প্রেমসুধা পর্ব ৫৯
সাইয়্যারা খান
বন্ধুদের থেকে বিদায় নিয়ে রাস্তায় আসতেই পৌষ তৌসিফে’র বাহু খাঁমচে ধরলো। তৌসিফ নিজের গলার মাফলারটা খুলে পৌষ’র নাক সহ মুখে পেঁচিয়ে দিলো। ফোন হাতে নিয়ে শক্ত কণ্ঠে ড্রাইভারকে ধমকে গাড়ি নিয়ে আসতে বলা মাত্রই পৌষ মুখের থেকে মাফলার সরায়। নাসারন্ধ্রে ধাক্কা খেলো তৌসিফ তৌসিফ গন্ধ। পৌষ নাকটা পুণরায় মাফলারে ঠেকায়। শুকে নেয় যতটুকু পারা যায়। যদিও তৌসিফ’কে সে বিনাকারণে কাঠগোড়ায় দাঁড় করায়৷ বলে গন্ধ গন্ধ কিন্তু সত্যি তো এটাই যে তৌসিফ এক ঘ্রাণময় পুরুষ। তার পুরুষনালী ঘ্রাণে পৌষ মাতাল বনে যায়। মানুষের শরীরের গন্ধ হয় ভিন্নতর। তৌসিফে’র পারফিউমটার ঘ্রাণও ভিন্ন। পৌষ’র ভালো লাগে। চোখ বুজে তা অনুভব করে ও।
তৌসিফে’র হাতটা ধরতেই তৌসিফ তাকালো ওর দিকে। পৌষ’র নাক খোলা দেখেই চোখে রাগ দেখিয়ে যেই না নাক ঢাকবে ওমনি পৌষ বলে উঠলো,
— এখন হোটেলে না যাই? একটু হাঁটি? আপনি আর আমি? হাঁটব। ঘুরব। প্রেম করব।
তৌসিফ ফোনটা কেটে দিলো। ফটাফট আঙুল চালিয়ে কিছু টাইপ করে ফেললো। ফোনটা জ্যাকেটের পকেটে ঢুকিয়ে পৌষ’কে টেনে নিলো নিজের কাছে। চোখের দিকে তাকাতেই পৌষ দৃষ্টি নামায়। আলগোছে তৌসিফ কাছে টানে। পৌষ তৌসিফ’কে জড়িয়ে ধরে। খোলা রাস্তায় তখন মানুষ জন খুবই কম। চারপাশে ঝলমলে আলো। পুরো অস্ট্রেলিয়া তখন সেজেছে নতুন রঙে। বছর বিদায় হওয়ার আর বেশিদিন বাকি নেই। পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে বরণ’কে করতে মুখিয়ে আছে সকলে।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
পুরাতনকে মনে রাখতে নেই আর যদি সেই পুরাতন হয় জ্বালাময়, জঘন্য এবং কষ্টদায়ক তাহলে সেই পুরাতন মনে পুষে নিজে জ্বলার প্রশ্নই উঠে না। পুরাতন মানেই তাকে বিদায় করো। নতুন’কে আঁকড়ে ধরো। এখানে অবশ্য ভিন্নমত আছে। থাকাটাই যথার্থ। মানুষ ভিন্ন এরমানে যুক্তি ভিন্ন হবেই।
পৌষ পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে উঁচু হলো। তৌসিফ ওর নিয়ত বুঝলো না তবুও কোমড় জড়িয়ে একটু উঁচুতে তুলে দিলো। পৌষ দুই হাতে তৌসিফে’র গলা জড়িয়ে দাঁড়ি ভর্তি গালে নিজের গাল ঘঁষে দিলো। তৌসিফ চোখ বুজে নিলো। পৌষ তখন আদর করতে ব্যস্ত। তৌসিফ এক ঢোক গিলে। পৌষ ওর প্রসস্থ কপালে চুমু দিয়ে এক হাতে হাত দিয়ে আরেক গালে ঠোঁটে’র ছোঁয়া দিলো। অতি ঠান্ডায় উষ্ণ আলিঙ্গন। তৌসিফ পৌষ’র দেহটা নিজের সাথে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে হালকা স্বরে বলে উঠলো,
— এখানে রুমের ব্যবস্থা করব?
— উহুঁ।
— তাহলে?
— এভাবেই থাকব।
— রাস্তা এটা হানিইইই….ট্রাই টু….
তৌসিফ এত অল্পে বেসামাল হবে কে জানতো। পৌষ আদর থামালো। গালে ছোটখাটো এক কামড় দিয়ে গলা ছেড়ে দিয়ে বললো,
— নামান।
তৌসিফ চোখের পলক ঝাপ্টা দিলো কয়েকবার। অসন্তোষ গলায় বললো,
— এটা কি ছিলো?
— আদর ছিলো।
— ব্যাস এতটুকুই?
— হুঁ। এতটুকুই।
— আর পাব না?
— এখন না।
— তাহলে? কখন?
তৌসিফ বড়ই উতলা হচ্ছে। হওয়ারই কথা। বউ মাত্রই তাকে আদর করছে একটু। এখন তার মনটা আদর আদর করছে। এই করাটাও স্বাভাবিক। পৌষ উত্তর করলো,
— রাতে।
তৌসিফ ফট করে পৌষ’কে নামালো। এদিক ওদিক তিনশত ষাট ডিগ্রী এঙ্গেলে ঘুরিয়ে বললো,
— দেখো চারপাশে অন্ধকার। রাত বারোটা বাজে।
— আরো রাত হোক।
— এখন?
— ঘুরব।
— নো ওয়ে হানি….
পৌষ ঝট করে হাত সরালো। দারাজ গলায় বলে উঠলো,
— একশত ওয়ে হানির জামাই। বুড়ো জামাই বলে কি আমি প্রেম করব না? এতক্ষণ আমাকে বুইড়া বেটিদের মাঝে বসিয়ে রেখেছিলেন। এখন ঘুরবেন আমাকে নিয়ে। আর হ্যাঁ, খবরদার যদি কু*ত্তামার্কা বেটিদের কাছে আমাকে আরেকবার এনেছেন তো! ফালতু সব! আমার সংসারে নজর দেয়। ওদের চোখ দিয়ে গুট্টি বানিয়ে খেলব আমি। একদম কাঁটাচামচ দিয়ে তুলে নিবে। চিনে না আমাকে!
তৌসিফ অসহায় ভাবে তাকালো। কি হলো? হঠাৎ রোম্যান্টিক মুডে থাকা বউটা ক্ষেপলো কেন? এতক্ষণ তো ভালোই ছিলো। পৌষ’র হাতটা ধরে তৌসিফ জিজ্ঞেস করলো,
— কেউ কিছু বলেছে?
— বলেছে।
— কি বলেছে?
— রাতে বলব।
ফোঁস করে শ্বাস ফেলে তৌসিফ। পৌষ’র হাত ধরে টেনে নেয় নিজের কাছে। দুজন হাঁটা ধরে। গন্তব্যহীন। সিডনি শহরটা তখন আলোকিত। বুঝা দায় এখন রাত। তারমধ্য এক অসমবয়সী দম্পতি হাঁটছে। মেয়েরা রাগ করে সামনে যেতেই পুরুষটা পিছু দৌড়ালো। এগিয়ে এসে হাত ধরে টান দিতেই মেয়েটার রাগ পরে গেলো। তাদের ছুটাছুটি চললো অনেকক্ষণ। হাসির শব্দে আশেপাশের দুই একজন তাকালো অবশ্য অথচ বেখবর দু’জন মেতে আছে প্রেমে। তারা সিডনি’র ঠান্ডার মাঝে উৎসব খুঁজে নিয়েছে। একদম নিজের মতো।
ক্লান্ত পৌষ দেখলো মোটামুটি জোয়ান একজন মহিলা বেলুন বিক্রি করছেন। তার থেকে এক জোড়া করে কিনে বেঁধে আকাশে ছেড়ে দিচ্ছে কেউ কেউ। তাদের মতে এই দুটো হলো এক জোড়া প্রেমের জুটি। বেলুন গুলো ঝলমল করছে। পৌষ সেই বরাবর দৃষ্টি দিয়ে দেখতেই পেছন থেকে ওর কোমড় জড়িয়ে ধরে তৌসিফ। নিজের কাছে নিয়ে উঁচু করে হাঁটা দিতেই পৌষ হাসলো। আজ সারাদিন তৌসিফ তাকে হাঁটতে দেয় নি ততটা। তার আড়ালে করা এসব যত্নে পৌষ’র ভালোবাসা বাড়ে৷ হাজার গুন বাড়ে। শতশত তারা যেমন আকাশে রাজত্ব করে ঠিক সেভাবেই তৌসিফে’র বুকে রাজত্ব করে পৌষ। সবটা তার। এই তৌসিফ তালুকদার তার। নিজ রাজত্বে যখন রাজাই আমার তখন ফাঁকা তীরে কেউ ম’রে না। পৌষ অতটাও বোকা না৷ সে হাজার বোকা হলেও তৌসিফে’র ভালোবাসা চিনতে তার ভুল হয় নি। এই ভালোবাসা কে না বুঝে? পা’গলও বুঝে।
পৌষ হাসলো। তৌসিফ লোকটার কাছে যতটুকু ছিলো সবগুলো বেলুন নিয়ে পৌষ’র হাতে দিলো। পৌষ হাসতে হাসতে বললো,
— এত কেন?
— দুটো তুমি-আমি।
— বাকিগুলো?
— আমাদের বাবুরা।
— এত্তোগুলো?
— হ্যাঁ তো।
— এতোগুলো না৷ ব্যাটা বলে কি? ম’রে যাব আমি।
পৌষ বেলুন হাতে ব্রীজে ছুটলো। তৌসিফ এক পলক তাকিয়ে হাসতে হাসতে টাকা দিলো মহিলাটাকে। মহিলাটা হাসিমুখে তাকে সুন্দরতম রাতের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদায় জানিয়ে চলে গেল। তৌসিফ বুকে হাত গুজে তাকালো। ব্রীজটা ছোট। অপর পাশ থেকে দৌড়ে এলো তৌসিফ। তার মতো একটা পুরুষ’কে হয়তো এসব মানায় না কিন্তু একজন প্রেমিক পুরুষকে সবটা মানায়। সবটা।
হঠাৎ সামনে থেকে তৌসিফ’কে আসতে দেখে পৌষ থামলো না। তার পা চলমান। দু’জন দ্রুতই নাগাল পেলো দু’জনকে। হাঁপাতে হাঁপাতে তৌসিফ জড়িয়ে ধরলো পৌষ’কে। দু’জনের মুখ থেকে আভ বেরুচ্ছে। অতি শিঘ্রই পৌষ’র দেহ আঁকড়ে ধরে দুটি ওষ্ঠাধর একত্রিত হলো। মাঝ ব্রীজ থেকে তখন উঁড়ে গেলো চৌদ্দটি বেলুন। পৌষ দুই হাতে তৌসিফে’র পিঠ জড়িয়ে ধরলো। ওর চোখ দিয়ে পানি পরলো সমানতালে। জানা নেই কেন কিন্তু এই চোখ শুধু কাঁদে। হোক অতি খুশিতে বা অতি দুঃখে।
বাড়ীতে আসার পর থেকে সোহা’র ব্যবহার বদলে গেলো। মেহেদী পাথর হয়ে আছে। তার জীবনে এমন পরিস্থিতি কখনো আসে নি। রাস্তায় সোহা গাড়ি থামিয়ে মিষ্টি কিনেছে। গাড়ি করেই তারা বাড়ী ফিরেছে। মিষ্টি গুলো মেহেদী ভেতরে এনে টেবিলে রাখতেই ওর মা বেরিয়ে এলেন। সকাল সকাল কোথায় বেরিয়েছিলো জিজ্ঞেস করতেই সোহা হাসিমুখে বললো,
— হাসপাতালে।
চিন্তিত হয়ে শাশুড়ী জিজ্ঞেস করলো,
— হায় হায়, হাসপাতালে কেন গিয়েছিলে? ঠিক আছো দু’জন? মেহেদী বাবা কি হয়েছে?
সোহা শাশুড়ী’কে জড়িয়ে ধরলো। কানে কানে বললো,
— দাদী হচ্ছেন আপনি।
সোহা ছেড়ে সরে আসতে চাইছিলো কিন্তু পারলো না। ওর শাশুড়ী জড়িয়ে রাখলো৷ মধ্যবয়স্ক নারীটি কোঁদেও ফেললো। তার একমাত্র সন্তান মেহেদী। কষ্টের সংসারের একমাত্র পুত্র সে। তার সন্তান আসবে ভাবতেই আবেগী হলেন তিনি। সোহা’র কপালে চুমু খেয়ে শুকরিয়া আদায় করে মেহেদী’র পাশে বসে ওকে জড়িয়ে ধরতেই খেয়াল করলেন মেহেদী কাঁপছে। ওর মা হেসে ফেললেন। বললেন,
— দেখলে বউ মা আমার ছেলে বাবা হওয়ার খুশিতে কিভাবে কাঁপছে। এই মেহেদী, আব্বা আমার, কেন কাঁদছিস? পা’গল। খুশির কথায় কাঁদতে নেই।
মেহেদী মা’কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। ওর ফুঁপানো কানে এলো সোহা’র। সোহা মেহেদী’র অপর পাশে বসে কাঁধে হাত রাখলো। মেহেদী’র মা কপাল কুঁচকে নিলেন। অসন্তুষ্ট গলায় বললেন,
— এভাবে কাঁদে কেউ? মেহেদী বাবা হচ্ছিস না এখন?
সোহা ঢোক গিলে সামলে নিলো। বললো,
— আম্মা আসলে ডাক্তার প্রথমে একটু ভুল-ভাল বলেছিলো তো তাই হয়তো এখনও ভয় পাচ্ছেন উনি।
— সে কি! এই ডাক্তার দেখিও না আর তাহলে। মেহেদী ছাড়। তোর বাবা’কে বলি। আত্মীয় স্বজনদের ফোন দিতে হবে তো। আর বোঁকা, তুই পাঁচ কেজি মিষ্টি কেন এনেছিস? হবে এতে? আমি পুরো মহল্লায় দিব। দাঁড়া টাকা নিয়ে আসি।
বলতে বলতে উঠে গিয়ে কয়েকটা ভাজ করা কিছু নোট নিয়ে এলেন উনি। দেখেই বুঝা যাচ্ছে বিভিন্ন সময়ের জমানো টাকা। সোহা পুণরায় ঢোক গিললো। সে কি বেশি কঠোর হয়েছিলো? মেহেদী’র শরীর তখনও কাঁপছে। ওর মা এবার বিরক্ত হয়ে স্বামী’কে ফোন দিলেন। বাসার পাশে থাকায় শশুর তারাতাড়ি বাড়ী ফিরলো। তাকে খুশির খবর দিয়ে টাকাগুলো হাতে গুজে দিয়ে শাশুড়ী পাঠালেন মিষ্টি আনতে। সোহা কঠিন কথা বলবে ভেবেছিলো তাই তো দামী মিষ্টি এনেছিলো। সোহা ধরলো না সেগুলো। ও খেলো শশুরের আনা কমদামি সাদা মিষ্টি। শাশুড়ী মিষ্টি বাট করছেন। আশেপাশের কয়েকজন চাচি এসেছেন। তারা নানান কথা বলছেন সোহা’কে। সোহা দেখলো মেহেদী একই ভাবে বসে আছে। শাশুড়ী আনাড়ের রস এনে সোহা’র হাতে দিয়ে বললেন,
— এক ঢোকে গিলে নাও তো বউমা। আর এই মেহেদী ঘরে যা ওকে নিয়ে। একটু শুয়ে থাকুক।
মেহেদী উঠে দাঁড়ানোর সুযোগ পায় না৷ শক্তি হয় না। সোহা ওর হাত ধরে শক্ত করে। মেহেদী উঠে দাঁড়ায়। সোহা’র সাথে রুমে যায়। সোহা দরজা আটকে এলো৷ নিজের করা আচরণটা তার কাছে তখন ঠিক লাগলেও এখন ভুল লাগছে। সে ভালোবাসে মেহেদী’কে। একই ভাবে মিনুটাকে ও নিজ হাতে পেলেছে। এই কলিজার একটা টুকরো মিনু। হয়তো ভালো শিক্ষা দিতে পারে নি ততটা কিন্তু সোহা ভালোবাসে ওকে। নিজ সন্তানের মতো৷ মেহেদী’র পাশে বসে সোহা। ওর হাতটা ধরতেই মেহেদী চোখ তুলে তাকালো৷ লাল একজোড়া চোখ। সোহা ভরকালো। কিছু বলার জন্য মুখ খুলবে তার আগেই মেহেদী ফ্যাচফ্যাচে গলায় বললো,
— কত টাকা লাগবে সোহা?
সোহা ঢোক গিলার আর সুযোগ পেলো না৷ ওর বুক কাঁপছে। কিসের টাকার কথা বলছে মেহেদী? ওকে ছেড়ে দিবে নাকি? তালাকের টাকা’র কথা বলছে? সেটা তো পরিশোধ করা তাহলে? অযাচিত সব ভাবছে সোহা। মেহেদী পুণরায় জিজ্ঞেস করলো। সোহা ভীতু স্বরে বলে,
— কিসের টাকা?
— বাচ্চা পালতে কত টাকা লাগে?
— মেহেদী… আমি শুধু আপনাকে বুঝাতে চেয়েছিলাম…
— আমি বুঝেছি তো সোহা।
— শুনু…
— শুনা লাগবে না আর। আমি বুঝেছি। আচ্ছা, শুনো এখানে তো দুই রুম৷ একমাস সময় দাও নাহয়। আচ্ছা দুই মাস দেয়া যাবে? একটু সময় লাগবে মনে হয়। তিন রুমের বাসা নিতে হবে। মিনু থাকবে কোথায়? ওর জন্য এক রুম। সোহা আমি টাকা কামিয়ে নিব। তুমি চিন্তা করো না৷ তুমি নিশ্চিত থেকো। সামনের মাসেই বড় ফ্ল্যাট নিব৷ তোমাকে সব দিব৷ কি কি লাগবে আমাকে বলবে….
ওদের কথা শেষ হলো না। দরজায় খটখট শব্দ হয়। সোহা কান্না চেপে ধরে। ও শুধু ভয় দেখাতে চেয়েছিলো। ভালোবাসার লোভে মেহেদী’কে আঁকড়ে ধরেছে ও। চায়নি পূর্বের মতো মন ভাঙতে কিন্তু মেহেদী যে এতটা কষ্ট পাবে তা সোহা বুঝতে পারে নি। সোহার কান্না পাচ্ছে। ভীষণ কান্না। সোহা কাঁদতে পারলো না। মানুষজন দিয়ে ভরা বাড়ী। শুধু ফাঁকে গায়ে জ্যাকেট জড়িয়ে মাফলারে মুখ পেঁচিয়ে বেরিয়ে গেলো মেহেদী।
সোহা ভয় পেলো তখন যখন রাতেও বাড়ী ফিরলো না মেহেদী।
রাত তিনটা নাগাদ হোটেল রুমে ঢুকে তৌসিফ। পৌষ’কে ফ্রেশ হতে পাঠিয়ে নিজে টুকটাক খাবার অর্ডার দিলো। পৌষ’র যে ক্ষুধা লেগেছে এটা ও জানে। পৌষ কাঁপতে কাঁপতে বেরিয়ে এলো। তারাতাড়ি তৌসিফ ওকে বিছানায় তুললো। দাঁত চেপে তৌসিফ এক ধমকও দিলো। পৌষ কেঁপে যায়। মাথা ঢুকায় কম্ফোর্টারের ভেতর। তৌসিফ রাগী কণ্ঠে বলে,
— এই বরফের মতো ঠান্ডা পানি দিয়ে কেন মুখ হাত ধুয়েছো? গরম পানি নেই? কথা শুনো না তুমি! এত ঘাড়ত্যাড়ামি করলে দেখবে কি করি!
বলতে বলতে হিটারটা পৌষ’র কাছাকাছি এনে রাখলো। নিজেও ফ্রেশ হয়ে আসতেই দেখলো পৌষ এখনও ওভাবে শুয়ে আছে। তৌসিফ এত টানলো ও উঠবে না। না পেরে কম্ফোর্টার সহ ওকে জড়িয়ে ধরে তৌসিফ। হাসতে হাসতে বলে,
— এই বউ সরি তো। উঠো।
— না।
— কেন?
— বকেছেন।
— মাফ চাইছি। খাবে না?
— না। ছাড়ুন আমাকে।
তৌসিফ ছাড়ে না। পৌষ’কে বের করে নেয়। মুখের সামনে খাবার নিলেও যখন ত্যড়ামি শুরু করলো তখন তৌসিফ আচমকা ওর কানে কানে কিছু বললো। পৌষ মাথা নামিয়ে নিলো। তৌসিফ মুখে খাবার দিতে খেয়েও নিলো। তৌসিফ হাসছে। হাসি থামিয়ে একসময় জিজ্ঞেস করে,
— এত ভাবো আমার কথা?
— ভালোবাসি তো।
তৌসিফ গাঢ় দৃষ্টি ফেলে তাকালো। সময় গড়ালো। তাদের হানিমুনের দ্বিতীয় রাত স্বার্থক করলো তৌসিফ যাতে যথাযথ অবদান রাখলো পৌষ।
রাত যখন শেষ দিকে তখন নিভু নিভু চোখে তৌসিফে’র বুকে থাকা পৌষ বলে উঠলো,
— এত এত দেশ থাকতে অস্ট্রেলিয়াই কেন এলেন হানিমুনে?
ওর চুলে হাত বুলিয়ে তৌসিফ বললো,
প্রেমসুধা পর্ব ৫৮
— বিশেষ কারণে?
— কাউকে দেখাতে?
— কাকে?
— আমি কি জানি……
পৌষ ঘুমিয়ে গেলো। তৌসিফ কপাল কুঁচকে নিলো। পৌষ’কে আরেকটু বুকে তুলে নিলো। মেয়েটা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে।
