বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১৪
Muntaha jahan
সবে মাএ পরিক্ষা দিয়ে বেড়িয়েছে তাহা,বেড়িয়েই আবার মুখোমুখি হলো আয়ানের,তখন আয়ানের প্রশ্নের কোনো উওর তাহা দেয় নি পরিক্ষায় দেরী হচ্ছে বলে চলে এসেছে। তাই হয়তো আবার এসেছে নিজের প্রশ্নের উওর নিতে। তাকে কে বললো? এ্যাশ? এতো টান কিসের আমার প্রতি? আমার অতীত জানলে মানবে কখনো আমায়?
তাহা আয়ানকে পাশ কাটিয়ে যেতে নিলে পথ আটকায় আয়ান,হাত এগিয়ে দিয়ে বলে
-“কথা বলো।
ভ্রু কুঁচকায় তাহা,হাতের ফোনের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে
-“কে?
-“কথা বলে দেখো,বুঝতে পারবে।
ইচ্ছে না থাকা সত্বেও ফোনটা হাতে নিলো তাহা,কানে নিয়ে হ্যালো বললে কোনো উওর আসলো না,তাহা এবার বিরক্ত চোখে তাকালো আয়ানের দিকে,বললো
-“কার সাথে কথা বলতে দিলেন? কেউ তো কোনো কথাই বলছে না।
কান থেকে ফোন নামিয়ে দিবে তখনই খুবই আস্তে একটা স্বর ভেসে আসলো
-“কি হয়েছে তোমার?
গলাটা কেমন শুনালো,তাই প্রথমে বুঝলো না,ধীরে ধীরে কন্ঠ স্পষ্ট হতেই বুঝলো এটা এ্যাশ।কিন্তু কন্ঠ এমন কেনো?
-“কিছু হয়নি। আপনার কন্ঠ এমন কেনো? নেশা করেছেন নাকি?
উওর দিলো না এ্যাশ,আবার প্রশ্ন করলো
-“কি হয়েছে?
-“বললাম তো কিছু নাহ।
-“মিথ্যা বলছো তুমি। কালকে রাতে কেঁদেছ কেনো?
-“আমি কখনো কাঁদলাম? আমি কাঁদিনি।
-“আমি বোকা নই এটা তুমি নিশ্চয়ই জানো? তাহলে বোকা বানানোর অযথা চেষ্টা কেনো করছো?
তপ্ত শ্বাস ফেললো তাহা,২ টার উপরে বাজে এখন করিডোরের রেলিঙের পাশ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে তাই বাইরে রোদটা ওর বাহুতে এসে লাগছে,তাহা সেখান থেকে একটু সরে দাঁড়ালো, খুবই সাভাবিক ভঙিতে আস্তে করে বললো
-“আমার কিছু হয়নি,বাড়ি যেতে লেট হচ্ছে রাখছি আমি।
আয়ানের দিকে এগিয়ে গিয়ে ফোনটা হাতে দিলো তাহা।তাহাকে ফোনে কথা বলতে দিয়ে দূরে সরে দাড়িয়ে ছিলো সে। আয়ান একবার ফোনের স্কিনে তাকালো,এ্যাশ এখনো লাইনে,আয়ান লাইনটা কেটে দিলো।তাহার দিকে তাকালো,তাহা নিচের দিকে তাকিয়ে হেঁটে চলে যাচ্ছে।
আয়ান একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে নিচে তাকাতেই দেখলো আফরিন গেটের পাশে দাঁড়িয়ে একটা ছেলের সাথে কথা বলছে। আয়ান নবীণ বরণ অনুষ্ঠান পড়ে আর ভার্সিটিতে আসে নি,তার চাচাতো বোনের বিয়ের জন্য গ্রামে গিয়েছিলো,সেখান থেকে কালকে ফিরে আজকে ক্লাসে এসেছে। সেদিনের পর আর আজ আবারো আফরিনকে দেখলো আয়ান,পাশের ছেলেটা কেমন ঢলে ঢলে পড়ছে আফরিনের উপর অথচ আফরিন কিছু বলছে না,ছেলেটার হাসির সাথে তাল মিলিয়ে হাসছে। আয়ান দুপদাপ পা ফেলে এগিয়ে গেলো তাদের দিকে।
গম্ভীর কন্ঠে বললো
-” এখানে কি হচ্ছে?
আয়ানকে দেখে আফরিন আর রাদিফ সালাম দিলো,দিয়েই মাথা নিচু করে দাড়ালো,আয়ানের প্রশ্নের উওরে রাদিফ বললো
-“না স্যার আসলে একটু আড্ডা দিচ্ছিলাম।
-“ভার্সিটিতে পড়ো অথচ এখনো মেয়েদের সাথে কেমন ব্যাবহার করতে হয় জানো না?এভাবে গায়ে ঢলে পড়ে কে কথা বলে?
আয়ানের কথায় নোয়ানো মাথা আর নুয়ালো রাদিফ,সেভাবেই মিনমিনিয়ে বললো
-“সরি স্যার আর এমন হবে না।
-“যাও এখন।
আয়ানের কথায় দুজনে পা বাড়ালো,দু’জন দুইটা রিকশা নিয়ে দুদিকে চলে গেলো,আফরিনের রিশকার দিকে তাকিয়ে রইলো আয়ান,যতক্ষণ পর্যন্ত আড়ালে চলে যায় ততক্ষণ তাকিয়ে রইলো,চোখের আড়ালে যেতেই আয়ান আবার ও চলে গেলো ভার্সিটির ভিতরে।
বাসায় এসে লম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে ড্রয়িং রুমের সোফায় এসে বসলো তাহা,তার খালা নেই তাই এখন আর তাকে যত্ন করার ও কেউ নেই,তাই অগত্যা নিজের খাবার নিজেই বেড়ে খেলো,কাজের খালারা সবাই ঘুমিয়ে এখন,আরাবী বাসায় নেই,তার এক বান্ধবীর বাসায় গেছে। তাহা কোনো রকমে একটু খেয়ে উঠে গেলো। গলা,দিয়ে কেনো জানি খাবার যাচ্ছে না,শুধুই কান্না পাঁচ্ছে এখন। সে তো এমন না তাহলে এখন কেনো এমন হচ্ছে? তার চোখে কি কান্না মানায়?
সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে নিজের ব্যাগ আর ফোন নিয়ে বেড়িয়ে গেলো তাহা,প্রাইভেট পড়ানোর সময় হয়ে গেছে,মাসের আজকে শেষ তারিখ বেতন ও দিবে হয়তো। এখন ঠিক করেছে ইহানের কাছ থেকে আর টাকা নিবে না,নিজের সম্পূর্ণ খরচ এখন সে নিজে চালাবে। এভাবে কতোদিন অন্যের উপর ভড় দিয়ে থাকবে? তার নিজের সংসার আছে এখন।
কোনো রকমে ২ জনকে ২ ঘন্টা পড়িয়ে বাসা থেকে বের হলো তাহা,বেতন পেয়েছে আজ। দুজনের মায়ের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা পেলো,সেগুলো ব্যাগে রেখে ফোনে সময় দেখলো ৭ টা বাজে ফুল।
রাস্তা দিয়ে হাটত হাঁটতে একটা জায়গায় এসে পা থেমে গেলো তাহার,এখান থেকেই এ্যাশ তাকে ধমক দিয়ে নিয়ে গেছে,এখান থেকেই তুলে নিয়ে বিয়ে করেছে। বিয়ের কথা মাথায় আসতেই দীর্ঘ শ্বাস ফেললো তাহা।
ডিভোর্স পেপার সে অলরেডি বানাতে দিয়েছে এখন শুধু হাতে আসার পালা,তারপর এ্যাশের দেশে আসার অপেক্ষা। এ্যাশ দেশে আসলেই ডিভোর্স পেপারে সাইন করিয়ে নিবে সে।
ভাবনায় ডুবে হাটতে হাঁটতে আবার থামলো তাহা,একটা গাড়ি তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে,এই শুনশান রাস্তায় হঠাৎই গাড়ি থামতে দেখে গাবড়ালো তাহা,চোখ ঘুড়িয়ে আশেপাশে তাকালো,না কেউ নেই একদম শুনশান রাস্তা।
গাড়ির ভেতর থেকে নেমে আসলো ঈশান,ঈশানকে দেখে সস্হির নিঃশ্বাস ফেললো তাহা। ভয়টা কাটলো এখন,ঈশান নিজেই এগিয়ে আসছে তাহার দিকে তাই তাহা আর এগুলো না,ঈশান তাহার সামনাসামনি দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে বললো
-“গাড়িতে উঠে বসুন ম্যাম,স্যারের আদেশ আমি যতদিন বাংলাদেশে আছি ততদিন যেনো আপনাকে বাসায় পৌঁছে দেই।
-“এতোদিন আমি একাই চলাচল করেছি।হুট করে এখন আপনার বসের কথায় আপনার সাথে কেনো যাবো?
-“ম্যাম জেদ করবেন না,প্লিজ চলুন।
-“না,,যাও তুমি।
-“ম্যাম স্যারের কড়া আদেশ,আমি অমান্য করতে পারবো না,আপনি প্লিজ চলুন।
-“দেখুন আমি আপনার সাথে কোথাও যাবো না,আপনার স্যারকে গিয়ে বলবেন আমার জন্য চিন্তা না করতে এখন যান আপনি।
ঈশানের যাওয়ার অপেক্ষা করলো না তাহা,নিজেই চলে গেলো সেখান থেকে। ঈশানের ফোনে লাইনে থাকা এ্যাশ সব শুনলো। ঈশান হতাশ গলায় বললো
-“ম্যাম চলে গেছে বস।
-“ওর পিছন পিছন যা বাসায় পৌঁছালে তারপর তুই তোর কাজে যাবি।
উওরের অপেক্ষা করলো না এ্যাশ,ফোন কেটে দিয়েছে। ঈশান ফোনটা পকেটে পড়ে গাড়ি নিয়ে ধীর গতিতে চালিয়ে তাহার পিছন পিছন গেলো। তাহা বাসায় পৌঁছাতেই ঈশান এ্যাশকে মেসেজ পাঠিয়ে সেখান থেকে চলে গেলো।
রাত ১০ টা
আরাবীর রুমে আরাবীর কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে তাহা,বাসার সবাই যে যার রুমে ঘুমে শুধু আয়ুশ বাসায় নেই বিজনেস এর কাজে দেশের বাইরে গেছে আজকে ২ দিন, ১ সপ্তাহ পর ফিরবে।
তাহার চুলে এক হাতে বিলি কেটে দিচ্ছে আরাবী,আরেক হাত ফোন কানে নিয়ে কথা বলছে তার বান্ধবীর সাথে। হঠাৎই দরজার বাহিরে মিনাল খানকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ফোন কান থেকে নামিয়ে পাশে রাখলো,ক্ষীণ স্বরে জিজ্ঞেস করলো
-“বাবা তুমি? কিছু বলবে?
আরাবীর কথা শুনে উঠে বসলো তাহা,মিনাল খানকে দেখে তার,দিকে হাসি উপহার দিলো,মিনাল খান ও হাসলেন ক্ষীণ,ইতস্তত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন
-“ভিতরে আসতে পারি?
-“জিজ্ঞেস করার কিছু আছে বাবা? আসো।
মিনাল খান ভিতরে গিয়ে বিছানার এক কোণায় বসলেন,তাহার দিকে হাসিমুখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন
-“পরিক্ষা কেমন হয়েছে মা?
-“ভালো হয়েছে।
-“কালকে কি পরিক্ষা আছে মা?
-“না কালকে নেই আর রবিবার।
কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন মিনাল খান,তারপর খানিকটা আমতা আমতা করে বললেন
-“কালকে আমার এক বন্ধুর ছেলে আসবে তোমায় দেখতে,বাসায়ই থেকো কেমন?
মিনাল খানের কথায় খানিকটা চমকালে তাহা,সাথে আরাবী,বারণ করার সুরে আরাবী বললো
-“এখন এসব কেনো আব্বু? ওর পরিক্ষা চলছে পরিক্ষা শেষ হোক পড়াশোনা শেষ করুক। এতো তাড়াহুড়ার তো কিছু নেই।
-“দেখ আমার শরীল ইদানীং ভালো না,কখন কি হয় বলা যায় না তাই আমি তাহার বিয়েটা দিয়ে দিতে চাই,আর ছেলেটা একটু তাড়া আছে তাই কালকে দেখা করার তারিখ ঠিক করেছি পছন্দ হলে দুইদিন পরে কাবিনটাও করে রাখবো।
-“মা জানে এই বিষয়ে?
-“না,কেউ এখন অব্ধি কিছু জানে না তাহা মা যদি কালকে বাসায় থাকতে পারে তাহলেই সবাইকে জানাবো।
দীর্ঘ শ্বাস ফেলে তাহার দিকে তাকালো আরাবী তাহা নিশ্চুপে তার হাতের দিকে তাকিয়ে,মিনাল খান কাশি দিয়ে তাহার মনোযোগ তার দিকে করলেন,তারপর জিজ্ঞেস করলেন
-“থাকতে পারবে মা?
-“হুম।
তাহার উওরে হাসলেন মিনাল খান,তাহার মাথায় হাত বুলিয়ে চলে গেলেন।
মিনাল খান যেতেই আরাবী গিয়ে দরজা লাগালো,তাহার দিকে তাকিয়ে রাগী সুরে বললো
-“তোর তো সাহস কম না আমার ভাইয়ের বউ হয়ে তুই ঠেঙ ঠেঙ করে আরেক বিয়েতে রাজী হয়ে গেলি।
হিসাববিজ্ঞান বই সামনে নিয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে নূর,আর তার সামনে বেত হাতে বসে আছে ইহান,বেত হাতে ভ্রু কুঁচকে নূরকে পরখ করছে। সেই কখন ওকে একটা অংশ করতে দিয়েছে সেটা নিয়ে এখনো বসে আছে ও। ইহান বেত দিয়ে টেবিলে একটা বাড়ি দিলো,নূরকে চমকে উঠলো খানিকটা,একটু নড়েচড়ে বসে বললো
-“এই আর্থিক বিবরণী আমার অনেক কঠিন লাগে,বিশেষ করে এই কন্টাএন্টি সব আমার মাথার উপর দিয়ে যায়। আজকের জন্য ছেড়ে দিন আমি কালকে সব ঠিক করে পড়ে আপনাকে পড়া দিবো পাক্কা।
ইহান ঘড়ি দেখে বললো
-“আর মাএ ১০ মিনিট।
তপ্ত শ্বাস ফেললো নূর,বুঝলো এই বান্দা কথা শুনার না,অগত্যা কলম নিয়ে আঁকিবুঁকি করলো,ঘর আঁকতে আঁকতেই হাত ব্যাথা হয়ে যায়,কোন দুঃখে যে এটা নিয়েছিলো।
১০ মিনিট শেষ হয়ে ১৫ মিনিট পড়লো,কিন্তু নূরের অংক এখনো শেষ না,ইহান ঘড়ি দেখে আবার বললো
-“৫ মিনিট ওভার।
কলম থামলো নূরের,খাতা এগিয়ে ধরলো ইহানের দিকে,ইহান সেটা দেখে পুরো খাতা জুড়ে একটা ডিম একে দিলো,নূরের জোয়াল ঝুলে পড়লো এটা দেখে,প্রথমেই বলেছে পারবে না,তাকে দিয়ে কষ্ট করিয়ে এখন এতোবড় আন্ডা একে দিলো,অপমান,অনেক বড় অপমান।
-“প্রথমেই বলেছি পারবো না।
ইহান খাতা রেখে নূরের দিকে তাকালো,কন্ঠে রাগ এনে বললো
-“সারাদিন শুধু মায়ের সাথে আড্ডা না দিয়ে একটু পড়লেও তো পারো,বছরের মাঝে এসে ভর্তি হয়েছে,সামনে পরিক্ষা সেই খেয়াল আছে? পরিক্ষা ফেইল করলে রিকশা ওয়ালার কাছে বিয়ে দিয়ে দিবো।
-“কিন্তু আমি তো বিবাহিত।
-“তো কি?রিকশা ওয়ালার বউয়ের পরিচয়ে থাকবে বাইরে আর ঘরে আমার বউ হয়ে থাকবে।
হা হয়ে তাকিয়ে রইলো নূর।এটা কোন ধরনের কথা?
ইহান উঠে ওয়াশরুমে গিয়ে গোসল করে বের হলো,পড়নে শুধু একটা টাওয়াল,নূর টেবিলেই বসে ছিলো ইহানকে গোসল করে বের হতে দেখেই সে এগিয়ে গেলো ইহানের দিকে। এই বাসায় আসার পর থেকে ইহান আর গোসল করে নিজের চুল নিজে মুছে না,সেটা নূরই মুছিয়ে দেয়,এটা এখন ওর কাজ,এতোদিন এটা করতে করতে অভস্ত্য হয়ে গেছে তাই এখন আর ইহানকে এভাবে দেখলে অসস্তি হয় না।
ইহান শার্ট পেন্ট পড়ে ল্যাপটপ নিয়ে বসতেই নূর মিনমিন করে জিজ্ঞেস করলো
-“খাবেন না?
-“না ইচ্ছে নেই। তুমি খেয়েছ?
-“হুম মা খাইয়ে দিয়েছে।
-“তাহলে শুয়ে পড়ো
শুলো না নূর,ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো,ইহান নূরকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বললো
-” কি হলো? দাঁড়িয়ে আছো কেনো?শুয়ে পড়ো।
-“আপনি খেয়ে নিন না।
-“ইচ্ছে করছে না তো।
-“আমি খাইয়ে দিলে ও খাবেন না?
ইহান হাসলো নূরের কথায়,মনে মনে এটাই চেয়েছিলো সে,জানে নূর না খাইয়ে তাকে ঘুমাতে দিবে না,সেটা এতোদিনে ধারণা হয়ে গেছে। ইহান ল্যাপটপে আবার চোখ রেখে বললো
-“যাও নিয়ে এসো।
ইহানকে খাইয়ে দিয়ে নূর গিয়ে বিছানায় শুতেই ইহান বললো
-“তোমার বাবা কই?
ইহানের কথায় মুখটা মলিন হয়ে গেলো নূরের,চোখের কোণায় জল জমলো,মনে পড়লো পুরোনো কিছু কথা,সেগুলো ভেবেই তাচ্ছিল্য হাসলো নূর। মলিন গলায় বললো
-“আমার কাছে মরে গেছে সে। আমাকে আর কখনো এটা জিজ্ঞেস করবেন না।
দীর্ঘ শ্বাস ফেললো ইহান,বুঝলো বাবার উপর অভিমান করেছে নূর। ইহানের হঠাৎই ওর বাবার কথা মনে পড়লো কতোদিন হয়ে গেলো বাবার সাথে কথা হয় না দেখা হয় না,মনটায় হঠাৎই বিষন্নতায় ঘিরে গেলো,মনে হলো সেদিন সে বাবার সাথে খারাপ ব্যাবহার করেছে,তার উচিত বাবার কাছে ক্ষমা চাওয়া। ল্যাপটপটা বন্ধ করে দিলো ইহান,নূরের পাশে শুয়ে ওকে তুলে এনে বুকে রাখলো,মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো
-“আমায় কখনো ছেড়ে যেও না নূরইফা।
-“তুই কি করে জানিস?
আরাবী কোমড়ে হাত দিয়ে বললো
-“বুঝলি আশতিয়াক খান এ্যাশের চোখের মনি আমি। আমাকে সে সবই বলে,এ্যাশ খানের সব সিক্রেট এই আরাবী জানে। ভাইয়াই বলেছে আমাকে। তুই তো বললি না।
শেষের কথাটা অভিমান করে বললো আরাবী,তাহা মলিন হেসে তাকালো আরাবী দিকে,চোখ দিয়ে আপনা আপনিই পানি গড়িয়ে পড়লো,আরাবী সেটা দেখে দৌড়ে গিয়ে জরিয়ে ধরলো তাহাকে,গালে হাত রেখে আদুরে স্বরে বললো
-“কি হয়েছে আমার বোনটার?কাঁদছে কেনো?
-“আমার সত্যি জানলে আমাকে কেউ কখনো বিয়ে করবে? তোর ভাই তো সত্যি না জেনেই বিয়ে করেছে। সত্যি জানলে কখনোই আমাকে বিয়ে করতো না।
-“অতীত কে কেনো টানছিস?ভুলতে বলেছি না আমি? আমার ভাই ভালোবাসে তোকে,আর যে ভালোবাসে সে ভালোবাসার মানুষের অতীতকে ও মেনে নেয়।
-”তোর ভাই ভালোবাসে আমায়? মাফিয়ারা কখনো ভালোবাসতে পারে না আরু,ওদের জীবনে ভালোবাসার কোনো অস্তিত্ব থাকতে নেই।
-”তাহলে তোকে কেনো বিয়ে করেছে?এমনি এমনি কি বিয়ে করেছে নাকি?
-”সেটা তুই তোর ভাইকে জিজ্ঞেস কর তুই না তার চোখের মনি?আমাকে কেন জিজ্ঞেস করিস?আমি কি জানি?
আরাবীকে ছাড়িয়ে বেডে গিয়ে বসলো তাহা,ভাইয়ের নেওটা এখন কপালে এসেছে জুটেছে,না জানি এখন তার কপালে কি আছে। তাহাকে রেগে জেতে দেখে আরাবী হেসে উঠলো,কি সুন্দর সেই হাসি তাহা মেয়ে হয়েও আরাবির হাসির উপরে ক্রাশ খায়,কিন্তু এখন খাবে না রাগ করেছে সে,চোখ ঘুরিয়ে অন্য দিকে তাকালো,আরাবীর হাসি থামছেই না এখনো হাসছে,তাহা এবার বিরক্ত হলো উঠে নিজের রুমে উদ্দেশ্য পা বাড়ালো,আরাবী হাসতে হাসতেই বললো
-”সকালে উঠে যেদিকে মন চায় সেদিকে চলে যাবি যদি দেখেছি পর পুরুষের সামনে সঙ সেজে বসেছিস তো তোর একদিন কি আমার ১ দিন।
শুনলো না তাহা,তাড়াতাড়ি হেটে রুমে গিয়ে ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দিলো আরাবীর রুম থেকেই সেই আওয়াজ শুনা গেলো,আরাবী চোখ খিঁচে বিড়বিড় করলো
-”যেমন স্বামী তার তেমন বউ।
বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১৩
ঘুমের ভিতরে তাহা তার উপর ভারী কিছুর অনুভব করতেই ছটফটিয়ে উঠলো,হাত দিয়ে সেটাকে সরাতে চাইলে সেটা আরো সাপের মতো পেঁচিয়ে ধরলো তাকে,তাহা চোখ খোললো এবার নিজের দিকে তাকাতেই চিৎকার দিয়ে লাফিয়ে উঠে বসলো
-”আ..আপনি এখানে?

Golpo ato Deri te den kn 🙂🙂🙂aktu Tara Tari ki diya jay na plz
Please next episode taratari din
Apnio ekhn koto deri kore episode den .. bhalo lage na ar eto wait korte … Intrest nosto hoye jay …. Please ektu taratari porbo gulo din … please ..