ভিলেন ক্যান বি লাভার পর্ব ৪১
মিথুবুড়ি
‘মানুষ, কিন্তু নামের সাথে যুক্ত এক ভয়াবহ রূপ-মার্কো। রক্ত-মাংসে গড়া হলেও মানবিকতার ছিটেফোঁটাও নেই তার মাঝে। রাশিয়ার কুখ্যাত মাফিয়া সমাজে মার্কো পরিচিত এক জীবন্ত বিভীষিকা হিসেবে। প্রতিটি মানুষের জন্য সে জীবন্ত আজাব,বাস্তব অভিশাপ। পাপের সংজ্ঞাও তার নিষ্ঠুরতার কাছে ম্লান। মার্কো—রাশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর এবং অমানবিক মাফিয়া।
‘আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকারের নিস্তব্ধতা এক ভয়াল, ভারী চাদরের মতো ঘিরে রেখেছে চারপাশ। পয়ত্রিশ জন মেয়ের ভয়ার্ত রুদ্ধশ্বাস মিলেমিশে বাতাসকেও ভারি করে তুলেছে। প্রত্যেকের শরীর থরথর করে কাঁপছে, চোখে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি। কেউ বাবার রাজকন্যা ছিল, কেউ ভাইয়ের প্রাণাধিক প্রিয়। কেউ কেউ একদিন সমাজের আশা হয়ে উঠতে পারত। কিন্তু এখন? তারা খুব শীঘ্রই পরিণত হবে এক নিষ্ঠুর বাণিজ্যের পণ্যে।
‘এই মেয়েদের তুলে আনা হয়েছে পথঘাট, পার্ক, কিংবা নিরাপদ মনে করা জায়গা থেকে। তাদের কণ্ঠ রুদ্ধ করা হয়েছে ভয় ও নির্যাতনের শৃঙ্খলে। পরশুদিন রাশিয়া পাচার করা হবে ওদের। শুরু ওরাই না, আরো রয়েছে ৬৫জন মেয়ে। কয়েক ঘন্টার ব্যবধানের মাঝেই তাদের জীবনের গল্প এক ভয়ংকর অধ্যায়ে ঢুকে যাবে। একটি এমন অধ্যায়, যেখান থেকে ফেরার পথ নেই।
‘ফার্মহাউজের নিচে লুকিয়ে থাকা সেই আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকার যেন এক অভিশপ্ত কবর। যেখানে মানবতার চিহ্নমাত্র নেই। বাংকারটি বহু পুরোনো সেই সাথে সময়ের সঙ্গে আরও ভয়াল হয়ে উঠেছে। সাত বছর ধরে এই পুরো ফার্মহাউজটি রিচার্ডের দখলে। এখানেই তার নারী ব্যবসার অন্ধকার সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে। সবসময় মেয়েদের তুলে এনে এখানে একত্র করা হয়। পরে এখান থেকে তাদের প্রাচার করা হয় কিংবা ধনী খদ্দেররা এসে নিজ পছন্দমতো মেয়ে নিয়ে যায় চওড়া দামে।
‘মার্কো, রাশিয়ার ভয়ংকর মাফিয়া ডন।নিয়মিত এখান থেকে বড় চালান নিতো। প্রতিবারের মতো এবারও রিচার্ডের কাছে একশো মেয়ে চেয়েছিল সে। তবে সমস্যাটা শুরু হয় এখানেই। কোনোভাবেই সেই সংখ্যক মেয়ে জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছিল না। রিচার্ডের মাথায় অশান্তির ঝড় উঠেছিল। মার্কোকে ঠকানো মানে নিজের ব্যবসার কবর খোঁড়া। হিংস্র আর লোভী মার্কো লোস সহ্য করতে জানে না, আর আগাম টাকা নিয়েও রিচার্ড তাকে প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যর্থ হলে কী হতে পারে, কতোটা ভয়াবহ হতে পারে তা জানে রিচার্ড।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
‘মার্কোর চাপ রিচার্ডের শ্বাসরুদ্ধ করে তুলছিল। সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছিল তাও মেয়েদের সংখ্যা পূরণ করা অসম্ভব হয়ে উঠছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে রিচার্ড নিজের মুনাফার একটি বড় অংশ ছাড় দিয়ে টাকার পরিমাণও বাড়িয়ে দিয়েছিল। তবু ফলাফল শূন্য। এর মধ্যেই মার্কোর কানে গোপন খবর পৌঁছে যায়—রিচার্ড তার প্রতিশ্রুতি রাখতে পারছে না। হিংস্র মার্কো এক পর্যায়ে নিজেই বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেয়।
‘আর সেই খবর রিচার্ডের কানে পৌঁছাতেই যেন ওর মাথায় বজ্রাঘাত হলো। ফিরতি পথ থেকে তড়িঘড়ি করে ফিরে আসে এলিজাবেথ’কে এখান থেকে সরিয়ে ফেলার জন্য। রিচার্ড মার্কো’কে ভয় পায় না, ভয় পেয়েছিল মার্কোর নোংরা দৃষ্টিকে, ভয় পেয়েছিল এলিজাবেথের নিরাপত্তা নিয়ে। তবে ভাগ্যও রিচার্ডের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল। সবকিছু ঠিকঠাক করার আগেই বাঁধ ভেঙে যায় তাজুয়ারের ক্ষেত্রে। শেষ রক্ষার সব পরিকল্পনাই ছাই হয়ে যায় মুহূর্তে।
‘মার্কোর বর্তমান উপস্থিতি বাংকারের ভারী পরিবেশকে আরও অসহনীয় করে তোলে। তার উচ্চতা, দৃঢ় শরীরের গঠন, আর ভয়ংকর দৃষ্টি শয়তানের ছায়া হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে চারপাশে। ঠোঁটে চেপে ধরা মোটা সিগারেট থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। পাশে দাঁড়িয়ে আছে টম। মার্কোর বিশ্বস্ত সহযোগী, যার মুখেও একই নিষ্ঠুরতার ছাপ।
‘মার্কো ঘুরে ঘুরে ক্রদনরত মেয়েদের দেখছে। তবে তার চোখ বারবার গিয়ে আটকে যাচ্ছে রিচার্ডের দিকে তীব্র ঘৃণাভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা এলিজাবেথের উপর। এলিজাবেথের দৃঢ়তা আর চুপচাপ বিদ্রোহ মার্কোর দৃষ্টি এড়িয়ে যেতে পারছে না। রিচার্ড সটান নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে, পাশেই লুকাস আর ন্যাসো, দুজনেই গম্ভীর। বাংকারের পরিবেশ ভারি হয়ে আছে মেয়েদের কান্না ও অসহায় ফিসফিসে চিৎকারে। মার্কোর গার্ডদের নতুন করে ধরে আনা পঁচিশ জন মেয়ে নিঃশব্দ কাঁপছে ভয়ে। বাকি ৬৫ জন অন্য কক্ষে তালাবদ্ধ।
‘সব মেয়েদের পেছনে হাত বাঁধা অবস্থায় হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের মুখ কাপড়ে ঢেকে দেওয়া। চোখে আতঙ্কের নীরব ভাষা। চারপাশে মার্কোর গার্ডরা ভারী অস্ত্র নিয়ে সতর্ক দৃষ্টিতে টহল দিচ্ছে। জায়গাটিতে এমনই নিস্তব্ধতা যেন শ্বাস ফেলাটাও অপরাধ। মার্কো তীক্ষ্ণ চোখে এলিজাবেথ আর রিচার্ডকে দেখছে। ঠোঁটের কোণে ঝুলে থাকা সিগারেট মাটিতে ফেলে বুটের আঘাতে চাপা দিল সে। ভারী পদক্ষেপে এগিয়ে গিয়ে রিচার্ডের সামনে দাঁড়াল। রিচার্ড শান্ত, পাথরের মতো অনড়।
“এক সপ্তাহ সময় দেওয়ার পরও একশো মেয়ে জোগাড় করতে পারোনি। আই’ম সো ডিজাপয়েন্টেড ইন ইউ।”
‘রিচার্ডের গলা গম্ভীর, তবে দৃঢ়, “আমি সময় চেয়েছিলাম। অযথা আসার কোনো মানেই ছিল না।”
“আর কতোদিন সময় লাগতো?”
“জবাব দিতে বাধ্য নই।”
‘মার্কোর ঠোঁটের কোণে এক চিলতে বিদ্রুপ ফুটে উঠল।
“জবাব দিতে তো তুমি বাধ্য মিস্টার কায়নাত। একশো কোটি টাকার ডিলের প্রশ্ন এটা।”
“আমার নীতিতে জোরজবরদস্তি চলে না।”
‘রিচার্ড চোখে চোখ রেখে বলল। হঠাৎ একটা মেয়ের হুড়মুড়িয়ে কান্নায় পরিবেশের থমথমে নীরবতা চূর্ণ হলো। মার্কোর বডিগার্ড টম বিরক্তির সাথে এক গার্ডের কাছ থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে মেয়েটার দিকে এগিয়ে গিয়ে বুকে ভয়ানক এক লাথি মেরে ফেলে আঘাতের বন্যা বইয়ে দিতে থাকে। অশ্রু ও যন্ত্রণায় ভেঙে পড়ল বাকি মেয়েগুলো। তাদের কণ্ঠে করুণ আর্তনাদ। এই মেয়েগুলো—সবকটাই ফুলের মতো কোমল। এলিজাবেথের থেকেও ছোট। এলিজাবেথ নিজেই অসহায় অবস্থায় তাদের এই নিষ্পাপ কান্না দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারল না।
‘হামাগুড়ি দিয়ে দিয়ে টমের কাছে গিয়ে হাঁটুর দিকে মাথা দিয়ে আঘাত করতে থাকে। টম বিরক্ত হয়ে পা দিয়ে এলিজাবেথকে সজোরে দূরে ছুঁড়ে ফেলে দিল। এলিজাবেথ ছিটকে গিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ল। মুখ দিয়ে অস্পষ্ট একটা আর্তনাদ বেরিয়ে এলো। আগের ক্ষতচিহ্নগুলো নতুন ধাক্কায় রক্ত ঝরাতে শুরু করল।
‘রিচার্ড তখনও মার্কোর সাথে কথা চালিয়ে যাচ্ছিল। অকস্মাৎ এলিজাবেথের করুণ শব্দ কর্নপাত হতেই চকিতে সেদিকে তাকাল। কোনো দ্বিধা ছাড়া ছুটে গিয়ে এলিজাবেথকে সোজা করে বসালো। মুখের কাপড়টা খুলতেই এলিজাবেথের তীব্র কষ্ট ও হতাশার ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠল। রক্তে ভেজা মুখ। হঠাৎ রিচার্ডের মুখে ছিটকে পড়ল থুতুর দলা। উপস্থিত সবাই মুহূর্তে হতবাক। রিচার্ডের চোখমুখ খিঁচে উঠল। হাতের পিঠ দিয়ে থুতু মুছে নিতে নিতে অভ্যন্তরে ক্রোধের বিস্ফোরণ ঘটল।
‘মার্কো এক পাশে দাঁড়িয়ে রিচার্ডের প্রতিক্রিয়া লক্ষ করছিল। ঠোঁটের কোণে এক অদ্ভুত বক্র হাসি। রিচার্ড হিংস্রতার প্রকাশ করে হঠাৎ পেছনে হাত নিয়ে এলিজাবেথের চুল চেপে ধরল। তীব্র ব্যথায় এলিজাবেথ কুঁকড়ে গেল। চোখেমুখে ছিল ঘৃণা সাথে নীরব ব্যাথা।রিচার্ডের কণ্ঠে বরফে মোড়া আগুন, “গেঁড়ে দিবো একদম।”
‘এলিজাবেথ নিজের কষ্ট ভুলে আঘাত করল কথায়,
“জানোয়ার! নরপিশাচের বাচ্চা! ছেড়ে দে মেয়ে গুলোকে!”
‘তৎক্ষণাৎ রিচার্ড গলার কাছে শক্ত করে চেপে ধরল। ফিসফিসে গলায় চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,”তোর পরিণতিও খুব শীঘ্রই এই মেয়েদের মতো হতে চলেছে। তেজ কমিয়ে নে। বাঁচতে চাইলে ভবিষ্যতের জন্য ভালো হবে।”
‘মার্কো তখন পেছন থেকে গাঢ় স্বরে বলল,” ইউ গাইজ নো ইচ আদার?”
‘রিচার্ড এলিজাবেথকে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে উঠে দাঁড়াল। ঠাণ্ডা গলায় বলল, “নোপ।”
‘মার্কোর চোখে সন্দেহের ছায়া, কিন্তু ঠোঁটের কোণে বিদ্রূপ,”তাহলে সকালে ওটা কী ছিল?”
‘মার্কো ইঙ্গিত করল তাজুয়ার ঘটনাটা। রিচার্ড মুখে কোনো ভাব না এনে বলল, “আমি পথের কাটা রাখি না। যে আমার পথে আসবে, তার মৃত্যু নৃশংসই হবে।”
“তাই বলে একটা সামান্য কল গালের জন্য এত ক্ষোভ?!”
‘রিচার্ডের হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে উঠল তৎক্ষনাৎ। কণ্ঠ যেন বজ্রপাত, “ওয়াচ ইউর ওয়ার্ডস মার্কো। আমি কথা কম বলি, কাজ বেশি করি। নিজেকে সামলে রেখো।”
‘মার্কো চমৎকার হাসি দিল ,”রিল্যাক্স ম্যান! জোক করছিলাম। তবে মানতেই হবে, কড়া মাল। এই মেয়েটাকে আমার ভিআইপি ক্লায়েন্টের জন্য বুক করে নিলাম।”
‘মার্কোর লালসামাখা দৃষ্টিতে এলিজাবেথের দিকে তাকানো এলিজাবেথের ভেতর বিষাদের ঝড় তুলল। চিৎকার করে উঠল, “এত নিষ্ঠুর হবেন না! আল্লাহর দোহাই লাগে ছেড়ে দিন মেয়েগুলোকে!”
‘আরেকটা গার্ড এলিজাবেথের দিকে তেড়ে যেতে নিলে লম্বা শ্বাস ফেলল রিচার্ড ঘাড় ঘোরাতে ঘোরাতে। মাঝপথেই বুকের উপর শক্ত হাত চাপ দিয়ে গার্ড’কে থামিয়ে দিল লুকাস।
“উমহু! এই মেয়ে আমাদের আন্ডারে। যতোক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কাছে, এটা আমাদের দায়িত্ব।” লুকাসের গলায় স্পষ্ট সতর্কবার্তা।’
‘গার্ডটা একপা পিছিয়ে গেল। তবে এতে ক্ষিপ্ত হয় মার্কো। পিঠ পিছে গুঁজে রাখা গান বের করে এলিজাবেথের দিকে এগিয়ে যেতে নিলে বাঁধা দেয় রিচার্ড। দন্ডায়মান প্রাচীরের মতো এসে সামনে দাঁড়ায় মার্কোর। হুশিয়ারি দিয়ে বলল,
“মার্কো ডোন্ট ক্রস দ্য লাইন। ডিডন্ট ইউ হিয়ার হোয়াট হি সেড?
‘মার্কোর চোখে সন্দেহের ছায়া আরও গাঢ় হলো। ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে রিচার্ডের আরো নিকটস্থ হয়ে দাঁড়াল। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখল সমুদ্র নীল চোখে।
“শুনলাম বাতাসে নাকি ভাসছে গ্যাংস্টার বস রিচার্ড কায়নাত বিয়ে করেছে। তাহলে কি সেই সৌভাগ্যবান আমি, যিনি তোমার মিসেসকে দেখার সুযোগ পেলো?”
‘মার্কো বাঁকা হাসি দিয়ে একপলক তাকাল এলিজাবেথের দিকে। ওদিকে লুকাসের হাত ঘামতে শুরু করল। ন্যাসোর চোখে স্পষ্ট উদ্বেগ। সবাই চুপচাপ রিচার্ডের প্রতিক্রিয়া দেখার অপেক্ষায়। রিচার্ড হঠাৎ জোরে হেসে উঠল। ওর গলা যেন ভয় জাগানো অথচ আত্মবিশ্বাসে ভরা।
“আমার মিসেস? তার পা পল্লির আশেপাশে ঘোরার জন্য না। ব্যপথে যাওয়ার বয়স হতে হতেই সিল মেরে দিয়েছি। এখন ঘুরবে শুধু আমার সাথে। সারা পৃথিবী ঘুরবে। আর তার মুখ দিয়ে যেটা বের হবে, আমি সেটাই পূরণ করব। এন্ড ইয়েস দেয়ার ইজ নো ফা’কিং বুলশিট।”
‘এলিজাবেথ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকল রিচার্ডের
দিকে। ভেতরের দ্বন্দ্ব আর শূন্যতায় নিমজ্জিত। চোখের কোণে একফোঁটা সুপ্ত আলোর মতো লুকিয়ে থাকা মৃদু ভালোলাগা, যা মুহূর্তে উজ্জ্বল হতে পারত। তা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল। অক্ষিপট ছাড়িয়ে গিয়ে সেই আলোর জায়গা নিল এক অদ্ভুত শূন্যতা। একেবারে শূন্যের কোটায় দাঁড়িয়ে থাকা নির্বিকার অনুভূতি।
ক্রিং ক্রিং ক্রিং।
‘হিলের জোড়া শব্দ ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। সকলের চোখ একসঙ্গে দরজার দিকে স্থির হয়ে গেল। রেড ভেলভেট শর্ট গাউনে আবৃত লাড়া হেলেদুলে সামনে এগিয়ে আসছে। ঠোঁটে লেপ্টে থাকা কড়া নোড রেড লিপস্টিক যেন ঘরের আলোটুকুও কেড়ে নিচ্ছে। এক মুহূর্তের জন্য সবাই স্তব্ধ,জ্বলজ্বল করে উঠল চোখ। এলিজাবেথের ভেজা চোখে একসঙ্গে তিক্ততা আর অপরিচিত এক সংকীর্ণতার ছাপ। অনুভূত হচ্ছিল এই দৃশ্যটা যেন ওর সমস্ত আত্মবিশ্বাসকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।
“আই মিসড ইউ সো মাচ বেবি।”
‘রিচার্ডের কণ্ঠে পিপাসার তীব্রতা। এগিয়ে গিয়ে লাড়ার কোমর জড়িয়ে ধরল রিচার্ড। হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল ন্যাসো, লুকাস। মার্কোর চোখে এক ঝলক সংশয় খেলে যায়। তবে কি তার ধারণা ভুল ছিল? এদিকে এলিজাবেথের শরীরটা যেন আস্তে আস্তে অসাড় হয়ে আসছে। বুকের ভেতর এক অদম্য ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
‘লাড়ার কোমর ধরেই ওকে সামনে টেনে নিয়ে গেল রিচার্ড। সবার চোখের সামনে দাঁড়িয়ে মার্কোর উদ্দ্যেশে এক চওড়া হাসি দিয়ে বলল, “মিট মাই ওয়াইফ।”
‘মার্কো স্তব্ধ! দাঁতে দাঁত চেপে মুখে জোরপূর্বক হাসি ফুটিয়ে তুলল,“হেই সে’ক্সি!”
‘লাড়া গালভরা হেসে মার্কোর দিকে তাকাল। “হ্যালো হ্যান্ডসাম!”
‘রুমের ভারী পরিবেশ আরও গাঢ় হলো। এলিজাবেথ নিরবে চোখ নামিয়ে নিল। এই দৃশ্য যে তার সহ্যের বাইরে। লাড়ার লাল লিপস্টিকের রঙ আর রিচার্ডের কোমর জড়িয়ে ধরা দৃশ্যটা যে ওর কাতর চোখ থেকে আর মোছার মতো ও নয়। লাড়ার আগমনে বাংকারের ভারী লোহার দরজা খুলতেই যেন এক মুহূর্তের মুক্তির স্বাদ পেল মেয়েটা। ভয়ে কাপতে থাকা হৃদয় নিয়ে ছুটে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করল সে। কিন্তু স্বপ্নের মতোই সব শেষ হয়ে যায় যখন গার্ডদের হাত তার ক্ষীণ শরীরটিকে শক্ত করে থামিয়ে দেয়। এক চিৎকারে ভেঙে পড়ে মেয়েটি। তবু চোখে ছিল জীবনের জন্য শেষ চেষ্টা।
‘মার্কোর চোখ দুটো শিকারি জানোয়ারের মতো জ্বলছে। তার নৃশংসতার সীমা এবার আর কিছুই ছুঁতে পারবে না। মেয়েটিকে গার্ডদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে নিষ্ঠুরতার চূড়ান্তে পৌঁছায়। মেয়েটাকে মেঝেতে ফেলে নিজের ভারী বুটের পায়ের নিচে পিষতে থাকে। বুট পরিহিত পা দিয়ে অনবরত আঘাত করতে থাকে স্পর্শকাতর জায়গা গুলোতে। মেয়েটির বুক থেকে মর্মভেদী আর্তনাদ বেরিয়ে আসছে। এক নিমেষে সমস্ত বাংকার জুড়ে এক শীতল আতঙ্কের ছায়া ফেলে। অন্য মেয়েদের গা শিউরে উঠে, নির্বাক চাহনিতে দেখতে থাকে সেই ভয়াবহ দৃশ্য। কেউ কাঁদতে চায়, কেউ চিৎকার করতে চায়, কিন্তু ভয়ে ঠোঁট কামড়ে সমস্ত শব্দ আটকে রাখে।
‘এলিজাবেথ আর চুপ থাকতে পারল না। তার ন্যায়বোধ, তার মাতৃত্ববোধ তাকে ঠেলে নিয়ে গেল এই নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে। ছুটে গেল মেয়েটিকে বাঁচাতে। কিন্তু তার আগেই রিচার্ড নিজের পশুসুলভ হাসি দিয়ে এক ল্যাং মেরে এলিজাবেথ’কে মাটিতে ফেলে দেয়। এলিজাবেথের চিৎকার সেখানকার প্রতিটি দেয়াল ভেঙে ফেলতে চায়। উঠে আবারও ছুটতে চাই কিন্তু রিচার্ড ওর পায়ের ওপর পা দিয়ে চেপে ধরে রেখেছে যাতে এক ইঞ্চিও নড়তে না পারে।
“জানোয়ারের বাচ্চা ! ছেড়ে দে মেয়েটাকে! আল্লাহ সহ্য করবে না।”—’এলিজাবেথের গলা ফেটে যায় চেঁচাতে চেঁচাতে। কিন্তু তার আহ্বান যেন শূন্যে হারিয়ে যায় শুধু। কেউ এগিয়ে আসে না, কেউ প্রতিবাদ করে না। প্রতিটি মুখে শুধু আতঙ্ক, প্রতিটি চোখে শুধু এক অসম্ভব ভয়।
‘মেয়েটি ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে যায়। তার নড়াচড়াও থেমে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে জায়গাতেই মরে পড়ে থাকে মেঝেতে। মেয়েটির নিথর শরীরের দিকে চেয়ে এক মুহূর্তের জন্যও এলিজাবেথ নড়তে পারে না। মাটিতে মুখ গুঁজে কাঁদতে থাকে অঝোরে। লাড়া পুরো দৃশ্যটি এক অদ্ভুত নির্লিপ্ততায় দেখছিল। তার ভিতরেও কিছু কাঁপছে। এমন ভয়ানক দৃশ্য, এমন নিঃসীম নিষ্ঠুরতা শক্ত হৃদয়ের অধিকারী তাকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। মার্কো হাঁপাতে হাঁপাতে মেয়েটির রক্তে ভেজা মুখের দিকে ক্ষিপ্ত চোখে চেয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তার চেহারার ওপর লেগে থাকা রক্তই তার রাক্ষসী মানসিকতার প্রতীক।
‘মার্কো ঘন নিশ্বাস ফেলে রিচার্ডের পাশে গিয়ে দাঁড়াল। মুখে কোনো কথা নেই, চোখে শুধু অস্পষ্ট এক নৃশংসতার ছায়া। রিচার্ডের লোকেরা মেয়েটির নিথর শরীর সরিয়ে ফেলতে ব্যস্ত। কারও চোখে অনুশোচনা নেই, কারও মুখে ভয় নেই। বরং এটা তাদের কাজ নিয়মিত রুটিনের অংশ। মেয়েটির ক্ষতবিক্ষত দেহকে একটি পুরোনো কাপড়ে মুড়ে ফেলে টেনে নিয়ে যাচ্ছে তারা যেন একটি ভাঙা পুতুল সরানো হচ্ছে।
‘টম যে এতক্ষণ নীরব ছিল চুপচাপ নিজের পকেট থেকে একটি সাদা রুমাল বের করে মার্কোর সামনে বাড়িয়ে ধরল। মার্কো নিজের রক্তে ভেজা মুখ মুছতে শুরু করল। পরিবেশ কিছুটা ঠান্ডা হতেই টম মার্কোর কানের কাছে গিয়ে কিছু বাইনা ধরল। মার্কো তাকে চোখ রাঙাল, তৎক্ষণাৎ চুপসে গেল টম। দুষ্টু হাসি ছড়িয়ে মার্কো রিচার্ডের দিকে চাইল। ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলল,
“বি কেয়ারফুল টম, দিস ফাকিং হো’র ইজ ফর মি।”
‘এক মুহূর্ত থেমে,
“তো মি. কায়নাত ফার্মহাউসের সবচেয়ে বড় কামরা আমার জন্য সাজানো হোক। টম ডিনারের জন্য অন্য কিছু চুজ করো। মাই সোল সিক্স সলেস, অ্যান্ড মাই বডি ইয়ার্নস ফর পিস উইদিন হার্স।”
‘বলার সঙ্গে সঙ্গে টম গিয়ে সবথেকে উজ্জ্বল রাঙা মেয়েটার উপর ঝাপিয়ে পড়ল। বাজে ভাবে এলোমেলো ছোঁয়াতে ভরিয়ে দিতে থাকে। বাকি মেয়েটার চোখের সামনে এই জঘন্য অপ্রীতিকর দৃশ্য থেকে মাথা নুইয়ে ফেলে। বুক ফেটে কান্না আসে এলিজাবেথের। তবে সে অক্ষম। ন্যাসো, লুকাস নিরব নত দৃষ্টি নিবিষ্ট করে রেখেছে।
‘মার্কোর কথার ইঙ্গিত বুঝতে বেশি সময় লাগল না রিচার্ডের। চোখে ক্রোধের ঝিলিক তবুও মুখে ঠান্ডা হাসি। মার্কো ক্রমশ ক্রন্দনরত এলিজাবেথের দিকে এগিয়ে যেতে নিলে এর আগেই রিচার্ড গলা উঁচিয়ে বলে উঠল,
“আমার রাজ্যে সবচেয়ে বড় কামরা আমার জন্যই বরাদ্দ। আগে আয়েশ করে, তারপর নাহয় অন্যদের বিষয়ে ভাবব।”
‘লাড়া এইসব দেখে নীরব দর্শক হয়ে রইল। ভেতরটা জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। অযাচিত কারণে জমে থাকা কষ্ট যেন বিস্ফোরণের অপেক্ষায়। রিচার্ডের কথায় মার্কোর চোখে ক্রোধ ফুটে উঠলেও নিজেকে সংযত রাখল। রিচার্ড এবার লাড়ার কোমর ছেড়ে কাঁধে হাত রাখল। হাস্কি স্বরে বলল,
“লেটস গো বেবি! তুমি আজ শাস্তি পাওয়ার যোগ্য, এত দেরি করার জন্য। ইউর ফা’কিং সেন্স অফ টাইম নিডস টু গেট রেক্ড।”
‘রিচার্ডের সংস্পর্শে আসার পরেও আজ লাড়ার খুব অস্বস্তি হচ্ছে। মুখ তুলল এলিজাবেথ। হতভম্ব দৃষ্টিতে চেয়ে আছে রিচার্ডের দিকে। রিচার্ডের সংস্পর্শে লাড়া। অবিশ্বাস আর যন্ত্রণায় ভরা চোখ। এলিজাবেথ ভেজা কণ্ঠে চিৎকার করে উঠল,
“আপনি এমনটা করতে পারেন না!”
‘রিচার্ড থামল। পেছন ফিরল। কিন্তু লাড়াকে ছাড়ল না, বরং আরও শক্ত করে নিজের কাছে টেনে নিল। পরপর এলিজাবেথের দিকে চেয়ে শক্ত কণ্ঠে বলল,
“হু দ্য হেল আর ইউ, বি,,,?” একটা বিশ্রী গালি দিতে গিয়েও থেমে গেল রিচার্ড।’
‘এলিজাবেথের কণ্ঠ কাঁপছে । ভাঙা গলায় সে আবারও বলল, “না, আপনি এমনটা করতে পারেন না।”
‘রিচার্ড তীক্ষ্ণ হেসে বলল, “হ্যাঁ, আমি পারি! আর তোকে সামনে রেখেই করে দেখাব।”
‘এই বলে রিচার্ড লাড়ার দিকে ঝুঁকে কিস করতে গেলে এলিজাবেথ পায়ের কাছে পড়ে থাকা একটি পাথর তুলে রিচার্ডের দিকে ছুঁড়ে মারল। পাথরটা গিয়ে রিচার্ডের মাথায় লাগল। উপস্থিত সবাই শিউরে উঠল। রিচার্ডের চোখ রক্তবর্ণ হয়ে উঠে মুহুর্তেই। মুষ্টিবদ্ধ হলো হাত তৎক্ষনাৎ। থেমে যাওয়া মস্তিষ্ক যেন ফের জেগে উঠল তার চিরাচরিত পৈশাচিক রূপে। বিদ্যুৎবেগে এলিজাবেথের দিকে ছুটে গিয়ে ওর গলায় পাড়া দিয়ে ধরল রিচার্ড। প্রচণ্ড রাগে হিংস্র গলায় চেঁচিয়ে উঠল,
“সাহস আর মুখ খুব ছুটছে তাই না?”
‘এলিজাবেথের নাক দিয়ে গরম রক্ত গড়িয়ে পড়ল। দম বন্ধ হয়ে এলে মাটিতে হাত-পা ছুঁড়তে থাকে। এবার বাকি মেয়েরা সবাই শব্দ করে কেঁদে উঠল। সকলের কান্নার শব্দে কেউ কেউ কানে হাত চেপে ধরে। রিচার্ডের চোখে শূন্য দৃষ্টিতে জমে রয়েছে ক্রোধের পাহাড় অটুট। কোমরে গোঁজা বন্দুক বের করে বেপরোয়া ভাবে সিলিংয়ে সুট করতে থাকে। এলিজাবেথের নিশ্বাস ফুরিয়ে আসছিল। তার নিথর দেহের চারপাশে নেমে এলো আতঙ্কের এক চিরন্তন নীরবতা।রিচার্ডের কঠোরতায় আজ বিস্মিত ন্যাসো, লুকাস। কণ্ঠনালি থেকে পা সরিয়ে হাঁটু গেঁড়ে বসল রিচার্ড। চুলের মুঠি ধরে এলিজাবেথ’কে টেনে তুলল। উগ্রতা ভেঙে হিংস্র প্রাণীর মতো গর্জে উঠল,
“নিজের জন্য এতো ভয়ংকর মৃত্যু ডেকে আনিস না।”
‘গলার মধ্যে শব্দ আটকে গেছে, বেরোচ্ছে না বাইরে। তবুও এলিজাবেথ রিচার্ডের দাহিত মরুভূমির দিকে নির্বিকার চোখে তাকিয়ে অশ্রুবিহীন আতর্নাদে বলল,
“আপনি আমার সাথে এমনটা করতে পারেন না।”
“কেন পারি না, কে তুই?”
“আপনি পারেন না আমাকে ঠকাতে। আমি আপনার,,,,
‘এলিজাবেথের মুখ চেপে ধরল রিচার্ড। আড়চোখে তাকিয়ে দেখল পিছনে মার্কো দাঁড়িয়ে। শক্ত ঢোক গিলল রিচার্ড। এলিজাবেথের মুখ খুব কাছে নিয়ে কানে কানে হিসহিসিয়ে বলল,
“তুই কি ভেবেছিস তোর মতো নাচনেওয়ালির মেয়েকে আমি ভালোবাসবো!এই রিচার্ড কায়নাত?”
“আমার মম নাচনেওয়ালি না।”
‘রিচার্ড ঠোঁট কামড়ে হাসল। অতঃপর আরও শক্ত করে চুলের মুঠি ধরল। একে একে শব্দ করে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,
“চড় মেরেছিলে আমাকে সবার সামনে মনে আছে? নিয়ে নিলাম প্রতিশোধ। এবার বুঝলি রিচার্ড কায়নাতের প্রতিশোধ কতোটা ভয়ংকর হয়?”
‘এলিজাবেথের কণ্ঠে প্রাণ নেই। “তাই বেচে দিলেন আমায়?”
“হ্যাঁ, দিয়েছি। তাও চওড়া দামে।”
“তাহলে কি ছিল কালকের মুহূর্তগুলো? সব কিছু কি তবে মিথ্যে ছিল? ঐ ছবিগুলোতে আপনার চোখর ভাষা স্পষ্ট বলে দিচ্ছিল আপনি আমাকে ভালোবাসেন। সব নাটক?”
“হ্যাঁ! পুরোটাই ছলনা,প্রতারণা।”
”ইজ দেয়ার আ প্রাইভেট কনভার্সেশন গোইং অন হিয়ার? সো মিস্টার কায়নাত মাই সাস্পিশন্স ওয়াজ কারেক্ট?”
‘মার্কোর রিচার্ডের খুব নিটকে দাঁড়িয়ে সন্দেহভাজন কণ্ঠে আওড়ালো। বিদঘুটে হাসি দিল রিচার্ড।
“মার্কো আর ইউ জোকিং উইথ মি? ইউ আর ডাউটিং মি ওভার এ প্রোস্টিটিউট গার্ল? ক্যান্ট ইউ সি দ্য স্মার্ট এন্ড এলিগ্যান্ট গার্ল স্ট্যান্ডিং ইন ফ্রন্ট অব ইউ? লারা ইজ পারফেক্ট ফর মি।”
‘মাথা নুইয়ে ফেলল লাড়া। তার আজ এসব কিছুই ভালো লাগছে না। শরীরে বিষের মতো বিঁধছে। বিঁধছে এলিজাবেথের বুকে রিচার্ডের প্রতিটা কথা। নরকের যন্ত্রণার আহাজারিময় শূন্য বুকে দ্বিধাহীন ভাবে চেয়ে আছে রিচার্ডের দিকে। অভিব্যক্ততে খানিকটা আভা দিচ্ছে ভিতরের তোলপাড়। মার্কোর কণ্ঠে আরো গম্ভীর হলো।
“সো হুয়াই ইজ ইট টেকিং সো লং? ইজ রিচার্ড কায়নাত শোইং উইকনেস ফর আ মিয়ার মার্কেট গার্ল?”
“ফা’ক অফ মার্কো। রিচার্ডের সাথে দূর্বল শব্দটা যায় না।”
‘রিচার্ড বজ্রকণ্ঠে চেঁচিয়ে উঠল। চোখে তার হিংস্র আগুনের ঝলক। এলিজাবেথের চুল মুঠো করে টেনে তুলে সকলের উদ্দেশ্য চিৎকার করে বলল,
“হু ওয়ান্টস টু স্পেন্ড টাইম উইথ হার?”
‘সমগ্র বাংকার নীরবতায় ছেয়ে গেল। এতোক্ষণে গিয়ে মার্কোর ঠৌঁটে সন্তুষ্টজনক হাসি ফুটে উঠল। মার্কো ঠোঁটে বিকৃত হাসি নিয়ে এগিয়ে আসতে চাইলে রিচার্ড হাত তুলে থামিয়ে দিল। কণ্ঠ কঠিন, চেহারায় পাথরের ছাপ,
“নো, মার্কো। দাসীর সাথে দাস ই যায়। মুনিব নয়।”
‘মার্কোর মুখ কালো হয়ে গেল। অপমান হজম করতে হলেও সে আর কিছু বলল না। রিচার্ড আবারও চিৎকার করল,
“কে থাকতে চাই?”
‘একজন গার্ড নিজেকে আর সামলাতে না পেরে সাহস করে হাত তুলল। রিচার্ড কোনো কথা না বলে গার্ডটার কলার চেপে ধরে। লাড়ার দিকে ইঙ্গিত করে চিৎকার করল,
“গো টু দ্য রুম অ্যান্ড ওয়েট। অ্যাণ্ড মেক শিউর ইউ’র ওয়্যারিং মাই ফেভারিট বি’কি’নি। আই’ম কামিং।”
‘লাড়া শুকনো গলায় ঢোক গিলে মাথা নুইয়ে চলে গেল উপরে। বাংকারের ভেতরও চারটি কক্ষ রয়েছে। রিচার্ড এলিজাবেথের চুলের মুঠি ধরে এবং গার্ডের কলার টেনে একটি অন্ধকার ঘরের দিকে এগোল। ন্যাসোর শক্ত হৃদয়ও কেঁপে উঠল এই নিষ্ঠুর দৃশ্য দেখে। পাশ ফিরে লুকাসকে কোথাও দেখতে না পেয়ে সে আরও হতবিহ্বল।
‘অবশেষে রুমে ঢুকেই রিচার্ড ওদের ছেড়ে দিল ওদের। এলিজাবেথ কাঁপা কাঁপা শরীরে রিচার্ডের দিকে ঘুরে দাঁড়াল। ওর ভিতর থেকে ভাঙা শব্দ ভেসে আসছে। চোখে মিশে ছিল অবিশ্বাস আর ভাঙা আশা। কণ্ঠেও সেই একই হতাশা,
“আমার এতো বড় সর্বনাশ করার কথা কিভাবে ভাবছেন?”
‘রিচার্ড কোনো জবাব দিল না। বরং, চোখের ইশারায় গার্ডটিকে নির্দেশ দিল,” ইউ হ্যাভ টু হাওয়ার্স।”
‘এলিজাবেথের ভেতরে এবার বিস্ফোরণ হলো। তেড়ে গিয়ে রিচার্ডের কলার ধরে চিৎকার করে উঠল,
“আপনি আমার সাথে এমনটা করতে পারেন না। আমি আপনার…..”
ভিলেন ক্যান বি লাভার পর্ব ৪০
‘কথাটা শেষ হবার আগেই রিচার্ড ওকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিল। রিচার্ডের চোখে আজ কোনো সংশয় বা মায়ার লেশমাত্র ছিল না। এলিজাবেথ ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে চেয়ে রইল দরজার দিকে, যা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল।পেছন থেকে একটি হাত এগিয়ে আসছে ওর কাঁধ স্পর্শ করতে। দম বন্ধকর শূন্যতায় ঢুকে গেল কক্ষে। দরজাটা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল, আর রিচার্ড চলে গেল।
‘দরজা একবার মিশে যাওয়া পর্যন্ত এলিজাবেথ চেয়ে ছিল এক বুক আশা নিয়ে। রিচার্ড আসবে, ওকে বাঁচাবে, কিচ্ছু হতে দিবে না। তবে তেমন কিছুই হলো না। সমাপ্তি হলো এক অমর, কাব্যহীন নাটকের। এক নির্জনতা, যা কেবল কান্নার ভাষায় লেখা।
