প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৯২
সাইয়্যারা খান
দরজায় ধুপধাপ শব্দ হচ্ছে। কলিং বেলের শব্দ তিক্ততা ছড়াচ্ছে চারপাশে। কান দুটো ঝালপালা হওয়ার উপক্রম। তৌসিফ উঠবে ঠিক তখনই পৌষ বললো,
“আমার রুমে যাতে তুহিন ভাইয়া না আসে।”
তৌসিফ ভেবেই নিলো তুহিনের সাথে টকঝাল সম্পর্কের দরুন পৌষের এহেন কথা। সে আগে-পরে জানে না কিছু। তৌসিফ হাসতেই পৌষ কঠিন গলায় বলে উঠলো,
“আপনার ফ্ল্যাটে ঢুকলে ঢুকবে কিন্তু আমার রুমে যাতে না ঢুকে। আমার সামনে যাতে না আসে। যদি আসে আমি হেমু ভাইকে ফোন দিব এখনই।”
তৌসিফের টনক নড়লো এবারে। শুধু বললো,
“তুহিনকে ঢুকতে না বলব?”
“আপনার ইচ্ছে। আমার সামনে যাতে না আসে। পছন্দ না এসব আমার।”
মিনু ততক্ষণে দরজা খুলতে গিয়েছে। হঠাৎ এহেন হাঁক-ডাকে ভড়কে গিয়েছে বুয়ারাও। পীপহোলে চোখ রাখতেই তুহিনকে দেখে মিনু। পৌষের সাথে ছিলো ও। কথাবার্তা সবই শুনেছে, বুঝেছেও। এখন দরজার লক ধরে দাঁড়িয়ে আছে। খুলবে কিনা বুঝে উঠতে পারছে না। বোকার মতো দাঁড়িয়ে আছে মিনু। ওপাশ থেকে ধমক এলো,
“দরজা খোল!”
ভয়ে ছিটকে পড়লো ও। তৌসিফ নিজের রুম থেকে বেরিয়ে এসেছে। দরজা খুলেছে নিজে। তুহিন ভাইকে দেখেও দেখলো না। ঠেলে ফ্ল্যাটে ঢুকতে ঢুকতে ডাকতে লাগলো,
“পৌষ? পৌষ?”
পৌষের কানে স্পষ্ট ঢুকলো তুহিনের ডাক। যখনই বুঝলো এদিকে আসছে তখনই উঠে রুমের দরজা আটকে দিলো। তৌসিফ পেছন থেকে ডাক দিলো গম্ভীর কণ্ঠে,
“তুহিন?”
“পৌষ কোথায়?”
“পৌষরাত দেখা করবে না এখন তোর সাথে। রেস্ট নিচ্ছে। বাসায় যা।”
“ও দেখা করার কে? আমার কথা আছে ওর সাথে।”
“আমি না বলেছি।”
“আমি কথা বলব শুধু।”
তুহিন পা বাড়ালো ওর রুমের দিকে। তৌসিফ এবারে ধমক দিলো,
“তুহিন! চড় খাবি আমার হাতে। যা এখান থেকে। পৌষরাত ডিসটার্ব ফিল করছে। মুড সুইং হচ্ছে হয়তো। ঠান্ডা হোক, আমি ডেকে দিব তোকে।”
“কোন মুড সুইং হয় নি ওর।”
তৌসিফকে অগ্রাহ্য করে তুহিন ওদের বেডরুমের দরজায় এলো। নক করলো কিন্তু সাড়া এলো না। তুহিন এলোমেলো ভাবে থাবা বসালো। ডাকতে লাগলো গলা চড়িয়ে,
“পৌষ! পৌষ! দরজা খোলো। শুনো আমার কথা। একটাবার তো শুনো।”
পৌষ কোন সাড়াশব্দ করলো না। ঠাই বসে রইলো কাউচে। এক হাত পেটে রেখে শক্ত হয়ে বসে রইলো অভিযুক্ত পৌষ। জীবনের হিসেব মিলাতে এখনও খুব ব্যাস্ত ও। কেন বারবার সেই অভিযুক্ত হয় এই হিসেব কেন জানি মিলেই না। খুব গড়মিল লাগে।
“পৌষ? আমি কিন্তু দরজা ভেঙে ফেলব।”
“তুহিন!”
তৌসিফ এবারে রেগে গেলো। এত ভালো মুখে বলার পরও এই ছেলে কথা শুনছে না। বললো তো একটু পরে আসতে। তৌসিফ ওর হাত ধরে টানলো। বললো,
“কাল সকালে আসিস। ঝগড়া করেছিস কেন? জানিস না এখন অল্পতেই রেগে যায়?”
“ঝগড়া করি নি। করি নি আমি ঝগড়া। পাপ করেছি, প্রায়শ্চিত্ত করব ম’রার আগ পর্যন্ত।”
তৌসিফ ভ্রুঁ কুঁচকে তাকালো। মুখের অভিব্যক্তিতে বোঝা যাচ্ছে সে ঠাওর করছে মামলা গুরুতর। তুহিন দরজায় আবারও থাবা বসাতে লাগলো। দরজার পাশ ঘেঁষে বসে বলতে লাগলো,
“দরজা খুলো পৌষ নাহয় আমি নড়ব না এখান থেকে। আমার কথা শুনতেই হবে।”
পৌষ শুনলোই না। তৌসিফের চিন্তা হচ্ছে পৌষকে নিয়ে। কিভাবে তার বুকে ছিলো, শরীরটা খারাপ লাগছে কিনা বুঝতে পারছে না ও। এদিকে তুহিনও যথেষ্ট জেদী। তৌসিফ ধৈর্য ধরলো না। টেনে তুহিনকে তুললো ফ্লোর থেকে। ঘর থেকে সবটা শুনছে পৌষ। তুহিন চেঁচাচ্ছে। প্রচুর চেঁচাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর চেঁচানি থামলো। পৌষ আটকে রাখা শ্বাস ত্যাগ করলো বাতাসে। মাথাটা কাত করে রাখলো কিছুক্ষণ। তৌসিফ খুব ধীরে তখন দরজায় নক করলো। ডাকলো আদুরে স্বরে,
“পৌষরাত?”
পৌষ উঠলো। দরজা খুললো। বিছানায় উঠে বসে চুপ করে রইলো। তৌসিফ চুপচাপ এগিয়ে এলো ওর পিছু পিছু। বিছানায় বসে থাকা পৌষ পা দুটো মেলে রেখেছে। পানি এসেছে পায়ে। তৌসিফের চিন্তা হলো। এগিয়ে এসে পায়ের কাছাকাছি বসে পৌষের পা দেখলো। টসটসে ছিলো গতকাল পর্যন্ত আঙুল গুলো। আজ এমন র’ক্তশূণ্য দেখাচ্ছে কেন? বরাবরই পইপই করে ডাক্তারকে কল করলো তৌসিফ। পরামর্শ অনুযায়ী বুয়াকে বোলে উষ্ণ পানি দিতে বললো। পৌষের গাল দুটো ধরে নিজ মুখী করে বললো,
“মন খারাপ? কি নিয়ে ঝগড়া হয়েছে তুহিনের সাথে?”
“আপনাকে আমি আগেও বলেছি।”
“তুহিনের বিষয়ে?”
“হ্যাঁ। বলেছি আমার অতিরিক্ত ভালো লাগে না। হেমু ভাই যেখানে আমাকে মাথায় হাত রাখার আগে দশবার ভাবে সেখানে তুহিন ভাইয়া কেন আমার পায়ে বালিশ রেখে মাথা রাখে? কেন আমার ওরনা দিয়ে মুখ মুছবে? জঘন্য, জঘন্য, জঘন্য! অসহ্য লাগে আমার। আমার চোখের সামনে আসতে না করবেন। খবরদার বলে দিলাম। দেবড় হয়, বড় ভাবীকে সম্মান দিয়ে দশ হাত দূরে থাকতে বলবেন। তার সংসার আছে৷ আমার সংসারে এসে রাতদিন পড়ে থাকে কেন? মাঝেমধ্যে আসবে, যাবে। এত গেড়ে বসার কি আছে? দুইদিন পর মানুষ কথা তুলবে। এমনিতেই এতিমদের দোষ বেশি। সেই এতিম পৌষ হলে তো কথাই নেই।”
কথা কোনটাই ফেলে দেওয়ার মতো না। তৌসিফকে এসব আগেও নরম স্বরে বলেছিলো পৌষ কিন্তু ভাইয়ের দিকটা শতভাগ জানে তৌসিফ তাই তো মায়ায় পড়ে শক্ত ভাবে কিছু বলে নি তবে হ্যাঁ তুহিনের সাথে কথা বলেছিলো ও। তুহিন সেই কথায় শুধু হেসেছিলো। বলেছিলো, “তুমি বেশি ভাবো। পৌষকে দেখেছো? আম্মুর মতো লাগে।”
সেই কথার প্রেক্ষিতে তৌসিফ সাহস করে আর টু শব্দ করতে পারে নি। আজ বেশ শক্ত কথা বলেছে। এই তো হাত ধরে বাইরে রেখে এলো অথচ ও এখনও জানে তুহিন ওদের দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। ফোঁস করে শ্বাস ফেললো তৌসিফ। বুয়া বোল ভরে পানি দিয়ে যেতেই তৌসিফ দরজা আটকে এলো। তুহিনকে দেখলেই এখন পৌষ রেগে উঠবে। উষ্ণ পানিতে পৌষের পা ডুবালো তৌসিফ। হাত দিয়ে প্লাজু একটু উঁচু করে দিতে দিতে বললো,
“আমি তুহিনকে বুঝাব। তুমি চিন্তা করো না।”
“বুঝানোর কিছু নেই। সরাসরি বলবেন, নিজ সংসারে মন দিতে।”
“প্রেমের মৃত্যু হলে মানুষ তবুও বেঁচে যায় পৌষরাত কিন্তু মনের মৃত্যু হলে আর বেঁচে ওঠার সম্ভবনা থাকে না। আমার ভাই আবার উভয় মৃত্যুতে ভুগছে। ঠাই পাচ্ছে না কোথাও। আমাদের দুই ভাই আর শেষে তোমাকে আঁকড়ে ধরতে চাইছিলো।”
পৌষ চুপ রইলো। তৌসিফ ওর পা দুটোয় নরম হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। পৌষ পেটে হাত রেখে রুক্ষ গলায় বললো,
“পেটে চাপ লাগছে।”
ভেজা হাত বাড়ালো তৌসিফ। পৌষের পেট থেকে কাপড় তুলে বললো,
“এখানে?”
“হুঁউহ্!”
পৌষ কেমন গুঙিয়ে উঠলো। চাপা স্বরে বললো,
“ওরা নড়ছে।”
তৌসিফের চোখ দুটো বড় বড় হয়ে এলো। হ্যাঁ, এরা সত্যিই নড়ছে। তৌসিফ টের পাচ্ছে তা৷ পৌষের কপাল ঘামতে লাগলো। তৌসিফ উঠে টিস্যু দিয়ে মুছলো কপালটা। চুমু খেলো কপালে। বললো,
“আমার বাচ্চারা তোমাকে খুব জ্বালাতন করছে হানি।”
“করুক। আমার জানের টুকরো দুটো।”
তৌসিফ বসলো আবারও। মগ দিয়ে পৌষের হাঁটু থেকে পানি ঢালা শুরু করলো। মেয়েটার হাঁটু ব্যথা। গরম পানি ঢাললে যদি একটু শান্তি পায়। তৌসিফ তার পৌষরাতকে আরাম দিতে সবটা করতে সদা প্রস্তুত থাকে।
“আর না।”
পৌষ না করলো। তৌসিফ তয়লা দিয়ে ওর পা মুছে দিলো সুন্দর করে। বিছানায় তুলে বোল বাথরুমে রেখে এলো। তেল নিয়ে বসতেই পৌষ বললো,
“লাগবে না। আমি ঠিক আছি। আপনি এবার একটু আরাম করুন।”
সেই বিকেল থেকে পৌষকে নিয়ে পড়ে আছে। লোকটা ক্লান্ত হয় না আজকাল। পৌষ কথা বলতে বলতে পেট চুলকালো। ঠোঁট দুটো চেপে রেখেছে। পেট চুলকালে ব্যথাও লাগে। তৌসিফ পায়ে তেল মালিশ করতে করতে দেখলো তা। অলিভ অয়েল দিয়ে রোজ পৌষের পেটে মালিশ করে ও। দারুণ খেলা হয় দুই সন্তানের সাথে। বাবার স্পর্শ পেয়ে পেয়ে এদিক ওদিক নড়ে তারা। পা দুটো মালিশ করে তৌসিফ পেটের কাছে এলো। নাভিতে একটু তেল দিয়ে পরপর নিচ থেকে ধীরে ধীরে উপরে হাত আনলো। এই মালিশ সে শিখেছে অনলাইন থেকে। পৌষ এতে আরাম পায় তৌসিফ দেখেছে। কত রাতে তো মালিশের মাঝেই ঘুমিয়ে পড়েছে। আঙুল গুলো যেদিকে যায় তৌসিফের দুই সন্তানও সেদিকেই যায়। বাবার সাথে এক আন্তঃসম্পর্ক তাদের। হাতের স্পর্শ তাদের খুব চেনা। পৌষ আরামে চোখ বুজলো। তার শান্তি লাগছে এখন। মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে ভুলে যাচ্ছে বিষাক্ত সকল স্মৃতি।
রুমে শুয়ে ছিলো পলক। হঠাৎই ভারী কিছু অনুভব হলো মুখের উপর। ফট করে চোখ খুললো ও। অস্থিরতা দেখা মিললো চোখেমুখে। ওর মুখের উপর ঝুঁকে আছে তুহিন। পলক ভয় পেলো। তুহিনকে স্বাভাবিক দেখাচ্ছে না। আগে নেশা করলে এমন মুখ হয়ে থাকতো। এতদিন পর তুহিনকে আগের রূপে পলকের শ্বাস আটকে এলো। কোনমতে তুতলে বললো,
“সরো।”
“সরব কেন জান? তুমি তো চাও আমি তোমার কাছাকাছি থাকি।”
“তো..তোমাকে সুস্থ দেখাচ্ছে না।”
“আমি একদম সুস্থ পলক। নেশা ছেড়েছি কত আগে।”
বলেই শরীর ছেড়ে দিলো পলকের উপর। ব্যথায় পলক আঁতকে উঠলো। বললো,
“পেটের উপর থেকে সরো একটু।”
“কেন জান?”
“তু..তুহিন একটু।”
তুহিন সামান্য আলগা হলো। পলক শ্বাস ছাড়লো তাতে। চড় দেওয়ার দরুন গালে ছাপ বসেছে। আঙুল বুলালো সেখানে তুহিন। পরপর ঠোঁট নামিয়ে চুমু খেয়ে বললো,
“খুব লেগেছে?”
পলক ফুঁপিয়ে উঠলো। তুহিন আরেকটু আগলে নিলো ওকে। কপালে চুমু খেলো আবারও। মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো,
“খুব ব্যথা পেয়েছো জান?”
“হ্যাঁ।”
“ডিএনসি থেকেও বেশি?”
আসাড় হয়ে এলো পলকের দেহখানি। তুহিনের বুকের ভেতর বরফ খন্ডে পরিণত হলো সে। টু শব্দ করার শক্তি পেলো না। শুধু শ্বাস প্রশ্বাস চললো তবে শব্দহীন। তুহিন মাথায় হাত বুলানো থামালো না। হাত চালাতে চালাতেই বললো,
“কমই বোধহয় তাই না জান? ব্যথা বেশি হলে কি তুমি পরপর দুইবার যাও ডিএনসি করাতে? নিশ্চিত ব্যথা নেই। তুমি তো খুব নাজুক পলক। নাজুক দেখতে মেয়েটার সাথে প্রেম করেছিলাম। সকলের বিরুদ্ধে গিয়ে বিয়ে করেছিলাম। সে যখন আমাকে ভীষণ লজ্জায় ফেলে দিলো তখনও তাকেই চাইতে লাগলাম। কোনদিন নারী সংস্পর্শে গেলাম না। শুধু তোমাকেই চাইতে লাগলাম। ভালোবাসতে লাগলাম। তিল পরিমাণ খাঁদ ছিলো না সেই ভালোবাসায় যা আমি তুহিন বেসেছিলাম। জঘন্য এক ভালোবাসা আমার। এতটাই জঘন্য যে বারবার তোমার ভুল ত্রুটি আর পাপ ঢাকা দিলাম আমি। মাটিচাপা দিয়ে রাখলাম। তোমাকে ভালোবাসলাম। কিন্তু তুমি কি করলে? নিজের বোনকে দিয়ে মেঝ ভাইয়ার সংসার দ্বিতীয় বার ভাঙতে চাইলে? আমি কতটা লজ্জা পেলাম পলক? বলো তো তুমি? লজ্জায় আমি রাস্তায় পড়ে কেঁদেছিলাম অথচ তোমাকে কিছু বলতে পারলাম না। থু আমার এমন ভালোবাসায়। নর্দমা আমার ভালোবাসা। কিট আমার ভালোবাসা। ধিক্কার আমার ভালোবাসায়। শুধু মাত্র তুমি কিছু করবে এই সন্দেহে ওদের হানিমুনে জোর করে ঢুকেছিলাম আমি। শুধু মাত্র তোমার জন্য। অথচ তুমি বারবার একই কাজ করে গেলে? কেন করলে পলক? কেন আমাকে আমার আম্মু থেকে দূর করেছিলে? মৃত্যুর আগে আমার আম্মু কতটা কাছে পেয়েছিলো? তুমি এমন কেন করতে পলক? তুমি কেন এমন? কারো সুখ কেন দেখতে পারো না? কারো নজর এতটা খারাপ কিভাবে হতে পারে? সন্তান থেকে মাকে দূর করেছিলে তুমি কিন্তু কেন? আমার মায়ের কি দোষ ছিলো? তুমি কোনদিন ভরা সংসার চাও নি পলক। কোনদিন চাও নি অথচ আমি কিনা তোমায় ভালোবাসলাম। কতটা পঁচা, দূষিত সেই ভালোবাসা।”
তুহিন পলককে বুকে জড়িয়ে কাঁদতে লাগলো। হুঁ হুঁ করা সেই কান্নায় পলক জমে গেলো। গলা দিয়ে শব্দ বের হলো না। তুহিন ওকে আরো শক্ত করে বুকে জড়ালো। অভিযোগের স্বরে বলতে লাগলো,
“আজ পৌষকে নিয়ে কতকিছু বললে তুমি পলক অথচ তুমি এমন কিছু ভাবো না আমি জানি। তুমি পৌষকে সিঁড়িতে দেখে ওকে শোনাতে এগুলো বলেছো তাই না?”
ধরা পড়ে গেলো পলক। সত্যি সে পৌষকে শোনাতে এগুলো বলেছে। কেন জানি পৌষের সুখ ওর সহ্য হয় না। তুহিন ফিকড়ে কেঁদে উঠলো। বললো,
“আমি তো আগ বাড়িয়ে যাই নি ওখানে পলক। তুমি বাধ্য করলে আমাকে। প্রথম বাচ্চাটা আমাকে না জানিয়ে নষ্ট করলে। তখন আমি যেতাম পৌষের কাছে? যেতাম মায়ের আদর খুঁজতে? কয়বার ভিক্ষা চাইলাম একটা সন্তান? কয়বার ভিক্ষা চাইলাম একটা সংসার? তুমি দিলে না। আমাকে শুধু বলো দ্বিতীয়বার এই বাচ্চাটাকে কেন নষ্ট করলে? কেন করলে? আমাকে কেন জানালে না? তুমি কি চাও আমার থেকে? কি চাও শুধু বলো? কি করলে মুক্তি পাব আমি? আমাকে আর কত ভোগাবে তুমি পলক? আর কত ভুগব আমি? আমাকে শুধু আমার দোষটা বলো। শুধু বলো আমি কি করেছি? পৌষকে এসব কথা কেন বললে? ওর কি দোষ?”
প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৯১ (২)
তুহিনের দেহটা কাঁপতে লাগলো। তিনদিন আগে তার কাছে অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসে। রিসিভ হতে জানা যায় তার ক্রেডিট কার্ড ফেলে রেখেছে এসেছে পলক। হসপিটাল থেকে কলটা এসেছিলো। তুহিন কি মনে করে গিয়েছিলো ওখানে অতঃপর তাকে হতভম্ব হয়ে জানতে হয়েছিলো নিজ সন্তান হ’ত্যার খবর তাও কিনা দুই দুইবার।
