Home লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৩১

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৩১

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৩১
নুসাইবা আরা নুরি

সারাদিন পেরিয়ে সন্ধ্যা নামে ধরনীতে।সারাদিন তোহা বেশ সাভাবিক ছিলো।দুপুরে সিয়ামের সাথে আধাঘন্টার বেশি সময় কথা বলে পার করেছে।সিয়াম যাতে কোনো ভাবেই তোহাকে সন্দেহ না করতে পারে।তারপর ইভানের থেকে সে বাইনারি সংখ্যা গুলো এক ধরনের গুপ্ত কোড যেখানে স্পষ্ট লেখা ৩৭ টা নারী ও ২৫ টা বাচ্চার টাকা।তোহা আতকে উঠেছিলো ইভানের ম্যাসেজ টা পড়ে।তোহার সন্দেহ এখন পাকাপোক্ত। এই নিষ্টুর জানো*য়ারের মুখোশ উন্মোচন করবেই সাথে নিজের পরিবারের খুনের প্রতিশোধ সে নিবেই।
তোহা দুপুরে মেহেরাজকে দুই পাতা ঘুমের ওষুধ পাঠাতে বলেছিলো। মেহেরাজ প্রশ্ন করে নি কারন মেহেরাজ জানে তোহা কিছু একটা করবে তাই বেশ ভালো ভাবেই সতর্ক করেছে যেনো তার বউ এর কোনো ক্ষতি না হয়।তোহা আচ্ছাস দিয়েছে মেহেরাজকে।মেহেরাজ গোপ্নে ওষুধ শ্রেয়সীর সাথে দেখা করতে এসে শ্রেয়সী দের বাড়ির বাগানে ফেলে গেছিলো সেখান থেকে তোহা নিয়েছে।যদিও আগে থেকেই তোহার কাছে ছিলো তবে সেগুলো বেশি পাওয়ারের যদি কোনো ক্ষতি হয় সেই ভয়ে নতুন কিনিয়েছে।
সন্ধার পরে তোহা তুহুন কে কল করে কাল তাকে নিতে আসতে বলেছে।উল্লেখ যোগ্য কারন হিসেবে বিশ্বাস যোগ্য কিছু একটা বলে দিতে বলেছে।তুহিন ও আসবে বলেছে কাল দুপুরে।আজ তোহা রান্না ঘরে আগেই ঢুকে গেছে তা দেখে খাদিজা খাতুন তোহাকে জিজ্ঞাসা করলে তোহা বলে,

-আম্মা আজ আমি করি রাতের রান্না প্লিজ।
-না মা আমি করছি তুমি এখানে দাঁড়িয়ে দেখো??
শাশুড়ীর কথায় তোহা হাল না ছেড়ে বলে,
-প্লিজ আম্মা। আজ তো আপনার ছেলে বাড়িতে নেই।প্লিজ আজ রাতের রান্না করি আমি।
-না মা হাত পুড়বে।আমি না থাকলে তখন কইরো এখন আমি আছি তো।
তোহা এবার একটু ইমোশনাল হয়ে গেলো খাদিজা খাতুনের কথায়।তারপর বলল,
-আপ্নি আমাকে ভালোবাসেন না আম্মা।তাই রান্না করতে দিচ্ছেন না।আর চাইবো না কোনোদিন সরি।তাও আপনি সব সময় থাইকেন কাছে।
তোহার অভিমান বুজে খাদিজা খাতুন হাসে।তোহাকে ভিষন ভালোবাসেন তিনি।হেসে তোহার মুখে হাত বুলিয়ে বলে,
-পাগলী মেয়ে।আচ্ছা রান্না করো।সাবধানে করবা আমি তাহলে ঘরে যাচ্ছি।
-আচ্ছা আম্মা আমি চা নিয়ে আসছি আপনার জন্য।
-আচ্ছা।

খাদিজা খাতুন চলে যেতেই তোহা হাফ ছেড়ে বাচলো।ওষুধ গুলো তার কোমরে বাধা।বাই এনি চান্স যদি পড়ে যেতো।তোহা শাশুড়ীর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলে,
-মাফ করবেন আম্মা।আপনি আসলেই অনেক ভালো মানুষ। তবে আপনার সাথে যারা বসবাস করে তারা কাপুরুষ।তাদের কে শেষ না করলে এই দুনিয়ায় পাপ বেড়েই চলবে দিনে দিনে।
তোহা আর না ভেবে চুলায় চা বসিয়ে দিলো।চা বানানো শেষ এ শাশুড়ীর ঘরে দিয়ে শ্রেয়সীর ঘরে নজর বুলিয়ে এলো।মেয়েটার মাথা ধরেছে আজ আবার।বিকালে কোচিং থেকে আসার পর থেকেই সুয়ে আছে।তোহা এগিয়ে গেলো শ্রেয়সী আদা চা খাবে কিনা।মাথা যন্ত্রনা কম্বে বলে।কিন্তু গিয়ে দেখলো শ্রেয়সী হাত পা গুটিয়ে সুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।তোহা আর ডাকলো না।কম্বলের ভাজ খুলে শ্রেয়সীর গায়ে দিয়ে বেরিয়ে এলো।তারপর রান্না ঘরে চলে গেলো রান্না করতে।

বিছানায় হেলান দিয়ে বসে আছে মেহেরাজ।কোলের উপর ল্যাপটপ।কানে এয়ারবার্ডস।চোখ মুখ গম্ভীর করে স্ক্রীনের দিকে তাকিয়ে আছে।মেহেরাজ কে চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে ল্যাপটপের ওপাশে থাকা থাকা ব্যাক্তিটি দোলনায় আয়েশ করে বসে বলল,
-ভাইয়া এমন করে তাকিয়ে থাকার কি আছে।আমি তো বললাম এখন দেশে যাওয়ার কোনো প্লানিং নেই আমার।
মেহেরাজ তাও কিছু বলল না।মেহেরাজকে চুপ থাকতে দেখে ইভান কিছুটা ভয় পেলো।বিনা কারনেই ছোট থেকে মেহেরাজকে ভয় পায় ইভান।কোনো মানে হয় এই আঠাশ ছুই ছুই ছেলেটার তার এক বছরের বড় ভাইকে ভয় পাওয়ার।যেখানে তার ভাই তাকে ধরতে পারবে না মারবে না তাও।হয়তো এই ভয় টা ভালোবাসার সম্মান থেকে আসে।ইভান এবার ছোট্ট করে বলল,

-ভাইয়া তুমি কি আমার উপর রেগে আছো??
-নাহ।
মেহেরাজের গম্ভীর আওয়াজ।ইভান চুপ।কি বলবে বোজায় যাচ্ছে রেগে আছে।এখন কিছু বললে রেগে যাবে না তো আবার।ইভান আবারো বলল,
-সরি ভাইয়া।আসলেই এখন দেশে যাওয়ার__
বাকি কথা গুলো শেষ করার আগেই গম্ভীর কন্ঠে মেহেরাজ বলল,
-দেশ ছেড়েছিস কত বছর??
ভাইয়ের প্রশ্নে চমকায় ইভান।তারপর শান্ত গলায় বলে,
-প্রায় সাত??
-এই সাত বছরে একবারো তোকে দেশে আসতে বলেছি আমি??
-নাহ!
-তাহলে সমস্যা কি??
-আসলে!
-কি আসলে??

-তুমি তো সব জানো ভাইয়া।আমার এমন কিছু নেই তুমি জানো না তাও এমন বলছো।আমি কি কারনে দেশ ছেড়েছিলাম তাও তুমি যানো।আর এখন তো যাওয়ার প্রশ্ন আসেই না।
-সেটা আমি জানলেও আব্বু,আম্মু,,দাদা,দাদি এগুলো জানে??
মেহেরাজের গম্ভীর কন্ঠ।না চাইতেও রেগে যাচ্ছে।মেহেরাজ এখন রাগতে চাইনা।যেভাবেই হোক ইভান কে দেশে আনতে চাই।তার মা প্রায় প্রায় তাদের দুই ভাইয়ের ছবি দেখে কাদে এটা মেহেরাজের দৃষ্টি এড়াই না।যেহেতু আর কিছুদিন বাদে মেহেরাজের বিয়ে তাই তার মায়ের আরো বেশি করে ইভানের কথা মনে পড়ছে।মেহেরাজ কল মিউ ট করে কয়েকবার জোরে দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেকে শান্ত করে।রাগ টা কন্ট্রোল এ এনে শান্ত কন্ঠে বলে,

-তুই দেশ ছাড়তে চাইলি।আমি সব গোপন করে তোকে সব রকম হেল্প করলাম।তুই মেডিকেল পড়া ছেড়ে দিয়ে হ্যাকিং শিখলি আমি সেটাতেও সায় দিয়েছি।কখোনো কাওকে বুজতে দেই নি।তুই যার জন্য নিজের জীবন গোছাতে চাইলি সে কি কারনে অন্যর হলো সেটাও তুই জানিস।আর ওর পারসোনালিটি কেমন তাও জানিস।আর অনেক মেয়ে আছে দুনিয়াতে।তোর ভাগ্যে যে লেখা আছে তার সাথেই তোর বিয়ে হবে।
মেহেরাজ থামে।ল্যাপটপের স্ক্রীনে ইভানের মাথা নত চেহারাটা দেখে আবারো বলে,
-আম্মু তোর চিন্তায় বার বার অসুস্থ হয়।তুই ফ্রী থাকলেও মাসে একবার কল করিস না।যেখানে তুই মেডিকেল পড়া বাদ দিয়েছিস পাচ বছর আগে।সেখানে কাল্কেও বললি তুই পড়াই বিজি।আমি তাও চুপ রইলাম তবে।
-তবে কি।
ইভান নিচু কন্ঠে জিজ্ঞাসা করে।মেহেরাজ আবারো নিঃশব্দে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,
-আগামী তিন দিনের ভিতরে দেশ এ না আসলে আমি সবাইকে সব সত্যি বলে দিবো।আর তুই জানিস আম্মু জিনিস টাই কতটা হার্ট হবে।যদি আম্মুকে ভালোবেসে থাকিস তবে ঠিক তিন দিনের মাথায় শুক্রবারে তোকে দেশে দেখতে চাই।

-ভাইয়া শুনো।
মেহেরাজ কল কেটে দিলো।সে ইচ্ছা করেই কেটেছে।সে ভাই হয়ে কিভাবে তার ভাইকে আর দূরে রাখবে।আর মায়ের মন তো বার বার তার দুই ছেলেকে এক সাথে দেখতে চাই।মেহেরাজ জানে ইভান আর যাই হোক তার কথার অবাধ্য হবে না।ছোট থেকেই আজ পর্যন্ত কোনো ক্লথার অবাধ্য হয়নি ইভান।তাই মনে মনে ঠিক করেছে ইভান বাড়িতে ফিরলে তার বিয়ের পর পরই আগে থেকে ঠিক করে রাখা মেয়ের সাথে ইভানের বিয়ে দিয়ে দিবে।সাথে ফাহিমের ও। দিয়ে সে ভাই ও বন্ধুর এক গুরু দায়িত্ব পুরন করবে।

রাতের খাবার রান্না শেষ এ তোহা নিজের ঘরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নেয়।শাশুড়ীর ঘরে উকি মেরে দেখে খাদিজা খাতুন নামাজ পড়ছে।সেই ফাকে তোহা নিজের জন্য কিছু তরকারি বাটিতে তুলে সরিয়ে রেখে গুড়ো করা চার খানা ঘুমের ওষুধ তরকারির হাড়িতে মিশিয়ে দেয়।ঝিঙে ভাজি তোহা খাই না বরাবর তাই সেটাই আগেই মিশিয়েছিলো।সব কাজ শেষ এ তোহা নিজের ঘরে চলে যায়।এখন আর কাজ নেই।বাকি কাজ তার শাশুড়ী করবে।
রাত সাড়ে নয়টায় বাড়িতে ফিরে আলতাফ শেখ। সিয়াম শহরের বাইরে তাই আজ একটু দেরিতে দোকান বন্ধ করলো।সিয়াম বাড়িতে থাকলে এগারোটা বেজে যায়।আলতাফ শেখ বাড়িতে আসার পর তোহা শ্রেয়সী কে ঘুম থেকে তুলে দেয়।শ্রেয়সী ঘুম থেকে উঠে এশার নামাজ পড়ে সবার সাথে খেতে বসে।তোহা বসেনি।সবাইকে খাবার এগিয়ে দিচ্ছে।তা দেখে খাদিজা খাতুন বলেন,
-তুমি বসে পড়ো মা।একা একা খাবে নাকি।আজ তো সিয়াম ও আসবে না।আমাদের সাথে বসো।
-না আম্মা।খিদা নাই।
-আরে বসো।
শাশুড়ীর কথায় তোহা চুপ করে যায়।মনে মনে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।শশুরের সামনে খুব বেশি কথা বলে না।তাই আবার বলল,

-বসছি আম্মা আপনারা উঠেন তারপর।
খাদিজা খাতুন বুজলো তোহা শশুরের সামনে খেতে বসতে লজ্জা পাচ্ছে তাই আর জল্র করলো না।শ্রেয়সী ভাজি তরকারি কিছু না নিয়ে শুধু মাত্র একটা ডিম দিয়ে ভাত খেয়ে উঠে গেলো।তবে তা তোহার খেয়াল হয়নি।সে তো শ্রেয়সী কে সব বেড়ে দিয়েছিলো।তোহা ওঠার পর শ্রেয়সী মাথা ব্যাথার ওষুধ দিলে শ্রেয়সী খেয়ে আবার ঘরে গিয়ে সুয়ে পড়ে।
এফিকে আলতাফ শেখ আর খাদিজা খাতুন খেয়ে উঠে অন্য দিন সোফায় বসে অনেক্ষন টিভি দেখলেও আজ কিছুক্ষন বাদেই ঘুম চলে এলো।তবে তারা ভাবলো না।কারন তাদের সাথে তোহা ও হায় তুলছে।সবাই ক্লান্ত।ভেবে খাদিজা খাতুন তোহাকে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তে বলে তারা ঘরে চলে গেলো।
সবাই ঘরে যেতেই তোহা আনমনে হেসে উঠলো।টেবিলের থালা বাসন গুলো রান্না ঘরের কিচেনে রেখে।অবশিষ্ট তরকারি গুলো ফেলে দিলো।তারপর নিজের তরকারির বাটি বের করে ভাত খেয়ে নিলো।সব শেষ এ গুছিয়ে লাইট নিভিয়ে ঘরে চলে গেলো। যা করার রাতের ভিতরেই করবে আজ।সিয়ামের সব গোপন সত্য খুজে বের করতে হবে তাকে।তোহার প্রথম প্রথম একটু খারাপ লাগলেও এখন বিন্দু মাত্র খারাপ লাগা কাজ করছে না।তোহা রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে নিজের একটা প্লাজু আর একটা লং টিশার্ট পরে নেয় শাড়ি খুলে।তারপর কানের দুল আর হাতের চুরি খুলে ড্রেসিং টেবিলের উপর রাখে।যাতে একটু শব্দ না হয়।নিজের চুল গুলো গাডার দিয়ে বেধে।ল্যাপটপ অন করে মুভি দেখতে বসে মধ্যেরাতে যা করার করবে।

ইদানিং মন মেজাজ খুব খারাপ আনাম মিয়ার।চট্রগ্রাম শহরে পুলিশ আর্মির বিশাল পাহারা বেড়েছে।জঙ্গলে যেতে নিলেও অনেক সাবধান থাকতে হয়।সাথে কাজ গুলো সাবধানে করতে হয়।তার এত বছরের অভিজ্ঞতার মুখে গতকাল রাতে একটা মেয়ে পাচারের জাহাজ নৌবাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে।নেহাত অফিসার টা সৎ তাই আনাম মিয়ার কোনো চাল খাটেনি নয়তো তার লোকেরা মোটা অংকের টাকা দিয়ে এসব মিটিয়ে নেয়।
মেয়ে গুলো এখন চট্রগ্রাম থানার পুলিশ এর আন্ডারে আছে তবে কেও কিছু বলতে পারছে না।শুধু বলতে পারছে তাদের উপর অমানুষিক শারিরীক নির্যাতন হয়েছে আর কন্টেইনার এর ভিতর পুরে দরজা লাগিয়ে দেছে মুখ বেধে।এটাই আনাম মিয়ার বড় সস্তি।জঙ্গলে আনার আগে প্রতিবার ই মা*ল গুলোকে অজ্ঞান করে নিয়ে আসে আনাম মিয়ার লোকজন।আর জঙ্গলের ভিতরেও কড়া ডোজ এর ড্রাগ দেওয়া হয় ফলে মস্তিষ্কর স্বরন শক্তি বিলীন হয়ে যায়।
পাতাল ঘরের নিজের বিছানায় অর্ধ*উলঙ্গ হয়ে আধসোয়া হয়ে সিগারেট টানছে আনাম মিয়া।বিছানার অন্য প্রান্তে একটা বাইশ-তেইশ এর তরুনীর আধমরা শরীর পড়ে আছে।খুব*লে খেয়েছে আনাম মিয়া মেয়েটাকে।এক্টাই কারন মেয়েটার কড়া মেজাজ।আর এটা আনাম মিয়ার ঘোর শত্রু।মেয়ে জাতি হবে কাদার মতো।পুরুষের মুখে কথা কেন বলবে।

সিগারেট খাওয়া শেষ হলে আগুন জলতে থাকা সিগারেট এর পশ্চা*দেশ মেয়েটার পেটে চেপে ধরলো।মেয়েটা নড়ে উঠে কেদে উঠলো হাত দুটো বাধা।ঠোঁট কেটে রক্ত বেরিয়ে জমাট বেধে গেছে।আনাম মিয়া তৃপ্তির হাসি হেসে রকি কে ফোন দিতেই রকি এসে হাজির হলো ঘরে।রকিকে দেখে কথা না বাড়িয়ে আনাম মিয়া অলস ভঙিতে বলল,
-ন*ডি রে লইয়া যা।তোদের মন চাইলে উপভপগ কর।যদি বাই*চা থাকে প*তিতা পল্লি তে দিয়া আইবি যত দিবে সব তোর আর তপুর আর মইরা গেলে মাগুর মাছের গর্তে দিয়া দিস ওদের খাবার দেয়া হচ্ছে না।এখন ঘুমাবো লইয়া যা এরে।
কথাটা বলে আনাম মিয়া সাদা কুশন জড়ানো বালিশ টেনে নিয়ে সুয়ে পড়লো বিছানায়।পরনের সাদা লুঙি খানা ঢিলা করে গায়ে কাথা জড়ালো।আনাম মিয়ার কথা শুনে রকির চোখে লাল
সা ভরে গেলো।এমন সুজোগ কি কেও হাত ছাড়া করে।কতদিন ধরে নারী*দেহের স্বাদ পাচ্ছে না ঠিকমতো।
রকি এগিয়ে এসে মেয়েটার ঘাড় সমান বেনি করা চুল গুলো মুষ্টিবদ্ধ করে ধরে বিছানা থেকে টান দিয়ে নিচে ফেললো ধুম করে শব্দ হলো সাথে মেয়েটার নিরব গোঙানি।রকি বুজলো বাকি গুকোর মতো এরো জিভে চুন ফলে দিয়েছে আনাম মিয়া তাই এমন চুপ।

রকি মেয়েটাকে টেনে ঘর থেকে বেরিয়ে লাইট নিভিয়ে দরজা টেনে পাশের ফাকা ঘরে নিয়ে যায়।তারপর ছুড়ে ফেলে দিয়ে তপু কে ডেকে নিয়ে আসে।দুই বন্ধুর সুবর্ন সুজোগ।মরে গেলেও কোনো কৈফিয়ত দেওয়া লাগবে না যেখানে সয়ং তাদের বস আজ অনুমতি দিয়েছে।রকি আর তপু দেরি না করে ঘরে’র ভিতর সফট একটা মিউজিক চালু করে দুটো বিয়ার এর বোতল নিয়ে এগিয়ে গেলো মেয়েটার দিকে।মেয়েটার আধখোলা চোখে একবার দেখলো তাদের।তারপর চোখ বুজে নিলো।ঘরের বাইরে থেকে মেয়েটার মৃদু আর্তনাদের আওয়াজ মিশে গেলো দোম বন্ধ হওয়া রক্তের গুমোট বাতাসে।

ঘড়ির টিক টিক আওয়াজে জানান দিচ্ছে রাত একটা বাজে।তোহার ঘুম চলে এসেছিলো তাই এলার্ম দিয়ে রেখেছিলো।তবে ঘুমাই নি।একটা বাজতেই মোবাইল টা নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।সাথে চাবি গুলো ও নেয়।কখন কোনটা কাজে লাগে।ধীর পায়ে শব্দহীন ভাবে শ্রেয়সীর ঘরে একবার উকি দিয়ে তারপর সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে যায়।ডাইনিং এ হলুদ এক্টাজিরো বালব জ্বলছে।
তোহা মোবাইলে ফ্ল্যাশ জালিয়ে শশুরের ঘরের সামনে দাঁড়ায়।বুকে একবার ফু দিয়ে হাল্কা করে চাপ দিতেই দরজা খুলে যায়।তোহা জানে তার শাশুড়ী দরজা লাগায় না।তাই আর ভাবে নি।ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে কয়েকবার গায়ে হাত দিয়ে শব্দ করে চেক করে আদেও জেগে আছে কিনা।যখন বুজতে পারে ঘুমিয়ে গেছে তখন শ্রেয়সী ঘরের দরজা ভিতর থেকে ভেজিয়ে দিয়ে আগে থেকে বানানো নকল চাবি দিয়ে আলমারি খুলে।অনেক খুজেও কোনো লকার পায় না।কিন্তু তোহা তো লকার দেখেছিলো।কথাটা মনে করে পিছু ঘুরে তাকায়।

ঘরের একদম কোনায় মরিচা ধরা একটা আলমারি।মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইট পড়তেই লাল রঙের আলমারিটা চোখে পড়ে।তওহা কপাল চাপড়ায়।পুরোনো আলমারি রেখে নতুন আলমারি খোলার জন্য। কয়েকদিন আগেই নতুন আলমারি টা কিনেছে তার শাশুড়ীর কাপড় রাখার জন্য। কারন তার শশুরের দোকানের অনেক দরকারি কাগজ পত্র থাকে পুরোনো আল মারিতে যদি হারিয়ে যায়।সেজন্য।
তোহা হাসে বুদ্ধি আছে তার শশুরের।তোহা ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে আলমারির তালা খুলে।শব্দ করে খুলে যায়।তোহা দেখে অনেক গুলো কাগজ পাতি উপরে থাকায়।আর নিচে তার শশুরের জামা কাপড়।তোহা সব কাগজ বের করে মোবাইলের আলো দিয়ে পড়ে পড়ে দেখে রেখে দেয়।কারন আসলেই সব দোকানের।তোহা এবার নিজের পাওয়া সেই চাবিটা বের করে লকারে ঘুরাতেই লকার খুলে যায়।
তোহা আনন্দে লাফিয়ে উঠে ভিষন আনন্দ লাগছে তার।তোহা লকার খুলে অবাক হয়।পুরো লকারে মাত্র কয়েকটা ফাইল।আর তার নিচে আবার ডয়ার।তবে চাবি তো তোহার কাছে নেই এখন কি হবে।তোহা মাথায় গুজা হেয়ার ক্লিপ খুলে বের করে।খুব শান্ত ভাবে তালার ভিতরে ঘুরিয়ে ড্র‍য়ার এর লক খুলে ফেলে।ট্রেনিং এ শিখেছিলো এটা।আর এখন চাবি খুজলেও কাজ হতো না বরং সময় নষ্ট হতো আর কিছু উলাট পাল্ট হলেই তার শশুর সকালে বুজে যেতো।

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৩০

তোহা ডয়ার খুলে চমকায়।আরো কয়েকটা ফাইল।একটা টাকার হিসাবের লিস্ট।আর একটা পিস্তল।তোহা টাকার হিসাবের লিস্টের ছবি তুলে নেয়।এখানে প্রায় ছয় কোটি টাকার হিসাব লেখা চার পৃষ্ঠায়।তারপর তোহা ফাইল বের করে পড়তে গিয়ে আরো অবাক হয়।কয়েক জায়গায় অনেক বিশাল বিশাল জমির দলিল তার শশুরের নামে।তোহা ছবি তুলে সর্বশেষ লাল কাপড় দিয়ে বাধা ফাইল টা খুলতেই অবাক হয়।এটা আর কেও না তার বাবার সম্পত্তির দলিল।তোহার বুকের ভিতর মোচড় দিয়ে উঠে এতোদিন পর তার বাবার হাস্যজ্জল মুখের ছবিটা দেখে।

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৩২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here