Home শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ৬

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ৬

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ৬
রুহানিয়া ইমরোজ

ভার্সিটির মাঠে একজন শিক্ষার্থীকে চুমু খেয়েছে দ্যা গ্রেটেস্ট গ্যংস্টার তাজরিয়ান জাওয়াদ চৌধুরী। এই দৃশ্য কী মিস করার মতো? অবশ্যই না, তাইতো জটলা পাকিয়ে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সবাই।
সময়ের ব্যবধানে কাশি কমে আসে মেহরিমার। অতি মাত্রায় কাশি হওয়ার ফলে তার চোখমুখ রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। ক্রোধে কাঁপছে তার কচি কিশলয়ের মতো ঠোঁটজোড়া। তাজরিয়ান ভ্রু কুঁচকে সেটাই দেখছিল। আর মনে মনে ভাবছিল,

–” এত সুইট এন্ড সফটও হয় কারও ঠোঁট? আজ পর্যন্ত যত জন মেয়ের সান্নিধ্যে গিয়েছি সকলের কাছ থেকেই দামী ব্র্যান্ডের কড়া লিপস্টিকের উটকো গন্ধ আসতো অথচ এই মেয়ের..
আর কিছু ভাবতে পারে না তাজরিয়ান তার পূর্বেই সশব্দে চড় পড়ে তার গালে। একবার নয় বরং পর পর তিনবার। ঘোরের মাঝে থাকায় তৎক্ষনাৎ রুখতে পারেনি মেহরিমাকে তবে চতুর্থ বারের বেলায় তার হাত শক্ত করে ধরে ফেলে তাজরিয়ান। মেহরিমা ঝটকা মেরে হাত সরিয়ে নিয়ে রাগে কাঁপতে কাঁপতে বলে,
–” নারীর সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কাপুরুষের কাজ। অবশ্য আপনার মতো জারজের কাছে ভালো কিছু আশা করাটা বোকামি। কারণ আপনি অবয়বে পুরুষ হলেও পারতপক্ষে একজন পুরুষত্ব হীন জানোয়ার।
মেহরিমার কাজে এবং কথায় ভয়ংকর ভাবে রেগে যায় তাজরিয়ান। চোখ মুখে ফুটে উঠে নৃশংসতা। ভেতরের পশু সত্ত্বাটা বলে উঠে,

–” নিকৃষ্টতম মৃত্যু ডিজার্ভ করে এই মেয়ে..
তাজরিয়ান তৎক্ষনাৎ হোলস্টারে রাখা পিস্তল বের করতে নিলে তার এসিস্ট্যান্ট তামজিদ তাকে পেছন থেকে জাপ্টে ধরে। কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে,
–” স্যার.. বড় স্যারের ওয়াদা ভুলে যাবেন না প্লিজ। উনি কিন্তু আপনাকে ক্ষমা করবে না…
তাজরিয়ানের হাত থেমে যায় কিন্তু ক্রোধ বাড়তে থাকে তরতরিয়ে। তামজিদ কে ঠেলে সরিয়ে শক্ত হাতে মেহরিমার গলা খামচে ধরে তাজরিয়ান। এর পর তার কাছাকাছি এসে হিসহিসিয়ে বলে,
–” থাপ্পড় মেরেছিস না? তুই লিখে রাখ সুন্দরী। ওয়ান ডে আই উইল মার্ক ইয়্যু এজ মাইন.. তুই তড়পাবি.. মাফ চাইবি কিন্তু আমি তিল পরিমাণ ছাড় দিব না।
মেহরিমা পাল্টা আক্রমণে খামচে ধরে তাজরিয়ানের হাত। গলায় বড্ড চাপ দিয়ে ধরেছে জানোয়ারটা৷ দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তার। কোনোমতে অস্ফুটস্বরে মেহরিমা বলে উঠে,

–” তার আগেই মৃত্যু হোক আমার..
তাজরিয়ান আরও শক্ত করে তার গলা চেপে ধরে দাঁতে দাঁত পিষে বলে,
–” আমিই তোর আজরাইল হয়ে আসবো। মিলিয়ে নিস…
মেহরিমার চোখ উল্টে আসবে এমন সময় ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিলো তাকে। হনহনিয়ে নিজের গাড়ির দিকে এগোতে এগোতে চিৎকার করে বলল,
–” কোনো ফুটেজ কিংবা ছবি যদি সোশ্যাল মিডিয়ায় যায় তাহলে সব কয়টা বাস্টার্ডকে খুঁজে বের করে এই মাঠে জবাই করা হবে।
ভয়ে তটস্থ হয়ে উঠে সকলে। কারও মুখে রা নেই। কোত্থেকে জানি ছুটে আসে মেহরিমার তিনজন ফ্রেন্ড। জ্ঞানশূন্য মেহরিমা চোখ বুঁজে ফেলার আগে বলে,
–” অপবিত্র আমি..

–” ম্যাডাম?
আচানক ডাকটা শুনে হকচকিয়ে উঠে প্রিমা। পিছু ফিরে দেখে ম্যানেজার সাহেব দাঁড়িয়ে আছেন। প্রিমা আশেপাশে তাকিয়ে অপ্রস্তুত কন্ঠে বলে,
–” আমায় ডাকছেন স্যার?
ম্যানেজার সাহেব হাঁপানো কন্ঠে বললেন,
–” জ্বী। আরশিয়ান স্যার আপনাকে ইমিডিয়েটলি মিটিং রুমে উপস্থিত হতে বলেছেন।
প্রিমা ঘাবড়ে যায়। কেননা কাজের বেলায় ভীষণ কঠোর আরশিয়ান। ব্রেকের আগে কোনো এমপ্লয়ির বাহিরে আসা কিংবা কাজের ফাঁকে আড্ডা দেওয়া চরম অপছন্দ তার।
প্রিমার আলসেমি লাগছিল দেখে ক্যান্টিন থেকে এক কাপ চা নিতে এসেছিল। এরমধ্যে আরশিয়ান টপকে পড়বে অফিসে সেটা ঘুণাক্ষরে টের পায়নি বেচারি।
প্রিমাকে ভাবনায় ডুবে যেতে দেখে ম্যানেজার সাহেব তাড়া দিয়ে বললেন,
–” জলদি আসুন ম্যাডাম। স্যার এমনিতেই অনেক রেগে আছেন।
প্রিমার মুখটা কাঁদো কাঁদো হয়ে যায় এবার। চুলায় থাকা চায়ের পানে দুঃখী দৃষ্টিতে তাকিয়ে হতাশ কন্ঠে বলে,
–” চলুন স্যার।

মিটিং রুমের আবহওয়া গরম। শান্ত আরশিয়ান আজ ভীষণ রেগে আছে। কারণ জানা নেই করোর বিধায় সকলেই নিজের পাপ কর্ম গুলো মনে করতে ব্যস্ত। মিনিট দশেক পর ম্যানেজার এবং প্রিমা এসে উপস্থিত হয়।
কাঁচের দরজা ঠেলে মিটিং রুমে ঢুকতেই আরশিয়ান রক্তিম দৃষ্টিতে তাকায় প্রিমার দিকে। ব্যস ওখানেই সমস্ত সাহস ফুঁস বেচারির। কোনোমতে হেঁটে এসে তার জন্য নির্ধারিত চেয়ারে বসে। এরপর আরশিয়ান জোর কন্ঠে দরজার বাহিরে থাকা গার্ডদের বলে,
–” ডোর লক করো। পরবর্তী নির্দেশের পূর্বে এখানে কেয়ামত ঘটে গেলেও দরজা খুলবে না৷
আরশিয়ানের নীরব হুমকিতে সকলে নড়েচড়ে বসে। আরশিয়ান আসন ছেড়ে উঠে ডেস্কের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় এবং জলদগম্ভীর স্বরে বলে,

–” গুড মর্নিং এভ্রিওয়ান। কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং সিধান্ত জানানোর জন্য ডাকা হয়েছে আপনাদের।
সকলেই একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করে। কেউ বুঝে উঠতে পারছে না সমস্যাটা। আরশিয়ান কারও কৌতূহল না বাড়িয়ে সরাসরি বলে উঠে,
–” মানুষ মাত্রই ভুল হয় বাট ইয়্যু নো হোয়াট? চিটিং ইজ আ চয়েস।
আরশিয়ানের কথাটা শুনে একজন ব্যক্তি ঠিক বুঝে কথাটা কার উদ্দেশ্যে বলা। সেই ব্যক্তি আর কেউ নয় বরং আরশিয়ানের পিএ দীপ। ধরা পড়ে যাওয়ায় ভয়ের চোটে দরদরিয়ে ঘামতে থাকে সে। আরশিয়ান তার অবস্থা দেখে তাচ্ছিল্যের স্বরে বলে,
–” আমি কী ঠিক বলেছি মিস্টার দীপ?
দীপ আর ভনিতা করে না। কারণ এখন নাটক করলে তার শাস্তি আরও বেড়ে যাবে। আরশিয়ান লোকটা যতোটা দরদী ঠিক ততটাই নিষ্ঠুর। তাই সে হাতজোড় করে বলে,
–” ভুল হয়ে গেছে স্যার। ওর্ ওরা আমাকে বাধ্য করেছে কোম্পানির ইনফরমেশন দিতে। আমি ইচ্ছে করে করিনি…
আরশিয়ান বাঁকা হাসে। বড্ড ভয়ংকর সেই হাসি। উপস্থিত সকলেই ফাঁকা ঢোক গিলে সেসব দেখে। আরশিয়ান নির্লিপ্ত কন্ঠে শুধায়,

–” তাই নাকি? আমি তো শুনলাম সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে আপনাকে এসবের জন্য। আর সেটা আপনি খুশিখুশি গ্রহণ ও করেছে। সী….
বলেই ডেস্কে থাকা ল্যাপটপে কিছু একটা প্রেস করল। সাথে সাথেই পেছনের স্ক্রিনে ভেসে উঠল একটা ভিডিও। যেখানে দেখা যাচ্ছে, দীপ তার শত্রু পক্ষের সাথে হেসেখেলে ডিল করছে এবং কালো রঙের একটা ফাইল এগিয়ে দেওয়ার পর তাদের থেকে টাকা বুঝে নিচ্ছে।
দীপ বুঝে যায় তার পরিণতি। মানুষটার সাথে তিন বছর যাবত কাজ করছে। সহজসরল আরশিয়ানের ভয়ংকর রুপ তার অজানা নয়।সবাই ভিডিও দেখায় ব্যস্ত ছিলো বিধায় দীপ এই সুযোগে পালানোর চেষ্টা করে। এক দৌড়ে দরজার কাছে যেতেই মনে পড়ে দরজা তো অফ। সে এক ছুটে জানালার কাছে যায় এবং কোনোকিছু না ভেবেই চোখ বুজেঁ লাফ দেয়।
সকলেই আতঙ্কে চিল্লিয়ে উঠে। প্রিমা আঁতকে উঠে রীতিমতো অথচ আরশিয়ান একদম নির্বিকার। সে জানতো এমন কিছুই হবে তাই অবাক না হয়ে উল্টো বিড়বিড়িয়ে পড়ল,

–” ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন।
সকলকে ঘোরের মধ্যে থাকতে দেখে আরশিয়ান গলা খাঁকারি দিল। তাদেরকে আরেকটু হতভম্ব করে দিতে আরশিয়ান বলল,
–” কাওয়ার্ডদের জন্য একমুহূর্ত নষ্ট করা বোকামি। আম স্যরি ফর দ্যা ডিস্টার্বেন্স। আপনাদের কোনো ইস্যু ফেইস করতে হবে না। প্রশাসনের সাথে ডিল করার দায়িত্ব আমার৷ গট ইট?
সকলেই মিনমিনে স্বরে বলল,
–” জ্বী স্যার।
আরশিয়ান পুনরায় বলল,
–” আপনাদের অবগতির জন্য জানানো হচ্ছে যে, মিস্টার দীপের পরিবর্তে এখন থেকে মিস অধরা ইসলাম প্রিমাকে পিএ পোস্টের জন্য চ্যুজ করা হয়েছে।
মৃদু করতালির শব্দ শোনা গেলো। অনেকেই তৎক্ষনাৎ বলল,
–” কংগ্রাচুলেশনস মিস প্রিমা।
প্রিমা হতভম্ব চোখে চেয়ে থাকে আরশিয়ানের দিকে। একটা মানুষ এতোটা নির্লিপ্ত হতে পারে? আরশিয়ান বুঝে যায় তার মনের কথা সেজন্যই মিটিং রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পূর্বে গম্ভীর কন্ঠে বলে,
–” মিস প্রিমা? কাম উইথ মি প্লিজ। নিজের দায়িত্ব গুলো বুঝে নিন এসে…

প্রিমা ধীর পায়ে আরশিয়ানের পিছু হেঁটে কেবিনে ঢুকতেই তাকে উদ্দেশ্য করে আরশিয়ান বলে উঠল,
–” দরজাটা বন্ধ করুন মিসেস চৌধুরী।
প্রিমা হকচকিয়ে উঠে তার কথায়। মনের কোণে উঁকি দেয় অসংলগ্ন চিন্তা কিন্তু প্রশ্ন করার সাহস পায় না৷ চটজলদি দরজাটা অফ করে সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকে। আরশিয়ান পুনরায় বিরক্তির স্বরে বলে,
–” ওখানে দাঁড়িয়ে আছেন কেনো? কাম হেয়ার..
প্রিমা কেঁপে উঠে তার কমান্ডে। এবার শিওর হয়ে যায়, আরশিয়ান তার অধিকার বুঝে নিতেই ডেকেছে প্রিমাকে। ওদিকে আরশিয়ানের মেজাজ ছিলো তুঙ্গে। দীর্ঘ জার্নি করে আসায় ঘুমটা ঠিকঠাক হয়নি তার উপর গোটা সপ্তাহ নাওয়াখাওয়া ভুলে কাজে ডুবে ছিলো বেচারা। একটু শান্তির জন্য বউটাকে ডাকছে কিন্তু সে তো আরেক চিড়িয়া।
আরশিয়ানের ভাবনার মাঝে প্রিমা ধীর পায়ে এসে তার সামনে দাঁড়ায়। ভয়ে হাঁটু কাঁপছিল তার। কী বলবে বুঝতে না পেরে নিশ্চুপে দাঁড়িয়ে ছিলো প্রিমা। আর আরশিয়ান? সে নীরব চোখে দেখছিল প্রেয়সীর ভয়ার্ত মুখশ্রী। মিটিয়ে নিচ্ছিল চোখের তৃষ্ণা। প্রিমা অস্তিত্বতে গুটিয়ে যাচ্ছিল তবুও ভাবলেশহীন ভাবে প্রিমার সন্নিকটে দাঁড়িয়ে আরশিয়ান গম্ভীর গলায় বলে,

–” শার্টের বোতাম গুলো খুলে দিন মিসেস চৌধুরী।
প্রস্তাবটা শুনে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসে প্রিমার। মনে হয়, নিজের কবর নিজেকেই খুঁড়তে বলা হচ্ছে। প্রিমা কে ওমন থম মেরে তাকিয়ে থাকতে দেখে আরশিয়ান পুনরায় বলে,
–” কী হলো? খুলে দিন..
প্রিমা চমকে উঠে বলল,
–” জ্ জ্বী।
এরপর কাঁপা হাতে আরশিয়ানের শার্টের বোতাম গুলো খুলতে শুরু করে বেচারি। পুরোটা সময় মোহনীয় দৃষ্টিতে প্রিমাকে দেখছিল আরশিয়ান৷ তার বাঘিনীর ভয়ার্ত মুখশ্রী এতটা মায়াবী হবে সেটা কল্পনাও করেনি সে। অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থেকে আনমনে বলে উঠে,

–” মা শা আল্লাহ..
প্রিমা পুনরায় চমকে তাকায় কথাটা শুনে। আরশিয়ানের ওমন দৃষ্টি দেখে আরও গুটিয়ে যায়। চোখ নামিয়ে ফেলতে নিলে আরশিয়ান তার থুতনিতে হাত রেখে মুখটা উঁচু করে ধরে। প্রিমা আতঙ্কিত হয়ে চোখ বড় বড় করে তাকায় তার দিকে। তার রিয়েকশন দেখে আরশিয়ান মৃদু স্বরে বলে,
–” এক সপ্তাহ সময় দিয়েছিলাম নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য। আপনি তো আমায় বেসামাল করার প্রস্তুতি নিয়ে এসেছেন দেখছি..
প্রিমা অবুঝ কন্ঠে শুধাল,
–” জ্বী?
আরশিয়ান কৈফিয়ত দেওয়ার মতো করে বলল,

–” ভীষণ সুন্দর দেখাচ্ছে আপনাকে। মুখটা গ্লো করছে। টস টসে গাল দু’টো হালকা রক্তিম হয়ে আছে। শুষ্ক ঠোঁট জোড়া লোভনীয় দেখাচ্ছে।এমুহূর্তে যদি আপনাকে জোরপূর্বক ক’টা শক্তপোক্ত চুমু খায় তাহলে কী আপনি অস্বস্তি বোধ করবেন?
এমন নির্লজ্জ প্রশ্নের উত্তরে কী বলা যায় জানা নেই প্রিমার। সে কম্পনরত হাতে নিজের শাড়ি খামচে ধরে স্রেফ। আরশিয়ান বুঝে বউয়ের মনোভাব তাই কথা না বাড়িয়ে বুকে টেনে নেয় তাকে। প্রিমার নরম তুলতুলে দেহখানা শক্ত করে জড়িয়ে নিয়ে অস্ফুট স্বরে বলে,
–” রিল্যাক্স। আমি মজা করছিলাম।
প্রিমা অস্বস্তি নিয়ে অস্ফুটস্বরে বলে,
–” এটা আপনার অধিকার। আপনি চাইতেই পারেন। ব্যর্থতা আমার…
আরশিয়ান তাকে চুপ করাতে বলল,

–” হুঁশ.. আমি জানি কখন কোনটা আদায় করে নিতে হবে। যেদিন প্রয়োজন পড়বে সেদিন হাজারটা অনুরোধ ফিকে পড়ে যাবে। সবকিছু ছাপিয়ে আমি আপানকে নিজের করে নিবো। ডোন্ট ওয়ারি..
প্রিমা বুঝল তার কথা তবুও বলল,
–” কন্ট্র্যাক্টে লেখা আছে। আপনার বাচ্চা..
আরশিয়ান পুনরায় তাকে থামিয়ে বলল,
–” আপাতত আমার বাচ্চামি সামলে নেন। বাচ্চা নেওয়ার জন্য সময় পড়ে আছে…
প্রিমা অপ্রস্তুত হয়ে বলে,
–” ঠিকাছে..
আরশিয়ান তার গলায় মুখ গুজে আবদারের স্বরে বলে উঠে,
–” আমি কী কিছু সময়ের জন্য আপনার কোলে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারি?
প্রিমা খুব ভালোমতো টের পেয়েছে আরশিয়ানের ক্লান্তি তাই সহজ গলায় বলে,

–” জ্বী..
আরশিয়ান সম্মতি পেয়ে কথা বাড়ায় না। কোলে তুলে নেয় প্রিমাকে। এরপর সোফার উপর বসিয়ে দিয়ে প্রিমার কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়ে। ওভাবেই কিছুক্ষণ চুপচাপ শুয়ে থাকে আরশিয়ান।
অদ্ভুত এক শান্তি কাজ করছিল তার মনের ভেতর। তবে এতটুকুতে খুশি হতে পারলো না সে। উশখুশ করে বলল,
–” মাথায় হাত বুলিয়ে দিন ওয়াইফি।
প্রিমা অলরেডি জব্দ হয়ে গেছে তার দুষ্টু পুরুষের কথায়। তাই তেমন একটা চমকাল না। চুলের ভাঁজে হাত ডুবাল। চুলের ভাঁজে নরম হাতের স্পর্শ পেয়ে আরশিয়ান আয়েশি কন্ঠে বলল,
–” উমম্। আপনাকে পার্সোনাল সেক্রেটারি বানিয়ে ভুল করিনি। টোটালি ওয়ার্থ ইট হাহ্..
আরশিয়ানের আদুরে আচরণে প্রিমা বিস্মিত। তার মনে হচ্ছে, এই বদলোক কন্ট্র্যাক্ট ম্যারেজ নয় বরং এডমায়ার ম্যারেজ করেছে। যার প্রধান শর্ত হলো তাকে ভীষণ রকম এর আদরে আহ্লাদে রাখা৷
প্রিমার ভাবনার মাঝে আরশিয়ান আবারও উশখুশ করে উঠল। সোজা হ’য়ে শুয়ে প্রিমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ৫

–” এটা কী শাড়ি পরেছেন আপনি? আঁচলে এত স্টোন কেনো? আম গেটিং হার্ট..
প্রিমা চোখমুখ কুঁচকে জবাব দিল,
–” আপনিই তো পাঠিয়েছিলেন এটা৷
আরশিয়ান হার মানল কিন্তু হাল ছাড়লো না। হাত বাড়িয়ে প্রিমার শাড়ির আঁচলটা সরিয়ে ফেললো। অতঃপর প্রিমার উন্মুক্ত পেটে মুখ গুঁজে অস্পষ্ট স্বরে বলল,
–” নাও ইট’স পার্ফেক্ট।

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ৭