Home মি মাফিয়া মি মাফিয়া পর্ব ৬১

মি মাফিয়া পর্ব ৬১

মি মাফিয়া পর্ব ৬১
সুমাইয়া সাবিহা

আপাতত কারো মন মানসিকতাই ভালো নেই তার উপর সারা রাতের নির্ঘুম চোক্ষু । শরীর ক্লান্ত তায় ছেয়ে আছে সবারই ।
রহিমা বেগম কে তার নিজ রুমে নিয়ে গিয়েছে আরিয়া তার মায়ের পাশে বসে হাত পাখা দিয়ে ধীরস্থির ভাবে বাতাস দিচ্ছে আর চোখ জোড়া ভিজে যাচ্ছে বারবার । হসপিটালে কি কি হয়েছে সব টাই শুনেছে আরিয়া ডঃ কি কি বলেছে সে অনুযায়ী মা এর সেবা করতে চায় রহিমা বেগম এক হাতে আরিয়ার বা হাত টি ধরে আছে আলতো ভাবে ।

গত কাল থেকে কারোই ঠিক ভাবে খাওয়া দাওয়া হয়নি এখনো অবদি । আজ হলুদ হওয়ার কথা ছিলো এটা পারা প্রতিবেশী আত্মীয় স্বজন সকলেরই জানা আর কেনো সেটা বন্ধ হয়ে গিয়েছে সেটাও কারো অজানা নয় ।
ক্লান্ত শরীর টা নিয়ে গা এলিয়ে দিয়ে মাত্রই আঁখি দ্বয় বন্ধ করেছিলো আয়শ তার মাঝেই সামিরা দরজায় কড়া নাড়ে । আয়শ শুয়া থেকে একবার দরজার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললো
__এসো
সামিরা ভেতরে এসে আয়শ কে উদ্দেশ্য করে বললো
__ শরীর খুব ক্লান্ত?
আয়শ নিজের অবস্থায় থেকেই প্রতি উত্তরে বললো
__একটু
__আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে আপনি ঘুমান
কথাটা বলে সামিরা চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতেই আয়শ বলে উঠে

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

__যেটা বলতে এসেছিস বলে যা
সামিরা আয়শের দিকে তাকিয়ে একবার ঢুক গিলে বললো
___কেউ তো খাবার খায়নি মানে বাড়ির যে অবস্থা এখন রান্না করাটাও সম্ভব না ।বলছিলাম যে যদি কিছু খাবার বাহির থেকে…
এটুকু বলতেই আয়শ বললো
___ওকে ওর্ডার করে দিচ্ছি এখুনি।
সামিরা দুদিকে মাথা দুলিয়ে আবারো চলে যেতে নেয় ।আসলে সামিরা একটু আনকম্ফোট্যাবল ফিল করছে আয়শের সাথে কথা বলতে ,রাতে তো চিন্তায় গ্রাস করেছিলো সব কিছু তাই এতকিছু খেয়াল ছিলো না কারোই ।
পেছন থেকে আয়শ ডেকে বললো

__এখানে আস একটু …
সামিরা আয়শের কথা মতো আয়শের একটু সামনে এসে দাড়িয়ে বললো
__কিছু লাগবে ?
___বস এখানে
নিজের পাশের জায়গা টায় হাত দিয়ে দেখিয়ে ইশারা করলো
__ম..মাথা ব্যাথা?
____প্রচুর , টিপে দিবি ?
আয়শের দুর্বল গলার নিম্ন আওয়াজ টা কখন থেকেই সামিরা খেয়াল করছে হয়তো বড্ড বেশি ক্লান্ত উনি ।কথাটা ভেবে সামিরা সংকোচ ছাড়াই রাউন্ড জামা টা দুদিকে হাত দিয়ে ধরে আয়শের দেখানো জায়গাটায় বসে দুপায়ের মাঝে জামার অতিরিক্ত অংশটুকু গুজে দিয়ে আয়শের মাথায় হাত বাড়িয়ে দিলো ।
আয়শ ঠোঁটের কোনে হাসি লুকিয়ে শুয়া থেকে উঠতে উঠতে বললো

__ওয়েট ।
পাশ থেকে ফোন টা নিয়ে আয়শ সামিরার কথা মতো খাবারের অর্ডার করে দিয়ে আবার স্বজায়গায় ফোন টা রেখে সামিরার দিকে তাকিয়ে বললো
___তোর খুব খারাপ লাগছে ?
__নাহ । আপনি ঘুমান আমি টিপে দিচ্ছি।
__লাগবেনা আমি তো এমনি বললাম তোকে এখানে আনার জন্য ।কথাটা বলে আয়শ দুষ্টু হাসলো ।
আয়শের এমন কথায় সামিরা কিছু টা হাঁসফাঁস করে চোখ অন্য দিকে ফিরিয়ে নিয়ে বললো
__ঠিক আছে তাহলে আমি যাচ্ছি।
সামিরার কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আয়শ বলে উঠলো
__আশরাফের সাথে তোর এতো কিসের কথা বার্তা ?
আয়ের কথাটা গায়ে ছ ছ করে উঠলো

__ঠিক কি বলতে চাচ্ছেন আপনি ?
___শুনলাম ওটার সাথে ভবিষ্যৎ…
__ফালতু কথা বলবেন না বলে দিলাম । আমি যাচ্ছি এখান থেকে ।
কথা শেষ করে সামিরা জায়গা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে সামনের দিকে হাটা ধরে ,চেহারায় অসম্ভব বিরক্তিকর আভা প্রকাশ পাচ্ছে।
আয়শ পেছন থেকে বলে উঠলো
__এতো ঢং করছিস যেনো কিছু জানিস না একদম নিষ্পাপ।যাহ যাহ যেখানে ইচ্ছা যা এখন তো এটিটিউড দেখাবিই জানি অনুভূতি গুলো বলে দিয়েছি না তাইতো এখন বাপ মেয়ে মিলে এসব করবি ।
আয়শের কথা গুলো শুনলো কিনা জানিনা কারন আয়শ এসব বলার মাঝেই সামিরা দরজা পেরোয় ।

কারো মানসিকতা ভালো না থাকলেও গতকাল থেকে খালি পেটে আছে আর কতোক্ষণ থাকতে পারবে ? সামিরা ডাকতেই ধীরে ধীরে সবাই টেবিলে জমা হয় ।
আপাতত কারো মাথায় অন্য কিছু ভাবার মানসিকতা নেই ।বিয়ের ব্যাপার টাহা হয়তো মাথা থেকেই বেড়িয়ে গিয়েছে । চুপচাপ খাবারে শেষ করে টেবিল ছাড়ে কারো মুখে একটা কথাও ছিলোনা ।
আরিয়া খাবার নিয়ে উপরে গিয়ে রহিমা বেগমের মুখের খাবার তুলে দেয় । হালকা ভাবে একটু নাড়াতে পারে মুখাবয়ব। কিন্তু ঠোঁট জোড়ায় একটু বেশি নাড়াচাড়া পড়তেই পুরো চেহারাই মনে হয় ফেটে যাবে যদিও পুরো ফেইসটাই আবৃত ব্যান্ডেজের মাধ্যমে শুধুমাত্র খাবারের সুবিধার্থে নিচের ঠোঁটের থেকে একটু নিচ অবদি খোলা মেলা , বিষয় টা কতোটা কষ্টকর সেটা বুঝানোর অপেক্ষা রাখে না ।

রাতের খাবার শেষে সবাই নিজেদের রুমে চলে গিয়েছে এক প্রকার টেনশন নিয়েই বলা যায় , সারাদিন বিয়ের ব্যাপার টা মাথায় না থাকলেও রাতে আফরান কে বাহির থেকে আসতে দেখেই জাফর সাহেবের মস্তিষ্ক নাড়া দিয়ে উঠলো । এই ছেলে সব সময় একদম যেনো কিছুই হয়নি এমন ভাব নিয়ে থাকে কিন্তু এই মুহূর্তে এসব কথা বাড়িয়েও লাভ নেই তাই কিছু বললেন না ।
আফরান উপরে উঠতে উঠতে বললো
__আগামিকাল বিয়ের কথা আবার কেউ ভুলে না যায় যেনো এতে আমার বউয়ের অসম্মান হবে বিয়ে ভেঙে গেলে লোকজনের মুখ থেকে কি কি শুনতে হবে সবার নিশ্চয়ই জানা ।

আফরান এর কথাটা এই মুহূর্তে কেউ ফেলনা ভাবছে না আসলেই তো কথাটা সত্যি এতোসবের মাঝে জিনিসটা তো খেয়ালই ছিলো না কিন্তু এই বিপদের মাঝে বিয়ের আমেজ কিভাবে তুলবে ? এমন ভাবে বিয়ের দিন আসবে কেউ তো চায়নি কতো স্বপ্ন ছিলো প্রত্যেক টা মানুষের এই বিয়েটা নিয়ে কিন্তু কি হলো ?
এমনিতেই পুলিশে কমপ্লেন করিয়ে রেখেছে দিনের বেলা এসেছিলো পুলিশ বাড়িতে নানা কথা জিজ্ঞাসা বাদ করেছিলো ।রহিমা বেগম হালকা হলেও পুলিশের উত্তর দিয়েছে থেমে থেমে তিন চার ঘন্টায় কয়েক টা শব্দ বলেছে ,
একজন লোক ছিলো কালো রঙের একটা রোমাল পেঁচানো ছিলো হঠাৎ করেই একহাত দুর থেকে হাত থেকে কিছু একটা ছিটিয়ে দিতেই সব যেনো পুড়ে যাচ্ছিলো ,আর কিছু দেখার সুযোগ হয়নি ।
কথাগুলো রহিমা বেগম এক দুটো শব্দ নিম্ন গলায় একবার বলে আধঘন্টার ও বেশি সময় নিয়েছিলো তারপর আবার পরের বাঁক্য বলেছিলো ।

কিন্তু সব চেয়ে অবাক হয়েছিলো পুলিশ একটা কথায় পুরো বিয়ে বাড়িতে একটা ক্যামেরা ও ছিলোনা ,এটা নিয়ে ।বিয়ে মানেই হৈচৈ অথচ এতো বড় বিয়ে বাড়িতে ক্যামেরা নেই ।বিষয় টা সন্দেহের মধ্যেই রেখেছে ।
এইসব পরিস্থিতি তে বিয়ে জিনিস টা মোটেও মানানসই নয় তবে না হয়েও উপায় কোথায়?এতো মানুষ দের কে জানানো হয়ে গিয়েছে হুট করেই সব কিভাবে বন্ধ করে দেবে?
সবার দৃষ্টি বুঝে আয়শ বললো
__চিন্তা করো না এখন তো সব কিছু ঠিক আছে , শুধু একটু মানিয়ে নিলেই হবে । আর ছোটমা তো এখন ঠিক আছে শুধু একটু অপেক্ষা।আর বাবা তোমরা এসব নিয়ে চিন্তা করো না কেন বা কারা বাড়ির ভেতর এসে এমন করার সাহস দেখিয়েছে তাদের কে তাদের উপরোক্ত শাস্তির ব্যাবস্থা করবো একটু সময়ের দরকার ।
আয়শের কথায় সবাই একটু আস্বস্ত পেয়ে মুখে জোড় করে হাসি তুলে । আরিয়া এই সময় টা তে রহিমা বেগমের সাথে উপরে ছিলো ।

প্রেমা ফ্রেস হয়ে এসে তোয়ালে দিয়ে ভেজা মুখ মুছতে লাগলো মাত্রই সাদেক ভেতরে ঢুকে গলা হালকা আওয়াজ করলো ।
প্রেমা সেদিকেই তাকিয়ে বললো
__কিছু বলবেন?
আয়শ কথা বলতে হিমশিম খাচ্ছে একপ্রকার । কই আগে তো এমন হতো না আজ কাল দেখছে যতবারই প্রেমার সাথে কথা বলতে যায় গলায় আওয়াজ যেনো আটকে যায় কি বলবে খুঁজে পায়না ।
__কি হলো কিছু বলবেন? কিছু প্রয়োজন?

উৎকন্ঠিত হয়ে হালকা তুতলিয়ে বলতে লাগলো
__না..না মানে আ..আমি ও ফ্রেস হবো এই আর কি
__এভাবে কেনো কথা বলছেন কিছু হয়েছে?
সাদেক প্রেমার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ওয়ারশ রুমের দিকে যেতে যেতে বললো
__তেমন কিছু হয়নি আসলে ইদানিং একটু বেশিই সব কিছু ভালো লাগছে আমার দৃষ্টি প্রবলেম নাকি সত্যিই অপর পাশের মানুষ টি সত্যিই খুব ….
এটুকু বলে নিজেকে আটকায় সাদেক ,কি থেকে কি বলে ফেলছে মাথা টা নিশ্চয়ই দুদিন না ঘুমানোর কারনেই এমন করছে ।
__কিছু বলতে চাচ্ছিলেন মনে হলো শেষ করুন কথাটা
প্রেমার গলার স্বর নিম্ন আবেগ প্রবন শুনানো মনে হচ্ছে।একবার পেছন ঘুরে প্রেমার দিকে তাকিয়ে আবার সঙ্গে সঙ্গেই সামনে ফিরিয়ে চটজলদি ওয়াশ রুমে ঢুকে বুকের উপর একহাত রেখে দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বললো
__ওওওহ … কি হচ্ছে আমার সাথে ? কেমন যেনো হয়ে যাচ্ছি মনে হচ্ছে উনার সামনে এমন জটিলতা হয়ে যায় কেনো আমার বাক্য বলি ?

পাশ থেকে ফোন টা হাতে নিয়ে বারবার ডায়াল পেডে যাচ্ছে আবার স্ক্রিনে ফিরে আসছে । সময় টা তখন হয়তো সারে এগারোটার উপর বাজবে । এক হাত বারবার মুঠোবন্দী করছে তো অন্য বার বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে বাকী চারটা আঙ্গুল ঘষে যাচ্ছে আফরান ।
আবারো সময়ের দিকে চোখ রাখলো প্রায় বারোটার কাছাকাছি হয়ে গিয়েছে চজখ জোড়া লাল হয়ে আসছে । হাত থেকে ফোন টা ছুড়ে মারে আফরান ।
এই তৃষ্ণা কাউকে দেখার তৃষ্ণা কিভাবে মেটাবে না দেখে ? বুকের ভেতর যে আগুন জ্বালিয়েছে এই মেয়ে এখনো ও কেনো বুজতেছে না এই মেয়ে ? একবার অন্তত এসে দেখা করতে পারতো তাইনা ? একটুখানি দেখেই তো আমার সারারাত চলতো কিন্তু এই মেয়ে বারবার ভুল করেই যাচ্ছে আমার ধৈর্য পরিক্ষা নিচ্ছে এই মেয়ে বারবার। ঐ মহিলা কে নিশ্চয়ই একেবারে মেরে ফেলা উচিত ছিলো অন্তত এই মুহূর্তে তার বুকে মাথা গুঁজে কাজতো শুধু মাত্র তার বুকে ।
কথাটা ভাবতেই আফরানের অন্য চিন্তাধারা আবার দুলা দিয়ে বলতে লাগলো

__একজন মা কে মেরে ফেলার চিন্তা কিভাবে করছিস ? সেটাও নিজের সব চেয়ে আপন যাকে হ্যদয়ের গহিনে জায়গা দিয়েছিস তার মাকে মেরে ফেলার কথা কিভাবে ভাবিস ?
সঙ্গে সঙ্গে আফরান বিচলিত কন্ঠে বলে উঠলো
__একদম না , আমি কাউকে মারতে পারিনা কারন ছাড়া ,আমি শুধু আরুকে চেয়েছি আর কিছু চাইনি ।ওর আমার মাঝে কোনো কিছু বাধা হতে পারেনা নেভার। ওর সব কিছু তেই শুধু আমি থাকবো শুধু মাত্র আফরান চৌধুরী থাকবে ঐ খুশি কিংবা দুঃখ সব কিছুতে আমি থাকবো আর কেউ নয় ।ওর সব জায়গায় আমার অস্তিত্ব থাকবে সেটা হোক দৃশ্যমান অথবা অদৃশ্য মান ।

কথা টা বলে বসা থেকে দাঁড়িয়ে যায় । গলার পাশের মোটা রগ গুলো টান খাচ্ছে বারবার ।
রুম থেকে বেড়িয়ে সোজা ঠিক সেই রুমটার সামনেই গেলো যতোটা রাগ নিয়ে গিয়েছিলো মুহুর্তেই সব উধাও তবে কপাল কুঁচকে এখনো তাকিয়ে আছে ।
নিজ বিছানায় ঘুমিয়ে আছে আরু। কি সুন্দর সেই মুখশ্রী।দরজা খোলা লাইট অন রেখেই ঘুমিয়ে গিয়েছে । আফরান ধীর পায়ে ভেতরে ঢুকে আরিয়ার কাছে গিয়ে পা ঝুলিয়ে খাটের একপাশে বসে মুখে হালকা শব্দে হেসে ডান হাতে আরিয়ার মাথায় হাত রেখে বললো
__এখনোও রাগ করে আছো ? ঠিক আছে আমার কোনো সমস্যা নেই।যদি গতকালের মতো রাগ টা আমার উপর স্থীর থাকে আমাদের মাঝে অন্য কাউকে নিয়ে না আসো তবে কালকের মতোই মৃত্যু পর্যন্ত ওভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে অপেক্ষা করতে থাকবো। কিন্তু এটা তুমি ঠিক করোনি নিজের রাগ টা আমার উপর প্রাধান্য দিয়ে ।
কথা টা বলে আফরান আরিয়ার কপালে ঠোঁট ছোঁয়ায় ।

সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে নিজের বিয়ের কথা শুনে প্রচন্ড বিরক্ত হয় আরিয়া ।এটা কোন ধরনের ইয়ার্কি? মায়ের এই অবস্থা রেখে সে কিভাবে বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন? এটা কেমন ডিসিশন?
জাফর সাহেব কে মুখ ফুলিয়ে বললো
__চাচা জান বলছিলাম কি এখন না হলে হয়না ? মানে বলতে চাচ্ছিলাম যে , মায়ের এই অবস্থা তে কিভাবে …
___চিন্তা করো না মামনি রহিমা সুস্থ হয়ে যাবে দেখিও । আর দেখো লোকজন আস্তে শুরু করে দিয়েছে তাছাড়া এই শেষ মুহূর্তে এসে সব টা বন্ধ করা যায়না ।
__কিন্তু চাচা…
এটুকু বলতে জাফর বললো
__কোনো কিন্তু নয় মামনি এ ছাড়া কিছু করার নেই ।
জাফরের কথার উপরে আরিয়া কিছু বলতে পারলো না ।
জাফর সাহেব আর কিছু না আরিয়ার রুম ছাড়ে ।

সব কিছু বিরক্ত লাগছে ।সকাল বেলা ঘুম টা ভাঙিয়ে সামিরা কথাটা শুনিয়ে তার মধ্যেই জাফর এসেছে আরিয়া কে বুঝিয়েছে ।জাফর চলে যাওয়ার পর মাথায় একটা কথাই এসেছে উনাকে বললে নিশ্চয়ই উনি সব টা ঠিক করে দেবেন কথাটা ভেবেই চট করে খাট থেকে নেমে রুম থেকে বেরোতেই অবাক হয় এতোসবের মাঝেও বিয়ে বাড়ির ডেকোরেশন দেখে ।

পুরো বাড়ি কাঁচা সতেজ বেলি, রজনী ,লাল গোলাম ,সাদা গোলাপ , গাঁদা ফুলের সৌরভে মৌ মৌ করছে । প্রত্যেক টা কর্নারে, প্রতিটা রেলিন এর কোনো সাইট বাকি নেই ।
ছোট টেবিল গুলোর উপরে টপ গুলোতে ও আজ কাঁচা ফুল । মুহুর্তে আরিয়া যেনো সব ভুলে একবার ফুল গুলো ছুঁয়ে দিতে চায় তাই দু কদম সামনে গিয়ে রেলিংয়ের হুয়াইট পিংক রোজ টায় হাত ছুইয়ে দেয় । এখান থেকে ঠিক একটু দূরে সিরির কর্নারে সেদিন যেই মূর্তি টা ভেঙে ছিলো আফরান আজ আবারো সেখানে আরেকটা মুর্তি রাখা হয়েছে । হল রুমের উপরে পাঁচ থেকে ছয়টা

নিউ কম্বিনেশন এর ঝাড় বাতি ।বিষয় টা আরিয়ার কাছে কিছুটা ইউনিক লেগেছে কারন স্বাধারনত কমিনিউটি সেন্টারে বিয়ে গুলো অন্যরকম হয় সে দেখেছে যদিও যাওয়া হয়নি কখনো সামিরার বিয়েটাও তো বাড়িতেই হয়েছে সবাই কতো প্রফেশনাল হয়েও নিজ নিতিতে বিরাজ করছে হীনতা ছাড়াই জিনিস টা বেশ আকর্ষণীয় লাগছে।
কোথায় ভেবেছিলো হলুদ হবে নাচ গান হবে চারদিকে হই হুল্লোড় হবে কিন্তু এসব তো কিছুই হলো না ।কাপল হলুদ রঙের শারী পাঞ্জাবি নিয়েছিলো ভেবেছিলো হলুদে উনাকে এসব পড়িয়ে দুজন কাপল ছবি তুলবে স্মৃতি ময় করবে সব কিছু যার জন্য বিয়েটা করা কিন্তু এখন এসব কোথা থেকে কোথায় গিয়েছে শুধু মাত্র ঐ জানোয়ার লোকটার জন্য।
কথাটা ভাবতেই আরিয়ার দাঁত শক্ত হয়ে আসে হাতের ফুল টা কে শক্ত করে মুঠো বদ্ধ করে ধরে সঙ্গে সঙ্গে কিছু পাপড়ি ঝড়ে যায় ।

__আমার মায়ের সাথে এই অন্যায় টুকু যে করেছে তাকে কিছুতেই ছাড়বো না ।
ভাবনার মাঝেই পেছন থেকে প্রেমা বলে উঠে
__হেয় কি ভাবছিস?
আরিয়া হঠাৎ চমকে ঘুরে দাঁড়ায় প্রেমার দিকে ।
__কি হলো ? এমন ভাবে ভয় পাচ্ছিস কেনো?
__ওহ..তুই ! কখন আসলি ?
__তোর কি হয়েছে বলবি ?
__কিছু হয়নি তো ।
__আন্টির জন্য মন খারাপ করছিস ? দেখ আরু যেটা হয়ে গেছে আর সেই সময় টা ফিরিয়ে আনা সম্ভব না এভাবে থেকে লাভ নেই ।বিয়েটা হোক মুড ফ্রেস রাখ পুলিশ রা তাদের কাজ করে যাচ্ছে দেখবি ঠিক হয়ে যাবে সব আর ঐ অমানুষ গুলো শাস্তি পাবে ঠিক । আন্টির সাথে এমন কেনো করলো মাথায় আসেনা আমার কি করেছে তাদের আন্টি ?

___হুম
__মন খারাপ করিস না ওকে ।
কথাটা বলে আরিয়ার হাত ধরে টেনে আবার ভেতরে নিয়ে যায় প্রেমা .
মুখে হাসি তুলে আরিয়া কে বলে
__তোর তো তাজা ফুল খুব পছন্দের দেখেছিস ভাইয়া তোর প্রতিটা জিনিস কতোটা প্রায়োরিটি দেয় ।
আফরান এর কথাটা শুনতেই মাথায় আসলো, সত্যিই তো এসব তো উনি করেছেন আমার তো এতোক্ষণ খেয়ালই ছিলো না । কিন্তু উনি কিভাবে জানেন আমার এগুলো পছন্দ?
__কি ভাবছিস?
__কিছু না ।উন্মাদ লোকেরা যা ইচ্ছা তাই করতে পারে এসব ভেবে লাভ নেই ।
আলিয়ার কন্ঠে অভিযোগ,এটা বুঝতে প্রেমার ভুল হলো না নিশ্চয়ই ভাইয়ার সাথে আবার ঝগড়া করেছে ।
__ঝগড়া করেছিস আবার ?নাকি ভাইয়া আবার বকেছে?
আরিয়া উতলা গলায় বলে উঠলো
___জানিস কি করেছে ঐ পাগল লোকটা ? শুধু মাত্র একটু কথা না শুনাল জন্য নিজের……
এটুকু বলতে খলিল সাহেব দরজায় আওয়াজ দিয়ে ভেতরে আসলো ।
বাবাকে দেখে চুপসে যায় আরিয়া । প্রেমা জায়গা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে খলিল সাহেবের বসার জায়গা করে দেয় আরিয়ার পাশে ।

___মা দেখো তুমি এখন ছোট নেই সবই বুঝো । আমরা কেই ঠিক ভাবে এখনো আফরান কে বুঝতে পারিনা তবুও তুমি তার সাথে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছো আমরা নিষেধ করছি না । জীবনের এক কঠিন অধ্যায় পা দিতে চলেছো বুঝে শুনে চলতে হবে তোমার চাচা খুব ভালো মানুষ শুধু মাত্র তার উপর ভরসা করে আছি । তবে আফরানের যেরকম মন মানসিকতা আমি তোমাকে বলতে চাই যদি সত্যিই তোমাকে এই ছেলে পছন্দ করে থাকে তবে তুমি চেষ্টা করো তাকে পরিবারের দিকে ফিরাতে । আমরা ও চাই আফরান একজন স্বাভাবিক মানুষের মতো চলাফেরা করুক তার কথা বার্তার ধরন পরিবর্তন হোক ।তাই তোমাকে আগেই এসব বলে দিতে এসেছি আর যেহেতু তোমার হাসব্যান্ড এর খাতায় নাম দিচ্ছে সেহেতু তুমিও তার কথার অবাধ্য হবে না । তার যেসব অপছন্দ সেগুলো তে নিজেকে জড়িত করোনা ।
বাবার কথা শুনে আরিয়া মাথা নত করে দুদিকে মাথা দুলিয়ে সম্মতি প্রকাশ করে ।

রাবেয়া বেগম বারবার আফরানের রুমে যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে আছে ,আফরানের রুমের দিকে বারবার উঁকি দিয়ে তাকাচ্ছে,সেদিন উপরে আফরানের সাথে কথা বলতে গেলেও আফরানের রুমে গিয়ে নক করে কথা বলার মতো সাহস করে উঠতে পারেনি ।
রাবেয়া বেগমের এমন ফ্যাকাশে চেহারা দেখে সামিরা পাশ থেকে বললো ,
__কিছু হয়েছে মা?
__নাবিল .. আমার ছেলেটাকে কতোদিন হয় দেখিনা ।
রাবেয়া বেগমের কান্না গলার কথা শুনেই কলিজা টা ছ্যাত করে উঠে ,সব কিছুর মধ্যে ভাইয়ার কথাটা ভুলেই গিয়েছিলো সামিরা ।আজ তো বিয়ে হচ্ছে আজকেও তো ছেড়ে দিতে পারতো ভাইয়া ।
___একটু আফরানের রুমে যাবি ? বল না আমার ছেলেটাকে ছেড়ে দিতে ,আমি তো মা আমার তো এমন করে আর সহ্য হচ্ছে না ।
দরজার সামনে থেকে আয়শ বলে উঠলো

__আমি দেখছি । আফরান এবার বাড়াবাড়ি করতেছে এতো দিন আটকিয়ে রাখা ঠিক নয় ফ্যামিলি বলতেও কিছু আছে ওটা মেবি ওর মাথা থেকে চলে গিয়েছে ।
আয়শের কথায় রাবেয়া একটু সস্তি পায় সামনে এগিয়ে এসে আয়শের হাত দুটো ধরে বলতে লাগলো ,
__তুমি যথেষ্ট বুঝমান একজন ছেলে আয়শ আমরা দেখেছি । কিছু করো আমার ছেলেটাকে ওর হাত থেকে ছাড়িয়ে দাও প্লিজ । নিশ্চয়ই আমার ছেলেটার উপর অত্যাচার চালাচ্ছে।
__হ্যা আমি দেখছি কিন্তু আমার মনে হয় আফরান এতোটা ও কিছু করবেনা কারন ও জানে নাবিল আমাদের পরিবারের একজন সদস্য তাইনা ।

রাবেয়া বেগম কিভাবে বলবেন যেই ছেলে বাবার বয়সী মানুষের গায়ে চাকু চালাতে ভাবেনা একবার সেই ছেলে মানুষ আটকিয়ে যে কিরকম শাস্তি দেবে ভাবতে পারা যায়না ।
দরজায় আওয়াজ পেয়ে আফরান কপাল কুঁচকে সেদিকে তাকায় ।বুঝার চেষ্টা করে কে হতে পারে ? আরিয়া এখন আসবেনা সেটা শিউর তবে তার রুমে এমন করে কে নক করবে?
ভাবনার মাঝেই আবারো আওয়াজ পেতেই উঠে গিয়ে দরজা খুলে দেয় আফরান । আয়শ কে দেখেই কপাল কুঁচকে বললো

__কি হয়েছে ? আমার কাছে কারো প্রয়োজনে আসা মোটেও পছন্দ নয় আসতে পারিস।কথাটা বলে আফরান দরজা আটকিয়ে দিতে চায় কিন্তু আয়শ ঠিক আফরানের হাতের পাশেই হাত রেখে দরজা আটকানো থামিয়ে দিয়ে বলে
___অনেক হয়েছে এবার নাবিল কে ছেড়ে দে । ওর মা বাবা বোন সবাই এখন অনেক চিন্তা করছে । দেখ নাবিল কি করেছে আমি জানিনা তবে আন্দাজ করতে পারছি কিছু টা আরুর সাথে ছিলো তাই এমন করছিস তাইনা।দেখ আরু কিন্তু ওর কাছেই সুরক্ষিত ছিলো এই তিন টা বছর ও চাইলে হয়তো আরিয়া কে বিয়েও করতে পারতো জোড় …..
বলতে আফরান আয়শের কন্ঠনালীতে ডান হাতে শক্ত ধরে শক্ত গলায় বলতে লাগলো

_____একদম মেরে দিবো । সাহস হয় কি করে তোর আরুর ব্যাপারে এইসব কথা বলার ? বিয়ে..? কিসের বিয়ে ? জোড় করে বিয়ে করতো? তোর কি মনে হয় আমি বসে বসে বিয়েটা কিভাবে হয় সেটা দেখতাম ? ধ্বংস করে দিতাম সব কিছু তার আগেই বুঝলি । অস্তিত্ব মুছে দিতাম ঐ দুটোর । এসব বাজে কথা কোথা থেকে মাথায় আসে তোদের ? চুপচাপ জায়গা ছাড় ।
কথা শেষ করে গলা ছেড়ে দেয় আফরান
গায়ের রঙ ফর্সা হওয়ার কারনে স্পস্ট বুঝা যাচ্ছে লাল হয়ে যাওয়া অংশ ।

__পাগল হয়ে গেছিস ? ওহ…ভাই তুই কি কখনো চেন্জ হবি না ?
আফরান আয়শের কথার পাত্তা না দিয়ে ভেতরে চলে গেলো ।
__আচ্ছা ওসব বলবো না ,নাবিল ঠিক আছে তো ঐটা বল অন্তত খবর টা তো দিতে পারিস ।
___শুনলে নিতে পারবি না ।
আয়শ একবার ঢুক গিলে বললো
__ক..কি করেছিস? ম…মেরে দিয়েছিস ?
আফরান ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে খাটের উপর বসে বাঁকা হেসে বললো
__উহুম ,হাত পা শরীর থেকে আলাদা করে দিয়েছি সাথে জিহ্বা তে স্বযত্নে ব্লেড বসিয়ে দিয়ে এসেছি বিশ্বাস কর জিহ্বা কিন্তু কেটে দেইনি । যেই মুখ দিয়ে তিন টা বছর মিথ্যে বলে আরুর সাথে কথা বলেছে সেটার অবশ্যই শাস্তি পাওয়া উচিৎ তাইনা ।
আয়শের গলা শুকিয়ে আসছে সত্যি বলছে নাকি মিথ্যা এই মুহূর্তে বিশ্বাস অবিশ্বাসের মাঝে রয়েছে আয়শ ।

মি মাফিয়া পর্ব ৬০

__ক…কি বলছিস আফরান মাথা ঠিক আছে ?
___আফরান চৌধুরী শুধু শুধু মিথ্যে বলেনা ।
আয়শের কাছে সব টা এখন গুলিয়ে যাচ্ছে অনেক হিসাব মিলাতে ব্যাস্ত আয়শ । সামান্য তে যে কিনা এমন করতে পারে যদি সেটা সত্যি হয় তবে তো ছোটমা……
___জায়গা ছেড়ে পরে হিসেব করিস এখন ছাড় ।
আয়শ যেনো স্তব্ধ হয়ে আছে মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ হয়ে গিয়েছে ।
চুপচাপ আফরানের রুমের সামনে থেকে চলে যায় । তারপর…

মি মাফিয়া পর্ব ৬২