Home সাঁঝের মায়া সাঁঝের মায়া পর্ব ১৯

সাঁঝের মায়া পর্ব ১৯

সাঁঝের মায়া পর্ব ১৯
দুর এ দিলশাদ্ দুআা

মাগরিব এর আজান পরে গেছে।দিনের আলো মিলিয়ে আধার নামছে ধরনীর বুকে।দেওয়ান বাড়িতে থমথমে অবস্থা বিরাজমান। ইশান ফেরেনি এখনো।আর না তো তাকে ফোনে পাওয়া গিয়েছে সারাটা দিন।রাহেলা দেওয়ান বারবার মুচছেন ভিজে ওঠা চোখজোড়া।অন্য দুই গিন্নিও ছলছল চোখে বড় জা কে আগলে শান্তনা দিচ্ছেন।রাইসুল দেওয়ান তার ভাই দের নিয়ে সোফায় বসে আছেন।মুখ রাগে লাল বর্ণ ধারন করেছে।নয়ন,নিয়াজ বেড়িয়েছে ইশানের খোঁজ করতে।কাজি সাহেব অবশ্য বিকেলের দিকেই চলে গেছেন।চন্দ্রা দেওয়ানও থ মেরে বসে আছেন।নিজের সিদ্ধান্তের ওপর কি রাগ হওয়া উচিত তার?

এই মূহুর্তে ঘটনা যাকে কেন্দ্র করে সেই বিয়ের কনে লাল বেনারসি পরে লাল টুকটুকে বউ সেজে বসে আছে নিজের ঘরে।বলা বাহুল্য এ অবস্থায় তাকে সকাল থেকে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।তমা,নূরি,নিশি,রিশা,রোশনি,রাফি সবাই এ ঘরেরই এলোমেলো ভাবে এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসা।ইশান বাড়ি ফেরেনি সারাদিন। কিছু একটা যে একদম ঠিক নেই সেটা বোঝার মতো জ্ঞান তার আছে।এখন অবধি বেশ কয়েকবার জনে জনে এসে তাকে বুঝিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ইশান একটা জরুরি কাজে আটকা পরেছে চলে আসবে।কিন্তু সে খুব ভালো করে বুঝতে পারছে এই নিখোঁজ হওয়া তার সম্পূর্ণ নিজ ইচ্ছায়,নিজ তাগিদে।তিতির এর কান্না পাচ্ছে,ভীষন কান্না পাচ্ছে।

সাজিদ পাথরের মতো বসে আছে।তার হাতের ফেোনে আসা ইশানের সেই মেসেজ দিনের মধ্যে কম করে হলেও শ বার চেক করেছে সে।নাহ আর কোনো বার্তা আসেনি।ইশান যা করেছে আজকে সেটা সে আগে জানলে কি করতে দিতো তাকে?দিতো না।আটকাতো অবশ্যই।সবটা তছনছ হয়ে যেতে পারে আজকের কিছু ভুলে।হিসেবের গড়মিল হয়ে যেতে পারে,আবার এক ঝটকায় সব গড়মিল চুকেও যেতে পারে।কিন্তু সে রিস্ক সে একা একা ইশানকে নিতে দেবে কেনো!কেনো হুট করে আজকেই রুষার কাছে গেলো ও।ইশান কি আগে থেকে সবটা জেনে গেছিলো!
অনিমা সারাদিন লক্ষ্য করেছে স্বামীর অস্থিরতা।তবে জিজ্ঞেস করার সুযোগ হয়ে ওঠেনি একটাবারও।এবার সাজিদ এর দিকে তাকাতেই চোখাচোখি হলো দুজনের।অণিমা ইশারা করলো উঠে আসার।মিনিট পাঁচেক এর মধ্যে করিডরে এসে দাড়ালো দুজন।
অনিমা গম্ভীর গলায় শুধালো সাজিদকে,

“তুমি জানো ইশান কোথায়।”
সাজিদ চুপ করে রইলো।নিজের হাতের ফোনখানা এগিয়ে দিলো অণিমার দিকে।অণিমা হাত বাড়িয়ে নিলো ফোনখানা। মেসেজটি পরে স্তম্ভিত হয়ে গেলো।হতবুদ্ধি হয়ে তাকালো সাজিদ এর দিকে।
“তুমি এটা আগে বলোনি কেনো?”
“কি বলতাম…কখনই বা বলতাম।আর বলেই কি হতো।বাড়ির কাউকে বলতে পারতাম?”
“তাহলে এতক্ষণে আসছে না কেনো।এতক্ষণে তো চলে আসার কথা।ঠিক আছে তো ও?”
সাজিদ হতাশায় মাথা নাড়ে দুদিকে।
“জানিনা।ওর লাস্ট লোকেশন ট্রেস করিয়েছি।ও হোটেলে নেই।ছিলোই না।ইনফ্যাক্ট আমাকে মেসেজ করার কিছু মিনিটের মাথায় ও বেড়িয়ে যায় সেখান থেকে।”

অণিমা দু হাতে মাথার চুল খামচে ধরে নিজের।কিছু বলতে যাবে তার আগেই নিচ থেকে চেচামেচির আওয়াজ ভেসে আসে।দুজন তাকায় একে অপরের দিকে।ছুটে নেমে আসে নিচে।
ইশান এসেছে।ভাবলেশহীন ভাবে দাড়িয়ে আছে।চুলগুলো উসকোখুসকো। বিদ্ধস্ত অবস্থা।
রাইসুল দেওয়ান ছেলের গায়ে হাত তোলা বাকি রেখেছে।রাসেদ, রাহিয়ান দেওয়ান সবাই মিলে আটকে রেখেছেন ভাইকে।তবে রাহেলা কে থামানো গেলো না।গোটা জীবনে যেটা করেননি আজ করলেন সেটা।ইশানকে কিছু বলার সুযোগ দিলেন না,এগিয়ে এসে সজোরে চড় মারলেন ছেলের গালে।গোটা বাড়ির মানুষ পাথর বনে গেলো।দোতলার করিডরে এসে দাড়িয়েছে তিতির।পাশে নিশি,তমাসহ বাকি সবাই।দু হাতে মুখ চাপা দিলো নিশি। মাকে সে এ জীবনে কখনো ইশানের গায়ে হাত তুলতে দেখেনি।বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষেরই একই অবস্থা থরথর করে কেঁপে উঠলো তিতির।বুকের ভিতরটা দুমড়েমুচড়ে উঠলো তার।তার জন্য কি আজমইশান ভাইয়ের গায়ে হাত তোলা হলো।আর কিছু দেখতে পারবে না সে।দ্রুত পায়ে ছুটে গেলো নিজের রুমের ভিতর।
রাহেলা দেওয়ান চিৎকার করে উঠলো।সজোরে ধাক্কা দিলো ছেলেকে।

“তোকে পেটে ধরে অন্যায় করেছি আমি। অন্যায়।”
“মা শোনো।”
“ডাকবি না আমায়।আজকের দিনে এটা কেনো করলি?আমার মেয়েটার সাথে,বারবার না করলাম।.আমার কথা তুই… “
“মা কিচ্ছু হয়নি।আমাকে বলতে দাও।”
“,কি বলতে দেবো।মেয়েটা আমার বউ সেজে তোর অপেক্ষা করছে সেই সকাল থেকে।তুই নিখোঁজ। পুরো গ্রাম ছড়িয়ে পরেছে তোকে জোর করে বিয়ে দিচ্ছি,তাই রাগ করে চলে গেছিস তিতির কে ফেলে।আমার মেয়েটার মানসম্মান নিয়ে…
ইশান মাকে জড়িয়ে ধরলো। রাহেলা দেওয়ান নিজেকে সরিয়ে নিতে চেষ্টা করলে।ইশান ছাড়লো না
“আমি কোত্থাও যাইনি।বিয়ে করবো।এসেছি তো।”
“কোথায় ছিলি তুই জবাব দে আগে।”

ইশান থমকায়।এক নজর পরখ করে উপস্থিত সবাইকে।অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে সবাই।ইশান মাকে ছাড়ে।সরে দাড়ায় খানিকটা।শার্ট এর বোতাম কয়েকটা ধীর হাতে খুলে ফেলে।
শক্তপোক্ত শরীরের পেটের মাঝখানটা সম্পূর্ণ জুড়ে সাদা ব্যান্ডেজ করা।ডান পাশ জমে আছে গাড়ো লাল রক্ত।রাহেলা দেওয়ান আর্তনাদ করে উঠলেন,বলা বাহুল্য বাড়ির প্রতিটি মানুষই চমকে গেলেন।গিন্নিরা শাড়ির আচলে মুখ চাপা দিলেন।
চোখ ভিজে উঠলো তার নিমিষেই।ব্যাস্ত হাত বাড়ালেন ছেলের দিকে।
“আব্বা এগুলো কি,কি করে হলো এসব।”
“বলতে দিচ্ছো কোথায়?
ছেলের এ অবস্থায় নিমিষেই রাগ পরে গেলো বাড়ির সকলের।রাইসুল দেওয়ান ছলছল চোখে এগিয়ে এলেন ছেলের দিকে।

“অ্যাই ইশান।এখানে এ অবস্থা… কি হয়েছিলো বাপ।”
“আহা আগে ওকে বসাও বসাও।”
রাসেদ দেওয়ান এগিয়ে এসে ভাইকে সরিয়ে ভাতিজা কে টেনে নিয়ে বসালেন সোফায়।
ইশান ধীরেসুস্থে বসলো সেখানটায়।মাথা তুলে দেখলো চাতকপাখির মতো তার উত্তরের আশায় তাকিয়ে থাকা পরিবার এর সবার দিকে।রাহেলা দেওয়ায় ফুপিয়ে কেঁদে যাচ্ছেন।ইশান হাত টেনে মা কে বসালো পাশে।
“বাইকটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিলো মা বাড়ি আসার সময়।হসপিটাল এ ছিলাম।ফোনটা ভেঙে গেছে।”
পকেট থেকে বের করো ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়া ফোনটা।
“বাড়িতে একবার খবর দেবে না?কতটা চিন্তায় পরে গেছিলাম আন্দাজ আছে তোমার?”
“সেন্স ছিলো না।যতক্ষণে ফিরেছে তখন অলরেডি সন্ধ্যার হওয়ার পথে।আর দেরি করি নি।”
রাইসুল দেওয়ান হাত রাখলেন ছেলের মাথায়। ছেলেকে বকাঝকার জন্য অনুতপ্ত।
“যা হওয়ার হয়েছে।বড় কিছু যে হয়নি সে জন্য শুকরিয়া।”

রাহেলা ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেই যাচ্ছেন।এরই মধ্যে হুইলচেয়ার ঠেলে আসতে দেখা গেলো চন্দ্রা দেওয়ান কে।রিক্তা নিয়ে আসছে।দিদা কে দেখেই উঠতে গেলো ইশান।বৃদ্ধা হাত নেড়ে উঠতে নিষেধ করলেন।নিজেই এগিয়ে এলেন ইশানের কাছে।সফেদ শাড়ির আচলে নিজের চোখটা মুছলেন।পরখ করলেন ইশানের শরীরের ব্যান্ডেজ করা সহ আরও কাটা কাটা দাগে।আচল বাড়িয়ে মুছে দিলেন ইশানের মুখ।ইশান হাত বাড়িয়ে ধরলো দিদার হাত।
“দিদা টেনশন দেওয়ার জন্য সরি।আমি…”
“কিছু বলতে হবে না দাদুভাই।মেজো বউমা আমাকে সব বলেছে।তোমার এতে দোষ নেই।”
পরিবার এর সবাই মাথা নাড়লো। একমত হলো তার সাথে।
আরও বেশকিছুক্ষন চললো সেসব কথাবার্তা।ইশান আশেপাশে পরখ করলো একবার।কাউকে খুঁজলো বোধহয়। সাজিদ,অনিমা, নিয়াজ রা সবাই চোখ মুখ অন্ধকার করে দাড়িয়ে আছে একপাশে।ভাইবোনেরা একটু দূরে একে অপরের হাত ধরাধরি করে কাদছে।ছোট্ট রাফি চোখমুখ ফুলিয়ে ফেলেছে।চাচিরাও এখানেই।নয়ন,নাইম চিন্তারত মুখে বসে আছে সামনের সোফায়।নেই শুধু তিতির।আশেপাশে কোথাও দেখতে পেলো না তাকে।সে অবশ্য কাউকে জিজ্ঞেস ও করলো না।এবার ধীরে হাতে শাটের বোতাম গুলো লাগিয়ে ফেললো।বাবার দিকে তাকালো।

“কাজি সাহেব কোথায়?”
রাইসুল দেওয়ান চমকালেন।ছেলের এ হাল দেখে এক মূহুর্তের জন্য সবটা মাথা থেকে বেড়িয়েই গিয়েছিলো।ছেলের দিকে ফিরে বললেন
“চলে গেছেন।”
“তো আসতে বলো এখন।”
সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ইশানের দিকে।রাইসুল দেওয়ান ছেলের কাধে হাত রাখলেন,
,”বিয়েটা কি এখনো করতে চাচ্ছো?”
ইশান অবাক হলো।সে কখন বললো বিয়েটা করতে চায়না সে।
“বাবা আমি ইচ্ছে করে আসিনি দুপুরে এমনটা নয় কিন্তু। তাহলে বিয়েটা চাইবো না কেনো?”
বাড়ির সকলের চোখ ছলছল করে উঠলো খুশিতে।একটা সময় তারা ধরেই নিয়েছিলো ইশান বিয়েটা করতে চাইবে না।ইশানের কথায় সবার প্রানে পানি পেলো যেনো।রাহিয়ান দেওয়ান ব্যাস্ত হয়ে উঠ দাড়ালেন।বড় দুই ভাই এর দিকে ফিরে বললেন
“ কাজি সাহেব কে নিয়ে আসি তাহলে।”
রাসেদ সাহেব উঠে পা বাড়ালেন।তিনিও যাবেন।
ইশান মা,দিদার দিকে তাকালো।”আমি ফ্রেশ হয়ে তৈরি হয়ে নামি কেমন?”
দুজনেই মাথা নাড়লেন।ইশান কে ধরে নিয়ে যেতে এগিয়ে এলো নিয়াজ, নাইম।হাতে ইশারায় নিষেধ করলো সে।
“আমি পারবো।তোরা এদিকটা দেখ।”

একেরপর এক রিং বেজে কেটে যাচ্ছে। ফোনের মালিক ফোন তুলছেনা।আজ দুপুর একটা থেকে কল করে যাচ্ছে।কিছুতেই কলে পাচ্ছে না।চোখমুখ অন্ধকার করে রকিং চেয়ারে গা এলালো ছায়া মানব টি।চোখমুখ ভয়াবহ কুচকে রয়েছে। সুদর্শন মুখটি আজকে সারাদিনের চিন্তায় শুকিয়ে কালো লাগছে পুরোই।একহাতে কপাল ডললো।ডায়াল করলো অন্য একটা নাম্বার এ।দু বার রিং হতেই ওপাশের মানুষ টি কল তুললো।এ পাশ থেকে গম্ভীর স্বরে বলে উঠলেন,
“ফোন তুলছে না কেনো?”
“আমরাও খোঁজ পাইনি।তবে যতদূর জানতে পেরেছি একজন আছে।”
“একজন মানে!আরেকজন?খোঁজ নাও।”
“যাবো ওখানে?”
“যাও।রাইট নাও।রাতের মধ্যে খবর চাই।”
“ঠিক আছে।”
ফোন কেটে দুহাতে কপাল ঘষলো ছায়া মানবটি।হাত বাড়িয়ে টেবিল থেকে তুলে নিলো একটা ফটো ফ্রেম।পাঁচজন মানুষ সেখানে।হাস্যজ্জল সকলের মুখ।সেখানটায় হাত বুললাো একবার।চেপে ধরলো বুকের বা পাশটায়।কঠিন মুখ আরও বজ্র কঠিন হয়ে গেলো।পাশে রাখা রিভলবার টা তুলে ঠেকালো একবার নিজের মাথায়।টপটপ করে দু ফোটা পানি গড়িয়ে পরলো।পরক্ষণেই নামিয়ে ফেললো সেটা।চেপে ধরলো কাঠের টেবিলখানায়।দাঁতে দাঁত চেপে কঠিন গলায় আওরালো,”আই উইল ডেসট্রয় ইওর এভরিথিং। এভরিথিং…

তিতির ঘরের দরজা আটকে চোখমুখ ফুলিয়ে ফেলেছে।কাঁদার ফলে চোখের কাজল ছড়িয়ে মুখের বাজে অবস্থা। অবশ্য আর কতক্ষণই রাখতে পারতো এ সাজসজ্জা। সেই সকাল থেকে তাকে এমন রোবটের মতো সাজিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে।এখন কান্না পেলে এগুলো নষ্ট হওয়ার ভয়ে কাদাও যাবেনা নাকি!দরজায় শব্দ পেলো।নিশি,নূরির গলার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে।ধীরে পায়ে গিয়ে খুলে দিলো দরজা।তিতির এর মেকাপের এই অবস্থা দেখে মাথায় হাত দিয়ে আর্তনাদ করে উঠলো সকলে।রিশা, রোশনি হু হু করে কেঁদে ফেললো। তিতির কে পুতুল লাগছিলো কি না সারাটাদিন।
দু জমজ বোন যা করে একসাথেই করে।সবাইকে ঠেলেঠুলে দু পাশে এসে দাড়ালো তিতির এর।
“সারাদিন তোমাকে পাহারা দিলাম,আর যেই একটু সরেছি তুমি সব নষ্ট করে ফেললে।বড় ভাইয়া কে আমরা কি জবাব দেবো। “

বলেই কান্না।তাদের দুঃখ আকসশ সম।পুতুলের মতো সাজিয়ে সারাদিন রাখলো।অথচ যখনই তার ভাইটার দেখার সময় এলো তখনই এমন মেখে ফেলেছে কেঁদে কেটে।
নিশি,নূরি,তমা হতাশ চোখে তাকিয়ে আছে।কি আর বলবে মেয়েটাকে।তিতির তাকালো বোনদের দিকে।
মুখটা ফুলিয়ে কেঁদে ফেললো,”এখন তো তুলতেই হতো সব।নষ্ট হয়ে ভালোই হয়েছে।”
“এখন তুলবি কেনো।আমসর ভাইটা দেখলোই না আগেই… “
তিতির অবাক চোখে তাকায়।তমার দ্রুত হাতে ট্যিসু আর মেকাপ বক্স গুলো নিয়ে বিছানায় আসে।
“তাড়াতাড়ি আয়।কাজি সাহেব চলে আসার আগে ঠিক করে দেবো।”
তিতির হতবাক হয়ে তাকায়।কাজি সাহেব আসবেন মানে!নিশি বোনের আশ্চর্যতা টের পায়।টেনে এনে বসায় বিছানায়।
“বিয়েটা হচ্ছে তো বার্বি।সাজবি না কেনো?আমার ভাইটা দেরি করেছে বলে রাগ করেছিস?”
বিয়ে হচ্ছে শুনে থ মেরে গেলো সে।তার ধারনা ছিলো ইশান বিয়েটা করবে না বলে আসেনি সারাদিন। সে কিছু জিজ্ঞেস করবে তার আগেই ঘরের মধ্যে হুড়মুড়িয়ে ঢুকলেন সব চাচিরা।অগত্যা মনের প্রশ্ন মনে চাপা রাখতে হলো।সবাই তাড়া দেওয়া শুরু করলো।কাজি সাহেব এসে পরেছেন বলে…

ইশান ধীরেসুস্থে শাওয়ার নিয়ে বেড়িয়েছে। ব্যান্ডেজ না ভিজিয়ে গোসল করতে বেশ সময় লেগে।গেছে।তাছাড়া শরীরের আরও কয়েক জায়গায় আঘাত থাকায় জ্বলছে পুরো শরীর।বাথরুম থেকে বেড়িয়েই চোখ পরলো তার ঘরে তার জন্য অপেক্ষা করা মানুষগুলোর দিকে।একেকজন রুদ্রমূর্তি তে তাকিয়ে আছে তার দিকে।ইশান তোয়ালে তে মাথা মুছতে মুছতে এসে বসলো চেয়ারটায়।
বন্ধুদের দিকে তাকালো।বাকা গলায় বললো,”বিচার সভা পরে হোক?জামাকাপড় পড়তে দিবি তো নাকি?নিচে সবাই অপেক্ষা করছে।”
অনিমা,রিতু বিছানায় বসা।নিয়াজ অন্য একটা চেয়ারে,নাইম,বিছানার পাশে দাড়ানো আর সাজিদ দরজা আটকে সেখানে হেলান দেওয়া।সাজিদ এগিয়ে এলো চেয়ার টেনে বসলো ইশানের পাশে।
“নিচে যা বললি মিথ্যা বললি কেনো।”
“সবটা মিথ্যা না।এটা তোদের মিথ্যা লাগে?
নিজের শরীরের কাটা অংশ ইঙ্গিত করে দেখালো ইশান।
“ এটা না।বাকি কথা।বাইক অ্যাক্সিডেন্ট এ এমন আঘাত লাগে?”
“তুই করেছিস কখনো?জানবি কিভাবে?”
সাজিদ বিরক্ত মুখে তাকিয়ে রইলো।বাকিরা ভ্রু কুচকে শুনছে কথোপকথন।
“দেখ ইশান।আমি বিগত চার বছর হলো ক্রাইম ব্রাঞ্চে আছি।এসব কাটাছেড়া দেখে আমি অভ্যস্ত।”
ইশান হাসলো সাজিদের দিকে তাকিয়ে।

“হাসবি না।কথায় ছিলি সারাদিন।”
“জানিয়েছিলাম তোকে।”
“ওসব নাটক আমার সামনে করবি না।রুষার কাছে তুই ছিলি না।”
“ছিলাম।”
শব্দ করে হেসে উঠলো সাজিদ।দু হাত আড়াআড়ি ভাজ করলো করলো বুকের ওপর।
“সবাইকে চোখে ধুলো দিতে পারিস তুই।আমাদের পারবি না।আর আমাকে তো আরও না।”
“তা এএসপি সাহেব আমাকে কি আপনি অন্য সন্দেহ করছেন?”
সাজিদ নিজের ফোনটা বের করলো।
“তা রুষার সাথে কি করছিলি।”
এবার ইশানও শব্দ করে হেসে উঠলো।
“বোকার মতো কথা বলছিস।হোটেল রুমে দুটো প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়ে ছিলো সারাদিন। কি করছিলো এটা জিজ্ঞেস করছিস! ছ্যাহ্ লজ্জা নেই।”

নিয়াজ এর চোখ রাগে লাল হয়ে গেছে।একেরপর এক মিথ্যা বলছে ছেলেটা।
বাকিরা উশখুশ করছে কিছু বলার জন্য। তবে হাত বাড়িয়ে নিষেধ করলো সাজিদ।তার কথা শেষ হয়নি এখনো।হাটুর ওপর দু হাতের কনুই ভর দিয়ে তাকালো ইশানের দিকে।
“তুই বাড়ি থেকে বের হলি সকাল দশটার দিকে।যে হোটেল এ তোর লাস্ট লোকেশন পেয়েছি সেটা এখান থেকে দেড় ঘন্টার রাস্তা।হিসেব ভুল নয়।কারণ সেখানে খোঁজ নিয়ে জেনেছি তুই সেখানে যখন পৌছাস তখন বেলা এগারোটা ছেচল্লিশ। চাবি নিয়েছিস ৩১২ নাম্বার রুমের।রিসেপশন থেকে সে রুমে যেতে সর্বোচ্চ পাঁচ মিনিট।তার মানে রুমে পৌছানোর সময় আনুমানিক একান্নো,বায়ান্নো।তুই লাঞ্চ অর্ডার করেছিলি তখন এগারোটা আটান্নো।মানে রুমে ঢোকার ছয় -সাত মিনিট পর।আমাকে যখন মেসেজ করিস তখন বাজে বারোটা একত্রিশ।”
কথাগুলো একদমে বলে দম নিলো সাজিদ।রুমের মধ্যে সবাই চুপ।ইশান ভাবলেশহীন। হাসি হাসি মুখে জিজ্ঞেস করলো।,”এই কথায় কি প্রমান করতে চাচ্ছিস?”
সাজিদ চোখ সরু করে তাকিয়ে রইলো।
“ম্যানেজার জানিয়েছে খাবার রুমে যেতে লেগেছে আট-দশ মিনিট।খেতে ধরলাম সময় লেগেছে পনেরো মিনিট।বেয়ারাকে রুষা রুম থেকে এটো প্লেট আনতে কল করেছে,বেয়ারা গিয়ে রুমে একজন একা মহিলা কে দেখেছে।খাবারও একজনই খেয়েছে।আরেকজন এর খাবার ছোয়াও হয়নি।আমার আন্দাজ ভুল না হলে তুই খাসনি।তখন সময় বলেছে বারোটা একুশ।তার থেকেও বড় কথা তুই হোটেল থেকে বেড়িয়ে গেছিস বারোটা উনচল্লিশ এ।আমাকে মেসেজ করা আর তোর হোটেল ছাড়ার মধ্যের সময় মাত্র আট মিনিট।মানে কি বলতো!
ইশান হাসলো।একহাতে মুখ ডললো।

“তুই বল।”
“তোকে তো লম্বা রেসের ঘোড়া ভেবছিলাম ইশান।আট মিনিটে আউট হওয়ার পুরুষ তো তুই না।অ্যাটলিস্ট আমরা ভাবিনি”
সাজিদ এর বাঁকা কথায় রুমের মধ্যে হাসির শব্দ পাওয়া গেলো।নিয়াজ শব্দ৷ করে হেসে ফেললো।
ইশান ভ্রু কুচকে তাকালো।
“হোয়াট ননসেন্স। “
সাজিদ হেলান দিলো চেয়ারে।আয়েশ করা বসলো।
“ওখানে তুই আধঘন্টা সময় কাটিয়েছিস।সব মিলিয়ে সময় পেলি কোথায় ওর সাথে রোমান্স করার।গাধা মনে হয় আমাদের। এমনি এমনি চাকরি করি?”
ইশানের মুখে হাসির রেখা দেখা গেলো।
“সাবাস এএসপি সাহেব।বন্ধু হিসেবে গর্ব হচ্ছে আমার।একেবারে হিসেবে পাকা…”
“কথা ঘোরাবি না।তুই রুষার সাথে ছিলি না।মিথ্যে কেনো বলছিস আমাদের।আমি যদি ভুল না করি তুই একই কথা তিতিরকেও বলবি।”
“এইতো আরেকটা হিসেব মিলিয়ে ফেললি।”
“চাইছিস কি তুই?রুষাকে জড়িয়ে নাটক টা কেনো সাজাচ্ছিস? ”
ইশান বাঁকা হাসলো।সেও সোজা হয়ে তীক্ষ্ণ চোখে সাজিদের দিকে তাকালো।
“আগে তুই বল তো।তোর যে চাকরি,সেটাতে এতে ছুটি তোকে কে দিলো?তুই এখানে দিনের পর দিন কি করিস?”
সাজিদ থমকালো।আড়চোখে তাকালো অনিমার দিকে।

“এখানে কিসের মিশনে আছিস।”
এবার থতমত খেয়ে গেলো সাজিদ।এই কথাটা এখন এক্সপেক্ট করেনি সে।গম্ভীর গলায় বললো,”আমার অনেক মিশনেই কমবেশি থাকতে হয়।এবারের টা ঠু কনফিডেনটশিয়াল।”
“আমাকেও বলা যাবে না?”
সাজিদ কপাল কোচকায়,”এখানে আমার কথা কেনো উঠছে।আমরা যেটা জানতে চাইছি সেটার উত্তর দে।”
“আমি তোর বেস্ট ফ্রেন্ড। তোর চাকরির জন্য তুই আমাকে তোর মিশনের কথা বলছিস না।তাহলে আমারও কি কোনো ব্যাক্তিগত কিছু থাকতে পারেনা।”
“অবশ্যই পারে।কিন্তু সেটা যদি রুষা কে নিয়ে হয় তাহলে সমস্যা আছে আমার।”
ইশান উঠে দাড়ালো।আলমারি খুলে সকালে মায়ের দেওয়া পাঞ্জাবি টা বিছানায় রাখলো।
“হিসেব এখন মিলবে না এএসপি সাহেব।মিলবে।না।সময় লাগবে।ধরে নিন আপনি যে পথে চলছেন আমিও সে পথেরই পথিক।”
“হেয়ালি করবি না ইশান।বিষয়টা মোটেই নিরাপদ নয়।যতই মিথ্যা বলিস,আজ তোর এ অবস্থার জন্য..
ইশান হাত তুলে থামিয়ে দেয় তাকে।
“ থাম।অ্যাম অলরাইট।তবে গিলটি কাউকে ডিফেন্স করাটা তো তোর প্রফেশন এর সাথে ও যায়না।”
“আমি কাউকে ডিফেন্স করছি না।”

“রুষার বিষয়টা সবাই জানতি।আমি জানতাম না কেনো।”
সাজিদ চুপ করে রইলে।অণিমা উঠে দাড়ালো বিছানা থেকে।
“তুই হাই টেম্পার।রেগে যেতি…”
“কই রেগেছি?বরং ওর সাথে ভালো টাইম স্পেন্ড করে এলাম।বেচারির নাকি আমার জন্য রাতের ঘুম হয়না।একটু ঘুমের ডোজ দিয়েছি আরকি।এক-দু দিন ঘুমাবে আরকি।”
সাজিদ হাত নাড়ে।”সে খবর আমার কাছে আছে।”
“তিতির কে এই মিথ্যাটা বলবি না তুই।রুষার বিষয়টা আমরা দেখবো।আলাদা ভাবেই দেখবো।ওকে কষ্ট দিতে চাচ্ছিস কেনো?”
“ও একটা ছেলের কথা বলছিলো জানিস…”
“ওয়ান সেকেন্ড। বাই এনি চান্স তুই ওকে জেলাস করার জন্য এসব বলবি?”
অনিমার কথায় ইশানের মুখ গম্ভীর হয়ে যায়।কি একটা ভাবে।
“আমি ওকে ভালোবাসিনা।তাই যা বলার আমি বলবো। ”
“ভালো না বাসলে বিয়ে করতে রাজি হতিস না।”
“রুষাকে বিয়ের জন্যও তো রাজি ছিলাম।”
“তুই আবার রুষার সাথে তিতির কে জড়াচ্ছিস।রুষা কিছু…”
এবার বোধহয় কিছু একটা হলো ইশানের।মুখটা মলিন হয়ে এলো।সবাই খেয়াল।করলো সেটা।সাজিদ বড় বড় চোখ করে বললো,

“সত্যিই রুষা…”
ইশান শেষ করতে দিলো না সাজিদ এর কথা।মুখ ঘুরিয়ে নিলো।
“আমি সামলে নেবো সবটা।চল নিচে চল।জেরা করা শেষ হলে।”
“কি চাস তুই?এমন করার কারণ টা বল।”
“তোর কাজ তুই কর।ধরে নে হেল্প করছি তোর।”
“রুষা..”
“ওর কাছে আমার আর কাজ নেই আপাতত।তবে আমি খুব ভুল না করলে ও এত সহজে শান্তিতে না নিজে ঘুমাবে না আমাকে ঘুমাতে দেবে।তবে আপাতত আমার যা দরকার,যা নেওয়ার নিয়ে এসেছি।তোকে পাঠিয়েছি সেসব।দেখেছিস।”
সাজিদ অবাক হলো।ব্যাস্ত ভঙ্গিতে ফোন খুললো।বড় বড় চোখ করে ফেললো।
“রেখে দে।কাজে দেবে আই গেজ।ওকে সামলে নিস আপাতত।শুধু তিতির নয়,আমার গোটা পরিবারই আমার কাছে ইম্পরট্যান্ট। আর তাদের ভালোর জন্য যদি সাময়িল কষ্ট দিতে হয় আমি তাও দেবো।কিছু সময়ের আঘাতের ফলস্বরূপ যদি আজীবন ভালো থাকা যায় এইটুকু কষ্ট পেতে বা দিতে ক্ষতি কি?”
দীর্ঘশ্বাস ফেলে এবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চাইলো ইশান।ঘাড় ডললো একহাতে।বাঁকা হেসে তাকালো সবার দিকে।

“আর ইউ আর রাইট আমি লম্বা রেসের ঘোড়া।সেটা না হয় আমার বউ এর থেকে শুনিস পরে…রেস টা এখনো এ জীবনে একবারও খেলা হয়নি।না হলে প্রমান দিতাম..যখন খেলবো আমার বউকে বলবো তোদের জানাতে,ও না হয় রিভিউ দেবে। “
ইশান চোখ টিপলো।অনিমা, রিতু কপাল চাপড়ালো ছেলেটার এমন নির্লজ্জ কথা শুনে।বাকিরা হেসে ফেললো।
সাজিদ এর ফোন ততক্ষণে চলে গেছে অণিমার হাতে।সেখান থেকে বাকিরা নজর বোলালো সেটাতে।সবারই চোখ ছানাবড়া।
নিয়াজ লাফিয়ে উঠলো,”তুই জানতি সব ইশান?”
ইশান পাঞ্জাবি টা গায়ে জড়ালো,হাতে ঘড়িটা পরতে পরতে বাকা হেসে বললো,”আমি পচা ডোবায় মুখ দেই না।তোরা অন্তত জানিস।”

ঘরময় আলো ঝলমল করছে।বিষাদ ময় পরিস্থিতি তে সম্পূর্ণ ভাটি পরেছে।সবাই খুশিতে মাতামাতি করছে।হৈ হুল্লোড়, আওয়াজে গমগম করছে পুরো বাড়ি।গিন্নিরা খাবার টেবিলে সাজাতে ব্যাস্ত।বিয়ে পড়ানো হলেই বর কনেকে খাওয়াবে যা যা সব তৈরি করা শেষ।রিশা,রোশনি,রাফি তমার ভাইবোন দের সাথে পুরো বাড়ি ছোটাছুটি করছে।
ঘড়ির কাটাতে সময় পেনে নয় টা।কাজি সাহেব চলে এসেছেন বেশ কিছুক্ষণ হলো।বাড়ির লোকজন সহ যাদের আসার কথা ছিলো সবাই তৈরি হয়ে বসেছে।কাজি সাহেব তিতির কে নিয়ে আসার জন্য তাড়া দিলেন।ইশান নপমে এসেছে।সাজানো আসনে বসলো। মাঝখানে ফুল দিয়ে তৈরি পারটিশন করা হয়েছে।বর কনেকে দুপাশে বসানো হবে…

মিনিট পাঁচেক এর মধ্যে নিশি,নূরি নিয়ে নামলো তিতির কে।
ছোট বাচ্চারা হাততালি দিয়ে চিৎকার করে লাফিয়ে উঠলো।ইশান তাকালো সিঁড়ির দিকে।তিতিরকে ধরে নামানো হচ্ছে। নিশি আঁচল ধরে আছে।
একমুহূর্তের জন্য থমকে গেলো ইশানের মস্তিষ্ক, হার্ট বোধহয় একটা বিট মিস করলো।চোখ সরিয়ে নিতে চাইলো। অসম্ভব মনে হলো তার কাছে।লাল টুকটুকে বেনারসি জড়ানো।মুখের সামনে বেশ লম্বা করে ঘোমটা টানা।দু হাতে সে ঘোমটা ধরে আছে তিতির।তবে সে পাতলা ঘোমটার আড়ালে পরীর মতো মুখখানা আবছা দেখলে পাওয়া যাচ্ছে।স্বর্গের অপ্সরী জমিনে নামে কি না, তাদের দেখতে কেমন হয় তা তার জানা নেই।একদম নেই।তবে আজকের পর সে কথা জিজ্ঞেস করলে তিতির এর এই রুপের বর্ণনা সে দিয়ে দেবে নিশ্চিত। নাইম,সাজিদরা একে অপরের দিকে তাকালো।মুচকি হাসলো ইশানের ঘোর লাগা নজর দেখে।

সাঁঝের মায়া পর্ব ১৮

নিয়াজ এর ধাক্কা দিলো।ধীরে গলায় ফিসফিস করে উঠলো,”হ্যা রে প্রথমে তো বললি বিয়েই করবি না।বলেছিলাম না ওকে লাল শাড়িতে দেখলে তোর মরণ নিশ্চিত।মিললো তো?মর ব্যাটা এখন।”
চোখ সরিয়ে নিলো ইশান।তিতির কে বসানো হলো সামনাসামনি। ফুলের আড়ালে আপাতত আড়াল হলো নারী রুপে ফুলটি… বসা মাত্রই গা শিওড়ে উঠলো তিতির এর।ঘোমটার আড়ালে আড়চোখে দেখার চেষ্টা করলে ইশানকে ।আর কয়েক মূহুর্ত পর থেকে এ জনম, সে জনম আজীবনের জন্য এই মানুষ টার সাথে তার জীবন বাধা পরবে…

সাঁঝের মায়া পর্ব ২০