Home ভিলেন ক্যান বি লাভার ভিলেন ক্যান বি লাভার পর্ব ২৭

ভিলেন ক্যান বি লাভার পর্ব ২৭

ভিলেন ক্যান বি লাভার পর্ব ২৭
মিথুবুড়ি

‘এলিজাবেথের শ্বাস গলায় এসে আটকে যাচ্ছে। বুকের ভেতর অস্থিরতার ঢেউ, শরীর জুড়ে অজানা শিহরণ। কয়েক মুহূর্ত আগের স্মৃতির ছোঁয়া এখনও ত্বকের গভীরে দাগ কেটে বসে আছে। রিচার্ডের সেই ভারী স্বর, এলোমেলো গভীর স্পর্শ, সবকিছু মনে হলেই শরীর শক্ত হয়ে আসছে ওর। নিজেকে কোনো মতে ছাড়িয়ে পালিয়ে এসেছে এলিজাবেথ। কিন্তু এখনো মনে হচ্ছে চারপাশে রিচার্ডের উপস্থিতি। হন্তদন্ত হয়ে ওয়াশরুমের দিকে ছুটল এলিজাবেথ। মুখে পানি দিয়ে কিছুটা স্বাভাবিক হওয়া দরকার। কিন্তু ওয়াশরুমের দরজার সামনে পৌঁছাতেই পা থমকে গেল। ললাটে গভীর ভাঁজ। তাকবীরকে এমন অস্বাভাবিক অবস্থায় দেখে এলিজাবেথের চোখে ধীরে ধীরে কৌতূহল সংকুচিত হলো। গভীর অথচ স্থির কণ্ঠে বলল,
“ভালো মানুষ, এটা আপনি কী করছেন?”
‘তাকবীর চমকে পেছন ফিরে তাকাল। আকষ্মিক এলিজাবেথের উপস্থিতি ওর ভিতর কাঁপন ধরালো।এলিজাবেথ দু’কদম এগিয়ে এসে ভারী গলায় আবারো জিজ্ঞেস করলো,
“কী হলো বলুন? আর লোকটা আপনার ওপর এভাবে পড়ে আছে কেন?”
‘তাকবীর গলায় শুষ্ক ঢোক গিলে নিল। এমন মুহূর্তে এলিজাবেথের উপস্থিতি তাকে আরও তটস্থ করে তুলছে। চোখের দৃষ্টি কেঁপে উঠল এক মুহূর্তের জন্য। লম্বা শ্বাস টানার মাধ্যমে নিজেকে ধাতস্থ করে নিল। পরপর অতি আন্তরিক স্বরে বলল,

“আরে উনার সুগার ফল করেছে। আমিও এখান দিয়েই যাচ্ছিলাম। দেখলাম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে৷ এসে ধরার সাথে সাথেই সেন্সলেস হয়ে গেল। ওয়াশরুমে যাবে তো, যাও! আই ক্যান ম্যানেজ।”
‘এলিজাবেথ আর কথা বাড়াল না। এই মুহূর্তে নিজের ভেতরের অস্থিরতা মেটানোর জন্য ওর একা থাকা দরকার। দ্রুত ঘুরে ভিতরে চলে গেল এলিজাবেথ। দরজা বন্ধ হতে না হতেই তাকবীরের মুখে ফুটে উঠল স্বস্তির ছাপ, তবে পরমুহূর্তেই তা বদলে গেল। চেহারায় ফুটে উঠল পৈশাচিক এক নৃশংসতার ছায়া। পকেট থেকে দ্রুত আরেকটা ইনজেকশন বের করে কোনো ধরনের দ্বিধা না করেই রুমান নাগরিকের ঘাড়ে তা পুশ করে দিল ভয়ানক আগ্রাসী ভঙ্গিতে। লোকটা মৃদু গোঙানির শব্দ করল অচেতন অবস্থায়, কিন্তু তাকবীর এক সেকেন্ডও নষ্ট করল না। মেল ওয়াশরুমের দরজা খুলে লোকটাকে ধাক্কা মেরে ঢুকিয়ে দিল ভেতরে। শ্যামবর্ণের চোয়াল রাগের রেখায় কাঁপছে তাকবীরের। দরজা বন্ধ করে দাঁত চেপে একবার গা ঝেড়ে স্যুট ঠিক করে নিল তাকবীর। হঠাৎই এক অস্বস্তিকর শব্দ ভেসে এলো—শিস বাজানোর শব্দ। তাকবীর মুহূর্তেই ঘুরল, ক্ষুধার্ত সিংহের মতো তীক্ষ্ণ চোখে। রিচার্ডের অধর কোণে তার সেই পরিচিত বক্র হাসি। শীতল অথচ বিদ্রূপাত্মক। পকেটে হাত ঢুকিয়ে শিস বাজাতে বাজাতে এদিকেই আসছে সে। কোনো তাড়াহুড়ো নেই, যেন এটাই তার মঞ্চ। একেবারে তাকবীরের সামনে এসে সটান দাঁড়িয়ে পড়ল রিচার্ড।
“আসল রূপ তবে বেরিয়ে-ই এলো।”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

‘তাকবীর নিশ্চুপ। ওর অগ্নিদৃষ্টি রিচার্ডের চওড়া তামুকে বিদ্ধ করছে। দু’হাত শক্ত করা মুষ্টিবদ্ধ, ভেতরের ক্রোধ নিয়ন্ত্রণের শেষ সীমানায়। রিচার্ড আবারও সেই বিদ্রূপ মাখা হাসি দিল, যেন আগুনে ঘি ঢালছে। অতঃপর মুহূর্তেই বদলে গেল রির্চাডের অবয়ব। ঠোঁটের কোণ বেঁকে গিয়ে এক ভয়ংকর রূপ ধারণ করল। চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,
“ক্যালিফোর্নিয়াতে তুই-ই আমার গাড়িতে বোমা বসিয়েছিলি। অ্যালেক্সকে তুই-ই আমার ব্যাপারে সবকিছু জানিয়েছিলি। ভেবেছিলি, অ্যালেক্স আমাকে সহজেই আমাকে শেষ করে দেবে। কিন্তু অ্যালেক্স তা না করে এলিজাবেথের উপর হামলা চালাল—আমার উপর বদলা নেওয়ার জন্য। আর সে জন্য তুই অ্যালেক্সকেও খুন করেছিস, তাই না? সেদিন মলের সেই ছেলেটাকেও তুই খুন করেছিলি, সাথে আমার ক্যাসিনোতে আগুন লাগানো সব তোর-ই কাজ, এম আই রাইট?”

‘তাকবীর এবার কোনো ভণিতা করল না। রিচার্ডের চোখে চোখ রেখে রুষ্ট কণ্ঠে চিবিয়ে চিবিয়ে জবাব দিল,
“হ্যাঁ, সব আমিই করেছি। আমার এলোকেশীর দিকে হাত বাড়ানোর সাহস যারা দেখাবে, তাদের এভাবেই শাস্তি দিব আমি। অ্যালেক্সকে যেমন ওর বাড়িতে গিয়ে মেরেছি, আজ যেমন এই লোকটাকে শেষ করলাম, তোকেও তার চেয়েও ভয়ংকর মৃত্যু দেব। ভাবিস না, তোকে ছেড়ে দেব।”
‘রিচার্ড এবার তাকবীরের উপর খানিকটা ঝুঁকল। বিদ্ঘুটে এক হাসি খেলে গেল ওষ্ঠপুটে। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“বা*ল ভিজিয়ে রেখেছি। পারলে ছিড়ে দেখাস।”
“তাকবীর দেওয়ানের হাত পূর্ব থেকেই খুব শক্ত,ভেজানোর প্রয়োজন পড়বে না৷”

‘তৎক্ষণাৎ হনহনিয়ে বেরিয়ে গেল তাকবীর। রিচার্ড তাকিয়ে রইল তাকবীরের যাওয়ার পথে। ঠোঁটের কোণে রহস্যময় এক হাসি। সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা ইতিহাস, প্রতিশোধের তৃষ্ণা। ক্যালিফোর্নিয়াতে রিচার্ডের ওপর যে হামলা হয়েছিল, তা আর কেউ নয়, তাকবীর নিজেই করিয়েছিল। এমনকি রিচার্ডের অবস্থানের খবরও কৌশলে অ্যালেক্সের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল তাকবীর। তবে অ্যালেক্স যে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে এলিজাবেথকে আক্রমণ করবে, তা তাকবীরের কল্পনার বাইরে ছিল। এই ঘটনার ফলেই অ্যালেক্সের মৃত্যু হয়। সেদিন রিচার্ড নিজে অ্যালেক্সকে মারতে পারত, কিন্তু তার আগেই তাকবীরের লোক কাজ সেরে ফেলে। সেদিন মলে যে ছেলে ইচ্ছাকৃতভাবে এলিজাবেথকে ধাক্কা দিয়েছিল এবং পরবর্তীতে আকস্মিকভাবে মারা যায়, সেখানেও তাকবীরেরই হাত ছিল। রিচার্ডের ক্যাসিনোগুলোর পরপর বিস্ফোরণও তাকবীরের পরিকল্পনারই অংশ ছিল। এসব বিষয়ে রিচার্ড আগে থেকেই জানত, তবে চুপ ছিল,যার পিছনেও লুকিয়ে আর রিচার্ডের গুপ্ত রহস্যের ফাঁদ।

‘কিন্তু আজ, ডান্স ফ্লোরে একজন রোমান নাগরিক এলিজাবেথের কোমরে ইচ্ছাকৃত ভাবে হাত রেখেছিল, যা তাকবীরের চোখ এড়ায়নি। এলিজাবেথ হট্টগোলের ভিড়ে বিষয়টা খেয়াল না করলেও, তাকবীরের রাগ ক্রমশ তীব্র হচ্ছিল। আর সেই রাগের ফলেই সামান্য ভুলের জন্য মৃত্যু নামক কঠিক শাস্তি পেতে হলো। তবে আরেকটি সত্য রিচার্ডের অজানা এখনো। যে থানায় এলিজাবেথকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং যে অফিসার তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়েছিল, সেই পুরো থানায় এখন আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। এর পেছনের মাস্টারমাইন্ডও আর কেউ নয় তাকবীর নিজেই। শান্ত মস্তিষ্কের আড়ালে থাকা সাইকো মস্তিষ্ক একে একে করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল, যারা যারা তার শখের নারীর দিকে হাত বাড়িয়েছিল। রিচার্ডের কোনো পদক্ষেপই ছিল না তাকবীরের অজানা। তবে তাকবীর সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তার সুক্ষ্ম মস্তিষ্ক জানে কৌশলে কিভাবে, কি করতে হয়। প্রতিশোধের এই খেলায় তাকবীর নিজের চাল দিয়ে গেছে একের পর এক, আর রিচার্ড তা জানলেও সেই খেলায় আপাতত দর্শক হয়ে থাকতেই পছন্দ করেছে। যেটাও এক রহস্য_কিন্তু এই দ্বন্দ্বের শেষ কোথায়?

“এই ডাস্টবিন কুমারী।”
‘পরিচিত কণ্ঠে স্বাভাবিকভাবেই পিছন ফিরে এলিজাবেথ। তবে এই অদ্ভুত নামকরণের জন্য ভ্রুদ্বয়ের মাঝে তীব্র ক্রোধের চিহ্ন। দাঁত কেলিয়ে হাসতে থাকা লুকাসের দিকে তাকিয়ে ঝাঁঝালো স্বরে বলল,
“আপনি আমাকে এটা কি নামে ডাকলেন?”
‘লুকাসের নিরুদ্বেগ ভাবে বিলম্বহীন জবাব,” ডাস্টবিন কুমারী।”
‘এলিজাবেথ ওর দাঁত দাঁতের সাথে চেপে ধরে, চাপা স্বরে বলল, “আমাকে এই অদ্ভুত নামে ডাকার মানে কি লোকা?”
‘লুকাসের সরু গলার জবাব,”কারণ তোমার রুচি খারাপ তাই। আমার ফুলের মতো বসকে রেখে গিয়ে কিনা একটা ডাস্টবিন বেছে নিয়েছ, ছ্যাৎ।”

‘ঝাঁঝালো থেকে ঝাঁঝালো হলো এলিজাবেথের কণ্ঠস্বর,
“আপনার ঐ খুনি বস যদি ফুল হয়, তবে ফুলের স্নিগ্ধতার সংজ্ঞা পাপিষ্ঠ সংজ্ঞায় পরিণত হবে।”
‘খুব গায়ে লাগল লুকাসের। চোখ রাঙানি দিয়ে উল্টো ঘুরে হাঁটা দিল। পিছন থেকে ডেকে উঠল এলিজাবেথ।
“কোথায় যাচ্ছেন লোকা?”
‘লুকাস গ্রীবা বাঁকিয়ে পিছন তাকাল। ঝাঁঝ দেখিয়ে গমগমে গলায় বলল,”জাহান্নামে যাচ্ছি, যাবে?”
‘লুকাসের রাগের কারণ আন্দাজ করতে পেরে ঠৌঁট কামড়ে হাসল এলিজাবেথ। বলল,
“হ্যাঁ চলেন আপনাকে এগিয়ে দিয়ে আসি৷”
‘বেচারা লুকাস আর কোনো উত্তর দিল না। তপ্ত শ্বাস ফেলে চলে গেল। এই মেয়ে দুর্দান্ত বদ। ভরা পার্টিতে এর সাথে লেগে নিজের মান সম্মান খোয়ানোর কোনো মানে হয় না। যতই হোক সে একজন সম্মানিত ব্যক্তির বডিগার্ড। লুকাসের তরফ থেকে আর কোনো জবাব না পেয়ে বিজয়ের হাসি দিল এলিজাবেথ। খিলখিলিয়ে হাসতে লাগল৷ তখনই ওর পিছন থেকে ভেসে আসল, পরিচিত সেই কোমল স্বর,

“সুইটি।”
“ডার্লিং।”
‘এলিজাবেথ পিছন ফিরতে না ফিরতেই ফিক করে হেসে দিল তাকবীর। হাসল এলিজাবেথ নিজেও, পা বাড়িয়ে তাকবীরের নিকটে গিয়ে দাঁড়ালো। তাকবীরের গভীর চোখ দুটো আশ্লেষে জরিয়ে রেখেছে এলিজাবেথের পা থেকে মাথা পর্যন্ত৷ হঠাৎ দু’জনের চোখাচোখি হলো। সহসাই এক উজ্জ্বলিত শিখা প্রজ্জ্বলিত হলো ভিতরে তাকবীরের৷ এলিজাবেথ ওর ভ্রুজোড়া খানা উঁচিয়ে বলল,
“কি ব্যাপার?”
‘তাকবীর স্মিত হাসল,একই ভাবে বলল,”কি ব্যাপার?”
‘এলিজাবেথ ভেংচি কেটে অপরিচিতদের মতো ভাব নিয়ে সরু স্বরে বলল,” সুন্দরী মেয়ে দেখলেই পিছন নিতে হয়?”
‘তাকবীর ঠোঁট কামড়ে ভ্রু গুছিয়ে দেখল এলিজাবেথকে ৷ অতঃপর কাইকুঁই করে অযথা মাথা চুলকাতে চুলকাতে রিনরিনে আওয়াজে বলে,

“কি আর করবো মেয়েটা এতো সুন্দর যে,পিছু না নিয়ে পারি না।”
‘এলিজাবেথ দু-হাত বুকে ভাঁজ করে রেখে, গম্ভীর গলায় বলল,” তা এভাবে আর কয়জন মেয়েকে চোখে চোখে রাখা হচ্ছে শুনি? এ পর্যন্ত কয় ঘাটের পানি খাওয়া হয়েছে?”
‘তাকবীরের মুখটা এমন হলো যেন ওর মাথায় স্বয়ং আকাশ ভেঙে পড়েছে। চোখ দুটো অবলীলায় বেরিয়ে যাবে কোটর থেকে। হাইহুঁতাশের স্বরে বলতে থাকল,
“আস্তাগফিরুল্লাহা রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বি ওয়া আতুবু ইলাইহি। এক গ্লাস পানি খেতে পারি না, আর তুমি বলছো কয় ঘাটের পানি খেয়েছি। ছিঃ এলোকেশী ভুলে যাবে না আমি একজন সম্মানিত মিনিস্টার। আমি মেয়েদের পিছনে কি ঘুরব, বরংচ মেয়েরা আমার পিছনে লাইন দেই। বলে আমি গভীরের শাহরুখ খান ভার্শন।”
‘এলিজাবেথের কণ্ঠনালী বেয়ে হাসির উদগীরণ ঘটতে থাকল ঠৌঁটে। তবে এলিজাবেথ হাসি চেপে নিল। ভেংচি কেটে রাশভারি আওয়াজে বলল,

“ইসসসস!! আপনি গরীবের শাহরুখ খান হলে আমিও বাংলা বাজারের ক্যাটরিনা।”
‘ বাক্য শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ফিক করে হেসে দিল দু’জন। আশেপাশের অনেকেই বিহ্বল হয়ে চেয়ে দেখছিল ওদের প্রাণখোলা হাসি, শুধু একজন বাদে। তার চোখে ছিল ধ্বংসযজ্ঞ আগুনের লেলিহান। ক্রোধে মটমট করছিল ধারালো চোয়াল। হাসির মাঝেই তাকবীরের ফোনে কল আসে। সঙ্গে সঙ্গে অবয়বের আভা পরিবর্তন হয়ে গেল তাকবীরের। চেহারায় চিন্তার ছাপ স্পষ্ট।
“এলোকেশী এখানেই দাঁড়াবে নড়বে না ওকে? আমি কল রিসিভ করে আসছি৷”

‘এলিজাবেথ নিরবে মাথা নাড়ালো। তাকবীর ধীর পায়ে সুইমিং পুলের দিকে যেতে শুরু করল। পুলের চারপাশে মানুষের ভিড় তুলনামূলক কম। এলিজাবেথ জায়গায় দাঁড়িয়ে চারপাশে তাকাতে থাকে। হঠাৎই ওর চোখ পড়ে একজোড়া সমুদ্র নীল চোখে। কিন্তু সেই সমুদ্র নীল চোখে নেই কোনো স্বচ্ছতা। সমুদ্র নীল চোখ দু’টোতে জমছে আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের তীব্রতা। সেই চোখের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি যা সরাসরি বিঁধে যাচ্ছে এলিজাবেথের দিকে। এলিজাবেথ ভয়ার্ত হয়ে দ্রুত নিজের দৃষ্টি সরিয়ে নেয় অন্যদিকে। তখনই একজন মধ্য বয়স্ক লোক, ভাবসাব মাফিয়াদের মতো। ঢুলতে ঢুলতে এলিজাবেথের দিকে আসল। এলিজাবেথকে দেখেই লোকটার চোখ ঝলঝল করে উঠল। এলিজাবেথের শরীরের দিকে চেয়ে কুৎসিত ইঙ্গিত বুঝিয়ে বলল,
“তোমার মতো সুন্দরী মেয়ে আমি আমার জীবনে দেখিনি।”
‘একে তো অপরিচিত জায়গা,অজানা সব মানুষ। পাশে নেই তাকবীর। ভয়ে গুটিয়ে যেতে থাকে এলিজাবেথ। লোকটা ওর দিকে আরো অগ্রসর হতে থাকে।

“স্বয়ং বেহেস্ত থেকে কি তোমার আগমন সুন্দরী?”
‘এলিজাবেথ নিশ্চুপ। এদিকওদিক তাকিয়ে তাকবীর কে খুঁজতে থাকে। লোকটা এবার কিঞ্চিৎ বিরক্ত হলো এলিজাবেথের মৌনতাই। অতি নিকটে গিয়ে এলিজাবেথের উন্মুক্ত কাঁধে হাত রাখতে যাবে তখনই পিছন থেকে ভেসে আসে পুরুষালি দাপুটে কণ্ঠস্বর,
“টাচ হার অ্যান্ড আই উইল ব্রেক ইয়োর নেক রাসক্যাল।”
‘শরীরে প্রাণ ফিরে পেল এলিজাবেথ চেনা কণ্ঠ শুনে। হঠাৎ অনুভব করল, ওর উন্মুক্ত কাঁধ ঢেকে গেছে শক্ত কাপড়ের নিচে। এলিজাবেথ বিহ্বল হয়ে নিজের দিকে তাকিয়ে দেখল, কালো একটি কোট আলতো করে রাখা হয়েছে ওর দু’ কাঁধে। নাকে ভেসে এলো এক উষ্ণ, মাদকতাময় সেই ডার্ক ফ্র্যাগরেন্সের গন্ধ। এলিজাবেথ বুঝল, ওর পিঠ ঠেকেছে একটি শক্ত বুকের সাথে। একটি লম্বা হাত লতার মতো পেঁচিয়ে ধরেছে ওর বাঁকানো কোমর। শিউরে উঠল পুরো শরীর। ওদিকে মদপান করা লোকটির চোখে সন্দেহ স্পষ্ট হয়ে উঠল।

“রিচার্ড… তুমি?”
‘রিচার্ড বাঁকা হাসল। লোকটির চোখে চোখ রেখে আরও কাছে টেনে নিল এলিজাবেথকে। এলিজাবেথের গা ঘিনঘিন করে উঠলেও বুঝল, এই মুহূর্তে রিচার্ডই একমাত্র, যে তাকে রক্ষা করতে পারে। রিচার্ড রুক্ষ কর্কশ গলায় অর্নথক হাসি হেসে চাপা স্বরে বলল,
”ইয়েস! শি ইজ মাই প্রপার্টি। আর রিচার্ড কায়নাতের পছন্দ সবসময় সেরাতেই সীমাবদ্ধ। যা দেখলে চোখ ধাঁধিয়ে যায়, তবে চোখের জন্য ক্ষতিকর। কারণ একটা ভুল দৃষ্টির মাধ্যমেই সেই চোখ তার আয়ু হারিয়ে ফেলতে পারে সারাজীবনের জন্য ।”
‘রিচার্ডের হুমকিসুলভ কথায় লোকটি আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। চলে যেতেই, এলিজাবেথ চট করে সরে গেল রিচার্ডের বাঁধন থেকে। তর্জনী তুলে রিচার্ডের মুখের সামনে। সেটা দেখে অধর এক কোণে এলিয়ে হাসল রিচার্ড। এলিজাবেথের গলায় স্পষ্ট তেজ,
“কোন অধিকারে আমার শরীরে স্পর্শ করছেন? লজ্জা করে না?”
‘রিচার্ড ঠোঁট কামড়ে হেসে বলল,”লজ্জা তো আমার কখনোই ছিল না এলি জান। থাকলে আমাদের মধ্যে এতো কিছু হতো না।”

‘এলিজাবেথ ভাষা হারায় রিচার্ডের লাগামছাড়া কথায়। তবুও ভিতর থেকে খোবলে বেরিয়ে আসে তেজ,”আপনার মধ্যে কি বিন্দু পরিমাণ লজ্জা নেই?”
“লজ্জা নারীদের পোশাক, পুরুষদের নয়।”
‘এলিজাবেথ রিচার্ডের লাপাত্তা জবাবে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,” ভুল বললেন। লজ্জা একটি মানবিক গুণ, যা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য প্রযোজ্য। এটি কেবল পোশাক বা বাহ্যিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ব্যক্তিত্ব এবং নৈতিকতার অংশ। তবে আপনার মধ্যে ব্যক্তিত্ব, নৈতিকতার ছিটেফোঁটাও নেই৷”
‘রিচার্ড ওর নীল চোখ সরাসরি রাখল এলিজাবেথের চোখে। সরু গলায় বলল,
“বুকের নিচে পড়া মেয়েদের মুখ থেকে এতো বড় বড় কথা মানায় না রেড।”
‘ক্রোধগুলো যেন এলিজাবেথের গলায় জমাট বাঁধে। শব্দ বের হবার পথে বাঁধা তৈরি করছে। অগ্নি চোখে শুধু রিচার্ডের দিকে চেয়ে থাকল এলিজাবেথ। রিচার্ড পকেটে দু’হাত গুঁজে খানিকটা ঝুকল এলিজাবেথের উপর। পরপর এলিজাবেথের ললাটে আঁচড়ে পড়ে থাকা বেবি হেয়ার গুলো ফু দিয়ে উড়িয়ে চোখ মেরে বলল,

“চুমু না দিলে বন্ধু এভাবে তাকিও না।”
“মানে?”
“চলো চিপায় যায়। আমার একটু আদর লাগবে।”
‘চোয়াল গরম হয়ে যায় এলিজাবেথের। গাঁ থেকে রিচার্ডের কোট খুলে ওর মুখের উপর ছুঁড়ে হিরহির করে চলে গেল এলিজাবেথ। রিচার্ড সোজা হয়ে হালকা গলা ছেড়ে পিছন থেকে ডাকল,
“এই কাটাছেঁড়া ড্রেস আমার জন্য পরেছিলে বুঝি?”
‘এলিজাবেথ যেতে যেতে পিছন না ফিরেই গমগমে গলায় প্রত্যুত্তর করল, “ইন ইওর ড্রিমস।”
“আমাকে এতোই ভালো ভাবো,,? যে স্বপ্নেও ড্রেস পরিয়ে দেখব? বিলিভ মি রেড, ইন মাই ড্রিমস অফ ইউ, ইউ’র ড্রেসড ইন নাথিং।”
‘পা থেমে গেল এলিজাবেথের। ফাঁক হয়ে গেল চোয়াল। তবে পিছন ফেরার রুচি হলো না। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে সামনে এগোতে থাকে৷ রিচার্ড নিজেও ঠৌঁট কামড়ে হেসে অন্য দিকে হাঁটা দিল।’

‘ ফোন কাটা মাত্রই তাকবীর স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। ওর ওষ্ঠপুটে প্রশান্তিময় হাসির অস্পষ্ট ঝলকানি। বার বার ঘন নিশ্বাস ছাড়তে থাকে আকাশের পানে চেয়ে৷ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেখানে রেয়ান আসল। তাকবীরের থেকে কিছুদূর দাঁড়িয়ে স্মিত স্বরে বলল,
“বস ডেকেছিলেন?”
‘তাকবীর পিছন ফিরল। জ্বলজ্বল করছে ওর কৃষ্ণগহ্বর। রেয়ানের কাছে গিয়ে ওর দু’ কাঁধ ঝাকিয়ে বলল,
“রেয়ান এক্সপেরিমেন্ট এর রেজাল্ট এসেছে। আউটকাম ভালো। ডক্টর এখুনি হসপিটালে যেতে বলল।”
‘এবার তাকবীর কেও ছাড়িয়ে গেল রেয়ানের অবয়বের ঝলকানি। ওর মাংসবহুল চিবুক প্রসারিত হলো হাসিতে। আন্তরিক গলায় বলল,

“সো লাকি অফ ইউ বস। উপরওয়ালা আপনার মনে ইচ্ছা পূরণ করেছে।”
‘তাকবীর সরে আসল রেয়ানের থেকে। সুইমিং পুলের স্বচ্ছ পানির দিকে বিহ্বল দৃষ্টিতে চেয়ে আবেশিত গলায় বলল,
“পুরুষ তার শখের নারীকে পাওয়ার জন্য সবকিছু করতে পারে, সব৷”
“ম্যাম কে কি হোটেলে রেখে আসব আমি?”
“না, এই মুহুর্তে ওর হোটেলে একা থাকাটা রিস্ক। এখনো জানা যায়নি কিন্তু,সেদিন ওর উপর কে অ্যাটাক করিয়েছিল।”
”তাহলে_?”
‘তাকবীর জিভ দিয়ে ঠৌঁট ভেজালো। ভাবল কিছুক্ষণ। ওর ললাটে চিন্তার গভীর ভাঁজ। কিছুক্ষণ ভেবে পিছন ফিরল। রেয়ারের দিকে তাকিয়ে ভারি গলায় বলল,
“ওকে এখানেই রেখে যেতে হবে৷ আপাতত এই জায়গায় ওর জন্য সবথেকে সেভ, ফাদার আছে যতক্ষণ। আমরা এক ঘন্টার ভিতর ফিরে আসব৷”

‘রেয়ানের কণ্ঠে জড়তা, বলল “তবে বস ঐ গ্যাংস্টার রিচার্ড ক,,,
“এলোকেশী এখন সবথেকে সেভ জায়গায় আছে। যা বললাম তাই কর। গাড়ি বের কর এখুনি, সময় কম। ডু ফাস্ট।”
‘তাকবীর কিছুটা গলা উঁচিয়ে বলল। রেয়ান আর কথা বাড়ায় না। গ্যারেজের দিকে যেতে থাকল। তবে ওর তীক্ষ্ণ মস্তিষ্ক এখনোও এটা বুঝতে পারল না, তাকবীর কিসের উপর ভিত্তি করে এতো আত্মবিশ্বাসী স্বরে বলল”এলিজাবেথ সেভ থাকবে”। রেয়ান চলে যেতেই তাকবীর নিজের বলা কথাটা আবারও ভাবল। সব ভেবে পরিশেষে আবারও সেই একই উত্তর আসল, এলিজাবেথ সেভ থাকবে এখানে থাকলে। তাকবীরের ভাবনার সুতো কাটলো মেয়েলি স্বরে।
“আর ইউ বাঙ্গালী?”
‘মেয়েটি সম্ভবত কানাডিয়ান হবে। কথার অ্যাকসেন্টে তাই মনে হলো। তাকবীর মেয়েটির দিক থেকে চোখ সরিয়ে ফোনের দিকে দৃষ্টি নিয়ে বলল,”ইয়েস, আই’ম।”

‘ মেয়েটি নেশালো চোখে তাকবীরের পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে নিল, অতঃপর বলল,
“ওয়াও বাঙালি ছেলেরাও এতো হ্যান্ডসাম হয়,জানা ছিল না।”
‘তাকবীর মেয়েটির দিকে না তাকিয়েই জবাবে বলল,” মাই প্লেজার।”
‘মেয়েটি এবার ফ্লার্ট করতে শুরু করে তাকবীরের সাথে। ভিতরে ভিতরে খুবই ক্ষুদ্ধ হচ্ছে তাকবীর। তবুও সৌজন্যতার সহিত মেয়েটিকে এড়িয়ে যেতে থাকে। তবে মেয়েটি নাছোড়বান্দা। কখন থেকেই ইংলিশে বকবক করেই যাচ্ছে।
“কিহ ব্যাপার তাকাচ্ছো না যে! আমাকে কি পছন্দ হচ্ছে না? পার্টিতে সবাই বলল, এই ড্রেসে আমাকে কতো হট লাগছে।”
‘তাকবীর সরাসরি মেয়েটির মুখের উপর বলে দিল, ” জি না হচ্ছে না। কারণ, আমার ঘরে এর থেকেও সুন্দরী বউ আছে! দুঃখিত।”

‘মেয়েটির ইগোতে লাগল বেশ৷ নিজেকে আরো জাহির করার জন্য চুলগুলো ভালোভাবে সেট করে নিয়ে শক্ত গলায় বলল,”সে কি আমার থেকেও সুন্দর?”
‘তাকবীর ফিচলে হাসল। চোখ বন্ধ করতেই চোখের সামনে ভেসে আসে এলিজাবেথের স্নিগ্ধ সেই অপরূপ সৌন্দর্য। তাকবীর কল্পনায় তার শখের নারীকে দেখতে দেখতে চোখ বুঝে মেয়েটির অকপটে বলল,
” সুন্দরের কথা বলছেন? তাহলে এখনো আপনি আমার এলোকেশীকে দেখেননি। তার সৌন্দর্যের সাথে কবির বর্ণনাও যায় না।”
‘ মেয়েটি এবার গর্জে উঠল,”তার থেকে কোনদিক দিয়ে কম আমি? আমার কি সেই যোগ্যতা নেই তোমার পার্টনার হওয়ার?”
“রানী হতে যোগ্যতা লাগে,
সুন্দর চেহারা তো বাজারেও নাচে। ~ সঙ্গে সঙ্গে জায়গা ত্যাগ করল তাকবীর। মেয়েটি ক্রোধে নিজের চুল টেনে ধরে।

‘এলিজাবেথ এদিকসেদিক সেই কখন থেকে খুঁজছে তাকবীর কে। এদিকে ওর ফোনটাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে সেই কখন। হঠাৎ কনুইতে হেঁচকা টান অনুভব করল এলিজাবেথ। আবিষ্কার করল নিজেকে পাথরের মতো শক্ত শরীরের মাঝে। পিঠ ঠেকেছে দেয়ালে। এলিজাবেথ ছুটতে চাই, তবে পারে না। রিচার্ড প্রাচীরের মতো ওর সামনে দাঁড়িয়ে আছে এলিজাবেথ কে ওর দু’হাতের মাঝখানে লক করে। এলিজাবেথ ছুটতে না পেরে কামড় বসালো ওর কানের পাশ দিয়ে দেয়ালে ঠাঁই নেওয়া রিচার্ডের হাতে। তবে তা যে খুব প্রভাব ফেলেছে রিচার্ডের উপর, তেমনটা নয়। রিচার্ড নিস্প্রভ দ্বিধাহীন একগুঁয়ে দৃষ্টিতে চেয়ে আছে মোচড়ামুচড়ি করতে থাকা এলিজাবেথের দিকে৷ নীল চোখজোড়ায় এখন নেই কোনো হিংস্রতা, নেই ক্ষুব্ধতা। আছে কিছু একটা, যা গ্যাংস্টার বস নিজেও জানে না৷
“আপনারা চামড়া কি গন্ডারের চামড়া৷ এতো বলি তাও গায়ে লাগে না? ছাড়ুন বলছি আমাকে। কেন বার বার আসছেন? ছেড়ে দেন না আমার পিছু৷”
‘রিচার্ড নির্নিমেষ তাকিয়ে থেকে বলল,” ভিলেনরা কখনো হার মানে না, কারণ তারা একগুঁয়ে ও অনমনীয়। বিশেষ করে যখন তারা,,,

‘এইটুকু বলে থেমে গেল রিচার্ড। এলিজাবেথ ছটফটিয়ে উঠলো, ” যখন তারা কি? কি হলো বলুন?”
‘অকস্মাৎ রিচার্ড এলিজাবেথ কে ঘুরিয়ে ওর হাত পিঠে চাপে মোচড়ে ধরে। ব্যাথা কুকড়িয়ে উঠল এলিজাবেথ।
উগ্রতা ফেটে হিংস্র জন্তুর মতো গর্জন করে উঠল রিচার্ড। এলিজাবেথের হাতে অধিক চাপ প্রয়োগ করে চাপা ক্ষোভ নিয়ে বলল,
“মুখে খুব বুলি ফুটেছে দেখছি। ভয় পাস না আমাকে?”
‘হ্যাঁ, এলিজাবেথ ভয় পায়। খুব ভয় পায় রিচার্ডকে। রিচার্ডের উপস্থিতি মৃত্যুর প্রতিচ্ছবি নিয়ে দাঁড়ায় সামন ওর সামনে। তবুও আজ এলিজাবেথ নিজেকে শক্ত করে নেয়। ওর কণ্ঠে কঠোরতা, চোখে দৃঢ়তা। জেদি গলায় সে বলে,
“না, ভয় পায় না।”
‘রিচার্ড হাতের চাপ আরও দৃঢ় করল। এবার এলিজাবেথের চোখ থেকে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়তে লাগল, কিন্তু ওর অকুতোভয় তবুও হৃদয় টলল না। শীর্ণ, তবু দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
“বৃষ্টি ছাড়া যেমন ফুল বড় হয় না, তেমনি নারীও কষ্ট ছাড়া শক্ত হতে পারে না। ধ্বংসের পর আমি আবারও উঠে দাঁড়াব। তখন আর কেউ, বারবার দমকা হাওয়ার মতো এসে আমাকে ভাঙতে পারবে না।”
‘ধ্বংস আর পাপাচারে লালিত, হৃদয়হীন এক গ্যাংস্টার রিচার্ডের চোখে ঝলসে উঠল পৈশাচিক উন্মাদনা। রিচার্ডের সাইকোপ্যাথিক মস্তিষ্কে হিংস্রতা ফোঁটায় ফোঁটায় জমা হতে লাগল। ঠাণ্ডা অথচ ভয়ঙ্কর স্বরে ফিসফিস করে বলল,
“তুমি ধ্বংস থেকে উঠে দাঁড়ালে, আমি তোমার শিরায় এমন আগুন বইয়ে দিই, যা সমগ্র সৃষ্টিকেই ছাই করে ফেলতে পারে।”

” বাহ! বাহ! নারী সঙ্গ ঘৃণা করা গ্যাংস্টার রিচার্ড কায়নাত বুঝি আড়ালে এসব করে?”
‘পেছন থেকে ভেসে আসা আগ্রহত বিদ্রুপ স্বরে রিচার্ডের কপালের পাশের রগগুলো টগবগিয়ে উঠল। এক মুহূর্তেই ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। এলিজাবেথের হাত ছেড়ে দিয়ে হিংস্র বাঘের মতো পিছন ঘুরে ফিরে। মুক্তি পেয়ে এলিজাবেথ হাত চেপে ধরে নিরবে কাঁদতে লাগল। রিচার্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছে চারজন মাফিয়া, প্রত্যেকের ঠোঁটের কোণে বিদঘুটে হাসি। তাদের চোখে জ্বলজ্বল করছে লালসা। এদের মধ্যে একজন ছিল সেই শয়°তান, যে কিছুক্ষণ আগে রিচার্ডকে প্রস্তাব দিয়েছিল এলিজাবেথকে বেচে দেওয়ার। ওদের দৃষ্টির ইঙ্গিত বুঝে রিচার্ড এলিজাবেথকে লম্বা হাতে টেনে নিজের পেছনে নিয়ে গেল, নিজে ঢাল হয়ে দাঁড়াল সামনে। কোনো কথা বলল না, কিন্তু রিচার্ডের চোখে ফুটে উঠল দহন। সেই আগুনের শিখায় ক্রোধের এমন অগ্নি জ্বলছে, যেন পুরো পৃথিবী পুড়িয়ে ফেলতে পারে। সেই মাফিয়াটা আবারও বলল,

” গ্যাংস্টার রিচার্ড কায়নাতের বুঝি এটাই আসল রূপ?তবে বলতে হবে মাইরি রুচি আছে তোমার। বেছে বেছে কড়া একটা মাল নিয়েছ ।”
‘নোংরা কথাগুলো তীরের ফলার মতো গিয়ে বিঁধছে এলিজাবেথের বুকে। রিচার্ডের মস্তিষ্ক, নিউরন,শ্রবণ ইন্দ্রিয় ঝাঁঝরা করে দিচ্ছে কথাগুলো। দাঁতে দাঁত চেপে বজ্রপাতের মতো গম্ভীর কণ্ঠ বলল,
“আমি কোনো প্রকার ওর্য়ানিং দিতে চাচ্ছি না। শুধু একটা কথায় বলবো, মুখ সামলে। ভুলে যেও না তোমরা কার সামনে কথা বলছো।”
‘সেই মাফিয়াটা শব্দ তুলে হাসল, সঙ্গে তাল দিল বাকি তিনজন। যেন তারা কোনো নাট্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছে_ নির্বিকারভাবে, নিষ্ঠুরভাবে।ক্রমশ ক্রোধ নিয়ন্ত্রণের বাইতে যেতে থাকে রিচার্ডের। রিচার্ডের গৌড় বর্ণের শিরা উপশিরা গুলো স্পষ্ট দৃশ্যমান হয়ে উঠল। এলিজাবেথ খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে এখানে ভয়ংকর কিছু হতে চলেছে। এখনই সিক্ত হবে এই জায়গা রক্তে। রিচার্ড তেড়ে দু’কদম সামনে যেতে নেয় তখনই এলিজাবেথ করে বসল এক কান্ড। পিছন থেকে আলগোছে নিজের হাত রাখল রিচার্ডের আঙুলের ভাঁজে ভাঁজে। থমকে গেল রিচার্ড। তার অগ্নিসম ক্রোধ মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে গেল। এই প্রথমবারের মতো এলিজাবেথ নিজে থেকে স্পর্শ করল রিচার্ডকে। পৈশাচিক ক্রোধ এবং হিংস্রতা, যা একের পর এক বেড়ে উঠছিল, তা এক অদৃশ্য শিথিলতা ভেসে উঠল এই স্পর্শে। এক লাস্যময়ী শীর্ণকায় নারীর সংস্পর্শে গ্যাংস্টার বস স্তম্ভিত হয়ে গেল।

“তা এভাবে নিজে আর কতোদিন মধু খাবে একা একা। আমাদেরও একটু স্বাধ নিতে দাও। দেখেই তো মেশিন দাঁড়,,
” ঠাসসসস,,
‘ কয়েক সেকেন্ডের জন্য থমকে যাওয়া মস্তিষ্ক টা ফিরে গেলো তার চিরাচরিত পৈশাচিক আত্মায়। স্বচক্ষে নৃশংস অপ্রীতিকর দৃশ্য দেখে গতি হারায় এলিজাবেথের হৃদস্পন্দন, পিছন থেকে খামছে ধরে রিচার্ডের শার্ট৷ রিচার্ডের রিভলভারের সরু নল থেকে গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে। নিন্দনীয় কথা বলা মাফিয়াটা ধাতব মেঝেতে পড়ে কয়েক সেকেন্ড ছটফটিয়ে নিস্তেজ হয়ে গেল। উপস্থিতি সকলে কেঁপে উঠল। সর্তক হয়ে গেল আর সকল মাফিয়ারা। সাথের তিনজন এবং ওদের সাথে থাকা সকল বডিগার্ড গান পয়েন্ট করে রিচার্ডের উপর। টানটান উত্তেজনাময় পরিবেশ। বাতাসে ছড়িয়ে যায় আতংক।

‘তবুও রিচার্ড শক্ত,চোখেমুখে নেই বিন্দুমাত্র ভয়। ক্রোধে মটমট করতে থাকা ধারালো চিবুকে তাকিয়ে আছে নিথর দেহের দিকে। হঠাৎ কোথা থেকে ঝড়ের বেগে আসে লুকাস। সাথে সাথে নিজের রিভলভার বের করে নিস্তেজ দেহের উপর পরপর পাঁচটি সুট করে। সকলে কান চেপে ধরল বিকট শব্দে। ভয়ে গুটিয়ে গেল আর সকল মাফিয়ারা৷ রিচার্ড কে গান পয়েন্টে নেওয়া হাতগুলো নিমিষেই তৎক্ষনাৎ নিচে নেমে গেল।
‘রিচার্ড খপ করে চেপে ধরল এলিজাবেথের হাত। চারপাশে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে,সকলের উদ্দেশ্য দাপুটে গলায় চেঁচিয়ে বলল,
“আমার জিনিসের দিকে তাকানোর সাহস করলে এর থেকেও ভয়ংকর পরিণতি হবে।”

‘রিচার্ডের কণ্ঠে এমন শীতল হুমকি ছিল যে, কেউ আর মুখ খোলার সাহস করল না। চারপাশে নিস্তব্ধতা নেমে এল, সবাই গুটিয়ে গেল ভয় আর আতঙ্কে। রিচার্ড এক মুহূর্তের জন্য লুকাসের দিকে তাকাল। গম্ভীর দৃষ্টি বিনিময়ের পর লুকাস মাথা নাড়ল, বুঝিয়ে দিল—কাজ শেষ। ফাদারকে সে ম্যানশনে কৌশলে পাঠিয়ে দিয়েছে। গিরগিটির রঙ বদলানোর চেয়েও দ্রুত বদলে গেল রিচার্ডের অবয়ব। হিংস্রতা হঠাৎ স্থির অথচ অদম্য এক দৃঢ়তায় রূপ নিল। এলিজাবেথের হাত শক্ত করে ধরে, কোনো কথা না বলে টেনে নিয়ে যেতে থাকল পার্কিং লটের দিকে। পেছনে নেমে এল এক নিস্তব্ধ, ভয়ানক নীরবতা। পার্কিং লটের যেতেই এলিজাবেথ ঝাড়া মেরে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিল। অনবরত কাঁপছে ওর চোখের পাতা, কাঁপছে গলা। রিচার্ডের থেকে দূরে পিছাতে পিছাতে বলল,
“আ-আপনি একটা খুনি! খুনি আপনি। ভালো মানুষ,,, বলে সামনে ঘুরে দৌঁড় দেয়। রিচার্ড ছো মেরে ধরে ফেলল এলিজাবেথ কে। উতপ্ত খরখরে মরুভূমির মতো চোয়াল শক্ত হয়ে রয়েছে। এলিজাবেথ কে হেঁচকা টানে নিজের কাছে টেনে চিবুক চেপে ধরে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,

“আমার সাথে থাকবি না? ঠিক আছে, চল। তোকে তোর আসল জায়গায় নিয়ে যাচ্ছি।”
‘এলিজাবেথের শরীর জবুথবু হয়ে কাঁপতে লাগল। চোখে ভয় আর আতঙ্ক স্পষ্ট। কান্নার তোড় ধীরে ধীরে বাড়তে থাকল। তার গলা বুজে এলো। ভাঙা ফ্যাসফ্যাসে কণ্ঠে কাঁপা গলায় আধ ভাঙা গলায় বলল,
“কো-কোথায়?”
“আমার বেডরুমে।”
‘এলিজাবেথ কে টেনে গাড়ির দিকে নিয়ে যেতে থাকল রিচার্ড। বুক শুকিয়ে এলো এলিজাবেথের। শরীর ছেড়ে দিয়ে নিচে বসে পড়ল। রিচার্ড অগ্নি চোখে ওর দিকে তাকায়। এলিজাবেথ অনবরত কাঁদতেই আছে। ওর একহাত রিচার্ডের হাতে। আরেক হাত মুক্ত। সেই হাতে রিচার্ডের পা চেপে ধরল এলিজাবেথ। আকুতি মিনতি করে বলতে লাগল,
“আমি আপনার পায়ে ধরছি, দয়া করে আমাকে ছেড়ে দিন।ভালো মানুষ খুঁজবে আমাকে।”
‘ রিচার্ড দাঁড়াল। ঘুরে ফিরল। এলিজাবেথের ব্যাথতুর কণ্ঠে গুরুতর কথাটাকেও হেসে উড়িয়ে দিল। একটু ঝুঁকে ফিসফিসিয়ে বলল,” খুঁজবে? তা কোথায় তোর ভালো মানুষ?”

‘এলিজাবেথ কোনো জবাব দিতে পারে না। বিষণ্ন ভগ্ন হৃদয় ভিতরে ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছিল ভিতরে। ওর চোখের কোণে লুকিয়ে থাকা কান্নার আভাসও অশ্রুর ভারে ডুবে গেল। এই মুহূর্তে রিচার্ডের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এলিজাবেথের ভেতরে সমুদ্রের উতালপাতাল ঢেউয়ের মতো আঘাত হানছে। এলিজাবেথের অসহায়, করুণ দৃষ্টির বিপরীতে রিচার্ডের চোখ ছিল কঠোর, অদম্য। এলিজাবেথের কান্নার তোড় আস্তে আস্তে কমে এল। ভাঙা কণ্ঠে, গভীর অসহায়তায় বলল,
“দয়া করে আমাকে যেতে দিন। যদি দরকার হয়, আমি আপনার পায়ে ধরব। তাও যেতে দিন আমাকে। এই মুহূর্তে… আপনাকে আমার খুব ভয় লাগছে।”
‘এলিজাবেথের গলায় অসহায়তা আর ভয়ের প্রতিধ্বনি রিচার্ডের ভিতরেও এক অদ্ভুত অশান্তির ঢেউ তুলল, কিন্তু মুখের দৃঢ়তা এক চুলও নড়ল না। হঠাৎ কিছু ঠৌঁট কামড়ে বাজে ভাবে হাসল রিচার্ড। সোজা সটানভাবে দাঁড়াল। হাস্কি স্বরে বলল,

“ওকে, পায়ে ধরবি ধর। তবে শুধু ধরলে হবে না। হাত ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে হবে উপরে। আর আমি যেখানে থামতে বলব, ঠিক সেখানেই থামতে হবে।”
‘এলিজাবেথের রিচার্ডের কথার মানে বুঝতে দুই মিনিট লাগলো। রিচার্ডও যেন ওকে আরামসে সময় দিল। রিচার্ডের কথার মানে বুঝতে পেরেই এলিজাবেথ ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নিল। আবারো বাঁধ ভাঙে কার্নিশে। রিচার্ড আর কোনো কথা বাড়ায় না। এলিজাবেথ কে বসা অবস্থায় ই টেনে গাড়ির দিকে নিয়ে যেতে লাগল। এলিজাবেথ এবার না পেরে বাধ্য হয়ে তড়িঘড়ি করে বলল,
” ভয় পায়! ভয় পায়! আপনাকে আমি ভয় পায়। অনেক।”
‘ থামল রিচার্ড। ঠৌঁটে ফুটে উঠল বিজয়ের হাসি। সে-তো এটাই শুনতে চেয়েছিল এতোক্ষণ। ছেড়ে দিল এলিজাবেথের হাত। আচানক পাঁজা কোলে তুলে নিল এলিজাবেথকে। হচকিয়ে গিয়ে রির্চাডের শার্ট খামচে ধরে এলিজাবেথ। রিচার্ড ওকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে গাড়ির দিকে হেঁটে যেতে নিজে থেকেই বলল,
“পায়ের গোড়ালি ফুলে গিয়েছে। হাঁটতে পারবে?
‘সত্যিই অনেকক্ষণ যাবত হিল পরে থাকার কারণে পায়ের গোড়ালি ফুলে গিয়েছে সেই কখন। ব্যাথায় টনটন করছিল। তবে অচেনা, অপরিচিত জায়গা হওয়ায় এলিজাবেথকে এভাবেই থাকতে হয়েছিল। আর এতোক্ষণ টানাটানির ফলে তো পায়ের অবস্থা আরো খারাপ হয়ে গিয়েছে। এলিজাবেথ শুধু নিরবে মাথা নাড়াল। বুঝাল, _পারবে না। পরপর নিভু স্বরে বলল,

“বললাম তো ভয় পায়। এখন আর কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?”
‘রিচার্ডের গম্ভীর গলার জবাব,”এই পার্টি এখন তোমার জন্য সেভ না। হোটেলে দিয়ে আসছি। তোর ভালো মানুষ লাপাত্তা।”
“মানে?”
“রিচার্ড কানয়াত অতিরিক্ত প্রশ্ন পছন্দ করে না।”

‘রিচার্ডের কড়া গলায় এলিজাবেথ একদম চুপ হয়ে গেল। মুখে তালা মেরে নিশ্চুপ বসে রইল, রিচার্ডের প্রতিটি শব্দ বিপজ্জনক বাণীর মতো। মনের গভীরে শুধু প্রার্থনা করছিল, কোনোভাবে ঠিকঠাক হোটেলে পৌঁছাতে পারলেই হলো। তারপর ধীরস্থিরে তাকবীরের কাছ থেকে সব জানবে। রিচার্ড কোনো কথা না বলে এলিজাবেথকে গাড়িতে বসিয়ে দিল। নিজে গিয়ে বসল ড্রাইভিং সিটে। চোয়াল শক্ত, দৃষ্টি সামনের রাস্তায় নিবদ্ধ। এক মুহূর্ত দেরি না করে টায়ারের কর্কশ শব্দ তুলে গাড়ি ছুটে চলল অন্ধকার রাস্তার দিকে, সামনে অপেক্ষা করছে অজানা কোনো পরিণতি।
‘রিচার্ড একমনে ড্রাইভ করে যাচ্ছে, তার দৃষ্টি সামনের রাস্তায় নিবদ্ধ। পাশে বসে থাকা এলিজাবেথ সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জগতে মগ্ন। অদ্ভুতভাবে সে সেই কখন থেকে রিচার্ডের দিকে তাকিয়ে আছে। তার মনে কিছু একটা মেলানোর চেষ্টা চলছে। হয়তো রিচার্ডকে বোঝার, কিংবা তার আচরণের কারণ খুঁজে বের করার প্রয়াস। হঠাৎ, রিচার্ড ঢোক গিলতেই এলিজাবেথের দৃষ্টি আটকে গেল তার কণ্ঠনালীতে। সেই এডামস অ্যাপল। পুরুষের সৌন্দর্যের এক অনন্য প্রতীক। রিচার্ডের এডামস অ্যাপল তার মোহনীয় ব্যক্তিত্বে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রিচার্ডের এডামস অ্যাপল মাত্রাতির বড়। এ দৃশ্য অজান্তেই এলিজাবেথের মনোযোগ কেড়ে নিল। গলা শুকিয়ে এল। শুষ্ক ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে ঢোক গিলল এলিজাবেথ, নিজের অনুভূতিগুলোকে সামলানোর চেষ্টা করছে।
“কি ডার্লিং ওয়ানা টেস্ট ইট?”

‘ভরকে যায় এলিজাবেথ, শরীরে অজান্তেই শিহরণ বয়ে যায়। রিচার্ড না দেখেও কীভাবে বুঝল? রিচার্ডের প্রতিটি গতি, প্রতিটি মুহূর্ত এক নতুন রহস্য উন্মোচন করেই যাচ্ছে। যতই সময় যায়, ততই রিচার্ড এলিজাবেথের কাছে নতুন নতুন তীক্ষ্ণ রূপে প্রকাশ পায়, প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি আর শব্দে এক নতুন আগুন লুকিয়ে থাকে। এলিজাবেথ সোজা হয়ে বসে, কিছুটা অস্থির হয়ে আমতাআমতা করতে থাকে। কণ্ঠে সামান্য অস্বস্তি,
“একদম বাজে কথা বলবেন না। আমি তো একটা জিনিস মেলাচ্ছিলাম।”
“কী মিলাচ্ছিলে তুমি? আমার মতো নতুন এক নরখাদক তৈরি করতে চেয়েছিলে নাকি?”
‘এলিজাবেথ এবার ঘুরে বসল রিচার্ডের দিকে। ডরভয় ভুলে কৌতুহলী হয়ে বলল,”আরে না। আপনার সাথে না একজনের খুব মিলে।”
‘রিচার্ডও যেন খানিকটা কৌতুহল প্রকাশ করল, “কার সাথে?”
“একটা কে-পপ স্টার। ওর-ও ঠিক আপনার মতোই কানে তিনটে ফুটো করা, হাতে ট্যাটু, চুলগুলো লম্বা লম্বা, জাও লাইনটাও একেবারেই আপনার মতো তীক্ষ্ণ, রুক্ষ। বডি স্টাকচার, হাইট, সবকিছু মিলিয়ে অসম্ভব হ্যান্ডসাম। আমি টিকটকে অনেক দেখেছি। সবাই জে.কে বলে ডাকে।”
‘রিচার্ড চোখগুলো কিঞ্চিৎ ছোট ছোট করে বলল,” তারমানে বলতে চাচ্ছো আমি হ্যান্ডসাম?”
‘এলিজাবেথ গদগদ করে বলে দিল,”সেটা তো অবশ্যই।”
‘রিচার্ড ভ্রু টেনে তাকাল এলিজাবেথের দিকে। সঙ্গে সঙ্গে জিভ কেটে চোখমুখ কুঁচকে ফেলে এলিজাবেথ। মিইয়ে যায় একদম।

“আমি তো জে.কের কথা বললাম।”
‘হঠাৎ করে ব্রেক কষলো রিচার্ড। চমকে গেল এলিজাবেথ রিচার্ডের ঘোরলাগা দৃষ্টিতে। রিচার্ড অতর্কিতে করে বসল এক ধরাশায়ী কাজ। এলিজাবেথ কে একটানে নিজের কোলের উপর নিয়ে এসে বসাল। শিউরে উঠল এলিজাবেথের অভ্যন্তর। রিচার্ডের দৃষ্টি ক্রমশ গভীর হতে থাকল, চোখে এক ধরনের অজানা অন্ধকার। শান্তভাবে, আলতো করে হাত রাখল এলিজাবেথের নরম, তুলতুলে গালে। এলিজাবেথের শরীর জমে যেতে থাকল, রিচার্ডের স্পর্শের শক্তি ওকে অচেতন করতে শুরু করল। রিচার্ডের শান্ত স্বর, সঙ্গেই একটি বিপদের আশঙ্কা লুকানো ছিল, যা এলিজাবেথের হৃদয়ে গভীরতা সৃষ্টি করছিল।
“আজ থেকে আর ওকে দেখবে না ওকে? আজ থেকে আমি তোমার জে.কে। আন্ডারস্ট্যান্ড?”
‘এলিজাবেথ নিশ্চুপ। নিশপিশ করতে থাকে ওর শরীর। রিচার্ড আবারও বলল, “আজ থেকে আমাকে জে.কে ডাকবে। গট ইট?”

‘এবারও নিশ্চুপ এলিজাবেথ। রিচার্ড এবার নিজ কৌশল ব্যবহার করল। হাত চলতে থাকল এলোমেলো পথ ধরে, অবাধ্য ব্যবহারে। এলিজাবেথের পাশের তলা শিরশিরে উঠল। মুখ থেকে বেরিয়ে এলো মৃদু গোঙানি। তড়িঘড়ি করে ঘন শ্বাস ফেলতে ফেলতে বলল,
“আপনি আমার জে.কে। আমার কুকি৷”
‘ঠৌঁট কামড়ে হাসল রিচার্ড। এলিজাবেথ তখনও চোখমুখ কুঁচকেই ছিল। রিচার্ড এবার তুষ্ট হেসে সর্দপে প্রশ্ন ছুড়ল,
“কি আরো বেশি কিছু চাচ্ছো ?”
“নাহ,,! চেঁচিয়ে ছিটকে গিয়ে সিটে পড়ল এলিজাবেথ। রিচার্ড ওর দিকে তেরছা নজরে চেয়ে রুষ্ট গলায় বলল,
“আমার হাতের গভীর ছোঁয়া তো এখনো দিইনি, দিলে সামলাতে পারবে তো ?”
‘হঠাৎ করেই শক্ত হয়ে গেল এলিজাবেথের চিবুক। সরু গলায় বলল,” স্ত্রী থাকতে অন্য মেয়েকে এসব নোংরা কথা বলতে লজ্জা করে না?”
“একটুও না ডার্লিং। জায়গার কথা, জায়গায়ই বলছি।”

‘ তৎক্ষনাৎ রিচার্ড এলিজাবেথের উপর ঝুঁকে চেপে ধরল ওর ওষ্ঠদ্বয়। রিচার্ডের অতর্কিত আক্রমণে হচকিয়ে যায় এলিজাবেথ। রিচার্ডের কাঁধে হাত দিয়ে ঠেলতে থাকে। তবে নাছোরবান্দা রিচার্ড। নিজের মর্জি মতো ছাড়ল। দু’হাতে ঠৌঁট চেপে হাঁপাতে থাকল এলিজাবেথ। নিজের সিটে গিয়ে বসল রিচার্ড। হাতের পিঠ দিয়ে মুছে নিল ঠৌঁট। গাড়ি স্টার্ট দিল আবার। কাঁদতে শুরু করল এলিজাবেথ আবারো। ঠৌঁট চেপে ধরে কান্নায় জর্জরিত আর ক্রোধ মিশ্রিত কণ্ঠে চেঁচিয়ে বলল,
“অসভ্য, অমানুষ একটা। আপনার ছোঁয়া বিষের থেকেও বিষাক্ত। সেখানেই স্পর্শ হয়,সেখানেই জ্বলসে যায়। ড্রাই লাগছে ঠৌঁট।”

‘রিচার্ড গাড়ি চালাতে চালাতেই নিরুদ্বেগহীন ভাবে প্রত্যুত্তরে বলল,” হুইচ ওয়ান বেবি?”
‘এক মুহুর্তের জন্য থমকালো এলিজাবেথ। রিচার্ডের দিকে চেয়ে বলল,”মানে?”
‘রিচার্ড মুখে কিছু বলল না। শুধু এলিজাবেথের দিকে চেয়ে ইশারা করল কিছু। চোয়াল ফাঁক হয়ে এলিজাবেথের দু’হাত আপনাআপনি মুখ চেপে ধরল। বিষাদে মুখ ফিরিয়ে নিল এলিজাবেথ। রিচার্ড তুষ্ট হেসে গাড়ি চালাতে থাকল।
“এই নিরাপত্তা দেওয়ার জন্যই আপনার সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন?”
‘রিচার্ডের আত্মবিশ্বাসী স্বর, “আমার সাথে থাকলে নিরাপত্তার কোনো প্রয়োজন নেই। আমি থাকলে তোমাকে কেউ ছুঁতেও পারবে না।”
“আপনি তো ছুঁবেন তাই না?”
‘থতমত খেয়ে যায় রিচার্ড। ভাবেনি এলিজাবেথ এভাবে মুখের উপর বলে দিবে। তবুও দমে না রিচার্ড। শক্ত গলায় বলল,

“হ্যাঁ ছুঁবো। একশোবার ছুঁবো। যখন ইচ্ছা, তখন ছুঁবো। যেভাবে ইচ্ছা, সেভাবে ছুঁবো। সে অধিকার আমার আছে।”
‘সংযম হারায় এলিজাবেথ। গলা ছেড়ে চেঁচাল,
“কি অধিকার, কিসের অধিকার?কোন মুখে এসব বলছেন। কবে থেকেই শুনে যাচ্ছি অধিকার, অধিকার? নিজের ওয়াইফ’কে গিয়ে দেখান না এতো অধিকার।”
“আমার স্ত্রী, যেন এক দুষ্প্রাপ্য রত্ন—গভীর সমুদ্রের তলদেশে লুকানো এক মহীয়সী সম্পদ। সে আমার জীবনকে এমন এক দিগন্তে পৌঁছে দিয়েছে, যা এতদিন আমার কাছে ছিল অগম্য। সহজে পাওয়া জিনিসের মূল্য মানুষ বোঝে না, আর সে তো সহজে পাওয়া নয়—তার মতো কেউ তো ভাগ্যের অনুগ্রহেই আসে। তবে চূড়ান্ত সত্য একটাই—শেষমেশ সে আমারই থাকবে, এই সত্য কোনো নিয়মে বাঁধা নয়, বরং চিরন্তন।”
‘থমকে গেল এলিজাবেথ রিচার্ডের কথায়। প্রত্যুত্তর করল না কোনো। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বাইরে। শোনা যায় শুধু নাক টানার শব্দ। তখনই ভেসে আসে রিচার্ডের টিটকারি মাখা স্বর,
“কেয়ারফুল ডার্লিং, ইউ অলমোস্ট লুক অ্যাজ ইফ ইউ কেয়ার।”

‘এলিজাবেথ সাথে সাথে রিচার্ডের দিকে ফিরল। ওর স্বর ভারি, গম্ভীর,বলল ” ফর হোয়াইট?”
“আমার ওয়াইফ, আমি ম্যারেড ব্লা ব্লা_।”
‘তাচ্ছিল্যের হাসি দিল এলিজাবেথ। রিচার্ডের চোখে চোখ রেখে রুষ্ট গলায় চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,
“আপনাকে তো আমি দুঃস্বপ্নেও দেখার কথার কথা চিন্তা করি না। সেখানে কিনা কেয়ার করব আপনি ম্যারেড না কি?_হাহ্ জাস্ট ফা*ক অফ।”
‘রিচার্ড ঘাড় নাচিয়ে হাসল। বিজয়ের উল্লাসের মতো হেসে বলল,” ওহ নো ডার্লিং, আই লাইক দ্যাট অ্যাটিটিউড।”
“গাড়ি থামান।”
‘রিচার্ড থামায় না। এলিজাবেথ চলন্ত গাড়ি থেকেই ডোর খুলে নেমে যাওয়ার চেষ্টা করে। রিচার্ডের রাগ আবার চেপে বসে মাথায় । ধমকাতে থাকল,
“রেড স্টপ।”
“গাড়ি থামান বলছি। থামান।”
“রেড আই সেইড, স্টপ।”
“গাড়ি থামান।”

‘বাধ্য হয়ে গাড়ি থামাতে হলো। রাস্তাটা ছিল একটা জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে সরু রাস্তা। রিচার্ড চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে এলিজাবেথের দিকে চেয়ে ঠৌঁট কামড়ে হাস্কি স্বরে বলল,
“তো এলি জান! জঙ্গলেই আজ মঙ্গল করা যাক?”
‘কে শুনে কার কথা, সাথে সাথে এলিজাবেথ ডোর খুলে ফেলে আসা রাস্তার দিকে দৌঁড় দিল। রিচার্ড ক্ষুব্ধ জন্তুুর মতো গাড়ি থেকে বের হয়। যেই পকেট থেকে গান বের করতে যাবে তখনই দেখে এলিজাবেথ কিছুদূর গিয়ে থামল। রিচার্ড কপাল কুঁচকে দেখতে থাকে এলিজাবেথের কান্ড। এলিজাবেথ রাস্তার পাশে ঘাসের মধ্যে থেকে একটা ছোট বিড়ালের বাচ্চা ওর দু’হাতের আজলায় তুলে নিল। এতোক্ষণ কাঁদতে থাকা মেয়ের মুখে হঠাৎ করেই হাসির রেখা ফুটে উঠল। রিচার্ড গান ওর কপালে ঘষে এগোতে থাকল এলিজাবেথের দিকে। হঠাৎ করেই এলিজাবেথ ফিরল রিচার্ডের দিকে ঠৌঁটে প্রসারিত হাসি নিয়ে। একগাল হেসে বলল,
“ওকে আমি আমার সাথে নিব। প্লিজ?”

‘রিচার্ড প্রস্তুত হচ্ছিল কয়েকটা ঝাড়ি দেওয়ার জন্য। সামান্য একটা বিড়ালের জন্য এমন বাচ্চামি! চলন্ত গাড়ি থেকে নেমে যেতে উদ্যত হয় কেউ_?। রিচার্ড দূর থেকে চিৎকার করে এলিজাবেথকে কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনই ঝড়ের বেগে কয়েকটা গাড়ি এসে ঘিরে ফেলে তাদের। মুহূর্তের মধ্যেই গাড়ি থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে বেরিয়ে আসে ছদ্মবেশী অস্ত্রধারীরা। রিচার্ড তৎক্ষণাৎ সতর্ক হয়, পকেট থেকে পিস্তল বের করে ধরে। কিন্তু এতজনের মধ্যে কাকে লক্ষ্য করবে? তা-ও রিচার্ডের চেহারায় ভয় বা দ্বিধার ছিটেফোঁটাও নেই। এমন পরিস্থিতি তাদের প্রফেশনে অপ্রত্যাশিত নয়।
হঠাৎ, একটি গাড়ি থেকে একজন বেরিয়ে এসে এলিজাবেথের গলায় ছু°রি ধরে। বিড়ালটাকে বুকে চেপে ধরে এলিজাবেথ আতঙ্কে চিৎকার করে উঠল, “আহহ!”
‘রিচার্ড চকিতে এলিজাবেথের দিকে ফিরে তাকাল। এক মুহূর্তেই চেহারায় রক্তিম ক্রোধ ছড়িয়ে পড়ল। রিচার্ড নিঃশব্দে পিস্তল তাক করল ঘাতকের মাথায়। কিন্তু সমস্যা একটাই—এখন গু°লি চালালে ছু°রিটা এলিজাবেথের গলায় বিঁধে যাবে। চারপাশে নিস্তব্ধ উত্তেজনা, বাতাসও থমকে গেছে। রিচার্ডের চোখে সিদ্ধান্ত ঝলকাচ্ছে—তার পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে এলিজাবেথের জীবন।
“কি তবে গ্যাংস্টার বসের দূর্বলতা পেয়েই গেলাম। হৃদয়হীন সেজে ইতালি কাঁপানো রাজার রাণীর দেখা তবে মিলে গেল ওয়াও ম্যান ওয়াও। তবে বলতেই হবে আগুন সুন্দরী রে তোর বউ।”
‘রিচার্ড হাতের নিশানা ঠিক রেখে ওর সেই ভারিক্কি গলায় চেঁচিয়ে বলল,” রিচার্ড কায়নাতের কোনে দূর্বলতা নেই। বাঁচতে চাইলে ছেড়ে দে ওকে।”

‘ছু°রিটি ক্রমশ এলিজাবেথের গলায় চাপ খেতে থাকে। এলিজাবেথের কাতর চোখজোড়া বড় আশা নিয়ে চেয়ে আছে রিচার্ডের দিকে। ছু°রি হাতের ছদ্মবেশী দাঁত কেলিয়ে হাসল।
“তাহলে মেরে দে এটাকে। নাকি ভালোবাসা খুব উতলে পড়ছে বৌয়ের উপর।”
“ও আমার কেউ না। আবারও বলছি ছেড়ে দে ওকে। আমার শাস্তি কতটা ভয়াবহ আসার আগে নিশ্চয়ই আমার সম্পর্কে জেনে এসেছিস৷”
” চো চো চো,, কেউ না? তবে কিসের এতো টানাপোড়ান।রিচার্ড কানয়াতের তো কাউকে মারতে ভাবার প্রয়োজন হয় না। মেরে দে এটাকে। প্রমাণ করে দে এই মেয়ে তোর কেউ না।”
“ঠাসসসসসস,,,।

‘মাটিতে লুটিয়ে পড়ল এলিজাবেথ। রিচার্ডের পিস্তল তখনও ওর দিকেই তাক করা। এলিজাবেথের চোখ ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে আসছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অবিশ্বাসে চেয়ে ছিল রিচার্ডের দিকে। সেই দৃষ্টি যেন বলছিল—এটা সে কখনোই কল্পনা করেনি। অন্যদিকে, ছদ্মবেশীর চোখেও বিস্ময়—সে-ও যেন এমন কিছু আশা করেনি। যা ঘটল, তা প্রত্যেকের কল্পনার বাইরে। তবে রিচার্ড জানত, এই পরিস্থিতি তাদের জন্য মৃত্যু নিশ্চিত। শত্রুদের আত্মবিশ্বাসী চোখগুলোতেও ভয় দেখা গেল। এরপর শুরু হলো রিচার্ডের প্রতিশোধ। একে একে শত্রুরা মাটিতে লুটিয়ে পড়তে থাকল তার নিখুঁত শুটিংয়ে। কিন্তু শত্রুরা হলো কই মাছের প্রাণ—এত সহজে মরে না। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া আর গোলাগুলির তীব্রতায় জায়গাটা রণক্ষেত্রে পরিণত হলো মুহূর্তেই। রিচার্ড গাড়ির আড়ালে আশ্রয় নিয়ে শত্রুদের সংখ্যা কমিয়ে আনছিল।

‘কিন্তু হঠাৎ করেই ওর গুলি শেষ হয়ে গেল। আর কোনো অস্ত্রও ছিল না রিচার্ডের কাছে। খালি হাতে এত শত্রুর মুখোমুখি হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। রিচার্ড কৌশল খাটানোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল, ঠিক তখনই শোনা গেল গাড়ির ব্রেক করার বিকট শব্দ। হঠাৎ ন্যাসোর আবির্ভাব ঘটল ঝড়ের মতো। মুহূর্তেই ন্যাসো গাড়ি থেকে বেরিয়ে পাখির মতো দু’হাত ছড়িয়ে শত্রুদের ওপর গুলি চালাতে শুরু করল। তার দ্রুত, নিখুঁত শুটিং শত্রুদের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টি করল। ন্যাসো রিচার্ডের দিকে একটি পিস্তল ছুড়ে দিল। রিচার্ড সেটি ধরে মুহূর্তের মধ্যে গাড়ির আড়াল থেকে বেরিয়ে ওপেনে শত্রুদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করল। চারপাশে গুলির বিকট শব্দে জায়গা কেঁপে উঠে, আর একে একে শত্রুরা মাটিতে লুটিয়ে পড়তে থাকে। দুই পুরনো সঙ্গী একসঙ্গে আবার লড়াইয়ের ময়দানে, যেখানে প্রতিটা মুহূর্ত জীবন-মৃত্যুর ওপর নির্ভর করছে।
“ইডিয়ট তোমার তো বাংলাদেশে থাকার কথা এখানে কি করছো ?”
‘ন্যাসোর অনবরত সুট করতে করতে রিচার্ডের দিকে এক পলক চেয়ে জড়তা-সংকোচ ভেঙে ঠাস করে বলে দিল,
“বস আমি বিয়ে করতে চাই।”
‘রিচার্ড ট্রিগারের হাত চেপে ধরে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,

“এদিকে এখনো আমার বউ নিয়ে টানাটানি,আর তুমি নিজের বিয়ের আবদার করছো। ক্যান্সেল তোমার নিয়ে।”
‘মুহুর্তেই চুপসে যায় ন্যাসোর মুখ। তবুও কমে না ট্রিগারে চাপের দৃঢ়তা। এরিমধ্য ফাঁক দিয়ে লুকাস এসে এলিজাবেথকে নিয়ে যায় হসপিটালে সেই কখনই। ওদের তিনজনের শরীরেই হিডেন মেশিন আছে। বিপদে পড়লে প্রত্যেকের কাছে সেই সংকেত চলে যায় তৎক্ষনাৎ। রিচার্ড’রা রিসোর্ট থেকে খুব বেশি দূরে আসেনি। তাই লুকাস অল্প সময়ের মধ্যেই এ জায়গায় এসে পৌঁছাতে পেরেছিল। দীর্ঘ পঁচিশ মিনিট গুলাগুলি পর সমাপ্তি ঘটল তাদের পক্ষ, বিরোধী পক্ষের ছোটখাটো যুদ্ধের।
‘ রিচার্ড গিয়ে দাঁড়াল সেই জায়গায়। সেখানে এলিজাবেথ লুটিয়ে পড়েছিল। ওর তাজা রক্ত শুকিয়ে মাটির সাথে মিশে গিয়েছে সেই জায়গায়। রিচার্ড সেখানে কিছু খুঁজতে থাকল। ন্যাসো ভ্রু কুঁচকে রিচার্ডের কার্যক্রম দেখতে থাকে।

ভিলেন ক্যান বি লাভার পর্ব ২৬ (২)

‘কিছুক্ষণ খুঁজার পরই রিচার্ড পেয়ে গেল জিনিসটি। বিড়াল খানাটি ভয়ে ঝোপের আড়ালে গিয়ে লুকিয়ে ছিল। এটি একদম ট্রিগারের বিপরীত, ধকধকে সাদা। রিচার্ড বিড়াল খানাটিতে তুলে নিল। আবারো হেঁটে গেল লাশ বিছানো রাস্তায়। একটা উপর আরেকটা লাশ পড়ে রয়েছে। রিচার্ড পা দিয়ে সরিয়ে সরিয়ে খুঁজে বের করল সেই ঘাতকটিতে। যে এলিজাবেথের গলায় ছু°রি ধরেছিল। খুঁজে বের করে রিচার্ড বুকের উপর পা রাখল মৃত লাশটার, অতঃপর গানে থাকা বাকি সবগুলি চালিয়ে দিল সরাসরি বুকে। ঝাঁঝড়া করে ফেলল একেবারে।

ভিলেন ক্যান বি লাভার পর্ব ২৭ (২)