Home রাজনীতির রংমহল ৩ রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৪৪

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৪৪

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৪৪
সিমরান মিমি

স্পর্শীয়া সাময়িক সময়ের জন্য জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছিলো। কোনো অনুভূতি ই অনুভব করতে পারছিলো। মিনিটখানেক পর যখনই যন্ত্রণা গুলো অনুভব করতে শুরু করলো তখন অসহনীয় ব্যথায় আর্তনাদ করে উঠলো। সারা শরীরের অবস্থা বেহাল। কেটে, ছিলে রক্তারক্তি অবস্থা। ডান পা টা নাড়াতেই পারছে না। পায়ের নলার উপরে এখনো মোটরবাইকের চাকা পড়ে আছে। দূর্ঘটনার সময় হয়তো পুরোটা পায়ের উপরেই চাপা পড়েছিলো। হেলমেট পড়ার কারনে মাথাটা সুরক্ষিত আছে। যন্ত্রণায় শরীর টা বিষিয়ে উঠলো স্পর্শীয়ার। দুরে একটা গাড়ির আলো দেখা যাচ্ছে। নিশ্চয়ই তাতে লোকজন আছে। সে সাহায্যের আশায় আর্তনাদ করে উঠলো।

স্পর্শীয়ার চিৎকারে কান সজাগ হয়ে এলো পরশের। নিভু নিভু দৃষ্টিতে তাকালো সামনের দিকে। তার মাথাটা বেশ বাজেভাবে আহত হয়েছে। সারা মুখে তাজা রক্তরা হলি খেলছে। ট্রাকের প্রথম ধাক্কাতেই ছিটকে পড়েছিলো রাস্তার পাশের কাটাতারের উপর। কেটে ছিড়ে সারা শরীরটা একপ্রকার গেঁথে ছিলো খানিকক্ষণ। সে হুশ ফিরছে ধীরে ধীরে। বাইকের ভাঙাচোরা অংশগুলো দেখে নিভু নিভু চোখে স্পর্শীয়াকে খুঁজলো। মেয়েটা আর্তনাদ করে কাঁদছে। পরশ অতি কষ্টে উঠে দাঁড়ালো। খোঁড়াতে খোঁড়াতে ছুটে গেলো স্পর্শীয়ার কাছে। রক্তে রাঙানো হাত দুটো দিয়ে গাল ছুয়ে বললো,

— কোথায় লেগেছে? আমাকে দেখাও। পায়ে লেগেছে?
পরশ উদভ্রান্তের মতো স্পর্শীয়ার পা ধরলো। অবশ হাতে নাড়ানোর চেষ্টা করলো। কিন্তু শরীর সায় দিচ্ছে না। সে কাটা জায়গাটুকু আলতো হাতে বুলিয়ে দিলো। মাথাটা যেনো ছিড়ে পড়ে যাচ্ছে। হয়তো আবারো জ্ঞানশূণ্য হয়ে যাবে। ফোনটা পড়ে আছে রাস্তায়। স্ক্রিনটা ফেটে চৌচির হয়ে আছে। পরশ লাইভ লোকেশন টা পাভেলকে পাঠিয়ে দিলো। এরপর স্পর্শীয়ার উদ্দেশ্যে অস্পষ্ট কন্ঠে বললো,
– আর একটু ধৈর্য ধরো। এক্ষুনি তোমায় হস্পিটালে নিয়ে যাবো।
এরপর আর মাথা তুলতে পারলো না। আস্তে করে ঢলে পড়লো। একটা বাস থেমেছে। সেখান থেকে একেক করে লোকজন নামছে। হয়তো এক্সিডেন্ট স্পটের কাছেই আসছে। স্পর্শীয়া যেন আশার আলো খুঁজে পেলো। ভরসা আসলো মনে। এরপর পার্থিব সকল চিন্তা ছেড়ে চোখ দুটো বন্ধ করে নিলো।

“ আম্মু, শরীর কেমন লাগছে এখন? ”
শামসুলের নুয়ে পড়া কন্ঠ। প্রতিটা শব্দে লুকিয়ে আছে আর্তনাদ। প্রিয় মেয়ের এমন দুর্দশায় তিনি ক্রমশ ভেঙে পড়ছেন। স্পর্শীয়া প্রায় অনেকক্ষণ পর চোখ মেললো। তবে বাবার দিকে তাকালো না। হস্পিটালের ফ্লোরে দৃষ্টি রেখে গম্ভীর কন্ঠে বললো,
– ভালো।
শামসুল পুণরায় আহত হলেন। আজ প্রায় তেরো দিন চলছে স্পর্শীয়া হস্পিটালে অথচ সকলের সাথে কথা বললেও তার দিকে ফিরেও তাকায় না। কেমন মুখ ফিরিয়ে ছাড়াছাড়া কথা বলে। তবে কি সকলের কথা স্পর্শীয়াও বিশ্বাস করে! যন্ত্রণায় বুকটা হু হু করে উঠলো। তিনি বললেন,
– তুমিও কি সবার মতো আমায় দোষী ভাবো?
তড়িৎ বাবার চোখের দিকে চোখ রাখলো স্পর্শীয়া। সে চাহনিতে তাচ্ছিল্য খুঁজে পেলো শামসুল। অবিশ্বাস্য ভঙ্গিতে চেয়ে রইলেন।

– আমি বাহারকে দেখেছি আব্বু। এক্সিডেন্টের পর আমরা মরেছি কি-না সেটা চেক করার জন্য উঁকি মেরেছিলো। এরপরেও কি অস্বীকার করবে?
শামসুল চমকালেন না। মাথা নুইয়ে রাখলেন। কিইবা বলবেন মেয়েকে। কিছু বলার তো মুখ নেই। কিন্তু তাই বলে মেয়ের সামনে অপরাধী হয়ে রইবেন? সারাটাজীবন! তিনি মুখ খুললেন। মিইয়ে যাওয়া কন্ঠে বললেন,
– বাহারকে দেখেছো বলে আমায় অপরাধী বানিয়ে দিলে মা? এমনও তো হতে পারে যে আমি এসব বিষয়ে জানিই না।
স্পর্শী দৃঢ চোখে বাবার দিকে তাকালো। ক্ষিপ্ত কন্ঠে বললো,

– তুমি বলতে চাইছো যা হয়েছে সবটা বাহার নিজে করেছে, তোমার সায় ছাড়াই? বেশ! মানলাম। তবে ওকে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দিচ্ছো না কেনো? কেনো সাক্ষী দিচ্ছো না ওর বিপক্ষে?
শামসুল উত্তর দিলেন না। বাবার নিরবতা দেখে স্পর্শী তাচ্ছিল্য করে হাসলো। বললো,
– এতো বড় একটা ঘটনা তোমার অনুমতি না নিয়েই ঘটেছে, এটা আমি বিশ্বাসই করি না আব্বু। কি ভেবেছিলে, পেছনের মেয়েটা হয়তো অন্যকেউ। ট্রাকের তলায় পিষ্ট হয়ে মরলে মরবে! তাতে কি এসে যায়? শত্রু তো শেষ হবে। কি তাই তো?
শামসুল সহ্য করতে পারলেন না। মাথা নিচু করে বেরিয়ে এলেন চুপচাপ। মেয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার কোনো মুখ নেই। তিনি যে নিরুপায়। রাজনৈতিক কুটকৌশল, এতো প্যাঁচ-গোছ এটা কি আর তার মেয়ে বুঝবে? তিনি পরিশ্রান্ত ভঙ্গিতে কেবিনের বাইরে এসে বেঞ্চে বসলেন। শরীরটা আজকাল বড্ড খারাপ। দুচোখ বন্ধ করে শরীরটা হেলিয়ে দিলেন দেয়ালে।

– সন্তানদের সামনে মুখ লুকাতে হচ্ছে?
এটা পিপাসার কন্ঠস্বর। শামসুল ধপ করে চোখদুটো মেললেন। নীল শাড়ি পরিহিতা শ্যামবর্ণের প্রিয়তমাকে দিকে আকুল চোখে দেখলেন৷ নিজের উপর বড্ড মায়া হলো তার। কেউই বিশ্বাস করছে না। মানুষ হিসেবে কতটা ব্যর্থ হলে কাছের মানুষগুলো সবার আগে অবিশ্বাস করে তা বুঝতে পারলো সে। তবুও স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে ক্লান্ত স্বরে বললেন,
– আমি কিছুই করিনি তৃষ্ণা। তোমরা অকারণে ভুল বুঝছো।
শামসুল দ্বীর্ঘশ্বাস ফেললেন। সেদিকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে পিপাসা বললো,
– আমি জানি!

কয়েক সেকেন্ডের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলো শামসুল। তৃষ্ণা তাকে বিশ্বাস করে! সে মানে যে এতো বড় অপরাধটা শামসুল করেনি। হঠাৎ ছাপ্পান্ন বছর বয়সী বৃদ্ধ উনিশ বছরের টগবগে যুবকের ন্যায় ছটফট করে উঠলো। বুকটা ভরে গেলো তৃপ্তিতে। ইচ্ছে করলো দুহাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আকুল হয়ে বলতে – তুমি ছাড়া আমার কোনো নীড় নেই।
কিন্তু তা সে পারলেন না। শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলেন। চোখ দুটো তখনো চকচক করছে। পিপাসা স্বামীর পানে কয়েক পলক তাকিয়ে দৃঢ় কন্ঠে বললো,
– মেয়েটা আমার ওই ট্রাকের চাকায় পিষে মরে যেতো পারতো। তবুও আপনি এভাবেই চুপ। অতীতের পরিকল্পনা গুলো কি এতোটাই ভয়ানক যে বাহারকে সবার সামনে ধরিয়ে দিতে ভয় করছে? কি ভাবছেন, এতে আপনার কু কর্ম গুলোও সামনে বের হয়ে যাবে?
শামসুল নির্লিপ্ত ভাবে তাকালো। ক্ষীণ হেঁসে জবাব দিলো,

– শামসুল সরদার যা করে, সেসবের সম্মুখীন হতে পারবে ভেবেই করে।
– তবে এতো ভয় কিসের? আপনাকে দোষারোপ করে এতো এতো কথা বলছে সবাই। সেসব চুপচাপ হজম কেনো করছেন? কেনো বলছেন না বাহার আপনার পিঠপেছনে এগুলো করেছে।
পিপাসার দৃঢ় কন্ঠস্বর। পঞ্চাশোর্ধ প্রৌঢ় নারী এখনো অতীতের ন্যায় অনড়। শামসুল মাথা নিচু করে ফেললো। বললো,

– যখন কাছের সব মানুষ গুলো অবিশ্বাস করে হাত ছেড়ে দিয়েছিলো, তখন বাহারের বাবা’ই ছায়ার মতো পাশে ছিলো। লোকসম্মুখে পিটিয়ে সেদিন ব্রিজের নিচে ফেলে রেখেছিলো, হয়তো জোয়ার আসলে জ্ঞানহীন- আধমরা অবস্থায় ভেসে যেতাম নদীতে। কিন্তু ওর বাবা তা হতে দেয় নি। ফেঁসে যেতে পারে জেনেও ঝুঁকি নিয়ে বাঁচিয়েছে। কখনো ক্ষমতায় আসতে পারবো কিনা তাও ভাবে নি। সবার বিরুদ্ধে গিয়ে সমর্থন করেছে। যে ছেলেটাকে ধরিয়ে দেওয়ার কথা বলছো, সেও তো কম করেনি আমার জন্য। হয়তো বিনিময়ে টাকা দিয়েছি অনেক। তবুও, আমায় ফেলে তো কখনো যায় নি। শতখানেক মামলা, মারামারি, কাঁটাকাঁটি, নিশ্চিত যেকোনো সময় মৃত্যু জেনেও চলে যায় নি। আমার নির্দেশ মতো কাজ করেছে৷ নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে নতুন নতুন শত্রু বানিয়েছে। হয়তো ব্যক্তিগত আক্রোশ নিয়ে পরশের উপর মারাত্মক ভাবে হামলা করেই ফেলেছে। কিন্তু তাই বলে কি ওকে এখন ধরিয়ে দেবো? শুধুমাত্র আমার মেয়ে ছিলো বলে! আমি এতোটা স্বার্থপর কি করে হবো তৃষ্ণা?

পিপাসার চোখদুটো ছলছল করে উঠলো। অতীতের দৃশ্যগুলো পুণরায় দাগা দিচ্ছে অন্তরে। অভিমান,অভিযোগ সবকিছু মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। তার অবর্তমানে শামসুলের জীবনে ঘটা ঘটনাগুলো স্পর্শীয়াই বলেছে। এইতো সেদিন ঢাকা থেকে আসার পর সোভাম এবং পিপাসাকে কেঁদে কেঁদে বাবার কষ্টের কথা বললো। এই হতভাগা বাবাকে রেখে সে চলে আসতে পারবে না সেটাও জানালো। পুরোটা শোনার পর পিপাসার ভীষণ মায়া হয়েছিলো। দৃশ্যগুলো মনে করে সারারাত কেঁদেছিলো। কিন্তু অভিমান? তা তো এক চুলও নড়েনি। কি করে পারলো আয়জার সঙ্গে সংসার পাততে? তাদের ছেড়ে নতুন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে জীবন কাটাতে? কই, পিপাসা তো পারে নি। নতুন ভাবে কোনো পুরুষকে স্থান দেয়নি হৃদয়ে। বরং বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েকে নিয়ে টানাপোড়েনের সংসার চালিয়েছে। বুক ফুলিয়ে নিঃশ্বাস নিয়ে পুরাতন যন্ত্রণাগুলো ছুড়ে মারলো পিপাসা। কন্ঠে কোমলতা এনে শামসুলের উদ্দেশ্যে বললো,

– তা না হয় বুঝলাম। কিন্তু এতে তো আপনার জনপ্রিয়তা কমছে। সবাই তো আপনাকেই দোষারোপ করছে।
– করুক! ওদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই। তবুও শত্রু হিসেবে প্রথম সন্দেহটা আমার দিকে করাই স্বাভাবিক। কিন্তু এটা বেশিদিন স্থায়ী হবে না। যেখানে আমার মেয়েও ওর সাথে ছিলো, সেক্ষেত্রে আঙুলটা খুব শীঘ্রই তৃতীয় পক্ষের দিকে যাবে। কিন্তু আমার প্রশ্ন স্পর্শী ওই ছেলের সাথে বাইকে করে এতো রাতে কোথা থেকে ফিরছিলো?
প্রশ্নটা ফেলে দেওয়ার মতো নয়। এই একই প্রশ্ন বিগত সাত দিন ধরে মস্তিষ্কে ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু ঠিক স্পর্শীয়াকে জিজ্ঞেস করে উঠতে পারছে না। জ্ঞান ফেরার পর থেকেই মেয়েটা গম্ভীর। চুপচাপ হয়ে থাকে। সারাক্ষণ দুচোখ বন্ধ করে কিছুতো একটা ভাবে। এইতো গত পরশু খাওয়ানোর ফাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলো এই প্রশ্ন। কিন্তু স্পর্শীয়ার থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায় নি। সেই সময় তার মুখভঙ্গি ছিলো কঠোর। চোখে ভেসে উঠেছিলো রাগ। যেনো প্রশ্নটা মোটেও পছন্দ হয়নি। এরপর আর সে খায় নি। বরং চোট লাগা হাত বাড়িয়ে পানি খেয়ে বলেছিলো – আমি নিজ হাতে খেতে পারবো আম্মু। তোমার কষ্ট করতে হবে না।

পিপাসা চুপসে গেছিলো। প্রশ্নটা কি খুবই ব্যক্তিগত ছিলো? কেনো স্পর্শীয়া জবাব দেয়নি। এটা কি শুধু বাবার প্রতি অভিমানের কারনে, নাকি এই প্রশ্নের উত্তর তার নিজের কাছেই ছিলো না। বড্ড অসস্তি হয়েছিলো পিপাসার। তাই চুপ করে গিয়েছিলো। মেয়েটা সুস্থ থাকলে সে অবশ্যই জোর করতো। এমনকি জেরাও করতো। শামসুল এখনো কৌতুহলী হয়ে পিপাসার দিকে চেয়ে আছেন। ভেবেছেন স্পর্শীর মা হয়তো বিষয়টা সম্পর্কে জানেন। পিপাসা স্বামীর দিকে তাকিয়ে নিজের অজ্ঞতার কথা জানালেন না। বরং একপ্রকার ক্ষোভ নিয়ে বললো,
– ও ছোটো নয়। প্রত্যেকেরই ব্যক্তিগত কিছু বিষয় থাকে। সেসব না জানতে চাওয়াটাই শ্রেয়!
শামসুল আপত্তি জানালো। বললো,
– তাই বলে পরশ! তুমি জানো না আমজাদ শিকদারকে? ওরা আজও আমাকে আয়জার খুনী মানে। এবার আমার মেয়েকে ফাঁদে ফেলছে না, তার কি নিশ্চয়তা।
পিপাসা হঠাৎ চিন্তিত হয়ে পড়লো। বললো,
– সুস্থ হোক। আমি কথা বলে দেখবো।

পিঠের নিচে দু দুটো নরম বালিশ দেওয়া। তার উপর হেলান দিয়ে চুপ করে আধশোয়া হয়ে রইলো স্পর্শীয়া। চোখ দুটো তার স্নিগ্ধ, ছাদের দিকে দৃষ্টিবদ্ধ। মানসপটে বারবার একই দৃশ্য ভেসে উঠছে। জ্ঞান হারানোর পূর্বের ঘটনাটুকু কোনোভাবেই ভোলা সম্ভব হচ্ছে না। রক্তাক্ত, বিধ্বস্ত পরশ নিজের দিকে লক্ষ্য না করে ছুটে এসেছিলো তার কাছে। উদগ্রীব হয়ে পড়েছিলো তাকে নিয়ে। কোথায় আঘাত লেগেছে তা দেখার জন্য। এসব ভেবে এখন ভীষণ কান্না পাচ্ছে স্পর্শীয়ার। লোকটা সত্যিই তাকে এতোটা ভালোবেসেছে ভাবতেই হতাশ লাগছে। কেনো ভালোবাসলো, কি দেখে ভালোবাসলো?

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৪৩

সে কি আদৌ এই ভালোবাসার মূল্য দিতে পারবে? নাকি বাবার সান্নিধ্যে থাকার জন্য, বাবাকে কষ্ট না দেওয়ার জন্য সমস্তটা অগ্রাহ্য করবে! কিন্তু কিভাবে? কিভাবে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে তার যত্ন নেওয়া এক পুরুষকে ফিরিয়ে দেবে? এমনকি স্পর্শীর সুরক্ষার জন্য হেলমেটটাও দিয়ে দিয়েছিলো পরশ। নাহলে কি হতো আজ? সে তো ট্রাকের নিচেই ছিলো। ভাগ্য অতিশয় ভালো থাকায় চাকার নিচে পিষে যায় নি। পিচঢালা রাস্তায় লুটিয়ে পড়েছিলো। বিশালাকৃতির ট্রাক টা তার উপর থেকেই চালিয়ে গেছে। অবস্থান দু চাকার মাঝের ফাঁকা অংশে ছিলো বলেই হয়তো বেঁচে থাকা।

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৪৫