ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ১১
ছায়া
ইলা এক নিঃশ্বাসে শাওনের পুরো টাইমলাইন স্ক্রল করে ফেললো। অনেক পুরনো ছবিতে পোস্টে শাওন তার মায়াবতী কে নিয়ে কবিতার লাইন লিখছে এমন অনেক পোস্ট আছে।
“তুমি আমার লাল গোলাপ, আমি তোমার কাঁটা।”
এই লাইনটা পড়ে ইলার গলা শুকিয়ে গেলো সে ফোনটা বুকের ওপর রাখলো চোখ বন্ধ করলো। বুকের ভেতর অদ্ভুত ভারী একটা অনুভূতি জমে উঠছে রাগ, কষ্ট, ভালোবাসা সব মিশে একাকার।
তার মনে হলো যেন বুকের ভেতর কেউ চেপে ধরছে, নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো ” এই মায়াবতী আসলে শাওনের এক্সগার্ল্ফ্রেন্ড যার সাথে এক বছর আগে ব্রেকাআপ হয়ে গেছে।
চোখের জল মুছে আবার ফোনটা হাতে নিলো ইলা। এবার সে মনোযোগ দিয়ে পোস্ট গুলো দেখতে লাগলো শাওন কতই না ভালোবেসেছিলো তার মায়াবতী কে।
শাওনের সেই ফুল ভালোবাসা,হাসির আড়াল সব কিছুই তার অতীতের সাথে জড়ানো। এখন বোঝা যাচ্ছে, কেন সে সব সময় ফুল এর সাথে নীরবে কথা বলে। কারণ এই গুলোর ভেতরেই আছে তার হারিয়ে যাওয়া মানুষটার ছায়া। ইলার ঠোঁট কাঁপছে সে ফিসফিস করে বললো, “আপনি কষ্টে আছিন শাওন? আপনি কারো কাছে নিজের কষ্ট দেখান না শুধু ফুলেদের সাথে কথা বলেন কারণ ওরা প্রশ্ন করে না।
রাত বেড়ে চলেছে ঘড়িতে এখন ২টা বাজে পুরো বাড়ি নিস্তব্ধ। শুধু ইলার ফোনের স্ক্রিনের আলো আর তার মৃদু নিঃশ্বাস। ইলা নিজের ভেতরে একটা সিদ্ধান্ত নিলো কালকে ও শাওনকে এই মায়াবতী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেই। সে জানতে চায় কেন এই নামটা এখনো তার জীবনের অংশ। সে জানতে চায় তার জীবনে জায়গা আছে কিনা তার মায়াবতী এর জন্য।
ইলার চোখে ঘুম নেই মনটা ভরা একরাশ কৌতূহল আর ভয়ের মিশ্র অনুভূতিতে। জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখলো চাঁদটা যেনও নিস্তেজ হয়ে গেছে একটা সাদা আলো ছড়িয়ে আছে চারপাশে।ইলা মনে মনে বললো “শাওন আপনার মায়াবতী কে? সে কি এখনো আপনার পৃথিবীতে বেঁচে আছে?
চোখের কোণে আবারও জল এসে ভিজিয়ে দিলো বালিশের কোণটা। কিন্তু এবার সেই জল শুধু কষ্টের না এর ভেতরে আছে ভালোবাসার ভয়, হারানোর আশঙ্কা, আর একটা প্রশ্নের অপেক্ষা “শাওন আপনি কি এখনো তাকে ভালোবাসেন?
রাতের শেষ প্রহর ইলা জানে আগামীকাল সকালটা তার জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করবে। সে শাওনকে জিজ্ঞেস করবে “তার মায়াবতী কে? আর তখন দেখা যাবে, তার চোখের পেছনে লুকানো সত্যিটা আসলে কতটা গভীর।
চাঁদের আলোয় ইলা ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করে কিন্তু ঘুম আসে না। মাথার মধ্যে বাজছে শুধু একটাই ভয়েজ শাওনের হাসির শব্দ, তার সালাম দেয়া। ইলা শাওনের চিন্তা করতে করতে কখন ঘুমিয়ে যায় নিজেও বুঝতে পারে না।
সকালটা আজ একদম পরিষ্কার তালুকদার বাড়ির উঠোনে রোদের আলো ঝলমল করছে। পাখিরা ডাকছে দূর থেকে ভেসে আসছে। ইলা জানালার পর্দা সরিয়ে আকাশের দিকে তাকালো। রাতভর ঘুম হয়নি ঠিক মতো মাথার মধ্যে ঘুরছে শুধু শাওন আর সেই মায়াবতী নামটা। তবুও সে চেষ্টা করছে নিজের মতো করে দিনটা শুরু করতে। ইলার মা বাইরে থেকে ডাকলো,
সাবিহাঃ- ইলা মা কলেজে দেরি হয়ে যাবে নিচে আয়। ইলা ধীরে ধীরে প্রস্তুত হলো, কালো সাদা একটা ড্রেস পরে নিলো।তার প্রিয় রঙ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একবার নিজের দিকে তাকালো ঠোঁটে হালকা হাসি এনে ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে বেরিয়ে গেলো।
কলেজে ঢুকতেই ইলার এক বান্ধবী হাসতে হাসতে এসে বললো, “এই ইলা আজকে কিন্তু কেউ তোকে খুঁজছে।”
ইলা অবাক হয়ে তাকালো “কে” ওর বান্ধবী একটু কাঁধ ঝাঁকালো “তুই নিজে দেখলেই বুঝবি”
কয়েক মিনিট পরেই ইলা বুঝলো কথাটা সত্যি করিডোরের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে ফয়সাল ওদের ক্লাসমেট। শান্ত মিষ্টি স্বভাবের ছেলে কিন্তু চোখে আজ এক অদ্ভুত দৃষ্টি। ফয়সাল এগিয়ে এসে হালকা গলায় বললো,
ফয়সালঃ- ইলা একটু সময় হবে?
ইলা ভ্রু কুঁচকে তাকালো “কেন” ফয়সাল কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো তারপর পকেট থেকে একটা ছোট কাগজ বের করে ইলার দিকে বাড়িয়ে দিলো।
ফয়সালঃ- এইটা তোকে দিতে চেয়েছিলাম অনেকদিন ধরে।
ইলা কাগজটা খুলে দেখলো ভালোবাসার কিছু লাইন শেষে লেখা “Will you be mine”
ইলা স্থির দৃষ্টিতে ফয়সালের দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর শান্ত স্বরে বললো,
ইলাঃ- ফয়সাল আমি তোকে বন্ধু হিসেবে খুব পছন্দ করি কিন্তু এর বেশি কিছু না।
ফয়সাল মাথা নিচু করে বললো “কেন ইলা” আমি কোন দিক দিয়ে খারাপ বল লেখা পড়ায় ভালো, দেখতে সুন্দর, আমার বাবা আমাদের জেলার টপ বিজনেস ম্যান। আর কি চাই তোর??
ইলাঃ- দেখ তুই যদি বিলগেটস এর ছেলেও হোস আমার যায় আসে না।
ফয়সালঃ- তুই কি কাউকে ভালোবাসিস?
ইলা চোখ নামিয়ে বললো,
ইলাঃ- ভালোবাসা মানে শুধু কাউকে পাওয়া ফয়সাল। কখনো কখনো ভালোবাসা মানে চুপচাপ কারো অপেক্ষায় থাকা। আর আমি সেই অপেক্ষায় আছি।
ফয়সাল নিঃশব্দে মাথা নিচু করে চলে গেলো। ইলার মনে অদ্ভুত এক ভারী হাওয়া বইলো সে জানে না কেন, কিন্তু তার চোখটা হালকা জ্বালা করে উঠলো।
ইলা ক্লাস শেষ করে বাড়ি চলে আসলো দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেলো ইলা চুপচাপ ছাদের দিকে চলে গেলো। হাতে ঠান্ডা লাচ্ছির গ্লাস চোখে একরাশ ক্লান্তি। চারপাশে কেবল বাতাসের শব্দ। হঠাৎ ফোনটা ভাইব্রেট করলো স্ক্রিনে ভেসে উঠলো শাওন uploaded a new video.
ইলার বুকের ভেতর কেমন যেন ধক করে উঠলো। সে সঙ্গে সঙ্গে ভিডিওটা খুলে দেখলো শাওন একটা ভিডিও দিয়েছে যেটাতে হেলমেট পড়ে ডান্স করছে
গান : “aja Mahiya”
ইলা খুব মন দিয়ে ভিডিও টা দেখলো শাওনের ডান্স মুভ এর কারণে মাঝে মাঝে শাওনের ফর্সা পেট বের হয়ে যাচ্ছিলো। ইলা এত মন খারাপের পরেও শাওনের এই পেট দেখে আবার হার্টবিট বেরে গেলো। ইলা মনে মনে
“ এই ছেলে আমাকে তার রুপের আগুনে না পুরিয়ে একবারে মেরেই ফেলুক”
ইলা একটা কমেন্ট করলো:
এভাবে মেয়েদের পেট না দেখালেও পারতেন
মুখ দেখাবেন না ঠিক আছে তাই বলে মুখ বাদ দিয়ে বাকি জিনিস পত্র দিয়ে আকৃষ্ট করার মানে হয় না। এভাবে ভিডিও দিয়ে মেয়েদের হার্ট অ্যাটাক দিবেন না।
ইলা কমেন্ট পরে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো তার পরে মন হলো শাওনকে জিগ্যেস করতে হবে তার মায়াবতী কে তাই আর দেরি না করে মেসেজ করলো
ইলাঃ- আসসালামু আলাইকুম
কয়েক মিনিট কেটে গেলো কোনো রিপ্লাই নেই ইলা আবার লিখলো
ইলাঃ- কেমন আছেন?
আবারও কোনো উত্তর নেই ফোনের স্ক্রিনে শুধু “seen 1m ago” দেখা যাচ্ছে।ইলার মনে হলো বুকের ভেতর কিছু একটা ভেঙে যাচ্ছে। সে দীর্ঘশ্বাস ফেললো তারপর নিজের মতো করে লিখে ফেললো একটা গান
ইলা—তোর দিলের উইলে—
—তোর দিলের উইলে—
—স্ট্যাম্প মেরে লিখে দেব যে—
—আমি তোর, আমি তোর,—
—আমি তোর প্যায়ারেলাল রে—
গানটা পাঠানোর পরেই হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠলো নতুন মেসেজ এসেছে। স্ক্রিনে শাওনের নাম দেখে ইলার বুক কেঁপে উঠলো।
শাওনঃ- এই মেয়ে কি শুরু করছো?
ইলা ঠোঁট কামড়ে মৃদু হেসে লিখলো
ইলাঃ- আপনি তো ব্যস্ত তাই ভাবলাম নিজেই নিজের সঙ্গে কথা বলি।
শাওনঃ- সারাদিন এত তিরিং বিরিং করো কেনো হ্যাঁ।
ইলাঃ- আপনি সব সময় চুপ থাকেন তাই মনে হলো একটু কথা বললে মন ভালো হবে।
একটু পরে শাওনের রিপ্লাই এলো
শাওনঃ- আমার কথা বলতে ভালো লাগে না।
ইলা আবার প্রশ্ন করলো
ইলাঃ- কেন ভালো লাগে না ভিডিওতে তো অনেক কথা বলেন, হাসেনও আমার সঙ্গে বললেই এমন চুপ কেন?
এইবার শাওনের উত্তর এল হঠাৎ আর সেটা পড়েই ইলার বুক হালকা কেঁপে উঠলো
শাওনঃ- মরা মানুষ কথা বলতে পারে না।
এক মুহূর্তে ইলার আঙুল থেমে গেলো স্ক্রিনে সেই লাইনটা যেন রক্তের মতো ঝলসে উঠছে। সে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো তারপর টাইপ করলো
ইলাঃ- আপনি মরা না আপনি শুধু কষ্টে ডুবে আছেন আমি বুঝি।
শাওন সিন করলো কিন্তু কোনো রিপ্লাই আসলো না। ইলা ফোনটা বুকের ওপর রাখলো। চোখে পানি চলে এলো কিন্তু ঠোঁটে মৃদু এক হাসি কারণ আজ সে বুঝলো শাওন যতই নীরব হোক, তার ভেতরে একটা গল্প আছে, এক অজানা যন্ত্রণার নদী, আর ইলা সেই নদীর ধারে দাঁড়িয়ে আছে শুনছে, নীরবে, কোনো প্রতিদান চায় না।
একটু পরে ইলা আবার মেসেজ দিলো শাওন কে
ইলাঃ- একটা কথা জিগ্যেস করবো রাগ করবেন না প্লিজ?
শাওনঃ- বলো।
ইলাঃ- মায়াবতী কে?
দুটো সেকেন্ড নিস্তব্ধতা তারপরই একটা seen চিহ্ন তারপর লম্বা বিরতি। ইলার বুক কেঁপে উঠছে আঙুলগুলো ঘামছে।কিছুক্ষণ পরে শাওন রিপ্লাই দিলো
শাওনঃ- এই প্রশ্ন করার সাহস কোথা থেকে এলো তোমার?
ইলা হতভম্ব হয়ে গেলো ইলা ভাবেনি শাওন এভাবে রিয়েক্ট করবে ইলা ভয়ে ভয়ে লিখলো
ইলাঃ- আমি শুধু জানতে চেয়েছিলাম কারণ আমি আপনাকে বুঝতে চাই আপনি যে মানুষটাকে প্রতিদিন মনে করেন, তার গল্পটা জানতে চাই।
শাওন টাইপ করতে লাগলো একে একে মেসেজ আসতে লাগলো
শাওনঃ- ইলা সব জানতে হয় না অতীত ঘাঁটলে শুধু রক্ত বের হয়। তুমি কে যে আমার অতীতের খবর জানতে চাও?আমার জীবনের কিছু জায়গা আছে সেখানে কেউ প্রবেশ করতে পারে না। আর আমি কোন ভিডিও দিবো না দিবো সেটা বলার তুমি কে। আমার ভিডিও না ভালো লাগলে স্কিপ করে চলে যাবা কিন্তু এই সব আজাইরা কমেন্ট করবা না।
ইলার গলা শুকিয়ে গেলো তার মনে হলো, এই মানুষটা ভিডিওতে যতটা হাসিখুশি থাকে বাস্তবে নিজের চোখের নীরবতায়ও কাঁদে। তবুও ইলা হাল ছাড়লো না ইলা আবার টাইপ করলো
ইলাঃ- কিন্তু আপনি তো আজও তার জন্য কাঁদেন তার কথা ভাবেন। যে চলে গেছেন তার জন্য নিজেকে কেনো এমন করে শেষ করছেন? আপনার এমন কষ্ট দেখতে আমার ভালো লাগে না। আর আমি কমেন্ট টা মজা করে করেছিলাম।
এইবার শাওনের ধৈর্য্য ভেঙে গেলো মেসেঞ্জারে একের পর এক শব্দ আগুনের মতো জ্বলতে লাগলো
শাওনঃ- এই মেয়ে এবার থামো অনেক বলে নিয়েছো তুমি জানো না কাকে নিয়ে কথা বলছো।
সে মেয়ে ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল, তাকে আমি ভুলতে চাইনি সে আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছে আমি কে ছিলাম।আমি তার জন্য মরে গেছি বুঝলে? আমি এখনো বেঁচে আছি শুধু শ্বাস নিচ্ছি বলেই। আমি কাউকে ভালোবাসতে পারি না আমি ভালোবাসার যোগ্য না। তুমি আমাকে বুঝতে পারবে না।তুমি হয়তো ভাবছো, আমি ঠান্ডা, ভিডিও তে হাসি বলে অনেক হ্যাপি মানুষ আমি কিন্তু আমি শুধু ভাঙা মানুষ। এমন মানুষ যার ভেতর কিছু নেই শুধু ধ্বংস।ইলার চোখে পানি চলে এলো সে কাঁপা হাতে লিখলো
ইলাঃ- আপনি জানেন না আপনি কতটা ভালো মানুষ। আপনি যতটা কষ্টে আছেন তার অর্ধেকও যদি কেউ জানতো সবাই আপনাকে আরো বেশি ভালোবাসতো।
শাওনঃ- আমি চাই না আমার কষ্ট কারো সাথে শেয়ার করতে থাক আমার এই কষ্ট গুলো নিজের মধ্যে।
ইলাঃ- কিন্তু আপনি কেনো এমন করে নিজেকে কষ্ট দেন শাওন?যে আপনাকে ছেড়ে চলে গেছেন সে ফিরে আসবেন না। আপনি প্লিজ এভাবে কষ্ট পাবেন না।
শাওন এবার সম্পূর্ণ ভেঙে পড়লো কিন্তু তার ভেতরের কষ্ট রূপ নিলো রাগে। যেটা ইলা বুঝলো না ইলা বুঝলো শাওন রাগ করে কথা বলছে কিন্তু ওপরপাশে শাওন এর পূরোনো ক্ষত আবার জেগে উঠেছে।
শাওনঃ- চুপ করো ইলা অনেক হয়েছে, তুমি বুঝতে পারছো না তুমি কি করছো। তুমি আমার জীবন নিয়ে নাটক বানিয়ে ফেলছো। আমার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এত জানার দরকার নেই তোমার। এজ এ ফ্যান হিসেবে আমি তোমাকে অনেক সময় দিয়েছি কিন্তু আজ যেটা তুমি করেছো যেটা মেনে নেয়ার মত না।
আমি কাউকে কাছে আনতে পারি না কারণ যাকে কাছে এনেছিলাম সে আমার ভেতরটা ছিন্নভিন্ন করে গেছে। তুমি কি ভাবছো আমি হাসলে সুখে আছি? আমি গান গাই মানে শান্তুতে আছি? আমি ফুলের সাথে কথা বলি মানে আমি কবি?না ইলা আমি একটা জীবন্ত লাশ। যে হাঁটে, কথা বলে, কিন্তু কষ্ট টা প্রকাশ করে না।ইলার আঙুল থেমে গেলো কীবোর্ডে চোখে অঝোরে পানি।
ইলাঃ- আপনি এমন কথা বলছেন কেনো শাওন? আমি তো শুধু আপনার কষ্টটা ভাগ নিতে চেয়েছিলাম।
শাওনের রিপ্লাই আসলো ভারী বিষাক্ত, আর তিতা
শাওন- আমি কাউকে চাই না ইলা।
(আমার জীবনে কেউ ঢুকে আবার ভাঙবে এই ভয় আমি আর নিতে পারি না। তুমি বোঝো না আমি মানুষ না। আমি একটা ছায়া একটা জীবন্ত লাশ আমার কাছ থেকে দূরে থাকো কারণ আমার ছোঁয়া শুধু কষ্ট দেয়।) এই কথা গুলো শাওন নিজের মনে বললো যেটা ইলা জানতে পারলো না।ইলার চোখ ভিজে যাচ্ছে সে কাঁদতে কাঁদতে টাইপ করলো
ইলাঃ- আপনি যতই দূরে ঠেলে দিন আমি তবুও চাই আপনি একটু হাসুন। আমি আপনাকে হারাতে চাই না।
শাওন কিছুক্ষণ চুপ তারপর শেষবারের মতো রিপ্লাই দিলো
ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ১০
শাওনঃ- হারানোর মতো কিছুই বাকি নেই ইলা।তুমি দেরি করে ফেলেছো এখন শুধু নীরবতাই আমার সঙ্গী।
তারপর ইলা সিন করে রিপ্লাই দিতে যাবে আর দেখে” You can’t message this person anymore”
ইলার বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠলো সে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলো ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে চোখের পানিতে। বাইরে ঝড় উঠছে সাথে ইলার মনেও ইলা চুপচাপ নিজের রুমে এসে বিছানায় বসে পড়লো ঠোঁটে মৃদু ফিসফিস
ইলাঃ- আপনি বললেন আপনি জীবন্ত লাশ কিন্তু জানেন আমি এখন আপনার মতোই এক মৃত মানুষ।
রুমের ভেতর শুধু বাতাসের শব্দ ফোনের স্ক্রিন নিভে গেলো আর সেই নীরবতায় হারিয়ে গেলো এক অসমাপ্ত ভালোবাসার শব্দ একটা মেয়ে, একটা ভয়েজ, আর এক অদ্ভুত কষ্টের মায়াজাল।
