প্রেমঘোর পর্ব ৬০+৬১+৬২+৬৩+৬৪+৬৫
নার্গিস সুলতানা রিপা
নৌশিন মায়ের কথা শোনে মাথা নিচুঁ করে দাঁড়িয়ে আছে।
“মন খারাপ না করে,এই স্যুপ টা বানিয়েছি খেয়ে নাও”
“……..”
“কি হলো??নাও…..”
নৌশিন স্যুপের বাটিটা হাতে নিয়ে রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে আসে।নিজের রোমে গিয়ে স্যুপের বাটি টা টি টেবিলে রেখে দিয়ে খাটে দু পা তুলে বসে আছে।
কিছু সময় পর নৌশিনের মা রোমে আসে……..
“কি হলো??স্যুপ টা খাও নি কেন তুমি??”
“………”
“এভাবে,মুখ গুমড়া করে বসে থাকার কোনো মানে হয় না……স্যুপ টা খেয়ে নাও তাড়াতাড়ি……”
“পরে খাই একটু??”
“না…পরে কেন খাবি তুই??সব কাজ করতে পারিস শুধু খাবার খাওয়ার সময় যত বাহানা…..এই একটা বিষয় নিয়ে আমাকে জ্বালিয়ে মারিস তুই……জন্মের পর থেকে বুকের দুধ টাও জোর করে খাওয়াতে হয়েছে আমাকে…আর কত!!ঐ বাড়িতে গিয়ে তো আরও কাঠ হয়ে গেছিস!!খাওয়া দাওয়ার খবর নেই……”
নৌশিনের এই বকাবকি শোনা খুব কমন ব্যাপার।বিয়ের আগে একমাত্র খাওয়া নিয়েই ওর মা ওকে কত রকমের জারিজুরি দিতে সেটা তো গননার বাইরে।
“নাও…হা করো……”
নৌশিন বাধ্য মেয়ের মতো খাবার মুখে তুলে নিলো।
“এখন বিয়ে দিয়ে দিয়েছি,এখনও খাইয়ে দিতে হয়….!!!কবে খাবার দিকে একটু নজর দিবি বল তো??বাচ্চা যে চেয়েছিস সাদাদ কি বলছে??”
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
“কি বলবে??”
“না মানে রাজি হয়েছে??”
নৌশিন মাথা নিচুঁ করে বলে,
“বলেছে দশ কেজি ওজন বাড়িয়ে দেখাতে পারলে রাজি হবে……”
নৌশিনের মা এতক্ষণ রাগ নিয়ে থাকলেও মেয়ের কথা শুনে হাঁসিতে ভেঙে পড়ে।
“হুম….হাঁসছো তুমি!!!হাঁসবে না একদম….”
“আচ্ছা মা আচ্ছা হাঁসছি না….তুই আগে স্যুপ টা শেষ কর…..”
“আর পারছি না তো…..”
“যে মেয়ে এক বাটি স্যুপ খেতে পারে না…..সে নাকি মা হবে!!!”
“মাাাাা………”
“ওকে ওকে…..নিস তুই বাচ্চা তবে শর্ত একটাই আগে দশ কেজি বাড়তে হবে তোর ওয়াইট….আর রোজ ভালো করে খেতে হবে…..”
“সত্যি??”
“হ্যাঁ সত্যি….এখন পড় একটু….”
“আমার সোনা মা…..উম্মাামমমা….”
নৌশিন পড়তে বসে যায়।
আরফান রা বাসায় আসলে বরাবরের মতো এক রকম হৈ চৈ শুরু হয়ে যায় নৌশিনদের বাড়িতে।
বাচ্চা আর বাড়ির সবার মাঝে থেকেও নৌশিনের মন টা সাদাদের জন্য আকুলীবিকুলী করে সবসময়।তবুও বাড়ির সবার সাথে মজা করতে করতে দুটো দিন যে কিভাবে কেটে গেলো নৌশিন যেন টের ই পায় নি।
আজ বিকেলে সাদাদ এসে নৌশিনকে নিয়ে যাবে।
যথা সময় সাদাদ অফিস থেকে নৌশিনদের বাসায় চলে আসে।এসে দেখে নৌশিন ব্যাগ পত্র একদম গুছিয়ে রেখেছে।
“কি ব্যাপার,জান??”
নৌশিন খেয়াল করে নি সাদাদ এসেছে…সাদাদের কথায় পেছন ঘুরে সাদাদকে দেখতে পেয়েই জড়িয়ে ধরে সাদাদকে।
“তুমি জানো,কত মিস করেছি তোমায়???দু দিন দেখি না আমি,একবারও আসা যেতো না??”
“বাবু,কাজ ছিলো তো…আমি আসতে চেয়েছিলাম….”
“উমমমম…..কত কষ্ট হয়েছে আমার তুমি জানো.?”
“আমারও তো হয়েছে…..”
নৌশিন সাদাদকে ছেড়ে দিয়ে…নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে একটু অভিমানর সুরে বলল,
“হয়েছে…আর বলতে হবে না??”
সাদাদ নৌশিনকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলল,
“কাল যখন বিকেলে কথা বলছিলাম,তুমি জানো আমি কোথায় ছিলাম?”
“কোথায়?”
“বস হসপিটালে আছেন….”
নৌশিন সাদাদের দিকে ফিরে তাঁকায়…চোখ দুটো বড় বড় করে বলছে,
“কি???”
“হ্যাঁ…..হার্টে ব্লক তো তাই….”
“তুমি এখন বলছো আমায়??ওনাকে বাবা বলে ডেকে যদি ওনার অসুস্থতার সময় পাশে না যায় কেমন আমি!!আর তুমও কাল না বলে আজ বলছো?? ”
“এই জন্য আসতে পারি নি…..না হলে আসতাম….”
“রাখো তোমার আসা….. সরো….আমি মা কে বলছি আমি এখনি বের হবো….আর হ্যাঁ সোজা হসপিটালে যাবো……”
“আরে……”
“হ্যাঁ যা বলেছি তাই হবে….”
“তোমার বস বাবা এখন ভালো আছেন তো…..”
“তো???কি হয়েছে??ওনি আমাকে ছেলের বউয়ের মতো দেখে সাদাদ ওনার কেউ নেই দেখার মতো…..”
“বাবা,মা হসপিটালেই আছেন….নো টেনশন…”
“বাবা মা?”
“হুম….তুমি হয়তো এটাও জানো না যে বস বাবার অনেক ছোট বেলার বন্ধু….”
“সত্যি??”
“হুম….”
“সাদাদ তুমি না খুব খারাপ….আমাকে সব বলো না…সব আমাকে জানালে কি হয় তোমার??”
“ওকে সরি সরি….সব জানাবো তোমাকে এখন আগে খাওয়া দরকার আমার….ভাবী অসুস্থ তাই এখনও আসে নি…সুস্থ থাকলে খাওয়ার জন্য ডাকাডাকি শুরু হয়ে যেতো…”
“তা ঠিক বলেছো…..”
“আরফান রা না এসেছিলো??”
“ওরা আজ সকালে চলে গেছে….”
“কই তোমার সাথে তো কতবার কথা হলো বললে না তো?”
“খেয়াল ই ছিলো না…আরফানের কলেজে মে বি সাবজেক্ট চয়েজে কিছু প্রব হয়েছে যেটা ঠিক করার আজই লাস্ট ডেট…তাই তাড়াহুড়ো করে চলে গেছে খুব সকালে….”
“আচ্ছা…..”
“হ্যাঁ….তুমও ফ্রেস হয়ে নাও….মা খাবার রেডি করে রেখেছে……”
“হুম…আই নো…আমার শাশুড়ি আজও কত কিছু রান্না করেছে তার মেয়ে জামাইয়ের জন্য….আমি তো ঘরে ডুকেই ঘ্রাণ পেয়েছি….”
নৌশিন মুচকি হেঁসে বলে,
“হয়েছে,যাও ফ্রেস হয়ে নাও…….আমি কিন্তু বাসায় যাওয়ার আগে বস বাবা কে দেখে যাবো একবার”
“আচ্ছা ঠিক আছে……”
সাদাদ ফ্রেস হয়ে এসে খাওয়া শেষ করে।নৌশিনের মা এত এত রান্না করেছে যে সাদাদের পক্ষে সব খাওয়া সম্ভব হয় নি।তবুও শাশুড়ির জোড়াজোড়িতে যা খেয়েছে মনে হচ্ছে পেট ফেটে যাবে…………
আর সাদাদের খাওয়ার ফাঁকে নৌশিন রেডি হয়ে নেয়।
সাদাদ রোমে গিয়ে দেখে নৌশিন শাড়ি টারি পরে,হিজাব লাগিয়ে একদম তৈরী হয়ে আছে।
এই মেয়ে টাকে এত ভালো লাগে কেন??
সব কিছুতেই মানানশই লাগে কেন আমার চোখে??
কি জাদু জানে মেয়েটা??
নৌশিনের কথায় হুশ আসে সাদাদের……”হ্যালো..কি দেখছো??”
সাদাদ কিছু না বলে নৌশিনের হাত ধরে টান দিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে,
এমন ভাবে টেন দিলো সাদাদ শুয়েছে তার উপর আবার নৌশিন সাদাদের টান না সামলাতে পেরে বেশ জোরে শুরেই সাদাদের উপর পড়ে গেছে।
“ওরে,ব্রাস্ট আমি……”
“ওহহহ….কি হলো এটা???ছাড়ো…..”
সাদাদ নৌশিনকে বুকে শক্ত করে জড়িয়ে নিয়ে বলল,
“এভাবে পড়ে গেলে আমার উপর,পেট তো এমনি ব্রাস্ট হয়ে যাচ্ছে……তার উপর এভাবে চাপ লাগলে তো….. .”
“আমি কি করলাম?তুমিই তো টান দিলে আমায়??”
“কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলেছিলাম রে পাগলী…….”……
!
“কন্ট্রোল করতে পারো নি মানে???”
“তোমাকে দেখে…….”
“সাদাদ,কি এমন সেজেছি আমি,জাস্ট নরমাল শারি,হিজাব ই তো…..”
“আই ডোন্ট নো……বাট প্রেমে পড়ে গেছি আবার…..”
“ছাড়ো তো……”
নৌশিন ছাড়ানোর চেষ্ঠা করলে সাদাদ উল্টো হয়ে শুয়ে পড়লো।ফলস্বরূপ,নৌশিন নিচে আর তারউপর সাদাদ।
“ও মা,সাদাদ এভাবে??কমড় ভাঙবে আমার….”
সাদাদ ঘর কাঁপিয়ে হাঁসতে শুরু করলো………
“যদিও ভাঙবে না,আর ভাঙলে আমার চেয়ে খুশি কেউ হবে না……”
নৌশিন ভ্যাবেচেকা খেয়ে প্রশ্ন করলো,
“মানে??সাদাদ আই থিন্ক তুমি পাগল হয়ে গেছো…..না হলে আমার কমড় ভাঙলে তুমি কেন খুশি হতে যাবে……”
“ইয়াহ্….আমি পাগল রে রূপসী শুধু তোর জন্য…..”
“তাই বলে কমড় ভাঙা!!!”
“কমড় ভাঙলে আমি কোলে করে সব করিয়ে দিবো,গোসল…খাওয়া…সব আমি নিজের হাতে করিয়ে দিতে পারবো…তার মানে তোমার সব কিছুর জন্য তোমার হাসবেন্ড…..”
“আল্লাহ্….এ কোন পাগল আমার কপালে!!সরো তো…”
“আরে এতো তাড়া কিসের?থাকো না একটু….”
“সাদাদ আমার শাড়িটা নষ্ট হচ্ছে,আই মিন শাড়ি টা পড়েছিলাম তো ভালো করে……”
সাদাদ নৌশিনের গলায় চুমু দিয়ে বলছে,
“আমি পড়িয়ে দিবো সোনা…..”
সাদাদ আবারও নৌশিনের গলায় ভালোবাসায় ছুয়ে দিতে থাকে………
নৌশিন ছাড়ানোর চেষ্ঠা করেও পারছে না…….
হঠাৎ নৌশিন বলে উঠে,
“সাদাদ ফোন……”
সাদাদ যদিও ফোনের আওয়াজ শোনে নি তবুও নৌশিনের মুখে ফোনের কথা শোনে মাথা তুলে তাঁকায়…..ঘোর টাও কিছু কেটে যায়…সাদাদ ভেবেছে হসপিটাল থেকে ফোন হতে পারে তাই সত্যি সত্যি ই ভেবেছে….আর এই ফাঁকে নৌশিন সাদাদকে আস্তে করে একটা ধাঁক্কা দিতেই সাদাদ নৌশিনের উপর থেকে বিছানায় পড়ে যায়।
নৌশিন বিছানা থেকে উঠে,সাদাদের অবস্থা দেখে হাঁসতে থাকে……..।
“আচ্ছা!!!এই ব্যাপার তোর??”
সাদাদ কথাটা বলে উঠে নৌশিনের কাছে আসতে নিলে,নৌশিন রোম থেকে বের হতে চাইলেও পারে না……..
কারণ সাদাদ যে তার শাড়ির আঁচল ধরে ফেলেছে……….
সাদাদ নৌশিনের শাড়ি হাতে পেঁচিয়ে ধরে নৌশিনকে কাছে টানতে থাকে…….শাড়ি পিন আপ করা নেই তাই নৌশিন শাড়ির আঁচল কোনো মতো নিজের শরীরে ঠিক করে রেখেছে আর টাল সামতালে তাকে সাদাদের কাছে আসতেই হলো…….
নৌশিন একটু কাছে আসা মাত্রই সাদাদ নৌশিনের কমড় ধরে নিজের কাছে নিয়ে আসে।
“কোথায় পালাবে জানেমন??”
নৌশিন খুব ভালো করেই জানে সাদাদের কাছ থেকে এখন ছাড়া পাওয়া অসম্ভব।তাই ছাড়ানোর কোনো চেষ্ঠা করছে না।
“মিথ্যা কথা বলে পালায় রে আমার বউ…….”
নৌশিন সাদাদের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাঁকিয়ে বলল,
“তো কি করবো বলো তো??একটু পড়ে মাগরিবের আযান দিবে তো…..”
“আচ্ছা!!!তো আমি এমন কি করতাম যাতে আপনি নামায না পড়তে পারেন?”
“বা রে,তার মানে এখন থেকে নামায পড়ে বের হবো??
নৌশিন আবার নিচের দিকে তাঁকিয়ে বলে,
“তুমি তো আর আজকে থাকতে দিবে না এখানে,তাই সন্ধ্যার পরে গিয়ে আর কি হবে??আগেই যাই…..”
“এই তিন দিন থেকেছো তো……আমি তো আর পারবো না তোমাকে ছাড়া থাকতে…..মিস করি যে খুব এই মিষ্টি মুখ টা……”
“আমিও তো মিস করি….. ইভেন আমি ঐ বাড়ির সবাইকে খুব মিস করছি….বিশেষ করে অরূপকে……”
“তো?? ” সাদাদ নৌশিনের ঠোঁটের দিকে তাঁকিয়ে আছে…..নৌশিন বেশ ভালোই বুঝতে পারছে সেটা…..সাদাদ নিজের ঠোঁট নৌশিনের দিকে এগিয়ে আনছে,আবেশে চোখ বুজে আছে নৌশিন।
আর তখনি কারও কাঁশির শব্দে ঘোর কাঁটে দু জনের।
শশুড় বাড়ি এটা তাই কে না কে লজ্জা পেতে হবে,ব্যাপার টা সামলাতে সাদাদ নৌশিনকে তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিয়ে পেছন দিকে সরে যায়।
নৌশিনও নিজেকে সামলে নিয়ে,শাড়ি ঠিক করতে করতে পেছন দিকে তাঁকায় আর দরজার পাশে সেই নার্স টা কে দেখতে পায়।
সাদাদ অবশ্য কে কাঁশি দিলো সেটা খেয়াল করে নি,নৌশিন কথা বলায় একবার তাঁকায় মাত্র।
নৌশিন মেজাজ টা একটু চড়ে যায়।এই নার্স টা একটু বেশি ই ঘুরাঘুরি করে,কি দরকার ওনার নৌশিনের রোমে।আর ওনি যেহেতু কাঁশি দিয়েছেন তার মানে ওনি দেখেছেন ওরা কি করছিলো।তার পরেও কাঁশি দেওয়ার কি হলো!
নৌশিন তবুও স্বাভাবিক ভাবে বলল,
“আপনি??কোনো দরকার??”
“না মানে,আপনি চলে যাবেন তো তাই দেখা করতে আসলাম….”
এবার নৌশিনের আরও খারাপ লাগছে,এই মহিলা এর জন্য ওদের এরকম একটা মোমেন্ট নষ্ট করলো।
যাক কি করার,নৌশিন হাঁসি মুখেই সব মেনে নিলো।
সাদাদও এরমধ্যে রেডি হয়ে গেছে।
নৌশিন ওর মা,বাবা,ভাই,ভাবী সহ বাড়ির সস সার্ভেন্ট আর নার্স দুটোর কাছ থেকেও বিদায় নিয়ে নেয়।আর বাসা থেকে বের হওয়ার আগে তো বাচ্চা টাকে এতই আদর করে যা বলার বাইরে।
মাগরিবের আযান হতে মাত্র কিছু সময় থাকায় ওরা দুজন এ বাড়ি থেকেই নামায পড়ে বের হয়।
তারপর নৌশিনের বায়নায় সাদাদ নৌশিনকে হসপিটালে নিয়ে যায়।
সাদাদের বস তো নৌশিনকে আসতে দেখে মহা খুশি।প্রায় কেঁদেই দিবেন কিন্তু অসুস্থ মানুষ তাই নৌশিন চোখে পানি আসতে দিলো না।
বেশ কিছুক্ষণ হসপিটালল থেকে সাদাদদের বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দেয় ওরা।
সাদাদ গাড়ি পার্কিং করছে আর নৌশিন গাড়ি টা থামানোর সাথে সাথে নিজের সুটক্যাশ টা তো দূরে থাক হ্যান্ড ব্যাগ টাও গাড়িতে ফেলে সাদাদকে রেখেই তাড়াহুড়ু করে বাসার ভেতরে ঢুকে যায়।
নৌশিনকে দেখে মনে হয় অনেক দিন পর সে নিজের আপন কিছু ফিরে পেয়েছে তাই এতটা আনন্দিত।আসলে এই কয় দিনে নৌশিনের মনে এই বাড়ি টা বিশাল একটা জায়গা করে নিয়েছে।আপন হয়ে গেছে এ বাড়ির সকালে।তাই তো দু দিন দূরে থাকার পর এতটা টান অনুভব করছে।
সাদাদের কি আর করার,সুটক্যাশ আর বউয়ের হ্যান্ড ব্যাগ হাতে ঝুলিয়ে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে।
সাদাদ মেইন ডোরে এসে দাঁড়ায় অথচ কারও নজর ই নেই তার উপর।থাকবে কি করে?সবাই তো তাঁদের আদরের নৌশিনকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে……..
আর অরূপ তো অলরেডি নৌশিনের কোলে চেঁপে বসে আছে…….
হঠাৎ সোফার দিকে চোখ পড়তেই সাদাদের মাথা গরম হয়ে যায়…………..
সাদাদ স্বাভাবিক ভাবে হেঁটে উপরে চলে যায়।
রোমে গিয়ে একজন সার্ভেন্টকে দিয়ে নৌশিনকে ডাকার জন্য খবর পাঠায়।
সাদাদের মাও নৌশিনকে বিশ্রায়ম নেওয়ার জন্য উপরে পাঠিয়ে দেন,সার্ভেন্টের কথা শোনে।যদিও আগে থেকেই ওনি বলছিলেন নৌশিনকে উপরে যাওয়ার জন্য প্রাপ্তি আর অরূপের জন্য যেতে পারছিলো না নৌশিন।
নৌশিন রোমে ডুকে,সাদাদকে দেখলে পেলো না…..ওয়াশরোমে পানির শব্দে বুঝতে পারলো সাদাদ ওয়াশরোমে আছে।
সাদাদ ওয়াশরোম থেকে এসে নৌশিনকে ফ্রেস হওয়ার জন্য পাঠিয়ে দেয়।
!
সাদাদ টি ভি দেখছে আর নৌশিন সাদাদের পাশেই সোফায় বসে আছে।সাদাদের কাঁধে মাথা রেখে একটা ম্যাগাজিন পড়ছে।
“মা কে ফোন করে বলেছো?”
“হ্যাঁ….বলেছি তো….”
“এক্সামের আর কত দিন বাকী??”
“বেশি দিন না…..”
“হ্যাঁ…এক মাসও নেই…..”
“হুমমমম….”
“আজ থেকে রেগুলারলি শুরু করতে হবে কিন্তু দু দিন কি পড়েছে ঐ বাড়িতে??”
“সাদাদ!!!খালি পড়া পড়া…. আমি ভাবছি আমাদের বেবির কথা….”
সাদাদ টি.ভি থেকে চোখ সরিয়ে নৌশিনের দিকে বাঁকা চোখে তাঁকিয়ে বলল,
“একটা সিরিয়াস কথা বলছি আমি……”
নৌশিন সাদাদের কাঁধে আগের মতোই মাথা দিয়ে থেকেই জবাব দিলো,
“আম আলসো সিরিয়াস….”
“ওকে…বাদ দিলাম সব….এখন যাও পড়তে বসে যাও….”
“তোমার তো রেগুলার পড়া মানে রাত দুটো পর্যন্ত পড়া….আর সকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে শুরু করা….”
“হেয়….যাও….”
“একটু পড়ে….”
সাদাদ নৌশিনকে সোজা করে বসিয়ে দিয়ে…..
“এখনি,এই যে টি ভি বন্ধ করলাম…..এখন বই সামনে নাও….আর আমি কফি আনছি….”
“তুমি না!!!!”
“আমি কি সেটা এক্সপ্লেন করতে হবে না তোমায়….তুমি পড়ো…আর রোমে কেউ আসলে পড়ার টাইমে কারও সাথে কথা বলতে হবে না…..”
“ওকে ওকে….”
“মনে থাকে যেন….এমন কি অরূপও না……”
“আচ্ছা মনে থাকবে….ওফফফ…….
এই সাদাদ শোনো না শোনো……”
সাদাদ দরজার কাছ থেকে আবার ফিরে আসে,
“বলো…”
“তুমি তখন রাগ করেছিলে কেন??”
“কই??”
“তোমার কি মনে হয়??তুমি রাগ করবে আর আমি বুঝবো না…কেমন করে কারও সাথে কথা না বলে উপরে চলে এলে যে??”
“হেয় এই ব্যাপার…..?”
“হ্যাঁ…তুমি তো রোজ সবার সাথে কথা বলে চা খেয়ে উপরে আসো তাহলে আজ???”
“আরে ঐ বাড়ি থেকে খেয়ে এলাম তো…..”
“ঐ বাড়ি থেকে চা বা কফি কিছু খেয়ে আসো নি তুমি??এখন বলো ব্যাপার টা কি??”
“ঠিক ধরেছেন…..যদিও মন টা চা চা করছিলো তখন তবুও বাধ্য হয়ে উপরে আসতে হয়েছিলো….”
“সেটাই তো জানতে চাইছি….কেন রেগে গেলে হঠাৎ করে….আমি সিউর আমার ওপর রাগো নি…..তাহলে???”
সাদাদ নৌশিনেরর হাতে হাত রেখে বলল,
“তোমাকে আমি আগেও বলেছি রিদি কে আমি নিতে পারি না….আর ওর পোশাক কে তো আরও না….সো আজ যখন বাসায় ডুকে দেখলাম সে জাপান থেকে এসে গেছে তাই মাথা টা বীগড়ে গেছিলো….তবু বসতাম সবার সাথে বাট ওর শর্ট স্কার্ট টা দেখে আমারি খুব লজ্জা করছিলো……”
“আল্লাহ্…..আমিও না এটাই ভেবেছিলাম…..”
“ওরে আমার বউ রে…..”
সাদাদ নৌশিনের গাল টেনে দিয়ে বলল।
“হুুুুহুহু…..”
সাদাদ আবারও স্বাভাবিক হয়ে বলল,
“তুমিই চিন্তা করো…..এত বড় একটা মেয়ে আর রিদি তো এমনিতেই একটু মোটা টাইপ মেয়ে….পড়েছে শর্ট স্কার্ট…..আমাদের ইসলামে তো হাঁটুর উপরে কাপড় প্রেফার ই করে না আর তার উপর সে পড়েছে হাঁটুর উপরে টাইটফিট জিনিস….কেমন করে বসে ছিলো বাসায় কেউ ঢুকলে আগে ওর দিকেই চোখ পড়বে…..আর উপরের পার্ট টা কেমন ছিলো!!!নাউযুবিল্লাহ্……
মানুষ এতটা নির্লজ্জ হয়…..আমার তো মনে হয় রিদি র ফিগার সাইজ আটত্রিশ হবে…..যে ফিট মাপের টপ পড়েছে শরীরের কোথায় কয়টা ক্লিভেজ আছে সব বুঝা যায়…….এমন কি……..”
সাদাদ আর কিছু বলার আগেই নৌশিনের দিকে চোখ পড়তেই খেয়াল করে নৌশিন নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরে চোখ বেঁটে সাদাদের দিকে রাগী মোডে তাঁকিয়ে আছে………
সাদাদ নৌশিনের দিকে তাঁকিয়ে বেশ বুঝতে পারে নৌশিন কেন এমন করছে…
সাদাদ কিছু বলার আগেই নৌশিন সাদাদের হাতে ইচ্ছে মতো খামচি দিতে শুরু করে…….
“খবিশ,ইতর,কুত্তা,বিড়াল,চিকা…..তুই রিদি কে এতো ভালো করে দেখিস কেন??ওর সাইজ আটত্রিশ হোক বা বত্রিশ তোর কি???তুই ওর সব দিকে নজর দিস কেন??? বল কেন???”
সাদাদ নৌশিনের কান্ড দেখে হাঁসতে শুরু করে….
“কুত্তা,আবার হাঁসে……”
সাদাদ নৌশিন দু হাত নিজের হাতে আটকিয়ে নিয়ে…. হাঁসতে হাঁসতেই বলে,
“জান…..ওর ফিগার,সাইজ কোনো কিছু দেখার আমার কোনো ইচ্ছে নাই…..ঐ খোলা মেলা মহিলা যেভাবে চলে মেয়ে রাও ওকে দেখে….আমার কোনো দোষ নাই……আর ইন্টারেস্টের কথা বলতে গেলে আমার এই ছোট সাইজেই সব ইন্টারেস্ট আমার…….”
নৌশিন সাদাদের প্রথম কথা গুলোতে ক্ষেপে গেলেও শেষ কথাগুলোতে সেটা শেষ হয়ে যায়…আর লাস্ট বাক্যে তো লজ্জায় শেষ প্রায়…….
নৌশিন সাদাদকে একটা ঘুষি দিয়ে “ধ্যাত…….যত্তসব….”বলেই উঠে বই নিয়ে বসে যায়।
আর সাদাদ নৌশিনের জন্য কফি আনতে চলে যায়।
!
এভাবেই সাদাদ সারা দিন কাজ করার পর নৌশিনের পড়াশোনার প্রতি নজর রাখে।লাস্ট সেমিস্টার তাই ভার্সিটিতে কোনো কাজ নেই।আর নৌশিনের সব শিট আর নোটস তো আছেই। আর দু জনে এক বিষয়ের ছাত্র হওয়ায় সাদাদের সব কিছু আছেই যেগুলো নৌশিন পড়তে পারছে।
দেখতে দেখতে নৌশিনের এক্সামও এগিয়ে এসেছে।
এখন সাদাদকে দেখলে মনে হয় না সে নৌশিনের বর,বাইরের কেউ দেখলে ভাববে কোনো প্রাইভেট মাস্টার তার ক্লাস নাইনের কোনো ছাত্রীকে জোর করে পড়াচ্ছে।আর শুধু পড়া নয়…জোর করে ভালো মন্দ খাওয়া তো খাওয়ানো হচ্ছেই।
রোজকার মতো আজও….
নৌশিন রাত একটা সময় টেবিলে বসে….সাদাদও ঘুমায় নি যদিও নৌশিন অনেক বার বলেছে ঘুমাতে তবু সাদাদ নৌশিনের পাশে বসে।
নৌশিনের আর কি করার….সেও পড়ছে…..
হঠাৎ কোনো কিছু শব্দে দু জনেরই মনোযোগ ড্রয়িং রোমে চলে যায়………….
!
সাদাদ নৌশিন দুজনেই ড্রয়িং রোমে ছুটে যায়।
নাহ্ তেমন কিছু না।
এ বাসায় দুটো বিড়াল আছে,তারাই একটা ফুলদানী ভেঙে ফেলেছে তাই এমন শব্দ হয়েছে।
সে দিনের মতো নৌশিন-সাদাদ ঘুমিয়ে যায়।
!
আজ নৌশিনের প্রথম পরীক্ষা। দিন টা স্বাভাবিক ভাবেই কেটে যায়।
সাদাদ নৌশিনকে ভার্সিটি থেকে ড্রপ করে বাসায় আনে।
নৌশিন ফ্রেস হয়ে এসে সোফায় বসে আছে।
সাদাদও ফ্রেস হয়ে আসে।
দুজনে মিলে চা খাওয়ার জন্য নিচে যায়।
বিকেল প্রায় গড়িয়ে এসেছে….সবাই এক সাথেই বসে চায়ে চুমুক দিচ্ছে।
এমন সময় রিদিও অফিস থেকে এসে পড়লো।
নৌশিন সাদাদের পাশেই বসে…..যদিও সবাই আছে তারপরও সাদাদ এক হাত নৌশিনের পেছন দিক রেখে জরিয়ে রেখেছে।
রিদির বিষয় টা সহ্য হয় নি।
সাদাদ নৌশিনের মিল টা ঠিক নিতে পারে না এই মেয়ে।
নৌশিন নিজের লম্বা বেনুনী টা সোফায় উপর বিছিয়ে রেখেই চা খাচ্ছে।
রিদি এসে তাড়াহুড়ু করে নৌশিনের পাশেই বসে….
আর তার সাথে সাথেই নৌশিন চা রেখে চিৎকার করে।
“আহ্ওওওও….”
করবেই না কেন….এতো মুটি একটা মেয়ে বেনুনীর উপর এভাবে বসলে,মাথা কি ঠিক থাকে নাকি!!!
“ওহ।।।সরি সরি…খেয়াল করি নি…..”
সাদাদের মেজাজ চটে যায়।এই মেয়েটা সব সময় নৌশিনের সাথে এমন উল্টাপাল্টা কাজ করে।
তবুও মা বাবার সামনে তো রিদি কে কিছু বলতেও পারবে না সাদাদ।তাই কোনো রকম ভাবে মনের রাগ টা চেঁপে দিয়ে বলল,
“একটি কেয়ারফুল্লি চলতে শেখো….”
সাদাদ নৌশিনকে নিয়ে উপরে চলে আসে।
মাগরিবেরর নামায পড়ে নৌশিন পড়তে বসে যায়।
সাদাদও লেপটপে কাজ করছে।
নৌশিনের ক্লান্তি টা একটু বেশিই এসে গেছে।
লাগা টাই স্বাভাবিক,পরীক্ষার জন্য যেভানে খাটা খাটনি করছে সে।সাদাদ নৌশিনের চোখ মুখে দেখেই বুঝে যায় নৌশিনের কি অবস্থা।
যেহেতু কাল পরীক্ষা নেই,তাই সাদাদ নৌশিনকে নিজের উরুতে মাথা রাখিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে নিজে নিজের কাজ করছে।
………..এভাবেই আস্তে আস্তে ব্যস্ততার মাঝে নৌশিনের পরীক্ষাগুলোও শেষ হয়ে যায়।
এর মাঝে সাদাদ একবারের জন্যও নৌশুনকে তার বাবার বাড়ি যেতে দেয় নি।
পরীক্ষা শেষ হয়েছে কালকে।অনেক ধকল গেছে নৌশিনের উপর দিয়ে।
রাতের বেলা খাওয়ার টেবিলে,
“সাদাদ,নৌশিন মায়েরর তো পরীক্ষা শেষ…..এবার তোমরা দুজনে কোথায় ঘুরে আসো…..মন টা ফ্রেস হবে…..”(সাদাদের বাবা)
“হ্যাঁ….আমারও তাই মনে হয়……”(সাদাদের মা)
সবাই একমত পোষণ করে এই বিষয়ে।
“আম্মু….আমিও যাব নতুন বউয়ের সাথে…..”
হ্যাঁ এই কয়েক মাসেই অরূপ ‘র’ কে শুদ্ধ করে বলতে শিখেছে।
“হ্যাঁ….বাবু তুমি তো অবশ্যই যাবে…”(নৌশিন)
বড় রা সবাই খাওয়া শেষ করে চলে গেলে,সাদাদ-নৌশিন,ওদের ভাবী এই তিন জনে মিলে আড্ডা দিচ্ছে….অরূপ পাশে বসে তার মায়ের শাড়ির আঁচল নিয়ে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে খেলছে।
সাদাদ নৌশিন কোথায় যাবে ঘুরতে সেটা নিয়েই আলোচনা চলছে তিন জনের মধ্যে…………
নৌশিন কখনও রাঙামাটি যায় নি।তাই সাদাদ ঠিক করেছে নৌশিনকে সেখানেই নিয়ে যাবে।
তবে পাঁচ দিন পর।
কারণ দু দিন পর অর্থাৎ পাঁচ জুন প্রাপ্তির জন্মদিন।
যদিও এ বাড়িতে জন্মদিন নিয়ে কোনো পার্টি টার্টি করা হয় না।তবুও বন্ধুবান্ধব দের নিয়ে কিছুটা সময় আনন্দে কাঁটতে সবাই মিলে এক সাথে খাওয়া দাওয়া করা হয়।
আর এবার তো নৌশিন আছে…..তাই প্রাপ্তি নিজের জন্মদিন নিয়ে যেনো একটু বেশি মেতে উঠেছে।
প্রাপ্তির সব ফ্রেন্ডসদের দাওয়াত দেওয়া হয়ে গেছে।প্রাপ্তির বায়নায় সারা বাড়ি ফুল আর বেলুন দিয়ে সাজাতে হয়েছে।
মেয়েটা আঠারো বছরের হলেও স্বভাবে একদম বাচ্চা।এই জন্মদিনের অযুহাত ধরে…..নৌশিন আর রাফসার বাড়ির সবাইকেও দাওয়াত হয়েছে।
তাই প্রাপ্তির এবারের জন্মদিনে প্রতিবারের চেয়ে আয়োজন টা একটু বেশি ই করা হয়েছে।এর জন্য বাড়ির সবাই নানা ভাবে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে।
“আম্মু……আম্মু…….”
কলেজ থেকে এসে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে রেখেই প্রাপ্তি তাঁর মা কে ডাকা ডাকি শুরু করেছে।
প্রাপ্তির মা মেয়ের হাঁকাহাঁকি থামাতে রান্না ঘর থেকে দ্রুত ড্রয়িং রোমে আসে।
“কি হয়েছে??এতো চিল্লাছিস কেন??”
প্রাপ্তি সোফায় ব্যাগ রেখে দু পা সোফায় তুলে বসে আছে।
“কি হয়েছে??বল….”
“আব্বুকে কি বলেছো তুমি??”
এতক্ষণে প্রাপ্তির চেঁচামেচিতে নৌশিনও এসে হাজির হয়েছে।
“কি বললাম আমি??”
“আমি আব্বুকে ফোন করেছিলাম…..”
“তাতে কি হয়েছে?তোর আব্বুকে কি বলেছি আমি??”
“আমি কাল কে রাতে বললাম না আমি শপিং এ যাবো…..তোমাকে বলেছিলাম টাকা রাখতে আব্বুর কাছে তুমি রাখো নি কেন??”
“তোর কথাতে তো সব হবে না……এতো এতো নতুন জামা আছে একদিনও পড়িস নি….সেগুলোর কি হবে??”
“আমি পড়বো না সেগুলো…..আমার নতুন জামা চাই আবার…..”
প্রাপ্তি এই কথাটা একটু জোরে করেই বলে ফেলেছে।রেগে গিয়ে বলছে একটু।
প্রাপ্তির মা মেয়ের এসব বায়না কম শোনে।আর প্রাপ্তির মাঝেমাঝে এরকম রাগারাগি করা টাও তিনি মেনে নেয় না।আজও স্বাভাবিক ভাবে তিনি প্রাপ্তির জোরে কথা বলা মেনে নেয় নি……এগিয়ে যায় প্রাপ্তির দিকে………
ধমক দিয়ে বলে,
“কি বললে তুমি??আবার বলো???”
মায়ের চোখ রাঙানো দেখে ভয় পায় প্রাপ্তি……তবুও কাঁদোকাঁদো হয়ে বলল,
“একটা জামা কিনে দিলে কি হয়??”
“কি হয় সেটা তোমার কাছ থেকে শিখতে হবে আমার??এতো জোরে কথা বলো আমার সাথে??এত সাহস তোমার?তোমার আব্বু টাকা দিয়ে গেছে তোমার জন্য….আমি না বলে দিয়েছি তোমার আব্বুকে….আজকে তোমাকে টাকা দিবো না শপিং এর জন্য….এটাই বলেছি….আর তুমি আমার কাছে জানতে চাইছো…..??”
নৌশিন এতক্ষণ শুধু শুনছিলো….কিন্তু প্রাপ্তির চোখে পানি দেখে বলল,
“কাকি কি হয়েছে?বাদ দাও না….বুজতে পারে নি….”
“উঠাও লাই দিয়ে আরও মাথায় উঠাও ওকে……”
প্রাপ্তি কাঁন্না করতে করতে আবারও বলল,
“লাগবে না কিছু করা…..আমি সবাইকে না করবো যেন কাল কে কেউ না আসে….আজ তো চার জুন….কাল পাঁচ তারিখ…..
শুধু শুধু গত কাল এত কষ্ট করে বাড়ি সাজানোর কোনো মানে হয় নি…”
কথা গুলো বলেই প্রাপ্তি দৌঁড়ে উপরে নিজের রোমে চলে যায়।
প্রাপ্তির মা রেগে গিয়ে…মেয়ের যাওয়ার দিকে তাঁকিয়ে রেখে বলল,
“হ্যাঁ….যাও….সব বায়না মানতে হবে এমন কথা নেই…..দিন দিন বড়ও বেশি একরুখা স্বভাব হয়ে গেছে…..বাবার টাকা থাকলে শুধু উড়াতে হবে নাকি??অন্য সব বড় লোকদের মতো??কেন??ইসলাম বলেও তো একটা কথা আছে??সব কিছুর সীমত ব্যবহার করা উচিত….ওকে কি আমি বলেছি যে জামা পড়েছো সে টাই পড়বে??বলেছি কত জামা আছে যে গুলো পড়োই নি সে গুলো পড়ো…তা না সে শপিংয়েই যাবে….এগুলোর তো যাকাত দিতে হবে নাকি??
টাকা থাকলেই উড়াতে হবে??….”
প্রাপ্তির মায়ের বকাবকি শোনে অরূপের মা আর দাদীও ড্রয়িং রোমে হাজির হয়……….
“কি হয়েছে???এত বকাবকি করছিস কেন???ছোট মানুষ এমন তো একটু করবেই……”(সাদাদের মা)
“ভাবী,তোমরাও না…..ও যা চায় তাই দাও আর তাতে ওর স্বভাব খারাপ হয়…..বড় হচ্ছে তো দিন দিন…..শশুড় বাড়ি যাবে আর এমন করবে…….তখন??”
“তখন আমার মা মানি কে সব দিবে….যা চাইবে তাই দিবে…..”
মেইন ডোর দিয়ে বাসায় ডুকছে আর কথাগুলো বলে যাচ্ছে সাদাদের বাবা……..
বাসায় ডুকে সোফায় বসে আবারও তিনি বলা শুরু করেন,
“আর ওর তো চাওয়ার কোনো প্রশ্নই উঠে না,আমার পুরোপুরি বিশ্বাস আমার প্রাপ্তি মা মনিও আমার নিপা মামনির মতো এত বড় বড় ব্যবসা একাই সামল দিতে পারবে আর তাই তাঁর যা দরকার সে সব নিজেই করতে পারবে কারও কাছে চাওয়ার কোনো প্রয়োজন হবে না আল্লাহর রহমতে…..দোয়া করি আল্লাহ ওকে সব ঙ্গান বুদ্ধি দান করে যেন সব কিছুর সঠিক ব্যবহার করতে পারে….আর সে ও ভবিষ্যৎ এ সেটাই করবে,আমার বিশ্বাস……..
এখন যাও প্রাপ্তি মনি কে রেডি হতে বলো আজকে আমি তাঁকে শপিং এ নিয়ে যাবো……..বউ মা তোমরা দু জনেও তৈরী হয়ে নাও…….”
প্রাপ্তির মা আর কি বলবে,যেখানে তাঁর ভাসুরমশাই এত কিছু বলছেন…..তাঁর উপর তো আর কথা চলে না…………
“ভাইজান!!!!!”
“হ্যাঁ…..যাও রেডি হতে বলো আমার প্রাপ্তি মাকে…..আর ভাবার কিছু নেই আমার প্রাপ্তি মণি বেস্ট ইন বেস্ট…….”
“আচ্ছা….বলছি বলছি….আপনাদের মেয়ে আপনারাই সামলান…….”
প্রাপ্তির মা চলে যায় প্রাপ্তিকে ডাকতে….
“বাবা,আমরাও যাচ্ছি তোমার সাথে??”(রাফসা)
“তাহলে??কি বললাম আমি??আজকে আমার সব মেয়ে দের আমি নিজে শপিং করে দিবো….নৌশিন মা তুমিও তৈরী হয়ে নাও…আর সাদাদকে ফোন করে বলো যেন বসুন্ধরা তে তাড়াতাড়ি চলে আসে অফিস থেকে……সেখান থেকেই তোমাদের রাঙামাটি যাওয়ার জন্য শপিং টাও করে নিও তোমরা দুজনে……..”
নৌশিনেরও শপিং করতে ভালোই লাগে….তাই সে ও ভীষণ খুশি!!কয়টা মেয়ের কপালে শুশুড়ের সাথে শপিং এ যাওয়ার ভাগ্য হয়!!
যেটা নৌশিনকে আরও বেশি অভিবিত করছে।
নৌশিন রোমে গিয়ে রেডি হওয়ার আগে সাদাদকে ফোন করে……..
“হ্যালো,আসসালামু আলাইকুম……”
“হ্যাঁ,ওয়ালাইকুম আসসালাম…….কি করছে আমার জানপাখি?”
“উমমমম….কিছু করছি না তবে…..”
“তবে???”
“তুমি কি করছো??”
“ম্যাডাম আমি কি করি এই সময়ে??”
“হুম….ফিরতে কি রাত হবে তোমার??”
“কেন বলো তো??”
“বাবা সাথে শপিং এ যাবো আমি…..”
“আচ্ছা!!!এই ব্যাপার তাই তো বলি আমার জান পাখির কথাগুলোতে আজ একটু বেশি খুশি মিশ্রিত কেন!!!…তোমাকে না বললাম সকালে শপিংয়ের কথা…..তুমি বললে ভাবীর সাথে গিয়ে নাকি শাড়ি কিনেছো রাঙামাটি যাওয়ার জন্য করবে যাওয়ার আগের দিন….আমার সাথে যেতে ইচ্ছে করে না??তাই না??”
“সাদাদ!!!!আমি কবে বললাম তোমার সাথে যেতে ভালো লাগে না….তোমার সাথেই তো যাই….একদিন শুধু ভাবীর সাথে গেলাম…..আর আমার তো প্লেনিং ই ছিলো না শপিংয়ের যতগুলো শাড়ি আছে!!!আল্লাহ্….সেগুলোর ই তো যাকাত দিতে পারছি না…..”
“হেয়…..আচ্ছা….কোথায় শপিং এ যাচ্ছো??”
“বসুন্ধরাতে যাবে মে বি বাবা……তোমাকেও অফিস থেকে সেখানে আসতে বলছে…..ভাবী…প্রাপ্তিও যাচ্ছে….প্রাপ্তির জন্যই যাওয়া হচ্ছে… ও বেচারী কলেজ থেকে এসেই শপিং এ যাওয়ার জন্য বায়না করছে আর কাকি বকাবকি শুরু করেছে…. তো বাবা ঐ টাইমে বাসায় এসে সব শোনে নিয়েছে তাই…..”
“এই ব্যাপার….দেখেছো আমার বোন টার জন্য সবার ই আবার নতুন করে শপিং করা হয়ে যাচ্ছে….এটার জন্য আমার পুঁচকি বোনের একটা দারুণ গিফ্ট পাওয়া উচিত….”
নৌশিন হেঁসে বলল,
“ঠিক বলেছো…..”
“আচ্ছা,ম্যাডাম তো আপনি রেডি হয়ে নিন….আমি এসে যাবো তোমরা শপিং করতে থাকো…..”
“ওকে….বাই….”
“হুম…….বাই জান….”
এদিকে প্রাপ্তি যেতে চাইছিলো না একন শপিং এ……ওর মা যা বকাবকি করছিলো!!!!
তাই ওর মা ই বুঝিয়ে শুনিয়ে আবার শপিং এর জন্য রেডি করে দিলো।
!
নৌশিন,রাফসা,অরূপ,প্রাপ্তি সবাই রেডি…………….
সবাই মিলে শপিং এ যাওয়ার মজা টাই আলাদা।
“দাদু ভাই আব্বু কোথায়??”(অরূপ)
“তোমার আব্বু অফিসে দাদু……আমরা শপিং এ যাই…….”
“আব্বু শপিং করবে না??”
“করবে….তুমি আর আমি আগে করে নিই….তোমার আব্বু অফিস থেকে শপিং চলে আসবে…..”
“চাচ্চুর মতো??”
“হ্যাঁ…..বাহ্…রাফসা মা আমার দাদুর র দেখি ঠিকঠাক র হয়ে গেছে….”
গাড়িতে উঠতে উঠতে হেঁসে দেয় রাফসা…….
“ওফ দাদু আমি বড় হয়ে গেছি তো……”
“তাই নাকি!!!”
“হুমমমমমমমমম…….”
…….
গাড়ি চলছে……সবার মুখে হাঁসি…….নৌশিনের শশুড় কাউকে ফোন করছে……..
কিন্তু ফোন টা ঐ পাশ থেকে রিসিভ হলো না।
তাই একটা এসএমএস সেন্ড করে দিলেন।
“বড় বউ মা……”
“হ্যাঁ বাবা…..”
“রিদি কেও এসএমএস কর দিলাম আসার জন্য…..ফোন রিসিভ করে নি মে বি মিটিং এ আছে……আমরা সবাই যাচ্ছি সে ও না হয় আসুক….”
“ঠিক আছে বাবা…..”
“কি প্রাপ্তি মনি খুশি তো এবার??যত শপিং ইচ্ছা করবে ঠিক আছে??”
“হ্যাঁ জেঠু মনি….খুব খুশি আমি…..অনেকগুলো ধন্যবাদ তোমায়………”
“নো নো….মা কি কখনও ছেলেকে ধন্যবাদ দেয় নাকি!!!”
“ওহ্…তাহলে রিটান নিয়ে নিলাম…..”
“হা হা হা…….”
শপিং এ ব্যস্ত সবাই।
ইতিমধ্যে রিদিওও এসে গেছে।
“রাফসা,তুমি তো শুধু দেখেই যাচ্ছো মা…..”
“বাবা,আমার পচ্ছন্দ ই হচ্ছে না……”
“হা হা হা….একদম আমার নিপা মায়ের মতো দেখছি…..মেয়ে টাকে নিয়ে শপিং এ এলে বেচারী সব দেখতো কিন্তু পচ্ছন্দ আর হতো না……..”
“বাবা!!!!…..”
“আচ্ছা,আচ্ছা তুমি দেখে যাও……”
“এই তোরা এদিকে থাক তো….আমি ঐ দিক টাই আছি শাড়ির দোকানে……নৌশিন যাবি আমার সাথে??”
“হ্যাঁ…হ্যাঁ….নৌশিন ও তো তেমন কিছু কিনে নি….যাও তোমরা দুজনে শাড়ির শপে গিয়ে শাড়ি নিয়ে নাও…..”
“ওকে বাবা……ভাবী চলো…”
নৌশিন আর রাফসা শাড়ির দোকানে শাড়ি দেখছে।
“রিদি চাইলে তুমিও শাড়ি কিনতে পারো……”
“ওহ্ আঙ্কেল,তুমি তো জানো আমি শাড়ি টারি লাইক করি না…..আই জাস্ট লাইক ওয়ের্স্টান….”
“ওকে,তুমি যা লাইক করো তাই নাও…..”
প্রাপ্তি এরমধ্যে দুটো জামা কিনে নিয়েছে এখন কসমেটিকস কিনতে ব্যস্ত।
আর সাদাদের বাবা অরূপকে নিয়ে বাসার বাকী সবার জন্য শপিং করছে।
নৌশিন একটা সবুজ রংয়ের গর্জিয়াস শাড়ি দেখছে…..বেশ দেখতে শাড়িটা।
“ভাবী,দেখো….এই শাড়ি টা….”
“বাহ্….বেশ তো…..অনেক সুন্দর দেখতে……”
“তোমার তো কিছু পচ্ছন্দ হচ্ছে না এটা তুমি পড়ে দেখো খুব মানাবে তোমায়….”
“আসলেই এটা খুব সুন্দর…..কিন্তু এটা তো তুই পচ্ছন্দ করলি??”
“ভাবী!!!এটা আমি তোমার জন্য দেখলাম…..কাল তো ভালোই লোক আসবে তাই এইটুকু গর্জিয়াস তো চলতেই পাড়ে….তা ছাড়া তোমার সাথে খুব যাবে এই রং টা…….যা ফর্সা তুমি আর সুপার কিউটি (রাফসার গাল টেনে)……”
“নৌশিন!!!!!….”
“ওকে যাও আগে পড়ে তো আসো…..”
নৌশিন রাফসাকে ঠেলে দিয়ে ট্রায়েল রোমে ডুকিয়ে দিলো।
এবার নৌশিন নিজের জন্য শাড়ি দেখছে………
রাফসা নৌশিনের পচ্ছন্দ করা শাড়ি টা পড়ে নিজেকে দেখছে।
বেশ মানিয়েছে।রাফসা এমনিতেই গুলুমুলু মানে চিকন না আর কি একটু মোটা যেমন টা বাচ্চা কাচ্চা হলে মেয়েরা হয় আর কি।স্বাভাবিক মোটা,তার উপর ডক্টর মানুষ তো শরীর সব সময় ফিট তার।
আর রাফসাও অনেক ফর্সা।সবুজ রংয়ের জমকালো শাড়ি টা রাফসার রূপ কে যেন ধরে খাচ্ছে।তবে বেচারীর যে একটা বাচ্চা আছে সেটা এমনিতে কম বুঝা যায়।আর এই শাড়ি টাতে তো একদম ই বুঝা যাচ্ছে না।
রাফসা নৌশিনকে দেখানোর জন্য ট্রায়েল রোমের বাইরে বের হয়।
শাড়ির দোকানের দিকে যাচ্ছে রাফসা….কিন্তু যেতে পারলো না।
….তার আগেই পেছন থেকে কেউ একজন এসে মুখ চেপে ধরে ট্রায়েল রোমে পেছন দিকে নিয়ে যায়,যে দিকে মানুষ যায় না বলেই চলে।
রাফসার তো ভয়ে জীবন যায় যায় অবস্থা।
মুখ দিয়ে আওয়াজও করতে পারছে না,আর লোক টাকে দেখতেও পাচ্ছে না পেছন দিক থেকে।
পেছনে থাকা লোকটা রাফসা ট্রায়েল রোমের পেছনে নিয়ে আসে,নিজে দেওয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দিয়ে রাফসাকে নিজের বুকের সাথে নিয়ে দাঁড়ায়।তবে এখনও রাফসার মুখ ছাড়ে নি…..
লোক টার বুকের সাথে রাফসার পিঠ লেগে আছে,তাই রাফসার আরও বেশি অসস্তি হচ্ছে।সর্ব শক্তি দিয়ে নিজেকে ছাড়াতে চাইছে রাফসা….চোখ দিয়ে পানি বের হওয়ার উপক্রম প্রায়।
এমন সময়……
রাফসা স্থির হয়ে যায় হঠাৎ,স্পর্শ টা খুব ভালো করে খেয়াল করছে রাফসা।খুব বেশি সময় লাগলো না,রাফসা বুঝতে পারলো এটা কে!…..
আর চিনবেই না কেন??এ যে সারা জীবনের সব চেয়ে চেনা মানুষের স্পর্শ।এর স্পর্শেই যে সব সুখ লুকিয়ে আছে।
তবে এখন খুব রাগ হচ্ছে রাফসার,এমন কেউ করে।
হঠাৎ করে শপিং মলে পেছন থেকে এভাবে মুখ চেঁপে ধরলে যে কেউ ই তো ভয় পাবে।
রাফসা বুঝতে বুঝতে,পেছনে থাকা মানুষ টা আবেগের বশে রাফসার মুখ থেকে হাত সরিয়ে নিয়েছে।ব্লাউজের ফাঁকে যে টুকু উন্মুক্ত পিঠ দেখা যাওয়ার কথা সে টুকু তো হিজাবের পেঁচে ডাকা,তাই নেশাতুর হয়ে হিজাব টা সরিয়ে সেই ফর্সা পিঠে মুখ ডুবায়।
রাফসা ভেবেছে এবার ছাড়াতে পারবে নিজেকে,
কিন্তু না মানুষ টা যে নিজের দু হাত রাফসার পেটের উপর রেখে উন্মুক্ত পিঠে উষ্মতা দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
ইশশশশ….শপিং মলে!!!কেউ যদি এসে যায়…….
ভালোই লাগছে রাফসার….এমন চির চেনা আবেশ তো যে কোনো নারীর ই ভালো লাগে।
তবুও নিজেকে সংযত করে নিয়ে বলল,
“ছাড়ো……”
“উমহু।।।।।।”
“পাগল হয়ে গেছো তুমি??কোথায় কি করছো??”
পিঠ থেকে মুখ সরিয়ে রাফসার কাঁধে থুতনি রেখে সাদ(সাদাদের বড় ভাই সাদ)জানায়,
“হুম….আমি জানি তো…..বাট আমার রূপসীকে এই বেশে দেখে কন্ট্রোল হারা হয়ে গেছিলাম…….”
“ইশশশ…ছাড়ো তো….কি এমন বেশ….জাস্ট শাড়ি টা পড়েছি নতুন…..”
“এই শাড়ি টা পড়ে প্লিজ শপিং মলে আর ঘুরো না….বাসা থেকে যে টা পড়প এসেছো সে টা পড়ো…”
“সাদ….প্লিজ সরো….যে কেউ এসে যাবে…..আর তোমার ছেলে কিন্তু অনেকক্ষণ হলো আমায় দেখছে না পড়ে কান্না কাটি শুরু করবে……”
“একটু কান্না করুক না….বাসায় তো ছেলের জন্য পাই ই না তোমায়….আর কান্না করবেও না বাবা,নৌশিন ওরা আছে না-সামলে নিবে…….বাট তুমি এই শাড়ি টা চেন্স করে নাও….”
“এই শাড়ি টা কি করলো??আর তুমি হঠাৎ করে কোথা থেকে এসে এভাবে মুখ চেঁপে ধরলে,আমি ভয়ে পেয়ে গেছিলাম……”
“হেয়,,,,,চিনতে পারো নি??”
“হ্যাঁ পেরেছি কিন্তু কিছু সময় পর….তুমি তো শপিং মলে ছিলে না,অফিস থেকে এসে এভাবে এখানে নিয়ে আসবে আমি কি জানি নাকি??তাই একটু সময় লেগেছে……”
“আচ্ছা!!!”
“হ্যাঁ….এখন সরো তো….ঢং করতে আসছে শপিং মলে…..”
রাফসাকে নিজের দিকে ঘুড়িয়ে দাঁড় করায় সাদ।
কাঁধের পেছনে দু হাত বেঁধে রাফসার মুখের কাছে মুখ এনে বলল,
“আমি না আর কন্ট্রোল করতে পারবো না…..প্লিজ এই শাড়ি টা চেন্স করে নাও…..”
“মানে???তুমি!!!আমি তো এটা কাল পরবো….আজকে তো বাড়ির টাই পড়বো এখন…”
“হ্যাঁ…তা ঠিক বার এটা পড়ে এখানে হাঁটি হাঁটি করার দরকার নেই…..আর নৌশিনকেও কাল ই দেখিও কারণ শাড়ির দোকান তো অনেক গুলো কাপল দেখলাম আর ট্রায়েল রোমের পাশের শপ টাতেও অনেক ছেলে দাঁড়িয়ে নজর লেগে যাবে আমার রূপসীর উপর…….”
“সাদ!!!!!!!!”
“রিয়েলি….এই শাড়ি টাতে তোমাকে জাস্ট এটম বম লাগছে…..”
“সাদদদ!!!!!”(বুকে ঘুষি দিয়ে)
“ইশশশশ রিয়েলি বলছি গো…..আমার তো আবারও বাসর করতে ইচ্ছে করছে…..আচ্ছা!!!বাই এনি চান্স তুমি আমাকে পাগল করার জন্য এই শাড়ি টা নাজ নি তো…..”
“দেখো….ভালো হচ্ছে না কিন্তু….সরো তুমি।।।আর যাও নিজের কিছু কেনার থাকলে কিনে নাও
…আমার এখনও অনেক কিছু কেনার বাকী আছে….”
“ওয়েট…কিনবে তো….আমি এসেছি যেহেতু অনেক দিন পড়ে তো আমার সাথে শপিং এ তাল মিললো তোমার….এমনিতে তো তোমার কাজ ই শেষ হয় না….আজ বাকী শপিং টা না হয় আমার সাথে সেরে ফেলো…..ওরা ওদের মতো করুক শপিং……”
“সাদ!!!বাবার সাথে এসে এখন আবার তোমার সাথে আলাদা করে শপিং করবো??আর রিদি,নৌশিন,প্রাপ্তি ওরাও তো এসেছে…..এখন ওদের থেকে আলাদা হয়ে শপিং করবো??কেমন দেখায়!!!”
“আজব!!!বরের সাথে শপিং করবে…এতে কেমন দেখায় আবার কি??আর তা ছাড়া আমার ছোট ভাই অলরেডি রওনা দিয়ে দিয়েছে…..আর আমি নৌশিনকে ফোন করে বলে দিচ্ছি তুমি আমার সাথে আছো….ব্যাস হয়ে গেলো….”
প্রেমঘোর পর্ব ৫৫+৫৬+৫৭+৫৮+৫৯
“ওহুুু…তুমি না…..বাট বাবা??আর অরূপ তো তোমার কথা বলছিলো আসার সময়….ওকে ছাড়া শপিং করবো??ভালো লাগবে না আমার…..”
“আচ্ছা!আমি কি শপিং মল চেন্স করছি না কি??আমি জাস্ট তোমাকে আলাদা করে নিয়ে যাচ্ছি যেন নিজের পচ্ছন্দ মতো শপিং করে দিতে পারি তোমায়….কত দিন হলো আমার সাথে শপিং এ আসা হয় না তোমার…আর আমিও সময়ের অভাবে আমার মন মতো সাজতে পারি না তোমায়……..আর ছেলেকে আমরা পরে আমাদের সাথে নিয়ে নিবো….আগে তোমার শপিং টা কমপ্লিট করে নিই….তাহলে হবে তো???”
