Home প্রেমপিপাসা প্রেমপিপাসা পর্ব ১২

প্রেমপিপাসা পর্ব ১২

প্রেমপিপাসা পর্ব ১২
সুমাইয়া সুলতানা

অরুর মন মস্তিষ্ক বড়ো বিক্ষিপ্ত। বিষণ্ণতায় জড়িয়ে থাকা এক অসীম শূন্যতার মাঝে মনে হলো, ছাদে গেলে হয়তো একটু শান্তি মিলবে। শ্বশুর বাড়ি আসার পর বাড়িটা ভালো ভাবে ঘুরে দেখা হয়নি। বাইরে থেকে ছাদের দৃশ্যপট চোখ বুলিয়ে ছিল কয়েকবার। তাতে বুঝতে পেরেছে ছাঁদ দেখতে খুব সুন্দর হবে। টবে লাগানো ডালিয়া ফুল গাছ লম্বা হয়ে, ছাদের রেলিং পাড় করে উঁকি দিয়েছে গগনে। বড়ো একটা ফুল ফুটেছে গাছে। এছাড়া গেইট ফুল গাছের লতাপাতা ঠাই পেয়েছে রেলিং পাড় করে নিচ পর্যন্ত। প্রতিদিনের চেনা ছাঁদ, যেখানে আকাশটা একটু বেশি নীল আর বাতাসটা একটু বেশি মুক্ত, অথচ সে একবারও দেখার প্রয়োজনবোধ করেনি। আসলে মন ভালো না থাকলে, মন শান্তি না পেলে, আশেপাশে সবকিছু বিতৃষ্ণা লাগে। অরু ঠিক করল ছাঁদ থেকে একটু ঘুরো আসা যাক। সেখানে গিয়ে হয়তো মনের এই গুমোট ভাবটা কেটে যাবে।

ছাদে ওঠার পর অরু লম্বা শ্বাস টানল। প্রাণময় বিশুদ্ধ বাতাস ধারণ করতে চাইল নিজের মধ্যে। গোড়ালির ব্যথা কমে গিয়েছে। হাঁটতে অসুবিধা হয় না। ক্ষত পুরোপুরি না শুকালেও প্রায় শুকিয়ে গিয়েছে। চামড়া টান ধরে জটলা বেঁধেছে। এদিক ওদিক হেঁটে দেখার পর চোখ আটকে গেল এক কোণে। সেটা ছাদের স্টোর রুম, যার দরজায় ঝুলছে বড়ো তালা। অরু কৌতূহল মেটাতে আগ্রহের বশিভূত হয়ে এগিয়ে যায় সেদিকে। ঘাড় উপর নিচ করে, ভ্রু কুঁচকে দেখতে থাকল দরজাটা। মনে মনে ভেংচি কাটল। সামান্য স্টোর রুমে তালা লাগানোর কি আছে? অরু মুখ বাঁকিয়ে সরে আসতে উদ্যত হয়। তক্ষুণি নজর পড়ল দরজার পাশে মাটিতে পড়ে আছে একটা চকচকে অদ্ভুত জিনিস। সূর্যের কিরণে ঝলমল করছে। অরু ললাটে প্রগাঢ় ভাঁজ ফেলে কোমর ঝুকায়। নিচ হতে তুলে নেয় চকচকে বস্তুটা। অরু চোখ ছোট করে তাকাল। হাতে থাকা বস্তুটা হচ্ছে স্বর্ণের গোলাকৃতি আংটি। অরু উলটে-পালটে দেখতে লাগলো। আংটির গায়ে খোদাইকৃত করে ইংরেজি বর্ণ ‘এম ‘ লেখা। অবাক হলো সে। চোখে এক নিগূঢ় কৌতূহল ফুটে উঠল। ভ্রু কুঁচকে, ঠোঁট চেপে, এক অদ্ভুত চিন্তায় ডুবে গেল। এই জিনিসটা এখানে কীভাবে এলো? এটা কার? বাড়ির লোকের মধ্যে কারোর? কিন্তু তাদের আঙুলে অরু এই আংটি দেখেনি।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

অরু বেশি কিছু ভাবল না। বাড়ির লোকদের দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলে জানা যাবে। অরু স্টোর রুমের দরজার কাছ থেকে সরে আসে। নিচে নামার জন্য সিঁড়ির পথ ধরে। ছাদের দরজার পাশে একটা বড়সড় টব রয়েছে। টবে কোনো গাছ লাগানো নেই। আপনা-আপনি ঘাস, অপ্রয়োজনীয় ছোট ছোট লতা গাছ টবে দেখা যাচ্ছে। অরু আনমনে হাঁটার সময় মাটির তৈরি সেই টবের সাথে আঘাত পাওয়া পায়ের সাথে বারি খেলো। অরু চোখ খিঁচে মৃদু আর্তনাদ করে উঠল। তৎক্ষনাৎ বসে পড়ল হাঁটু ভেঙে। ব্যথা পাওয়া স্থানে হাত দিয়ে ডলছে।

হঠাৎ চোখ পড়ল টবের পাশে কৌটার মতো কিছু একটা পড়ে আছে। জিনিসটা ছোট্ট, মলিন এক বাক্স। রঙ টা বিবর্ণ, কেমন ধূসর। যেন বহুদিন ধরে রোদ আর বৃষ্টির মধ্যে পড়ে থেকে বিবর্ণ হয়েছে। শেওলা জমে গিয়েছে। অরু হাত বাড়িয়ে তুলে নিলো সেটা। হাতে নিয়ে অনুভব করল, বাক্সটা ভারি নয়, খুব পাতলা। নরমাল ভাবে যেকোনো জিনিস ছাদে পড়ে থাকতেই পারে। তবে অরুর মস্তিষ্ক ভিন্ন কিছুর আভাস দিচ্ছে। তাই সেটা ফেলল না। কিন্তু এর ভেতরে কি লুকিয়ে আছে, অরু জানে না।

অরু কৌটা হাতে উঠে দাঁড়ায়। ব্রীড়ানতায় একপাশে দাঁড়িয়ে সেটা খুলবে কি না ভাবতে লাগলো। উৎকণ্ঠিত হৃদয়কে প্রশমিত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো। এমন অজানা কৌতূহল যেন তাকে দমিয়ে রাখছে। বাক্সটা খুলে ফেলল সে। ভেতরে একটা চিরকুট, চিরকুট কিছুটা কালচে হলুদ হয়ে গিয়েছে। চিরকুটের সাথে একটা ছোট্ট লাভ সিস্টেম লকেট ওয়ালা স্বর্ণের চিকন চেইন। লকেটের এর উপর ইংরেজিতে হামিদা লেখা।

চিরকুটটা হাতে তুলে নিতেই একটা গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল। পুরোনো কাগজের গন্ধ, সময়ের সাক্ষী হয়ে থাকা কাগজ। বুঝাই যাচ্ছে কয়েক বছর আগের কাগজ। অরু ধীরে সুস্থে চিরকুটের ভাঁজ খুলল। অরু ভ্রু কুঞ্চিত করে ফেলল। পূর্ণ দৃষ্টি তাক করল চিরকুটের উপর। চিরকুটে যা লেখা আছে সেটা কারো হাতের লেখা নয়, বরং টাইপরাইটার যন্ত্র দ্বারা টাইপ করা। চিরকুটের গোটা গোটা অক্ষরে লেখাগুলো অরু স্বীয় কন্ঠে বিড়বিড়ালো,
” পাখি উড়ে গিয়েছে। সে আছে। সে ফিরে আসবে। সাবধান! সাবধান! ”

অরু স্তব্ধ, বিমূর্ত রূপে ফ্যালফ্যাল করে চিরকুটের দিকে তাকিয়ে আছে। এটা আবার কেমন চিরকুট? এর অর্থ কি? মনে হচ্ছে কাউকে সতর্ক সংকেত হিসেবে এটা লেখা হয়েছে। আনমনে অরুর বুকের ভেতরটা নিস্প্রভ নিস্পৃহতার আচ্ছাদনে ঢেকে গেল। সঠিক অর্থ বোঝার চেষ্টা করেও পারলো না। লকেটটা হাতে নিয়ে দেখল, সেটার ভেতর একটা ছবি। খুব পুরোনো, আবছা একটা মুখ, যেন কোনো নারীর প্রতিচ্ছবি। অরু তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করল। নারীর প্রতিচ্ছবিটা চিনতে পারছে না। চেনার কথাও না। একে তো ছবিটা ঘোলাটে, দ্বিতীয়ত নারীর মুখাবয়ব আজ প্রথম দেখছে। অরু ছোটবেলা থেকে কল্পনা বিলাসী। ভূতের ছবি সবচেয়ে ফেভারিট। ছোট ছোট বিষয়বস্তু কল্পনা করে রহস্যময় বানিয়ে ফেলে। এই যেমন, এখন স্বীয় মনে ভাবছে, এটা কোনো পুরোনো আত্মার গল্প। সেই আত্মা অরু’কে দিয়ে তার প্রতিশোধ নিতে চাইছে। নিজের কাজ হাসিল করতে চাচ্ছে। সেজন্য অরুর নিকট এসব জিনিস পৌঁছে দিয়েছে। নিজের অদ্ভুত, ভুলবাল ভাবনাতে অরু ফিক করে হেসে ফেলল।

অরু ঘুরে দাঁড়ায়। ফিরে আসার জন্য সিঁড়িতে পা বাড়াল। তখন একটা হিমেল বাতাস সবকিছু স্থির করে দিল। আলতো ভাবে ছুঁয়ে গেল অরু’কে। বাতাসের মধ্যে একটা চাপা গুঞ্জন, যেন কেউ তাকে ডাকছে। অরু পিছন ফিরে তাকাল। পেছনে কেউ নেই, হয়তো মতিভ্রম! অথচ সেই ডাকের অনুভূতিটা এত বাস্তব যে অরুর সারা শরীর শিউরে উঠল।

হ্যাভেন ক্লায়েন্টের সাথে মিটিং শেষ করে সবেমাত্র নিজস্ব চেম্বারে ফিরল। চেয়ারে বসে মাথা এলিয়ে দিল পেছনে। রিমোট হাতে নিয়ে এসির টেম্পারেচার বাড়িয়ে দিল। গলার টাই ঢিল করল তৎক্ষনাৎ। শার্টের বুকের নিকট দুটো বোতাম খুলে রাখল। গ্লাসে পানি ঢেলে ঢকঢক করে খেয়ে নিলো। দীর্ঘক্ষণ চোখ বন্ধ করে রইল। দরজায় ঠকঠক শব্দ কর্ণগোচর হতেই ফট করে চোখ খুলল। গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠলো,
” কামিং। ”

একটা লোক হাতে খাবার নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করল। টেবিলে খাবার রেখে চুপচাপ বেরিয়ে গেল। হ্যাভেন টেবিল হতে ফোন হাতে নিলো। লক খুলে কল লিস্টে ঢুকল। ধানিলংকা নাম দিয়ে সেভ করা নাম্বারে ডায়াল করল। রিংটোন বাজছে, কিন্তু রিসিভ হচ্ছে না। হ্যাভেন একের পর এক কল দিতেই থাকল। বরাবরের মতোন ফলাফল শূন্য। গুনে গুনে ছয় বার কল করার পরও রিসিভ করছে না ফোনের মালিক। হ্যাভেনের মেজাজ খারাপ হতে শুরু করেছে। মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করল,
” আর একবার কল করবো। এবার যদি রিসিভ না করো, এক্ষুনি বাসায় এসে তোমার কি হাল করবো নিজেও জানি না। ”
হ্যাভেন পুনরায় কল করল। মুহূর্তে কল রিসিভ হয়। হ্যাভেন বিশ্বজয়ের হাসি দিল। ফোন কানে রেখে মৃদুস্বরে ধমকে বলল,

” কতবার কল করেছি? কল রিসিভ যখন করেছো, মেসেজ করার আগে রিসিভ করো নি কেন?”
অরু গা ছাড়া ভাবে সাবলীল উত্তর দিল,
” কেন ধরবো? আপনি আমাকে কল দিয়েছেন কেন?”
হ্যাভেন ভ্রু কুঁচকে ফেলল। চোয়াল শক্ত করে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
” আমি কল দিবো না তো কি নিখিল দিবে? সে কল দিলে খুশি হতে? ”
নিখিলের কথা তুলতেই অরুর অক্ষিকোটর রক্তিম বর্ণ ধারণ করল। শরীরের রগে রগে আগুন জ্বলে উঠল। মুখবিবর কাঠিন্য ভাব ফুটিয়ে বাজখাঁই গলায় বলে,
” ওই লম্পট ছেলের কথা বলবেন না। ”
হ্যাভেন খুশি হলো। ফিচেল হেসে জিজ্ঞেস করলো,

” কেন? ”
” আমি না করেছি তাই। ”
হ্যাভেন নড়েচড়ে সোজা হয়ে বসলো। কপাল চুলকে জানতে চাইল,
” তাহলে কার কথা বলবো? ”
অরু বিরক্ত হলো। ভেবেছিল এখন কিছুক্ষণ রেস্ট নিবে, অথচ এই লোক আজাইরা পেঁচাল লাগিয়ে দিয়েছে।
” কারো কথা বলার দরকার নেই। ”
হ্যাভেন ভারিক্কি নিঃশ্বাস ছাড়ল। শান্ত কন্ঠে শুধাল,

” লাঞ্চ করেছো? ”
অরুর বিনয়ী জবাব,
” না। ”
হ্যাভেন চটে গেল। তিরিক্ষি মেজাজ সহিত বলল,
” এখনো লাঞ্চ করো নি? মেডিসিন নিতে হবে সেই খেয়াল আছে? ”
” খেতে ইচ্ছা করছে না। ”
হ্যাভেন ব্যঙ্গাত্মক করে বলল,
” কি খেতে ইচ্ছে করছে? আমার চুমু? আসবো বাড়িতে? লাঞ্চ না করে চুমু খেলে কি পেট ভরবে?”
অরু মুখ বিকৃত করল। চেঁচিয়ে উঠল সহসা,
” আবার শুরু করে দিয়েছেন? আপনার মুখ থেকে কি ভালো কথা বের হয় না? ”
হ্যাভেন মুচকি হাসল। উচ্ছ্বসিত কন্ঠে জানালো,

” তোমার সাথে তো আমার ভালো কথা বলার সম্পর্ক নয়! তোমার সাথে আমার অশ্লীল কথাবার্তা বলার সম্পর্ক। সেক্ষেত্রে ভালো কথা আশা করো কিভাবে? কমনসেন্স নেই? ”
অরু তৎক্ষনাৎ কল কেটে দিল। এই বজ্জাত লোকের সাথে কথা বলার থেকে, মেডিসিন না নিয়ে অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে থাকা ঢেরবেশি ভালো। কল কাটার পর টুং শব্দ করে একটা মেসেজ আসলো ফোনে। হ্যাভেনের মেসেজ। অরু চোখ বোলালো সেই মেসেজে। সেখানে লেখা,

” লাঞ্চ করে মেডিসিন খেয়ে নাও। তুমি অসুস্থ থাকলে, ব্যথায় কাতরালে আমার সহ্য হয় না। ভীষণ কষ্ট হয়, অরু পাখি। বুকের ভেতর বাম পাশে তীব্র যন্ত্রণা হয়। কি করে বোঝাই? ”
মেসেজ দেখে না চাইতেও অরু আনমনে হেসে ফেলল। লম্বা শ্বাস টানল। কিয়ৎকাল এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল ফোনের স্ক্রিনে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা মেসেজে। অরু সঠিকভাবে এই লোককে বুঝে উঠতে পারে না। আস্ত একটা পাগল। এই ভালো তো এই মন্দ।

অরুর সাথে কথা শেষে হ্যাভেন খাবার খেতে মনোযোগ দেয়। ঠাণ্ডা পরিবেশ, খাবারের সুগন্ধ, আর একটু আগে অরুর সাথে শেষ হওয়া কথোপকথনের রেশ তাকে গভীর শান্তিতে ডুবিয়ে রেখেছে। তৃপ্তি করে খাবার খাচ্ছে। ঠিক তখনই ফোনটা তার কর্কশ আওয়াজে বেজে উঠল।
হ্যাভেন দ্রুত খাবার চিবিয়ে গলাধঃকরণ করে ফোনের দিকে তাকাল। স্ক্রিনে ভেসে ওঠা নাম্বার দেখে তার ললাটে গভীর ভাঁজ পড়ে গেল। এ আবার ফোন করেছে কেন? মনে মনে এমন ভাবনার মধ্যেই সে কল রিসিভ করল।
অপর প্রান্ত থেকে শোনা গেল চেনা এক কণ্ঠ। প্রথমেই লোকটা এমন কিছু বলল, যা হ্যাভেনের মন জুড়িয়ে দিল। তাজা গরম গরম খবর শুনে হ্যাভেন সন্তুষ্ট হয়। মৃদু হাসি ফুটল তার ঠোঁটে। সে বাহবা দেওয়ার ভঙ্গিতে বলল,

” বাঘের বাচ্চা! আই অ্যাম প্লিজড উইথ ইয়োর ওয়ার্ক। ”
লোকটা শুষ্ক ঢোক গিলল। শরীরে ঘাম ছুটে গিয়েছে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই লোক অন্য হতাশ খবরে চলে গেল। জিভ দ্বারা ঠোঁট ভিজিয়ে মিনমিন করে জানালো,
” স্যার আমার কথা শেষ হয়নি। আগে পুরো কথা শুনুন। ”
হঠাৎ এমন কিছু বলবে, হ্যাভেন আশা করে নি। চোয়াল শক্ত করে বলল,
” কাজটা সম্পূর্ণ করতে ব্যর্থ হয়েছো, রাইট? ”
লোকটা কাঁপা গলায় বলে,

” স্যার আমরা নজর রাখছিলাম। তখন আরেকটা ট্রাক এসে পড়েছিল। এরকম করে পরপর দুইটা ট্রাক এসে পড়ায়, আসল ট্রাক কোনটা বুঝতে পারিনি। কারণ, ট্রাক দেখতে সেইম সেইম ছিল। আই থিংক, আমাদের চোখে ধূলো দেওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃত ভাবে এরকম করেছে। অতঃপর আসল ট্রাকের হদিস পাইনি। আমাদের দৃষ্টির সীমানার বাইরে চলে গিয়েছে। ”
রাগে হ্যাভেনের শরীরে রক্ত টগবগিয়ে উঠছে। তীক্ষ্ণ চোখ জ্বলে উঠল মুহূর্তে। কাঁচের পানি ভর্তি গ্লাস ফ্লোরে ছুড়ে ফেলল। তৎক্ষনাৎ কাঁচের গ্লাস ভেঙে ঝনঝন শব্দ তুলল। ক্রোধান্বিত মুখে ফোনের দিকে তাকিয়ে কঠিন স্বরে বলল,

” কাজ করার সময় মন কোথায় থাকে? বসে বসে নেশা করছিলে নাকি? ওই? কোনো ভাবে তুমি তাদের দলের লোক নও তো? হতেই পারে তুমি আমার মিত্র সেজে শত্রু হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছো। আজকাল কাউকে বিশ্বাস হয় না। জা’নো’য়া’র গিরি দেখালে, জা’নো’য়ারের মতো মারা পড়বে! ”
লোকটা ভয়ে তটস্থ হয়ে চুপসে যায়। হ্যাভেনের রাগ সম্পর্কে পূর্বে অবগত সে। হ্যাভেন সচারাচর এমন ভাষা ব্যবহার করে না। কিন্তু হ্যাভেন জা’নো’য়া’র বলায় সম্মানে লাগলো। মনঃক্ষুণ্ন হলো। কিছুটা আহত স্বরে বলে উঠলো,
” স্যার আর ভুল হবে না। তবে গালি না দিলেও পারতেন। ”
হ্যাভেন ভ্রু কুঞ্চিত করে। গম্ভীর গলায় বলে ওঠে,

প্রেমপিপাসা পর্ব ১১

” রাখছি। ”
কল কেটে দেওয়ার পর হ্যাভেনের ঠোঁটে এক তাচ্ছিল্য হাসির রেখা ফুটে উঠল। ফ্লোরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গ্লাসের টুকরো অংশ গুলো নিগূঢ় দৃষ্টিতে অবলোকন করল। মাথা ডান-বামে নাড়তে নাড়তে রুষ্ট গলায় বিদ্রুপ হেসে বলে,
” অদ্ভুত মানুষ! বাঘের বাচ্চা বললে খুশি হয়। আর জা’নো’য়ার বললে রাগ করে! ”

প্রেমপিপাসা পর্ব ১৩