সাঁঝের মায়া পর্ব ৩৬
দুর এ দিলশাদ্ দুআা
____”যেভাবে মিশে আছিস। পজিশন টা খেয়াল করেছিস? অল সেট কিন্তু। আমি কনট্রোল হারাচ্ছি।”
তিতিরের হাত খামচে ধরলে ঈশানকে। বিরবির করে বললো,
____”অসভ্য লোক। পিছনে যেতে দিন।”
____”আগুনের ছোয়া কেনো যেনো ভালো লাগছে। গিভ মি ওয়ার্মথ্। ইট’স ফিলস্ গুড।”
ঈশানের একেরপর এক ঝলসে দেওয়া কথায় পিষ্ট হচ্ছে তিতিরের নারীসত্ত্বা। ঈশান ঠিকই বলেছে। লোকটা পাগল বানাতে এক্সপার্ট। অসভ্যের মতো কথা, কাজকারবার করে ঘায়েল করে তাকে। এমন চলতে থাকলে ইচ্ছে করেই ধরা দিয়ে ফেলবে সে। কি লজ্জার হবে সেটা…
ঈশানের গলায় মুখ গুজে আছে তিতির। দু হাতে জড়িয়ে ধরে আছে মানুষটাকে। রাত গভীর থেকে গভীর হচ্ছে । ঘোর অন্ধকার চারিদিকে। আঁকাবাকা রাস্তায় শব্দ করে ছুটছে ঈশানের বাইক। তিতির পিছনে বসার জন্য কতবার যে অনুরোধ করেছে, ইয়ত্তা নেই তার। ঈশান মোটেই বাইক থামায় নি। বরং যতবার তিতির বলেছে সে কথা তত বার হেচকা টানে মিশিয়েছে নিজের সাথে। এমনিতেই গভীর স্পর্শ লেগে আছে দু দুটো উত্তপ্ত শরীর। তার ওপর দিশেহারা অবস্থা তিতির এর।
ঈশান ঘন ঘন শ্বাস ফেলছে শুরু থেকেই। তিতির কে এই মূহুর্তে নিজের থেকে সরাতে পারবে না। পুড়ে যাচ্ছে ভিতরে ভিতরে। পথ টাও যেনো আজকে শেষ হচ্ছে না। দুজনই টের পাচ্ছে দুজনের এলোমেলো অবস্থা। ঈশান স্থানকাল পায়ে পিষে এখনি নিজের করে নিলে বোধহয় শান্তি পায়। তিতির লজ্জায় কুকড়ে যাচ্ছে একেবারে। নিজেদের এলাকার রাস্তায় চলছে বাইক। শুনশান নিরবতা। এক হাত দূরের কিছু দেখার মতো আলো নেই। আকাশের চাঁদ তাঁরা ডুব দিয়েছে বহু আগে। বাইকের আলো তে রাস্তা হাতড়ে চলছে ঈশান। তিতির নড়েচড়ে উঠতেই কড়া ধমক শোনা গেলো ঈশানের।
____”নড়াচড়া করছিস কেনো! বললাম না স্থির হয়ে বসে থাকতে। সমস্যা হয় আমার।”
তিতির মুখ তুললো। মিনমিন গলায় বললো,
____”আমাকে পিছনে বসতে দিলেই…
আচমকা ব্রেক কষলো বাইক টা। তিতির আৎকে উঠে পেচিয়ে ধরলো ঈশানকে। আশেপাশে তাকালো। বাইক থেমেছে তাদের এলাকার রহমান চাচার চায়ের টংঘরের সামনে। পাশেই শত বছরের পুরানো বটগাছ টা মাথা তুলো দাড়ানো। অন্ধকার এ ভয়ংকর লাগছে সেটাকে। তিতির ভয়ার্ত কন্ঠে শুধালো,
____”থামালেন কেনো! তাও এমন একটা জায়গায়।”
তিতির ভয় পাচ্ছে। পাবে না আবার৷! এত বছরের পুরানো একটা গাছ। ভূতপ্রেত এর কথা লোকজনের মুখে মুখে। নিশুতি রাতে এমন একটা জায়গায় ব্রেক করায় ভয়, বিরক্তি তে ছেয়ে গেলো তিতির এর মুখটা। দোকানের কোনায় একটা ছোট্ট লাইট লাগানো। টিমটিম করে জ্বলছে সেটার লাল আলো। সেটার আলোর ছটা এসে পরছে তিতিরের ভয়ার্ত মুখে। চোখেমুখে রাজ্যের অস্বস্তি মেয়েটার। ঈশানের গ্রীবা আকড়ে এদিকওদিক তাকাচ্ছে।
ঈশান দু হাত তিতির এর কোমড় এ চেপে উচু করে পিছিয়ে বসালো। তিতির আরও ঘেষে আসতে চাইলো। আর্তনাদ করে বললো,
____”এতক্ষণ তো পারলে আমার শরীরের ভিতর ঢুকে যাচ্ছিলেন। এখন সরিয়ে দিচ্ছেন কেনো! ভয় পাচ্ছি তো আমি।”
ঈশান বাঁকা হাসলো। এক হাতে তিতিরের রেশমের মতো সিল্কি চুলগুলো সামনে থেকে ঠেলে পিছনে দিতে দিতে বললো,
____”তা অবশ্য চাচ্ছিলাম । এখনো চাচ্ছি।”
____”কি?”
____”তোর ভিতরে ঢুকে যেতে।”
লাগামছাড়া নির্লজ্জ কথায় এরকম পরিস্থিতিতেও লজ্জায় শরীর কাঁপলো তিতির এর। মুখটা কঠিন করার চেষ্টা করে বললো।
____”এটা এসব ফালতু বকার সময় বা জায়গা?”
____”আজকাল কি যেনো হয়েছে ঈশান আরশাদ এর। তোর সাথে থাকলে সব জায়গাই ওইসবের জায়গা করে নিতে ইচ্ছে হয়।”
____”ছিহ্। কিসব কথাবার্তা। কোন রুচিতে এরকম অবস্থায় একটা ভূতুড়ে বটগাছের নিচে বসে আপনার ওইসব করার আজেবাজে চিন্তা আসে মাথায়!”
ঈশানের মুখটা কপট আশ্চর্যতায় ভরে উঠলো। চোখেমুখে রাজ্যের ভালোমানুষি এনে বললো,
____”কিসের কথা ভাবলি তুই? আমি তো ঝগড়ার কথা বললাম।”
তিতিরের মুখটা চুপসে এলো। ঈশান যে তাকে কথার প্যাচে ফেলে লজ্জা দিচ্ছে তা স্পষ্ট । ইশশশ বুঝে শুনে তার অন্তত কথা বলা উচিত মানুষ টার সামনে । না হলে কথায় কথায় অস্বস্তি তে পরতে হবে।
তিতির সামান্য কাশি দিয়ে গলা পরিষ্কার করে বললো,
____”আমিও সেটার কথাই বললাম। তবুও, এটা তো ঝগড়া করারও জায়গা নয়। “
____”বললামই তো। তুই যদি চাস সব জায়গাতেই আমি…
তিতির দু হাতে নিজের কান চেপে ধরলো।
____”আর কথায় পিষ্ট করবেন না আমাকে। চলুন না।”
ঈশানের মধ্যে সেসব এর কোনো লক্ষন দেখতে পাওয়া গেলো না। বাকা হেসে উল্টো হাস্কিস্বরে বললো,
____”তোকে লাস্ট রাফলি কিস কবে করেছি তিতির ?”
কান ঝা ঝা করে উঠলো মেয়েটার। ঈশানকে মনে মনে সহস্রবার গালি দিয়ে উঠলো তিতির । এটা কোনো প্রশ্ন! মরে যাবে, এই লোকের সাথে সংসার করতে গেলে চব্বিশ ঘন্টা তেইশ ঘন্টাই লজ্জায় মুখ লুকিয়ে রাখতে হবে । তিতির এর মুখে কোনো শব্দ না পেয়ে ঈশান বললো,
____”বললি না? কবে করেছিলাম আমি। এরমধ্যে হয়েছে হালকা পাতলা। এই যেমন কাল তো তুই…
তিতির নিজের হাত নিয়ে চেপে ধরলো ঈশানের মুখ। ঈশান খেয়াল করলো নরম হাতটা থরথর করে কাঁপছে। মনে মনে নিজের হাসি আটকে ভ্রু তুলে জিজ্ঞেস করলো,
____”কাঁপছিস কেনো? ভূতের ভয়ে? নাকি আল আমাকে নিজ থেকে কিস করেছিলি সেটা মনে করে?”
পয়েন্টে পয়েন্টে ধরে ফেলে লোকটা। কাল যা করেছে সেটা মাইকিং করতে হবে এখন! তার কথাতেই তো করলো। সিগারেট ছাড়তে এমন আজগুবি শর্ত দিচ্ছিলো! না মানারও উপায় ছিলো না। একটা মানুষ দিনে এক দুই প্যাকেট সিগারেট শেষ করলে ফুসফুস ধ্বংস হতে কতদিন! তিতির বিরক্ত গলায় বললো,
____”আ..আপনি বড্ড ঠোঁটকাটা ঈশান ভাই।”
ঈশান অশ্লীন হাসলো । গা শিরশির করে ঈশানের এ হাসি দেখলে। তোলপাড় শুরু হয় বুকের ভিতরে। ফিচেল গলায় বললো,
____”আমিও বিষয়টা আগে জানতাম না। এত বড় একটা গুন যে আমার আছে বিয়ের পর টের পেয়েছি।”
তিতির মুখ ভেঙালো । টিমটিমে আলোয় সেটা ধরা পরলো ঈশানের চোখে। অদেখা হাসলো সে। বারবার কামড়ে ধরার দরুন মেয়েটার কমলার কোয়ার ন্যায় অধরজোড়া ভেজা। লাল হয়ে গেছে। রক্ত ঠিকরে বের হয়ে আসছে যেনো। আলো এসে পরায় আরও চিকচিক করছে সেটা। চুম্বকের মতো কাছে টানছে ঈশান কে। শুকনো ঢোক গিললো ঈশান। নিচের ঠোঁট কামড়ে নরম গলায় বললো,
____”আমি সিগারেট ছেড়ে দিয়েছি। কালকের পর একটাও খাইনি।”
ঈশানের মুখের দিকে তাকালো তিতির। কন্ঠে কেমন একটা আকুলতা। সিগারেট না খেতে পারার কথাটা এমন ভাবে বললো যেনো কষ্টই হচ্ছে। অবশ্য হওয়ারই কথা। এতো ডিপ একটা অভ্যেস একদিনে ছাড়া মুশকিল। তিতিরও নরম গলায় জিজ্ঞেস করলো,
____”ক্রেভিং হচ্ছে? “
ওপর নিচ মাথা নাড়লো ঈশান। হচ্ছে বোঝালো। দীর্ঘশ্বাস ফেলো আশপাশে তাকালো । ঘোর অন্ধকারে কিচ্ছু চোখে পরার মতো নয় । বাতাসের তীব্রতায় প্রাচীন বটগাছটার আয়ু শেষ হয়ে আসা পাতাগুলোর বর্ষন হচ্ছে তাদের ওপর। অদূরে দোকানের লাল আলোর বর্ণালির ছোঁয়ায় দু দুটো মানব মানবি একে অপরের মুখোমুখি । ঈশান কেমন অসহায় কন্ঠে বললো,
____”খুব ক্রেভিং হচ্ছে। তবে সিগারেট এর না। “
তিতির এর বাঁকানো ভ্রু জোড়ার মধ্যে সরু ভাজ পরলো একটা। ঠোঁট উল্টিয়ে প্রশ্ন করলো,
____”তাহলে?”
ঈশান চুপ করে থেকে আচমকাই আঙুল ছোয়ালো তিতিরের ঠোঁট জোড়ায়। জোরে জোরে শ্বাস নিতে নিতে বললো,
____”যেই শর্তে সিগারেট ছেড়েছি সেটার। “
কথাটার মানে বুঝতে পেরে তিতির এর দম আটকে এলো। ঈশানের কামুক দৃষ্টির তীক্ষ্ণ তীর বিদ্ধ হচ্ছে তার বুকের বা পাশে। বাতাস প্রচন্ড। এলেমেলো করে দিচ্ছে দুজনকে। বাইকের ওপর স্থির চোখে মুখোমুখি দুজন। তিতির কি বলবে, বা করবে ভেবে পেলো না। আশেপাশে তাকালো একবার। কাকপক্ষীও নেই। থাকবেই বা কি করে। এখন যে মাঝরাত।
এরই মধ্যে আবার শুনতে পাওয়া গেলো ঈশানের কন্ঠ,
____”ক্রেভিং হচ্ছে তিতির। খুব ক্রেভিং হচ্ছে। দিবি?”
লজ্জায় মরি মরি হলেও সাথে আরেকটা কথা মাথায় এসে ঠেকলো তিতির এর। ঈশান ওর থেকে পারমিশন নিচ্ছে ! এতদিন তো সেটা করেনি। আজকাল অনেকটা সফট ব্যবহার করে। জোর করেনা। তার দৃঢ় বিশ্বাস এখন সে না করলে ঈশান এগোবে না। তিতির নিজের মনের কথা পরীক্ষা করার জন্য সেটাই করলো। নির্বিকার মুখ করে ফেললো। সাথে কাঠিন্যও আনলো।
____”প্লিজ ঈশান ভাই। সবসময় সব জিনিস ভালো লাগে না। এটা জায়গা পাগলামির? বাড়ি চলুন। ঘুম পাচ্ছে।”
ঈশান থমকালো সত্যি সত্যিই। তার বিশ্বাস ছিলো তিতির লজ্জা পাবে। মুখে স্বীকার না করলেও নিরব সম্মতি দেবে। তার কোনো টাই হলো না। মেজাজ হারালো না। তবে অভিমান হলো খানিক টা। তিতিরের কোমড় চেপে নামিয়ে দিলো বাইক থেকে। তিতির মানা করার সময় টা অবধি পেলো না। ঈশান নিজের রাশভারি কন্ঠে বললো,
____”পিছনে উঠে বোস।”
তিতির বিমূঢ় হয়ে দাড়িয়ে। সে তো এমনিই দেখার জন্য বলেছিলো। ঈশান মুখে কিছু না বলে সোজা নামিয়ে দিলো সামনে থেকে। মনে মনে বেশ সন্তুষ্ট হলো। ঈশান তার সিদ্ধান্ত কে সম্মান করছে আজকাল। সে না বললে যে ঈশান এগোবে না এটা বুঝতে বাকি নেই।
____”কি হলো বোস? এখন দেরি হচ্ছে না?”
____”উহু…”
তিতির একদম ঘেষে দাড়ালো ঈশানের কাছে। ঈশান ভ্রু কুচকে তাকাতেই তিতির দু কাধ খামচে আবার উঠে পরলো বাইকে আগের মতো। দুরত্ব না রেখে বসলো। দু পা তুলে জড়িয়ে ধরলো ঈশানের কোমড়। পুনরায় সেই ছোঁয়ায় ঠোঁট কামড়ে চোখ বুজে নিলো ঈশান।
তিতির নিজে এতটা সাহস কেথা থেকে পেলো নিজেও বুঝলো না। ওপরে ওপরে সাহস দেখালেও মনে মনে মোমের মতো গলে গলে পরছে।
দুজনের শ্বাসপ্রশ্বাস ছুয়ে যাচ্ছে একে অপরের মুখ। ঈশান তাকালো। তার ওপর তিতির ঝুকে আছে।
____” কি সমস্যা? আবার এভাবে বসলি কেনো!”
____”আমার ইচ্ছে। “
____”তোর ইচ্ছেতেই তো হচ্ছে সব। যা পিছনে গিয়ে বেোস।”
____”কি যেনো বলছিলেন তখন?”
ঈশান চট করে তাকালো ওর দিকে। মেয়েটার মুখে স্পষ্ট লেখা দেখতে পেলো অনুমতির । পুরুষালি শরীর খেই হারালো। তবে মুখে বললো,
____” ডু ইট। “
____”হ্যা?”
____”যেটা বলেছিলাম। সেটা কর। ক্রেভিং মেটা আমার। “
তিতির মুখ সরিয়ে নিলো অন্য দিকে। আমতা আমতা করে বললো,
____”আ..আ.. আমি বারবার নিজে থেকে পারবনা।”
____”আমি করলে প্রবলেম, নিজেও করবি না। তাহলে কিছুই তো হবে না আমাদের মধ্যে কখনো। সংসার টা করবি কি করে তিতির?”
তিতির জবাব দেয় না। দু হাত এসে ঠেকেছে ঈশানের শার্টের বোতামে। দু হাতে সেটা নিয়ে নাড়াচাড়া করছে সে।
ঈশান ওই বাচ্চা বাচ্চা মুখের টান আর সহ্য করতে পারলো না। এক হাতে তির্তিরের কোমড় চেপে নিজে পিছিয়ে বসলো খানিকটা। ওকেও টেনে কাছে এনে অন্য হাতে ধরলো চুলগুলো। মুখের কাছে মুখ টেনে হিসহিসিয়ে বললো,
____”আমিও দেখবো কতদিন তুই আমার থেকে দূরে রাখিস নিজেকে। তোর রেসপন্স না পেলে আমি একা সংসার করতে ছুটবো না। এটা জেনে রাখিস। ঈশান আরশাদ দেওয়ান কারোর জন্য নিজেকে পাল্টায় না। ভাবেও নি পাল্টানোর কথা। তুই এসে তার সে গৌরবে জল ঠেলেছিস। আজকাল তোর মনমতো চলার জন্য মরিয়া আমি! জাদু করেছিস? জাদু?”
তিতির দাতে নিচের ঠোঁট কামড়ে শুনছে ঈশানের সব কথা। ঈশানের তপ্ত শ্বাস প্রশ্বাস এসে আঘাত হানছে তার কন্ঠদেশে। শক্ত হাত মুঠো করে পেচিয়ে আছে তার চুলগুলো। ঈশান চুলের মুঠো ধরে তিতির এর মাথাটা খানিক পিছনে হেলিয়ে নিজের ললাট স্পর্শ করালো তিতিরের কন্ঠদেশে। তিতির এর ছোট্ট নারী দেহ আন্দোলিত হচ্ছে। তপ্ত নিশ্বাস, নাক মুখের ছোয়া লাগছে তার দূর্বল জায়গায়। ঈশান আবার সেই হিসহিসিয়ে বললো,
____”আমাকে মাঝেমধ্যে তোর কাপুরষ মনে হয় না তিতির? মনে হয় না যে তোর কাছে এলে আমার শুধু তোকে পাওয়ার বাসনা জাগে কেনো! পাগল হয়ে যাই কেনো। তোকে ছুয়ে দিতে মরিয়া হই কেনো! ভাবিস না? ভাবিস বল… তখন নিশ্চয় আমাকে কাপুরুষ, চরিত্রহীন ভাবিস?”
তিতির ঈশানের এমন কথায় কোনো মতে দু দিকে মাথা নাড়ে। এটা সে মন থেকে কখনো ভাবেনি। ঈশান যতই খারাপ ব্যবহার করুক শুরুতে রুষার কথা মনে হয়ে তখন এসব মনে হতো, ঘৃনা লাগতো নিজের ওপর,সম্পর্কের ওপর, রাগ হতো ঈশানের ওপর। কিন্তু যে মূহুর্ত থেকে ঈশান বিশ্বাস করিয়েছে সব মিথ্যা সেসব, যে মূহুর্তে নিয়াজ ভাই বলেছে সে ছাড়া কোনো নারীকে ঈশান স্পর্শ করেনি অন্য ভাবে। সে মূহুর্ত থেকে সেসব অস্বস্তি কাটতে শুরু করেছে। ঈশানের পরিবর্তন সে দেখছে, নিজের মনেও ঈশানের জন্য অনূভুতি গুলো জোড়ালো হচ্ছে।
ঈশান মুখ তুললো। হাতে বাধনও হালকা করলো। তিতির স্বাভাবিক ভাবে সোজা হতেই কঠিন গলায় বলে উঠলো,
_____” লুক অ্যাট মি তিতির। তাকা আমার দিকে।”
তিতির বাধ্য মেয়ের মতো চোখ খুললো। ঈশানের ঘোলাটে হয়ে আসা চোখে দৃষ্টি রাখলো। এ দৃষ্টি গভীর থেকে গভীরে তলিয়ে যেতে আজকাল প্রস্তুত লাগে নিজেকে।
ঈশান গম্ভীর গলায় বললো,
____” আমাকে যা খুশি ভাবতে পারিস। আমি তোর হাসবেন্ড। তুই আমার জন্য বৈধ। একদম হালাল। তবে যেকোনো সম্পর্ক এগোতে গেলে মন টা মিলতে হয় আগে। আমি জানি আমাদের শুরু টা অন্য রকম ভাবে শুরু হয়েছিলো। এ কথাটা আমি আগেও বলেছি। তবুও আবার বলবো। তুই যদি আমাদের ফার্স্ট নাইটে আমার বলা কথার জের ধরে আমার কাছে আসতে ইতস্তত করিস সেটা আমার জন্য যন্ত্রণা দায়ক। আমি জানি সেদিন এর তোকে দেওয়া কষ্টের কাছে আমার আক্ষেপ কিছুই নয়। তবুও সরি। “
এ নিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো ঈশানের মুখে সরি শুনলো। এই বিষয় নিয়ে কৈফিয়ত সে আগেও দিয়েছে। ভালোবাসা মানুষ চিনিয়ে দেয়। তার অবচেতন মন ভালো খারাপ এর পার্থক্য বুঝতে পারে। ঈশান এর কথায় যে মিথ্যা নেই সেটা মুখে না বললেও টের পাওয়া যায়। মুখ নিচু করে ধীর গলায় বললো,
_____”এসব কথা আপনি এর আগেও বলেছেন। আর দরকার নেই…
_____”দরকার আছে। আছে বলেই বলছি। আমার আর রুষার সম্পর্ক আর দশটা কাপল এর মতো ছিলো না। ভার্সিটির শুরু থেকে আমাদের পরিচয়। এখান থেকে আমি, নিয়াজ,নাঈম, আর সাজিদ একসাথে অ্যাডমিট হই। রিতু অবশ্য মেডিকেল এ ভর্তি হয়। তবে দিন শেষে আড্ডা একসাথেই দেওয়া হতো। তুই জানিস কি না। রিতু নাঈম এর বোন। সৎ বোন তবে বোন। রুষার সাথে পরিচয় নিয়াজ দের মাধ্যমেই। ওকে কিছু ছেলে বিরক্ত করতো। একদিন এক অনাকাঙ্ক্ষিত অসম্মান হওয়া থেকে ওকে বাচাই আমি। অ্যান্ড দেন সি ফল ইন লাভ উইথ মি। আমার মনে সেরকম ফিলিংস কোনো জীবনেই ছিলো না। নাতো রুষা না অন্য কোনো নারী। ভালোবাসা জোর করে বা সবার প্রতি হয় না তিতির। ফিলিংস টা আসেনি। আর দশজনের মতোই মনে হতো। একটা সময় রুষা প্রপোজড্ মি। আমি সসম্মানে ফিরিয়ে দেই। তবে ও হার মানে না। আমাদের গ্রুপের সাথে চলাফেরা করতো। একটা সময় ওর মাধ্যমেই সবাই জানে সি ইজ মাই গার্লফ্রেন্ড। কথাটা আমিই জানতাম না। জিজ্ঞেস করার পরে জবাব আসে সেফটির জন্য বলেছে। আর জেনো কেউ বিরক্ত না করে। আমি এসব বিষয়ে বরাবরই হেলদোলহীন। আবেগ অনূভুতি আমাকে স্পর্শ করতো না…”
____”আপনাদের বিয়ের কথা… বাড়ির সবাই জানতো তো। ওনাকে বাসায় আনার কথা বলেছিলেন আপনি। বড়মামনী কে বলেছিলেন ওনাকে বিয়ে করতে চান আপনি।”
তিতির মাথা নিচু করেই আছে। কথাটা অনেকক্ষন সময় টেনে বললো।
ঈশান সামান্য মাথা ঝুকিয়ে বললো,
_____”আর ইউ ফিলিং জেলাস?”
_____”এরকম কথা শুনলে কোন মেয়ে জেলাস হবে না!”
_____”তা ঠিক অবশ্য। “
_____”চেয়েছিলেন বিয়ে করতে। রুষা মাঝপথে হুট করে নিজেই ভেঙে না দিলে তো ঠিকই বিয়ে করে সংসার করতেন।”
তিতিরের নরম তুলতুলে গাল আলতো করে টিপে দিলো ঈশান। গলার কন্ঠ গম্ভীর করে বললো,
_____”ইট’স আ সিক্রেট তিতির। আপাতত তোকে বলতে পারছি না। তবে একট কথা জেনে রাখ বিয়েটা কখনোই হতো না। আমি তো করতামই না। বরং এটাও জানতাম বিয়েটা রুষা নিজ থেকে ভাঙ্গবে। “
তিতির মুখ তুলে চকিতে চাইলো। ঠোঁট উল্টিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
____”কি করে জানতেন?”
____”সময় হোক জানাবো।”
____”সে সময় কবে হবে?”
____”আশা করছি খুব শিগ্রই। তবে কথায় কথায় ভুল বোঝা যাবেনা। কঠিন মূহুর্তেও বিশ্বাস করার মতো মনের প্রস্তুতি রাখতে হবে। আমি ভালো মানুষ নই মোটেও। তাই পরবর্তী তে আমার যেকোনো অবস্থার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখতে হবে। আমার বউ হলে সংসার করা কঠিন ম্যাডাম। নেহাৎ ফেঁসে টেসে গেছি। দিদা ফাঁসিয়ে দিয়েছে। না হলে তোকে হয়তো কখনো আমার সাথে বাঁধতাম না তিতির। এ জীবনে না।”
_____”কখনো না?”
ঈশান চোখ বুজে হঠাৎই হেসে ফেললো। দু হাত সারেন্ডার্ড করার মতো ওপরে তুলে বললো,
_____”এখন মনে হচ্ছে করতাম। তোকে ফোর্স করে হলেও কোনো একদিন নিজের করে নিতাম। দুদিন আগে সেটা হয়েছে এই যা।”
তিতির অবাকই হয় ঈশানের কথাগুলো শুনে। মানুষটাকে ক্ষনে ক্ষনে চিনে উঠতে পারে না। তিতির আলতো মাথা নাড়লো। কপালে উড়ে আসা বেবি হেয়ার গুলো ঈশান গুজে দিলো তিতির এর কানে। কন্ঠ শান্ত রেখে বললো,
_____”আবেগী হওয়া যাবে না। নিজেকে প্রটেক্ট করার মনের জোর সবসময় থাকতে হবে।”
____”হুম।”
কথাগুলো শেষ করে দু হাতে আলতো করে কোমড় ধরলো। হাস্কিস্বরে বললো,
____”তোর একটা কথা আমার মনে লেগেছে তিতির। কথাটা মিথ্যা নয় যদিও। হয়তো আমার শোনাই প্রাপ্য ছিলো। কিন্তু তবুও আমি আঘাত পেয়েছি।”
তিতির বড় বড় চোখ করে তাকালো। কোন কথার কথা বলছে ঈশান সেটা তো তার হুট করে জানার কথা না।
____”কিসের কথা বলছেন?”
ঈশান খানিকটা দম নিয়ে বললো,
____”ম্যারেটাল রে*প।”
তিতির থমকালো এ যাত্রায়। শুরুর দিকে তাদের সম্পর্কগুলোই তো অমন ছিলো। মোটে কয়েকদিন হলো একটু একটু স্বাভাবিক হচ্ছে। ঈশান সে কথা ধরে বসে আছে। ব্যাস্ত গলায় বললো,
____”আমি তখন…”
____”উহু। তোর জায়গায় তুই ঠিক আছিস। এসব আমাদের সমাজে অহরহ হয়। আমি রাগের মাথায় সেসব নিচু মনমানসিকতার পরিচয় দিয়ে ফেলেছিলাম। তবে আর হবে না। তুই না চাইলে আমি তোকে স্পর্শ করবো না। তোর সম্মতি ছাড়া, তোর চাওয়া ছাড়া আমাদের মধ্যে কিচ্ছু হবে না। কথা দিলাম।”
তিতির এর বুকের ভিতর আচমকা চিনচিন করে উঠলো। ঈশান অভিমানি গলায় বললো কি কথাগুলো!
____”আমাদের আই গেজ আরও সময় লাগবে। নিয়ে নে সময়। দিলাম সময়। তবে প্রস্তুত কর নিজেকে। আমি ছেড়ে দেওয়ার মানুষ নই। তবে ভেবেচিন্তে ধরা দিস। একবার তুই ধরা দিলে তারপর থেকে কঠিন ভাবে আমাকে সামলাতে হবে কিন্তু। তখন মানা শুনবো না।”
তিতির লজ্জায় আড়ষ্ট হলো। ঈশান মৃদু হাসলো এবারে। চুলের নিচে হাত গলিয়ে তিতির মাথা এনে ঠেকালো নিজের বুকে। অন্য হাতে সময় দেখলো। এখন বাড়ি ফেরা ফরজ কাজ হয়ে গেছে। কাল সকাল সকাল উঠে পরতে হবে সকলে। ঈদের নামাজ সম্ভবত সকাল ৯ টায়। দেরি হলে রাইসুল দেওয়ান এর চেচামেচি তে না হলে কানের পোকা বেড়িয়ে আসবে।
পায়েশ, সেমাই এর মিষ্টি ঘ্রানে ম ম করছে গোটা বাড়ি। সেই কাকডাকা ভোরে উঠে পরেছে বাড়ির কর্তা গিন্নি রা। রাহেলা দেওয়ান দুই জা কে সাথে নিয়ে ব্যাস্ত হয়েছেন রান্নাঘরে। ক্ষনে ক্ষনে সময় দেখছেন।
একে একে সকলকে দেখতে পাওয়া গেলো প্রায়। বাড়ির ছেলেমেয়ে গুলোও উঠে পরেছে। রিশা,রোশনি,রাফি মায়ের উঠে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই উঠে পরেছে। বাড়িতে যেকোনো উৎসব আয়োজন এ ওদের তিনজনের দেখা সবার আগে পাওয়া যায়। সেদিন সব্বাইকে ঘুম থেকে ডেকে তোলার দায়িত্ব যেনো ওদেরই। রাইসুল দেওয়ান ঘুম থেকে উঠেই আগে দেখা করতে গেছে মা চন্দ্রা দেওয়ান এর দিকে। তার শরীরটা এখন বেশ ভালো। আজকাল নিজে নিজেই টুকটাক হাটাহাটি করে ঘরের মধ্যে। ছেলের হাত ধরে টুকটুক করে এসে বসলেন ড্রয়িং রুমে। বাকি দুই ছেলেও সেখানে।
নয়ন ঘুম থেকে উঠে নিচে নামতেই রিক্তা ছেলেকে পাঠিয়েছে কিশমিশ আনতে। গতকাল ঈদের বাজারের ফর্দে ভুল করে লেখা হয়নি সেটা। রাইসুল দেওয়ান মহা ক্ষেপে আছে সে কারণে। ঈদের একটা দিন, সকাল সকাল, ছেলেটাকে বাজারে পাঠাতে হবে! কোথায় কোন দোকান খুজে নিয়ে আসতে হবে কে জানে!
নূরি বিছানা ছেড়ে এসে জানালার পর্দাগুলো সরিয়ে দিলো। হাতের ব্যাথায় টনটন করছে। একদিন আগের ক্ষত, এত জলদিই ঠিক হবে নাকি! গতরাতে জোর করে বোনদের দিয়ে দেওয়া মেহেদীর দিকে তাকালো। গাঢ় রং হয়েছে সেটার। অন্য বছর হলে বেশ উৎসাহ নিয়ে ছুটতো সবাইকে দেখাতে। বোনদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হতো কার হাতের মেহেদী কতটা সুন্দর, কারটা বেশি গাঢ়। এবার সেসব এর ব্যাতিক্রম। তার মন এসবে টানছে না কিছুতেই। রিশার ডাকে ঘুম ভেঙেছে তার। ফ্রেশ হয়ে লম্বা হাতার একটা জামা পরে নিলো। হাতের ক্ষত টা যতবার দেখে ততবার তিক্ত সব বিষয় মাথায় এসে হানা দেয়। চিরুনি হাতে নিতেই ঘরের মধ্যে ঢুকলো নিশি। বিনাবাক্যে এসে বোনের হাত থেকে চিরুনি টা নিয়ে আঁচড়ে দিলো চুলোগুলো।
____”হাতের ব্যাথা কেমন এখন?”
____”একটু কমেছে।”
____”গোসল দিবি কি এখন? শ্যাম্পু করিয়ে দিয়ে তাহলে আমি গোসলে যেতাম।”
____”এখন দিতে চাচ্ছি না।”
____”ঠিক আছে।”
হাতের কাজটা শেষ করে নিশি চলে যেতে উদ্ব্যত হতেই পিছন থেকে কান্নামাখা ডাক শুনলো।
____”বড়আপু…”
নিশি দাড়ালো। স্বাভাবিক মুখে ঘুরেও তাকালো।
____”হু।”
নূরি এ যাত্রায় হুড়মুড়িয়ে এগিয়ো এলো একেবারে বোনের সামনে। অন্য হাতে চেপে ধরলো নিশির হাত। টেনে নিলো নিজের দিকে। ছলছল করছে নিজের চোখ। কান্না আটকে নরম গলায় বললো,
____”তোমরা কি আমার ওপর রেগে আছো খুব? কথা বলছো না কেনো ভালোমতো।”
নিশি হাত ছাড়িয়ে নিলো ধীর হাতে। স্বাভাবিক গলায় বললে,
____”তুমি যেটা করেছো তার পরেও আর দশটা দিনের মতো হি হি করে গল্প গুজবের অবস্থা নেই নিশ্চয়? “
নূরির চোখের পানি এবারে গড়িয়ে পরলো। কান্না বাধ মানলো না। নিশি চোখ সরিয়ে নিলো সেখান থেকে। কন্ঠ সামান্য দৃঢ় করে বললো,
____”জীবনে ভালো খারাপ সব মূহুর্ত আসে। একা একা সেটার সমাধান খোঁজা বোকামি। সব সমস্যার সমাধান একা হাতে হয়না। তোর একবারও মনে হলো না? যে সমস্যাই হোক তোর পরিবার, তোর ভাইবোন এরা তোর পাশে থাকবে? খুব কঠিন মূহুর্তেও যদি শেষমেশ কেউ পাশে থাকে সেটা নিজের পরিবার নূরি। তাদের কড়া কথায় হয়তো খারাপ লাগবে, আমরা ভাবি পরিবার ও পাশে রইলো না। এটা ভুল। তোর যেমন দোষ, ওই মূহুর্তে তাদের ও তেমন কষ্ট হয়। আক্ষেপ থেকে তারা কটু কথা শোনায়। পাশ থেকে সরে যাওয়ার নিয়তে নয়। সুতরাং দিন শেষে যা হবে তার পরিবার কে জানিয়ে রাখা ভালো। অন্তত আমাকে বা মেজো মা কে একবার জানাতে পারতিস। আমরা যেকোনো মূল্যে সলভ করতাম। যেটা করতে গিয়েছিলি সেটস কোনোভাবে সমাধান হতে পারেই না।”
নূরি মাথা নিচু করে ফুঁপিয়ে কেঁদে যাচ্ছে। বোনের একটা কথাও ভুল নয়। একটা শব্দও নয়। সে কি করে ফেলেছে মনে হতেই অপরাধবোধ এ কুন্ঠিত হচ্ছে।
_____”আমার ভুল হয়ে গেছে আপু।”
_____”হয়েছে, খুব বড় ভুল। আমরা সকলে কতটা মানসিক কষ্টে গিয়েছি আন্দাজ আছে তোর?”
_____”অ্যাম সরি।”
নিশি দীর্ঘশ্বাস ফেলে নরম গলায় বললো,
_____”আমি জানতে চাইবো না কি বা কেনো। টেক ইও্যর টাইম। যদি কখনো মনে হয় শেয়ার করা যায় নির্দ্বিধায় আপুর কাছে চলে আসবি। সবসময় আমরা তোর পাশে আছি। যেকোনো পরিস্থিতিতে।”
দরজায় জোরেশোরে কড়া নাড়ার শব্দ পেয়ে লাফিয়ে উঠে বসলো তিতির। ঈশানের হাত তার কোমড় চেপে ধরে ছিলো। বিধায় ঘুমন্ত ঈশান বিরক্ত হলো। ঘুমের ঘোরেই চোখমুখ কুচকে ফেললো।। তিতির এক নজর দেখলো ঈশান কে। ধীরেসুস্থে পেটের ওপর থেকে হাত সরিয়ে নেমে এলো বিছানা থেকে। ওড়না খুজলো ব্যাস্ত চোখে। খুঁজতে খুঁজতে সেটার অংশ দেখলো ঈশানের শরীরের নিচে। ওটা এখন বের করতে গেলে নির্ঘাত ঘুম ভেঙ্গে যাবে। কত বাজে! এত সকালে ডাকছে। ঘুমোলোই তো ঘন্টাখানেক আগে। চোখ ডলতে ডলতে অন্য একটা ওড়না গায়ে জড়িয়ে দ্রুত পায়ে দরজা খুললো। রাফি রা দাড়িয়ে। তিতির বাইরে গেলো ওদের ঠেলেঠুলে। দরজা হালকা চাপিয়ে দিয়ে ধীর গলায় বললো,
_____”কত বাজে হুম? এখনি ডাকতে এসেছিস।”
তিনজনই গাল ফোলালো। ঈদের দিন সকালে তাদের নরম সরম বার্বির কঠিন কন্ঠ পোষালো না তাদের। তিনজনেই একসরে বললো,
_____”ঈদ মোবারক বার্বি। আজকের দিনে ধমক দিলে তুমি আমাদের!”
তিতির দাতে জিব কাটলো। কাঁচা ঘুম ভেঙে যাওয়ায় একটু কন্ঠ অন্য রকম শোনাচ্ছে। ভাইবোন গুলো তাতেই অভিমান করে ফেলেছে। হাটু গেড়ে বসে পরলো। ছোট্ট রাফি কে কোমড় ধরে টেনে নিজের দিকে আনলো। ওকে টানতেই রিশা,রোশনিও ঘেষে আসলো। তিতির আহ্লাদী গলায় বললো,
_____”খুব সরি। একটু বকা দিতে চাইনি। ঈদ মোবারক আমার বিড়াল ছানা রা…”
অভিমান মোটেও গেলো না। রোশনি ঠোঁট উল্টিয়ে অভিমানী গলায় বললো,
_____”তাহলে ঈদ মোবারক আগে না বলে ওটা বললে কেনো?”
ফিক করে হেসে ফেললো তিতির। আহ্লাদি একেকজন। গাল টিপে দিলো রোশনির। ঘরের দিকে ইশারা করে বললো,
_____”বড় ভাইয়া ঘুমাচ্ছে তো। কাল সারারাত ঘুমায়নি। সবে তো সকাল ছয়টা। আরেকটু পরে উঠুক? “
রিশা সে কথা শুনে সুন্দর মতো পরখ করলো তিতিরকে। আগ্রহ গলায় জানতে চাইলো,
_____”তুমিও সারারাত ঘুমাওনি তাইনা বার্বি?”
তিতির ভ্রু উচুলো দু বার।
____”কি করে টের পেলো আমার রিশা বুড়ি।”
____”তোমার চোখ লাল তো। “
তিতির হেসে ভাইবোনকে বুঝিয়ে নিচে পাঠালো। সে আর ঘুমাবে না। রুমে ঢুকে দরজা লক করতেই চোখ পরলো বিছানায়। উদাম শরীরে উপুড় হয়ে শুয়ে আছে ঈশান। পাশে কোলবালিশ জড়িয়ে। হেসে ফেললো তিতির। নিজে সরে যাওয়ার সময় ওটা ঈশানের হাতের নিচে দিয়ে গিয়েছে। ফ্রেশ হতে বাথরুমে ঢুকলো সে। কাল রাতে ফিরতে ফিরতে তিনটে পার হয়ে গিয়েছিলো। বাড়ি এসে ফ্রেশ হয়ে ঘুমাতে যেতে যেতে আর ঘন্টাখানেক। তার নিজের যদিও বাড়ি আসলো বেশি বেলা অবধি ঘুম হয় না। তবুও আজকে একটু ঘুমাতো যদি না বিচ্ছুগুলো এতো সকাল সকাল টেনে না তুলতো।
কাজের মেয়েটা সকাল সকাল সব রান্নাবান্না গুছিয়ে শুরু করে দিয়েছে। রাহাত সকাল সকাল উঠে পরেছে। মায়ের ঘরে এসে বসতেই অবাক হলো ভীষন। মা আজকে তাকে চিনতে পারলো সাথে সাথেই। সবথেকে বড় কথা তার নাম ধরে ডাকছে। ছেলে বসতেই অচল হাতের আঙ্গুল গুলো নাড়ালেন তিনি। রাহাত ছলছল চোখে মায়ের হাত ধরলো। মাথা ঝাকালো কি বলতে চায় সেটা বলার জন্য।
_____”আ..আমি কোথাও যাবো না বাবা। দেশেই থাকবো।”
মায়ের দেশের বাইরে যেতে না চাওয়ার কারণ রাহাত জানে। নিজের দেশে নাকি মৃত্যু হলেও শান্তি। রানী বেগম বরাবরই যেতে নাকচ করে দিতেন। রাহাত মায়ের হাত ধরে নরম গলায় বললো,
_____”তা বললে হয় মা? ট্রিটমেন্ট এর জন্য যেতে হবে না? তাছাড়া কয়েকটা দিনেরই তো ব্যাপার।”
রানী বেগম দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তিনি জানতেন ছেলের উত্তর এটাই হবে। আদতে তার আর বাঁচার ইচ্ছে নেই। অচল মা কে কত দিন বয়ে বেড়াবে তার ছেলেটা। ওরও তো একটা জীবন আছে।
_____”আমাকে এবার যেতে দে বাপ। তোর জীবনটা গোছাতে হবে না?”
_____”তুমিই আমার জীবন মা। তুমি ছাড়া আর কে আছে আমার। আর আজকের মতো ভালো একটা দিনে এ কথা বলছো! হুম?”
আজকে কি সেটা জানা নেই রানী বেগম এর। জানেন আদতে। মনে রাখতে পারেনা না। টুকটাক কিছু কিছু কথা মনে থাকে। কষ্ট করে ধীরগলায় ছেলেকে জিজ্ঞেস করলো,
_____”আজকে কি? “
রাহাত হাসলো। মায়ের হাত কাছে টেনে বললো,
_____”ঈদ মোবারক মা। আজ ঈদ ।”
_____”দেখ একদম মনে ছিলো না,ঈদ মোবারক বাপ।”
রানী বেগম কিছুক্ষণ চুপ করলেন। ছেলেটা তার হাত ধরে বসা। আচমকা বলে উঠলেন,
_____”তিতির কে এবার নিয়ে আসার ব্যাবস্থা টা কর বাপ। আমি স্পষ্ট টের পাচ্ছি আমার জীবন শেষের দিকে। তোকে সংসারি দেখে আমি মরতে চাই। তিতির এর হাতে আমি সংসার টা বুঝিয়ে দিয়ে বিদায় নিতে চাই। ওকে নিয়ে আয়।”
থমকালো রাহাত। মায়ের কথায় যন্ত্রণার তীর হৃদপিণ্ডে এসে লাগলো। কেঁপে উঠলো হাত দুটো। মায়ের তিতির এর কথা মনে আছে! সে তো ভেবেছিলো মা টা তার ভুলে গেছে তিতির এর কথা। ছেলের সাড়াশব্দ না পেয়ে আবার হাত নাড়ালো।
_____”আমরা সিঙ্গাপুর যাওয়ার আগেই নিয়ে আয়। সাথে নিয়ে যেতে না পারি, অন্তত দেখে যাই, তোর বউ করে রেখে যাই। ফিরে আসতে আসতে যদি হায়াতে না কুলায়।”
কেউ বোধহয় রাহাতের কলিজা টা ছিড়ে নিতে চাচ্ছে। ভিতরের রক্তক্ষরণ এর যন্ত্রণায় চোখ জ্বালা করছে। মা কে কি করে বলবে তার পরীটা আর তার নেই, ছিলো না, আর না তো কখনো তার হবে। সে তো অন্য জনের নামের বৈধ নারী। নিজেকে সামলে নিয়ে কোনোমতে বললো,
_____”আমরা ফিরে আসি। তারপর ধুমধাম করে ওকে ঘরে তুলবো মা। এত তাড়াহুড়োয় কি এসব হয়?”
রানী বেগম মানতে নারাজ। চোখমুখ মলিন করে বললোন,
_____”খুব হয়। খোদা আমাকে ফিরিয়ে আনলে তো আলহামদুলিল্লাহ। নিজে ধুমধাম আয়োজন এ ঘরে তুলবো ওকে। তবে বিয়ে টা পড়িয়ে রেখে যাই। মনের শান্তি। আমি না ফিরলেও তুই নিয়ে আসিস তখন না হয়।”
রাহাত এই মূহুর্তে নিজেকে সবচেয়ে অসহায় মানুষ বলে মনে করলো। ডাক্তার পইপই করে বলে দিয়েছেন কোনো ধরনের মানসিক প্রেশার এই মূহুর্তে ওনাকে দেওয়া যাবে না। তার মধ্যে কি করে বোঝাবে এখন!
_____”মা আমরা দেশে আছি আর তিনদিন। তোমার যা শরীরের অবস্থা আমি কিভাবে এসব করবো বলোতো। সময় স্বল্পতা।,তাছাড়া ও তো একটা মেয়ে। ওর পরিবার ছেলের খোঁজ খবর নেবে না? না নিয়েই মেয়ে দেবে! আর এতো অল্প সময়ে তারা একদম রাজি হবে না।”
রানী বেগম গো ধরার মতো করে বললেন,
_____”তুই তো কোনোদিকে কম না বাবা। আমাদের সব আছে। খালি মানুষ ছাড়া। আমি আজ আছি কাল নেই, সবই তো তোর আর ওর থাকবে।”
_____”সেটা তো কথা নয় মা। তুমি তোমার মেয়ের বিয়ে একদিন এর পরিচয়ে দিয়ে দেবে? দেবে না তো বলো? তাহলে ওরা কেনো দেবে? আমরা না হয় জানি মেয়ে সম্পর্কে, ওরা তো আর আমার সম্পর্কে কিচ্ছু জানেনা। অন্তত কয়েকটা দিন সময় লাগবে না। বলি কি, আমরা ফিরে এসেই…
_____”তুই কালকেই যাবি ওর বাড়িতে। তিতির তো জানে তোর সম্পর্কে। তাইনা? বলবি ওদের খোঁজ নিতে। এক কাজ কর। আমাদের ফ্লাইট পিছিয়ে দে। “
রানী বেগম এর শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত হচ্ছে। টের পেতেই থেমে গেলো রাহাত। ব্যাস্ত গলায় মাকে ভরসা দিয়ে বললো,
_____”কাল রাতের ট্রেনে রওনা দিয়ে দেবো কেমন?”
শুধু ফ্রেশ হতে গেলেও একেবারে শাওয়ার নিয়ে বেড়িয়েছে তিতির। ঈদের দিন সকালে সাধারনত সকাল সকালই শাওয়ার নেয়। যদিও আজ একটু বেশিই সকাল। চুলে তোয়ালে পেচিয়ে বের হতেই চোখ পরলো বিছানায়। ঈশান উঠে পরেছে। বিছানার হেডবোর্ডে হেলান দিয়ে বসা। কোলের ওপর বালিশ। চোখে মুখে রাজ্যের অসন্তোষ। সরু চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে। ঈশানের নগ্ন পেশিবহুল শরীরে চোখ পরতেই দৃষ্টি সরিয়ে নিলো। চুল মুছতে মুছতে ড্রেসিং টেবিল এর কাছে আসতে আসতে বললো,
_____”ঈদ মোবারক।”
ঈশান জবাব দিলো না। ঘাড় বাকিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি তে তাকিয়ে রইলো তিতির এর দিকে। আশ্চর্যজনক ভাবে তার রাগ উবে গেছে। ঘুম ভেঙে তিতির এর নরম তুলতুলে পেটের বদলে হাতের নিচে শক্ত টের পেতেই ঘুম ভেঙেছে ঈশানের। হাতের নিচে বালিশ দেখে বেশ চটা চটেছে সকাল সকাল। তবে সদ্য শাওয়ার নিয়ে বের হওয়া স্নিগ্ধ রমনীটির দিকে তাকিয়ে রাগ একদম মুখ থেকে বের হতে চাচ্ছে না। গায়ে নরমাল সুতির একটা সালোয়ার সেট। পুরো অঙ্গে বিন্দুমাত্র কোনো কৃত্রিম প্রসাধনীর ছোয়া নেই। দীর্ঘ সময় শাওয়ার নেওয়ায় হয়তো চোখদুটো বেশ লাল। কাল ঘুম না হওয়াটাও একটা কারণ হয়তো। ফুলো ফুলো মুখটায় এত্তো মায়া!
ঈশানের সারা না পেয়ে তাকালো তিতির। তার দিকেই তাকিয়ে আছে। মাথায় তোয়ালে টা মেলে দিলো বারান্দায় গিয়ে। ফিরে আসার পরও একই দৃশ্য। এবার না থাকতে পেরে জিজ্ঞেস করেই বসলো,
_____”ওভাবে তাকিয়ে আছেন কেনো! মনে হচ্ছে খেয়ে ফেলবেন।”
_____”কোথায় গেছিলি!”
তিতির বিরক্ত মুখে একনজর ফেলে গিয়ে বসলো আয়নার সামনে। মুখে মশ্চারাইজার লাগাতে লাগাতে বললো,
_____”দেখে কি মনে হচ্ছে। “
_____” সাঝ সকালে শাওয়ার নিতে কে বলেছে! “
_____”ঈদের দিন। একটু পর তো এমনিতেই নিতাম শাওয়ার।”
_____” এভাবে নিচে যাবিনা। এখনো নিশ্চিত বাড়ির কেউ শাওয়ার নেয় নি। বে আক্কেল এর মতো ভেজা চুলে সময় অসময় সবার সমানে গিয়ে দাড়িয়ে থাকিস। বোধ বুদ্ধি নেই!”
তিতির ঠোঁট উল্টায়। আজব কথাবার্তা। শাওয়ার নিলে সমস্যা কি।
_____”চুল না শুকালে আমার কি দোষ।”
_____”ঘরে হেয়ার ড্রায়ার আছে। ওটা ইউজ করতে কি হয়?”
_____”চুল নষ্ট হয়ে যায়। আমি হেয়ার ড্রায়ার এ চুল শুকাই না। তাছাড়া আগেও আমি সময় অসময় শাওয়ার নিতাম। সমস্যা কি!”
ঈশান দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
_____”এখন তুই ম্যারেড ইস্টুপিট। সবাই কি ভাবে বলতো! সেদিন সাহরীর সময় শাওয়ার নিয়ে ভেজা চুল মেলে দিয়ে নিচে গেলি। সবাই মুখ টিপে হাসছিলো চোখে পরেনি? গাধা।”
হতভম্ব হলো তিতির । লজ্জাও পেলো বেশ । অতো কিছু তো সে ভাবেই নি। আগের অভ্যাস এখনো রয়ে গেছে। আগেও এমন করতো সে।
_____”কিছু করলে সেটা আলাদা কথা। কিছু না করেই যদি বদনামের ভাগিদার হতে হয়। এটা সমস্যা আছে আমার। চুল না শুকিয়ে নিচে যাওয়া নিষেধ। “
ঈশানের কথায় তিতির ঘুরে বসলো অন্য দিকে মুখ করে। ঠোঁটকাটা, অসভ্য একটা লোক। নরমাল যে জিনিস বলা যায় সেটাকে ঘুরেফিরে সেই অশ্লীলেই নিয়ে যায় টেনেহিঁচড়ে।
_____”আর তোর সমস্যা কি?”
_____”আবার কিসের সমস্যা! “
____”ঈদের একটা দিন। সকালে ঘুম থেকে উঠেই তোকে পেলাম না বিছানায়। কতবার বলে দিতে হবে তোর নূপুর এর শব্দে ঘুম ভাঙাবি। ঠিক সুযোগ মতো পা টিপে টিপে ঘর থেকে বেরিয়ে গেছিস! চুমু দিয়ে, মাথায় আলতো হাত বুলিয়ে ডাকা তো দূর।”
ঈশানের এতো আদুরে কথায় লাজুক হাসলো এদিক ফিরেই। কৈফিয়ত দেওয়ার মতো নরম কন্ঠে বললো,
____”রাত জাগলেন। সকালে কিভাবে এতো ভোরে ডেকে তুলবেো। ঘুমের মানুষ ডেকে তুলতে মায়া হয়তো।”
মেয়েটার আহ্লাদী কৈফিয়ত এ বুকটা প্রশান্তি তে চিনচিন করে উঠলো। তবে ওপরে ওপরে নরম হলো না। রাশভারি ধমুকে গলায় বললো,
____”ঢং করবি না। মায়া দেখাচ্ছিস! রাতে বুকে মাথা রাখলে হাঁপানি রুগীর মতো হাসফাস করিস। কোমড় জড়িয়ে ধরলে ছটফট করিস। আবার আমার বুকে নিলেও কাপাকাপি করিস। সবেতে তোর সমস্যা। তখন আমার কি দুর্দশা হয় ভাবতে পারিস? তখন তো তোর মায়া হয়না।”
তিতির এতো বিস্তারিত বর্ণনায় লাজে রাঙা হলো। কুণ্ঠিত হলো শরীর। ধীরে ধীরে চুলগুলো চিরুনি করতে করতে বললো,
____”চেপে ধরেন দম বন্ধ হয়ে যায়। আমার কি দোষ! নিজের শরীর আর আমার শরীর মিলিয়ে দেখেছেন?”
তিতিরের ভেজা চুলের পানিতে পিঠের জামার অংশ একদম ভিজে উঠেছে।। পিছনের চুলগুলো সামনে নিয়ে চিরুনি করছে বিধায় ঘাড়ের উন্মুক্ত অংশ থেকে শুরু করে ভিজে একসাড় হওয়ায় ভিতরের কালো ইনার টাও ফুটে উঠেছে। শুকনো ঢোক গিললো ঈশান। সকাল সকাল যন্ত্রণা দিয়ে দিলো মেয়েটা। সারাদিন ওর সমানে এলেই চোখের সামনে এই দৃশ্য ভাসবে। অন্য কিছুতে মন যাবে না। এরকম উপোষ করে বসিয়ে খাবারের লোভ দেখানো পাপ,ঘোর পাপ।
ঈশান বাঁকা গলায় বললো,
সাঁঝের মায়া পর্ব ৩৫
_____”মেলাতেই চাই। মিলনের সে সুযোগ দিচ্ছিস কোথায়?”
ঈশানের এই কন্ঠ তিতিরের বেশ পরিচিত। ফট করে ঘুরে তাকাতেই সেই ঘোলাটে দৃষ্টি। তার দিকে অপলক তাকিয়ে। চোখেমুখ জানান দিচ্ছে সে কি চায়। তিতির লজ্জায় উঠে পরলো। পা চালালো বারান্দায় দিকে। দাঁতে দাঁত চেপে অস্ফুটস্বরে বললো,
____”ছিহ্ অশ্লীল অসভ্য…
