Home যেই তুমি এলে যেই তুমি এলে পর্ব ১৪

যেই তুমি এলে পর্ব ১৪

যেই তুমি এলে পর্ব ১৪
সিনথিয়া ইসলাম সীমা

ট্যুরের দ্বিতীয় দিন,
আজ হিমছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে আহমেদ পরিবার।
গাড়ির ইঞ্জিন স্টার্ট হতেই রিসোর্টের সীমানা পেরিয়ে মূল সড়কে উঠে পড়ল গাড়িটা। স্টিয়ারিংয়ে রিক্ত। আর বাকিরা গতকালের মতোই যে যার স্থানে বসেছে।
আজকের জার্নিটা অনেকটা অন্যরকম। গাড়ির ভেতর বিরাজ অস্বাভাবিক রকমের নীরবতা। আর সেই নীরবতা ছড়িয়েছে রিক্তের মাধ্যমে। সকাল থেকেই তার মুখ অত্যধিক গম্ভীর। চোয়াল শক্ত, ভ্রু দুটো সামান্য কুঁচকানো। কী হয়েছে, তা জানে না কেউই। সেই যে সকালে একবার অর্না বেগমের সঙ্গে একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে তার পর থেকেই চলছে এসব। কেউ কিছু বললে কেবল সংক্ষিপ্ত জবাব দিচ্ছে, নিজে থেকে কোনো কথাই বলছে না।
পেছনে বসে অর্শী আর রোশনীও আজ চুপচাপ। রোহান মাঝেমধ্যে জানালার বাইরে তাকিয়ে দু-একটা কথা বললেও সেগুলোও মুহূর্তেই মিলিয়ে যাচ্ছে গাড়ির নিস্তব্ধতায়।

কাইফা নীরবে জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে। একবার আড়চোখে রিক্তের দিকে তাকিয়ে আবার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিল।
শহরের কোলাহল পেরিয়ে গাড়ি যত এগোতে লাগল, চারপাশ ততই সবুজ হয়ে উঠল। দূরে পাহাড়ের সারি চোখে পড়তেই রোহান উৎসাহিত হয়ে উঠলেও রিক্তের গম্ভীর মুখে কোনো পরিবর্তন এলো না।
এভাবেই নীরবতার মধ্যে কেটে গেল বেশ খানিকটা পথ।
হিমছড়ির কাছাকাছি পৌঁছাতেই পাহাড়ি রাস্তা শুরু হলো। আঁকাবাঁকা পথ আর চারপাশের সবুজে ঘেরা দৃশ্য দেখে সবাই জানালার বাইরে তাকাতে শুরু করল।
কিন্তু হঠাৎ কাইফার মুখটা কেমন ফ্যাকাশে হয়ে গেল। প্রথমে চোখ বন্ধ করে সিটে হেলান দিল সে। তারপর এক হাত দিয়ে বুকের কাছে চেপে ধরল। অর্শী সঙ্গে সঙ্গে পাশে ফিরে তাকাল। মুখ খুলে কিছু বলতে নিবে এর আগেই মুখে হাত চাপা দিয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ল কাইফা।
রোশনীও ঘুরে তাকিয়ে বলল,

“ ওহ নো! ওর কি আজকেও বমি আসছে! ”
অর্না বেগম দ্রুত পেছনে ফিরে তাকালেন।
“ রিক্ত, গাড়িটা থামাও তো। ”
রিক্ত মনে হয় বিরক্ত হলো। গাড়ি থামাতে থামতেই বিড়বিড় করে বলল,
“ ফের শুরু, যতসব ঝামেলা! ”
গাড়ি থামতেই দরজা খুলে দ্রুত বাইরে নেমে গেল কাইফা। কয়েক পা এগোতেই আর নিজেকে সামলাতে পারল না। বমি শুরু হলো তার।
অর্না বেগম, অর্শী আর রোশনী দ্রুত এগিয়ে গেলেও রিক্ত গাড়ির ভিতরেই বসে রইল। কিছুক্ষণ পর কাইফা যখন সোজা হয়ে দাঁড়াল, তখন দেখা গেল তার বোরকা আর হিজাবের সামনের অংশও বেশ খানিকটা নোংরা হয়ে গেছে।
অর্না বেগম চিন্তিত মুখে বললেন,
“ এই অবস্থায় তোকে নিয়ে আর ঘোরাঘুরি করা যাবে না। ”
কাইফা দুর্বল নেত্র নামিয়ে নিজের দিক তাকাল। বলল না কিছুই। এর মাঝেই ভদ্রমহিলা রিক্তর উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন,

“ রিক্ত, ওকে নিয়ে রিসোর্টে ফিরে যা। বোরকা-হিজাবটা বদলে একটু বিশ্রাম নিক। তারপর নাহয় নিয়ে আসিস ফের। ”
রিক্ত মাথা নাড়ল। অর্না বেগম এবার অর্শীর দিকে তাকালেন।
“ তুইও ওর সঙ্গে যা। ”
কিশোরী দ্বিরুক্তি করল না। মাথা কাত করে সম্মতি জানাল,
“ আচ্ছা। ”
অর্শী কাইফার পাশে এসে দাঁড়াল।
“ চলো আপি। ”
কাইফা আর কোনো কথা বলল না। দুজন গাড়িতে উঠে বসতেই রিক্ত আবার স্টিয়ারিংয়ে হাত রাখল। গাড়ি ঘুরে গেল নিমিষেই।

রিসোর্টে পৌঁছাতেই কাইফা আর অর্শী নিজেদের রুমের দিকে চলে গেল।
রিক্ত গাড়ি থেকে নামল না। স্টিয়ারিংয়ে বসেই মোবাইল স্ক্রোল করতে লাগল সে। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ পেছনের সিট থেকে ফোন বেজে উঠল।
প্রথমবার তোয়াক্কা করল না রিক্ত।
ফোনটা থেমে গেল।
কয়েক সেকেন্ড পর আবারও বেজে উঠল।
এবারও কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।
তৃতীয়বার একই শব্দে বিরক্ত হয়ে ভ্রূ কুঁচকাল রিক্ত। অবশেষে মোবাইলটা হাতে তুলে নিতেই স্ক্রিনে ভেসে উঠল পরিচিত নাম– ‘আম্মুজান’
কলটা তখনও আসছিল। এবেলায় ফোনটা হাতে নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে রুমের দিকে এগিয়ে গেল রিক্ত। দরজার সামনে এসে দুবার টোকা দিতেই ভেতর থেকে অর্শীর কণ্ঠ ভেসে এলো,

“কে?”
“আমি।”
দরজা খুলে দৃশ্যমান হলো অর্শী। রিক্ত ফোনটা এগিয়ে দিল।
“কাইফার ফোন, মেবি।”
অর্শী ফোনটা নেওয়ার জন্য হাত বাড়াতেই ঠিক তখনই–
ওয়াশরুমের ভেতর থেকে পানির শব্দ থেমে গিয়ে আচমকা দরজাটা খুলে গেল। দুজনের দৃষ্টি স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সেদিকে চলে গেল।
দীর্ঘ কেশরাশি সামনে ঠেলে ধীর পায়ে বেরিয়ে এলো কাইফা। পরণের বোরকা আর হিজাব খুলে রেখেছে সে। মাথায় পানি দেওয়ায় উন্মুক্ত মুখশ্রীতে লেগে আছে অসংখ্য জলকণা। সামান্য ভেজা চুলগুলো কাঁধ ছাপিয়ে এমনভাবে সামনে নেমে এসেছে—যেন কালো মেঘের আড়াল ভেদ করে বেরিয়ে আসা এক লাজুক কেশকুমারী।
রিক্ত বোধ হয় থমকালো। অকস্মাৎ নেত্র জোড়া সেই কেশকুমারীর উপর পড়তেই হৃদয় কেমন অপ্রস্তুতভাবে কেঁপে উঠল। হাতে থাকা ফোনটার ওপর আঙুলের চাপও যেন আলগা হয়ে এলো। প্রায় খসে পড়তেই যাচ্ছিল সেটি। রিক্ত সঙ্গে সঙ্গে নিজের হাত শক্ত করল।

কাইফা তখনও জানে না, ঘরের বাইরে কে দাঁড়িয়ে আছে। নিজের মতো করেই ভেজা চুলগুলো সামনে টেনে আনতে আনতে আরও দু-পা এগিয়ে এলো সে। তারপরই চোখ পড়ল সামনে।
পা দুটো যেন আপনাতেই মেঝেতে গেঁথে গেল।
চোখের পলক পড়ল না কিছুক্ষণ। বিস্ময় ধীরে ধীরে জায়গা করে নিল অস্বস্তিতে। জীবনে প্রথমবার কোনো পুরুষের সামনে এমন অবস্থায় পড়ে মুহূর্তেই ওর শুশ্রী বদন লজ্জা আর অপ্রস্তুততায় রাঙা হয়ে উঠল।
তড়িঘড়ি করে চুলের গোছাটা আরও খানিকটা সামনে টেনে আনল রমণী। পরক্ষণেই দিশাহীন হয়ে ফের ছুটল ওয়াহরুমের ভিতরে।
রিক্তের দৃষ্টি অবশ্য তখন আর সেদিকে নেই। কাইফা তাকানোর পরমুহূর্তেই নিজের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াকে উপেক্ষা করে, চোখ সরিয়ে নিয়েছে সে। মুখের অভিব্যক্তিতেও ফিরিয়ে এনেছে সেই চেনা নির্লিপ্ততায়।
এইদিকে ঘটনার মাঝখানে পরে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইল অর্শী। কি করবে, কি বলবে কিছুই বুঝতে পারছে না কিশোরী। তখনি ওর হাতে কাইফার ফোনটা ধরিয়ে দিল রিক্ত।
“ রাখো এটা। আর তাড়াতাড়ি এসো। ”
বলেই ধুপধাপ পা ফেলে স্থান ত্যাগ করল মানব।

“আপি ভাইয়া চলে গেছে। এবার বেরিয়ে এসো।”
অর্শীর কণ্ঠের বিপরীতে ওপাশ থেকে কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া গেল না। কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে পা টিপেটিপে বেরিয়ে এলো কাইফা। প্রথমেই এসে কাপড়ের ব্যাগ থেকে একটা হিজাব নিয়ে নিল। তারপর সেটাতে নিজেকে জড়িয়ে বলল,
“ উনি এখানে কেন এসেছিলেন? ”
“ ভাইয়া তো তোমার মোবাইল দিতে এসেছিল; যেটা তুমি গাড়িতে ফেলে এসেছ। ”
একটু থেমে ফোনটা কাইফার দিক বাড়িয়ে দিয়ে,
“ নাও, খালামনি কল করছিল। ”
রমণী চুপচাপ বস্তুটি হাতে নিল। পরপরই বিছানায় বসে পড়ল সে। বুকের ভেতরটা তখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বোধ হয়। অর্শী বলল,

“ আপি কি এখন রেস্ট নিবে? নাকি চলবে? ”
“ আমি আর কোথাও যাব না। তোমরা ঘুরে আসো। ”
“ এসব কি বলছো আপি? ”
“ আপির ভালো লাগছে না। এখন বেরোলে আবারও বমি হতে পারে। তুমি চলে যাও। ”
“ তুমি এখানে একা থাকবে? ”
“ সমস্যা নেই, আমি দরজা লক করে ঘুমিয়ে থাকব। ”
অর্শী কিয়ৎক্ষণ ভাবনায় ডুবে রইল। সময় নিয়ে বলল,
“ আচ্ছা আমি তাহলে ভাইয়াকে বলি গিয়ে। ”
“ হুম বুঝিয়ে বলো। ”
“ ঠিক আছে। আর আমরা ফেরার আগে অব্দি দরজা খুলবে না কিন্তু? ”
“ আচ্ছা। ”
অর্শী একাই গাড়ির কাছে ফিরে গেল। রিক্তকে সবটা জানাতেই সে কোনো মন্তব্য করল না। শুধু গাড়ি থেকে নেমে একবার রিসোর্টের ভেতরে গেল। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলে আবার ফিরে এলো।
অতঃপর রওনা হলো গন্তব্যে।

কাইফা রিসোর্টে একা থাকায় সেদিন আর তেমন ঘুরাঘুরি হলো না ওদের। অর্না বেগম ছেলেমেয়েদের কোনোরকম হিমছড়ির আশাপাশটা পর্যবেক্ষণ করিয়েই রিসোর্টের উদ্দেশে রওনা হলেন। এতে করে সবার মনই খানিকটা বিষণ্ণ। তবে কাইফার অসুস্থতার কথা ভেবে কেউই কিছু বলল না। কিন্তু যখনি অর্না বেগম জানালেন আগামীকাল সকালেই তারা বাসায় ফিরে যাচ্ছেন তখনি তেতে উঠল একেক জন। রোশনী বেজায় বিরক্ত হয়ে বলল,
“ মানে কি আম্মু? এলামই তো দুদিন হয়নি। ঠিকঠাক মতো কোনো জায়গাই দেখতে পারলাম না। অথচ তুমি এখনি চলে যাওয়ার কথা বলছ!”
“ অন্য সময় আবার নিয়ে আসব নে তোমাদের। এবার যেতে হবে। ”
অর্শী জিজ্ঞেস করল,
“ কেন? ”
“ কারণ তোর কাইফা আপিকে বাসায় পাঠাতে হবে। ”
“ আর দুয়েকদিন থাকলে কি এমন হবে? ”
“ কিছুদিন পর তোর আপির মাদ্রাসা খুলে ফেলবে। এর আগে ওকে দেখতে আসবে। সেজন্যই এখন বাসায় যাওয়া জরুরি ওর। সকালেই তোর খালামনি কল করে জানিয়েছে আমায়! ”
“ আপিকে দেখতে আসবে…! আপি জানে? ”
“ হুম আরো আগেই নাকি বলেছে ওকে ”
রোশনী অবাক হয়ে বলল,
“ কাইফা রাজি? ”
“ জানিনা, ও আগে বাসায় যাক তারপর ওর সিদ্ধান্ত জেনেই যা হবার হবে। ”
“ ওহ! ”
কথার মাঝেই ওদের পথ শেষ হয়ে এল। রিসোর্টের সামনে এসে গাড়ি থামাল রিক্ত। সকলে যে যার মতো নেমে গেল। সবার শেষে বেশ স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই গাড়ি থেকে নামল মানব। কাইফাকে দেখতে আসার কথা সকালের দিকেই কানে পৌঁছেছে তার। কিন্তু এখনো কোনো ভাবান্তর দেখা যায়নি তার ভিতর।

“ কাইফা? ”
নিজেদের নির্ধারিত কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে এই নিয়ে তিনবার নামটি উচ্চারণ করল রোশনী। তবে ভিতর থেকে কোনো উত্তর এল না। কাইফা তখন বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। অর্শী যাওযার পর মায়ের সাথে কথা বলে নিশ্চিন্তে ঘুম দিয়েছে সে। সেই ঘুম কাটল রোশনীর চতুর্থ ডাকে।
“ কাইফা, দরজা খোলো। ”
রমণী তৎক্ষনাৎ ঘুমের ঘোর থেকে বেরিয়ে এল। পরক্ষণেই ত্রস্ত পায়ে দরজার নিকট গিয়ে দরজা খুলে দিল। রোশনী আর অর্শী ভিতরে ঢুকল।
“ স্যরি, আমি আসলে ঘুমিয়ে ছিলাম। ”
“ হুম বুঝেছি। ”
বাক্য খানা শেষ করেই অর্শী হাতে থাকা খাবারটা কাইফার উদ্দেশ্যে বাড়িয়ে দিল।
“ নাও, খাবারটা খেয়ে নাও। ”
“ তোমরা খাবে না? ”
“ আমার খেয়ে এসেছি। এটা তোমার জন্য। ”
কাইফা আর কিছু বলল না। পেট এমনিতেই খালি হয়ে আছে তার। এখন খাওয়া প্রয়োজন। সে দ্বিরুক্তি হীন খাবার নিয়ে খেতে বসল। আর রোশনীরা চলে গেল ফ্রেশ হতে। কিছুক্ষণ পর তিনজনের আপন কাজ শেষ হতেই ঘুমিয়ে পড়ল ওরা।

পরদিন ঠিক আগের সময় ( আসার সময় যখন বেরিয়েছিল) মাফিকেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো আহমেদ পরিবার। পৌঁছালও প্রায় একই সময়ে।
বাড়িতে পা রাখা মাত্রই যে যার কক্ষে বিশ্রাম নিতে চলে গেল। কিন্তু রিক্ত বাড়িতে ঢুকল না। কাউকে কিছু না বলেই গাড়ি নিয়ে কোথায় যেন চলে গেল সে। অর্না বেগম প্রথমে বিষয়টা গুরুত্ব দেননি। ভেবেছিলেন কাজে গেছে হয়তো। তবে অফিস থেকে খবর পেয়েছেন রিক্ত সেখানে যায়নি। এমনকি ফোন করেও তার খোঁজ পেলেন না। বরং প্রতি বারই রিক্তর নাম্বার বন্ধ বলছে।

এইদিকে কাইফাকে বাড়ি পৌঁছানোর দায়িত্বও রিক্তর উপরেই ছিল। কেননা যাওয়ার সময় বাড়ির ড্রাইভারকে তিন দিনের ছুটি দিয়ে দিয়েছিলেন ভদ্রমহিলা। তাই তাকেই বলা হয়েছিল বিকেলের দিকে কাইফাকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসতে। কিন্তু পরিকল্পনা মোতাবেক কিছুই হলো না। সেদিনটা কেটে গেল কেবল অপেক্ষাতেই। অথচ রিক্ত আর বাসায় ফিরল না।
অর্না বেগম ভিতরে ভিতরে খানিকটা দুশ্চিন্তায় থাকলেও উপরে তেমন প্রতিক্রিয়া দেখালেন না। রিক্ত যথেষ্ট বুঝদার ছেলে, আর এমনিতেও প্রায় সময়ই সে বাড়িতে ফেরেনা। যদিও না ফিরলে তাকে আগে বলে রাখেন। তবে আজকে যেহেতু বলেনি এর পেছনে অবশ্যই কোনো কারণ আছে। এমনও হতে পারে তার ফোনে চার্জ নেই। অতএব তিনি অত বেশি ভাবতে গেলেন না।

যেই তুমি এলে পর্ব ১৩

আজও বাড়ি ফিরতে না পারার ব্যর্থতা নিয়ে মন খারাপ করে বসে আছে কাইফা। তবে তার এই মন খারাপটা আদৌ কেবল বাড়ি ফিরতে না পারার জন্য কি না, তা বোঝা মুশকিল। কারণ, অর্না বেগমের কাছ থেকে রিক্তর ব্যাপারে সবকিছু শোনার পর থেকেই মনের ভেতর এক অদ্ভুত অশান্তি কাজ করছে তার। অথচ সেই অশান্তির কারণটা নিজেও ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না।
মন গহীনে বারবার শুধু উঁকি দিচ্ছে কিছু প্রশ্ন–
“ আচ্ছা লোকট গেল কোথায়? হুট করে এমন নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার মানে কি? …… কিছু হয়নি তো আবার? ”

যেই তুমি এলে পর্ব ১৫