো ” এইটা সেদিনের সেই শপিং মলের মেয়ে টা না আবরার ভাইয়ের ফ্রেন্ড ন্যাকা মিলি..?”
তায়েবের কথায় মাহির বললো ” হ্যাঁ হ্যাঁ সেই মেয়েটাই তো শুধু আবরার ভাইয়ের না রাশেদ ভাইয়ের ও ফ্রেন্ড।”
পাশ থেকে তায়েবা বললো ” তা ঠিক আছে কিন্তু এখানে আমাদের বাড়িতে কেনো?”
মাহির তায়েবার কথায় বললো ” হয়তো রাশেদ ভাই ইনভাইট করেছে। ”
বলেই সামনে তাকাতেই দেখলো মিলি তাদের দিকে কেমন বিরক্ত চোখে তাকিয়ে আছে। তা দেখে তায়েবা ভ্রু কুঁচকে বললো ” মেয়েটা কী আমাদের উপর বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে আছে..?”
” তাই তো মনে হচ্ছে মেয়েটা কে আমার কিন্তু ভালো লাগছে না। ” পাশ থেকে বলে উঠলো ইভান।
লামিয়া ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে সেদিকে। রাশেদ আর শুভ্রর সাথে কথা বার্তা বলে মিলি আর তিহা গেটের ভিতরে প্রবেশ করে টুকটাক কথা বলতে বলতে বাড়ির দিকে যেতে লাগলো। হঠাৎ মিলি হাঁটা থামিয়ে লামিয়ার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেঁসে এগিয়ে এলো লামিয়ার দিকে। তা দেখে তায়েবা, মাহির, ইভান, ইমন,তায়েব ভ্রু কুঁচকে তাকালো তাঁর দিকে। রাশেদ আর শুভ্র তাকিয়ে আছে লামিয়ার দিকে। মিলি রাশেদের দিকে তাকিয়ে বললো ” ওহ গড রাশেদ এটা কী তোমার বোন..?”
রাশেদ হেঁসে বললো ” হ্যাঁ এইটা আমার বোন নাম লামিয়া। তাঁর পাশে যে আছে আমার বোন নাম তায়েবা। ওরা আমার ভাই বোন সবাই।” বলে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো রাশেদ।
মিলি বাঁকা হেঁসে লামিয়া কে দেখিয়ে বললো ” রাশেদ সব ই বুঝলাম কিন্তু এই মেয়েটা কালো কেনো..? তোমারা সব ভাই বোন এতো সুন্দর সুন্দর আর এই মেয়েটার গাঁয়ের রং ময়লা কেনো..? শুনো মেয়ে এখনকার দিনে কোন মেয়ে এমন ময়লা থাকে বলো?? মার্কেটে ভালো মানের ফর্সা হওয়ার ক্রিম পাওয়া যায়। সেগুলো মুখে মাখতে পারো না? আমার কাছে অনেক প্রডাক্ট আছে ফর্সা হওয়ার। তুমি চাইলে আমি দিতে পারি দেখবে একদিনেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছো।” বলেই হেঁসে উঠলো মিলি।
মিলির এমন কথা শুনে মাহির, তায়েবা, তায়েব, রাশেদ, ইভান, ইমন এর বেশ রাগ হলো। লামিয়া বেশ শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মিলির দিকে।
মাহির রেগে কিছু বলতে যাবে তার আগেই পিছন থেকে শুভ্র বলে উঠলো ” গাঁয়ের রং কালো হোক বা সাদা এইসব ম্যাটার করে না। যার মন সুন্দর সে এই দুনিয়ার সব চেয়ে সুন্দর মানুষ। কালো রং যদি ময়লা হয় তাহলে একটা চুল পেকে সাদা হলে মানুষ সেই সাদা পাকা চুলটি কে মানুষ কালো করার জন্য টাকা দিয়ে কালি কিনে কালো করতো না। তাই নিজের মন কে আগে পরিস্কার করো তারপর চোখ দিয়ে দেখবে কে পরিষ্কার আর কে ময়লা।”
বলেই লামিয়ার দিকে তাকালো। লামিয়া এখনো শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মিলির দিকে।
শুভ্রর কথা শুনে মিলি হালকা হেসে বললো ” আরে চিল আমি তো এমনেই বলে ছিলাম। যাই হোক লামিয়া আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনি।”
বলেই বাঁকা হাসলো লামিয়ার দিকে। তাঁর চোখ স্পষ্ট বলে দিচ্ছে সে ইচ্ছে করে কষ্ট দেবার জন্যই বলেছে।
লামিয়া হাই তুলে মিলি কে ইগনোর করে আবার ফোনে চোখ দিলো। মিলি তা দেখে বাঁকা হেঁসে হাঁটতে হাঁটতে ফুরুত করে স্লিপ খেয়ে পড়ে গেলো তায়েবের ফালানো কলার খোসায়।
ঠাস করে পড়ার শব্দ শুনে সবাই ঘুরে তাকালো মিলির দিকে। মিলি পড়ে যেয়ে কোমড়ে হাত রেখে ব্যাথায় ককিয়ে উঠলো। শুভ্র মিলি কে দেখেও না দেখার ভান করে পকেট থেকে ফোন বের করে কানে তুললো। রাশেদ চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।
তায়েব, তায়েবা, মাহির, ইভান, ইমন, লামিয়া হেঁসে উঠলো। তা দেখে মিলি রেগে তাদের দিকে তাকালো।
লামিয়া ফোনে সেই ভাইরাল ডগ ডান্স এর মিউজিক টা প্লে করতেই ছয়জন একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে সোজা হয়ে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে সেই ভাইরাল ডগ এর মতো দু হাত উপড়ে তুলে নাড়িয়ে কোমড়ে হাত রেখে কোমড় দুলাতে দুলাতে বাড়ির দিকে চলে গেলো। তা দেখে শুভ্র আর রাশেদ হেঁসে উঠলো।
মিলি কে বাড়ির সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে আলাদা একটা রুমে মিলি আর তিহা কে থাকতে দিলো।
এইদিকে আজমেরী বেগম সেই ক্ষেপেছেন কারণ তাঁকে রেখে হামিদা রা পার্লারে চলে গিয়েছে। এই নিয়ে তিনি বেশ চিল্লাচিল্লি করছেন। লামিয়া আর তায়েবা এসে তাঁকে ধরে নিয়ে গেলো পার্লারের মতো ট্রিটমেন্ট দিতে।
আজ মেহেদি অনুষ্ঠান তাই ইসলাম বাড়িতেই মেহেদী অনুষ্ঠান হবে। বেশ সুন্দর করে ইসলাম বাড়ির বাগানে সব কিছু সাজানো হচ্ছে।
স্টেজ সাজানোর দ্বায়িত্ব পুরো লামিয়া আর তায়েবা নিয়েছে। তাই তাঁরা বেশ মনোযোগ দিয়েই কাজ করছে।
শুভ্র, আর জাহিদ এসেছিলো তাদের কাজ কতোদূর এগিয়েছে তা দেখতে। তাঁরা বাগানে আসতেই দেখলো
লামিয়া অন্য পাশে ফুল লাগাচ্ছে আর তায়েবা একটা টুলে উঠে অন্যপাশে ফুল লাগাচ্ছে। জাহিদ তায়েবা কে দেখে দাঁড়িয়ে গেলো। জ্যাকি দৌড়া দৌড়ি করছে বাগানে তাঁর পিছনে ব্ল্যাকি। লামিয়া তাঁদের গলায় ছোট্ট করে ফুলের মালা পড়িয়ে দিয়েছে। তা দেখে শুভ্র হালকা হেঁসে এগিয়ে গেলো লামিয়ার কাছে। লামিয়া তায়েবা এখনো জাহিদ আর শুভ্র কে খেয়াল করে নি।
জ্যাকি দৌড়ে টুলের কাছে এসে ধাক্কা খেতেই টুল নড়ে উঠলো। তায়েবা ভয়ে পিছিয়ে পড়ে যেতে নিলেই জাহিদ দৌড়ে তায়েবার কোমড় পেঁচিয়ে ধরলো। তায়েবা ভয়ে চোখ বুজে আছে। যখন অনুভব করলো সে শূন্যে ভাসছে তখনই চোখ খুলে জাহিদের দিকে তাকাতেই চমকে উঠলো । জাহিদ তায়েবার দিকে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো ” এখন ই কোমড় টা ভেঙে গেলে কি হতো…?”
তায়েবা ও রাগ দেখিয়ে বললো ” কোমড় ভাঙলে আমার ভাঙবে আপনার কী..?”
তায়েবার কথায় জাহিদ তায়েবার কোমড় খামচে ধরতেই তায়েবা ব্যাথায় চোখ বন্ধ করে ফেললো।
তা দেখে জাহিদ হালকা হেসে নামিয়ে দিলো তায়েবা কে। তায়েব জাহিদ এর দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে চলে গেলো বাড়ির ভেতরে। এই লোক ইদানিং একটু বেশি বাড়াবাড়ি করছে। যা তায়েবার একটু ও ভালো লাগছে না। বিরক্ত হয়ে চলে গেলো তায়েবা। জাহিদ তা দেখে নিজেও চলে গেলো বাড়িতে। সে মূলত তায়েবার জন্য ই এসেছিলো এখানে। যেহেতু তায়েবা চলে গিয়েছে তাই এখানে থাকার কোনো মানে নেই।
শুভ্র চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে লামিয়ার পিছনে। লামিয়া নিজের কাজে ব্যাস্ত। আশেপাশে কে আছে না আছে তা দেখার সময় তার নেই। সব কাজ শেষ করে মাথা তুলে সাজানো কেমন হয়েছে দেখতে সামনে ঘুরেই এক পা দু পা পিছিয়ে যেতেই কারোর সাথে ধাক্কা লাগতেই বিরক্ত হয়ে বললো ” কোন নানীর নাতনি রে..?” বলেই পিছনে ঘুরে তাকাতে চাইলো কিন্তু পারলো না কারণ তার আগেই পিছন থেকে শুভ্র তাঁর কোমড় ধরে লামিয়ার কাঁধে থুতনি রাখতেই লামিয়া পুরো কেঁপে উঠলো।
নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতেই শুভ্র ফিসফিস করে বললো ” মাছের মতো এতো ছটফট করেন কেনো হুম?” বলেই লামিয়ার গলায় গম্ভীর চুম্বন একে দিলো।
গলায় নরম ঠোঁটের ছোঁয়া পেতেই লামিয়া বরফের মতো জমে গেলো।
লামিয়া শান্ত হতেই শুভ্র লামিয়া কে ছেঁড়ে দিলো। ছাড়া পেয়ে ও লামিয়া এক চুল ও নড়লো না। সে বরফের মতোই জমে আছে এখনো। তা দেখে শুভ্র ঝুকে লামিয়ার কানে ফিসফিস করে বললো ” বরফের মতো জমে আছেন কেনো..? আবার ছুঁয়ে দিলে কিন্তু গলে যাবেন মিস।”
শুভ্রর কথায় লামিয়া দ্রুত সরে দাঁড়িয়ে রাগ দেখাতে চাইলো। কিন্তু এই ছেলের সামনে তার রাগ টা ও তাঁর সাথে বেইমানি করে। এই ছেলের সামনে দাঁড়ালে রাগ টাই আসে না তাঁর। লামিয়া কটমট দৃষ্টিতে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বললো ” অসভ্য লোক, সবসময় শুধু ছোঁয়ার বাহানা খুঁজে যত্তসব। ” বলেই মুখ ঝামটা দিয়ে চলে গেলো।
পিছন থেকে শুভ্র বলে উঠলো ” আগেই বলেছি মিস আপনি চাইলে অসভ্যতার সীমা অতিক্রম করতে পারি। কিন্তু শুধু আপনার সাথেই অন্য কোনো নারীর সাথে না।”
লামিয়া বেশ বিরক্ত হয়ে গটগট পায়ে চলে যেতে লাগলো।
জ্যাকি, ব্ল্যাকি দৌড়ে শুভ্রর কাছে এসে দাঁড়াতেই শুভ্র তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে বেশ হতাশ হয়ে বললো ” আমাকে মালা পড়ানোর আগে তোদের মা তোদের মালা পড়িয়ে দিলো। হায় রে কপাল এই দুঃখ আমি কোথায় রাখবো।” বলেই লামিয়ার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে বললো ” হেই মিস..!”
লামিয়া হাঁটা থামিয়ে ভ্রু কুঁচকে পিছনে তাকিয়ে বিরক্ত হয়ে আবার হাঁটা ধরলো। তা দেখে শুভ্র দৌড়াতে দৌড়াতে বললো
” এই যে মিস, শোনেন প্লিজ
সিঙ্গেল আছেন কী..?
বলতে চাই একটা কথা আপনি
রাখবেন কী…?”
প্রিয় রাগিনী পর্ব ৩৩
বলেই থামলো শুভ্র। শুভ্রর গান শুনে লামিয়া ঘুরে তাকালো শুভ্রর দিকে। শুভ্র তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে
চোখে চোখ পড়তেই লামিয়া আর না তাকিয়ে চলে গেলো বাড়ির ভেতরে। শুভ্র লামিয়ার পিছনে যেতেই রাশেদ পিছন থেকে শুভ্রর হাত ধরে বললো ” শালা প্রেম পড়ে করিস এখন চল কাজ আছে যেতে হবে আমাদের।”
রাশেদের কথা শুনে শুভ্র দীর্ঘ শ্বাস ফেলে চলে গেলো রাশেদের সাথে।
