শেহেজাদার আদর পর্ব ৪৫
সুমাইয়া ইসলাম নূর
দেখতে দেখতে মাঝে বেশ কয়েকদিন কেটে গেছে।
এই কয়েকদিনে সবাই নিজেদের পড়াশোনা, অ্যাসাইনমেন্ট আর প্রজেক্ট নিয়ে এতটাই ব্যস্ত ছিল যে সময় যেন ডানা মেলে উড়ে গেছে।
লন্ডনের আকাশটাও আজ একটু মেঘলা।
সকালের হালকা ঠান্ডা বাতাস জানালা ভেদ করে মেনশনের ভেতরে ঢুকছে।
আর সেই সময়ই ইনায়ার রুমে এক করুণ দৃশ্য দেখা গেল।পিয়াসা ইনায়ার কাঁধে মাথা রেখে ন্যাকা কান্না জুড়ে দিয়েছে।
— “বেবিইইই..আমার খুব কষ্ট লাগতেছে!”
ইনায়া ল্যাপটপে চোখ রেখে বললএবার আবার কী হলো?পিয়াসা আরও জোরে মুখ বাঁকিয়ে বলল—
সিলেবাসই শেষ হলো না!তার আগেই ফার্স্ট এক্সাম চলে আসলো! এইসব মানুষজন এত তাড়াতাড়ি পরীক্ষা নেয় কেন?আমরা কি রোবট নাকি?”
ইনায়া হাসি চেপে বলল তুই পড়ার চেয়ে র ভাইয়ার সাথে গল্প বেশি করবি, তারপর তো এমন হবেই।
পিয়াসা সঙ্গে সঙ্গে সোজা হয়ে বসল।
না রে আমি খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ছিলাম।”
ইনায়া ভ্রু তুলে বলল প্রতিদিন চার-পাঁচ ঘণ্টা ভিডিও কলে?পিয়াসা কাশির ভান করে বলল—
ওইটা ছিল মানসিক সাপোর্ট! নায়া এবার হেসে ফেলল কিন্তু হাসির মাঝেও তার চোখে হালকা টেনশনের ছাপ স্পষ্ট।কারণ সত্যি বলতে—
প্রথম পরীক্ষাটা নিয়ে সেও কিছুটা চিন্তিত।
এই চার মাসের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে পরীক্ষার মূল্যায়ন বেশ কঠিন।শুধু মুখস্থ লিখলেই হবে না।
বাস্তব বিজনেস কেস বিশ্লেষণ, প্রেজেন্টেশন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ—সবকিছুর উপর নম্বর দেওয়া হবে।
তবুও নিজেকে শক্ত রেখে ইনায়া বলল—
—চিন্তা করিস না।আমরা দুজনই ভালো করব।”
পিয়াসা আবার ইনায়ার কাঁধে মাথা রেখে বলল—
ইন শা আল্লাহ।
করিডোরজুড়ে শিক্ষার্থীদের ভিড়।
কেউ প্রশ্নের উত্তর মিলিয়ে দেখছে, কেউ আবার এক্সাম শেষে নিশ্চিন্ত মুখে বাসাই ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।ইনায়া আর পিয়াসাও ধীরে ধীরে করিডোর ধরে হাঁটছিল।
পিয়াসা একনাগাড়ে বলে যাচ্ছে—
বেবি, আমি নিশ্চিত সব প্রশ্ন ভুল করে আসছি!”
ইনায়া বিরক্ত মুখে বলল—
পরীক্ষার পর সবাই একই কথা বলে রে।
ঠিক তখনই করিডোরের অপর প্রান্ত থেকে একটি পরিচিত অবয়ব এগিয়ে এলো।
এক হাত পকেটে।
অন্য হাতে গাড়ির চাবি ঘোরাতে ঘোরাতে এদিকেই আসছে ।
আত্মবিশ্বাসী পদচারণা, গম্ভীর দৃষ্টি আর ব্যক্তিত্বের ভারে আশেপাশের মানুষগুলো পর্যন্ত অজান্তেই সরে দাঁড়াচ্ছে।শেহজাদ ইউভি চৌধুরী।
একজন সফল ব্যবসায়ীর মতোই তার প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল পরিমিত, হিসেবি এবং কর্তৃত্বপূর্ণ।
পিয়াসা ইউভিকে দেখেই খুশিতে দৌড়ে গেল।
— “ভাইয়াআআ! পরের মুহূর্তেই ভাইকে জড়িয়ে ধরল।তুমি এখন আর বাসায় যাও না কেন?
আগের মতো দেখিই না তোমাকে!ইউভি মৃদু হেসে বোনের মাথায় হাত রাখল।
কাজের চাপ বেড়েছে, বোনু।
— “কাল একটা গুরুত্বপূর্ণ বিজনেস মিটিং আছে।”
পিয়াসা আগ্রহ নিয়ে বলল—
— “কীসের মিটিং?”
ইউভির দৃষ্টি এবার স্থির হলো সামনের দিকে।
তবে আশ্চর্যের বিষয়—
সে একবারও ইনায়ার দিকে তাকাল না।
গম্ভীর কণ্ঠে বলল—
— “LLB কোম্পানি আর IVA কোম্পানি এর মধ্যে একটি বিজনেস ডিল মিটিং হবে।”
— “যেহেতু এখন IVA কোম্পানির CEO ইনায়া নূর চৌধুরী, তাই তাকে প্রস্তুত হয়ে যেতে বলিস।
ইনায়ার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।
এতদিনের পরিশ্রম. অসংখ্য নির্ঘুম রাত…
বিজনেস শেখার জন্য করা কঠোর পরিশ্রম সবকিছুর প্রথম বাস্তব পরীক্ষা যেন অবশেষে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।ইউভি আবার বলল—
— “LLB কোম্পানির CEO থাকবেন রাইহান চৌধুরী। এছাড়া ASU কোম্পানি এর CEO-ও উপস্থিত থাকবেন।
কারণ ASU কোম্পানির নাম বিজনেস জগতে যথেষ্ট পরিচিত।ইউভির কণ্ঠ আরও গম্ভীর করে।বললো। যার প্রেজেন্টেশন এবং বিজনেস প্ল্যান সবচেয়ে শক্তিশালী হবে…”
— “ASU কোম্পানি তাদের সাথেই ডিল করবে।”
তারা শুধুমাত্র লাভ দেখে না। তাদের কাছে Product Quality-ই (পণ্যের মান) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।কয়েক সেকেন্ড থেমে আবার বলল—
আর একটা কথা. ASU কোম্পানি এর CEO অত্যন্ত চতুর একজন মানুষ।তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে লাভ নেই। তিনি শুধু ফলাফল দেখেন।”
সেরা প্রোডাক্ট যার, ডিলও তার।”
কথাগুলো শুনে ইনায়ার চোখে অদ্ভুত এক দৃঢ়তা ফুটে উঠল।ভয় নয়।বরং নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার তীব্র ইচ্ছা।ইউভি এবার প্রথমবারের মতো তাদের দিকে তাকাল।
— “Exam কেমন হয়েছে?পিয়াসা সঙ্গে সঙ্গে মুখ বাঁকিয়ে বলল ভাইয়া আমার তো মনে হয় আমি শেষ পাস মার্ক ও হবে না।
ইউভির ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটল।
কিন্তু ঠিক তখনই—
পেছন থেকে চেনা এক কণ্ঠ ভেসে এলো।
— “Hey, Doll! ”
— “আমি আসছি!”
তন্ময় দ্রুত হেঁটে তাদের দিকে এগিয়ে আসছে।
কথাটা কানে যেতেই ইউভির মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।হাতে ধরা গাড়ির চাবিটা অজান্তেই আরও শক্ত করে চেপে ধরল সে।
মনে মনে বললো জাস্ট একটা দিন ওয়েট কর চান্দু
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার অপেক্ষা। লন্ডনের আকাশে তখন হালকা সোনালি রোদ ছড়িয়ে আছে। বিশাল মেনশনের কাঁচের জানালাগুলোতে সেই আলো পড়ে ঝলমল করছে। চারপাশে এক অদ্ভুত ব্যস্ততা, কারণ আগামীকালই সেই গুরুত্বপূর্ণ মিটিং।
গার্ডেনের পাশের বড় স্টাডি রুমটায় মুখোমুখি বসে আছে ইনায়া আর রেদওয়ান।টেবিলের উপর ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ফাইল, রিপোর্ট, মার্কেট অ্যানালাইসিস, প্রোডাক্ট চার্ট আর ল্যাপটপ।
রেদওয়ান খুব মনোযোগ দিয়ে এক একটা বিষয় বুঝিয়ে দিচ্ছে।”দেখ বোনু, মিটিংয়ে শুধু প্রোডাক্ট ভালো হলেই হবে না।তাদের বোঝাতে হবে কেন আমাদের প্রোডাক্ট অন্যদের থেকে আলাদা।
ইনায়া দ্রুত নোট করে নিচ্ছে।চোখেমুখে স্পষ্ট একাগ্রতা।গত কয়েক মাসের কঠোর পরিশ্রম যেন আজ বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে।রেদওয়ান আবার বলল—
— “ASU কোম্পানি এর CEO খুবই হিসেবি মানুষ।”
তিনি আবেগ দেখেন না, ডাটা দেখেন।
তাই প্রেজেন্টেশনের প্রতিটা পয়েন্টের পেছনে যুক্তি থাকতে হবে। ইনায়া মাথা নেড়ে বলল—
আমি বুঝেছি ভাইয়া।প্রথমে মার্কেট ডিমান্ড, তারপর প্রোডাক্ট কোয়ালিটি, এরপর ফিউচার প্ল্যান তাই তো।রেদওয়ান সন্তুষ্ট হয়ে হাসল।বাহ! এভাবেই বলতে হবে।”সময় যত যাচ্ছে, দুজনের ব্যস্ততা তত বাড়ছে।
কখনও ল্যাপটপে স্লাইড ঠিক করা হচ্ছে, কখনও আবার সম্ভাব্য প্রশ্নের উত্তর তৈরি করা হচ্ছে।
একসময় রেদওয়ান ইনায়াকে বিভিন্ন পরিস্থিতির অভিনয় করে প্রশ্ন করতে লাগল।যদি তারা বলে তোমাদের প্রোডাক্ট কেন বেছে নেব?যদি তারা বলে অন্য কোম্পানির থেকে তোমরা কতটা এগিয়ে?”
প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দিতে লাগল ইনায়া।দূর থেকে সোফায় বসে সব দেখছিল পিয়াসা।
হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির কাপ।চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ।মনে হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বোরিং কাজটা এখন তার সামনে চলছে।হঠাৎ রেদওয়ান মাথা তুলে পিয়াসার দিকে তাকাল।
তারপর গোপনে হাতের ইশারায় বোঝাল—
“ভীষণ ক্লান্ত লাগছে একটু হাগ প্রয়োজন
পিয়াসা এক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে রইল।
পরের মুহূর্তেই নির্দ্বিধায় মিডল ফিঙ্গার দেখিয়ে উঠে দাঁড়াল।তারপর কফির কাপ হাতে নিয়ে হনহন করে হেঁটে চলে গেল।রেদওয়ান নাটকীয় ভঙ্গিতে বুক চেপে ধরল।মনে হলো যেন হৃদয় ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।পরের মুহূর্তেই ধপ করে সোফায় বসে পড়ল।
ইনায়া সঙ্গে সঙ্গে চমকে উঠে বলল—
— “কি হয়েছে ভাইয়া?রেদওয়ান সুযোগ বুঝে মুখ কুঁচকে বসে রইল।
— “আহহ..ইনায়া ভয় পেয়ে প্রায় চিৎকার করে উঠল ভাইয়া!”
তার সেই চিৎকার শুনে পিয়াসা আর ইউভি দুজনেই দ্রুত রুমে ঢুকে পড়ল।ভেতরে ঢুকে দেখল—
রেদওয়ান দিব্যি সুস্থ অবস্থায় সোফায় বসে আছে।
ইউভি কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর বিরক্ত মুখে বলল—
— “নাটক শেষ হইছে?রেদওয়ান গলা খাঁকারি দিয়ে সোজা হয়ে বসল।ধুর! কিছু হয় নাই।”
কাজে মনোযোগ দে বোনু। ইনায়া বিরক্ত চোখে তাকাল।আর পিয়াসা দূরে দাঁড়িয়ে মনে মনে বলল—
সালা নাটকবাজ।
ইউভি কিছু না বলে পিয়াসার দিকে তাকাল।
তারপর শান্ত গলায় বলল—
বোনু, আমার রুমে আয়।”
— “ওদের কাজ করতে দে।তোরও অনেক কাজ আছে।”পিয়াসা কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল।
শেষ পর্যন্ত ইউভির সঙ্গে বেরিয়ে গেল।রুমে আবার নীরবতা নেমে এলো।
রেদওয়ান এবার একদম সিরিয়াস হয়ে বলল—
— “মনে রাখিস বোনু, কাল তুই শুধু একজন CEO না।তুই IVA কোম্পানির নতুন মুখ।তোর আত্মবিশ্বাসই কোম্পানির আত্মবিশ্বাস।কথাগুলো শুনে ইনায়ার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা অনুভূতি জন্ম নিল।উত্তেজনা দায়িত্ব।আর নিজের স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখার আকাঙ্ক্ষা।
রাত তখন গভীর থেকে আরও গভীর হচ্ছে।
বিশাল ম্যানশনের চারপাশ নিস্তব্ধ। দূরের রাস্তার আলো কাঁচের জানালায় প্রতিফলিত হয়ে এক অদ্ভুত মায়াবী আবহ তৈরি করেছে। আকাশজুড়ে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য তারা, আর হালকা ঠান্ডা বাতাস জানালার কাঁচে নরম শব্দ তুলছে।
এদিকে নিজের রুমে বসে পিয়াসা ইউভির দেওয়া কিছু কাজ শেষ করার চেষ্টা করছে।ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে বিড়বিড় করে বলল বাল! এদের কীভাবে বোঝাই আমার এত পড়ালেখা ভালো লাগে না!”
— “ধুর!”
ঠিক তখনই দরজাটা আস্তে করে খুলে গেল।
পিয়াসা পেছনে তাকাতেই চমকে উঠল।
চিৎকার করতে যাবে, এমন সময় রেদওয়ান দ্রুত এগিয়ে এসে বলল—
— “এই পিহু, আমি!”
পিয়াসা রাগী মুখে তাকিয়ে বলল—
যাও, কাজ করো। কেন আসছো?”
রেদওয়ান ভ্রু তুলে বলল হিসাব নিতে রে পাগলি”
— “কিসের হিসাব?মিডল ফিঙ্গার দেখানোর হিসাব।পিয়াসা সঙ্গে সঙ্গে আমতা আমতা করে বলল—
— “ওই… আমি তোমাকে দেখাইনি। বেবিকে বলছিলাম। রেদওয়ান হেসে মাথা নেড়ে বলল—
“আমাকে গল্প শোনানোর দরকার নাই।পিয়াসা কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনই রেদওয়ান পিয়াসা কে চুপ করিয়ে দেয় পিয়াসার নরম তুলতুলে ঠোঁট দুই টা নিজের ঠোঁটের মাঝে দখল করে নাই রেদওয়ান।
বেশ কিছু সময় পর পিয়াসা কে ছেড়ে দিলেই স্বস্তির নিঃশ্বাস নিল পিয়াসা আমতা আমতা করে বললো মে*রে ফেলবেন নাকি আমাকে।
রেদওয়ান আলতো করে তাকে কাছে টেনে নিয়ে কপালে চুমু দিয়ে বলল—
মেরে ফেলব না। আগলে রাখব সারাজীবন।”
অনেক আদর করব।আর যত ঝড়ই আসুক, সবসময় তোর পাশেই থাকব সারাজীবন আগলিয়ে রাখবো।
পিয়াসা কিছু বলল না।শুধু মাথাটা রেদওয়ানের কাঁধে রেখে চোখ বন্ধ করে রইল
অন্যদিকে নিজের রুমে বসে কাজ করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে ইনায়া, সে নিজেও জানে না।সোফার পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে অসংখ্য ফাইল, রিপোর্ট আর কাগজপত্র।
ল্যাপটপ এখনও খোলা।স্ক্রিনে অসমাপ্ত প্রেজেন্টেশনের স্লাইড জ্বলছে।ঠিক তখনই নিঃশব্দে রুমে প্রবেশ করল ইউভি।প্রথমেই তার চোখ গিয়ে আটকালো ঘুমন্ত ইনায়ার উপর।
ক্লান্তিতে মেয়েটার মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।
মনে হচ্ছে গত কয়েক দিনের সব পরিশ্রম একসাথে এসে ভর করেছে তার উপর।
ইউভি ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল।ছড়িয়ে থাকা কাগজগুলো এক এক করে গুছিয়ে রাখল।
যেগুলোতে এখনও কাজ বাকি ছিল, সেগুলো সম্পূর্ণ করে দিল।বাকি ফাইলগুলোও মনোযোগ দিয়ে দেখে নিল কোথাও কোনো ভুল আছে কি না।
সবকিছু শেষ করে সে রুমটা পরিপাটি করে গুছিয়ে তারপর আবার ইনায়ার কাছে ফিরে এলো।
কিছুক্ষণ নীরবে তাকিয়ে রইল ইনায়ার দিকে
মেয়েটা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।মুখে শিশুসুলভ প্রশান্তি।ইউভি ধীরে ধীরে তাকে কোলে তুলে বিছানায় শুইয়ে দিল। চুলগুলো যত্ন করে বালিশের পাশে ছড়িয়ে দিল।তারপর কমফোর্টার টেনে গায়ে জড়িয়ে দিয়ে রুমের খোলা জানালাগুলো বন্ধ করে দিল, যেন রাতের ঠান্ডা বাতাস তার বিয়াদোব বউ টা কে বিরক্ত করতে না পারে।সবশেষে আবার ইনায়ার পাশে এসে দাঁড়াল।
চোখভরা মুগ্ধতা নিয়ে তাকিয়ে রইল।
মনে মনে বলল—তোর ভালোর জন্যই আজ তোর থেকে দূরে আছি, আদর।তা না হলে পৃথিবীর কোনো শক্তিই আমাকে তোর থেকে দূরে রাখতে পারত না।কিছু ভালোবাসা দূর থেকেও সুন্দর থাকে।দূরে থেকে প্রিয় মানুষকে আগলে রাখা যায়।”
তার খেয়াল রাখা যায়।নিঃশব্দে তাকে ভালোবাসা যায়।”ইউভির ঠোঁটে ক্ষীণ হাসি ফুটে উঠল।
“আমি জানি তুই পারবি, আদর।তোর এত সংগ্রাম, এত পরিশ্রম কখনও বৃথা যাবে না।কালকের দিনটা তোর জন্য নতুন একটা দরজা খুলে দেবে।”
আর আমি চাই তুই সারাজীবন আমার চোখের সামনেই থাক।”
জানালার ওপারে তখন রাত আরও গভীর হয়েছে।
আর ঘুমন্ত ইনায়ার দিকে তাকিয়ে শেহজাদ ইউভি চৌধুরী নীরবে নিজের সমস্ত প্রার্থনা তুলে দিল তার রবের কাছে।
যেন আগামীকাল মেয়েটার সব স্বপ্ন সত্যি হয়।রুম থেকে বের হওয়ার আগে ইউভি আরেকবার ফিরে তাকাল।ঘুমন্ত ইনায়াকে দেখে তার চোখে একরাশ মুগ্ধতা নেমে এলো।আবারো ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে বিছানার পাশে বসল ইউভি।
শেহেজাদার আদর পর্ব ৪৪
আলতো করে ইনায়ার মুখের উপর পড়ে থাকা কিছু চুল সরিয়ে দিল।তারপর গভীর ভালোবাসা আর অদৃশ্য মায়া নিয়ে প্রথমে ইনায়ার কপালে ঠোঁট ছোঁয়ালো।এরপর বন্ধ চোখের পাতায় রেখে গেল স্নিগ্ধ এক স্পর্শ। আলতো করে ইনায়ার ঠোঁটে ঠোঁট ছুয়ালো ইউভি।
সবশেষে কপালে হাত বুলিয়ে মৃদু হেসে বলল—
রেডি থাকো বেয়াদব বউ আমার তোমার জন্য আগামী কাল অনেক বড় একটা সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে।
