Home ভবঘুরে সমরাঙ্গন ভবঘুরে সমরাঙ্গন পর্ব ৫৩

ভবঘুরে সমরাঙ্গন পর্ব ৫৩

ভবঘুরে সমরাঙ্গন পর্ব ৫৩
তাজরীন ফাতিহা

এই মুহূর্তে মারওয়ানের অবস্থান ঢাকা সেন্ট্রাল মেডিকেলে। নিশাত সামনের চেয়ারে বসে মানহার কলে অনবরত ফোন দিয়ে চলেছে। ওপাশ থেকে রিং হচ্ছে কিন্তু কেউ ধরছে না। মারওয়ানের নেত্রদ্বয় বর্তমানে নিশাতের দিকে নিবদ্ধ। বোঝা যাচ্ছে, ওপাশ হতে কল রিসিভ হওয়ার অপেক্ষায় সেও প্রতিক্ষমাণ। বেশ খানিকক্ষণ পর মানহা ফোন ধরে ভাঙা গলায় সালাম দিল। নিশাত তাকে তাদের আসার খবর জানালো। মানহা তাদেরকে ৪১২ নম্বর কেবিনে আসতে বলল। নিশাত মারওয়ানকে অ্যাড্রেস বলে লিফটের তিনে এল। মারওয়ানের কোলে নাহওয়ান। সে কেবিনে না ঢুকে বাইরে দাঁড়িয়ে রইল। নিশাত একাই কেবিনে ঢুকল। ঢুকতেই মানহা এগিয়ে এসে নিশাতকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিল। কাঁদতে কাঁদতে বলল,

“ভাবি দেখ কেমন করে শুয়ে আছে?”
নিশাত দেখল সম্পূর্ণ শরীরটা ব্যান্ডেজে মোড়ানো। তার চোখেও পানি এল। কেমন উচ্ছ্বল দেখল কাল রাতেও অথচ এক রাতের ব্যবধানে কেমন নির্জীবের মতো হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে। নিশাত মানহার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,
“ধৈর্য ধরো। আল্লাহর উপর ভরসা রাখ। আল্লাহ তার বান্দাদের পরীক্ষা করার জন্য এমন বিপদ দেন। যে উত্তীর্ণ হতে পারে সেই সফলকাম হয়।”
মানহা ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলল,
“ভাইয়া আসেনি? ভাইয়া কি এখনো তার উপরে রেগে আছে?”
“এসেছে, বাইরে দাঁড়ানো।”
“ভাইয়াকে আসতে বলো। আমার কিছুই ভালো লাগছে না।”
নিশাত মানহার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে কেবিন থেকে বের হয়ে দেখল মারওয়ান ছেলেকে নিয়ে হাঁটাহাঁটি করছে। সে এগিয়ে এসে বলল,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

“মানহার কাছে যান।”
মারওয়ান গম্ভীর মুখে বলল,
“আমার যেতে ইচ্ছে করছে না। ওর শ্বশুর, শাশুড়ি এসেছে?”
“জানি না, এসেছে সম্ভবত। যেতে ইচ্ছে করছে না মানে কি? আপনি ওর ভাই, আপনজন। আমি ওর ভাবি, দূরের মানুষ। এই বিপদের দিনে আমার কাছে যতটা না শান্তি পাবে তারচেয়ে অনেক বেশি শান্তি আপনার কাছে পাবে। বেশি কথা না বলে রুমে যান। যান বলছি।”
শেষের কথাটা নিশাত ধমকের সহিত বলল। মারওয়ান চোখ মুখ কুঁচকে বলল,
“তুমি কি আমাকে ধমক দিলে?’
“হ্যাঁ, তো?”
“বেশি বেড়েছ মনে হচ্ছে?”

নিশাত কোনো জবাব না দিয়ে ছেলেকে কোলে নিয়ে মারওয়ানকে পাশ কাটিয়ে সামনে চলে গেল। মারওয়ান কপাল অমসৃণ করে সেদিকে চেয়ে রইল কয়েক পল। কপাল গুটিয়ে কেবিনে প্রবেশ করতেই চোখ গেল বিছানায়। সে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকল। মানহা ভাইকে দেখা মাত্রই কেঁদে উঠে হুমড়ি খেয়ে জড়িয়ে ধরে বলল,
“ভাইয়া, লোকটা কেমন পাষাণের মতো শুয়ে আছে দেখ? মায়া বাড়িয়ে কেন এমন শুয়ে আছে জিজ্ঞেস করো তো? তুমি বললে নিশ্চয়ই উত্তর দেবে।”
মারওয়ানের মুখে কোনো জবাব নেই। পাথরের মতো দাঁড়িয়ে। মানহা কান্নারত গলায় হেঁচকি তুলে বলল,
“আমাকে কাল যাওয়ার আগে বলল, বিরিয়ানি রেঁধে রাখতে। কত যত্ন নিয়ে বিরিয়ানি রেঁধে সারা রাত অপেক্ষায় থাকলাম অথচ সে আর খেতে এল না। আমার অপেক্ষাও আর ফুরালো না। ভাইয়া তুমি তাকে রেখে দিতে পারলে না? তাহলে তো এই এক্সিডেন্টটা হতো না।”

মারওয়ানের বুকের কোথাও রক্তক্ষরণ হচ্ছে কিনা বোঝা গেল না। হয়তোবা গতকাল রাতের কিছু চিত্র মানসপটে ভেসে উঠেছে। তবে বাইরের শক্ত খোলসে তার কিছুই পরিলক্ষিত হচ্ছে না। না দিচ্ছে মানহাকে সান্ত্বনা আর না মুখে কিছু বলছে। মানহা ইহাবের শিয়রের পাশে বসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে লাগল,

“ডাক্তার বলেছে আরও রক্ত দেয়া লাগবে। জানো, ডান হাতে অনেক জখম হয়েছে। ডান হাতের মুঠোয় নাকি একটা ঘড়ি পেয়েছিলেন তারা। ওই ঘড়ির কাঁচ বিঁধে পুরো হাত নাকি বিভৎস হয়ে গিয়েছিল। ওই ঘড়িতে কি এমন আছে যার জন্য তাকে এমন আঘাত সহ্য করতে হবে? সামান্য একটা ঘড়ির জন্য পুরো হাতের তালু রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত করে ফেলেছে। আল্লাহ আমি সহ্য করতে পারছি না। আমাকে এমন কষ্ট দিতেই কি তার এত মায়া বাড়ানো?”
মারওয়ান ঝটকা খেয়ে ইহাবের হাতের দিকে চাইল। ডান হাতের তালু ব্যান্ডেজে আবৃত। হাত মুঠো পাকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল শব্দহীন। বোনের আহাজারি শুনছে নিঃশব্দে। একজন নার্স এসে রোগীর কিছু পেপারে সাইন দিতে বলল। মানহা চোখ মুছে সেদিকে এগিয়ে গেল। মারওয়ান বেডের সামনে এগিয়ে এসে ব্যান্ডেজকৃত হাতের তালু খুবই ধীরে ছুঁলো। মানহা সাইন দিয়ে এসে ভাইয়ের পাশে এসে বলল,

“জানো, তোমার বাসায় যাওয়ার আগে কত খুশি ছিল অথচ দেখ এখন আমাকে কেমন কাঁদাচ্ছে? ভাইয়া এমন কেন হলো বলো না?”
মারওয়ানকে ঝাঁকিয়ে বলল। মারওয়ান কিছু না বলে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। মারওয়ান বেরিয়ে যেতেই ইমতিয়াজ ভুঁইয়া ডাক্তার নিয়ে ঢুকলেন। ডাক্তার কেবিনে প্রবেশ করেই বললেন,
“আমি বুঝতে পারছি না, ছেলের পাগলামিতে তুমি কেন সায় দিচ্ছ ইমতিয়াজ?”
ইমতিয়াজ ভুঁইয়া চেয়ারে বসে বললেন,
“সায় না দিয়ে উপায় আছে? এরা মা, ছেলে দুজনে আমার ঘরটা পাগলাগারদ বানিয়ে ছেড়েছে।”
ডাক্তার ইহাবের ডান হাতে ইনজেকশন পুশ করে বেরিয়ে গেলেন। ইমতিয়াজ ভুঁইয়া ইহাবকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
“এই নাটকের কথা যদি জেনে যায়?”

“নাটক কোথায়? ডান হাতে ফ্র্যাকচার হয়েছে, তালুতে ইনফেকশন হয়েছে, ডান পায়ে ক্ষত হয়েছে সবই তো হয়েছে শুধু অত গুরুতর নয়। কষ্ট হচ্ছে ডান হাতে কতদিন প্লাস্টার ঝুলিয়ে রাখতে হয় কে জানে?”
“আচ্ছা, তুমি এক্সিডেন্টটা করলে কীভাবে?”
“জানি না ঠিক। ভাগ্যিস আরেকটু আগে সরে গিয়েছিলাম নয়তো বোধহয় বাসায় এতক্ষণে কুলখানির আয়োজন হতো।”
মানহা মুখ চেপে কেঁদে দিল। ইমতিয়াজ ভুঁইয়া চিন্তিত গলায় বললেন,
“যদি কোনভাবে জেনে যায় তখন কী করবে?”
ইহাব বাম হাতে ভর দিয়ে বললো,
“আরে জানবে না। টেনশন কোরো না।”
“তোমার বউ যদি বলে দেয়?”
“বলবে না। ওকে চকলেটের লোভ দেখিয়েছি না?”
“হ্যাঁ, ও তো বাচ্চা। তাই চকলেটের লোভ দেখালেই আর কিচ্ছু বলবে না।”

“বাচ্চাই তো। তুমি শুধু শুধু চিন্তা করছ পাপা। এতে যদি পাষাণটা গলে তাহলে নেক্সট স্টেপে হাত দেব। কেমন নিষ্ঠুর আমাকে দেখে কোনো প্রতিক্রিয়াই করেনি। সম্ভবত কষ্ট পাওয়ার সিস্টেম ওর নষ্ট হয়ে গেছে। আমি মরে গেলেও বোধহয় এক ফোঁটা কাঁদত না নির্দয়টা। অবশ্য হাতটা একটু ছুঁয়েছে আমি টের পেয়েছি।”
ইমতিয়াজ ভুঁইয়া ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন,
“দেখ যেটা ভালো মনে হয়। হিতে যেন বিপরীত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখ।”
বলেই রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন। মানহা এক পাশে দাঁড়িয়ে ফোঁপাচ্ছে। ইহাব সেদিকে চেয়ে বলল,
“তোমাকে তো এখন কাঁদতে বলিনি। ফ্যাচফ্যাচ বন্ধ করো। তুমি ভালো অভিনয় করেছ। এইজন্য সুস্থ হলে সর্বপ্রথম তোমাকে একটা চুমু খাব, ডোন্ট মাইন্ড। অবশ্য তুমি মাইন্ড করলেও বা কি? আমার খাবার কাজ আমি খাব।”
বলে ইহাব চোখ বুজল। মানহা হতবুদ্ধির মতো চেয়ে রইল। অসুস্থ হয়েও কথার কি বাহার! সে মোটেও অভিনয় করেনি। সত্যি সত্যিই কেঁদেছে সে। গুরুতর আঘাত না পেলেও একেবারে কম আঘাতও পায়নি। ডান হাত ভেঙেছে, হাতের তালু ও পায়ে জখম হয়েছে এটা কম কিসে? অথচ এমন ভাব করছে যেন কিছুই হয়নি।

নিশাত হাসপাতালের কেন্টিন থেকে ছেলের জন্য জুস আর কেক কিনল। আর বাকি সবার জন্য পাউরুটি আর কলা নিল। তাড়াহুড়োতে কেউ নিশ্চয়ই খেয়ে বেরোয়নি। তারাও খেয়ে আসেনি। খবরটা শুনেই তাড়াতাড়ি করে চলে এসেছে। বাচ্চাটাকে এতক্ষণ খালি পেটে রেখেছে বিধায় দ্রুত কিছু কিনে দিল। নাহওয়ান পাইপে মুখ দিয়ে টেনে টেনে জুস খাচ্ছে। নিশাত জিজ্ঞেস করল,
“আর কিছু খাবে?”
নাহওয়ান মাথা নাড়িয়ে বলল,
“কাবো।”
নিশাত বলল,
“কী খাবে?”
নাহওয়ান ফোকলা দাঁতে হেঁসে বলল,
“ডুডু।”
নিশাত মেকি রাগ দেখিয়ে বলল,

“আমার ছানাটা ভারী দুষ্টু হয়েছে। শরমের কথা আর বলবে না। সবাই তোমাকে পঁচা বলবে।”
নাহওয়ান মায়ের ঘাড়ে মুখ লুকিয়ে রাখল। কিছুক্ষণ পর মাথা তুলে বলল,
“বাবা কই?”
নিশাত আশেপাশে দেখতে দেখতে বলল,
“তোমার বাবাকেই খুঁজতে যাচ্ছি।”
“ইকানে গুততে এসেচি?”
“না ঘুরতে আসিনি। তোমার ফুপাকে দেখতে এসেছি।”
“চুমু পুপার কি হয়েচে?”
“অসুখ হয়েছে। তোমার মতো দুঃখ পেয়েছে।”
নিশাত নাহওয়ানের পায়ে যেখানে ব্যথা পেয়েছিল সেখানে হাত বুলিয়ে বলল। নাহওয়ান নিজের পায়ে হাত দিয়ে বলল,

“ডুক্কু ডুক্কু।”
“হ্যাঁ দুঃখ।”
নাহওয়ান গাল ফুলিয়ে বলল,
“কুব বেতা।”
নিশাত ছেলের গালে চুমু দিয়ে বলল,
“হুম, ব্যথা ভালো হয়ে যাবে।”
নাহওয়ান কান ডলে বলল,
“চুমু পুপা চুমু ডেইনি।”
নিশাত ছেলেকে চেপে ধরে বলল,
“ফুপার অসুখ বললাম না? ব্যথা পেয়েছে তো।”
নাহওয়ান অবুঝ গলায় বলল,
“বিশি বিশি বেতা?”
নিশাত ছেলের গালে গাল ঠেকিয়ে বলল,
“হুম।”
“বেতা ভালু হই যাবে।”
“ইংশাআল্লাহ।”

মারওয়ান ওয়েটিং রুমে এসে বসেছে। তার চারপাশ চরকির মতো ঘুরাচ্ছে। ঘুম ঠিক মতো হয়নি বিধায় মাথা ব্যথা করছে। পাশেই হুইল চেয়ারে বসা একজন লোক। হাতে রয়েছে একটা খোলা বই। তার পাশেই একজন শাড়ি পরিহিত মহিলা বসা। মারওয়ান চেয়ারে ঘাড় ফেলে চোখ বন্ধ করল। মিনিট খানেক বাদেই কিছুটা ফিসফিস আওয়াজ তার শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে প্রবেশ করল।
“তুমি অনেক সুন্দর। আমার তোমাকে ভালো লেগেছে।”
ওপাশ থেকে উত্তর এল,
“কি যে বলেন, আমার শরম করে!”
“আমি লাইলি তুমি মজনু। থুক্কু আমি মজনু তুমি লাইলি। লাইলি মজনু প্রেমে শরম পাইত না। লাইলির যেমন জামাই ছিল আমারও বউ আছে। সেটা কোনো বিষয় না। তোমারে অনেক কিছু দেব। সুখ দিয়ে মুড়িয়ে রাখব তোমায় ময়না পাখি।”

মারওয়ানের মুখ বিদঘুটে হয়ে এল। এতক্ষণ তো ভেবেছিল জামাই, বউ। এখন দেখি অন্য ঘটনা। এসব নষ্টামি করার আর জায়গা পায়নি তার পাশেই বসতে হলো এদের! বিড়বিড় করে বলল,
“যেমন লুচ্চা তেমন লুচ্চি। মেয়েগুলো কিসের জন্য এসব বিয়াইত্তা ফাতরাদের ফাঁদে পা দেয় কে জানে? যতসব নষ্টের কারবার। হাসপাতালেও নোংরামি শুরু করেছে। এক ঠ্যাং নাড়াতে পারেনা আবার এসেছে মজনু হতে। অসহ্য!”

মারওয়ান চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করতে লাগল। লোকটার ফিসফিস আওয়াজে ঘুম তার চাঙ্গে উঠে গেছে। কানে হাত দিয়েও শোনা যাচ্ছে। অন্য কোনো জায়গায় ফাঁকা চেয়ার পেলে সেখানেই চলে যেত তবে এই ভিড়ের মধ্যে আর ফাঁকা চেয়ার পায়নি। অন্যদিন হলে দাঁড়িয়ে হলেও অন্যপাশে সরে যেত তবে আজকে ক্লান্তিতে বুদ হয়ে আছে দেখে না নড়তে পারছে আর না ঘুমাতে পারছে। মারওয়ান রাগে জিদে দেয়ালে এমন জোরে ঘুষি মারল যে মহিলাটার হাত ভয়ে কেঁপে উঠে লোকটার হাত থেকে ছিটকে পড়ল। লোকটা গলা খাঁকারি দিয়ে মারওয়ানের দিকে চাইল। মারওয়ান তোয়াক্কা না করে আবারও চোখ বুজল। লোকটা আগের থেকে নিচু কণ্ঠে কথা চালিয়ে যেতে লাগল। মারওয়ান শেষমেষ অতিষ্ঠ হয়ে বলল,
“এইযে চরিত্র বিসর্জনকৃত চিড়িয়া?”
লোকটা ঘাড় ঘুরিয়ে বলল,
“আমাকে বলছেন?”

“অবশ্যই আপনাকে বলছি। এটা হাসপাতাল। এখানের পরিবেশ নষ্ট করবেন না। এটা আপনার পিরিত করার জায়গা না। আরেকবার ডিস্টার্ব করলে খবর আছে।”
লোকটা একটু কেশে বলল,
“কি খবর আছে? আপনি কী করবেন?”
মারওয়ান ঘাড় ম্যাসেজ করে বলল,
“কিছুই করব না। শুধু এখান থেকে সোজা কর্তৃপক্ষের কাছে যাব। যেয়ে কেলানির পারমিশন আনব। এনে ইচ্ছেমত কেলিয়ে হসপিটাল থেকে গেট আউট করে দেব। আন্ডারস্ট্যান্ড?”
লোকটা থতমত খেয়ে বলল,
“আপনি বললেই তারা কেলানোর পারমিশন দেবে কেন? আপনি কে এমন?”
মারওয়ান মোবাইল ঘুরাতে ঘুরাতে বলল,
“আমি কেউ না। তবে আমার মোবাইলটা অনেক কিছু।”

লোকটা ভয় পেয়ে চুপসে গেল। মারওয়ান আর একটাও বাক্য বিনিময় না করে দুই হাত বুকে গুঁজে ঘুমাতে চেষ্টা করল। অযথা এতগুলো কথা খরচ হয়ে গেল। যতসব পাগল, ছাগল, ঠ্যাং ভাঙা মজনু, নষ্টদের দেখা তার সাথেই হয় কেন কে জানে? কোথায় যেন শুনেছিল, যে যেমন তার সাথে সাক্ষাতও ঘটে অমন প্রজাতির। এখন তার নিজেকে নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ হচ্ছে। সম্ভবত তার মধ্যেই গণ্ডগোল বিরাজমান। ঠ্যাং ভাঙা মজনু লোকটা উশখুশ করছে মারওয়ানের সাথে কথা বলার জন্য।
“আমি আসলে মজনু টাইপের মানুষ তো তাই একটু আধটু এদিক ওদিক কথা বলি।”
মারওয়ান চোখ খুলে গম্ভীর গলায় বলল,
“একটা উপদেশ দেই শুনুন, সব জায়গায় মজনুগিরি ফলাতে যাবেন না। বেজায়গায় মজনু হতে যাবেন গণধোলাই খেয়ে একদম উপরে। আর বউ থাকতে এদিক ওদিক কথা বলাকে মজনু বলেনা। এদেরকে চরিত্রহীন বলে। আই মিন পরকীয়াকারী।”

মারওয়ানের কথা শুনে লোকটা বারবার গলা পরিষ্কার করতে লাগল। খানিকপর বলল,
“ভাই, আসুন পরিচিত হই।”
“কোনো দরকার নেই। হাতে যে বইটা আছে ওটা পড়ে অন্তত চরিত্র ঠিক করুন। কাজে দেবে।”
মারওয়ান খুব ভালো ভাবেই বুঝতে পারছে লোকটা ভাঁও পাতাতে চাইছে। মানুষের ইন্টেশন খুব দ্রুতই বুঝে যায় সে। কোনোভাবে তার মোবাইল থেকে রেকর্ডটা ডিলিট করা যায় কিনা এরজন্য তাকে পটাতে এসেছে। মারওয়ান মনে মনে হাসলো। এসব ফাতরামি মোবাইলে রেকর্ড করার টাইম আছে নাকি তার? লোকটাকে চুপ করাতে এসব বলেছে। এতে যদি ক্যারেক্টার ঢিলাটা একটু শ্রান্ত হয়। অবশ্য তার শার্টের আস্তিনে একটা রেকর্ডার আছে। সেটায় এমনিতেও সবকিছু রেকর্ড হচ্ছে। ওটা সবসময় তার কাছে থাকে। লোকটা নির্লজ্জের মতো দাঁত কপাটি বের করে বলল,

“বইটা ভালো। কইগো হোগাশোগা ভালো লিখেছেন। ”
মারওয়ান চোখ মুখ বিকৃত হয়ে গেল। কইগো হোগাশোগা আবার কে? জীবনে বহু বই পড়েছে এমন নাম তো বাপের জন্মেও শোনেনি। উফ! মাথা ধরেছে এই লোকের ননস্টপ বকর বকর শুনে। মারওয়ান চোখ খুলে লোকটার কোলের দিকে দৃষ্টি ফেলল। বইটি এখন বন্ধ। বই ও লেখকের নাম স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। বইয়ের নাম ‘দ্য ডিভোশন অব সাসপেক্ট এক্স’ অনুবাদক সালমান হক। মূল লেখক কেইগো হিগাশিনো। অথচ স্টুপিডটা বলছে কইগো হোগাশোগা।
বই আদৌ পড়ে ভালো বলেছে নাকি না পড়েই আল্লাহ জানে। এই বই পড়তে নিলে আবার প্রেম পিরিত করার টাইম পায় কিভাবে? অবশ্য নাম উচ্চারণের যে বহর দেখল মারওয়ানের ধারণা বইটা এই ক্যারেক্টার ঢিলায় পড়েনি। নিজের এত প্রিয় লেখকের নামের এমন বিকৃতি শুনে যে কারো মেজাজ খারাপ হবে। ভাগ্যিস লেখক নিজে এই নাম শোনেনি নাহলে নির্ঘাত পটল তুলতো। বইটা তার বহু আগেই পড়া হয়েছে। ক্রাইম থ্রিলার এবং সাইকোলজিকাল মিস্ট্রি জনরার উপন্যাস এটা। তার ভীষণ পছন্দের একটা বই। এই বইয়ের লেখকের নামের এমন পিন্ডি চটকাতে দেখে মারওয়ানের সীমাহীন রাগ হচ্ছে। নিজেকে কন্ট্রোল করে বলল,

“আগে লেখকের নাম সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে শিখুন তারপর নাহয় বই পড়বেন কেমন?”
লোকটা উচ্ছ্বসিত গলায় বলল,
“কেন? ঠিকই তো বলেছি। কইগো হোগাশোগা।”
মারওয়ান রাগ নিয়ন্ত্রণ করে মনে মনে বলল,
“তোর হোগা। ছাগল কোথাকার।”
মারওয়ান দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“নাম হলো কেইগো হিগাশিনো। তিনি একজন জাপানিজ লেখক।”
“একটা বললেই হলো। এটা কোনো বিষয় না।”
“আপনার নাম পারভেজ। আপনাকে যদি গার্বেজ ডাকে তাহলে এটা কোনো বিষয় না?”
লোকটা মুখ চুপসে বলল,
“আমার নাম জানলেন কীভাবে? আমি তো বলিনি আপনাকে নাম।”
মারওয়ান দার্শনিকের মতো উত্তর দিল,
“সিক্রেট, বলা যাবে না। আমি মানুষের মুখ দেখেই তার নাম বলে দিতে পারি গার্বেজ সাহেব।”

পারভেজ নামক লোকটি নিজের হুইল চেয়ার সরিয়ে মারওয়ানের থেকে খানিক দূরে সরে গেল। মারওয়ান চোখ বন্ধ করে রেখেছে। সে বেশ বুঝতে পারছে লোকটা তাকে বিরাট কিছু মনে করছে। সাথে ভয়ও পাচ্ছে। অথচ বিরাট কিছু মনে করার কিছুই নেই। সে ওয়েটিং রুমে ঢুকতে ঢুকতে একজন ওয়ার্ডবয় পারভেজ নাম ধরে ডেকেছিল। তখন লোকটা হাত তুলেছিল। সেসমই জেনেছে। অন্য নারীতে আকর্ষিত হতে হতে ব্রেইনের কার্যক্ষমতাও সম্ভবত নষ্ট হয়ে গেছে। মারওয়ান মনে মনে ভেবে রাখল, আরেকবার উল্টাপাল্টা কিছু করলে পাবলিক দিয়ে কঠিন মাইর খাওয়াবে।
মারওয়ান গভীর নিদ্রায় তলিয়ে গিয়েছিল। একজন নারী কণ্ঠের উচ্চ আওয়াজে ঘুম ছুটে গেল তার। চোখ খুলে সেদিক তাকাতেই মহিলাটা তার দিকে তাকিয়ে বলল,

“ভাই, এই লোকটা মারাত্মক বেয়াদব। এক পা কবরে অথচ অসভ্যতামি কমে না। বারবার কুনুই দিয়ে খোঁচাচ্ছে।”
মারওয়ান ভ্রু কুঁচকে চোখ সরু করে লোকটার পানে চাইল। লোকটা চোরের মতো মুখ এদিক ওদিক করছে। হাতে সেই বইটা নেই। নিশ্চয়ই অন্য কারো বই ছিল। লেখকের নাম বলার ধরন শুনেই তার সে ধারণা হয়ে গিয়েছে। লুচ্চামি করেই কূল পায়না আবার পড়বে বই? মহিলাটা এবার রেগেমেগে হুইল চেয়ারে ধাক্কা মেরে বসল। লোকটা মুখ থুবড়ে ফ্লোরে পড়ল। মারওয়ান রসিকতার সহিত তীক্ষ্ণ গলায় বলল,
“গার্বেজ সাহেব দেখি পড়ে গেলেন। আহা দুঃখজনক! নিশ্চয়ই মজনুগিরি দেখাতে গিয়েছিলেন?”
লোকটা জবাব দেয়ার মুহূর্তে একজন মহিলা ছুটতে ছুটতে এসে বললেন,

“আমার অসুস্থ স্বামী পড়ে গেছে, আপনি একটু ওঠাতে পারলেন না?”
মারওয়ান ঘাড় বেঁকিয়ে বলল,
“আমি কেন ওঠাবো?”
মহিলা আশ্চর্যান্বিত গলায় বললেন,
“আপনি কি মানুষ?”
মারওয়ান গম্ভীর গলায় বলল,
“না, জ্বীন।”
মহিলা হুইলচেয়ার ঠেলে স্বামীকে নিয়ে যেতে যেতে বললেন,
“হার্টলেস কোথাকার!”
“এখন কি আপনাকে বুক চিরে দেখাব হার্টলেস নাকি হার্টফুল? আসুন দেখাই।”
মারওয়ান শার্টের উপরের দুটো বোতাম খুলে ফেলল। হুইলচেয়ারে বসা পুরুষটি একটু পর পর মারওয়ানকে কোনা চোখে দেখছে। মহিলাটি চেঁচিয়ে বললেন,

“অসভ্য লোক। আরেকবার অসভ্যতা করতে এলে আমি কিন্তু ছেড়ে কথা বলব না?”
মারওয়ান হাই তুলে বলল,
“কিন্তু আমি আপনাকে ছেড়ে কথা বলব। আমি আবার পর নারীকে ধরি টরি না।”
নিশাত দ্রুত এসে মারওয়ানকে টেনে এনে বলল,
“এ কেমন অসভ্যতা? উনি তো ঠিকই বলেছেন। আপনি একটা পাথর মানব। আপনার হার্ট মনে হয় রক্ত মাংসের বদলে পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। লোকটাকে ওঠালে নিশ্চয়ই আপনার জাত যেত না?”
“অবশ্যই যেত। গোটা জাতের নামটাই মুছে যেত। মারওয়ান আজাদ নাম বদলে হয়ে যেত মাং জাং চেং।”
“এসব কি কথা?”

মারওয়ান তাদের গমনপথের দিকে চেয়ে বলল,
“এসবই কথা। ইচ্ছে করছে দুমছে পিটিয়ে আসি গার্বেজটাকে। আরেকজন এসেছেন পতিব্রতা রমণী।”
“কিসব বলছেন? ওনার স্বামীর জন্য বলবে না তো কি আপনার জন্য বলবে?”
“আমার জন্য বলবে কোন দুঃখে? ফাও কথা কম বলবে।”
নিশাত কপালে হাত ঠেকিয়ে বলল,
“আল্লাহ, এমন পাষাণ লোক ইহজনমে আর দেখিনি। একটা পঙ্গু লোককে সাহায্য করবে তাতেও তার কত অজুহাত! এ কেমন লোককে আমার স্বামী বানালে ইয়া গাফ্ফার?”
মারওয়ান চোখ মুখ শক্ত করে বলল,
“এখন আরও দুটো পাষাণের মতো কাজ করব। এক নাম্বার ওই মহিলাকে একটা অডিও ক্লিপ দেব। দুই নাম্বর মানহাকে একটা কঠিন চড় লাগাব। কিসের ক্লিপ, কেন চড় লাগাব এসব জিজ্ঞেস করে লাভ নেই, আমি বলব না।”
বলেই গটগট পায়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গেল। সম্ভবত ওই মহিলাকে ক্লিপ দিতে গেল। নিশাত বেক্কলের মতো দাঁড়িয়ে রইল। কি ঘটলো, কেন ঘটলো কিছুই তার মাথায় ঢুকছে না।

মারওয়ান ৪১২ নাম্বার কেবিন রুমে ঢুকেই মানহাকে কষিয়ে একটা চড় মারল। ইমতিয়াজ ভুঁইয়া দাঁড়িয়ে বললেন,
“এটা কেমন ব্যবহার? চেয়ারম্যান বাড়ির পুত্রবধূর গায়ে হাত তোলো কোন সাহসে?”
মারওয়ান রক্ত চক্ষু নিয়ে ইমতিয়াজ ভুঁইয়ার দিকে চাইল। এই চোখ ইমতিয়াজ ভুঁইয়ার পরিচিত। বহুদিন আগে দেখেছিলেন আজ আবারও দেখলেন। মানহা ফুঁপিয়ে উঠে গালে হাত ঠেকিয়ে বলল,
“ভাইয়া…”
মারওয়ান হাত উঁচিয়ে থামিয়ে দিল।
“খবরদার, ওই মুখে আর ভাইয়া ডাকবি না। ছলনা শিখেছিস? শেখারই কথা। যার জামাই ছলনায় নোবেল প্রাপ্ত সে ছলনা শিখবে না তো আর কে শিখবে? জানিস এই পৃথিবীতে সবচেয়ে ঘৃণা আমি কাকে করি? ছলনাকারীকে। ছিঃ, আমার ভাবতেও অবাক লাগছে তুই আমার বোন। ঠিকই স্বামীর লেজ ধরলি।”
নিশাত তাকে টেনে নিয়ে আসতে চাইলে এক চুলও নড়াতে পারল না। মারওয়ান নিজের জায়গায় অটল থেকে বলতে লাগল,

“আজ থেকে তোর সাথে আমার আর কোনো সম্পর্ক নেই। মারওয়ান আজাদের কোনো বোন নেই। এই নে রক্তের ব্যাগ। তুই আর তোর স্বামী এটা গ্লাসে ভরে পান করিস। মারওয়ান আজাদ রক্তের বিনিময়ে তোদের সাথে সম্পর্ক চ্যুতি ঘটালো।”
নিশাত মারওয়ানকে থামাতে চাইলে মারওয়ান রাগান্বিত গলায় বলল,
“আমাকে থামিয়ে লাভ নেই। এত বড় ছলনাকারীর কোনো মাফ নেই। ওই বেঈমানের জন্য নিজের শরীর থেকে রক্ত ডোনেট করে এনেছি। কাউন্টারে গিয়ে শুনি এই নামের রোগীকে কোনো রক্ত দেয়া হয়নি। হাসপাতালে এডমিট আছে ঠিকই তবে রক্ত দেয়ার মতো সিরিয়াস কিছু হয়নি। আমার মাথা ঘুরে উঠেছিল শুনে। এজন্য নিচে অনেকক্ষণ শুয়ে, বসে ছিলাম। এই রক্তের মূল্য হিসেবে আজ থেকে সব সম্পর্ক ছিন্ন করলাম।”
বলেই কেবিন থেকে বেরুতে নিলে ইহাব উঠে বসে পিছন থেকে বলল,
“দাড়া, আমার বাঁচা মরায় যদি তোর কিছু যায় না আসে তাহলে নিজের রক্ত দিলি কেন?”
মারওয়ান চোখ বন্ধ করে বলল,

“তোর বউ যাতে বিধবা না হয় সেজন্য।”
মানহা ঢুকরে কেঁদে উঠলো। বড় ভাইয়ের মুখে এই প্রথম মানহা ছাড়া ভিন্ন সম্বোধন শুনল।
ইহাব উত্তেজিত গলায় বলল,
“মিথ্যা কথা। ব্লাড ব্যাংকে রক্তের অভাব ছিল না। যতই অস্বীকার করিস এখনো তুই আমাকে মনের কোথাও সযত্নে রেখেছিস।”
মারওয়ান তাচ্ছিল্য হেঁসে বলল,
“ভুল ধারণা। আজীবন এটা মনে লালন করলেও সত্য কোনোদিন মিথ্যা হয়ে যাবে না।”
“সেই সত্যটা কী?”
“ইউ আর নাথিং টু মি।”

মারওয়ান চলে যেতে নিলে ইহাব দৌঁড়ে এসে তাকে বাম হাত দিয়ে ঝাপটে ধরে বলল,
“প্লিজ আমাকে বোঝার চেষ্টা কর। আমি এসব তোর জন্য করেছি।”
মারওয়ান দাঁতে দাঁত পিষে বলল,
“আমাকে ছাড় নয়তো রক্তের বন্যা বয়ে যাবে বলে দিলাম।”
“বন্যা বয়ে যাক, তবুও আজ তোকে ছাড়ব না। আমার কথা না শুনলে তোকে ছাড়ব না।”
মারওয়ান ঝাড়া মেরে ইহাবকে সরিয়ে চলে যেতে নিলে ব্যথায় চোখ মুখ কুঁচকে ফেলল ইহাব। ব্যথা গিলে মারওয়ানের পা চেপে ধরে বলল,

“আমার কথাটা একবার শোন।”
“একবারও না। কয়েকবছর আগে এভাবেই ছলনা করে আমাকে ঠকিয়ে ছিলি। তোর নাটকে আমি আর গলছি না। আজকেও ছলনা করেছিস। সেই তোকে আবার বিশ্বাস করলে নিজের রক্তের প্রতি বেইমানি করা হবে।”
মারওয়ান পা ছাড়িয়ে চলে যেতে নিলে ইহাব বহু কষ্ট এক হাত দিয়ে নিশাতের কোল থেকে নাহওয়ানকে নিয়ে বলল,

ভবঘুরে সমরাঙ্গন পর্ব ৫১+৫২

“তোর ছাওয়ের কসম (আল্লাহ ছাড়া আর কারো কসম খাওয়া জায়েজ নয়, ইহা শিরকের অন্তর্ভুক্ত) এক পাও এগুবি না। আমার কথা না শুনে আজ এক পাও বাড়াতে পারবি না তুই।”
মারওয়ান পাথরের মতো সেই জায়গাতেই স্থির হয়ে গেল। নাহওয়ান কেঁদে উঠে ‘বাবা বাবা’ করতে লাগল।

ভবঘুরে সমরাঙ্গন পর্ব ৫৪