Home শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ৮

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ৮

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ৮
রুহানিয়া ইমরোজ

তাজরিয়ানের বলা কথাটা বোমা বিস্ফোরণের ন্যায় কাজ করে। সকলেই কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকায় তার পানে। আরশিয়ান বিড়বিড়িয়ে বলে,
–” এটারই কমতি ছিলো। এবার ষোলো কলা পূর্ণ হলো। বলি খোদা, আমার সুখ কী কারও সহ্য হয় না? এখন কার পক্ষ নিব আমি? এই সাইকোর নাকি আমার শালিকার?
তাজরিয়ান কথা বলে থেমে থাকেনি। এলোমেলো পা ফেলে এগিয়ে এসে একদম আরশিয়ানের পাশ ঘেঁষে দাঁড়িয়েছে। তাকে দেখে মেহরিমা অজান্তেই কয়েক পা পিছিয়ে যায়।
প্রথম দিকে হতভম্ব হলেও এবার প্রিমা বুঝতে পারে, তাজরিয়ানই উত্যক্ত করেছে তার বোনকে। সে আর একমুহূর্ত অপেক্ষা না করে তাজরিয়ানের চোখে চোখ রেখে রাগান্বিত স্বরে শুধায়,

–” আমার বোনকে সকলের সামনে অপদস্ত করেছেন কেনো?
নেশার ঘোরে থাকা তাজরিয়ান চোখ পিটপিটিয়ে শুধায়,
–” কারণ ওটা লুকিয়ে করার মতো কাজ নয়। সবার সামনেই করতে হয়।
গাড়ি পার্ক করে সবে মাত্র ড্রয়িংরুমে পা রেখেছিল তামজিদ। এরমধ্যেই কথাটা কানে আসে তার। না চাইতেও বেচারা শব্দ করে হেসে ফেলে। আরশিয়ান ঠোঁটে ঠোঁট চেপে রাখে। মেহরিমা হতভম্ব দৃষ্টিতে তাকায়। আর প্রিমা? সে রেগেমেগে অস্থির হয়ে যায়।
নিজেকে সামলাতে না পেরে থাবা মেরে তাজরিয়ান এর কলার ধরে। এ পর্যায়ে হকচকিয়ে যায় সবাই। তামজিদ ফাঁকা ঢোক গিলে আরশিয়ানের দিকে তাকায়। আর আরশিয়ান হড়বড়িয়ে উঠে বলে,

–” ওর কলার ছাড়ুন। আমি দেখছি বিষয়টা। আমার ভাই বলে তাকে..
আরশিয়ান কথাটা সম্পূর্ণ করতে পারে না তার আগেই প্রিমা তাজের কলার ঝাঁকিয়ে চিৎকার করে শুধায়,
–” কেনো করেছিস ওসব?
তাজরিয়ান টলছে রীতিমতো। এরমধ্যে প্রিমার ঝাঁঝাল প্রশ্নে বিরক্ত হয় কিছুটা। ত্যাড়া নজরে মেহরিমার দিকে একপলক তাকিয়ে ইনোসেন্ট স্বরে বলে,
–” কী করেছি আমি?
প্রিমার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে কিন্তু মেজাজ হারালে চলবে না। তাজরিয়ানকে স্বীকার করাতে হবে তার অন্যায়। তা নাহলে মেহরিমা জাস্টিস পাবে না। নিজেকে কন্ট্রোল করে প্রিমা পুনরায় জিজ্ঞেস করে,

–” ওকে চুমু খেয়েছিস কেনো?
তাজরিয়ান গা দুলিয়ে হেসে উঠে। এরপর আহ্লাদী কন্ঠে বলে,
–” কারণ ও একটা ইয়াম্মি রেড ভেলভেট কেইক। আই লাভ টু..
কথা সম্পন্ন হওয়ার আগেই প্রিমা ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দেয় তাজরিয়ানের গালে। গতিটা এতোই তীব্র ছিলো যে তাজরিয়ান পেছনে থাকা সোফায় হেলে পড়ে। উপস্থিত সকলেই একদম মূর্তির মতো স্তম্ভিত নজরে দেখে দৃশ্যটা।
প্রিমা রাগে ফুঁসতে থাকে। মেহরিমা মুখে হাত দিয়ে দুকদম পিছিয়ে যায়। আর তাজরিয়ান? বেচারা গালে হাত দিয়ে চোখমুখ কুঁচকে ফেলে।
সমস্ত নৈঃশব্দতাকে খান খান করে দিয়ে আফিয়া চৌধুরী রান্নাঘর থেকে ছুটে এসে বলেন,

–” কী হচ্ছে এখানে?
প্রিমা তাজরিয়ানের দিকে নজর রেখেই রাগী স্বরে বলে,
–” আপনাদের বিগড়ে যাওয়া বারুদ কে তার লিমিট শেখাচ্ছি..
আফিয়া চৌধুরী থতমত খেয়ে যান অল্পবয়স্কা সুন্দরী রমণীর তেজ দেখে। চিল্লাপাল্লার শব্দ পেয়ে রান্নাঘর থেকে দৌড়ে এসেছেন তিনি। এসে এমন কিছু দেখতে হবে সেটা কল্পনাও করেননি।
আফিয়া চৌধুরী ভীষণ অবাক হোন। বাড়ি বয়ে এসে তাজরিয়ানকে কেউ থাপ্পড় মারছে আর আরশিয়ান দাঁড়িয়ে সেটা দেখছে.. এই দৃশ্য হজম করতে কষ্ট হলো উনার। তাজরিয়ানকে নিয়ে ভীষণ পজেসিভ আরশিয়ান। ছোটো ভাইয়ের সাত খুনও মাফ তার কাছে তাহলে হঠাৎ?
আফিয়া চৌধুরী খুব বিস্ময় নিয়ে দেখতে থাকলেন আশ্চর্যজনক ঘটনাটা। এরমধ্যে তাজরিয়ান গাল থেকে হাত সরিয়ে বেহায়ার মতো বলে,

–” গুড শট.. আপনি চাইলে জল্লাদ পোস্টের জন্য এপ্লাই করতে পারেন। প্রথম চান্সেই টিকে যাবেন..
প্রিমার মেজাজ বিগড়ায়। পুনরায় তাজরিয়ানকে আঘত করতে যাবে প্রিমা এমন সময় আরশিয়ান তাকে পেছন থেকে ঝাপটে ধরে।
রণমুর্তি প্রিমা ছটফটিয়ে উঠলে আরশিয়ান তাকে শূন্যে তুলে পাশের রুমের দিকে এগোতে এগোতে তার মা কে উদ্দেশ্য করে বলে,
–” তুমি রুমে যাও মা। আমি পরবর্তীতে বুঝিয়ে বলব সবকিছু।
আফিয়া চৌধুরী দাঁড়ালেন না সেখানে। মনের মাঝে হাজারটা প্রশ্ন নিয়ে চললেন নিজের ঘরের দিকে। ছেলের কথা কখনোই অমান্য করেন না তিনি। তবে যাওয়ার আগে বিড়বিড়িয়ে বললেন,
–” আমার ছেলের পছন্দ আছে..
ওদিকে তাজরিয়ান হতাশ হয় ভাইয়ের কোলে অন্য রমণী কে দেখে।তার থেকেও বেশি দুঃখ অনুভব করে প্রিমার জন্য। ধীর স্বরে বলল,

–” মারতে গিয়ে ময়ে ময়ে হয়ে যাওয়ার যে ব্যপারটা! উপস্ ঠু স্যাড…
এতক্ষণ মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে ছিলো মেহরিমা কিন্তু প্রিমাকে ওভাবে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যেতে দেখে সে ভয় পেয়ে গেলো। তামজিদকে উদ্দেশ্য করে বলল,
–” আমার আপা..
তামজিদ বুঝল তার মনের কথা। তাই তাকে আশ্বস্ত করে বলল,
–” টেনশন করবেন না। আপনার বোনকে হয়তো বোঝানোর জন্য ভেতরে নিয়ে গিয়েছেন স্যার..
তাজরিয়ান মাঝখানে ফোড়ন কেটে বলে উঠে,
–” দরজা বন্ধ করে ডিসকাস হয় না রে পাগলা। ইশক্ হয় ইশক্। তোরা সিঙ্গেল তো তাই এডি বুঝস না। হে হে…
তামজিদের চোখজোড়া রসগোল্লার মতো হয়ে যায়। মেহরিমাও সন্দিহান চোখে তাকায়। তাজরিয়ান তার দিকে তাকিয়ে বিরক্তির স্বরে বলে,

–” হেই মার্শম্যালো। তুমি অতো দূরে কেনো? কাছে আসো না। আমি মরে যাচ্ছি ও-ই ডেড ড্রপ গর্জিয়াস ঠোঁটের স্বাদ নেওয়ার তৃষ্ণায়..
আর কিছু বলতে পারলো না তাজরিয়ান। বুঁজে এলো তার চোখজোড়া। ঢলে পড়লো নরম ফোমের গদিতে। তাকে জ্ঞান হারাতে দেখে হাফ ছেড়ে বাঁচল তামজিদ। মেহরিমার দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বলল,
–” উনি একটু অসভ্য কিসিমের মানুষ আপু.. তার উপর নেশার ঘোরে আছে। আপনি রাগ কইরেন না প্লিজ।
মেহরিমা দাঁতে দাঁত পিষে রাগ সামলায়। লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে চোখের পানি আঁটকায়। ঘৃণ্য চোখে চেয়ে বলে,
–” উনি সেটা পাওয়ারও যোগ্য নয়।

প্রিমাকে ঘরের মধ্যে টেনে নিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় আরশিয়ান। প্রিমা তখনও হাত পা ছুড়ছে। আরশিয়ান তার হাত দু’টো শক্ত করে ধরে বলে,
–” মাথ ঠিকাছে আপনার? কী করছেন এসব? ব্যথা পাবেন কিন্তু….
প্রিমার কাছে অতিরিক্ত মনে হয় এসব যত্ন। সে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে ঝাঁঝাল গলায় বলে,
–” আমার মাথা ঠকাছে। ঠিক নেই আপনার বিচার ব্যবস্থা। নিজের ভাই বলে ওর সমস্ত গুনাহ ছোটো খাটো ভুল আপনার চোখে। অথচ ওর জন্য আমার বোন আজন্মের জন্য কলঙ্কিত ঘোষিত হয়েছে।
লাস্টের কথাগুলো বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলল প্রিমা। আরশিয়ান থমকাল আরেক দফা। তবুও বোঝানোর স্বরে বলল,
–” আমি বুঝেছি আপনার কন্সার্ন কিন্তু একটু শান্ত হয়ে বোঝার চেষ্টা করুন..
প্রিমা নাকচ করে বলে উঠে,

–” কী বুঝবো? আপনার ভাই গ্যাংস্টার বলে যা কিছু করতে পারে? লোকসম্মুখে একটা মেয়ের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা জায়েজ?
আরশিয়ান কৈফিয়ত দেওয়ার ভঙ্গিমায় বলল,
–” আপনার বোন ওকে থাপ্পড় দিয়েছে। ভীষণ রেগে ছিলো তাজরিয়ান…
প্রিমা অবুঝের মতো বলল,
–” আপনার ভাই বিপরীতে দশটা থাপ্পড় দিত। ওর সম্মানে হাত দিলো কেনো?
আরশিয়ান অসহায় বোধ করল ভীষণ। কীভাবে বোঝাবে এই মেয়েটাকে? বড় একটা শ্বাস ফেলে প্রিমার দিকে এগোতে এগোতে বলল,

–” আমরা বসে কথা বলি? যা হয়ে গেছে..
প্রিমা দু’পা পিছিয়ে গিয়ে বলল,
–” খবরদার। নেগোসিয়েশনের প্রসঙ্গও তুলবেন না। আপনার ভাই যা করেছে সেটার জন্য..
আরশিয়ান তাকে মাঝপথে থামিয়ে বলে উঠে,
–” সেটা ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এখন প্রয়োজন সমাধান। আপনি তো শুনতেই রাজি নয়..
প্রিমা দ্বিগুণ চিল্লিয়ে বলে উঠে,
–” সমাধান নয় শাস্তি চাই..
আরশিয়ানও এ পর্যায়ে কিঞ্চিৎ মেজাজ হারায়। না পারতে বলে উঠে,
–” তাহলে বিয়ে দিয়ে দিই দুটোর? মানবেন এই রায়? এ ছাড়া আর বড় কোনো শাস্তি হতে পারে না তাজরিয়ানের জন্য। আপনারা রাজি?
প্রিমা থমকে যায় কয়েক মুহূর্তের জন্য। কোথাও না কোথাও একটা বিশ্বাস জন্মেছিল তার মনে। কিন্তু নাহ্। সাবাই এক.. নিজ স্বার্থের জন্য এরা যা কিছু করতে পারে। প্রিমা ঢোক গিলে হজম করার চেষ্টা করে কথাটা। উত্তরে অস্ফুটস্বরে বলে,

–” কেউ যদি আপনার রেইপ করে। তাহলে আপনি সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য তার সাথে নিজের বোনের বিয়ে দিয়ে দিবেন?
আরশিয়ান হতাশার শ্বাস ফেলল। প্রিমার চোখের দিকে চেয়ে বলল,
–” আমি কখনোই তা করব না। আপনাকেও সেটা করতে বলছি না আমি। শুধু বলতে চাইছি, অবুঝ আচরণ করছেন আপনি। বিচার চাওয়ার ধরণটা অত্যন্ত উগ্র। এভাবে কখনোই কিছু পাওয়া যায় না। আমার উপর আস্থা আছে বলেই তো এসেছেন তাই না?
প্রিমা থমকে যায় একদম। থেমে থেমে বলে,
–” হুঁ..
আরশিয়ান তৎক্ষনাৎ বলে,
–” তাহলে আমায় বিচার করার সুযোগটা দেন? তা নাহলে আমি কীভাবে প্রমাণ করব সবকিছু?
প্রিমা শান্ত হয়ে গেলো একদম। মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থেকে ধীর গলায় বলল,

–” জানি না..
আরশিয়ানের ভ্রু কুঁচকে আসলো। মেয়েটাকে উদ্ভ্রান্ত দেখাচ্ছে একদম। এমনটাতো হওয়ার কথা নয়। রাগ উঠলেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখার সামর্থ্য আছে প্রিমার। আরশিয়ান টের পেলো, কিছু একটা ঠিক নেই। বিরাট কিছু হয়েছে তার কলিজার সাথে।
সমস্ত রাগ ইগো সাইডে ফেলে আরশিয়ান ছুটে আসে প্রিমার কাছে। তার দু বাহু ধরে ঝাঁকিয়ে বলে,
–” আপনি তো এমন রিয়েক্ট করার মানুষ নয়। কী হয়েছে প্রেম? কেউ কিছু বলেছে? আমায় বলুন..
প্রিমা জবাব দেয় না। ভগ্ন পাথরের ন্যায় ধপ করে বসে পড়ে ফ্লোরে। চোখ বেয়ে অবিরাম ধারায় অশ্রু গড়িয়ে পড়তে থাকে। আরশিয়ান ঘাবড়ে যায় তার অবস্থা দেখে। তৎক্ষনাৎ তাকে বুকে চেপে ধরে বলে,
–” হুঁশ.. বেশি কষ্ট দিয়ে ফেলেছি? আম স্যরি প্রেম। আর হবে না.. কখনো রাগ দেখাবো না।
প্রিমা নিজেকে সামলাতে পারে না। আঁকড়ে ধরে আরশিয়ানকে। একটু আশ্রয়ের খোঁজে বুক লুকায় আরশিয়ানের বুকে। না চাইতেও শব্দ করে কেঁদে ফেলে। বড্ড হৃদয়বিদারক শোনায় সেই স্বর।
আরশিয়ানের বুক ধড়ফড়িয়ে উঠে। প্রিমার আর্তনাদ তার মস্তিষ্ক নাড়িয়ে দেয়। নিউরনে ছড়িয়ে পড়ে অজানা ব্যথা। কোনোমতে বলে,

–” ডিড আই হার্ট ইয়্যু সো মাচ? ”
কান্নার দাপটে কথা বলতে পারে না প্রিমা। দু’পাশে মাথা নাড়িয়ে না বোঝায়। আরশিয়ান আরও অস্থির হয়ে পড়ে। তারই দমবন্ধ লাগছে এবার। প্রিমার পিঠে হাত বুলিয়ে দিয়ে উদ্বিগ্ন স্বরে বলে,
–” এভাবে কাঁদে না প্রেম। অসুস্থ হয়ে পড়বেন তো.. আমায় বলুন কোথায় কষ্ট হচ্ছে। আমি চেষ্টা করব সবটা লাঘব করে দিতে।
কাঁদতে কাঁদতে হেঁচকি উঠে যায় প্রিমার। শক্ত করে খামচে ধরে আরশিয়ানের শার্টের একাংশ। এরপর অস্পষ্ট স্বরে বলে,
–” ছোটো থেকে ভীষণ আদরে মানুষ করেছি ওকে আমি। জানেন, আমি না ভীষণ হিংসুটে ছিলাম।মেহু কে শুরুতে সহ্য করতে পারতাম না। বজ্জাত মেয়েটা আবার আমার নেওটা ছিলো। সারাদিন পেছনে পড়ে থাকতো আমার। ও আসার পর আমি কীভাবে যেনো পাল্টে গেলাম। যত্নশীল হয়ে উঠলাম ওর প্রতি। ধীরে সুস্থে সবটুকু দিয়ে ভালোবেসে ফেললাম মেহুকে।
সামান্য থেমে আবারও প্রিমা বলল,

–” নিজের সন্তানের মতো পেলেছি ওকে। কীভাবে ওর আর্তনাদ সইবো আমি? কীভাবে দেখবো ভেঙে গুঁড়িয়ে যেতে..
আরশিয়ান সবটুকু শুনে মনোযোগ দিয়ে। প্রিমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে,
–” আমাদের মেহু স্ট্রং গার্ল। আমরা ওকে ভেঙে পড়তে দিবো না প্রেম। লাইফে আপস এন্ড ডাউন আসে। মেহু বুদ্ধিমতি.. সে বুঝবে আমাদের কথা।
প্রিমা উন্মাদের মতো মাথা নাড়িয়ে বলল,
–” না বুঝবে না মেহু। আমাদের মতো নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েদের কাছে সম্মানটাই সবকিছু। কলঙ্ককে যমের মতো ভয় পায় আমরা। কারণ সম্বল তো ওই একটাই। যা হারালে এই সমাজে টিকে থাকা দায়। আমাদের যে খুব সহজে চরিত্রহীন আখ্যা দিয়ে দেওয়া যায়।
আরশিয়ান কী বলবে বুঝে পেলো না। অশান্ত প্রিমাকে ওভাবেই জড়িয়ে রাখল কিছুক্ষণ। আনমনে ভাবতে লাগলো,

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ৭

–” কী শাস্তি দিবে ওই অপরাধী কে? যাকে সে নিজের জানের থেকেও বেশি ভালোবাসে। কীভাবে দোষারোপ করবে তাকে? যাকে বাঁচাতে শতশত মাইর খেয়েছে ছোট বেলায়। কীভাবে বাধ্য করবে তাকে স্যরি বলতে? যাকে কারও সামনে নত হওয়া থেকে বাঁচাতে শ’খানেক খুন
করেছে এক দিনে।

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ৯