Home মায়াবতী মায়াবতী পর্ব ৫

মায়াবতী পর্ব ৫

মায়াবতী পর্ব ৫
ইসরাত জাহান ইকরা

মাটি মন খারাপ করে পুকুর পাড়ে বসে আছে। এভাবে কেউ কাউকে ধমক দেয়। এট্টু ভালো মতো কথা বললে কি হতো। মেহমিদ ভাইয়া ঠিকিই বলেছিলো, এর থেকে ফাজিল বজ্জাত লোক পৃথিবীতে একটি ও নেই। ওই বজ্জাতটার সামনেই যাবো না আমি কখনো। এমনকি কথা ও বলবো না। বসে বসে পুকুরের পানির দিকে তাকিয়ে এক মনে এসব ই ভাবছিলো মাটি, মেঘার ডাকে মাটির হুঁশ ফিরলো।

মেঘা_ কিরে, তোকে কতক্ষন ধরে ডাকছি, শুনিস না। এই দুপুর বেলায় পুকুর পাড়ে বসে কি করছিস, একটু পর প্রাইভেটে যাওয়ার সময় তোর। এখানে বসে না থেকে যা গিয়ে রেডি হো। আর শুন, আমি জারিনদের বাসা থেকে কিছু নোট আনতে যাইতেছি বুঝছিস, চাচী খুঁজলে আয়েশা কে বলিস আমায় খবর দিতে। এই বলে মেঘা চলে যেতে নিলে পেছন থেকে মাটি বলে উঠলো _এই আপু, আপু দাঁড়া।
মেঘা কপাল কুঁচকে বলে উঠলো _ হ্যা কি বলবি জলদি বল।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

মাটি _ জারিনদের বাসার সাথে না আলিফ ভাইদের বাসা?
মেঘা _ তো, কি সমস্যা?
মাটি _ নোট নিতে যাচ্ছিস নাকি আলিফ ভাই কে দেখতে। না মানে পরে তিশা কে আলিফ ভাইয়ার পাশে দেখলে সহ্য করতে পারবি তো?
মেঘা_ দেখ মাটি সামনে আমার ইয়ার চেঞ্জ পরিক্ষা, আর কারো নাম আমার সামনে উচ্চারণ করবি না তো। যা এখান থেকে।
মাটি আর কিছু না বলে বাড়ির দিকে দৌড় দিল। মেগা একটা লম্বা নিঃশ্বাস ফেলে জারিনদের বাড়ির উদ্দেশ্যে হাঁটতে লাগলো।

এদিকে, বাড়ির উঠানে পা মাটি পা দিতেই, রাহিমা বেগমের সামনে এসে পড়লো। রাহিমা বেগম মাটি কে দেখে বলে উঠলো _ নাবাব নন্দিনী, যে যার মতো খাচ্ছে দাচ্ছে, আর ট‌ইট‌ই করে ঘুরছে। বলি বাড়ির কাজ কি তোদের মরা মা এসে করে দিয়ে যাবে।

মাটি মুখ ভেংচি কেটে বলে উঠলো _ কেন, আপু তো অর্ধেক কাজ করে দিয়ে তো গেলোই। আর সরো তো দেখি, আমার প্রাইভেট আছে। এখন জেঠা জেঠি ঘুমুচ্ছে, সেই সুযোগের অসৎ ব্যবহার করো না তো। যাও ওদের সামনে এমন আচরণ করো। দেখি সরো তো সামনে থেকে।
রাহিমা বেগম রেগে বলে উঠলো _ তোরা কি অর্ধেক গিলিস, এই বাড়িতে থাকতে হলে আমার কথা মতো চলতে হবে। না হলে……আর প্রাইভেট পরাচ্ছি তোকে প্রাইভেট। বাড়ি থেকে এক পা ও নড়বি না, দুই বোন মিলে রান্না বান্না থেকে শুরু করে সব করবি।

মাটি মুখ বাঁকা করে বলে উঠলো _ পারবো না, আর কাজের বেলায় তো কোন প্রশ্ন‌ই আসে না। দেখি সরো তো। এই বলে মাটি রাহিমা বেগমের পাশ কেটে যেতে নিলে, রাহিমা বেগম রেগে মাটির চুলের মুঠি ধরে যেই থাপ্পর মারতে যাবে, ওমনি মাটি চিৎকার করে বলে উঠলো _ ওও জেঠি গো মেরে ফেললো গো। সাথে সাথে রাহিমা বেগম হকচকিয়ে গেল, সাথে সাথে মাটি কে ছেড়ে দিতেই, মাটি সিরির দিকে দৌড় দিল।।

রাহিমা বেগম বলে উঠলেন _ আমার বড় মেয়েটা আসুক দাঁড়া, তারপর তোদের ব্যাবস্থা করছি।
মাটি দুতালায় উঠে নিচে তাকিয়ে বলে উঠলো _ কচু করবে। এই বলে মাটি হাসতে হাসতে নিজের রুমের দিকে চলে গেল।
এদিকে রাহিমা বেগম রাগে ফুঁসতে লাগলো।

মাটি ঘরে এসে এক ডিল দিয়ে ওড়োনা টা বিছানায় ছুড়ে ফেললো। তারপর আয়নায় সামনে এসে চুল গুলো খুলে নিজেকে বিভিন্ন এ্যাঙ্গেলে দেখতে লাগলো।
আর বলতে লাগলো _ আজকে তুই প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিস মাটি, নতুন জায়গা, নতুন টিচার। সুন্দর করে সেজেগুজে যাবি, ।
মাটি আয়নার সামনে থেকে সরে ওয়াশ রুমে গিয়ে ড্রেস চেঞ্জ করে আসলো। গান গাইতে গাইতে রেডি হতে লাগলো।

মাটি _ তোমায় দেখলে মনে হয়,, হাজার বছর তোমার সাথে ছিল পরিচয় বুঝি,ছিলো পরিচয়। তেরি মেরি গাল্লা হগে মাশবুর, পিছে চালিয়ে কিউ পিছে চালিয়ে………..
তখনি দরজার পাশে হেলান দিয়ে মাহিদ বলে উঠলো _ বাহ, বাংলা গানের মাঝে হিন্দি মিক্স। তাও আবার উল্টা পাল্টা। এই গানের সিংগার বুঝি হিরো আলম।

সাথে সাথে মাটি ভরকে গেল,,,এক লাফ দিয়ে বিছানা থেকে ওড়না নিয়ে গায়ে দিয়ে নিজেকে ঠিকঠাক করে নিল মাটি ___তারপর চোখ বন্ধ করে মাটি বলে উঠলো _ আল্লাহ গো, তুমি এই বজ্জাতটার সামনে আমার মান ইজ্জত সব ধুলিসাৎ করে দিলে। আর কি দোষ দেই তোমার, সব দোষ তো আমার আমি কেন গান গাইতে গেলাম। ছিঃ ছিঃ ছিঃ সব শুনে ফেললো হারামি টা। কিন্তু এই অসভ্য টা আমার রুমে কি করছে। বলেই ফট করে চোখ খুলে পিছনে ঘুরে দরজার দিকে তাকালো। দেখতে পেলো মাহিদ দরজায় হেলান দিয়ে, মিটিমিটি হাসছে আর একটু পর পর বাতাম ছুলে একটা একটা করে মুখে পুরছে।

মাটি বলে উঠলো _ আপনি এখানে কি করছেন, বলেছি না আমি আপনার সামনে যাবো না। কখনোই যাবো না, যা করেছি সরি, ভুল হ‌ইছে। এখন এখান থেকে রাস্তা মাপেন।
মাহিদ ভ্রু কুঁচকে ঠোঁট দুটো আফসোসের সুরে বলে উঠলো _ তাই,মাটি। কিন্তু আমি তো তোমার পিছন ছাড়ছি না। আমাকে যতটুকু জ্বালিয়েছো, আমি সেটার উশুল মাশুল দুটোই নিবো।
মাটি বিরক্ত হয়ে বলে উঠলো _ এহ,সরেন তো। ক‌ই থেকে আসছে যান,সরেন। আর আমার নাম জানলেন কি করে, আর নাম জানাটা ও কোন ব্যাপার না।

মাহিদ দরজায় এক পা দিয়ে আটকিয়ে বলে উঠলো _ শুধু নাম না, আমি সব‌ই জানি। কীভাবে এই বাড়িতে,কি সিচুয়েশনে থেকেছো সেটা ও জানি। এখন বলো তো পিচ্চি ক‌ই যাও, এতো সেজেগুজে।
মাটি চোখ বড় বড় করে বলে উঠলো _আরে দরজা আটকে দাঁড়ালেন কেন। সরুন তো, আমি প্রাইভেটে যাবো। সরুন সরুন

মাহিদ _ কোন টিচার, ক‌ই থাকে। আমায় সব ডিটেইলস বলো।
মাটি ভেংচি কেটে বলে উঠলো _ আপনাকে বলতে যাবো কোন দুঃখে। আপনি না জায়গা দিলে আমি আপনার উপর দিয়ে যাবো। ঢং।

এই বলে মাটি মাহিদের সামনে এসে দাঁড়ালো। মাহিদের পায়ের উপর দিয়ে যেতে নিলে। মাহিদ খপ করে মাটির ওড়োনা ধরে ফেললো। এক টানে ওড়না খুলে বিছানায় ছুড়ে ফেললো। মাটি দৌড়ে যেতে নিলে খপ করে মাটির হাত ধরে ফেললো। হাত টেনে রুমের ভিতর নিয়ে এসে দরজা লাগিয়ে দিল।
এদিকে মাটি হতভম্ব হয়ে গেল মাহিদের এহেন কান্ডে। মাহিদ রেগে ফুলে আছে।
মাহিদ ফট করে মাটির গাল চেপে ধরে বলে উঠলো_ আমার উপর দিয়ে যেতে চাও। এতো বড় সাহস, আমার চেয়ে ঘ্যাড়তেরা সাজতে চাও। কি জিগ্গেস করেছিলাম বলো, বলো বলছি।
মাটি ভয়ে ভয়ে গড়গড় করে সব বলে দিল। মাহিদ মাটি কে ছেড়ে ফোন বের কাউকে ফোন দিতেই ওপাশ থেকে বলে উঠলো _ হ্যালো দোস্ত বল।

মাহিদ _ আতিক শুন, সামনের পাড়ার ফারুক মাস্টারের ছেলে ইয়াসির কে চিনিস। সেই ছেলে টা প্রাইভেট টিউটর হিসেবে কেমন, খুঁজ নিয়ে জানা তো।
ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলে উঠলো _ খুঁজ নিতে হবে না, আমি ভালো মতো চিনি একে। ভালোই পড়ায় তবে সুন্দরী মেয়ে দেখলে কন্ট্রোলে থাকতে পারে না। প্রেমের ফাঁদে ফেলে যা হোওয়ার হয়….বুঝছিস না। শুনেছি একটি মেয়ে নাকি আত্মহত্যা ও করছে।
মাহিদ _ বুঝছি, thanks bro.
আতিক _ it’s okay.

এই বলে কল কেটে দিলো মাহিদ। তারপর কপাল কুঁচকে মাটির দিকে তাকালো। মাটি জরোসরো হয়ে খাটের এক কোনায় দাঁড়িয়ে র‌ইলো।
মাহিদ মাটির উদ্দেশ্য বলে উঠলো _ শুনেছো এখন। আমার উপর ডিঙিয়ে তো যেতে নিচ্ছিলে।
মাটি রাগ করে বলে উঠলো _ শুনছি, ঠিক আছে আমি প্রাইভেট ও আর পরবো না, বাড়িতে ও পরবো না। ক্লাসে ও যাবো না, ফেইল করে বসে থাকবো।
বলেই মাটি ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে দিলো।‌ এখন আমার কি হবে, জীবনে ও আর কলেজে উঠতে পারবো না, ভার্সিটি তে ও পড়ার স্বপ্ন , স্বপ্ন‌ই রয়ে যাবে।
মাহিদ _ হ‌ইছে আর ন্যাকা কান্না করতে হবে না। ফেইল ও করা লাগবে না। কেমন যে পড়াটেওয়ালি আজ তার প্রমাণ হবে। রাতে ব‌ই নিয়ে বসবে, আমি পড়াতে আসবো।
এই বলে মাহিদ চলে গেল।
এদিকে মাটি রেগে বলে উঠলো _ আমার ছাতার মাথা পড়াবে। ইশশ আমার বাইরে বেরুনো আর হলো না, এই সুযোগে বান্ধবীদের নিয়ে ঘুরতে যেতাম ধ্যাত। এই বলে রেগে মাটি বিছানায় বসে পড়লো।

এদিকে মেঘা জারিনদের বাসায় পৌছে গেল। জারিনের কাছ থেকে কিছু ইমপোর্টেন্ট নোট নিয়ে,জারিনের সাথে কিছু কথা বলে, বিদায় জানিয়ে মেঘা চলে যেতে নিলো।
জারিনদের ঘর থেকে উঠানে বেরুতেই জারিনের মা মেঘা কে ডেকে বলে উঠলো _ চলে যাচ্ছিস মেঘা, কিছু খেয়ে যা।

মেঘা না সূচক মাথা নাড়িয়ে বলে উঠলো _ কাকি আজ না। এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে। চাচী খুঁজছে হয়তো, বাসায় কিছু কাজ আছে। এখন যেতে হবে।
জারিনের মা বলে উঠলো _ ঠিক আছে, আরেকদিন আসিস।
মেঘা _ আচ্ছা বলে , ওদের থেকে বিদায় জানিয়ে চলে গেল।
_গ্ৰামের মেঠুপথ পেরিয়ে, ধানক্ষেতের মাঝখান দিয়ে যাওয়ার সময় মেঘা আলিফ আর তিশার কে দেখতে পেলো। একসাথে ওদের দেখতে পেয়ে মেঘা থমকে দাঁড়ালো। না চাইতে ও এদের সামনে পড়ে গেল।

এদিকে আলিফ মেঘা কে দেখে রিতিমত একটা শক খেলো। আজকে মেঘার সাজপোশাক ভিন্ন। যে মেঘার জামাকাপড় নেই বলে মায়ের পুরাতন শাড়ি পরে থাকতো, আয়েশার বড় বোনের ব্যাবহার করা থ্রী পিছ পড়তো, মাথায় সব সময় ওড়োনা দিয়ে রাখতো। গায়ের কাপড় থাকতো সেলাই করা, সেই মেঘা আজ গোলাপী রঙের নতুন থ্রী পিচ পড়ে আছে,থ্রী পিচে ছোট ছোট পাথর দিয়ে কাজ করা। চুল গুলো আর খোলামেলা, মুক্ত বাতাস জেনো মেঘার হাঁটু অব্দি চুল নিয়ে খেলা করছে। সদ্য গোসল করে আশায় জেনো মেঘার গায়ের রং ভিশন গ্লো করছে। এক নেশা ধরার মতো আলিফ কে জেনো টানছে।

এভাবে হা করে তাকিয়ে থাকায়, মেঘা আলিফের ভাবমূর্তি বুঝতে পারলো। এই পোশাক টা জেঠি দিয়েছিল,সেটাই আজ পড়েছে মেঘা। মেঘা আলিফ আর তিশার পাশ কেটে যেতে নিলে আলিফ বলে উঠলো _ আগের থেকে তোকে সুন্দর লাগছে মেঘা, এতো সুন্দর তুই।
মেঘা রেগে বলে উঠলো _ নিজের পাশে ব‌উ রেখে অন্য মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকা এবং প্রশংসা করা বেহায়াপনামি ছাড়া আর কিছুই না।
পাশ থেকে তিশা রেগে বলে উঠলো _ আলিফ কি বলছো তুমি এসব। এটা তোমার সেই এক্স না। এখন দেখেই প্রেম উতলিয়ে উঠছে।

আলিফ থতমত খেয়ে বলতে লাগলো _ তোমায় কে বলেছে।
তিশা _ তোমার ছোট বোন বলেছে এবং পিক ও দেখিয়েছে। এসব কি আলিফ,।
এদিকে ঘৃনায় শরীর রিরি করে উঠলো মেঘার, এক মূহুর্ত এখানে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করে এদের চেহারা দেখতে চায় না মেঘা, তাই হেঁটে সাঁকোর কাছে চলে আসলো। জারিনদের বাসায় যেতে পথিমধ্যে এই সাঁকো টা পড়ে।
পিছন থেকে তিশা বলে উঠলো _ এই মেয়ে, খবরদার আমার জামাই সামনে আসবে না। লজ্জা থাকলে আজকে এই মুখ দেখাতে আসতে না, ।

এবার শরীরে আগুন ধরে গেল মেঘার। মেঘা বাঁশের সাঁকো তে পা রেখে বলে উঠলো _ লজ্জা আপনাদের থাকা উচিত, এতো লজ্জাবতী নারী, এবং চরিত্র বান পুরুষ, এমন চরিত্র বান পুরুষ কে ঘর থেকে বের হন কেন, অন্য চেহারা দেখে নির্লজ্জের মতো কথা বলে।
তিশা রেগে বলে উঠলো _ কি বললে আমার জামাই কেরেক্টারলেস। এই বলে বাঁশের সাঁকো যে ঝাঁকি দিয়ে বলে উঠলো _ পাড়ে এসে কথা বল, । মেঘা তাল সামলাতে না পেরে হাত ছেড়ে দেয় আর সাথে সাথে পানিতে পড়ে যায়।,

সাথে সাথে আলিফ,তিশা কে বলে উঠলো _ কি করলে, এখন গ্ৰাম বাসি জরো হলে, সমস্যা হবে।
চলো এখান থেকে, এই বলে আলিফ তিশা কে নিয়ে জায়গা ত্যাগ করলো।
এক পিচ্চি আম গাছে বসে সবকিছুই দেখছিল, মেঘা কে পানিতে পড়ে যেতে পিচ্চি ছেলে টা লাফ দিয়ে গাছ থেকে নামলো। নেমে এক দৌড় স্কুল ঘরের মাঠের দিকে সেখানে পাড়ার ছেলে মেয়েরা আছে।

এদিকে মেহমিদ ছোটবেলার বন্ধুদের পেয়ে স্কুল মাঠে এলো, মেহমিদ কে জোর করে লুঙ্গি পড়ানো হলো। অনেকদিন পর লুঙ্গি পড়ে আন‌ইজি লাগতে শুরু হলো মেহমিদের। মেহমিদের এক বন্ধু বলে উঠলো _ নে বেটা, এবার লুঙ্গি পড়ে আমাদের সাথে ফুটবল খেলে জিতে দেখা। দেখি তোর কেমন পাওয়ার।
আরেকজন বলে উঠলো _ খুব তো তখন প্যান্ট শার্ট পরে দৌড়ে আমাদের হাড়িয়ে দিলি। এখন ঠ্যালা সামলা।
মেহমিদ, রাখিলের পিঠে একটা গুসি মেরে বলে উঠলো, তাহলে হয়ে যাক। এই মেহমিদ পারেনা এমন কিছু নাই, ।
তখনি একটা পিচ্চি দৌড়ে এসে বলে উঠলো _ মেহমিদ ভাই, মেঘা আপু পানিতে পরছে,। খ্যাত পাড়ের মরা গাঙ টা আছে না ওইহানে। মেঘা আপা তো সাতার জানে না।

শুনে মেহমিদের হুশ উরে গেল। লুঙ্গি টা কাঁচা মেরে এক দৌড়।
এদিকে মেঘা, পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। কোন রকম সাকোর বাঁশ টা ধরে ঝুলে আছে। ভিশন কষ্ট হচ্ছে মেঘার, আর বাঁশের খুঁটি ধরে থাকতে পারছে না। মেঘা আম্মা গো বলে কান্না করে দিল। দূর থেকে মেহমিদ কে দৌড়ে আসতে দেখে,মেঘা হাত দিয়ে ইশারা করে মেহমিদ ভাই বলে চিৎকার দিয়ে উঠলো। সাথে সাথে হাত ছুটে পানির নিচে তলিয়ে গেলো মেঘা।

তখনি মেহমিদ পানিতে ঝাঁপ দিয়ে মেঘার কোমরে ধরে হেঁচকা টান দিয়ে পানির উপরে তুলে আনলো। কোন রকম সাতরে পাড়ে এসে মেঘাকে মাটিতে শুইয়ে দিল। জরজেট ওরোনা টা পানির মধ্যো‌ই হাড়িয়ে গেছে, তাই মেহমিদ নিজের গামছা মেঘার শরীরে পেঁচিয়ে দিল।

মায়াবতী পর্ব ৪

মেহমিদ মেঘার পেটে জোরে চাপ দিতেই, মেঘার মুখ দিয়ে সমস্ত পানি বের হয়ে গেল। আস্তে আস্তে মেঘার জ্ঞান ফিরলে মেহমিদ কে জরিয়ে ধরে কান্না করে দিল।
মেহমিদ মেঘা কে কোলে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিল।

মায়াবতী পর্ব ৫