ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৪৮
ছায়া
শাওয়ারের ঝিরঝিরে পানি তখনও দুজনের ওপর পড়ছে। আরিয়ানের বুকের ধুকপুকানি ইলা স্পষ্ট অনুভব করতে পারছে। ইলার ভেজা শরীরের প্রতিটি ভাঁজে যেন এক মায়াবী অস্থিরতা। আরিয়ানের ঘন হয়ে আসা নিঃশ্বাস ইলার ঘাড়ে আছড়ে পড়ছে, যা তাকে শিউরে তুলছে বারবার।
ইলা থরথর করে কাঁপছে তবে সেটা কি কেবল তেলাপোকার ভয়ে নাকি আরিয়ানের এই নিষিদ্ধ অথচ কাঙ্ক্ষিত সান্নিধ্যের আবেশে তা সে নিজেও জানে না। আরিয়ানের হাতের বাঁধন ইলার কোমরে আরও জোরালো হলো, যেন সে কোনোভাবেই এই মায়াবী মুহূর্তটাকে হাতছাড়া করতে চায় না।আরিয়ান ইলার চিবুকটা ধরে মুখটা একটু উঁচু করল। ইলার চোখের পাতায় জমে থাকা পানির বিন্দুগুলো মুক্তোর মতো চিকচিক করছে।
আরিয়ানঃ- তোমাকে হারানোর ভয়টা আমাকে যতটুকু পুড়িয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি পোড়াচ্ছে তোমার এই ভেজা শরীরের ঘ্রাণ।ইলাফুল তুমি কি জানো তুমি আজ কতটা বিপজ্জনক?
ইলা কোনো কথা বলতে পারল না। তার বুকটা ধড়ফড় করছে সে শুধু দেখল আরিয়ানের চোখে এক আদিম তৃষ্ণা, যা তাকে গ্রাস করতে চাইছে।
ইলাঃ- আ…আরিয়ান, হাত ছাড়ুন কেউ চলে আসবে।
আরিয়ান ইলার কোমরে আরও একটু চাপ দিয়ে নিজের সাথে মিশিয়ে নিল। তার কণ্ঠস্বর এখন অনেকটাই ভারী এবং নেশাক্ত।
আরিয়ানঃ- দরজা তো আমি নিজেই ভেঙে ঢুকেছি ইলাফুল। এখানে অন্য কেউ আসার ভয় নেই।ভয় শুধু আমার নিজের ওপর,আমি কি সত্যিই নিজেকে সামলাতে পারব?
আরিয়ান আলতো করে ইলার কপাল থেকে চিবুক পর্যন্ত নিজের নাক ঘষল। ইলা চোখ বন্ধ করে আরিয়ানকে খামচে ধরল। তার সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে। আরিয়ান এবার ইলার চোখের দিকে তাকাল। সেই চোখে আজ কোনো লুকোচুরি নেই, আছে এক তীব্র অধিকারবোধ।আরিয়ান খুব নিচু স্বরে, প্রায় ফিসফিস করে বলল,
আরিয়ানঃ- তুমি আমার স্ত্রী আমার ভালোবাসা কিন্তু তার চেয়েও আগে তুমি একজন মানুষ।
ইলা কথা বলতে পারছিল না। তার বুকের ভেতরটা যেন তোলপাড় হচ্ছে। সে আরিয়ানের চোখের দিকে তাকাল। সেখানে দেখল এক সমুদ্র সমান তৃষ্ণা আর সম্মান। আরিয়ান তাকে শুধু ভোগ করতে চায় না, তাকে অনুভব করতে চায়।
আরিয়ান আবার বলা শুরু করলো
আরিয়ানঃ- আজ যদি তুমি “না” বলো তাহলে আমি এখানেই থেমে যাবো।আর আজ যদি তুমি হ্যাঁ বলো তাহলে আমি তোমাকে এমনভাবে ছুঁবো যেন পৃথিবীর সব অন্ধকার তোমার গা থেকে সরে যায়।
ইলার বুক ধুকপুক করতে লাগল।এই আরিয়ান রাক্ষস না, প্লে-বয় না এটা সেই মানুষ, যে ভয়ংকর আবেগের মাঝেও তাকে নিরাপত্তা দিচ্ছে। ইলা খুব আস্তে আস্তে বলল
ইলাঃ- আপনি… আপনি থামতে পারবেন তো?
আরিয়ান কপাল ঠেকাল ইলার কপালে। আরিয়ানঃ- পারবো কারণ তুমি যদি ভয় পাও তাহলে আমি আমার ভেতরের পশুটাকেও শিকল পরাতে পারি।
ইলাঃ- আমি ভয় পাচ্ছি…কিন্তু আপনাকে আমি বিশ্বাস করি।
এই কথাটুকুই আরিয়ানের জন্য সবচেয়ে বড় অনুমতি।আরিয়ান চোখ বন্ধ করে গভীর নিঃশ্বাস নিল। তারপর খুব ধীরে, খুব যত্নে বলল
আরিয়ানঃ- তাহলে শুনে রাখো ইলাফুল… আজ আমি তোমাকে ছুঁবো না আগুন হয়ে, আমি শুধু ছুঁবো আশ্রয় হয়ে।
ইলা চুপ করে আরিয়ানের বুকে মাথা রাখল।তার হৃৎপিণ্ড দুরুদুরু করছে ভয়, ভালোবাসা, আত্মসমর্পণ সব মিশে একাকার।
ইলাঃ- প্রমিস করুন আমাকে কখনো ছেড়ে যাবেন না।
আরিয়ান মাথা নেড়ে বলল,
আরিয়ানঃ- প্রমিস ইলাফুল কখনো ছেড়ে যাবো না। সোশ্যাল মিডিয়ার শাওন ‘ভয়েজ’ দিয়ে হয়তো অনেকের মন জয় করেছে। কিন্তু বাস্তবের এই আরিয়ান শুধু তোমার মন আর শরীরের সম্মতি চায়। ভালোবাসায় অধিকার থাকে, কিন্তু সম্মানের জায়গাটা তার ওপরে।এখন বলো ইলাফুল আমি কি এগোবো?
ইলা লজ্জায় লাল হয়ে মাথাটা আরিয়ানের কাঁধে লুকিয়ে ফেলল। তারপর খুব অস্ফুট স্বরে বলল,
ইলাঃ- আপনার এই মায়াজালে আমি আজীবন বন্দি হতে চাই আমার ভয়েজ কিং!
এই একটি বাক্যই আরিয়ানের সব বাঁধ ভেঙে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। আরিয়ান এক ঝটকায় শাওয়ারটা বন্ধ করে দিল। পুরো বাথরুমে এখন এক নিস্তব্ধতা, শুধু দুজনের ঘন নিঃশ্বাসের শব্দ।আরিয়ান ইলাকে পাঁজাকোলা করে কোলে তুলে নিল।ইলা ভয়ে তার গলা জড়িয়ে ধরল।
বেডরুমে এসে আরিয়ান ইলাকে সাবধানে বিছানায় শুইয়ে দিল।চাঁদের আলো জানলা দিয়ে এসে ইলার ভেজা মুখে পড়ছে, যা তাকে এক অপার্থিব সুন্দরী করে তুলেছে। আরিয়ান ইলার দুপাশে হাত রেখে ইলার ওপর ঝুঁকে এল।
আরিয়ানঃ- জানো ইলাফুল মানুষ বলে চাঁদ নাকি সুন্দর। কিন্তু আজ বুঝতে পারছি, আমার বিছানায় শুয়ে থাকা এই মানবী চাঁদের চেয়েও হাজার গুণ বেশি স্নিগ্ধ। আজ তোমার ওই পেটের নিচের ছোট্ট তিলটা থেকে শুরু করে তোমার হৃদপিণ্ডের প্রতিটি স্পন্দন… সব আমার হবে একদম ব্যক্তিগত ভাবে।
ইলা কাঁপা হাতে আরিয়ানের গাল ছুঁয়ে দিল। ইলাঃ- আপনি বড্ড বেশি কথা বলেন।
আরিয়ান মুচকি হেসে ইলার কপালে দীর্ঘ এক চুমু খেল। তারপর ধীরে ধীরে তার ঠোঁট নেমে এল ইলার কানের লতিতে। সেখানে কামড় দিয়ে ফিসফিস করে বলল,
আরিয়ানঃ- কথা তো সবে শুরু তিলবতী, আজ রাতটা তো শুধু আমাদের অনুভবের গল্পের জন্য বরাদ্দ।
জানলা দিয়ে আসা ম্লান চাঁদের আলোয় এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ইলার ভেজা শরীর থেকে তখনও হালকা বাষ্প উড়ছে। আরিয়ান তার দুপাশে হাত রেখে ইলার ওপর ঝুঁকে আছে। তার চোখ জোড়া শান্ত কিন্তু তার গভীরে এক অদ্ভুত নেশা।আরিয়ান ইলার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
আরিয়ানঃ- সবাই বলে মায়াজাল খুব বিপজ্জনক একবার জড়িয়ে পড়লে আর বের হওয়া যায় না। আজ আমি তোমাকে সেই মায়াজালে আজীবনের জন্য বন্দি করব ইলাফুল।তুমি কি তৈরি তো আমার এই অন্ধকারের অংশ হতে?
ইলা কোনো কথা বলল না শুধু দুই হাতে আরিয়ানের কাঁধ শক্ত করে আঁকড়ে ধরল। আরিয়ান ধীরে ধীরে ইলার ভেজা ঘাড়ের ওপর নিজের ঠোঁট ছোঁয়াল। ইলা শিউরে উঠে চোখ বন্ধ করল। এক তীব্র শিহরণ তার শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে গেল।
আরিয়ান আলতো করে ইলার কানের লতিতে ছোট করে একটা কামড় দিল। ইলা ব্যথায় আর সুখে এক অদ্ভুত শব্দ করল। আরিয়ান থামল না। সে ইলার চিবুক ধরে মুখটা নিজের দিকে ফেরাল।
আরিয়ানঃ- আজ আমি কোনো কথা বলব না, শুধু আমার স্পর্শ তোমাকে বুঝিয়ে দেবে আমি তোমাকে কতটা চাই।
আরিয়ানের হাত এবার ইলার কোমরের সেই বিখ্যাত তিলটির দিকে এগিয়ে গেল। ইলা আরিয়ানের হাত চেপে ধরল। তার বুকটা হাপরের মতো ওঠানামা করছে।
ইলাঃ- আ…আরিয়ান…
আরিয়ান মুচকি হাসল সেই হাসিতে এক অদ্ভুত আভিজাত্য আর অধিকার। সে ইলার হাতের বাঁধন আলগা করে দিয়ে তার হাতের তালুতে একটা গভীর চুমু খেল।
আরিয়ানঃ- ভয় পাচ্ছ কেন আমি তো বলেছি, আজ তোমার প্রতিটি অনুভূতির মালিক আমি। আমি তোমাকে ভেঙে আবার নতুন করে গড়ব। আজ রাতে আমরা দুজন থাকব না,থাকবে শুধু একটা প্রাণ আর একটা স্পন্দন।
আরিয়ান এবার আরও একটু নিচে নেমে এল। ইলার গলার কাছে তার উষ্ণ নিঃশ্বাস আছড়ে পড়ছে। সে খুব ধীরে ধীরে ইলার টাওয়াল টা সরিয়ে দিল। ইলা লজ্জায় আর আবেশে নিজেকে আরও একটু গুটিয়ে নিল, কিন্তু আরিয়ান তাকে ছাড়ল না। সে ইলার কপালে দুই গালে আর সবশেষে তার ঠোঁটের খুব কাছে এসে থামল।
আরিয়ান এক মুহূর্তের জন্য ইলার চোখে চোখ রাখল।দেখল সেখানে শুধু এক আকাশ ভালোবাসা আর আত্মসমর্পণ। আরিয়ান আর দেরি করল না।সে তার ঠোঁট দিয়ে ইলার ঠোঁট জোড়া অধিকার করে নিল।এক দীর্ঘ গভীর আর তৃষ্ণার্ত চুমু।
যেন বহু বছরের তৃষ্ণা আজ এই এক মুহূর্তেই মিটিয়ে নিতে চায়।ইলা অনুভব করল সে যেন এক অতল সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে, যেখানে কোনো কূল নেই। আরিয়ানের হাতের আঙুলগুলো ইলার চুলে বিলীন হয়ে গেছে। ঘরের প্রতিটি কোণ আজ তাদের এই রোমান্টিক ভালোবাসার সাক্ষী হয়ে রইল। বাইরের পৃথিবীটা যেন থেমে গেছে, শুধু এই ঘরের ভেতর চলছে এক প্রেমের আদিম লড়াই।
অনেকক্ষণ পর আরিয়ান মুখ তুলে ইলার দিকে তাকাল।ইলার ঠোঁট দুটো এখন আরক্ত, চোখে নেশার ঘোর। আরিয়ান তার কপালে কপাল ঠেকিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,
আরিয়ানঃ- আজ থেকে তুমি আমার অস্তিত্বের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে গেলে ইলাফুল আমার ‘ভয়েজ’ হয়তো দুনিয়া শুনেছে, কিন্তু আমার ‘হৃদস্পন্দন’ আজ থেকে শুধু তোমার শোনার জন্য সংরক্ষিত।
ইলা আরিয়ানের বুকে মুখ লুকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
ইলাঃ- আমি আপনার ছিলাম আছি আর থাকব। আপনার এই মায়াজাল থেকে আমি কখনোই মুক্তি চাই না।
আরিয়ান মৃদু হাসল তারপর ধীরে ধীরে নিচে নামল প্রতিটা চুমু থেমে থেমে যেন প্রতিটা স্পর্শকে আলাদা করে স্মৃতিতে লিখে রাখছে।
আরিয়ানঃ- তোমার গালের এই লালচে ভাবটা আমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।
ইলা চোখ বন্ধ করে ফিসফিস করে বলল
ইলাঃ- তাহলে আরও লজ্জা দিন আমাকে… যেন আমি কখনো এই লজ্জা থেকে বের না হতে পারি।
আরিয়ানের ঠোঁট এবার ইলার ঠোঁটে এসে থামল। না চুমু খেল না শুধু ছুঁয়ে রইল। দুজনের ঠোঁটের মাঝে একটা অদৃশ্য কাঁপুনি।
আরিয়ানঃ- আমি তোমাকে চুমু খেতে চাই না ইলাফুল…আমি তোমার ঠোঁট থেকে তোমার সব ভয়, সব কষ্ট, সব অভিমান চুষে নিতে চাই।যেন তোমার ঠোঁটে শুধু আমার নাম থাকে।
ইলা আর সহ্য করতে পারল না সে নিজেই মাথা তুলে আরিয়ানের ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল।প্রথমে আলতো, তারপর গভীর। দুজনের নিঃশ্বাস এক হয়ে গেল।আরিয়ানের হাত ইলার পিঠ বেয়ে নামতে লাগল ধীরে, খুব ধীরে।
যেন প্রতিটা ইঞ্চি জায়গা আলাদা করে অনুভব করছে। আরিয়ান ঠোঁট সরিয়ে ইলার কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল,
আরিয়ানঃ- তোমার হৃৎপিণ্ডের এই দ্রুত ধুকপুক শব্দ এটা আমার জন্য সবচেয়ে সুন্দর সঙ্গীত। আমি চাই এটা সারাজীবন আমার কানে বাজুক।
ইলা আরিয়ানের বুকে হাত রেখে বলল,
ইলাঃ- আপনারটাও তো একই রকম আমি শুনতে পাচ্ছি।
আরিয়ান হাসল তারপর ইলার ঘাড়ে মুখ গুঁজে দিল।গভীর শ্বাস নিল ইলার গা থেকে শাওয়ার জেল আর তার নিজের গন্ধ মিশে একটা মাদকতা তৈরি করেছে।
আরিয়ানঃ- তুমি জানো না তোমার এই শ্যাম্পুর স্মেল আমাকে পাগল করে দেয়। আমি যেন তোমার মধ্যে হারিয়ে যেতে চাই। পুরোপুরি কোনো অংশ বাকি না রেখে।
ইলা কাঁপা গলায় বলল,
ইলাঃ- তাহলে হারিয়ে যান আমিও তো আপনার মধ্যে হারাতে চাই।
আরিয়ান এবার তার টাওয়েল খুলে ফেলল। দুজনের মাঝে আর কোনো বাধা রইল না। আরিয়ান ইলার কোমর ধরে নিজের আরও কাছে টেনে নিল। তার চোখে এখন আর দুষ্টুমি নেই শুধু একটা গভীর প্রায় অন্ধকার ভালোবাসা।
আরিয়ানঃ- আমি তোমাকে ছুঁতে চাই এমন ভাবে যেখানে শুধু আমার নাম লেখা থাকবে।
ইলা চোখ বন্ধ করে বলল,
ইলাঃ- সব জায়গা আপনার সবকিছু আপনার, আমি আপনার পুরোপুরি।
আরিয়ান ইলার কপালে চুমু খেল। তারপর ধীরে ধীরে নিচে নামতে লাগল।ইলার গলা, কলারবোন, বুকের উপরের অংশ প্রতিটা জায়গায় থেমে থেমে চুমু দিতে লাগলো তার ঠোঁট যেন প্রতিটা স্পর্শে প্রার্থনা করছে।
আরিয়ানঃ- তুমি আমার জন্য সৃষ্টি হয়েছ ইলাফুল… এই শরীর, এই আত্মা, এই হৃদয় সবকিছু আমার জন্যই।আর আমি তোমার জন্য চিরকাল এর জন্য।
ইলা আরিয়ানের চুল ধরে টেনে নিজের কাছে আনল।দুজনের ঠোঁট আবার মিলল। এবার আর আলতো নয় গভীর, তীব্র, প্রায় হিংস্র। আরিয়ানের হাত ইলার শরীরের প্রতিটা বাঁকে ঘুরে বেড়াতে লাগল। ইলা কাঁপছে, কিন্তু সে আর লুকোচ্ছে না।সে নিজেই আরিয়ানের কোমর জড়িয়ে ধরল নিজেকে তার সাথে মিশিয়ে দিল।
ইলাঃ- আমাকে আপনার করে নিন… এমনভাবে যেন আমি আর কখনো নিজেকে আলাদা ভাবতে না পারি।
আরিয়ান চোখ বন্ধ করে বলল,
আরিয়ানঃ- তুমি ইতিমধ্যেই আমার হয়ে গেছো লিটিলহার্ট এখন শুধু বাকিটা আমাদের দুজনের মিলন।আমি তোমাকে কখনো ব্যথা দিতে চাই না।লিটিলহার্ট ব্যথা পাচ্ছো? যদি থামতে হয় বলো আমি থেমে যাবো।
ইলা মাথা নাড়ল তার আঙুল আরিয়ানের পিঠে গেঁথে গেল।
ইলাঃ- থামবেন না…আমি চাই আপনি আমার সাথে থাকুন।
দুজনের শরীর এক হয়ে যাওয়ার পরেও আরিয়ান থামল না সে ইলাকে ছাড়ল না। বরং আরও গভীরে আরও কাছে টেনে নিল। তার নড়াচড়া ধীর হয়ে এল যেন প্রতিটা সেকেন্ডকে আলাদা করে স্বাদ নিচ্ছে। প্রতিটা ধাক্কা এখন আর শুধু শারীরিক নয়,যেন সে ইলার আত্মার ভেতরে ঢুকে পড়তে চাইছে।আরিয়ানের ঠোঁট ইলার কানের কাছে এসে থামল।গলা ভারী, ফিসফিস করে বলল,
আরিয়ানঃ- তুমি আমার মনের ভেতরে ঢুকে গেছ ইলাফুল…এখন আমি তোমাকে ছাড়তে পারব না কখনো না। যদি কখনো চেষ্টা করি, তাহলে আমার হৃদয়টা নিজেই ফেটে যাবে।
ইলা তার পিঠে নখ দিয়ে আঁচড় কাটল। কষ্ট নয়,শুধু আরও কাছে টানার জন্য। ইলার চোখ বন্ধ কিন্তু মুখে একটা অদ্ভুত শান্তি।
ঘরের চারপাশ নিস্তব্ধ হলেও আরিয়ান আর ইলার মাঝে বয়ে যাচ্ছিল এক উত্তাল ঝড়। আরিয়ান আজ যেন অন্য এক মানুষ। তার চোখে কোনো কোমলতা নেই, আছে এক আদিম নেশা আর তীব্র তৃষ্ণা। ইলা বারবার তার সেই নেশার কাছে হার মানছে। আরিয়ান ইলার প্রতিটি জায়গা যেন নিজের করে নিচ্ছে।
আরিয়ানের স্পর্শে ছিল এক অদ্ভুত রুক্ষতা আর ভালোবাসার সংমিশ্রণ। কখন যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হয়ে গেল তার হিসাব কারো কাছে ছিল না।আরিয়ান যেন ইলাকে এক মায়াবী কুহকে বন্দি করে রেখেছিল। তার একেকটা চুমু ছিল দহনের মতো, যা ইলার শরীরের প্রতিটি রন্ধ্রে কাঁপন ধরিয়ে দিচ্ছিল।
আরিয়ানের এই রূপের সামনে ইলা ছিল এক অসহায় ইলাফুল, যে বারবার নিজেকে বিলীন করে দিচ্ছিল তার প্রিয় ‘ভয়েজ কিং’ এর অধিপতির কাছে। আরিয়ান বারবার ফিসফিস করে বলছিল,
আরিয়ানঃ- “ইলাফুল” তোমাকে এই অন্ধকারে আমার বাহুবন্দি করে রাখাটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় নেশা।আমি তোমাকে এত গভীরে নিয়ে যাবো যেখান থেকে ফেরার কোনো পথ থাকবে না।
ইলা আর কথা বলতে পারছিল না।তার শরীর কাঁপছে, চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে কষ্ট নয়, অতিরিক্ত অনুভূতির কারণে।সে শুধু আরিয়ানের গলা জড়িয়ে ধরে রইল। তার মনে হচ্ছিল এই মুহূর্তে সে আর নিজের নয়। সে পুরোপুরি আরিয়ানের হয়ে গেছে। অনেকক্ষণ পর, যখন দুজনেই একসাথে চরমে পৌঁছাল, আরিয়ান তখনো থামল না। সে ইলাকে জড়িয়ে ধরে রইল। তার শরীরের ওপরে শুয়ে রইল কিন্তু ওজন দিয়ে চাপ দিল না। শুধু তার হাত ইলার চুলে বুলিয়ে যেতে লাগল।
সেই উত্তাল ঝড়ের অবসান শেষ হলো ভোরের আলো তখনো ফোটেনি। রুমের ভেতর এক স্নিগ্ধ নিস্তব্ধতা। ইলা আরিয়ানের বুকের সাথে মিশে শুয়ে আছে। তার সারা শরীর অবশ হয়ে আসছে, এক অদ্ভুত ক্লান্তি আর প্রশান্তি ঘিরে ধরেছে তাকে। তার ফর্সা কাঁধ আর গলায় আরিয়ানের গভীর ভালোবাসার চিহ্নগুলো উজ্জ্বল হয়ে ফুটে উঠেছে। ইলার মনে হচ্ছে, আজ সে পূর্ণতা পেয়েছে। প্রথমবার আরিয়ানের এত কাছাকাছি যাওয়ার অনুভূতিটা ইলার কাছে একদম নতুন। তার হৃদপিণ্ড এখনো ধীরলয়ে কাঁপছে। লজ্জায় সে আরিয়ানের দিকে তাকাতে পারছে না,
শুধু চোখ বন্ধ করে আরিয়ানের গায়ের সেই পরিচিত পারফিউম এর ঘ্রাণটা নিচ্ছে। হঠাৎ আরিয়ান ইলার কপালে একটা ভেজা চুমু খেল।ইলা চোখ খুলে দেখল আরিয়ান গভীর মায়ায় তার দিকে তাকিয়ে আছে।সেই আগ্রাসী আরিয়ান এখন এক মুহূর্তেই নরম হয়ে গেছে।
আরিয়ানঃ- খুব কষ্ট হচ্ছে ইলাফুল??
ইলা শুধু মাথা নেড়ে না বলল,কিন্তু তার চোখের কোণে জমে থাকা হালকা পানি অন্য কথাই বলছে আরিয়ান বুঝতে পারল। সে আলতো করে ইলার গাল থেকে চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে তাকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
আরিয়ানঃ- “আই অ্যাম সরি লিটিলহার্ট আমি হয়তো একটু বেশিই ডার্ক হয়ে পড়েছিলাম।
আসলে তোমাকে হারানোর ভয়টা আমাকে বড্ড বেশি অস্থির করে তুলেছিল। বিশ্বাস করো,তোমাকে এই ভালোবাসার দাগে সাজিয়ে রাখাটা আমার এক ধরণের অধিকারবোধ।
আরিয়ান বিছানা থেকে উঠে ইলার জন্য এক গ্লাস পানি নিয়ে এল। একটা প্যাইন কিলার নিয়ে ইলাকে নিজের হাতে প্যাইন কিলার আর পানি খাইয়ে দিয়ে সে ইলার কপালে হাত রাখল।
আরিয়ানের এই ‘কেয়ারিং’ রূপটা দেখে ইলার সব ক্লান্তি এক নিমিষেই ধুয়ে গেল। আরিয়ান আলতো করে ইলার পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে শুরু করল।তার আঙুলের ডগাগুলো ইলার শরীরে এক অদ্ভুত আরামদায়ক অনুভূতি দিচ্ছিল।
আরিয়ানঃ- এবার একটু ঘুমাও ইলাফুল। আজকের সূর্যটা আমাদের জন্য নতুন এক পৃথিবী নিয়ে আসবে। যেখানে কোনো মায়াজাল থাকবে না,থাকবে শুধু আমি আর তুমি।
ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৪৭
আরিয়ান ইলার সারা গায়ে কম্বলটা টেনে দিয়ে তাকে নিজের বাহুবন্দি করল ইলা আরিয়ানের বুকে মাথা রেখে এক নিবিড় আশ্রয়ের সন্ধান পেল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্লান্তি আর প্রশান্তিতে ইলার চোখ বুজে এল। আরিয়ান তখনো ইলার কপালে ছোট ছোট চুমু এঁকে দিচ্ছে, যেন সে তার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদটিকে আগলে রাখছে। আজকের রাতটা আরিয়ানের ডার্ক রোমান্টিসিজম আর ইলার নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের এক সাক্ষী হয়ে রইল।
আরিয়ান সিলিং এর দিকে তাকিয়ে হেসে বলল
আরিয়ানঃ- তেলাপোকা তুমি ধন্য ইলাকে আমার কাছে আনার জন্য।
