Home শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৭৮

শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৭৮

শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৭৮
নূরজাহান আক্তার আলো

বেশ কদিন ধরে পেট ব্যথায় ভুগছে শীতল। খুব একটা জটিল না বিধায় আপাতত চেপে আছে। তাছাড়া সারাদিনে কত হাবিজাবি জিনিস খায়।
বেশিরভাগ বাইরের জিনিস, প্যাকেটজাত চিপস-চকলেট বা ফাস্টফুড। বারণ করলেও শোনা হয় না। এখন যদি পেটব্যথার কথা কাউকে বলতে যায় কপালে শনি আছে। তার মা জানলে দু’একটা কিল পড়তেও পারে।
বিয়ের পর অবশ্য মারেননি তবে ইশারা করে হলেও শাসন করতে ছাড়ে না। কত কী যে শিখিয়ে দেয়। অন্যদিকে এসব খাওয়া নিয়ে শুদ্ধ সবার সামনে বকলেও নিজেই হরেক রকমের জিনিস এনে রুমে রাখে। এনে আরেক দফা ভাষণ শুরু করে৷ সেও মনোযোগী শ্রোতার ন্যায় বকা-ঝকা শুনতে শুনতেই খায়। খেতে খেতে বকা শুনতে অবশ্য ভালোই লাগে। সায়েন্টিস্ট বর বলে কথা। কম আয়-রোজগার তো করে না। খেয়ে যদি টাকা না ফুরায় তবে চলবে কী করে? সত্যি বলতে, টাকা পয়সা রাখারও জায়গা-টায়গা লাগে নাকি?

আজকাল শুদ্ধ তেমন বাড়ি থাকে না বিধায় খুব একটা খেয়াল করে না। এই সুযোগে এসব খাওয়ার পরিমাণও বাড়িয়েছিল আর এজন্য বোধহয় গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাটা বেড়েছে। গ্যাস্ট্রিক ভেবে ওষুধও খায়। ওষুধ খেলে ব্যথাটা ঠিক হয়ে যায়৷ ভেবেছিল শুদ্ধকে একবার জানাবে কিন্তু মানুষটা ভীষণ ব্যস্ত। ক্লান্ত দেহে বাড়ি ফিরলে এসব বলে ওর চিন্তা বাড়াতে ইচ্ছে করে না। কারণ শুদ্ধ নিজের কাজ সামলে আবার সুযোগ বুঝে ভাইয়ের কাজে লড়ে যাচ্ছে। এখন বাড়ির সবার একটাই প্রার্থনা দুই ভাইয়ের কষ্ট সফল হোক। জয়ী হয়ে ফিরে আসুক তারা। নিজের শহরের মানুষের কল্যাণে সততার সাথে কাজ করুক। সেও খুব করে চায় পায়রামার্কা জিতে যাক। কারণ পায়রা জিনিসটা হচ্ছে তাদের কাছে স্পেশাল কিছু। শুদ্ধর ল্যাবের ওই পায়রার কথা এখনো মনে গেঁথে আছে তার। মাঝেমধ্যে গিয়ে নেড়েচেড়ে আসে।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার আগে একদিন খাবার টেবিলে সায়নকে
জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘ভাইয়া কোন প্রতীকে দাঁড়াবে তুমি?’ সায়ন সেদিন দাঁত বের করে হেসে বলেছিল, ‘ইচ্ছে তো ছিল গাঁজার মার্কা নেব কিন্তু আমজনতা মানবে না। এক কাজ কর প্রতীক তোরা সবাই মিলে ঠিক কর।’
উল্টে ভাই-বোনদের ঘাড়ে চাপিয়েছিল প্রতীক ঠিক করার গুরু দায়িত্ব।
পরে সবাই মিলে আলোচনা করে সাদা পায়রা ঠিক করেছে। এর কারণ
সাদা পায়রা শান্তি, পবিত্রতা, মুক্তি, ভালোবাসা, ও বিশ্বস্ততার প্রতীক।
তাদেরও দৃঢ় বিশ্বাস তার ভাইয়ের পায়রা জয়ী হয়ে মুক্ত মনে আকাশে উঠবে। সকলকে দেখিয়ে দিবে সাদা পায়রার জোর। এ নিয়ে নিজেরা নিজেরা স্লোগান বানিয়ে আজমের কাছে পাঠায়। আজম সেগুলো নিয়ে দলের ছেলেপুলেদের মুখস্থ করিয়ে মিছিলে নামায়। গতকালও সে নতুন একটা লিখে পাঠিয়েছে। সেটা হলো,

পায়রা ডাকে বাকুম বাকুম
শান্তি আসবে হাজার রকম!
উড়ছে পায়রা দিচ্ছে ডাক,
আপদগুলো সব চুলোয় যাক।
সাদা পায়রায় দিলে ভোট
শান্তি পাবে দেশের লোক।
ভোট দিবেন ভাই কোনখানে?
পায়রা মার্কার মাঝখানে।

সে এটা লিখলেও ছেলেপুলেরা সায়নকে একটু রাগাতে শেষের লাইনটা বদলে দেয়। চেঁচিয়ে বলে, ‘এই ভোট দিবেন ভাই কোনখানে? শাহরিয়ার ভাইয়ের মাঝখানে।’ এটা শুনে সায়ন ওদের স্ট্যাম্প নিয়ে দৌড়ানি দিলে বেহায়াগুলো হেসে গড়াগড়ি খায়। তাদেরকে হাসতে দেখে সায়নও হেসে ফেলে। ওদের সাথে বসে সিগারেট টানতে টানতে বলে, নির্বাচনের আগে গালি দিলাম না তোলা রইল। এখন ভদ্র সাজতে হবে নয়তো ভোট মিস যাবে। তবে সময় করে সব শালাকে দোচন দেব। রেডি থাকিস। তাতেও কেউ ভয় পায় না কারণ তারা এসব শুনে অভ্যস্ত। বরং সায়নের গালি না শুনলে তাদের কাছে ফাঁকা ফাঁকা লাগে। তবুও তারা তাদের শাহরিয়ার ভাইকে খুব ভালোবাসে। কারণ গালি দিয়ে আবার কাছে টেনে নেয় সে।

তবে আজকাল শুদ্ধর জন্য গালি টালি দেয় না। সায়েন্টিস্ট সাহেব পার্টি অফিসে সময় কাটান। উনি জেন্টেলম্যান কি না! গালা-গাল পছন্দ করে না। তার কথা কেউ যদি অকারণে গালি দেয় তাহলে আর কোনোদিকে তাকানোর দরকার নাই, আগে ধামধুম করে দিয়ে চোখ-মুখ ফাটিয়ে দেবে। এমনভাবে দিবে যেন দুই ঘুসিতে মারের ওজন বুঝে। এত সহজে যদি রাগ উঠানো যায় তাহলে কি দরকার গালি টালি দিয়ে এনার্জি লস করার?
আজ বৃহস্পতিবার_

রোজকার মতো ব্যস্ততা দিয়ে দিনটির সূচনা হয়েছে। নিত্যদিনের মতোই রুটিন মাফিক যে যার কাজ গুছিয়ে নিচ্ছে। শুদ্ধ, সায়ন গতরাতে পার্টি অফিসে ছিল। সারারাত কি করেছে একমাত্র তারাই জানে। সকালবেলা শুদ্ধ বাড়িতে ফিরে শীতলকে ঘুমাতে দেখে জ্বালিয়ে খুব করে, তারপর শাওয়ার নিয়ে কোনোমতে নাস্তা সেরে গেছে ওর ল্যাবে। তার তাড়াহুড়ো দেখে শারাফাত চৌধুরী নিজে শীতলকে কলেজে নামিয়ে দেওয়ার কথা জানালেন। বাবা যাবে শুনেও শুদ্ধ বারবার সাবধান করে গেছে। এরপর নাস্তার পর্ব সেরে শীতলকে কলেজে নামিয়ে শারাফাত চৌধুরী অফিসে চলে গেলেন। উনিও বারবার বলে গেলেন কলেজ ছুটি হলে যেন বাইরে না আসে। চৌধুরী বাড়ি থেকে কেউ এসে তার ফোনে কল না করা অবধি যেন গেটের কাছেও না আসে। শীতলও তাই করেছে। সব ক্লাস করেছে।
টানা ক্লাস করে ভীষণ ক্ষুধা লেগেছে তার তাই ক্যান্টিন থেকে কিছু কিনে এনে জারুল গাছের নিচে বসল। কলেজ ছুটির পর অনেকে চলে যাচ্ছে আবার অনেক মাঠে বসেছে। কেউবা নোট করছে জোড়া জোড়া বসে।

কেউবা তারই মতো গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছে। কিনে আনা পছন্দের
স্যান্ডউইচ নিয়ে মুখে দিলো। খেতে খুব একটা ভালো না আবার মন্দও না, ক্ষুধা পেটে চালিয়ে নেওয়ার মতো। সে আরেক কামড় দিতেই ফুড়ুৎ
করে সেখানে চড়ুই এলো। তাদের দেখে সে স্যান্ডউইচ ভেঙে ছুঁড়ে দিলে
তারা ভয়ে ভয়ে ঠুঁকরে ঠুঁকরে খেলো। খাওয়া শেষে আবার তাকালে সে আবার দিলো। তাদের কিছু খেতে দেখে একটা কাঠবিড়ালি তুরতুর করে এসে আবারও গাছে উঠে গেল। মুখে কেমন একটা শব্দ করল। শীতল
গাছের দিকে তাকিয়ে আয় আয় করে কাছে ডাকলেও এলেও না। তখন ফোনে কল এলো, সায়নের নাম্বর দেখে রিসিভ করতেই শুনতে পেল,

-‘কি রে বোনু কই তুই? গেটের কাছে আছি বেরিয়ে আয় দেখি।’
-‘ একটু দাঁড়াও ভাইয়া, আসছি।’
-‘ দৌড়াবি না আস্তে ধীরে আয়।
শীতল শুনলে তো? সে কোনোমতে ফোনটা ব্যাগে ঢুকিয়ে ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে দৌড়ে বের হলো। সায়ন ওর বাইকে বসে চুলে ব্যাক ব্লাশ করছে।
শীতল গিয়ে বাইকের পেছনে বসতেই সায়নও বাইক স্টার্ট করল। শীতল আধখাওয়া স্যান্ডউইচ ভেঙে সায়নের মুখের সামনে ধরলে সায়ন মুখে নিলো। প্যাকেটে আরো দুটো স্যান্ডউইচ থাকায় ভাই-বোন যেতে-যেতে গল্প করতে করতে খাচ্ছিল। হাসছিলও কিছু একটা নিয়ে। ঘড়িতে তখন সাড়ে তিনটা বাজে। দুজনের ভীষণ ক্ষুধা লেগেছে।

তখন শুদ্ধ কল করে দেখে শুনে ফিরতে বলল। সেও নাকি বাড়ি ফিরেছে। ফেরার পথে নাকি মিছিল বের হতে দেখেছে। তারাও আসছে বলে কল কাটল। এদিকে দূর থেকে দেখা গেল রবির দলের ছেলেরা মিছিলে বেরিয়েছে। অনেক বড় মিছিল। তাদের প্রতীস নিয়ে সেই স্লোগান দিচ্ছে। বড় মিছিল যেতে সময় লাগবে। রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে না থেকে সায়ন বাইক নিয়ে অন্য রাস্তায় ঢুকল। সেই রাস্তায় আবার কনকের দলের মিছিল পেল। সেটা পার করে
কিছুদূর যেতেই দেখা গেল তারই দলের মিছিল। আজম সবার সামনে।
গলা ফাটিয়ে স্লোগান দিচ্ছে। তার দাপুটে ছেলেপুলেদেরকে দেখে সায়ন ফ্লাইং কিস ছুঁড়ে বাহবা দিলো। নিজেও স্বর মিলিয়ে স্লোগান দিলো। তার কান্ডে শীতল খিলখিল করে হেসে ফেলল। বড় মিছিল পেরোতেই সায়ন বাইক সজোরে টান দিলো। রাস্তাটা একটু নির্জন দেখে সায়নও জোরেই গাড়ি টানছিল। হঠাৎ কোথা থেকে দুটো বাইক এসে তাদের পথ আটকে দাঁড়াল। সায়ন দ্রুত ব্রেক কষে খেঁকিয়ে গালি দিতে গিয়েও থেমে গেল।
সামনের বাইকে বসা কনককে দেখে বলল,

-‘ বোনকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে তোর কথা শুনব, এখন পথ ছাড়!’
শীতল সঙ্গে আছে দেখে সায়ন কথা বাড়াতে চাইল না বরং সর্তক হলো। শান্ত ভঙ্গিমায় কনকের সঙ্গে কথাও বলল। কিন্তু কনক শোনার অবস্থায় নাই। সে বাইক থেকে নেমে শীতলের কাছাকাছি দাঁড়াল। কেমন করে দেখল। তার দৃষ্টি দেখে শীতল দৃষ্টি সরিয়ে নিলো। ভাইয়ের সঙ্গে সিঁটিয়ে বসল। সায়ন তখন চোয়াল শক্ত করে পুনরায় সাবধান করে বলল,

-‘কনক, লিমিট ক্রস করিস না। নামতে হলে কলিজা টেনে ছিঁড়ে ফেলব বলে দিলাম।’
কনক যেন শুনেও শুনল না তার কথা। সে শীতলের দিকে তাকিয়ে মন মরা স্বরে বলল,
-‘আজ আমার ছোটো বোনের জন্মদিন। সারা দুনিয়া খুঁজেও পাচ্ছি না তাকে। কান পেতি আছি কখন এসে গিফট নেওয়ার আবদার করবে। গালভর্তি হেসে আদুরে সুরে আমাকে আবার ‘ভাইয়া’ বলে ডেকে উঠবে।’
এইটুকু বলে সে থামল। তারপর সায়নকে বলল,

-‘আমার বোনটা দলের কেউ ছিল না। রাজনীতির কিছু বুঝত না। সরল মনের মেয়ে ছিল। পাতিলে ভাত থাকলে খেতো নতুবা উপোস থাকলেও কাউকে বুঝতে দিতো না। বাড়তি আবদার করত না। আমার প্রাণপাখি। আমার বাড়ির প্রাণ ছিল আমার বোন।তবুও তাকে বাঁচতে দিলি না তুই? রেপ করলেও বাঁচিয়ে রাখতি। ভাইয়ের কাছে বোনরা কখনো পুরনো হয় না, কলুষিত হয় না, ধর্ষিতা হয় না। সে থাকলে এতকিছুর পরেও বাড়ি ফিরলে ধর্ষিতা বোনের মুখে নাহয় ভাইয়া ডাক শুনে কলিজা জুড়াতো আমার।’
কনকের কথা শুনে শীতল হতভম্ব দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। কিসব বলছে এই লোক? মাথা কি পুরোটাই গেছে নাকি? তার সায়ন ভাই, বেস্ট ভাই!

বেস্ট মানুষ। এমন ঘৃণ্য কাজ করতে পারে না সে! তাছাড়া স্বর্ণ আপুকে পাগলের মতো ভালোবাসে সায়ন ভাই। অন্য মেয়ের দিকে তাকাবে এটা দুস্বপ্নের মতো। এতদিন পর পুরনো কাসুন্দি ঘাটতে দেখে সায়নের রাগ তরতর করে বাড়ল। প্রমাণ দেওয়ার পরও ঘুরেফিরে তাকে দোষারোপ করছে কনক? শীতলের উপস্থিতিতে এ নিয়ে কথা বাড়ানোর প্রয়োজনই মনে করল না। রেগে গেলে তার মুখে কোনো লাগাম থাকে না। কি বলে হুঁশ থাকে না।ছোটো ভাই-বোনের সামনে সে কখনো গালাগাল করে নি। তারা জানে তাদের সায়ন ভাইয়া মাটির মানুষ। রাজনীতি করলেও খুন করে না। মানুষ মারে না। সেও চায়, মরার আগ মূহুর্ত অবধি তাদের এই
ধারণা বহাল থাকুক। তবে কনক ভুলভাল বকতেই থাকলে কিছু একটা ঘটে যাবে। একথা ভেবে চলে যাওয়ার জন্য বাইক স্টার্ট দিতে গেলেই কনক এসে চাবিটা ছিনিয়ে নিলো। কনকের সঙ্গে আসা এক ছেলে রড দিয়ে বাইকের সামনে সজোরে বাড়ি দিলো। শীতল ভয়ে চিৎকার করে ভাইয়ের হাত আঁকড়ে ধরল। সায়ন ঘাড় ঘুরিয়ে বোনকে দেখে রাগ্বান্বিত সুরে বলল,

-‘ থামতে বলছি তোকে!’
-‘কেন? বোন ভয় পাচ্ছে? তোর বোনটা বোন হয় আর আমাদের গুলো ফেলনা, না? এই দুই হাতে আমার বোনটাকে কবরে শুইয়ে এসেছি রে।
আমার তোতাপাখিটা কবরে শুয়ে আছে। সেই যন্ত্রণা আজও দগদগে ঘা করে বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি। তোকে আমি একদিন অভিশাপ দিয়েছিলাম, বলেছিলাম আমার অবস্থানে তোকে দাঁড়াতে হবে। ভেবেছিলাম ইয়াসির যা করার করবে, কিন্তু না সে করবে না। বরং আজকে যা হবে জানলে আমাকে বাঁচিয়ে রাখবে না। তাই তোকে নিঃশেষ করতে আমাকে হাল ধরতে হলো। আজ তুই চোখের সামনে দেখবি, বোন ধর্ষণ হলে ভাইয়ের কেমন লাগে। বোনের নগ্ন দেহ..!’
কনক আর বলতে পারল না সায়ন শীতলকে ধরে বাইকে থেকে নেমেই কনককে এলোপাতাড়ি মারতে লাগল। চিৎকার করে বলতে লাগল,

-‘ মা*দারচো*দ! দিনে দুপুরে নেশা করে আমার সঙ্গে চুদুরবুদুর চু*দাও?
তোমার চুদুরবুদুর তোমার কাছে রাখো। এর আগে পেনড্রাইভে প্রমাণ দেওয়ার পরও নতুন করে ভং মারাইতে আসছো তুমি?’
নাক দিয়ে গলগল করে আসা রক্ত শার্টের বাহুতে মুছল কনক। হতভম্ব শীতলের দিকে তাকিয়ে হাসল। তারপর বলল,

-‘শীতলরাণী তোমার সায়ন ভাই কিন্তু মারাত্মক লেভেলের পর্ন লাভার, জানো? সব ধরনের পর্ন ওর কালেকশন থাকে। এইতো কিছুদিন আগে আমাকেও পেনড্রাইভে করে অসংখ্য কালেকশন দিয়েছে।’
লজ্জায় শীতল চোখ নামিয়ে নিলো। মুখটা গলার সঙ্গে মিশিয়ে নিলো।
কথাটা মিথ্যা জেনেও সায়ন ঘুরে বোনের মুখের দিকে তাকাতে পারল না। থমথমে সুরে বলল,
-‘আমি তোকে একটা পেনড্রাইভ দিয়েছিলাম।’
-‘ দিয়েছিলি তো।’
-‘সেখানে কিছু থাকার কথা ছিল।’
-‘ছিল তো! অনেক ছিল..তোর পছন্দের পর্ন!’

কনক কথা শেষ করার আগেই দাঁড়ানো চারটে ছেলে আচমকা সায়নকে এলোপাথারি মারতে লাগল।কনক ছেলেদের হাতে মোটা রড তুলে দিয়ে নিজে এগোলো শীতলের দিকে। তাকে এগোতে দেখে শীতল কেঁদে উঠে পালানোর আগেই হিজাবে টান পড়ল। টেনে হিঁচড়ে হিজাব খুলে রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলল। শীতল বুকের কাছে আড়াআড়িভাবে হাত রেখে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে, ‘ভাইয়া বাঁচাও! ভাইয়া!’ বলে করুণসুরে কাঁদছে।

ছেলেগুলো ধারালো রাম-দা, রড দিয়ে মারতে লাগল সায়নকে রাস্তায় শুইয়ে ফেলেছে। মার খেতে খেতেও সায়ন কনককে থামতে বলছে। ওর চিৎকারে কনক ভীষণ মজা পাচ্ছে। সে সায়নের দিকে একবার তাকিয়ে টান মেরে শীতলের বুকেন ভি-বেল্ট খুলতে গেলে শীতল মুচড়ামুচড়ি শুরু করল। কনক তাকে পেছনে থেকে জাপটে ধরে নোংরা স্পর্শে ছুঁয়ে দিতে থাকল। ভাইয়ের অবস্থা আর আসন্ন বিপদ বুঝে শীতল হাত জোর করতে লাগল। কিন্তু শুনলে তো? শীতল অশ্রুসিদ্ধ চোখে রাস্তার এদিক ওদিক তাকাল সাহায্যের আশায়। কিন্তু সে হয়তো এটা জানে না কনক পূর্ব পরিকল্পনা করে এখানে এসেছে। এই রাস্তায় প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে তার ছেলেদেরকে পাহারায় রেখেছে। সাধারণ পথিকও এক ঘন্টার মধ্যে এদিকে আসতে পারবে না। কনক তাকে পিচঢালা রাস্তায় আছড়ে ফেললে শীতল চিৎকার করে উঠতে গেলে তাকে কিক মারলো কনক।

কিক লেগেছে পেটে। শীতল পেট ধরে কঁকিয়ে উঠল। বোনকে মেরেছে দেখে সায়ন সামনের ছেলেটাকে লাথি মেরে সরিয়ে আসার জন্য উঠে
দাঁড়াতেই, দুটো ছেলে গালি দিয়ে বাহুতে রাম-দার কোপ বসিয়ে দিলো।
সায়নের পরনের শার্ট কেটে মাংস কেটে রক্তের ধারা বইতে শুরু করল। তবুও সায়ন থামল না কনককে লাথি মেরে সরাতে গেলে ছেলেগুলো আবার কোপাতে লাগল। গালি দিতে দিতে সায়নের বুকে লাথি বসিয়ে রাস্তায় ফেলে দিলো। কনক তার নিজের কার্যসিদ্ধি করতে উঠে পড়ে লেগেছে। কি ভেবে যেন শীতলকে টেঁনে হিঁচড়ে পাশের জঙ্গলের দিকে নিয়ে গেল। শীতল চিৎকার করে কাঁদছে। বোনের আকুতি ও অসহায় কান্না সায়ন সহ্য করতে পারছে না। তাই নিজেও কাঁদতে কাঁদতে বলল,

-‘ক..নক! আল্লাহর দোহায় লাগে থাম! আমার বোনটাকে ছেড়ে দে। তুই যা বলবি তাই হবে। আমি..আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াব তবুও ছেড়ে দে আমার বোনকে। ওর কিছু হলে আমার শুদ্ধটা মরে যাবে। তোর পায় পড়ি, আল্লাহর দোহায় লাগে ছাড়, প্লিজ! আমাকে জানে মেরে দে!তবুও আমার শীতলের ক্ষতি করিস না।’
শীতল ও সায়নের চিৎকার করা কান্নায় আশপাশটাও ভারী হয়ে উঠল।
গুমোট ধরে থমকে গেল আকাশ- বাতাস। কিন্তু তাদের আকুতি কারো মন গলল না। কেউ শুনল না তাদের আর্তনাদ। কনক ততক্ষণে শীতলের ড্রেস ছিঁড়ে ফেলেছে। পুরুষালি শক্ত হাতের থাপ্পড়ে ফর্সা গালে দাগ বসে গেছে। সে বাঁধা দিলে কনক শীতলের গলার ভাঁজে কামড়ে ধরে বলল,

-‘এই বে*শ্যা কি আছে তোর শরীরে? কিসের জন্য শুদ্ধ পাগল? কিসের জন্য ইয়াসির পাগল? কিসের লোভ দেখিয়ে পুরুষ নাচাস তুই? দেহের খুব জ্বলন না? কত জ্বা’লন তাই দেখব!’
কনকের জঘন্য কথা আর একটুদূরে বড় ভাইয়ের অসহায় কান্না দেখে শীতলের কান্না থেমে গেল। সে কনককে বাঁধা দিলো না। জোর খাঁটিয়ে আটকাতেও গেল না। বাঁধা না পেয়ে কনকও বুঝে নিলো শীতল মিইয়ে গেছে। সে হেসে তার সালোয়ারে হাত দিলে শীতল কনকের বুক বরাবর লাথি বসাতে গেলে কনক ধরে পা ধরে ফেলল। পাল্টা আক্রমণ করছে দেখে কনক গালি দিলো। পরপর আরো দুটো থাপ্পড় দিয়ে পেছনে ঘুরে তাকাল। চেঁচিয়ে উঠে বলল,
-‘র..নি! ওই খা*নকির পোলাকে এদিকে আন। ওর সামনেই ওর বোনকে রেপ করব। শালাকে পৃথিবীর সবচেয়ে ঘৃণিত শাস্তি দেব। পুরনো হিসাব চুকাব আজ। বোঝাব যার যার জিনিস তার তার দরদ। যার যার বোন তার তার কাছে কত আদরের, কত স্নেহের।’

শীতল ততক্ষণে বুঝে গেছে তাদের কান্না, ভয়, অসহায়ত্ব কাজে আসবে না। যা করতে হবে বুদ্ধি খাঁটিয়েই করতে হবে। একথা ভেবে ঘাড় ঘুরিয়ে সায়নের দিকে তাকাল। সায়ন তখনো আকুতি করেই যাচ্ছে। ভাইয়ের আকুতিতে ব্যথা ভুলে গেল। কান্না ভুলে গেল। দুরুদুরু করা বুকে গচ্ছিত ভয়টুকু হঠাৎ উধাও হয়ে গেল। মন ও মস্তিষ্ক চিৎকার করে বলতে লাগল এবার লড়ো নয়তো মরো। একথা ভাবতে ভাবতে হঠাৎ চোখের সামনে শুদ্ধর মুখটা ভেসে উঠল। কানে বাজতে থাকলে একটি কথা,

শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৭৭

_’ আমি ছাড়া কারো অযাচিত স্পর্শ শরীরে লাগতে দিবি না। প্রয়োজনে
মেরে দিবি বাকিটা সামলে নেবো।’
শুদ্ধ সেদিন কথাটা বলে থেমে থাকে নি। বরং বিশেষ কৌশলে কলেজ
ড্রেসে একটি ছোট পকেট তৈরি করিয়েছিল। চেন সিস্টেম করে সেখানে একটা টিজার গোপনে রাখার ব্যবস্থাও করে দিয়েছিল। টিজার ব্যবহার করা শিখিয়েছিল।টিজার হলো কম-প্রাণঘাতী এক ধরনের ইলেকট্রিক অস্ত্র। এর মাধ্যমে কিছুক্ষণের জন্য হলোও আক্রমণকারীর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। এবং টিজার বহনযোগ্য। যা আত্মরক্ষা সুবিধাজনক করে তোলে। তবে এটা বাংলাদেশে ব্যবহার নিষিদ্ধ। বিপদে পড়ে এটার কথা বেমালুম ভুলে বসেছিল সে। সে আর ভাবল না কামিজের বিশেষ ভাঁজে থাকা টিজারটি কৌশলে খুঁজল। তবে তার ভাগ্য বোধহয় সহায় নাই তাই এত খুঁজেও পেল না।

শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৭৯

3 COMMENTS

  1. পরের পারট দেন প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ

  2. আপু ৪দিন পর পরীক্ষা আছে এখন তো শিতলের টেনশনে সব পড়া ভুলে যাইতেছি আপু তাড়াতাড়ি পরের পার্টটা দাও pleace 😭😥😣😖

Comments are closed.