Home ভয়েজের মায়াজাল ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ২৬

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ২৬

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ২৬
ছায়া

বিকেলের মিষ্টি আলোয় পুরো তালুকদার বাড়িটা যেন রঙিন হয়ে উঠেছে। ঘরে ঘরে সাজের ব্যস্ততা কেউ গয়না ঠিক করছে কেউ ফুলের গাঁথুনি শেষ করছে। আর এদিকে ইলা আয়নার সামনে বসে আছে সেজেছে মেহেরুন কালারের শাড়িতে ভারী জড়ি কাজ করা পাড়ে সোনালি ঝলক। কানে,গোলায়,মাথায় কাচা ফুলের নেকলেস। হাতে সাদা লাল মিক্সড কাচের চুরি আর হাত মেহেদির নকশায় ঝলমল করছে। ঠোঁটে হালকা ম্যারুন লিপস্টিক চোখে কাজলের মোহ। আজ যেন ইলাকে দেখে মনে হচ্ছে সূর্যাস্তের শেষ আলোটা যেন তার গায়ে লেগে আছে অতুলনীয়, রাজকীয়, অথচ নিঃশব্দে সুন্দর।

হালিমা ও পড়েছে মেহেরুন কালারের শাড়ি, সাথে হালকা মেক-আপ কাচা ফুলের নেকলেস। আর সাথে হালিমার সংগী চশমা। ইলা হালিমার দিয়ে এসে চশমা খুলে দিলো।
রাফিকা এক গাদা মেকআপ করেছে আরিয়ান কে পাগল করার জন্য।ফোনে ১০০ সেল্ফি তুলেছে নিজের রুপ দেখে নিজেই নিজের প্রেমে পড়ে যাচ্ছে।
এদিকে নেহা আর নোহা এসেছে ইলার কাছে শাড়ি পড়িয়ে নিতে আর দুইজনি মেক আপ করেনি তাদের নাকি ভালোলাগে না এই সব। তবুও ইলা একটু বেবি ক্রিম, কাজল, লিপবাম আর সাথে কাচা ফুলের নেকলেস গুলো পড়ি দিলো দুইজনকেই ইলা নিজে যেমন সিম্পিল সেজেছে তাদের ও ঠিক সেভাবেই সিম্পল ভাবেই সাজিয়ে দিলো।
নোহাঃ- আপু তুমি আমাদের জন্য এগুলো কেনো কষ্ট করে নিয়ে আসতে গেলে।

ইলাঃ- কই আমি তো কষ্ট করিনি এগুলো তো তোমাদের ভাইয়া কিনে দিয়েছে তাই তোমাদের জন্য বানিয়েছি।
নেহাঃ- ও আচ্ছা তাহলে ভাইয়ার কাছে ধন্যবাদ টা যাবে তোমার কাছে না।
দুইজনই রেডি হয়ে ইলার রুম থেকে বের হয়ে রায়েদ এর রুমে যাচ্ছে।আরিয়ানকে দেখানোর জন্য রুমে ডুকে দেখে আরিয়ান ঘুমাচ্ছে এখনো।নোহা আর নেহা কপালে হাত দিয়ে দেয়।তার পরে আরিয়ান কে ডেকে তুলে রেডি হওয়ার জন্য।আরিয়ান ঘুম ঘুম চোখে দেখে দুইটা ছোট পরি তার সামনে দাড়িয়ে আছে কোমড়ে হাত দিয়ে।আরিয়ান বেডে উঠে বসে দুইজকে বলে
আরিয়ানঃ- আমার দুই ছোট পরিকে তো অনেক সুন্দর লাগছে।
নোহাঃ- ভাইয়া তুই কি ছুটিতে আসিস ঘুমানোর জন্য। বাসায় থাকলে তো ঘুমাস অন্তত এখানে এসে আনন্দ করতে পারিস।

আরিয়ানঃ- আরে না একটু ক্লান্ত লাগছিলো তাই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম প্রোগ্রাম কি শুরু হয়ে গেছে নাকি??
নেহাঃ- হ্যাঁ শুরুর পথে তুই তারাতাড়ি রেডি হয়ে নিচে চলে আয়।
আরিয়ান উঠে ফ্রেশ হতে চলে গেলো নোহা আর নেহা নিচে চলে আসলো।
এবার আসা যাক আমাদের বউ এর দিকেঃ
পরি আজকের দিনের সেন্টার অফ অ্যাট্রাকশন হলুদ অনুষ্ঠান টাই যে আজ পরির জন্য ওর হাসি, উচ্ছ্বাস, আর আজকের সাজে সে যেন পুরো প্রজাপতি হয়ে উঠেছে। পরির গায়ে ঘন মাস্টার্ড ইয়েলো গোটাপাটি লেহেংগা, মাথার ওপরে খোপায় গাঁথা সাদা হলুদ গাঁদা ফুল, গলায় কাঁচের মালা, মুখে সোনালি গ্লো। ঠোঁটে স্নিগ্ধ হাসি, চোখে এক অজানা উচ্ছ্বাস আজ তার জীবনের সবচেয়ে বিশেষ দিন।
সবাই পরিকে নিয়ে হলুদ স্টেজের দিকে আসছে পরির একটা কালো চশমা পড়ে গান এর লিরিক্স মিলাচ্ছে আর স্টেজের দিকে আসছে

গান— Chunnari Chunnari
সবাই হাততালি দিয়ে ওয়েলকাম করলো হালিমা আর ইলা পরিকে বসিয়ে দিয়ে চলে গেলো।পরি বসার একটু পরেই চারদিক থেকে মিউজিক বাজতে শুরু করলো
“Tere Ghar Aaya Main Aaya Tujhko Lene…”
আর এই গানের সাথেই স্টেজের গেটের দিকে সবাই তাকালো। আদিব নাচতে নাচতে প্রবেশ করলো পরিপূর্ণ বলিউড হিরো স্টাইলে। ইয়োলো কুর্তা সাদা পাজামা, চোখে কালো সানগ্লাস, মুখে হাসি এক কথায় অতুলনীয়। ডান হাতে ফুলের হার অন্য হাতে হলুদ রঙের ফুল ছিটাচ্ছে আর স্টেপে স্টেপে নাচছে আর স্টেজের দিকে আসছে। স্টেজে উঠেই পরির সামনে থামলো সবাই হাততালি দিতে শুরু করলো। চারদিকে হাসি, করতালি, আর হলুদ রঙের উজ্জ্বল ছটা। আদিব পরির পাশে বসে পড়লো। এরপর শুরু হলো ডান্স পারফর্মেন্সের পালা প্রথমে রাশেদ তালুকদার আর সাবিহা বেগম দম্পতি নাচলো

“Gallan Goodiyan” গানে।
তারপর আদিবের ছোট মামা আর ছোট মামি নাচলো মিষ্টি হাসিতে
“Janam Janam Sath Chalna Yunhi”
গানেতাদের কেমিস্ট্রিতে সবাই মুগ্ধ। এরপর রায়েদ আসলো নিজের টিম রাফি, সায়েম, সাফিনকে নিয়ে গানে বাজলো
“Badtameez Dil”
রায়েদ পরেছে গোল্ডেন কুর্তা সাথে ব্ল্যাক পাজামা,চুলগুলো সাইডে ফ্লিক করে সেট করা যেন কনফিডেন্ট বর-টু-বি স্টেজে উঠে দুষ্টুমি ভরা হাসিতে নাচতে লাগলো তার প্রতিটি স্টেপে আত্মবিশ্বাস আর একরাশ সুখের ছায়া।
সবাই যখন ব্যস্ত আলো সাজ আর হাসিতে, আর ডান্স দেখতে ঠিক তখনই গেটের দিকে তাকালো তাবাসসুম আর রাফিকাকে বলল
তাবাসসুমঃ- ওই দেখো তোমার হিরো আসছে…।
রাফিকা চোখ ঘুরে গেলো সেদিকে আরিয়ান আসছে কালো পাঞ্জাবি পরেছে যার গলায় হালকা গোল্ডেন কাজ। উপরের বোতামটা খুলা। নিচে সাদা পাজামা, হাতে কালো ঘড়ি,চুলগুলো ব্যাকব্রাশ করে সেট করা। মুখে সেই শান্ত অথচ ভয়ানক আকর্ষণীয় হালকা হাসি। তার পেছনে লাইটগুলো ঝলক দিচ্ছে যেন চারপাশ তার উপস্থিতিতে ঝলমল করছে।
আরিয়ানের চোখ গিয়ে থামলো ঠিক ইলার উপর। ইলা ডান্স দেখায় ব্যস্ত অন্য দিকে তার মন নেই। রায়েদ এর টিম স্টেজ থেকে নেমে গেলো তার পরে রায়েদ মাইকে বলল এবার স্টেজে আসবে দুই রমনি স্টেজ কাপানোর জন্য রিমা ও হালিমা
গান “Gallan Kardi”

দু’জনের স্টাইলিশ ও মজার কোরিওগ্রাফি দেখে সবাই হাসতে লাগলো। হালিমা মাঝপথে ঘুরে গায়ে গ্লিটার ছুঁড়ে দেয় রিমা দুষ্টুমি করে হালিমার কাঁধে হাত রাখে একদম Bollywood Diva vibe দিচ্ছে আর ইলা পরি বসে বসে তালে তাল দিচ্ছে রিমা ও হালিমা ডান্স শেষ করে স্টেজ থেকে নেমে গেলো। রায়েদ বলল এই ডান্স দেখে আমার শরীর নিজে থেকে ডান্স শুরু করে দিয়েছে তাই আমি আর আমার ক্রাইম পাটনার এবার ডান্স করবো আমি ও রাফি
গান “Naacho Naacho”
দুজনের মুভমেন্ট, এনার্জি, আর ভাই-ভাই কো-অর্ডিনেশন দেখে সবাই তালি দিয়ে উঠলো। রায়েদ ঝলমল করছে রাফি পরেছে ম্যারুন পাঞ্জাবি তাদের স্টেপে চারপাশে আগুন জ্বলছে। ডান্স শেষ করে রায়েদ মাইকে এসে বলল এবার কাপল ডান্স করবে সায়েম ও নেহা
গান “Tum Hi Ho Bandhu”
নেহা ফ্লোরাল স্কার্টে ঘুরে ঘুরে নাচছে সায়েম ওর পাশে একদম cool swag নিয়ে ডান্স করছে তাদের ডান্স এতই ভালো হয়েছে যে তাদের নাচের শেষে সবাই চেঁচিয়ে উঠলো “Once more”
রায়েদ এবার মাইক নিয়ে বলল এবার আসবে আমাদের বেস্ট কাপল এবং যাদের জন্য এই আয়োজন তারা পরি ও আদিব ভাইয়া।

গান “Raabta”
লাইট নিভে গেলো শুধু তাদের উপর স্পট লাইট। গানের তালে পরির হাত আদিবের হাতে ধীরে ধীরে স্টেপ, চোখে চোখ রেখে ডান্স করছে আর সবাই মুগ্ধ হয়ে ডান্স দেখছে ডান্স শেষে আদিব পরির কানে ফিসফিস করে বলল “তুমি ছাড়া এই রাত অসম্পূর্ণ”
চারপাশে তালি সিটি উল্লাস পরি আদিবের হাত ধরে নিচে নেমে আসলো রায়েদ মাইক নিয়ে বলল এবারে যে আসতে চলেছে তাকে দেখে কখনোই মনে হয় না সে এত সুন্দর ডান্স করতে পারে। সে আর কেউ নয় আমাদের আরিয়ান ভাই।
গান “kammariya”

স্টেজের আলো কমিয়ে হালকা গোল্ডেন লাইট জ্বলে উঠলো। আরিয়ান ধীরে ধীরে মঞ্চে উঠলো চোখের দৃষ্টি সরাসরি এক জায়গায় ইলা তার প্রতিটি স্টেপে এক অদ্ভুত শক্তি, ভদ্রতা, আর আকর্ষণ চারদিক চুপ সবাই তাকিয়ে আছে। আরিয়ান নাচছে না যেন পুরো স্টেজ ডান্স করছে। আরিয়ান ডান্স শেষ করে নিচে নেমে আসলো পরি ইলাকে ইশারায় ডাকলো ইলা পরির কাছে গেলো
পরিঃ- কি রে তুই নাকি ডান্স প্রাকটিস করেছিস তাহলে ডান্স করছিস না কেনো।
ইলাঃ- আমার না ভালো লাগছে না ডান্স করতে তাই করবো না।
পরিঃ- আমি তোর কোনো কথা শুনতে চাই না আমি রায়েদ ভাইকে বলছি এর পরের ডান্স তুই করবি।
ইলাঃ- আচ্ছা তোকে কিছু করতে হবে না আমি ডান্স করবো তবে একটা।
ইলা আর পরির মাঝে মেয়েদের টিম ডান্স করার জন্য স্টেজে উঠে গেলো
গান “Desi Girl”, “Jhumka Bareilly Wala”, “Shona Bondhu Tui Amar”

সবাই একসাথে নাচছে, হাসছে, চারপাশে কনফেটি উড়ছে। ইলা এক কোণে দাঁড়িয়ে হাসছে, কিন্তু তার ভেতর যেন কিছু অদ্ভুত নরম অনুভূতি কাজ করছে। আরিয়ান পাশ থেকে তাকিয়ে আছে ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি।
ডান্স শেষ হওয়ার আগেই তালুকদার বাড়ির বড়রা আর খান বাড়ির বড়ড়া কেউ বাদ গেলো না। সবাই মিলে “London Thumakda” গানে নাচা শুরু করলো সবাই একসাথে মঞ্চে, হাসির রোল পড়ে গেলো চারপাশে।
সবার ডান্স শেষ আরিয়ান কানে ফোন নিয়ে উঠে কোথাও যাচ্ছিলো সেই সময় রায়েদ বলে এবার আমাদের সামনে আসছে স্পেশাল গেস্ট ভূতের রানি ইলা তালুকদার আর তার সাথে তার চাশমিস ক্রাইম পাটনার হালিমা সরকার। আরিয়ান রায়েদ এর কথা শুনে সেখানেই দাঁড়িয়ে গেলো। ইলা আর হালিমা স্টেজে উঠে আসলো
গান “Beedi Jalaile Jigar se piya”

গানটা বাজতেই আলো ঝলকে উঠলো লাল-হলুদে।ইলা আর হালিমা একসাথে মঞ্চে এলো দুইজন মেহেরুন রঙের শাড়িতে বিট বাজতেই তাদের পা যেন আগুন হয়ে উঠলো হাতের নাচ, কোমরের মুভ, চোখের দৃষ্টি সব কিছু একেবারে পারফেক্ট।ইলার হাসিতে আগুনের মতো দীপ্তি হালিমার চাহনিতে নাচের মজা।দুজনের নাচে পুরো মঞ্চ কাঁপছে পরি সিটি দিচ্ছে। রায়েদ হঠাৎ সামনের চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালো হালিমার ডান্স দেখে
রায়েদঃ- ওরে বাবা মাইয়া কি রূপ দেখাইলি রে হালিমা।
তার পাশে বসা পরি হেসে বলল,
পরিঃ- হালিমা তোর হিল্লে হয়ে গেলো।

আর এক কোণে দাঁড়িয়ে আরিয়ান গম্ভীর মুখে দেখছিলো ইলার ডান্স গানের তালে ইলার ঘুরে যাওয়া,চুলের উড়াউড়ি,হঠাৎ আরিয়ানের চোখ গেলো ইলার শাড়ির ভাঁজে পেটের দিকে পেটের হালকা আভা দেখা যাচ্ছে।আরিয়ানের চোখ অনিচ্ছাসত্ত্বেও সেদিকে চলে গেলো।সে নিজের ঠোঁট কামড়ে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ আরিয়ানের চোখে মুগ্ধতা ।হালিমা ইলার হাত ধরে আরও দ্রুত স্টেপ নিচ্ছে বিট যত বাড়ছে তাদের নাচের স্পিডও তত বেড়ে যাচ্ছে। দুজনের হাসিতে চারপাশ গরম হয়ে উঠেছে। রায়েদ চুলে হাত বুলিয়ে নিঃশ্বাস ফেলে বলল
রায়েদঃ- এই ডান্স দেখা যদি পাপ হয়,তাও আমি পাপী হতে রাজি।
গান শেষ হতেই সবাই হাততালি দিয়ে উঠলো ইলা আর হালিমা হাসতে হাসতে একে অপরকে জড়িয়ে ধরলো।আরিয়ান সেখান থেকে সরে গেলো নিঃশব্দে।ইলা আর হালিমা পরির কাছে গেলো পরি আর আদিব বলল
আদিবঃ- বিয়ের বেস্ট ডান্স হয়েছে এইটা।

অন্যদিকে আরিয়ান ছাদের কোণে দাঁড়িয়ে পাঞ্জাবির বোতাম খুলে পাঞ্জাবি খুলে ফেলেছে আরিয়ানের হাতের পেশি টানটান এক… দুই… তিন…আরিয়ান পুশআপ দিচ্ছে একটার পর একটা আর নিজের মনে বলছে,
আরিয়ানঃ- আস্তাগফিরুল্লাহ… আস্তাগফিরুল্লাহ… এইসব আমি ক্যান দেখলাম।
তার চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠছে ইলার নাচের দৃশ্য,আর প্রতিবার সে একটু জোরে পুশআপ দিচ্ছে যেন নিজের ভেতরের আগুনকে নিভিয়ে ফেলতে চাইছে। ডান্স প্রোগ্রামের বিরতি দিয়ে হলুদ এর অনুষ্ঠান শুরু হলো স্টেজের চারপাশে ফুলের মালা, আলোর ঝলক, হাসির গুঞ্জন। পরি স্টেজের মাঝখানে সোফাতে বসে আছে, হলুদে মুখ একদম সোনালি আভা ছড়াচ্ছে। আদিব পাশে বসে একটু লজ্জা একটু হাসিতে ডুবে আছে। সবার হাতে হলুদ আর মুখে একটাই কথা “আজ কাউকে ছাড়া যাবে না” তাসলিমা বেগম প্রথমে পরির গালে আলতো করে হলুদ লাগালেন তারপর মুচকি হেসে বললেন,

তাসলিমাঃ- আচ্ছা এবার ইলার পালা।
সবাই চমকে তাকালো ইলা অবাক হয়ে বলল,
ইলাঃ- বড় মা আমি আবার কেন?
তাসলিমা বেগম হেসে বললেন,
তাসলিমাঃ- কারণ এর পরে তো তোর সিরিয়াল প্র্যাকটিস শুরু হোক এখন থেকেই।
পরিঃ- আমার তো মনে হচ্ছে খুব তারাতাড়ি ইলার বিয়ের ফুল ফুটবে।
ইলার মুখ লাল হয়ে গেলো পরির উপরে চোখ পাকিয়ে দিলো কিন্তু কিছু বলল না।
বাড়ির নিচ থেকে এখনো হাসির শব্দ ভেসে আসছে আর ছাদে একাকী আরিয়ান পুশআপ দিচ্ছে। তার শরীর ঘামে একদম ভিজে গেছে নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠেছে। একবার হাত থামিয়ে সে কপাল মুছে নিজেকে বলল
আরিয়ানঃ- শান্ত হ শাওন… শান্ত হ।
ঠিক তখন পেছন থেকে রায়েদের কণ্ঠ,

রায়েদঃ- ভাই… এই অবস্থা কেন? মনে হচ্ছে যেন কেউ কাবাডি ম্যাচ খেলতেছে একা একা।
আরিয়ান রায়েদকে দেখে উঠে দাঁড়াল মুখে সামান্য হাসি টেনে বলল,
আরিয়ানঃ- অসময় ঘুমায়ছিলাম এখন ঘুম ভাঙছে না তাই একটু ঘুম ভাঙাচ্ছি।
রায়েদঃ- এইটা ঘুম ভাঙানো না ভাই এইটা জিমের দ্বিতীয় পর্ব চলছে।
আরিয়ানঃ- তেমন কিছু না।
রায়েদঃ- ভাই আজ রাতে একটা ছোট পার্টি আছে ব্যাচেলর পার্টি তুমি যাবে আমাদের সাথে না মানে তোমাদের মতো সিনিয়র ছাড়া পার্টি জমবে কেমনে?
আরিয়ান মুচকি হেসে বলল,
আরিয়ানঃ- দেখি রায়েদ…মন চাইলেই হয়তো যাওয়া হবে।
রায়েদঃ- মন না চাইলেও আমি নিজে আপনাকে নিয়ে যাবো আজকের রাতটা কিন্তু হেভি হবে।
আরিয়ান হালকা হাসল কিন্তু চোখে তখনো সেই আগের দৃশ্যের রেশ ইলার নাচ, তার হাসি, আর নিজের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়।

রায়েদঃ- নিচে তো হলুদের প্রোগ্রাম শুরু হয়ে গেছে, সবাই আপনাকে খুঁজতেছে।
আরিয়ান তখন রেলিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে মুখে স্থির ভাব নিচের আলো তার চোখে প্রতিফলিত হয়ে উঠেছে।আরিয়ান ধীরে ঘুরে তাকাল ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি এনে বলল
আরিয়ানঃ- তুমি যাও আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি একটু সময় দাও।
রায়েদঃ- ঠিক আছে ভাই কিন্তু দেরি কইরেন না আদিব ভাই আপনাকে খুজছে।
এটা বলে আরিয়ান নিচে নেমে গেলো আরিয়ান ধীরে ধীরে রুমের দিকে হাঁটতে লাগল। দরজা বন্ধ করে সে শাওয়ার নিতে গেলো ওয়াশরুম এ গিয়ে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। মুখে ঠান্ডা পানি ছিটিয়ে কপালের ঘাম মুছে ফেলল।তার চোখে এক অদ্ভুত জ্বালা যেন নিজের মধ্যেই যুদ্ধ চলছে।
শাওয়ার চালু করতেই পানির ফোঁটা গড়িয়ে পড়ল তার ঘাড় বেয়ে ঠান্ডা পানি শরীরে লেগে যেন তার আগুন জ্বলা মনটাকে একটু শান্ত করল।তবু ভেতরে কোথাও অস্থিরতা ইলার হাসি, তার নাচ, আর সেই চোখের দৃষ্টি সব কিছু যেন মাথার মধ্যে প্রতিধ্বনি হয়ে বাজছে।

শাওয়ার শেষে তোয়ালে জড়িয়ে আয়নার সামনে এসে দাঁড়াল আরিয়ান ব্যাগ খুলে নতুন লাল পাঞ্জাবি বের করল পাঞ্জাবির কাপড়টা ছিল মসৃণ চকচকে গলায় সোনালি বোতাম, কলারে হালকা এমব্রয়ডারি।
আরিয়ান ধীরে ধীরে বোতাম লাগাতে লাগল প্রতিটি বোতাম লাগানোর সাথে সাথে তার চোখের দৃষ্টি আরও গভীর হয়ে উঠছিলো। উপরের একটা বোতাম রেখে দিলো খোলা চুল ব্যাকব্রাশ করে নিলো হালকা পারফিউমের স্প্রে করল। আয়নার দিকে তাকিয়ে ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি এঁকে দিলো।
আরিয়ান রেডি হয়ে নিচে নামতেই সবাই একসাথে বলে উঠল“ওয়াও আরিয়ান ভাইয়ের লুকটা কিলার লুক হইছে” আরিয়ান স্টেজের দিকে হেটে আসছে

পরিঃ- আরিয়ান ভাইকে তো পুরো হিরোদের মত লাগছে।
আদিবঃ- বেবি ফোকাস অন মি, শুধু আজকের রাতটা তার পরে অপেক্ষা করো।
আরিয়ান স্টেজে উঠে আদিব আর পরির সামনে গিয়ে বলল,
আরিয়ানঃ- চলো এখন আমার পালা।
আরিয়ানঃ- আদিবের গালে হলুদ লাগিয়ে দিলো, তারপর পরিকে মিষ্টি খাইয়ে দিলো।
কয়কটা ছবি তুলে তারপর ধীরে ধীরে উঠে স্টেজ থেকে নেমে গেলো ভিড় থেকে সরে গিয়ে এক পাশে তাকালো। সবার হাসি, খুশি, উচ্ছ্বাসের ভেতরেও একটা একাকিত্ব আরিয়ানের চোখে ঠিক তখনই দূরে এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা ইলাকে চোখে পড়ল তার। ইলা নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে হাতে একটা ছোট ফুলের প্লেট। আরিয়ান একটু এগিয়ে গেলো মুখে হালকা তাচ্ছিল্যের হাসি এনে বলল

আরিয়ানঃ- ডান্স করতে গিয়ে তো আপনি একদম মাতাল হয়ে গিয়েছিলেন মনে হয়।
ইলা চোখ তুলে তাকালো অবাক হয়ে বলল,
ইলাঃ- আপনি কী বলছেন?
আরিয়ান ঠোঁটে আধো হাসি টেনে বলল,
আরিয়ানঃ- বলছিলাম ডান্সে এত মগ্ন ছিলেন যে কাপড় কোথায় যাচ্ছে সেটা খেয়াল ছিল না আপনার।
ইলা কিছুটা বিরক্ত গলায় বলল,
ইলাঃ- মানে কি বলতে চান আপনি?
আরিয়ান এবার একটু এগিয়ে এসে ফিসফিস করে বলল
আরিয়ানঃ- মানে হচ্ছে আপনার পেটের বিউটি স্পটটা দেখা যাচ্ছিলো। ডান্সের সময় হয়তো ভুলে গিয়েছিলেন আপনি শাড়ি পড়ে ডান্স করছিলেন।

আরিয়ানের কথা শুনে ইলার মুখ একদম লাল হয়ে গেলো চোখ বড় বড় হয়ে উঠলো ইলা নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরলো। হাতের থাকাটা ফেলে দুহাত দিয়ে শাড়ির আঁচলটা আঁট করে ধরল। চোখে অপমান, লজ্জা, আর হৃদস্পন্দনের ধাক্কা একসাথে মিশে গেছে।
একটা শব্দও না বলে ইলা দৌড়ে চলে গেলো সেখান থেকে।ইলার গলার পাশটা কাঁপছে আরিয়ান কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি নিয়ে যেন ওর প্রতিক্রিয়াই তার চাওয়া ছিল। ঠিক তখনই পেছন থেকে এক মিষ্টি কণ্ঠ।
“বাহ আপনাকে তো আজ এই লুকে একদম সিনেমার হিরো লাগছে”
আরিয়ান ধীরে পেছনে ঘুরে তাকালো দেখল রাফিকা দাঁড়িয়ে।সে হাসছে চোখে কৃত্রিম মুগ্ধতা আরিয়ান গম্ভীর গলায় বলল,

আরিয়ানঃ- আপনার প্রশংসার দরকার নেই আমি জানি আমি কতটা সুন্দর।
রাফিকাঃ- তবুও বলতে হলো আপনি চাইলে বিয়ে বাড়ির পুরো মেয়েদের হার্ট অ্যাটাক করিয়ে দিতে পারেন।
আরিয়ানঃ- ভালো হতো যদি আপনি নিজের হার্টটা সামলাতে পারতেন আগে। অন্যের দিকে নজর দেয়ার মতো সময়টা বাঁচিয়ে রাখুন।

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ২৫

রাফিকার মুখ থেমে গেলো সে বিব্রত হয়ে পিছিয়ে গেলো কয়েক পা।আরিয়ান শান্ত গলায় যোগ করল,
রাফিকাঃ- আপনি সব সময় আমার সাথে এভাবে কথা বলেন কেনো। আপনার মনে কি একটু ও মায়া নেই এত সুন্দরী মেয়েটাকে এভাবে কষ্ট দিতে পারলেন আপনি।
আরিয়ানঃ- আমার নীতি খুব সোজা আমি যার তার সাথে সুন্দর করে কথা বলতে পারি না।
এটা বলে আরিয়ান সোজা পাঞ্জাবির পকেটে হাত ঢুকিয়ে হাঁটতে লাগলো তার লাল পাঞ্জাবির ভাঁজে বাতাস দুলছে চোখে সেই অদ্ভুত আগুন

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ২৭