Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৯৪

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৯৪

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৯৪
শানজানা আলম

তাহিরা বেগম ঢাকায় পৌছালেন শেষ রাতে। তিন দিন হয়ে গেছে, ঐশির কোনো ট্রেস পাওয়া যাচ্ছে না। আপাতত ইগো বলতে আর কোনো কিছুই বাকি নেই। এহসানের করা গাড়িতেই চলে এসেছেন ঐশির বাবাকে নিয়ে। ঐশির বাবার প্রেশার নামছে না। মনের উপর এত তীব্র চাপ আগে কখনো পড়ে নি। আত্মীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশী কথা শোনাতে কেউ ছেড়ে দিচ্ছে না।
আননোন নম্বরে কল এলেই বুক কেঁপে উঠছে, মনে হচ্ছে ঐশি, কিন্তু ঐশির ফোন আসে নি। সেই যে রাতে মেয়েটা বাড়ি থেকে গেল, আর ফিরে আসে নি। দেখাও হয় নি। কখনো ভিডিও কলও করে নি। এখন বুঝতে পারছেন, মেয়ে ঠিক ছিল না, কিন্তু অন্ধ বিশ্বাসে মেয়েকে কখনো খারাপ ভাবতে পারেন নি, ভুল পথে ভাবতে পারেন নি। প্রথমেই এহসানের অভিযোগ আমলে নিলে হয়তো আজকের দিন দেখতে হতো না।

মেয়েটা পুরোপুরি গায়েব হয়ে গেল নাকি ওকে গুম করে দিলো।
অথৈ আগের থেকে কিছুটা স্টাবল হয়েছে। মা বাবাকে দেখে সহজ হতে পারলো না। ভাইয়ার বাসায়ই ছিল, বাবা মা আসবে শুনে এহসান নিয়ে এসেছে।
ঐশি গুলশানে কোথাও থাকতো, বাসার এড্রেস বাবা মা কেউ জানে না। শো রুমের এড্রেস বের করে এহসান ঐশির বাবা মা কে নিয়ে খোঁজ করতে গেল, শো-রুম হাত বদল হয়ে গেছে, কেউ ঐশির কোনো খোঁজ দিতে পারলো না।
ঐশির বাবার বুকে ব্যাথা শুরু হয়েছে, একটা জলজ্যান্ত মেয়ে দিনে দুপুরে হারিয়ে গেল! ওনাকে বাসায় রেখে এহসান তাহিরা বেগমকে নিয়ে থানায় গেল।
থানার ডিউটি অফিসারের রুমে এহসান ও তাহিরা বেগম উদ্বিগ্ন মুখে সামনে বসে আছেন। ডিউটি অফিসার একটি নোটবুক খুলে তথ্য নিচ্ছেন।
– বলুন, কী সমস্যা?

তাহিরা বেগম বললেন, আমার মেয়ে ঐশি গত তিনদিন ধরে নিখোঁজ। কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না। তাই একটা মিসিং ডায়েরি করতে এসেছি।
অফিসার জানতে চাইলেন, শেষবার কখন ওকে দেখেছিলেন?
তাহিরা বেগম বললেন, তিনদিন আগে ভোররাতে কথা হয়েছিল।
-ওর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন?
-অনেকবার করেছি, স্যার। ফোন বন্ধ৷ আনরিচাবল বলছে।
-আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের বাসায় খোঁজ নিয়েছেন? ফোন নম্বরটা দিন।
তাহিরা বেগম জানালেন, যত জায়গায় সম্ভব খোঁজ নিয়েছি। কেউ ওর কোনো খবর দিতে পারেনি।
-কোনো পারিবারিক ঝামেলা, মনোমালিন্য বা এমন কিছু হয়েছিল?

এহসান বলল, নাসির গ্রুপের এমডি নাসিরকে নিয়ে ওর লাইভ ভাইরাল হয়েছিল!
-ওহ, আই সি! সেই মেয়েটা, সে মিসিং হয়ে গেছে! আপনি কি হোন ওর।
তাহিরা বেগম কিছু বলার আগে এহসান বলল, বোনের হাজবেন্ড।
-ওর বয়স কত? সঙ্গে কোনো পরিচয়পত্র বা প্রয়োজনীয় জিনিস ছিল?
এহসান বলল, বয়স চব্বিশ বছর। সঙ্গে মোবাইল ছাড়া আর কি আছে বলতে পারছি না।
অফিসার বললেন, ঠিক আছে। ওর একটি সাম্প্রতিক ছবি দিন। আমরা জিডি নথিভুক্ত করছি এবং সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে জানিয়ে দেব। কোনো তথ্য পেলেই আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
এহসান বলল, স্যার, দয়া করে বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন। আমরা খুব উদ্বিগ্ন।
অফিসার: নিশ্চিন্ত থাকুন। আপনারা যদি নতুন কোনো তথ্য পান—ফোনকল, বার্তা বা কারও কাছ থেকে খবর—সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানাবেন। আর আপনারাও যোগাযোগের জন্য মোবাইল খোলা রাখবেন।

– ধন্যবাদ, স্যার। আমরা ভরসা করে এসেছি।
অফিসার বললেন, আমরা সেই চেষ্টা করছি। এখন জিডির কপিটা সংগ্রহ করে রাখুন।
এহসানের দিকে তাকিয়ে বললেন, ওনাকে বাইরে রেখে আপনি কথা শুনে যান।
তাহিরা বেগমকে বাইরে রেখে, এহসান ঢুকল।
অফিসার বলল, মেয়েটির বিপদ হওয়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা, যে কোনো কিছুর জন্য আপনারা মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকুন। হাসপাতাল, মর্গ, সব জায়গায় খোঁজ করুন।
এহসান শুকনো মুখে বলল, জি স্যার।

বাসায় ফেরার পরে এহসান অথৈকে বলল, নিউজ পোর্টাল গুলোতে জানালে ভালো হতো। কিন্তু এত বেশি টানাহেচড়া করে এটা সামলানোর মতন মানসিক শক্তি আপাতত আমাদের কারো নেই। আর টান দিলে আমাদের হিস্ট্রি সামনে চলে আসবে। আমার অফিসেও যাবে, এই অবস্থায় কি করব বুঝতে পারছি না। চাকরি চলে গেলে, হয়তো দুয়েকমাস ম্যানেজ করা যাবে, কিন্তু সামনে বাচ্চাটা আসছে, ওর কথা ভেবে সাহস পাচ্ছি না।
তাহিরা বেগম দরজার বাইরে থেকে কথাটা শুনলেন।
তিনি দরজায় নক করলেন।
অথৈ বলল, মা, এসো ভেতরে!

তাহিরা বেগম বললেন, এহসান, আর কোথাও কিছু জানাতে হবে না। ডায়রি করা হয়েছে। আমার মনে হচ্ছে ঐশি ঠিক আছে, সুবিধা মতন যোগাযোগ করে নেবে।
মায়ের চোখেমুখে দুশ্চিন্তা অথৈ এর চোখ এড়ায় না। এই পরিস্থিতিতে কি করা উচিৎ, সেটা বুঝে উঠতে পারে না অথৈ।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৯৩

এহসান বলল, আপাতত আব্বাকে ডাক্তার দেখানোর ব্যবস্থা করি।
তাহিরা বেগম বললেন, হ্যা, সেটাই করো। ওনার প্রেশার তো নামছেই না৷
অথৈ বলল, ঠিক আছে মা। দেখি কাল সিরিয়াল দিয়ে নিয়ে যাব আব্বাকে।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৯৫